কালার ইনসাইড

স্বাধীনতার পাঁচ দশকে বাংলাদেশে যত নারী কেন্দ্রিক চলচ্চিত্র

প্রকাশ: ০৪:১৬ পিএম, ০৮ মার্চ, ২০২২


Thumbnail স্বাধীনতার পাঁচ দশকে বাংলাদেশে যত নারী কেন্দ্রিক চলচ্চিত্র

একজন নারী তার পরিপূর্ণ অধিকার আদায়ের দাবিতে দীর্ঘকাল ধরে যে আন্দোলন চালিয়ে আসছে, তারই সম্মানস্বরূপ প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে ৮ মার্চ নারী দিবস পালন করা হয়।উপমহাদেশের বেশিরভাগ চলচ্চিত্রই নায়ককেন্দ্রিক ছবি, বাংলা চলচ্চিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। এর মাঝেও এই দেশে নির্মিত হয়েছে বেশ কিছু নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র, যার বেশিরভাগই হয়েছে দর্শকনন্দিত, পেয়েছে প্রশংসা, পুরস্কারও।

আর্ন্তজাতিক নারী দিবসে তেমনি অন্যতম সেরা দশ চলচ্চিত্র নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের বিশেষ আয়োজন—

১. রূপবান (১৯৬৫) : বাংলার নারীর ধৈর্য, ত্যাগ ও সংগ্রামের অনবদ্য গাঁথা এটি। একজন নারীর আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মর্যাদাবোধের সফল চলচ্চিত্র রুপায়ন ‘রূপবান’।

সালাউদ্দিন পরিচালিত এই ছবিটি ছিল প্রথম লোককাহিনীনির্ভর ও সুপারহিট চলচ্চিত্র। সুজাতা রূপবান চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি খ্যাতি পান। সত্য সাহার সঙ্গীতায়োজনে এবং আব্দুল আলীম ও নীনা হামিদের কণ্ঠে গাওয়া এই ছবির গান মানুষের মুখে মুখে ফিরত।

২. সারেং বউ (১৯৭৮) : শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে ‘সারেং বউ’ পরিচালনা করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। এই ছবিতে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের এক নারীর জীবন সংগ্রাম স্থান পেয়েছে।

ছবিতে দেখা যায়, কদম সারেং ভালোবেসে বিয়ে করে নবিতনকে। বিয়ের কিছুদিন পরে আবার চলে যান জাহাজে। কদম মাঝেমধ্যেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের মোড়ল ডাক পিয়নকে হাত করে সেই সব নিয়ে নেয়। তিনি অভাবের সুযোগে নবিতনকে লালসার শিকার বানাতে চান। কিন্তু নবিতন ঢেঁকিতে ধান ভানার কাজ করে সংসার চালান। কোনোভাবে মোড়লের ফাঁদে পা দেন না। এভাবে এগিয়ে যায় কাহিনী। স্বামী ফিরে আসার পর নবিতন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। একদম শেষ দৃশ্যে থাকে দারুণ চমক। ফারুকী কবরী অভিনীত এই ছবিটিতে আব্দুল জব্বারের কন্ঠে ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি এখনো সমান জনপ্রিয়। নবিতন চরিত্রে অভিনয়ে কবরী জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।

৩. গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮) : নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে আমজাদ হোসেন নির্মান করেন ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’। আমাদের সমাজের বাস্তবতায় একজন খেটে খাওয়া গ্রামীণ নারীকে পদে পদে কত সমস্যায় পড়তে হয়, তা দেখানো হয়েছে এই ছবিতে। কিন্তু দৃঢ়প্রত্যয়ী নারী নিজের মর্যাদাবোধ নিয়ে এগিয়ে চলেন।

ববিতা, ফারুক, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা অভিনীত এই ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন আলাউদ্দিন আলী। গানগুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়। ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ১২টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। ববিতার ক্যারিয়ারে এটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

৪. সূর্য দীঘল বাড়ী (১৯৭৯) : আবু ইসহাকের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ যৌথভাবে নির্মাণ করেন মসিউদ্দিন শাকের ও শেখ নিয়ামত আলী। এটি বাংলাদেশের প্রথম সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র।

বাংলা ১৯৫০ সনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে অবিভক্ত ভারতের বাংলায় ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ‘পঞ্চাশের আকাল’ নামে যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, সেই দুর্ভিক্ষে লক্ষ দরিদ্র মানুষ প্রাণ হারায়। যারা কোনোমতে শহরের লঙ্গরখানায় পাত পেতে বাঁচতে পেরেছিল তাদেরই একজন স্বামী পরিত্যক্ত জয়গুন। সঙ্গে তার মৃত প্রথম স্বামীর ঘরের ছেলে ও দ্বিতীয় স্বামীর ঘরের মেয়ে। আরো আছে মৃত ভাইয়ের স্ত্রী-পুত্র। তারা গ্রামে ফিরে এসে এমন এক খন্ড জমিতে ঘর তৈরি করে যেটি অপয়া ভিটে বলে পরিচিতি ছিল।

দুর্ভিক্ষ, দারিদ্রতা, মাতৃত্ব সর্বোপরি এক নারীর জীবন সংগ্রামের দৃশ্য ফুটে উঠেছে এই চলচ্চিত্রে। ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ৬টি শাখায় জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী নারী জয়গুন চরিত্রে ডলি আনোয়ারের অনবদ্য অভিনয় তাকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার।

৫. ভাত দে (১৯৮৪) : আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় ‘ভাত দে’ ছবিতে দেখা যায়, জরি একজন গরিব বাউলের মেয়ে। ছোটবেলায় অভাবের কারণে মা চলে যায়। অন্ধ বাউল বাবার অভাব-অনটনের সংসারে সে বড় হতে থাকে।

জরি যখন বড় হয়,একদিন বাবাও ভাত যোগাড় করতে গিয়়ে মারা যায়। এর পর শুরু হয় সহায়-সম্বলহীন এক দরিদ্র নারীর জীবন সংগ্রাম। আসে প্রেম ও অতঃপর করুণ পরিণতি। আলমগীর, শাবানা, আনোয়ার হোসেন অভিনীত সিনেমাটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার সহ মোট ৯টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। জরি চরিত্রে অভিনয় করে শাবানা তার সেরা চলচ্চিত্র দিয়ে ঘরে তুলে নেন জাতীয় পুরস্কার। এছাড়া বাংলা ছবির মধ্যে ‘ভাত দে’ প্রথম কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেয়।

৬. হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭) : কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে সরকারি অনুদানে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন চাষী নজরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধে নারীর ত্যাগ-তিতিক্ষার অসাধারণ রুপায়ন এই চলচ্চিত্র। গল্পের কেন্দ্রে থাকে হলদি গাঁ আর সেই গ্রামের এককালের দস্যি মেয়ে বুড়ি। বয়সে অনেক বড় চাচাতো ভাই গফুরের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ফলে রাতারাতি গফুরের আগের পক্ষের দুই ছেলে সলিম ও কলিমের মা হয়ে যায়। বুড়ির কোলে আসে নিজের সন্তান রইস। কিন্তু আর ১০টি শিশুর মতো স্বাভাবিক নয়। ১৯৭১ সালে কিছু মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের সন্তানকেই মুক্তিযোদ্ধা বলে পাকিস্তান আর্মিদের হাতে তুলে দেন।

সুচরিতা, সোহেল রানা,অরুণা বিশ্বাস অভিনীত এই ছবিটি চারটি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী নারী চরিত্র বুড়ি চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় স্বরুপ জাতীয় পুরস্কার ঘরে তুলেন সুচরিতা।

৭. নিরন্তর (২০০৬) : হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘জনম জনম’ অবলম্বনে আবু সাইয়ীদের অন্যতম সেরা একটি চলচ্চিত্র ‘নিরন্তর’। বাবার অন্ধত্বের কারণে তিথিদের পরিবারে আকস্মিক দুর্যোগ নেমে আসে। কোনো চাকরি যোগাড় করতে না পেরে তিথি অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। এই ছাড়া বয়ে বেড়ায় শৈশবের নির্যাতনের স্মৃতি। ছোট ভাইয়ের ব্যবসায় এক সময় তিথিদের পরিবার সচ্ছলতা ফিরে পায়। তিথিও দেহব্যবসা ছেড়ে দেয়। কিন্তু তার জীবন দিন দিন ফ্যাঁকাসে হতে থাকে। কোথাও কথা বলার একজন মানুষ খুঁজে পায় না।

শাবনূর, লিটু আনাম, ইলিয়াস কাঞ্চন, ডলি জহুর অভিনীত এই ছবিটি বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক সম্মাননাসহ বাংলাদেশের হয়ে অস্কারে প্রতিনিধিত্ব করে। চিত্রনায়িকা শাবনূরের ক্যারিয়ারে এই ছবিটি অনন্য হয়ে থাকবে।

৮. থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার (২০০৯) : আলোচিত নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর চলচ্চিত্র ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’ এর প্রধান চরিত্র রুবা। নানা সামাজিক সঙ্কটে বেড়ে ওঠা তরুণী বেছে নেয় লিভ টুগেদার। একটি খুনের ঘটনায় সঙ্গী জেলে গেলে নানা ধরনের বিপদে পড়ে। এর মধ্যে সাহায্য করে এক কণ্ঠশিল্পী বন্ধু। ত্রিমুখী এক দ্বন্দ্বে ছবিটি এগিয়ে যায়।

রুবা চরিত্রে তিশার অনবদ্য অভিনয়ের পাশাপাশি এই ছবিতে আরো ছিলেন মোশাররফ করিম ও তপু। জনপ্রিয় এই ছবিটি বাংলাদেশের হয়ে অস্কারে প্রতিনিধিত্ব করে।

৯. গেরিলা (২০১০) : সৈয়দ শামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ ও পরিচালকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে নির্মিত নাসিরউদ্দিন ইউসুফের চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’। মুক্তিযুদ্ধ সময়কার গ্রামীন ও শহুরের প্রেক্ষাপটে অপূর্ব সংমিশ্রন এই ছবিতে প্রধান চরিত্র বিলকিস। সেও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে,দেশের জন্য নিজের জীবন দিয়ে দেয়।

সরকারি অনুদানে নির্মিত অনন্য এই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রটি সেরা চলচ্চিত্রসহ মোট ১১টি বিভাগে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী নারী চরিত্র বিলকিস রুপদানদারী জয়া আহসান জিতে নেন জাতীয় পুরস্কার।

১০. সুতপার ঠিকানা (২০১৫) : একজন নারীর শৈশব থেকে বৃদ্ধ পুরো জীবন কাটে বাবা, স্বামী, সন্তানদের আশ্রয়ে। এর মাঝেও কিছু নারী নিজের ঠিকানা খুঁজতে চেষ্টা করে। তেমনিই এক নারী সুতপা।

দর্শকদের মাঝে এইরকম-ই গল্প উপহার দিয়েছেন প্রসূন রহমান। সরকারি অনুদানে নির্মিত এই ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছে অপর্ণা ঘোষ। পুরো ছবি তিনি একাই টেনেছেন, কুমার বিশ্বজিতের সঙ্গীতায়োজন ছিল প্রশংসনীয়, ধারা বর্ণনায় আসাদুজ্জামান নূর অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করেছে। ছবিটি বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে।

এদিকে দেশে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের জোয়ার শুরু হলে জাজ মাল্টিমিডিয়া বানায় ‘অগ্নি’, ‘অগ্নি ২’ ও ‘রক্ত’। এছাড়া চিত্র নায়িকা ববি বানান তার নিজের প্রযোজনায় ‘বিজলী’। এসব ছবি একই সঙ্গে নারীপ্রধান এবং অ্যাকশনধর্মী।

 ‘ন’ ডরাই’, ‘দেবী’  নারীপ্রধান বাংলাদেশি ছবি হিসেবে আলোচিত। পাশাপাশি সবশেষ বাংলাদেশের প্রথম নারী কবি বলা হয় চন্দ্রাবতীকে। মলুয়া, দস্যু কেনারামের পালা এবং রামায়ণ তার অন্যতম সৃষ্টি। তবে তার সৃষ্টির চেয়ে ঢের বেশি নাটকীয় এবং একইসঙ্গে বিয়োগান্তক তার নিজের জীবন। ষোড়শ শতকের অসম্ভব প্রতিভাবান ও সংগ্রামী এই নারীকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে ‘চন্দ্রাবতী কথা’। যা ইতোমধ্যে দর্শক মহলে সাড়া ফেলেছে। এছাড়া ‘স্বপ্নবাজী’ ও ‘বুবুজান’  নামে দুটি নারীপ্রধান চলচ্চিত্র রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়।


নারী দিবস   চলচ্চিত্র   সূর্য দীঘল বাড়ী   ভাত দে   ‘ন’ ডরাই’   ‘দেবী’  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

বিপ্লব সাহার কণ্ঠে ‘পুজোয় ছুটি নাই’

প্রকাশ: ০৭:৪৪ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বিপ্লব সাহার কণ্ঠে ‘পুজোয় ছুটি নাই’

চলছে দুর্গাপূজা। অনেক গান ও নাটক প্রকাশ পাচ্ছে এই উৎসব উপলক্ষে। ধারাবাহিকতায় এসেছে বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহার কণ্ঠে ‘পুজোয় ছুটি নাই’। গানটি লিখেছেন জীবন ফারুকী। এতে সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন রাজন সাহা। গানটি প্রকাশ হয়েছে মিউজিক ভিডিও আকারে। 

ভিডিওতে মডেল হয়েছেন অভিনেতা আজম খান, শিপন মিত্র, এন কাজলসহ একঝাঁক মডেল। 

এ গান নিয়ে বিপ্লব সাহা বলেন, এপার-ওপার দুই বাংলার একঘেয়েমি পূজার গানে যারা ক্লান্ত, আমাদের গানটি তাদের জন্য। পুজোর ছুটি নাই এটি কোনো গান নয়, অগণিত চাকরিজীবী মানুষের মনের কথা। যারা ছুটি পান না বসদের জন্য।

গত ১ অক্টোবর ইউটিউবে বিপ্লব সাহা ও বিশ্বরঙ-এর অফিসিয়াল চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে ‘পুজোয় ছুটি নাই’ গানটি।

বিপ্লব সাহা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

প্যারালাইজড হয়ে হাসপাতালে নায়িকা রঞ্জিতা

প্রকাশ: ০৬:৫৬ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail প্যারালাইজড হয়ে হাসপাতালে নায়িকা রঞ্জিতা

আশির দশকের সাড়া জাগানো গান ‘পাথরের পৃথিবীতে কাঁচের হৃদয়’—গানটির কথা অনেকের মনে আছে হয়তো। গানটির ছবির নাম ‘ঢাকা ৮৬’। নায়করাজ রাজ্জাক পরিচালিত এ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন রঞ্জিতা ও বাপ্পারাজ। অকালপ্রয়াত সংগীতশিল্পী জুয়েলের বোন নায়িকা রঞ্জিতার বাঁ পা এবং বাঁ হাত অবশ হয়ে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসা করার আর্থিক অবস্থা তার নেই।

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গণমাধ্যমের কাছে জানাচ্ছেন বাঁচার আকুতি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্ট্রোক করায় রঞ্জিতার পা-হাত অবশ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আশির দশকের রঞ্জিতা বলেন, আমার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে, আমি বাঁচতে চাই। আমি সুস্থ হয়ে উঠতে চাই, আমাকে সাহায্য করুন। এই শহরে আমার থাকার ব্যবস্থা নেই। আমার উপার্জনের পথ নেই। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আমাকে আর কে বাঁচাতে পারেন, তিনি মমতাময়ী।

এই অভিনেত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার এক ভাই রয়েছে সেও প্রতিবন্ধী। আমার চিকিৎসা ব্যয়বহুল। আমার কোনো পথ নেই, আমি বেঁচে থাকতে চাই। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কাছেও তিনি সহযোগিতার আহবান জানান। 

রাজ্জাক পরিচালিত ‘রাজা মিস্ত্রী’ ও 'জ্বিনের বাদশা’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছিলেন রঞ্জিতা। অভিনয় ক্যারিয়ারে ২৯টি সিনেমায় নায়িকা হিসেবে দেখা গেছে তাকে।

নায়িকা   রঞ্জিতা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

মার্কিন রাজনীতিতে যুক্ত হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া!

প্রকাশ: ০৫:১৭ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail

বলিউড ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে তাঁর আলোচনা পর্ব থেকে বেশ কয়েকটি ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করেছেন। ইনস্টাগ্রামে প্রিয়াঙ্কা একটি দীর্ঘ নোটও লিখেছেন, যাতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভোটাধিকারের বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি এ দেশে ভোট না দিলেও আমার স্বামী দেন এবং একদিন আমার মেয়ে দেবে। 

আলোচনায় ভারতে কিভাবে ইন্দিরা গান্ধী থেকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পর্যন্ত নারীরা ‘সর্বোচ্চ নির্বাচিত পদে’ অধিষ্ঠিত হয়েছেন সে সম্পর্কে কথা বলেছেন প্রিয়াঙ্কা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এখনো ‘চূড়ান্ত কাচের ছাদ ভেঙে যাওয়া’র মতো পরিস্থিতি দেখেনি বলেও মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার এমন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অনেকের মনেই দানা বাঁধছে একটি প্রশ্ন। তবে কি প্রিয়াঙ্কা মার্কিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন? আপাতদৃষ্টিতে সেটি ধারণা করা হলেও মূলত ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির উইমেন লিডারশিপ ফোরামে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক একটি আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছিলেন এই ভারতীয় অভিনেত্রী।

ইভেন্টের জন্য প্রিয়াঙ্কা একটি দীর্ঘ হলুদ পোশাক এবং সাদা হিল পরেছিলেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএমসি) উইমেন লিডারশিপ ফোরামে  বক্তৃতা করেন প্রিয়াঙ্কা ও কমলা হ্যারিস।  

প্রিয়াঙ্কা তাঁর পোস্টের ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সব জায়গায়ই নারীরা অন্তর্ভুক্ত। নারীরা ব্যতিক্রম নয়। নারীরা সক্ষম। আদিম সময়কাল থেকেই বিশ্ব নারীর ক্ষমতাকে খর্ব করেছে। আমাদের সব সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং নীরব করে রাখা হয়েছে। কিন্তু অনেক নিঃস্বার্থ নারীর সাহস এবং দৃঢ়তার জন্যই আজ নারীমুক্তি ঘটেছে। আমরা আজ এমন একটি জায়গায় আছি, যেখানে আমরা একসঙ্গে আসতে পারি এবং ভুল সংশোধনের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারি। গত রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে উইমেনস লিডারশিপ ফোরাম কনফারেন্সে কমলা হ্যারিসের সঙ্গে আলোচনা করার যে সম্মান পেয়েছিলাম, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল আমার জন্য। ’

তিনি আরো লিখেছেন, যদিও আমি এই দেশে ভোট দিই না, কিন্তু আমার স্বামী দেন। একদিন আমার মেয়েও দেবে৷ ভিপি হ্যারিসের সঙ্গে আমার কথোপকথন হয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে, যেগুলোকে সুরাহা করার জন্য একটি পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিকল্পনা থাকা দরকার৷ ডাব্লিউএলএফ এবং এই সংগঠনটির একজন প্রতিষ্ঠাতা শক্তি সেক্রেটারি হিলারি ক্লিনটনকে ধন্যবাদ, এই গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনে আমাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। 

এ ছাড়া প্রিয়াঙ্কা ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে তাকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের দক্ষিণ এশীয় সদস্যদের সঙ্গে পোজ দিতে দেখা গেছে।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া মার্কিন মুলুকে পাড়ি জমিয়েছেন বহু আগেই। তিনি মার্কিন গায়ক নিক জোনাসকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রিয়াঙ্কা-নিকির কন্যার নাম মালতি মারি চোপড়া জোনাস। বর্তমানে নিজের পরিবারের সঙ্গেই ব্যস্ত রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

মার্কিন   রাজনীতি   প্রিয়াঙ্কা চোপড়া  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

বুবলীর পর সুখবর দিলেন পূজা চেরী

প্রকাশ: ০৪:৩৪ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বুবলীর পর সুখবর দিলেন

ঢাকাই সিনেমার বর্তমান প্রজন্মের চিত্রনায়িকা পূজা চেরি। সম্প্রতি সময়ে শাকিব খানের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জনে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। প্রায় পাঁচ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে স্যোশাল মিডিয়ায় নিজের উপস্থিতির জানান দিলেন নায়িকা। 

রোববার (২ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১২টায় ফেসবুকে নিজের চারটি ছবি পোস্ট করেন পূজা। তার পরনে সাদা গাউন, মাথায় ফুলের ক্রাউন। প্রকৃতির মাঝে পেছন থেকে তোলা পূজার ছবিগুলো অন্তর্জালে শুভ্রতা ছড়াচ্ছে। এই নায়িকার লুক বরাবরই নেটিজেনদের নজর কাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।



ঠিক এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্টের ভিসার তিনটা ছবি পোস্ট করেন। এর ক্যাপশনে লেখেন, ‘অবশেষে আমরা এটা পেয়েছি’। ছবিতে দেখা যায় পূজার মাও পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা।

এর আগে জানা যায় দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এই নায়িকা। তবে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভিসা পেয়েছেন ‘গলুই’ ছবির এই নায়িকা।

শাকিব   পূজা  


মন্তব্য করুন


কালার ইনসাইড

গান নিয়ে অভিমান করে বাড়ি ছাড়া ছেলেটি আজকের জেমস

প্রকাশ: ০৪:০২ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail

ফারুক মাহফুজ আনাম। বাংলাদেশের রক স্টার, যিনি জেমস নামেই পরিচিত। তিনি তার ভক্তদের কাছে গুরু। জেমস মানেই তারুণ্যের উন্মাদনা। তার বাবরি দোলানো গানের তালে মেতে ওঠে যুবক মন। তার কনসার্টে জেগে ওঠে ভালোবাসার উদ্দীপনা। আজ নগর বাউল খ্যাত জেমস ৫৮ বছরে পা রাখলেন। ২ অক্টোবর এই শিল্পীর জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের এদিনে নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তবে, বেড়ে ওঠেন চট্টগ্রামে।



জেমসের বাবা ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বাবার সঙ্গে গান নিয়ে অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন জেমস। চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে থাকা শুরু করেন। সেখানে থেকেই তার সংগীত জীবনের শুরু।

১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় ব্যান্ড ‘ফিলিংস’। জেমস ছিলেন সেই ব্যান্ডের প্রধান গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট। ১৯৮৭ সালে তার প্রথম অ্যালবাম ‘ষ্টেশন রোড’ প্রকাশিত হয়। ১৯৮৮ সালে ‘অনন্যা’ নামের অ্যালবাম প্রকাশ করে সুপারহিট হয়ে যান তিনি। এরপর ১৯৯০ সালে ‘জেল থেকে বলছি’, ১৯৯৬ সালে ‘নগর বাউল’, ১৯৯৮ সালে ‘লেইস ফিতা লেইস’ এবং ১৯৯৯ সালে ‘কালেকশন অফ ফিলিংস’ অ্যালবামগুলো ‘ফিলিংস’ থেকে বের করা হয়।

‘নগর বাউল’ ব্যান্ডের অ্যালবামগুলো হলো- ‘দুষ্টু ছেলের দল’ ও ‘বিজলি’। জেমসের একক অ্যালবামগুলো হলো- ‘অনন্যা’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’, ‘ঠিক আছে বন্ধু’, ‘আমি তোমাদেরই লোক’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘তুফান’ ও ‘কাল যমুনা’।



প্রতি বছরেই জেমসের জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ভক্ত অনুরাগীরা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজ সহ ছিন্নমূল ও হতদরিদ্র মানুষকে খাবার দেন। এবারও হচ্ছে না তার ব্যতিক্রম।

জেমস-এর মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন জানান, প্রতি বছরেই দেশের বিভিন্ন জেলার ভক্তরা জেমস ভাইয়ের জন্মদিনটি উদযাপনে নানা আয়োজন করে থাকেন। এবারও এরকম বেশকিছু উদ্যোগের কথা জেনেছি।



বিভিন্ন জেলার 'দুষ্টু ছেলের দল' নামে জেমসের ভক্তরা এবার সারা দিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন রেখেছে। এরমধ্যে ঢাকা, খুলনা, যশোর, নরসিংদী, রংপুর, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, ভোলা পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জেমসের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ কামনায় মসজিদ/মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন মিলনমেলায় দোয়ার আয়োজন রখেছে। কেক কেটে সুবিধাবঞ্চিতদের সাথে নিয়ে রেখেছে গান ও আড্ডার আয়োজন।



জেমস   জন্মদিন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন