ইনসাইড আর্টিকেল

তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ 'সিনেমায়'


Thumbnail তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ 'সিনেমায়'

প্রতি বছরই অসংখ্য সিনেমা বানানো হয় দেশ-বিদেশ জুড়ে। রেটিং স্কেলের হিসেবে কিছু সিনেমা ভালো আবার কিছু সিনেমা চলনসই হিসেবে দর্শক মনে জায়গা করে নেয়। কিছু কিছু সিনেমা আবার মন-মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে যায় অনেকখানি। সব বয়েসের মানুষের সিনেমা প্রীতি এসকল কারণে যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে ইতোমধ্যে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সিনেমা নিয়ে আগ্রহ ব্যাপক।

সময়ের সাথে বদলে যাচ্ছে স্থান, প্রেক্ষাপট, মানুষের চাহিদা, রুচিবোধ। বর্তমান সময় অনুযায়ী তরুণ প্রজন্মের বিশাল আগ্রহের জায়গা হিসেবে কাজ করেছে বিনোদনের এই অংশ "সিনেমা" সিনেমা কেউ দেখতে ভালোবাসেন, আবার কেউ বানাতে। তবে এই সিনেমা বানানোর জন্যও অনেক সিনেমা দেখা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন আগ্রহীদের প্রায় সকলেই। ভালো মানের সিনেমা বলতে তাদের কাছে "গল্প"। গল্পের সঠিক, যথাযথ প্রয়োগ, ফুটিয়ে তুলা যেন বেশি প্রাধান্য পায় এই নিয়ে মনোযোগী তারা। শুরু থেকে শেষ অবদি গল্পের ধারা বজায় রাখা, চরিত্র ফুটিয়ে তুলা এই বিষয় বিবেচনা করছেন তরুণ দর্শকরা।

আজ থেকে এক দশক আগেও এমন আগ্রহ দেখতে পাওয়া যেত কিনা তা নিয়ে সন্দিহান। তবে সময়ের সাথে সাথে ভালো মানের সিনেমা যেমন তৈরি হচ্ছে তেমন মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বিনোদনের এই অংশে। অনেকের আগ্রহ এতটাই যে ভবিষ্যতে তৈরি করতে চান নিজের সিনেমা। সাধারণ মানুষের মনের ভাষা প্রকাশ করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে যেন আজকাল বিবেচিত হচ্ছে সিনেমাকে। গল্প যেমন মানুষের জীবনে প্রভাবিত করে, তেমনি অনেক সিনেমা আবার তৈরি করা হচ্ছে অনেক সিনেমা সত্য ঘটনার অবলম্বনে।

শুধুমাত্র গল্প না, সেই গল্পে থাকা চরিত্র, গান, সংলাপ সব কিছু মিলে তৈরি করা হয় এই চিত্র। গতানুগতিক ধারার বাইরে তৈরি সিনেমাও আজকাল সমাদৃত হচ্ছে মানুষের মধ্যে। তবে পছন্দের ভিত্তিতে মানুষের সিনেমার ক্ষেত্রেও পছন্দের ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কেউ অ্যাকশন পছন্দ করে, আবার কেউ থ্রিলার, কেউ ড্রামা পছন্দ করে তো কেউ হরোর। কারো কাছে আবার বায়োগ্রাফি অধিক প্রাধান্য পায়৷ জনরা যাই'ই হোক, পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো সিনেমা দেখতে বসে দর্শক কতখানি সন্তুষ্ট হতে পারছেন সেটাই বড় কথা।

তবে নতুন প্রজন্মের কাছে সাইকোথ্রিলার, অ্যাকশন, আর্টফিল্ম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেসব জনপ্রিয়তার ক্ষেত্রেও কাজ করে প্রিয় পরিচালক, সিনেমার গল্প, সজ্জা,  চরিত্রের গঠন থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নানা খুটিনাটি।

দেশের বর্তমান পরিচালকদের তৈরি অনেক সিনেমা এবং কাজ গৃহীত হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে। অনেক তরুণ প্রজন্ম অধির আগ্রহে দেশে তৈরি সিনেমা নিয়ে আশাবাদী। তবে কর্মাশিয়াল সিনেমার অনেক ক্ষেত্রে এখনো আরো দক্ষ ইউনিট দরকার বলে ধারণা তাদের। তাছাড়া যেকোনো গতানুগতিক ধারার বাইরে গল্পের প্রবাহ নতুন প্রজন্মের দর্শকদের বেশি আকৃষ্ট করে। নতুন ধারার যেকোনো গল্পই এখন পর্যন্ত বেশ সুন্দরভাবে গৃহীত হয়েছে। "সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার" জনরা নিয়ে দেশে আরো কাজ করা উচিত বলে জানান অনেকেই।

সিনেমা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

কালের গর্ভে বিলীন ঐতিহ্যের "মুন্সিবাড়ি"


Thumbnail কালের গর্ভে বিলীন ঐতিহ্যের "মুন্সিবাড়ি"

অবহেলা-অযত্ন ও স্বার্থপরতায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, একমাত্র ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী বিখ্যাত মুন্সীবাড়ি। হারিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৪০০ বছরের অতীত ঐতিহ্য ও মহাকালের সাক্ষী। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নে কালের সাক্ষী হয়ে আছে এই রাজবাড়িটি, যা সকলের কাছে ‘মুন্সিবাড়ী’ নামে খ্যাত। 

কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান উলিপুরের মুন্সীবাড়ি। ৩৯ একর আয়তন জুড়ে সব মিলিয়ে এর অস্তিত্ব রয়েছে চোখে পড়ার মত। চোখ ধাঁধানো বাড়িটির ভবনের ভেতরে ও বাইরে অপরূপ কারুকার্য ও স্থাপত্য শৈলী। মোঘল স্থাপত্য শৈলীর সঙ্গে ব্রিটিশরীতির আদলে এটি নির্মিত। প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন সম্পর্কে নানা উপাখ্যান ও লোকগাথা প্রচলিত আছে।

জানা যায়, তৎকালীন সময়ে কাসিম বাজার এস্টেটের সপ্তম জমিদার ছিলেন কৃষ্ণনাথ নন্দী। জমিদার কৃষ্ণনাথ নন্দী এক খুনের মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর বিষয়কে নিজের জন্য অবমাননাকর ও আত্ম-মর্যাদাহীন মনে করে বিগত ১৮৪৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করেন। এরপর তার স্ত্রী মহারানী স্বর্ণময়ী কাসিমবাজার এস্টেটের জমিদার হন। স্বর্ণময়ী ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী ও প্রজাদরদী জমিদার। তার অধীনে মুনসেফের চাকরি করতেন বিনোদী লাল। বিনোদী লাল বার্ষিক ১'শত টাকায় ধরণীবাড়ি এস্টেটের জোতদারী ভোগ করতেন। 

কথিত আছে,বিনোদী লাল মুন্সি একদিন পশু শিকার করতে হাতির পিঠে চড়ে বের হন । এক স্থানে তিনি দেখতে পান ব্যাঙ ১টি সাপ ধরে খাচ্ছে। ঐ সময় প্রচলিত ছিলো যে ব্যাঙ যে স্থানে সাপকে ধরে খায়,সেই স্থানে বাড়ী করলে অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক হওয়া যায়। বিনোদী লাল তাই ভেবে সেখানে বাড়ি করার মনস্থির করেন। ফিরে গিয়ে তিনি মহারানী স্বনর্ময়ীর কাছে অনুমতি নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করেন ধরণীবাড়িতে। এরপর বিনোদী লালের মৃত্যু হলে সেখানে বসবাস করতে শুরু করেন তার পালিত পুত্র ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী। 

বর্তমান কালের সাক্ষী হয়ে যে অট্টালিকাটি দাঁড়িয়ে আছে ১৮ শতকে সেটি তৈরি করেন বিনোদি লালের পালক পুত্র শ্রী ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী। ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী ১৯৬০ সালে মারা যান। তার কোনো পুত্র সন্তান ছিল না।

ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সীর স্ত্রী আশলতা মুন্সীর বিহারীলাল নামে এক পালক পুত্র ছিল। বিহারীলাল ছিলেন ভবঘুরে, মাতাল এবং নির্লোভ ব্যক্তি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাইফুল হক তৎকালীন একটি এনজিও অফিসে চাকরিসূত্রে এখানে থাকতেন। এলাকার কয়েকজন বয়স্ক মানুষের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি বিহারীলালের কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নেন। সাইফুল পক্ষের দাবি তারা বাড়িটি কিনে নিয়েছেন।

ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সি বিহারীলালকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি, গ্রহণ করেছিলেন আশলতা। তাছাড়া ব্রজেন্দ্রলাল মুন্সী তার সমস্ত সম্পত্তি স্ত্রীকে দেননি। তার স্ত্রী শুধু প্রশাসনের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সম্পত্তির অংশ থেকে দান-খয়রাত, পূজা-অর্চনা ও বিভিন্ন উন্নয়নে ব্যয় করতে পারবেন। এভাবে উইল করে দিয়েছিলেন ব্রচেন্দ্রলাল মুন্সী। যেখানে সম্পত্তি বিক্রি করা আশলতার অধিকার ছিল না সেখানে তার পালকপুত্র পাওয়া প্রশ্নই ওঠে না। এরপর সরকার ও সাইফুল পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর চলতি বছর সেই মামলার রায় হয়েছে মাত্র।

জন্মলগ্নে ৩৯ একর আয়তনের জায়গা থাকলেও, কালের বিবর্তনে এখন তার এক-তৃতীয়াংশও নেই। বর্তমানে বাড়িটির একটি কক্ষে ভূমি অফিস, আর একটিতে আছে অনেক পুরনো ভূমি-সংক্রান্ত ফাইলপত্র। বাকি কক্ষগুলো পরিত্যক্ত পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে একটু বৃষ্টি হলেই পানিতে ভিজে যায় কক্ষের ভেতরের অংশ। ছাদের পানি পড়ার জন্য বাঘের মুখ ছিল একসময়, তা আজ প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পাওয়া যায়। কারুকার্যখচিত দেয়াল আজ সংস্কারের অভাবে চাপা পড়ছে শেওলার নিচে। ভেতরে জঙ্গলে ভরা। যাতে শোভা পায় বড় বড় গেছো শামুক।

এলাকাবাসীর দাবি, বাড়িটিকে সংস্কার করে ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সংরক্ষণ করে এক দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলা হোক।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য বরিশালের কাশবন

প্রকাশ: ০৮:৫৯ এএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail প্রকৃতির স্বর্গরাজ্য বরিশালের কাশবন

চিরল পাতার শুভ্র কাশফুলের সমাহার বরিশাল। বরিশাল নগরীর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম এর কাছে এবং ত্রিশ গোডাউন এবং দোয়ারিকা ও খয়রাবাদ সেতুর ঢালে ও সদর উপজেলা চরবাড়িয়ার ইউনিয়নের তালতলী ব্রিজ এর ঢালে দিগন্তজুড়ে ফুটে আছে সারি সারি শুভ্র কাশফুল। চোখে পড়বে এই দৃশ্য। করোনার প্রকোপ কাটিয়ে চিত্ত বিনোদনের জন্য কাশফুলের সাথে মিতালী করতে যান তারা। সেলফি আর পরিবার-স্বজন নিয়ে ছবি তুলে তারা মনের খোরাক যোগান। শরৎ কালে কাশফুল ঘিরে পর্যটকদের আনাগোনা হয় এসব স্থানে শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে ভিড় করেন বরিশাল ও এর নিকটবর্তী এলাকার অসংখ্য মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষের কাছে এ কাশবন যেন একরাশ আনন্দ আর সাময়িক মুক্তির বারতা। এখানে তাকালেই দেখা যাবে নীল আকাশের নিচে বাতাসে দোল খায় সাদা কাশফুল। সেই কাশবন যেন হয়ে উঠেছে শিল্পীর তুলিতে আঁকা কোনো ছবি! তাই তো অনেকেই ছুটছেন সেখানে বিনোদন পেতে। নতুন এ বিনোদন স্পটে দর্শনার্থীরা কাশফুলের সাথে মিলেমিশে একাকার হচ্ছেন। ক্যামেরা বা মুঠোফোনে ছবি তোলায় মেতে ওঠেন। আবার অনেক শর্ট ফিল্ম প্রযোজকরা আসেন শর্ট ফিল্ম নির্মাণ করতে। শরতের এ সময়টাতে সাদা আর সবুজের সাথে একাত্ম হয়ে ছুটে বেড়ায় কোমলমতি শিশু থেকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা। শরতের বিকেলে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি উপেক্ষা করে যান্ত্রিক পরিবেশকে পেছনে ফেলে প্রকৃতির কাছ থেকে একটু প্রশান্তি পেতে প্রায়ই কাশবনে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। এখানকার কাশবন যে কারো মনকে উদ্বেলিত করে। বরিশাল সদর উপজেলা চরবাড়িয়ার ইউনিয়ন তালতলীর ব্রিজ এর কীর্তনখোলা নদীর তীর সংলগ্ন এ কাশবনের ভেতরে ঢুকলেই চারদিকে কাশফুল, নদীর ধারে শরীর-মন জুড়িয়ে দেওয়া বাতাস। তাই দুপুরের তীব্র রোদ উপেক্ষা করে কাশবনে বসে কেউ গল্প করছেন। আবার কেউ নিজের ছবি তুলছেন। আর পড়ন্ত বিকেলের কথা তো বলেই শেষ করা যায় না। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। 

বরিশাল সদর উপজেলা চরবাড়িয়া তালতলী ব্রিজ এর কাছে কাশফুলের দর্শনার্থী মারিয়া ইসলাম মিম বলেন, বেশকিছু  কারণে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি ছিলাম।কাশফুলের বাগানে বেড়াতে এসে ভালোই লাগছে । নিজের মতো করে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়ার জন্য এখানে বেড়াতে এসেছি। বরিশাল স্টেডিয়ামের কাশফুল ঘিরে শেষ বিকেলে চোখে পড়ে নতুন প্রজন্মের মডেলিং। স্টেডিয়ামে কাশফুলের সাথে মিতালী করতে যাওয়া সাদিয়া জাহান, সানজু, ইশরাত জাহান ইভা বলেন, কাশফুলের দোলাচল প্রকৃতিপ্রেমী যে কারোর মনে ক্ষণিকের জন্য হলেও প্রশান্তি জোগাবে। মনের প্রশান্তির জন্যই স্টেডিয়ামে বেড়াতে এসেছেন তারা। বরিশাল কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা সরকারি বরিশাল কলেজের ছাত্রী আফরোজা আখি বলেন, শরৎ মনে জাগিয়ে দেয় কাশফুল, স্বচ্ছ নীল আকাশে সাদা মেঘ আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের কথা।কাশফুলের গন্ধ নেই, কাশফুল প্রিয়জনের জন্য উপহার হিসেবে দেয়ার ফুলও নয়। তবে কাশফুলের মধ্যে রয়েছে রোমাঞ্চকর উন্মাদনা। যা দেখে মন ভালো হয়ে যায়। কাশফুলের এই শুভ্রতা এবং স্নিগ্ধতা ছুঁয়ে যাক প্রতিটি হৃদয়। বরিশালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহিদুর ইসলাম তালুকদার বলেন, আগে পথে প্রান্তরে যেখানে সেখানে দেখা মিলত কাশফুলের। কিন্তু মানুষ বাড়ছে। বর্ধিত মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে পতিত জমিও চলে যাচ্ছে চাষের আওতায়। পতিত জমি না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে কাশবন আর কাশফুল। গ্রামাঞ্চলে অপরিকল্পিত দালানকোঠা, নদী ভাঙ্গন ও কৃষি চাহিদায় কাশফুল হারিয়ে যেতে বসছে আবহাওয়াজনিত কারণে অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শরৎকালে কাশফুলের তেমন দেখা মিলছে না।

প্রকৃতিপ্রেমী জারাও স্বর্ণা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশবনে ঘুরতে গিয়ে নিজের অনুভূতির থেকে জানান, সাদা আর সবুজের মিলনমেলার পাশ দিয়ে বয়ে চলা কীর্তনখোলা নদীর তীরে ঘুরে বেড়ানোর অনুভূতিই অন্যরকম। সাদা মেঘের সঙ্গে এ কাশফুলের সাদা রং মনকেও সাদা করে দেয়। শরৎ কাশবনকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে। কাশবনকে উদ্দেশ্য করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ফেরদৌসী বলেন, আজকের এই তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষ খুব একা হয়ে পড়ছে। যার প্রভাব পড়ছে তার সামাজিক ও মানসিক জীবনে। মানুষ কে প্রকৃতির কাছে যেতে হবে মনকে সজীব রাখতে হবে। তাহলেই আমরা সকল বাধা ভেদ করে এগিয়ে যেতে পারবো সুন্দর আগামীর পানে। তার জন্য এই কাশবন অগনেকটাই পরিবেশ বান্ধব। আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হয়ে থাকেন, বরিশাল আসলে একবার হলেও এই স্বর্গরাজ্যে আসার নিমন্ত্রন রইলো।

ঋতুর রাণী শরতের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ কাশফুল। আর কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য পুলকিত করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। শরতের মেঘহীন নীল আকাশে গুচ্ছ সাদা মেঘের ভেলা কেড়ে নেয়, প্রকৃতিপ্রেমীদের মন। আকাশে শুভ্র মেঘের ভেলা আর তার নিচে কাশফুলেরীয় নাচানাচি-অজান্তেই মানুষের মনে। নির্মল আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। তবে আকাশে ধবধবে সাদা মেঘের শতদল আর মাটিতে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল যে চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য ছড়ায় তাতে থাকে শুধুই মুগ্ধতা। 

কালের আবর্তে শরতকালের সেই চিরচেনা দৃশ্য এখন আর তেমনটি চোখে পরে না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ কাশবন কেটে কৃষি জমি সম্প্রসারণসহ আবাসিক এলাকা গড়ে তুলছে। এতে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতিকে অপরূপ শোভাদানকারী কাশফুল। সাহিত্যে কাশফুলের কথা এসেছে নানাভাবে। রবীন্দ্রনাথ প্রাচীন গ্রন্থ ‘কুশজাতক’ কাহিনী অবলম্বন করে ‘শাপমোচন’ নৃত্যনাট্য রচনা করেছেন। কাশফুল মনের কালিমা দূর করে, শুভ্রতা অর্থে ভয় দূর করে শান্তির বার্তা বয়ে আনে। শুভকাজে কাশফুলের পাতা বা ফুল ব্যবহার করা হয়। 

বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই কাশফুল দেখতে পাওয়া যায়। কাশফুল পালকের মতো নরম এবং ধবদবে সাদা। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ খুবই ধারালো। তিনি আরও বলেন, কাশফুলের বেশকিছু ওষুধি গুণ রয়েছে। যেমন-পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পিত্তথলির পাথর দূর হয়। কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে দুর্গন্ধ দূর হয়। কাশফুলের অন্য একটি প্রজাতির নাম কুশ। এরা দেখতে প্রায় কাশফুলের মতোই। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘পুরাণ’-এ কুশের স্থান খুব উঁচুতে। চর্মজাতীয় রোগের চিকিৎসায়ও কাশফুল বেশ উপকারী বলেও তিনি জানান। প্রকৃতির অপরূপ এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা জানান, নীল আকাশের নীচে সাদা কাশবন প্রকৃতিকে সাজিয়ে তুলেছে অপরূপ ভাবে। মনকে প্রফুল্ল রাখতে জীবনের শতব্যস্ততার মাঝেও শরৎ আসলেই নীল-সাদার এই অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে বারবার মন ছুটে যায় কাশবনে। 

শরতের কাশফুল নিয়ে কবিতা, গান, গল্পের শেষ নেই। কবি শাহনাজ রুবির ভাষায়, এই মধুরিমা গোধূলি আমায় দাওনা! তোমার অপরূপ শ্যামশ্রী অনির্বাচনীয়, আমার উদাসী মনে ধূলি মলিন বিবর্ণতার অবসান হয়েছে, দাঁড়িয়েছি কাশবনে। আমিতো তাকিয়ে দেখি বিচিত্র পুষ্প বিকাশের লগ্নকালের পথ চেয়ে, কখন ফুটবে তোমরা বন বনানীর স্নেহময় ছায়ায়, চাতকের মতো দীর্ঘ তৃষ্ণায় নিবৃত্তি হবেনা। আমিতো বঙ্গ প্রকৃতিতে হৃদয়ের দ্বার খুলে বসে আছি, আমি এক বাংলার মেয়ে বলছি, ফুটে যাও, ফুটে যাও। সজল দিগন্তের ভেসে চলা বলাকার সারিরা আমায় বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়, নীল এবার ঘরে ফিরে যাও। ঘরে ফিরে যাও, সন্ধ্যা রানী এলো বুঝি ঘনিয়ে, এবার ফিরে চলো।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

এলিট সমাজের প্রবীণ জনগোষ্ঠী, ন্যায়ানুগ দৃষ্টি আছে কি?

প্রকাশ: ১১:০৭ এএম, ০১ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail এলিট সমাজের প্রবীণ জনগোষ্ঠী, ন্যায়ানুগ দৃষ্টি আছে কি?

সমাজে একক পরিবার বাড়ছে। অনেক সময়ই আমরা দেখি কাজের সূত্রে আমরা শহরে পাড়ি জমালেও বাবা মা থেকে যাচ্ছেন গ্রামেই। আবার কখনো কখনো যদিও বা তারা আমাদের সাথেই থেকে যান, কাজের চাপে, প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় আমরা ভুলে যাই আমাদের পাশের ঘরে থাকা প্রবীণ ব্যক্তিটির কথা। তারাও যে আমাদের কাছে সময় চান, একটু কথা বলার সঙ্গী চান, আমরা ভুলে যাই।

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস। সার্চ ইঞ্জিনে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীর সংখ্যা সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯ জন, যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রতিবছর বাংলাদেশের জনসংখ্যায় নতুন করে যোগ হচ্ছেন ৮৫ হাজার নতুন প্রবীণ ব্যক্তি। ধারণা করা হয় যে, এক সময় বাংলাদেশে একদিন শিশুর থেকে প্রবীণদের সংখ্যাই বৃদ্ধি পাবে। ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে প্রবীণের সংখ্যা পৌঁছাবে ৪ কোটিতে। এ তো গেল প্রবীণ জনসংখ্যার হিসাব, এখন বলি একক পরিবারের হিসাব। চলতি বছরের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য মতে বাংলাদেশে পরিবারের সংখ্যা ৪ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ৫১ জন এবং পরিবারের গড় আকার চার জন। এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশে পরিবারের আকার ছোট হচ্ছে। একই চিত্র রাজধানীর বাইরের শহরগুলোতেও, রাজশাহীতে পরিবারের আকার ৩ দশমিক ০৮ জন, রংপুরে ৩ দশমিক ০৯, খুলনায় ৩ দশমিক ০৯, বরিশালে ৪ দশমিক ০১, চট্টগ্রামে ৪ দশমিক ০৪, এবং ময়মনসিংহে এর আকার ৪ জন।

উপরের পরিসংখ্যান দেখে এটা স্পষ্টতই যে বাংলাদেশে একক পরিবার বাড়ছে। আর এই একক পরিবারগুলোতে কতজন প্রবীণ বসবাস করে কিংবা আদৌ তারা থাকে কিনা তা বোঝার উপায় খুব কম। আর তথ্য মতে সরকারি বেসরকারি মিলে বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা রয়েছে ৩২ টির মত। আর এই বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা দেখেই অনুমান করা যায় এদেশের একক পরিবার চিত্রে আসলেই প্রবীণ ব্যক্তিরা স্থান পান কিনা।

প্রবীণদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই ন্যায়ানুগ নয়। তাই এখনো টিভি বা পত্রিকা খুললে দেখা যায় রাস্তার পাশে নিজ সন্তান তার প্রবীণ পিতাকে কিংবা মাতাকে ফেলে রেখে গেছেন। এই তো চলতি মাসের ৪ই সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন সন্তানের ফেলে যাওয়া বৃদ্ধ মাকে সাহায্য করতে গিয়ে পত্রিকার শিরোনাম হলেন, উল্লেখ্য তার কিছুদিন আগেই ছেলের বউয়ের সাথে বনিবনা না হওয়ায় মা মর্জিয়া বেগমকে রাস্তার পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে গেলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। এ তো শুধু মর্জিয়া বেগমের ছোট্ট একটি গল্প, এমন গল্পে ভরে আছে আমাদের চারপাশ।

কথায় আছে মানুষ প্রবীণ হলে শিশুর মত হয়। আসলেই তা ঘটেও। তাই প্রবীণ ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য ও উদাসীন দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বদল করা উচিৎ। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিৎ সেবা পরিচর্যার। পরিবারের প্রবীণ সদস্যকে অক্ষম, অসুস্থ, দুর্বল, পরনির্ভরশীল, বোঝা, উটকো ঝামেলা, বাচাল,না ভেবে আমাদের সকলের উচিৎ তাদের প্রতি আলাদা সেবার দৃষ্টি দেয়া। যারা আমাদের ছোট শিশু থেকে লালন পালন করল আমাদের উচিৎ তাদের শেষ বয়সে শিশুর মত করেই পালন করা। প্রশাসনেরও উচিৎ এদেশকে প্রবীণবান্ধব করে তোলা৷ তাদের জন্য সেবা, নজরদারী,পরিচর্যা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।এছাড়া শক্তিশালী করতে হবে সামাজিক বেষ্টনী । এবং ভাবতে হবে প্রবীণ বয়সের স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা।

প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও চিন্তা করেছিলেন। তাইতো তিনি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে সংবিধানে ১৫ (ঘ) ধারা সংযুক্ত করেন (সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার)। জাতির পিতার এই চিন্তাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে তৎকালীন সরকার বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করেন।  এছাড়া বয়স্কদের জন্য পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, শান্তিনিবাস স্থাপন, জাতীয় প্রবীণ কমিটি গঠন, চাকরিজীবী প্রবীণদের জন্য ভবিষ্যৎ তহবিল, গ্রাচ্যুইটি, কল্যাণ তহবিল, যৌথ বিমার সুবিধাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় তবে খেয়াল রাখতে হবে এই উদ্যোগগুলোরও যাতে যথোপযুক্ত তদারকি ও প্রয়োগের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবসে তাই এতটুকুই কাম্য রইল।


বাংলাদেশ   বিশ্ব প্রবীণ দিবস   এলিট সমাজ   প্রবীণ জনগোষ্ঠী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

‘ঊনো বর্ষার দুনো শীত', এলো কি?

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail "ঊনো বর্ষার দুনো শীত', এলো কি

অফিস থেকে বের হয়ে বাসার উদ্দ্যেশ্যে হাঁটছিলাম। কিছুদূর এগোতেই চোখ আটকে গেল একটা ঠেলাগড়ির দিকে। ঠেলাগড়িতে একের পর এক গরম ভাপা এবং চিতই পিঠা নামিয়ে রাখছে একটা ছেলে। গরম ভাপা পিঠা দেখেই কিনা, সামনে এগিয়ে গেলাম, দিতেও বললাম একটা পিঠা। না চাইতেই সদ্য চুলা থেকে নামিয়ে দেয়া ভাপা পিঠা প্লেটে করে হাতে দিয়ে দিল ছেলেটি। গুড় আর নারকেল কোড়া দেয়া ভাপা পিঠেটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ, তারপর এক কোণা থেকে ভেঙ্গে মুখে চালান করে দিলাম। ঠিক এইবার, হঠাৎ মনে হল শীত চলে আসছে, আর এই ছোট পিঠার দোকানটি এই ইট পাথরের রাজধানীকে  জানান দিচ্ছে শীতের আমেজ শুরু হল বলে।

শীত এমন একটি ঋতু যা হুট করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে আসে না। বরং সে তার আগমনী বার্তা দিতে থাকে প্রকৃতিতে।  শহরে এবং গ্রামে, দুই স্থানে শীতের আগমনী সংকেত কিন্তু ভিন্ন হয়। তবে দুই স্থানের আমেজ এবং প্রকৃতির রূপ বদল কিন্তু  সম্পূর্ণ আলাদা। এবং দুই জায়গার সৌন্দর্য ধরা দেয় দুই রকমভাবে।

যেহেতু আমাদের গ্রাম বাংলা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যে সজ্জিত, সেহেতু প্রথমেই গ্রাম বাংলার শীতের আমেজ দিয়েই শুরু করি আজকের লেখা। শীতের আগমনী সংকেত সব থেকে বেশি পরে এই গ্রাম বাংলার প্রকৃতিতে। সকালের হালকা বাতাসে ঠান্ডা হাল্কা কুয়াশার চাঁদর, ঘাসের উপর মুক্ত দানার শিশির কনা জানান দেয় শীত আসছে।  দিন রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেকটাই বেশি টের পাওয়া যায় গ্রামের প্রকৃতিতে। সকালে হিম হিম ঠান্ডা আবার রোদ উঠলেই হাল্কা গরম, আবার সন্ধ্যে নামলেই আরেকটু ঠান্ডা অনুভত হয়। এসময় হেমন্তের ধান কাটারও একটা পর্ব শুরু হয়ে যায়। আর ধান কাটার পর পিঠা পুলি দিয়ে হেমন্তের নবান্ন উৎসব শীতের আরেকটা পর্ব যা আরেকবার নতুন করে জানান দেয় শীতের আগমনী ধ্বনি। 

শহরে শীত আসে ধীরে। শহরের বেশ কিছু পরিবর্তন দেখেই মূলত বুঝে নিতে হয় শীত আসছে। ভোরে উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ের মাথা ঝাপসা দেখলে সহজে বোঝার উপায় থাকে না শীত নাকি ধোয়া। কিন্তু সকালের ঠান্ডা হাল্কা বাতাসে বুঝে নিতে হয় শীত আসছে। এছাড়া শহরের বাজারগুলোতে উঠতে থাকে শীতের নানান সবজি। দাম বেশি হলেও এই সবজি গুলোই শহরবাসীকে ইঙ্গিত দিয়ে যায় শীত শুরু হল বলে। এছাড়া শীতের আমেজ পরে যায় রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলোতেও।  এসময় বসে যায় থরে থরে পিঠার দোকান। শহরের ইট পাথরের দেয়াল ঘেরা  প্রকৃতিতে শীত বোঝা যায় খুব অল্প বিস্তর কিন্তু শহরের এই অলিতে গলিতে তুমুল পরিবর্তনেরও রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। 

গ্রাম কিংবা শহর, শীত আসার আগের মূল আকর্ষণই হয় বিভিন্ন স্বাদের পিঠা। শীত আসার আগে থেকেই পিঠা তৈরির একটা ব্যাপার চারপাশেই খেয়াল করা যায়।  গ্রামের দিকে বাড়িতে বাড়িতে সকালেই দেখা যায় গরম উনুনে পিঠা চেপে বানিয়ে ফেলছে ভাপা, চিতই, তেলপিঠা,পাটিশাপ্টা আরও কত কি। আর শহরের দিকে পিঠা পর্ব শুরু হয় বিকেল থেকে। ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত মানুষ যখন অফিস শেষে ঘরমুখী হয়, রাস্তার পাশের ছোট পিঠের দোকানেই তারা ফিরে যায় অতীত শৈশবে। গরম ভাপা, চিতই মুখে পুরে শীত আসার অনুভূতি নেয় তারা।

শীত আসার আগে যেমন আগমনী বার্তা দেয় তেমনি সাথে দেয় পরিবর্তনশীল আবহাওয়া। আর এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার ঠান্ডা গরম পরিবেশে  খাপ-খাওয়াতে পারেন না অনেকে। যে কারণে কেউ কেউ সর্দি-জ্বর, কাশিসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সব বয়সির মধ্যে এই সমস্যা দেখা গেলেও শিশু আর বয়স্করা একটু বেশি নাজুক থাকায় তাদের উপর প্রভাব পরে অনেক বেশি। তাই তাদেরকে সতর্কও থাকতে হবে অনেকটা।

শহর কিংবা গ্রাম,শরতের পরেই শীতের আমেজ আসতে শুরু করে দেশে। দেশের উত্তরাঞ্চলে সব থেকে বেশি শীতের আমেজ পরিলক্ষিত হয়। শীত আসার আগের এই সময়টুকু শুধু উপভোগ করলেই চলবে না বরং শীত আসার আগেই নিয়ে নিতে হবে শীতের প্রস্তুতি।  পরিবর্তনের আবহাওয়ায় থাকতে হবে সতর্ক। কথায় আছে যে বছর বর্ষায় বৃষ্টি কম হয় সে বছর শীত একদম জেকে বসে। এবার আমাদের দেশে বৃষ্টিও কম হয়েছে, তাই ভাবাই যেতে পারে এবার শীতটাও হয়তো জেকে বসবে। তাই আগে থেকেই নিতে হবে প্রস্তুতি। আপাতত ঊনো বর্ষার দুনো শীতকে নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বরং আমরা দেখতে থাকি প্রকৃতির পরিবর্তন আর ধীরে ধীরে স্বাগত জানাই আগমনী শীতকে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

নদী, মৃত্যু এবং আমরা সাধারণ

প্রকাশ: ০৯:১৭ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নৌকাডুবি, ট্রলার ডুবি কিংবা লঞ্চ ডুবি দেশের এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কয়েক দিন আগে পঞ্চগড়ের বোদায় নৌকাডুবে নিহত হয়েছে অনেক। এ ঘটনায় এখনো লাশের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার ডুবির সংখ্যা এত বাড়ছে কেন?

শুধুমাত্র সরকারের ওপর দোষ চাপালেই হয়না বরং দেশে ঘটা অনেক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহাণীর জন্য  দায়ী  থাকি আমরা নিজেরাই। নিজেদের সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্বহীনতা আমাদের দেশের ঘটা অনেক অঘটনের জন্যে দায়ী। সদ্য পঞ্চগড়ে নৌকাডুবিও তারই ইঙ্গিত দেয়।

দেশে নৌ দুর্ঘটনা কমছেই না। দেশে থাকা অগণিত হাওর বাওরে প্রতিনিয়ত চলছে ট্রলার, নৌকা, লঞ্চ, জাহাজ, স্প্রিডবোর্ড। শুধুমাত্র বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই পত্রিকায় তা ফলাও করে ছাপানো হয় কিন্তু ছোটখাট দুর্ঘটনাগুলো চাপা পরেই থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে যে হারে নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা রীতিমত চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এইসব দুর্ঘটনা ঘটছে যত টানা নদীর স্রোত কিংবা বৈরি আবহাওয়ার জন্য, ততটাই আমাদের নিজেদের অসচেতনতা আর অব্যবস্থাপনার জন্যেই ঘটছে।

পঞ্চগড়ের বোদায় ঘটা দুর্ঘটনার দিকে তাকালে শুরুতেই বলা যায় অসচেতনতাই এই নৌকাডুবির কারণ। নৌকায় যাত্রী ওঠানোর আগ মুহুর্তের একটা ছোট ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এই ভিডিওটিতে দেখলেই বোঝা যায় এই ছোট নৌকাটি কতজন লোক উঠেছিল। আপাত দৃষ্টিতে দেখা যায় নিজেদের বিপদ নিজেরাই যেন ডেকে নিয়ে এসেছিল সবাই। তিল ঠাই দেয়ার জায়গা ছিল না নৌকাটিতে।ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি বড়শশী ইউনিয়নের বোদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। নদীর মাঝে গিয়ে স্রােতে দুলতে শুরু করে নৌকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই উল্টে যায় নৌকাটি। যেখানে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে করতোয়া নদীর এই জায়গাটি এমনিতে খুব খরস্রােতা নয়; গভীরতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বর্ষণের পর উজানের ঢলে নদীতে পানি বেড়েছে অনেকটা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় পড়া নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠায় এবং মাঝনদীতে নৌকাডুবির কারণে মৃত্যু এত বেশি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এত গেল পঞ্চগড়ের বোদার ঘটনা। বাংলাদেশে ভূরি ভূরি লঞ্চ বা স্টিমার দুর্ঘটনা ঘটে অসম প্রতিযোগিতা করে লঞ্চ চালানোর কারণে। আর এসকল লঞ্চে কখনো থাকে অভিজ্ঞ আবার কখনো অনভিজ্ঞ চালকগণ। যাদের কাছে লঞ্চ, নৌকা কিংবা স্টিমারে থাকা মানুষের জানমালের চেয়ে প্রতিযোগিতাটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া যেখানে নদী বন্দরের এইসব চালক থেকে শুরু করে মালিক পক্ষের আবহাওয়া বার্তা পড়া বা শোনা বাধ্যতামূলক, তার তোয়াক্কা তো তারা করেই না। আর এসবের খেসারত দিতে হয় অনেকগুলো মৃত্যু দিয়ে, অনেক গুলো পরিবারের দুঃস্বপ্ন দিয়ে।

এখন তো নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার লঞ্চ ডুবি খুব স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । মাসে  একটা দুটো  এমন দুর্ঘটনা ঘটে, মাঠ গরম হয়, তদন্ত কমিটি গঠন হয়, লাশ নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়। কেউবা আবার ক্ষতিপূরনের টাকা নিয়ে দৌড়ায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি ঠান্ডা 
 হয় এবং একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। কিন্তু এইসব দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া, সচেতনতা তৈরি হওয়ার কোন লক্ষন কোথাও দেখা যায় না। ক্ষতিপূরণের টাকা সরকার থেকে দেয়া হলেও সেগুলো কার পকেটে যায় তারও আর কোন খবর থাকে না।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, এদেশের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নদীপথ। কিন্তু আমাদের অসেচতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ। নদীপথ নিরাপদ করতে যেমন সরকারি ভাবেও উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। আমরা সচেতন হলেই বাঁচবে দেশ, কমবে দুর্ঘটনা, বাঁচবে প্রাণ।

নৌকাডুবি   অসচেতনতা   প্রাণহানী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন