ইনসাইড আর্টিকেল

নিজ পেশা থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ


Thumbnail নিজ পেশা থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ

বেদে সম্প্রদায় হলো বাংলাদেশের একমাত্র যাযাবার শ্রেণীভুক্ত মানুষ। কথিত আছে, ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে আরাকানরাজ বল্লার রাজার সাথে তাদের প্রথম ঢাকায় আগমন ঘটে। প্রথমে তারা বিক্রমপুরের মুন্সিগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তারপর জীবিকার খোঁজে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, নগরে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একাংশে আর আসাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পরে। বেদে জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশই নিরক্ষর।

এদের আজীবনই বসবাসের জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্যই তাদের স্থির কোনো বাসস্থান কখনোই গড়ে উঠেনি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। এদের বেশিরভাগই বসাবস করেন হালুয়ার ঘাটের নৌকায়। আবার যারা ইতোমধ্যে তৈরি করে নিয়েছেন অন্য পেশায় জায়গা, তারা কিছুটা উন্নত জীবন-যাপন করছেন। 

বেদে সম্প্রদায় ভুক্ত অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে নিজেদের মতো নতুন পেশা খুঁজে নিচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে দাবী করেন আয়ের সল্পতা। আগের মতো করে তাদের ব্যবসায় লাভের চেহারা দেখছেন না তারা বহুদিন ধরেই। তাই অনেকেই বিমুখ হচ্ছেন এই পেশা থেকে। এমনকি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী খুব দ্রুত বেদে সম্প্রদায়ের এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। 

বেদে সম্প্রদায় ভুক্ত নারী এবং পুরুষেরা সাধারণত সাপের খেলা দেখাতো। এটাই তাদের প্রধান পেশা হিসাবে বিবেচনা করা হতো। সময়ের সাথে সাথে এই সম্প্রদায়ের নারীরা বাতের ব্যাথার চিকিৎসা, দাঁতের পোকা সারানো, সাপে কামড়ালে বিষ নামানো ইত্যাদি কাজে নিযুক্ত হন। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো স্বীকৃতি নেই তাদের অবলম্বন করা পদ্ধতির দ্বারা আসলেই সমস্যার সঠিক সমাধান হয় কিনা এই বিষয়ে। তবুও, আগে মানুষের এই পদ্ধতি অনুসারে এই সব কাজের চাহিদা ছিল। বর্তমানে প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে, মানুষ জ্ঞানের মাধ্যমে যত বিজ্ঞান নির্ভর মনোভাব গড়ে তুলছেন,  ঠিক ততটাই এই কাজের জন্য আধুনিক বিজ্ঞানমূলক পদ্ধতিতে তারা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন। আদিম পদ্ধতিতে ততই হারাচ্ছেন বিশ্বাস। যে কারণে এখন গ্রামগঞ্জেও এসব কাজের উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায় না তেমন একটা। 

সাভারের বেদে সম্প্রদায়ের সাথে আলাপচারিতার সময়, মাজেদা নামের এক নারী জানান, তিনি আগে সাপের খেলা দেখানোর পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। তার স্বামীও এই কাজ করতেন। কিন্তু এখন তারা দু'জনের একজনও এই পেশায় আর নিয়োজিত নেই। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, এই কাজে এখন আর যথেষ্ট আয় তাদের হয় না। পাশাপাশি, শহরাঞ্চলে সবাই ঘরে সময় কাটাই বেশি, সেই খোলামেলা পরিবেশও আর নেই যেখানে খেলা দেখানো যায়। চার বছরের বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তির পরিকল্পনা করছেন এই দম্পতি।  কিন্তু আগের পেশায় নিয়োজিত থাকলে তা কখনোই সম্ভব হতো না। তাদের ভাষায়, "এই পেশা দিয়ে এখন আর পেট চলে না।"

আলাপের এক পর্যায়ে কাঞ্চন নামের বেদে সম্প্রদায়ের একজন তরুণ বলে, "এই পেশা থেকে আমাদের বয়সী তরুণ আগ্রহ হারাচ্ছে অনেক বেশি। আমার বন্ধুরা অনেকেই নিজেদের মতো ব্যবসা শুরু করেছে। আমি নিজেও ব্যবসা করি। তাতে আয় অল্প হয় কিন্তু আদিম পেশা থেকে কিছুটা ভালো।" তাদের মতে,বাপ দাদার পেশা কেউ সেচ্ছায় ছাড়তে চায় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুসারে এখন তারা নিরুপায়। এই পেশা নিয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সময়কালে। 

অনেকে দাবি করেন, এই পেশা ছাড়ার অন্যতম কারণ হলো সাপ খুঁজে না পাওয়া। আগের মতো সাপ ধরা যায় না। অনেক ধৈর্য্য আর সময়সাপেক্ষ এই কাজ যেমন কেউ করতে চায় না, তেমনি সাপ খুঁজে পাওয়াটাও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। স্বল্প সংখ্যক যে কয়েকটা খুঁজে পাওয়া যায় তা বনবিভাগের সংরক্ষণে চলে যায়। বিরল প্রজাতির সাপ পাওয়া যেমন মুশকিল তেমনই সাধারণ প্রজাতির সাপের নাগাল পাওয়াটাও যেন বিশাল চ্যালেঞ্জ। রতন মিঁয়া নামের একজন জানান, সাপ খুঁজে পাওয়াটাই তো মুশকিল, এই পেশা নিয়ে আগাবো কেমনে?" 

অনেকে মনে করেন যাযাবর শ্রেণী হিসেবে এই পেশার মানুষরা সমাজ স্বীকৃত না বা তথাকথিত মর্যাদা এবং সম্মান পায় না বলে এই পেশা থেকে সহজে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এই সম্প্রদায়েরই মানুষজন। তাই আজ প্রায় বিলুপ্তির মুখে ঐতিহাসিক এই শ্রেণীভুক্ত মানুষের আদিম পেশার জীবিকা এবং জীবনধারা। 


বেদে সম্প্রদায়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

নদী, মৃত্যু এবং আমরা সাধারণ

প্রকাশ: ০৯:১৭ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নৌকাডুবি, ট্রলার ডুবি কিংবা লঞ্চ ডুবি দেশের এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কয়েক দিন আগে পঞ্চগড়ের বোদায় নৌকাডুবে নিহত হয়েছে অনেক। এ ঘটনায় এখনো লাশের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার ডুবির সংখ্যা এত বাড়ছে কেন?

শুধুমাত্র সরকারের ওপর দোষ চাপালেই হয়না বরং দেশে ঘটা অনেক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহাণীর জন্য  দায়ী  থাকি আমরা নিজেরাই। নিজেদের সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্বহীনতা আমাদের দেশের ঘটা অনেক অঘটনের জন্যে দায়ী। সদ্য পঞ্চগড়ে নৌকাডুবিও তারই ইঙ্গিত দেয়।

দেশে নৌ দুর্ঘটনা কমছেই না। দেশে থাকা অগণিত হাওর বাওরে প্রতিনিয়ত চলছে ট্রলার, নৌকা, লঞ্চ, জাহাজ, স্প্রিডবোর্ড। শুধুমাত্র বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই পত্রিকায় তা ফলাও করে ছাপানো হয় কিন্তু ছোটখাট দুর্ঘটনাগুলো চাপা পরেই থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে যে হারে নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা রীতিমত চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এইসব দুর্ঘটনা ঘটছে যত টানা নদীর স্রোত কিংবা বৈরি আবহাওয়ার জন্য, ততটাই আমাদের নিজেদের অসচেতনতা আর অব্যবস্থাপনার জন্যেই ঘটছে।

পঞ্চগড়ের বোদায় ঘটা দুর্ঘটনার দিকে তাকালে শুরুতেই বলা যায় অসচেতনতাই এই নৌকাডুবির কারণ। নৌকায় যাত্রী ওঠানোর আগ মুহুর্তের একটা ছোট ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এই ভিডিওটিতে দেখলেই বোঝা যায় এই ছোট নৌকাটি কতজন লোক উঠেছিল। আপাত দৃষ্টিতে দেখা যায় নিজেদের বিপদ নিজেরাই যেন ডেকে নিয়ে এসেছিল সবাই। তিল ঠাই দেয়ার জায়গা ছিল না নৌকাটিতে।ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি বড়শশী ইউনিয়নের বোদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। নদীর মাঝে গিয়ে স্রােতে দুলতে শুরু করে নৌকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই উল্টে যায় নৌকাটি। যেখানে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে করতোয়া নদীর এই জায়গাটি এমনিতে খুব খরস্রােতা নয়; গভীরতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বর্ষণের পর উজানের ঢলে নদীতে পানি বেড়েছে অনেকটা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় পড়া নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠায় এবং মাঝনদীতে নৌকাডুবির কারণে মৃত্যু এত বেশি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এত গেল পঞ্চগড়ের বোদার ঘটনা। বাংলাদেশে ভূরি ভূরি লঞ্চ বা স্টিমার দুর্ঘটনা ঘটে অসম প্রতিযোগিতা করে লঞ্চ চালানোর কারণে। আর এসকল লঞ্চে কখনো থাকে অভিজ্ঞ আবার কখনো অনভিজ্ঞ চালকগণ। যাদের কাছে লঞ্চ, নৌকা কিংবা স্টিমারে থাকা মানুষের জানমালের চেয়ে প্রতিযোগিতাটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া যেখানে নদী বন্দরের এইসব চালক থেকে শুরু করে মালিক পক্ষের আবহাওয়া বার্তা পড়া বা শোনা বাধ্যতামূলক, তার তোয়াক্কা তো তারা করেই না। আর এসবের খেসারত দিতে হয় অনেকগুলো মৃত্যু দিয়ে, অনেক গুলো পরিবারের দুঃস্বপ্ন দিয়ে।

এখন তো নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার লঞ্চ ডুবি খুব স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । মাসে  একটা দুটো  এমন দুর্ঘটনা ঘটে, মাঠ গরম হয়, তদন্ত কমিটি গঠন হয়, লাশ নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়। কেউবা আবার ক্ষতিপূরনের টাকা নিয়ে দৌড়ায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি ঠান্ডা 
 হয় এবং একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। কিন্তু এইসব দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া, সচেতনতা তৈরি হওয়ার কোন লক্ষন কোথাও দেখা যায় না। ক্ষতিপূরণের টাকা সরকার থেকে দেয়া হলেও সেগুলো কার পকেটে যায় তারও আর কোন খবর থাকে না।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, এদেশের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নদীপথ। কিন্তু আমাদের অসেচতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ। নদীপথ নিরাপদ করতে যেমন সরকারি ভাবেও উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। আমরা সচেতন হলেই বাঁচবে দেশ, কমবে দুর্ঘটনা, বাঁচবে প্রাণ।

নৌকাডুবি   অসচেতনতা   প্রাণহানী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

পূজোয় বাঙালি রসনা

প্রকাশ: ০৯:২৪ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail পূজোয় বাঙালি রসনা

বাঙালির রসনা বিলাসের শেষ নেই। বাঙালির যেমন আছে বার মাসে তের পার্বণ তেমনি আছে এর সাথে রসনার যোগসূত্র। বাঙালির যেন উৎসবই জমে না টেবিল ভর্তি বাঙালি খাবার ছাড়া। মহালয়া দিয়ে পূজার বাদ্যি বেজে গেল, এখন শুধু তাই পূজার দিনে বাঙালির রসনা বিলাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে প্রত্যেকটি বাড়িতে। পেট পূজা ছাড়া কি আর পূজোর আনন্দ জমে?

পূজার মূল আকর্ষণ হল পূজায় তৈরি প্রত্যেক বাড়ির মিষ্টি খাবার গুলো। কি নেই এতে? নাড়ু, সন্দেশ, বাহারি লাড্ডু, খঁই, বিভিন্ন রকমের মোয়া, পাটালি, পায়েস। মিষ্টি ছাড়া যেন জমেই না দুর্গাপূজা। তবে দুর্গাপূজায় যে জিনিসটি সব বাসাতেই তৈরি হয় তা হলো নারিকেলের নাড়ু। গুড়ের কিংবা চিনির, নাড়ু ছাড়া যেন দুর্গাপূজা কল্পনাই করা যায় না। ষষ্ঠী থেকে দশমী পূজার প্রসাদ তো থাকেই, সাথে থাকে আরও নানান ভিন্ন স্বাদের খাবার। আমিষ থেকে নিরামিষ সবই খাওয়া চলে রীতি নিয়ম মেনে।


পূজায় নিরামিষ আমিষের একটা ঝক্কি অবশ্য থাকেই। যারা পূজার আয়োজক থাকেন, তারা নিয়ম মেনে নিরামিষ খান। ষষ্ঠির সকালে তাই বাসায় চলে ফুলকো লুচি, সবজি , বুটের ডাল কিংবা  মিষ্টি। পূজার আয়োজকে যারা থাকেন তারা পুরো সময় জুড়ে নিরামিষ খান। দশমীর দিন কিংবা অষ্টমঙ্গলার দিনে গিয়ে তারা নিয়ম বা শাস্ত্র মেনে আমিষ খেতে পারেন। 

মূলত পূজায় যারা পূজার আয়োজকে থাকেন না তারা আমিষ খেতে পারেন। দেখা যায় দুপুরে হয়তো পোলাওয়ের সাথে কচি পাঁঠার মাংস, কিংবা গাঢ় ঝোলে ডুবে থাকা পনিরের টুকরো দিয়ে চলে দুপুরের ভোজ। এছাড়া পূজোয় আবার তৈরি হয় নানা পদের চমকপ্রদ খাবারও যেগুলো কিনা শুধুমাত্র পূজারই আকর্ষণ। এই চমকপ্রদ খাবারের তালিকায় প্রথম নাম যেটি আসে, সেটি হল ভূনা খিচুড়ী। খিচুড়ীর সাথে কয়েক পদের ভাজা খাবার না থাকলেও যেন  জমে না। তাই ভূনা খিচুড়ীর সাথে পাতে পরে বেগুনি কিংবা পিয়াজু, কিংবা কুরকুরে আলুর ভাজা। এছাড়া আরেকটি আকর্ষণ হলো আলুর দম। গোটা গোটা আলুর সাথে যখন ফুলকো লুচিগুলো  ছিড়ে মুখে পুড়ে দেয়া যায়, স্বাদের একটা গোলা যেন মুখে একটা নাড়া দিয়ে যায়।

পূজার দিনের আরও  নানান পদে থাকে আমড়ার চাটনি, লাবড়া,  সরশে পটোল, পোস্ত বেগুনি, চিতল মাছের কোপ্তা কারি, ভাঁপে ইলিশ, নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল, সরষে ইলিশ।এই খাবারগুলো পরিবেশন করাও হয় আমিষ, নিরামিষ এসকল ভেদে । দুর্গাপূজার খাবার দাবারের মূল পর্ব দশমীর দিন শুরু হয় এক  কথায়। মাকে বিদায় দেয়ার কষ্ট যেন বাঙালি ভুলে যেতে চায় কব্জি ডুবিয়ে খাবারের মাধ্যমে। কারণ ষষ্ঠি থেকে নবমী এই দিন গুলোতে কেউ নিরামিষ, কেউ আমিষ খায়। কিন্তু দশমীর দিনটি যেন হয়ে ওঠে আমিষের। মাছ মাংসের সব পদই খাওয়া যায় এই দিনে।

দশমীর দিন কেউ শুরু করেন ঘরে পাতানো সাদা দইয়ে চিড়া ভিজে খেয়ে। সাদা টক দইয়ের সাথে চিড়া আর চিনি যখন মাখানো হয়, মিষ্টি ঘ্রাণ যেন নাকে সুড়সুড়ি দিয়ে যায়। এরপর চলে কব্জি ডুবিয়ে দই চিড়া খাওয়ার পব। দুপুরের দিকে খাওয়া হয় কচি পাঠাঁর মাংস। কাসার থালে যখন মাংসের লাল ঝোল মেখে ধোয়া ছড়ায়, পেটের ক্ষুধা যেন হঠাৎই বেড়ে যায় দশ গুণ। এছাড়া আবার রান্না হয় ঘণ পেয়াজ কুচির সাথে রুইয়ের ঝোল। আবার অনেক সময় তৈরি হয় মাছের মুড়ো দিয়ে মূড়িঘন্ট। সোনা মুগ ডাল যখন ভেজে মাছের মাথার কষানো ঝোলে গিয়ে পরে দেখলেই যেন অর্ধেক ভোজন তখনি হয়ে যায়। আর পূজোর বিকেলটা তো চলে যায় পূজো মন্ডবের নানান খাবার  দিয়েই।


দুর্গাপূজা বাংলার ঐতিহ্য। ঐতিহ্যের সাথে বাংলার রসনা বিলাসের যে যোগসূত্র তা দুর্গাপূজার আয়োজনে দেখা মেলে। প্রতিদিনের শাস্ত্রীয় রীতি মেনে পূজার বিভিন্ন স্বাদের খাবার পূজার আনন্দ বাড়িয়ে দেয় আরও অনেক গুণ।

পূজা   খাবার   ঐতিহ্য  


মন্তব্য করুন