ইনসাইড আর্টিকেল

ঈদুল আজহার ছুটিতে ঘুরে আসুন ঝরঝরি ঝর্ণা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১১ জুলাই, ২০২২


Thumbnail

দেশব্যাপি উদযাপিত হয়ে গেছে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রায় দুই বছর পর ফের ঈদুল আজহার আনন্দ দেখা গিয়েছে মানুষের মাঝে। যদিও করোনার ৪র্থ ঢেউয়ের একটা আতঙ্ক রয়েছেই। তবে সকলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দের সাথে উদযাপন করেছে ঈদকে। ঈদুল আজহা ফিরে পেয়েছে পুরনো রুপ, পুরনো চেহারা। সেই আনন্দটাকে দ্বিগুণ করে তুলতে ঢাকার বাইরে একদিনে পাহাড়ের গহিনে হাড়িয়ে যেতে পারেন। 

কি ভাবছেন, এটা আবার কোথায়! তাহলে চলুন আপনাদেরকে পাহাড়ের গহিনে নিয়ে যাই। পাহাড়, সাগর ও প্রাকৃতিক ঝর্ণায় ভরপুর এই এলাকা। বলা যায় পাহাড়, সাগর ও ঝর্ণার একটা ফুল প্যাকেজ যেনো সীতাকুন্ড। আর এই সীতাকুন্ডের অন্যান্য সব নজর কারা ঝর্ণাগুলোর মধ্যে একটি হলো ঝরঝরি ঝর্ণা। এটি অবস্থিত সীতাকুন্ডের 

একদিকে ঈদুল আজহার ছুটি, অপরদিকে চলছে বর্ষাকাল। আর এই বর্ষাকালেই ঝর্ণা তাঁর পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়। তাই ঝর্না দেখার জন্য বা সঠিকভাবে উপভোগ করার জন্য বর্ষাকালটাই উত্তম। তাই আপনি বা আপনারা চাইলে একদিনে ঘুরে দেখে আসতে পারেন ঝরঝরি থেকে। যার আরেক নাম মূর্তি ঝর্ণা।

এই ট্রেইলে ছোট বড় মোট ৬টি ঝর্ণা রয়েছে।ঝরঝরি ঝর্ণার সবচেয়ে দেখার মত জিনিস ঝর্ণার পাশাপাশি বিচিত্র সব ক্যাসকেড এবং নিঝুম প্রকৃতি। আর সীতাকুণ্ডের অন্যান্য ট্রেইলের মত পরিচিত না হবার কারনে মানুষ জনের আনাগোনা খুব একটা নেই তাই নিরিবিলি খুব সুন্দর সময় কাটানোর জন্য আকর্ষণীয় একটি যায়গা হচ্ছে ঝরঝরি ট্রেইল।



এই ট্রেইলের প্রত্যেকটা ধাপে রয়েছে অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি, ঝরঝরি ঝর্ণার পাশ দিয়ে পাহাড় বেয়ে উপড়ে উঠে গেলে ধাপে ধাপে খাজকাটা বেশ কয়েকটি ক্যাসকেড ও ঝর্ণা আপনাকে আরো মুগ্ধ করবে। ঝরঝরি ট্রেইলে বলতে সবাই ক্যাসকেড পর্যন্ত জায়গাটাকে বোঝে, কিন্তু এর আসল মজাটা হচ্ছে মূর্তি ঝর্ণা শেষ ক্যাসকেড থেকে ১ ঘন্টার মত ট্রেকিং করলে মানুষের মুখের আকৃতির একটি পাথর দেখতে পাবেন, স্থানীয়রা একে মূর্তি ঝর্ণা বলে।

অবস্থান: ঝরঝরি ঝর্ণা সীতাকুন্ড উপজেলায় অবস্থিত একটি জলপ্রপাত। এই ঝর্ণাটি চন্দ্রনাথ পাহাড়ের কাছাকাছি। সীতাকুন্ড বাজারের ঠিক পরেই পান্থছিলা এলাকায় ঝর্ণাটি অবস্থিত। পান্থছিলা বাজার হতে ঝর্ণা অব্দি হেঁটে যেতে প্রায় ২ ঘণ্টা সময় লাগে।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যে কোন বাসে পন্থিছিলা বাজারে আসতে পারবেন ভাড়া নিবে ৪৮০ টাকা। কম ভাড়ায় যেতে চাইলে ঢাকা থেকে ফেনির বাসে উঠতে পারেন, ঢাকা থেকে ফেনি পর্যন্ত বাস ভাড়া ২৭০ টাকা। আর ফেনি থেকে চট্টগ্রাম গামী লোকাল বাসে পন্থিছিলা বাজারে যেতে বাস ভাড়া নিবে ৫০-৬০ টাকা।

ট্রেনে যেতে চাইলে সরাসরি ঢাকা থেকে মেইল ট্রেনে সীতাকুণ্ডে যেতে পারেন, ভাড়া নিবে ১২০ ঢাকা তার পর সীতাকুণ্ড বাস স্ট্যান্ড হতে লেগুনা/ সিএনজি যোগে পন্থিছিলা বাজারে জেতে পারবেন মাত্র ৩০-৫০ টাকা ভাড়ায়। যেহেতু মেইল ট্রেনে সিট পাওয়া যায় না তাই আরামের কথা চিন্তা করলে রাতের তূরনা নিশিতা ট্রেনে করে ফেনি নামতে পারেন। ঢাকা টু ফেনি ভাড়া নিবে ২৬৫-৬০৪ টাকা। ফেনি রেলওয়ে স্টেসন থেকে ৫০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে যাবেন মহিপাল বাস স্ট্যান্ডে, আর মহিপাল থেকে পন্থিছিলা বাজারে যেতে বাস ভাড়া ৫০-৬০ টাকা নিবে।

ঝরঝরি ঝর্ণা   ঝর্ণা   ঈদুল আজহা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

এলিট সমাজের প্রবীণ জনগোষ্ঠী, ন্যায়ানুগ দৃষ্টি আছে কি?

প্রকাশ: ১১:০৭ এএম, ০১ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail এলিট সমাজের প্রবীণ জনগোষ্ঠী, ন্যায়ানুগ দৃষ্টি আছে কি?

সমাজে একক পরিবার বাড়ছে। অনেক সময়ই আমরা দেখি কাজের সূত্রে আমরা শহরে পাড়ি জমালেও বাবা মা থেকে যাচ্ছেন গ্রামেই। আবার কখনো কখনো যদিও বা তারা আমাদের সাথেই থেকে যান, কাজের চাপে, প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় আমরা ভুলে যাই আমাদের পাশের ঘরে থাকা প্রবীণ ব্যক্তিটির কথা। তারাও যে আমাদের কাছে সময় চান, একটু কথা বলার সঙ্গী চান, আমরা ভুলে যাই।

আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস। সার্চ ইঞ্জিনে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীর সংখ্যা সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯ জন, যা বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। প্রতিবছর বাংলাদেশের জনসংখ্যায় নতুন করে যোগ হচ্ছেন ৮৫ হাজার নতুন প্রবীণ ব্যক্তি। ধারণা করা হয় যে, এক সময় বাংলাদেশে একদিন শিশুর থেকে প্রবীণদের সংখ্যাই বৃদ্ধি পাবে। ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে প্রবীণের সংখ্যা পৌঁছাবে ৪ কোটিতে। এ তো গেল প্রবীণ জনসংখ্যার হিসাব, এখন বলি একক পরিবারের হিসাব। চলতি বছরের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য মতে বাংলাদেশে পরিবারের সংখ্যা ৪ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার ৫১ জন এবং পরিবারের গড় আকার চার জন। এতেই বোঝা যায় বাংলাদেশে পরিবারের আকার ছোট হচ্ছে। একই চিত্র রাজধানীর বাইরের শহরগুলোতেও, রাজশাহীতে পরিবারের আকার ৩ দশমিক ০৮ জন, রংপুরে ৩ দশমিক ০৯, খুলনায় ৩ দশমিক ০৯, বরিশালে ৪ দশমিক ০১, চট্টগ্রামে ৪ দশমিক ০৪, এবং ময়মনসিংহে এর আকার ৪ জন।

উপরের পরিসংখ্যান দেখে এটা স্পষ্টতই যে বাংলাদেশে একক পরিবার বাড়ছে। আর এই একক পরিবারগুলোতে কতজন প্রবীণ বসবাস করে কিংবা আদৌ তারা থাকে কিনা তা বোঝার উপায় খুব কম। আর তথ্য মতে সরকারি বেসরকারি মিলে বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা রয়েছে ৩২ টির মত। আর এই বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা দেখেই অনুমান করা যায় এদেশের একক পরিবার চিত্রে আসলেই প্রবীণ ব্যক্তিরা স্থান পান কিনা।

প্রবীণদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কখনোই ন্যায়ানুগ নয়। তাই এখনো টিভি বা পত্রিকা খুললে দেখা যায় রাস্তার পাশে নিজ সন্তান তার প্রবীণ পিতাকে কিংবা মাতাকে ফেলে রেখে গেছেন। এই তো চলতি মাসের ৪ই সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক একেএম গালিভ খাঁন সন্তানের ফেলে যাওয়া বৃদ্ধ মাকে সাহায্য করতে গিয়ে পত্রিকার শিরোনাম হলেন, উল্লেখ্য তার কিছুদিন আগেই ছেলের বউয়ের সাথে বনিবনা না হওয়ায় মা মর্জিয়া বেগমকে রাস্তার পাশের একটি পরিত্যক্ত জায়গায় ফেলে গেলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে। এ তো শুধু মর্জিয়া বেগমের ছোট্ট একটি গল্প, এমন গল্পে ভরে আছে আমাদের চারপাশ।

কথায় আছে মানুষ প্রবীণ হলে শিশুর মত হয়। আসলেই তা ঘটেও। তাই প্রবীণ ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য ও উদাসীন দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বদল করা উচিৎ। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিৎ সেবা পরিচর্যার। পরিবারের প্রবীণ সদস্যকে অক্ষম, অসুস্থ, দুর্বল, পরনির্ভরশীল, বোঝা, উটকো ঝামেলা, বাচাল,না ভেবে আমাদের সকলের উচিৎ তাদের প্রতি আলাদা সেবার দৃষ্টি দেয়া। যারা আমাদের ছোট শিশু থেকে লালন পালন করল আমাদের উচিৎ তাদের শেষ বয়সে শিশুর মত করেই পালন করা। প্রশাসনেরও উচিৎ এদেশকে প্রবীণবান্ধব করে তোলা৷ তাদের জন্য সেবা, নজরদারী,পরিচর্যা এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।এছাড়া শক্তিশালী করতে হবে সামাজিক বেষ্টনী । এবং ভাবতে হবে প্রবীণ বয়সের স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা।

প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও চিন্তা করেছিলেন। তাইতো তিনি প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে সংবিধানে ১৫ (ঘ) ধারা সংযুক্ত করেন (সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতাপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার)। জাতির পিতার এই চিন্তাকে ত্বরান্বিত করতে ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে তৎকালীন সরকার বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করেন।  এছাড়া বয়স্কদের জন্য পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, শান্তিনিবাস স্থাপন, জাতীয় প্রবীণ কমিটি গঠন, চাকরিজীবী প্রবীণদের জন্য ভবিষ্যৎ তহবিল, গ্রাচ্যুইটি, কল্যাণ তহবিল, যৌথ বিমার সুবিধাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয় তবে খেয়াল রাখতে হবে এই উদ্যোগগুলোরও যাতে যথোপযুক্ত তদারকি ও প্রয়োগের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়। আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবসে তাই এতটুকুই কাম্য রইল।


বাংলাদেশ   বিশ্ব প্রবীণ দিবস   এলিট সমাজ   প্রবীণ জনগোষ্ঠী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

‘ঊনো বর্ষার দুনো শীত', এলো কি?

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail "ঊনো বর্ষার দুনো শীত', এলো কি

অফিস থেকে বের হয়ে বাসার উদ্দ্যেশ্যে হাঁটছিলাম। কিছুদূর এগোতেই চোখ আটকে গেল একটা ঠেলাগড়ির দিকে। ঠেলাগড়িতে একের পর এক গরম ভাপা এবং চিতই পিঠা নামিয়ে রাখছে একটা ছেলে। গরম ভাপা পিঠা দেখেই কিনা, সামনে এগিয়ে গেলাম, দিতেও বললাম একটা পিঠা। না চাইতেই সদ্য চুলা থেকে নামিয়ে দেয়া ভাপা পিঠা প্লেটে করে হাতে দিয়ে দিল ছেলেটি। গুড় আর নারকেল কোড়া দেয়া ভাপা পিঠেটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ, তারপর এক কোণা থেকে ভেঙ্গে মুখে চালান করে দিলাম। ঠিক এইবার, হঠাৎ মনে হল শীত চলে আসছে, আর এই ছোট পিঠার দোকানটি এই ইট পাথরের রাজধানীকে  জানান দিচ্ছে শীতের আমেজ শুরু হল বলে।

শীত এমন একটি ঋতু যা হুট করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে আসে না। বরং সে তার আগমনী বার্তা দিতে থাকে প্রকৃতিতে।  শহরে এবং গ্রামে, দুই স্থানে শীতের আগমনী সংকেত কিন্তু ভিন্ন হয়। তবে দুই স্থানের আমেজ এবং প্রকৃতির রূপ বদল কিন্তু  সম্পূর্ণ আলাদা। এবং দুই জায়গার সৌন্দর্য ধরা দেয় দুই রকমভাবে।

যেহেতু আমাদের গ্রাম বাংলা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যে সজ্জিত, সেহেতু প্রথমেই গ্রাম বাংলার শীতের আমেজ দিয়েই শুরু করি আজকের লেখা। শীতের আগমনী সংকেত সব থেকে বেশি পরে এই গ্রাম বাংলার প্রকৃতিতে। সকালের হালকা বাতাসে ঠান্ডা হাল্কা কুয়াশার চাঁদর, ঘাসের উপর মুক্ত দানার শিশির কনা জানান দেয় শীত আসছে।  দিন রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেকটাই বেশি টের পাওয়া যায় গ্রামের প্রকৃতিতে। সকালে হিম হিম ঠান্ডা আবার রোদ উঠলেই হাল্কা গরম, আবার সন্ধ্যে নামলেই আরেকটু ঠান্ডা অনুভত হয়। এসময় হেমন্তের ধান কাটারও একটা পর্ব শুরু হয়ে যায়। আর ধান কাটার পর পিঠা পুলি দিয়ে হেমন্তের নবান্ন উৎসব শীতের আরেকটা পর্ব যা আরেকবার নতুন করে জানান দেয় শীতের আগমনী ধ্বনি। 

শহরে শীত আসে ধীরে। শহরের বেশ কিছু পরিবর্তন দেখেই মূলত বুঝে নিতে হয় শীত আসছে। ভোরে উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ের মাথা ঝাপসা দেখলে সহজে বোঝার উপায় থাকে না শীত নাকি ধোয়া। কিন্তু সকালের ঠান্ডা হাল্কা বাতাসে বুঝে নিতে হয় শীত আসছে। এছাড়া শহরের বাজারগুলোতে উঠতে থাকে শীতের নানান সবজি। দাম বেশি হলেও এই সবজি গুলোই শহরবাসীকে ইঙ্গিত দিয়ে যায় শীত শুরু হল বলে। এছাড়া শীতের আমেজ পরে যায় রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলোতেও।  এসময় বসে যায় থরে থরে পিঠার দোকান। শহরের ইট পাথরের দেয়াল ঘেরা  প্রকৃতিতে শীত বোঝা যায় খুব অল্প বিস্তর কিন্তু শহরের এই অলিতে গলিতে তুমুল পরিবর্তনেরও রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। 

গ্রাম কিংবা শহর, শীত আসার আগের মূল আকর্ষণই হয় বিভিন্ন স্বাদের পিঠা। শীত আসার আগে থেকেই পিঠা তৈরির একটা ব্যাপার চারপাশেই খেয়াল করা যায়।  গ্রামের দিকে বাড়িতে বাড়িতে সকালেই দেখা যায় গরম উনুনে পিঠা চেপে বানিয়ে ফেলছে ভাপা, চিতই, তেলপিঠা,পাটিশাপ্টা আরও কত কি। আর শহরের দিকে পিঠা পর্ব শুরু হয় বিকেল থেকে। ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত মানুষ যখন অফিস শেষে ঘরমুখী হয়, রাস্তার পাশের ছোট পিঠের দোকানেই তারা ফিরে যায় অতীত শৈশবে। গরম ভাপা, চিতই মুখে পুরে শীত আসার অনুভূতি নেয় তারা।

শীত আসার আগে যেমন আগমনী বার্তা দেয় তেমনি সাথে দেয় পরিবর্তনশীল আবহাওয়া। আর এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার ঠান্ডা গরম পরিবেশে  খাপ-খাওয়াতে পারেন না অনেকে। যে কারণে কেউ কেউ সর্দি-জ্বর, কাশিসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সব বয়সির মধ্যে এই সমস্যা দেখা গেলেও শিশু আর বয়স্করা একটু বেশি নাজুক থাকায় তাদের উপর প্রভাব পরে অনেক বেশি। তাই তাদেরকে সতর্কও থাকতে হবে অনেকটা।

শহর কিংবা গ্রাম,শরতের পরেই শীতের আমেজ আসতে শুরু করে দেশে। দেশের উত্তরাঞ্চলে সব থেকে বেশি শীতের আমেজ পরিলক্ষিত হয়। শীত আসার আগের এই সময়টুকু শুধু উপভোগ করলেই চলবে না বরং শীত আসার আগেই নিয়ে নিতে হবে শীতের প্রস্তুতি।  পরিবর্তনের আবহাওয়ায় থাকতে হবে সতর্ক। কথায় আছে যে বছর বর্ষায় বৃষ্টি কম হয় সে বছর শীত একদম জেকে বসে। এবার আমাদের দেশে বৃষ্টিও কম হয়েছে, তাই ভাবাই যেতে পারে এবার শীতটাও হয়তো জেকে বসবে। তাই আগে থেকেই নিতে হবে প্রস্তুতি। আপাতত ঊনো বর্ষার দুনো শীতকে নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বরং আমরা দেখতে থাকি প্রকৃতির পরিবর্তন আর ধীরে ধীরে স্বাগত জানাই আগমনী শীতকে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

নদী, মৃত্যু এবং আমরা সাধারণ

প্রকাশ: ০৯:১৭ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নৌকাডুবি, ট্রলার ডুবি কিংবা লঞ্চ ডুবি দেশের এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কয়েক দিন আগে পঞ্চগড়ের বোদায় নৌকাডুবে নিহত হয়েছে অনেক। এ ঘটনায় এখনো লাশের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার ডুবির সংখ্যা এত বাড়ছে কেন?

শুধুমাত্র সরকারের ওপর দোষ চাপালেই হয়না বরং দেশে ঘটা অনেক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহাণীর জন্য  দায়ী  থাকি আমরা নিজেরাই। নিজেদের সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্বহীনতা আমাদের দেশের ঘটা অনেক অঘটনের জন্যে দায়ী। সদ্য পঞ্চগড়ে নৌকাডুবিও তারই ইঙ্গিত দেয়।

দেশে নৌ দুর্ঘটনা কমছেই না। দেশে থাকা অগণিত হাওর বাওরে প্রতিনিয়ত চলছে ট্রলার, নৌকা, লঞ্চ, জাহাজ, স্প্রিডবোর্ড। শুধুমাত্র বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই পত্রিকায় তা ফলাও করে ছাপানো হয় কিন্তু ছোটখাট দুর্ঘটনাগুলো চাপা পরেই থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে যে হারে নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা রীতিমত চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এইসব দুর্ঘটনা ঘটছে যত টানা নদীর স্রোত কিংবা বৈরি আবহাওয়ার জন্য, ততটাই আমাদের নিজেদের অসচেতনতা আর অব্যবস্থাপনার জন্যেই ঘটছে।

পঞ্চগড়ের বোদায় ঘটা দুর্ঘটনার দিকে তাকালে শুরুতেই বলা যায় অসচেতনতাই এই নৌকাডুবির কারণ। নৌকায় যাত্রী ওঠানোর আগ মুহুর্তের একটা ছোট ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এই ভিডিওটিতে দেখলেই বোঝা যায় এই ছোট নৌকাটি কতজন লোক উঠেছিল। আপাত দৃষ্টিতে দেখা যায় নিজেদের বিপদ নিজেরাই যেন ডেকে নিয়ে এসেছিল সবাই। তিল ঠাই দেয়ার জায়গা ছিল না নৌকাটিতে।ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি বড়শশী ইউনিয়নের বোদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। নদীর মাঝে গিয়ে স্রােতে দুলতে শুরু করে নৌকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই উল্টে যায় নৌকাটি। যেখানে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে করতোয়া নদীর এই জায়গাটি এমনিতে খুব খরস্রােতা নয়; গভীরতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বর্ষণের পর উজানের ঢলে নদীতে পানি বেড়েছে অনেকটা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় পড়া নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠায় এবং মাঝনদীতে নৌকাডুবির কারণে মৃত্যু এত বেশি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এত গেল পঞ্চগড়ের বোদার ঘটনা। বাংলাদেশে ভূরি ভূরি লঞ্চ বা স্টিমার দুর্ঘটনা ঘটে অসম প্রতিযোগিতা করে লঞ্চ চালানোর কারণে। আর এসকল লঞ্চে কখনো থাকে অভিজ্ঞ আবার কখনো অনভিজ্ঞ চালকগণ। যাদের কাছে লঞ্চ, নৌকা কিংবা স্টিমারে থাকা মানুষের জানমালের চেয়ে প্রতিযোগিতাটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া যেখানে নদী বন্দরের এইসব চালক থেকে শুরু করে মালিক পক্ষের আবহাওয়া বার্তা পড়া বা শোনা বাধ্যতামূলক, তার তোয়াক্কা তো তারা করেই না। আর এসবের খেসারত দিতে হয় অনেকগুলো মৃত্যু দিয়ে, অনেক গুলো পরিবারের দুঃস্বপ্ন দিয়ে।

এখন তো নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার লঞ্চ ডুবি খুব স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । মাসে  একটা দুটো  এমন দুর্ঘটনা ঘটে, মাঠ গরম হয়, তদন্ত কমিটি গঠন হয়, লাশ নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়। কেউবা আবার ক্ষতিপূরনের টাকা নিয়ে দৌড়ায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি ঠান্ডা 
 হয় এবং একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। কিন্তু এইসব দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া, সচেতনতা তৈরি হওয়ার কোন লক্ষন কোথাও দেখা যায় না। ক্ষতিপূরণের টাকা সরকার থেকে দেয়া হলেও সেগুলো কার পকেটে যায় তারও আর কোন খবর থাকে না।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, এদেশের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নদীপথ। কিন্তু আমাদের অসেচতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ। নদীপথ নিরাপদ করতে যেমন সরকারি ভাবেও উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। আমরা সচেতন হলেই বাঁচবে দেশ, কমবে দুর্ঘটনা, বাঁচবে প্রাণ।

নৌকাডুবি   অসচেতনতা   প্রাণহানী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

পূজোয় বাঙালি রসনা

প্রকাশ: ০৯:২৪ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail পূজোয় বাঙালি রসনা

বাঙালির রসনা বিলাসের শেষ নেই। বাঙালির যেমন আছে বার মাসে তের পার্বণ তেমনি আছে এর সাথে রসনার যোগসূত্র। বাঙালির যেন উৎসবই জমে না টেবিল ভর্তি বাঙালি খাবার ছাড়া। মহালয়া দিয়ে পূজার বাদ্যি বেজে গেল, এখন শুধু তাই পূজার দিনে বাঙালির রসনা বিলাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে প্রত্যেকটি বাড়িতে। পেট পূজা ছাড়া কি আর পূজোর আনন্দ জমে?

পূজার মূল আকর্ষণ হল পূজায় তৈরি প্রত্যেক বাড়ির মিষ্টি খাবার গুলো। কি নেই এতে? নাড়ু, সন্দেশ, বাহারি লাড্ডু, খঁই, বিভিন্ন রকমের মোয়া, পাটালি, পায়েস। মিষ্টি ছাড়া যেন জমেই না দুর্গাপূজা। তবে দুর্গাপূজায় যে জিনিসটি সব বাসাতেই তৈরি হয় তা হলো নারিকেলের নাড়ু। গুড়ের কিংবা চিনির, নাড়ু ছাড়া যেন দুর্গাপূজা কল্পনাই করা যায় না। ষষ্ঠী থেকে দশমী পূজার প্রসাদ তো থাকেই, সাথে থাকে আরও নানান ভিন্ন স্বাদের খাবার। আমিষ থেকে নিরামিষ সবই খাওয়া চলে রীতি নিয়ম মেনে।


পূজায় নিরামিষ আমিষের একটা ঝক্কি অবশ্য থাকেই। যারা পূজার আয়োজক থাকেন, তারা নিয়ম মেনে নিরামিষ খান। ষষ্ঠির সকালে তাই বাসায় চলে ফুলকো লুচি, সবজি , বুটের ডাল কিংবা  মিষ্টি। পূজার আয়োজকে যারা থাকেন তারা পুরো সময় জুড়ে নিরামিষ খান। দশমীর দিন কিংবা অষ্টমঙ্গলার দিনে গিয়ে তারা নিয়ম বা শাস্ত্র মেনে আমিষ খেতে পারেন। 

মূলত পূজায় যারা পূজার আয়োজকে থাকেন না তারা আমিষ খেতে পারেন। দেখা যায় দুপুরে হয়তো পোলাওয়ের সাথে কচি পাঁঠার মাংস, কিংবা গাঢ় ঝোলে ডুবে থাকা পনিরের টুকরো দিয়ে চলে দুপুরের ভোজ। এছাড়া পূজোয় আবার তৈরি হয় নানা পদের চমকপ্রদ খাবারও যেগুলো কিনা শুধুমাত্র পূজারই আকর্ষণ। এই চমকপ্রদ খাবারের তালিকায় প্রথম নাম যেটি আসে, সেটি হল ভূনা খিচুড়ী। খিচুড়ীর সাথে কয়েক পদের ভাজা খাবার না থাকলেও যেন  জমে না। তাই ভূনা খিচুড়ীর সাথে পাতে পরে বেগুনি কিংবা পিয়াজু, কিংবা কুরকুরে আলুর ভাজা। এছাড়া আরেকটি আকর্ষণ হলো আলুর দম। গোটা গোটা আলুর সাথে যখন ফুলকো লুচিগুলো  ছিড়ে মুখে পুড়ে দেয়া যায়, স্বাদের একটা গোলা যেন মুখে একটা নাড়া দিয়ে যায়।

পূজার দিনের আরও  নানান পদে থাকে আমড়ার চাটনি, লাবড়া,  সরশে পটোল, পোস্ত বেগুনি, চিতল মাছের কোপ্তা কারি, ভাঁপে ইলিশ, নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল, সরষে ইলিশ।এই খাবারগুলো পরিবেশন করাও হয় আমিষ, নিরামিষ এসকল ভেদে । দুর্গাপূজার খাবার দাবারের মূল পর্ব দশমীর দিন শুরু হয় এক  কথায়। মাকে বিদায় দেয়ার কষ্ট যেন বাঙালি ভুলে যেতে চায় কব্জি ডুবিয়ে খাবারের মাধ্যমে। কারণ ষষ্ঠি থেকে নবমী এই দিন গুলোতে কেউ নিরামিষ, কেউ আমিষ খায়। কিন্তু দশমীর দিনটি যেন হয়ে ওঠে আমিষের। মাছ মাংসের সব পদই খাওয়া যায় এই দিনে।

দশমীর দিন কেউ শুরু করেন ঘরে পাতানো সাদা দইয়ে চিড়া ভিজে খেয়ে। সাদা টক দইয়ের সাথে চিড়া আর চিনি যখন মাখানো হয়, মিষ্টি ঘ্রাণ যেন নাকে সুড়সুড়ি দিয়ে যায়। এরপর চলে কব্জি ডুবিয়ে দই চিড়া খাওয়ার পব। দুপুরের দিকে খাওয়া হয় কচি পাঠাঁর মাংস। কাসার থালে যখন মাংসের লাল ঝোল মেখে ধোয়া ছড়ায়, পেটের ক্ষুধা যেন হঠাৎই বেড়ে যায় দশ গুণ। এছাড়া আবার রান্না হয় ঘণ পেয়াজ কুচির সাথে রুইয়ের ঝোল। আবার অনেক সময় তৈরি হয় মাছের মুড়ো দিয়ে মূড়িঘন্ট। সোনা মুগ ডাল যখন ভেজে মাছের মাথার কষানো ঝোলে গিয়ে পরে দেখলেই যেন অর্ধেক ভোজন তখনি হয়ে যায়। আর পূজোর বিকেলটা তো চলে যায় পূজো মন্ডবের নানান খাবার  দিয়েই।