ইনসাইড আর্টিকেল

সূর্য থেকে বের হয়েছে সৌর শিখা , জানালো ‘নাসা’

প্রকাশ: ০৯:২৭ এএম, ০৩ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail সূর্য থেকে বের হয়েছে সৌর শিখা , জানালো ‘নাসা’

সৌর শিখা হলো সূর্যের বায়ুমণ্ডলে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণের একটি তীব্র বিস্ফোরণ। সূর্যের সক্রিয় অঞ্চলে প্রায়শই এই তীব্র বিস্ফোরণ হয় কিন্তু তবে তা সর্বদা হয় না। এর সাথে করোনাল ভর নির্গমন, সৌর কণা ঘটনা, এবং অন্যান্য সৌর ঘটনাও সংঘটিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের ওয়েবসাইটে এক ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে সূর্যের একটি পাশ থেকে বিশাল এক সৌর শিখা নির্গত হয়েছে। এনডিটিভির সূত্রে জানা যায়  সূর্য পর্যবেক্ষণ করার জন্য নাসার পাঠানো সোলার ডাইনামিকস অবজারভেটরি গত রোববার ওই ভিডিও ধারণ করে। ওই অবজারভেটরি বিস্ফোরণস্থল থেকে উত্তপ্ত ধ্বংসাবশেষও পর্যবেক্ষণ করেছে।

সৌর শিখাকে তাদের শক্তি অনুযায়ী ক্লাস বা শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়। সৌর শিখা হল শক্তির শক্তিশালী বিস্ফোরণ, যা রেডিও যোগাযোগ, বৈদ্যুতিক পাওয়ার গ্রিড, যোগাযোগ সংকেতকে প্রভাবিত করতে পারে। এমনকী মহাকাশযান এবং মহাকাশচারীদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এ ধরনের বিস্ফোরণ।

নিউজউইক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সৌর শিখাটিকে দুর্বল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্পেসওয়েদার ডটকম বলছে, সূর্যের প্রান্তে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সৌর শিখাটির শক্তি কমে গেছে। সৌর শিখাটির সরাসরি আওতায় পড়েনি পৃথিবী। তারপরও অবশ্য এই সৌর বিস্ফোরণকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর ফলে সূর্যের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি সক্রিয় অঞ্চল সৃষ্টি করতে পারে।

এ ধরনের ঘটনার জেরে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি যোগাযোগ ব্ল্যাকআউট হয়ে যাওয়া, স্যাটেলাইট যোগাযোগে অসঙ্গতি ধরা পড়তে পারে। এ ছাড়াও জিপিএস সিন্টিলেশন এবং উড়ান ব্যবস্থার উপরেও প্রভাব পড়তে পারে


সৌরশিখা   সূর্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ঘুরে আসুন মালে আইল্যান্ড থেকে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ঘুরে আসুন মালে আইল্যান্ড থেকে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ মালদ্বীপ। বিধাতা যেনো প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে দেশটিতে। দেখে মনে হবে এ যেনো কোনো বিখ্যাত শিল্পীর আঁকা বিশাল ক্যানভাস। আর এই দেশটির মধ্যে পর্যটনের মূল কেন্দ্রবিন্দু মালদ্বীপের মালে আইল্যান্ড, যা দেশটির রাজধানী। মালদ্বীপে গেলে এই দ্বীপটিতে যাবে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে কাপলদের হানিমুনে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত যায়গা মালদ্বীপের মালে আইল্যান্ড। যা প্রায় ১২০০ টি ছোট ছোট দ্বীপের মধ্যে একটি। দ্বীপটি প্রায় ১.৫ কিলোমিটার লম্বা ও ১ কিলোমিটার চওড়া এই দ্বীপ।

মালে আইল্যান্ডের চারপাশে সারি সারি নারকেল ও সুপারি গাছগুলো যেনো সবুজের মাঝে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দ্বীপজুড়ে রয়েছে এক নগরায়নের ছোঁয়া। তাই হয়তো এখানে প্রতিনিয়তই পর্যটকদের সমাগম থাকে বিপুল পরিমাণে। এই দ্বীপে আসলে ভ্রমণের ক্লান্ত সময় নিমিশিয়ে মিলিয়ে যাবে। নীল সাগর থেকে বয়ে আসা স্নিগ্ধ হাওয়া আপনার মনকে করে তুলবে প্রানবন্ত এবং সতেজ। 

আপনি যদি মালে আইল্যান্ড ছাড়াও অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে চান তাহলে মালে আইল্যান্ডের পাশাপাশি মালে শহরের মধ্যে আরও কিছু দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে পারবেন। যেমন আর্টিফিশিয়াল বীচ , ওল্ড ফ্রাইডে মস্কো ,ন্যাশনাল মিউজিয়াম , সুলতান পার্ক, ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি, চিনা মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, ফিস মার্কেট ও গ্র্যান্ড ফ্রাইডে মস্কো । মালে থেকে কাছাকাছি অবস্থিত বিভিন্ন রিসোর্ট আইল্যান্ড থেকে ঘুরে আসতে পারেন সেই সাথে সেখানে গিয়ে থাকতেও পারেন। তবে রিসোর্ট এর আইল্যান্ড গুলোতে খরচ অনেক বেশি। ডে ট্রিপ এর অপশন থাকলে প্যাকেজ আকারে ঘুরে আসতে পারেন ।


>> যেভাবে দেশ থেকে মালদ্বীপ যাবেন:

বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে ২-৩ টি ফ্লাইট আছে। তবে বাংলাদেশিরা বেশিরভাগ সময় যাতায়াত করে মালদ্বীপ এয়ারওয়ে বা শ্রীলংকা এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে। মালদ্বীপে যাওয়ার এয়ারলাইন্স গুলো ঢাকা থেকে সরাসরি মালদীপ বিবানবন্দর গিয়ে পৌঁছায়। এছাড়াও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সরাসরি মালে গিয়ে পৌঁছায়। মালে পৌছানোর পর ইমিগ্রেশন শেষ করে এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরত্বে মালের ট্যাক্সি করে পৌঁছাতে পারবেন আপনার পছন্দের গন্তব্যে। এছারাও আপনি চাইলে ফেরি বা স্পিডবোট করে যেতে পারবেন মালে আইল্যান্ডে। 

তবে আপনি যদি আপনার ভ্রমণযাত্রা আরও দীর্ঘ করতে চান তাহলে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে শ্রীলংকার বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে ট্রানজিট শেষ করে আবার অন্য ফ্লাইটে করে আপনি মালদ্বীপের মালে ইন্টারন্যাশনাল বিমান বন্দরে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা থেকে বিমানে করে মালদ্বীপ যেতে আপনার ঘন্টাখানেক সময় লাগবে এবং খরচও কম পড়বে। পাশাপাশি একই সঙ্গে দুই দেশ ভ্রমণ করা হয়ে যাবে।

>> মালদ্বীপে থাকার ব্যবস্থা: 

মালদ্বীপ শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সামান গার্ডেন, সামারসেট হোটেল, সেন্টার রাস ফুসি রিসোর্ট। এই রিসোর্টগুলো ছারাও আরও বেশকিছু রিসোর্ট রয়েছে। তবে দেশটিতে যদি আপনি নতুন ভ্রমণে গিয়ে থাকেন তাহলে সেখানে কোথায় উঠবেন সেই জায়গা সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিবেন। এছাড়াও কুরুম্বা ম্লদ্বীপ, হলিডে আইল্যন্ড রিসোর্ট, প্যারাডাইস আইল্যান্ড রিসোর্ট , সান এন্ড স্পা, বন্দোস আইল্যান্ড উঠতে পারেন। 

মালদ্বীপে থাকার জন্য দুধরনের দীপ রয়েছে। ব্যক্তিগত এবং সার্বজনীন। ব্যক্তিগত দ্বীপগুলোর সাথে যে রিসোর্টগুলো থাকে সেগুলোর ভাড়া তুলমূলকভাবে একটু বেশিই থাকে। যেমন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকাও থাকে। এই রিসোর্টগুলো বেশিরভাগ সময় সেলিব্রেটিরাই নিয়ে থাকেন। তারা একটু নিরিবিলি এবং জনসমাগম থেকে আড়ালে থাকতে চায়। তাই তাদের জন্য ব্যক্তিগত দ্বীপের রিসোর্টগুলো ভালো। এছাড়াও সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য রয়েছে সার্বজনীন দ্বীপ। যেখানে প্রতি রাতের জন্য ভাড়া ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা। তবে ভারা কিছুওতা বাড়তে বা কমতে পারে। 

সেগুলি খুবই সাজানো গোছানো, পরিপাটি এবং আধুনিক। সেখানে ব্রেকফাস্ট, গরম জল সহ অন্যান্য সুবিধে মেলে। আর এই সার্বজনীন দ্বীপগুলির মধ্যে মাফুশি, ধারাভান্ধু, গুরাইধু সেরা। আবার গেস্ট হাউজ এবং ভিলার খরচও আলাদা আলাদা। ভিলার ভাড়া বেশি। গেস্ট হাউজের ভাড়া তুলনামূলক অনেক কম।

>> মালদ্বীপের খাবার ব্যবস্থা:

এখানের খাবারের তালিকায় আমিষ জাতীয় খাবারই বেশি প্রাধান্য পায়। টুনা মাছ, নারিকেল পিয়াজ ও লেবু দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ খাবার যা রশি দিয়ে খেতে দেয়া হয় এবং খুবই মজাদার। এছাড়াও নানা ধরনের ঠান্ডা পানীয় খুবই মজাদার। মালদ্বীপে গেলে এ খাবারগুলো সবাই একবার না একবার ট্রাই করে। এছারাও যদি কেউ বাঙালিয়ান খাবার খেতে চান তার জন্য রয়েছে মালে শহরের 'ঢাকা ফুড' নামে একটি রেস্টুরেন্ট। যেখানে গেলে আপনি বাঞালিয়ান খাবার খেতে পারবেন। তবে আপনি যদি একটু ভিন্ন দেশে গিয়ে ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা নিতে চান তাহলে  আন্ডারওয়াটার রেস্টুরেন্টগুলোতে খেতে পারেন। দারুন এক অভিজ্ঞা পাবেন। এছারাও আপনি যদি সাধারণ মানের খাবার খেয়ে থাকেন তবে প্রতিবেলা খাবার খ্রচ পড়বে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। 

>> মাদ্বীপে যাওয়ার খরচ:

মালদ্বীপের থাকা-খাওয়ার খরচ একটু বেশি । বিমানে ঢাকা থেকে মালদ্বীপের যাওয়া-আসা ৪৩০০০-৬০০০০ টাকা মত পড়বে। তবে কত আগের টিকিট কাটবেন তার ওপরে বিমান ভাড়া নির্ভর করে । শহরের মধ্যে থাকলে এক রাতে খরচ হবে ৩০০০-৭০০০ টাকা। আর যদি আইল্যান্ড এর কাছাকাছি কোন রিসোর্টে রাতে থাকতে চান তাহলে জনপ্রতি খরচ হবে ১৬০০০-২৮০০০ টাকা। । 

আর প্যাকেজের মাধ্যমে স্পিডবোর্ড ভাড়া করে ঘুরতে চাইলে খরচ পড়বে ১৫০০০-১৭০০০টাকা। তবে খরচ কমাতে চাইলে যত আগে সম্ভব বিমানের টিকিট কেটে রাখবেন এবং থাকার জন্য লোকাল রিসোর্টে বা গেস্টহাউসে থাকার চেষ্টা করবেন সেই সাথে যাতায়াতের জন্য সরকারি ফেরি ব্যবহার করবেন।


>> মালদ্বীপে ভরমণের ক্ষত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় খেয়াল রাখবে আর তার মধ্যে হলো-

মালদ্বীপ যাওয়ার উপযুক্ত সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ। এসময় গেলে হয়তো খরচ একটু বেশি পড়বে। তবে যদি অফ সিজনে যান তাহলে খরচ একটু কম পড়বে। 

মালদ্বীপে যেতে হলে আগে থেকে ভিসা নেওয়ার দরকার হয়না এখানে ৩০ দিন মেয়াদে অন এ্যারাইভাল’ ভিসা নিতে হয়। আপনি যদি জব করেন তাহলে এনওসি,বিজনেস করলে ট্রেড লাইসেন্স ও স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ড ও দরকারে কাগজের ফটোকপি সাথে রাখবেন।

মালদ্বীপে ভ্রমনে গেলে সে ক্ষেত্রে বিমানের টিকিটের ক্ষেত্রে এক থেকে দুই মাস আগে বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন তাতে বিমানের টিকিট মূল্য কিছুটা কমে পাওয়া যাবে। মালে আইল্যান্ডে যদি সিজনাল সময়ে ঘুরতে যান তাহলে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে থাকার জন্য হোটেল বুকিং দিয়ে রাখুন। এতে করে কিছু স্পেশাল অফার পাওয়া যায় এবং নানা ধরনের ঝামেলাও এড়ানো যায়।

মালদ্বীপ একটি বিলাসবহুল দেশ তাই খরচ কিছুটা বেশি। তবে বুদ্ধি ও হিসেব করে খরচ করতে পারলে আপনি ভালোভাবে পুরো ঘুরতে পারবেন।

ঢাকা থেকে পৌছাতে যদি রাত হয়ে যায় এবং আপনি পরের দিন আইল্যান্ডে পৌঁছাতে চান তাহলে রাত কাটানোর জন্য যেকোনো কম খরচের হোটেলে থাকার চেষ্টা করুন। 

রিসোর্ট থাকলে খাবার খরচ প্যাকেজের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করবেন আর বাইরে খেলে মেন্যুবার থেকে লোকাল খাবার খাবেন, এখানে লোকাল খাবারের দাম অনেকটা কম।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বিসিএসই কি সাফল্যের একমাত্র প্রতিশব্দ?

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৩ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বিসিএসই কি সাফল্যের একমাত্র প্রতিশব্দ?

দেশের স্বপ্নবিলাসী শিক্ষার্থীদের কাছে বিসিএস যেন স্বপ্নপূরণের আরেক নাম। উচ্চশিক্ষার গন্ডি পেরোতেই দেশের তরুণ প্রজন্ম ঝাঁপিয়ে পড়ে বিসিএসে উত্তীর্ণের রণক্ষেত্রে। তবে এই স্বপ্ন অনেকেরই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। আবার কেউ কেউ পৌঁছাতে পারে তাদের স্বপ্নের চূড়ায়। যদিও এর সংখ্যা খুবই কম।  বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা খুবই মেধাবী। মেধাবীদের তুলনায় বাংলাদেশে তাদের কর্মক্ষেত্র খুবই সীমিত। কর্মক্ষেত্র সীমিত জেনেও হুমরি খেয়ে পড়ে বিসিএসের উপর। তাদের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়ের তালিকা থেকে শুরু করে ধ্যান-জ্ঞানে কর্মক্ষেত্রের তালিকায় রাখেন বিসিএস।

আমরা যদি এবছর ৪৪ তম বিসিএসের কথা বলি তাহলে দেখতে পাই যে, এ বছর ৪৪ তম বিসিএস পরিক্ষায় আবেদন করেছিলো ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭১৬ জন পরিক্ষার্থী। এদিকে বিসিএসের মোট পদ সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৭১০ টি। মানে একটি পদের বিপরীতে লড়েছেন ২০৫ জন পরিক্ষার্থী। এর মানে দাঁড়ায় এবছরের স্বপ্নের বিসিএস থেকে বাদ পড়বেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬ জন পরিক্ষার্থী। 

আসন সংখ্যা সীমিত হওয়া সত্ত্বেও কেনো সবাই বিসিএসের প্রতি ছুটছেন? এর উত্তর সহজভাবে বলতে গেলে সবাই চায় তাদের কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত হোক,  ভালো বেতন এবং সার্বিক সুযোগ সুবিধা। পাশাপাশি তো আছেই ক্ষমতা, সম্মান ইত্যাদি। যা একমাত্র বিসিএস বা উচ্চ পদের সরকারি চাকরিতেই সম্ভব। 

তবে আমাদের দেশে বিসিএস ছাড়াও আরও অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিসিএস না দিয়েও বা বিসিএস ক্যাডার হয়ে আবার সেখান থেকে ফিরে এসে অন্য কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন। যেমন আমাদের খুব পরিচিত একজন লেখক আনিসুল হক। যিনি বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে পাশ করে বিসিএস ক্যাডার হয়েছিলেন এবং চাকরিতেও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বছর খানিক যেতে না যেতেই তিনি ফিরে আসেন তার পছন্দের জগত সাংবাদিকতা আর লেখালেখিতে। আজ তিনি একজন সফল মানুষ। বিসিএসে পড়ে থাকলে তিনি আজ যে অবস্থানে আছেন সেটা থাকতে পারতেন না। আজ তিনি দেশের একজন সম্মানিত মানুষ। যার কথা থাকে মানুষের মুখে মুখে।

আবার দেশ অরেক বরেণ্য খালেদ মুহিউদ্দীনের কথা যদি বলি, তিনি বিসিএস পাশ করে যোগ দিয়েছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। তবে তিনিও বিসিএস থেকে সরে এসে যোগ দিয়েছেন তার পছন্দের কর্মক্ষেত্র লেখালেখি আর সাংবাদিকতায়।

এছাড়াও, কেউ ব্যাবসা করে, কেউ কোনো বেসরকারি চাকরি করে বা কেউ উদ্যোক্তা হয়। তাহলে আপনি কেনো শুধু বিসিএসকে ধ্যান-জ্ঞ্যানে রাখবেন।  যেখানে লড়াইয়ে জিতবেন নাকি হারবেন এর নিশ্চয়তা নেই। এমন অনেক মানুষ আছে যারা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও ০.৫ মার্কের জন্য ছিটকে পড়ে বিসিএস থেকে। এক নিমিষেই অক্লান্ত পরিশ্রম বৃথা হয়ে যায়।  

আপনার পছন্দ যদি বিসিএস থাকে, তাহলে অবশ্যই পছন্দের তালিকায় রাখুন কারণ বিসিএসের পড়াশোনা বেসরকারি চাকরি, ব্যাংক-বিমায় আপনাকে সাহায্য করবে। তবে ধ্যান-জ্ঞানে বিসিএস না রেখে, বিসিএসের সাথে প্ল্যান 'বি' রাখুন। যেনো বিসিএস থেকে ছিটকে গেলেও আপনার স্বপ্ন ধূলিসাৎ না হয়ে যায়।

বিসিএস   সাফল্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বাংলাদেশের পর্যটন এলাকায় নারী ট্রাভেলারদের নিরাপত্তা

প্রকাশ: ০৮:০৪ এএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাংলাদেশের পর্যটন এলাকায় নারী ট্রাভেলারদের নিরাপত্তা

সোলো ট্রাভেলারদের জন্য বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ তা নিয়ে যুক্তিতর্ক লেগেই আছে। সেই একা ট্রাভেলার যদি হয় নারী, সেই ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। 

সম্প্রতি কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে ট্রাভেল জোনগুলোতে দেশি এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন দেশের ট্রাভেলাদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তবে বিভিন্ন জায়গা ইতোমধ্যে যারা ভ্রমণ করেছেন তারা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের মেয়েদের সোলো ট্রাভেলের জন্য সর্বত্রই নিরাপদ। তবে কিছু অঞ্চলে সাবধানতা বজায় রাখা ছেলে কিংবা মেয়ে যেকোনো ভ্রমণকারীর উচিত। এর বাইরে দেশের কম বেশি অনেক স্থান সকলের জন্য নিরাপদ এবং সুরক্ষিত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর মতে দেশের সাময়িক কিছু ঘটনার পরে সন্ত্রাসীগুষ্টির আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এতে সামগ্রিক অঞ্চলকে বহিষ্কার করার মতো পরিস্থিতি হবে না বলে জানান তারা। তাছাড়া পর্যটন এলাকাগুলোতে দেশি এবং বিদেশি সকল মানুষের উপস্থিতির উপর লক্ষ্য করে নিরাপত্তা আগের তুলনায় আরো বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ পুলিশ এবং পর্যটন এলাকাসমূহের দায়িত্ব থাকা সরকারি কর্মকর্তারা। 

কক্সবাজার, সিলেট জাফলং, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শ্রীমঙ্গল, সাজেক, সুন্দরবন, লালাখাল, বাঘেরহাট, কুয়াকাটা, ময়নামতি কিংবা সোমপুরবিহার ইত্যাদি খুবই সুপরিচিত ভ্রমণ উপযোগী স্থান হিসেবে। এসব স্থানে নারীদের একা বা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর নিরাপত্তা কতটুকু সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবে যারা ইতোমধ্যে এসব স্থানে ঘুরে বেরিয়েছেন, তাদের মতে অনেকেই জানিয়েছেন একা ঘুরার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। 

দেশের সোলো ট্রাভেলার ফাতেমা জাহান জানিয়েছেন, দেশের টুরিজম প্লেসেগুলোর বিভিন্ন জায়গা তিনি ইতোমধ্যে ঘুরে বেরিয়েছেন। প্রতিবারই তিনি একা গিয়েছেন। সেইক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন তার হতে হয়নি। বরং প্রতিটি জেলা অঞ্চল এমনকি পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের ব্যবহার অত্যন্ত অমায়িক। বিদেশি ট্রাভেলার লুইসা কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ভ্রমণের মতো সাহসি পদক্ষেপ নিয়ে দেশের এক তৃতীয়াংশ ঘুরে বেরিয়েছেন।  এই জার্নি জুড়ে তিনি ছিলেন একা,  তবে পরিচিত হয়েছেন অনেক নতুন মুখের সাথে। বাংলাদেশের মানুষের আত্মীয়তা এবং নিরাপত্তা তাকে মুগ্ধ করেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়ে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা তারা তুলে ধরেছেন নিজেদের লেখার মাধ্যমে।

কিছুকিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেশের পর্যটন এলাকা নিয়ে একটা বিরূপ ধারণা তৈরি করলেও প্রকৃত অর্থে সাবধনতা অবলম্বন করলে প্রতিটি জায়গাই সকলের জন্য নিরাপদ।  আর সরকার কর্তৃক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরো কঠোর ব্যবস্থাপনা নেওয়া হলে বিদেশি এবং অন্যান্য ট্রাভেলারদের ভ্রমণ আরামদায়ক হবে বলে জানান এই দুই সোলো নারী ট্রাভেলার। 


পর্যটন   নারী ট্রাভেলার   নিরাপত্তা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

সত্য ও নারীবাদের অনন্য প্রতিক মারিয়া রেসা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১১ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail নারীবাদের অনন্য প্রতিক মারিয়া রেসা

মারিয়া রেসা, গতবছর নোবেল শান্তি বিজয়ী দুই নারী সাংবাদিকদের একজন তিনি। নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং জাল খবর পরিচালনার প্রতিবাদের জন্য তিনি বেশ পরিচিত মুখ। তার সাহসী মনোভাবই তাঁর সকল কাজের পেছনের শক্তি বলে দাবি করেন তিনি। 

মারিয়া ১২ অক্টোবর, ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন ফিলিপাইন এ। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক স্থানান্তরিত  হলে সেখানেই পড়ালেখা শুরু করেন। তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার পড়ালেখা শেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেন সিএনএন এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হিসেবে। সেখানে কাজ করা অবস্থায় সরকার এবং উপরি মহলের চাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো দুর্দান্ত সাহসিকতার গল্পই এই নারীর জীবনী।  

সরকারের চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানো এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হওয়ার কারণে ২০২১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি কর্মজীবনে বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন।  তবে হাল কখনো ছাড়েননি। বরং সাহসের সাথে সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন বলে গণমাধ্যমে জানান রেসা। তিনি সবসময় স্বাধীন বাক অথবা মতামতের বিষয়ে প্রাধান্য দিতেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখতেন তার পেশা এবং লেখার মাধ্যমে।  

সিএনএন এ কাজ করার দীর্ঘ সময় অবধি লেখার তথ্য সমূহ সরবারাহের মাধ্যমে তার মনে হতো তিনি   শুধু মাত্র খবর বিলি করার জন্য খবর টুকু দিচ্ছেন কিন্তু এর প্রভাব বা ফলাফল খুটিয়ে দেখতে পারছেন না। এটা তার মনে অস্বস্তির সৃষ্টি করতো। পরবর্তীতে সেই তাগিদে তিনি জন্মভূমি ফিলিপাইনে ফিরে যান।  সেখানকার পরিস্থিতি দেখে তার মন আরো অশান্ত হয়ে উঠে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন প্রভাবিত হয়ে কোনো  সংবাদ প্রচরণায় তিনি কোনোরূপ সংহতি দেখাতে পারবেন না। বরং সেই পরিস্থিতিতে সত্য উপাস্থপনা করা এবং সত্য বের করে তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করার যে প্রস্তুতি রেসা নিয়েছিলেন সেই কারণে তাঁকে পার করতে হয়েছিল বেশ কঠিন সময়ও।  এমনকি সাইবার ক্রাইম অনুসারে তাকে দোষী প্রমাণিত করে একাধিক বার আইনি শাসনের আওতায় আনা হয়েছিল । তবে কঠিন সময় পার করার সময়ও তিনি হাল ছাড়েননি কিংবা ভেঙে পড়েননি বলে দাবী করেন তার কাছের মানুষ এবং সহকর্মীরা। 

মারিয়া রেসার মতে, "সংবাদ হলো খাদ্যের মতো, যা আমরা জনগণকে পরিবেশন করি, তাই এর গুনগত মান ভালো রাখা আমাদের দায়িত্ব।" এই তাগিদতেই তিনি র‍্যাপার নামক অনলাইন নিউজ সাইট প্রতিষ্ঠার কথা ভাবেন। সেই চিন্তার ধারাবাহিকতায়  তিনি অনলাইন নিউজ সাইট র‍্যাপার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন  ২০১২ সালে আরও তিন জন মহিলা প্রতিষ্ঠাতা এবং ১২ জন সাংবাদিকদের একটি ছোট দল নিয়ে।  সাইটটি ফিলিপাইনের অন্যতম প্রথম মাল্টিমিডিয়া নিউজ ওয়েবসাইট হয়ে উঠেছে এর মধ্যেই।  বর্তমানে প্রায় ১০০ জন সাংবাদিক এই সাইটিতে নিয়োগ রয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই নারী। রেসা এই নিউজ সাইটের নির্বাহী সম্পাদক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় এবং আন্তজার্তিক বহুমাত্রিক পুরুষ্কার প্রাপ্ত এই নারী তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের লম্বা সময় ধরে শুধু লড়ে গেছেন সত্য এবং বাক স্বাধীনতার ও নারী স্বাধীনতার দাবীতে৷ নোবেল বিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসার মতে মিথ্যা এবং ঘৃণা সত্যের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়৷ তাই তিনি সর্বদা চেষ্টা করেন সত্য কে প্রতিষ্ঠিত করার। সাম্প্রতিক জার্মানির বনে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদের উত্থান মোকাবিলায় সত্যের প্রতি আস্থা পুননির্মাণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন৷' ' 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

সুবিধা পেয়েও কেন আদিম জীবনাচরণে অভ্যস্ত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা?

প্রকাশ: ০৮:১০ এএম, ০৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail সুবিধা পেয়েও কেন আদিম জীবনাচরণে অভ্যস্ত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা?

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী, দেশে তৃতীয় লিঙ্গের সংখ্যা ১৩ হাজার। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তাদের জন্য দেওয়া হয়েছে আরও সুযোগ সুবিধা। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের  কর্মসংস্থান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক আত্তীকরণের লক্ষ্যে বর্তমানে চালু করা বিশেষ কর প্রণোদনা আরও প্রসারিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও তারা সেই সুযোগ যথাযথ ভাবে কাজে লাগাচ্ছেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায় সাধারণ মানুষের মনে। 

বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন মানুষের মনে তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে নানা ধরণের ট্যাবু আছে। যা আদিম কাল থেকেই মানুষ লালন করছে। নিজেদের মধ্যে এই সকল চিন্তাভাবনা পোষণ করার জন্য অনেক সময় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ বেড়ে যায়। যা তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে বিমুখ করে তোলে এবং শেষমেশ  নিজেদের পরিচিত পেশায় থাকতে বাধ্য হয়। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের সমাজ থেকে আলাদা করে দেখা না হলেই তাদের জীবন স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব। তাদের আলাদা ভাবে দেখা হয় বলেই তাদের বাসস্থান,  কর্মসংস্থান এমনি জীবনধারা পর্যন্ত একদম ভিন্নধর্মী। তাদের জীবিকার যেটুকু কাজ করা প্রয়োজন সেটুকুও তারা করার মতো যথেষ্ট সুযোগ পাই না বলে, চাঁদাবাজি কিংবা মানুষের থেকে খুঁজে তাদের জীবিকা চালাতে হয়। 

তাদের বাসস্থান এবং সমাজ সম্পূর্ণ বিছিন্ন হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সমাজ দ্বারা যথেষ্ট স্বীকৃতি না পাওয়া। সমাজ কর্তৃক যদি যথেষ্ট সহযোগিতা পাওয়া যায়, তবে তাদের জীবনের উন্নতি হওয়া সম্ভব। সমাজে পাঁচটি মৌলিক অধিকার যথাযথ পূরণ না হওয়ার কারণেই তাদের পুরাতন পেশা বেছে নিতে হয় বলে ধারণা অনেক বিশেষজ্ঞদের৷ তবে সমাজে অনেকেই এখন এসব ক্ষেত্রে সচেতন,  নিজেদের মতো সহানুভূতি এবং সাহায্য তারা করতে এগিয়ে আসছেন। তবুও কমে আসছে না পুরাতন পেশার জন্য তাদের প্রীতি। 

দেশের অনেক সংগঠন আছে যারা কেবলই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে থাকে। তাছাড়া সরকার কতৃক ভোটের অধিকার, পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে, করমুক্তির অনুমোদন পাশ এবং বিশেষ ঋণ গ্রহণের সুযোগও তৈরি হয়েছে দেশে। বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলে কাজ করছে তাদের স্বাস্থ্য উন্নয়ন,  অধিকার,  সরকাএই এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে৷ সেক্ষেত্রে বেশিরভাগই ভালো উদ্যোগ এবং তাদের বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত।  কিন্তু, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের মধ্যে শতকার ১৫ শতাংশ কেবল তাদের পুরাতন পেশা বাতিল করে অন্য দিকে মন দিতে পেরেছেন। 

সাইকোলজিক্যাল টার্ম থেকে সাইকোলজিস্ট রা এর কারণ হিসেবে মনে করেন, তাদের প্রথাগত জীবনব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা নিয়ে তাদের ভেতর চলতে থাকা নানা ধরনের সংশয়ের কারণেই মুলত তারা আদিম জীবন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। কারণ তাদের মধ্যে এই ভীতি কাজ করতে থাকে যে নানা ধরণের বৈষম্যের স্বীকার হতে হবে, যা তারা জন্মের পর থেকেই দেখে আসছে। সেক্ষেত্রে সরকারের আরো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত যেখানে তাদের শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ দেওয়ার মতো উদ্যোগ থাকবে। 

অনেকেই সাহস করে নিজেদের জীবনের চাকার চলন পরিবর্তন করার জন্য বেরিয়ে এসেছেন তাদের আদিম সমাজ এবং আদিম জীবন ধারা থেকে। নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলেছেন শিক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। কিন্তু অনেকেই শেকল ভাঙ্গার মতো সেই মানসিক দৃঢ়তা এখনো গড়ে তুলতে পারেননি। যা তাদের আষ্টেপৃষ্টে ধরে রেখেছেন তাদের পুরাতন জীবন ধারায়।  তবে প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা গুলোকে আতংক ঝেড়ে যদি কাজে লাগাতে পারে তবে জীবন পরিবর্তন এবং অধিকার আদায়ের দাবী করা সম্ভব বলে আআশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। 

আদিম জীবনাচরণ   তৃতীয় লিঙ্গ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন