ইনসাইড আর্টিকেল

বন্ধুত্বের বন্ধন যেনো স্বার্থহীন ভালোবাসা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বন্ধুত্বের বন্ধন যেনো স্বার্থহীন ভালোবাসা

বন্ধুত্বের সম্পর্ক চিরদিনের সম্পর্ক এবং মধুর সম্পর্ক। বন্ধুত্বের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ক নয় কিংবা কামনা বাসনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা পরিচালিত নয়। বন্ধুত্বের উৎসস্থল হলো হৃদয় এবং বন্ধুত্ব হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে গড়া। তাই তো অসংখ্য গান কিংবা কবিতা লেখা হয়েছে এই বন্ধুত্ব নিয়ে। দেখা হবে বন্ধু, কারণে আর অকারণে দেখা হবে বন্ধু, চাপা কোনো অভিমানে, দেখা হবে বন্ধু সাময়িক বৈরীতায়, অস্থির অপারগতায়!; তুমি আমার পাশে বন্ধু হে বসিয়া থাকো, একটু বসিয়া থাকো...।

আজ ৭ আগষ্ট বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস। প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার আন্তর্জাতিকভাবে বন্ধুত্ব দিবস পালিত হয়। শুধু পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশেই নয়, বরং বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশেও প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে উদযাপন করা হয় বন্ধু দিবস উপলক্ষে। অন্যান্য দেশের মতো বড় কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশে নানা আয়োজনে পালিত হয় দিবসটি। তবে এক্ষেত্রে বয়স্কদের চেয়ে তরুণদের আগ্রহই বেশি।
 
বন্ধু কি! তার সাথে কি সম্পর্ক! আসলে মানুষ একা বাস করতে পারে না। সমাজে বাস করতে হলে, প্রতিদিন কারো না কারো মুখাপেক্ষী হতে হয়। কাউকে আপন করতে হয়। তবে বন্ধুত্ব এমন একটি বন্ধন, এতে থাকে স্বার্থহীন ভালোবাসা। পৃথিবীর অনেক সম্পর্কের মধ্যে এটি অন্যতম। তবে বন্ধুকে হতে হয় অনেক বিশ্বাসী, দায়িত্ববান।  যার উপর ভরসা করা যায় নিশ্চিন্তে। এই দিন মানুষ বন্ধুদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটায়। পরস্পরকে ফুল, কার্ড, হাতের ব্যান্ড প্রভৃতি উপহার দেওয়া বন্ধু দিবসের রীতি। বন্ধুত্বের ইতিহাস প্রায় মানব সভ্যতারই সমান।

বন্ধু কিংবা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্কের সঙ্গে মানুষের পরিচয় যুগ যুগান্তরের। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবসটি হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ‘জয়েস হল’ ১৯১৯ সালে প্রথম উত্থাপন করেন আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুত্ব দিবস। এই দিন তারা সবাই একে অন্যেকে কার্ড পাঠাতেন। পরে ১৯৩৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বন্ধু দিবসের ইতিহাস শুরু।

বন্ধু দিবসের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে যেয়ে অধিকাংশ মানুষই যে ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেন সেটি হলো, ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। হত্যার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। সে সময় বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষ্যেই আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আইন করে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। আর সেই থেকেই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আর আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন বেশকিছু দেশ বন্ধুত্ব দিবসের সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে নেয়। এভাবেই বন্ধু দিবস পালনের পরিসর বাড়তে থাকে।

বর্তমানে সারা বিশ্বেই আগ্রহ নিয়ে বন্ধুত্ব দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ বিশ্বময় বন্ধুত্বের আলাদা অবস্থানে নিজেদের নিয়ে যায়।  সে বছরটিতে জাতিসংঘ বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র উইনি দ্যা পুহকে বন্ধুত্বের বিশ্বদূত হিসেবে নির্বাচিত করে। বন্ধু দিবসের এই বিশ্বদূত ছাড়াও বন্ধুত্ব দিবসের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে হলুদ গোলাপ আর ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের মতো বিষয়গুলোও। মজার বিষয় হলো, এই ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের ধারণাটিও এসেছে আমেরিকা থেকেই। আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যান্ড দেয়ার এই রীতি চালু আছে। তারা তাদের বন্ধুদের জন্য ব্যান্ড তৈরি করে। আর যাকে ব্যান্ড দেয়া হয়, সেও কখনোই ব্যান্ডটি খোলে না।

আবার বন্ধুত্বের প্রতীক যে হলুদ গোলাপ সেই হলুদ রং হলো আনন্দের প্রতীক। আর হলুদ গোলাপ মানে শুধু আনন্দই নয়, প্রতিশ্রুতিও। কাজেই বন্ধুত্বের মাঝে যেন আনন্দের পাশাপাশি থাকে প্রতিশ্রুতিও সেই কথাটিই যেন মনে করিয়ে দেয় এই বন্ধু দিবস। বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই।  তা যখন তখন, যেখানে সেখানেই হতে পারে। মা-বাবা যেমন হতে পারে ভাল বন্ধু, তেমনি পারে স্বামী-স্ত্রীও। আবার স্কুল-কলেজ, চাকরির ক্ষেত্র, সবখানেই বন্ধুত্ব হতে পারে।

বর্তমান সময়ে পুরো পৃথিবীটাই একটি সমাজে পরিণত হয়েছে।  প্রযুক্তির কল্যাণে গোটা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। আর তাই বন্ধুত্ব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে।  এখন ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনো দেশের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করা যায় অনায়াসে।

‘বন্ধু তোমার পথের সাথিরে চিনে নিও’।  বন্ধু কি! বন্ধুত্ব কি! বন্ধুর সাথে কেমন সম্পর্ক আপনার! আসলে বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। বন্ধু ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। একজন ভালো বন্ধু, একজন প্রকৃত বন্ধু আপনাকে সঠিক পথ চিনিয়ে নিয়ে যাবে অনেক দূর। বন্ধুত্ব এমন একটি বন্ধন, এতে থাকে স্বার্থহীন ভালোবাসা। পৃথিবীর অনেক সম্পর্কের মধ্যে এটি অন্যতম। তবে বন্ধুকে হতে হয় অনেক বেশি বিশ্বাসী, দায়িত্ববান এবং সৎ। যার উপর ভরসা করা যায় নিশ্চিন্তে।

বন্ধুত্ব   বন্ধন   স্বার্থহীন   ভালোবাসা   বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

‘ঊনো বর্ষার দুনো শীত', এলো কি?

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail "ঊনো বর্ষার দুনো শীত', এলো কি

অফিস থেকে বের হয়ে বাসার উদ্দ্যেশ্যে হাঁটছিলাম। কিছুদূর এগোতেই চোখ আটকে গেল একটা ঠেলাগড়ির দিকে। ঠেলাগড়িতে একের পর এক গরম ভাপা এবং চিতই পিঠা নামিয়ে রাখছে একটা ছেলে। গরম ভাপা পিঠা দেখেই কিনা, সামনে এগিয়ে গেলাম, দিতেও বললাম একটা পিঠা। না চাইতেই সদ্য চুলা থেকে নামিয়ে দেয়া ভাপা পিঠা প্লেটে করে হাতে দিয়ে দিল ছেলেটি। গুড় আর নারকেল কোড়া দেয়া ভাপা পিঠেটার দিকে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ, তারপর এক কোণা থেকে ভেঙ্গে মুখে চালান করে দিলাম। ঠিক এইবার, হঠাৎ মনে হল শীত চলে আসছে, আর এই ছোট পিঠার দোকানটি এই ইট পাথরের রাজধানীকে  জানান দিচ্ছে শীতের আমেজ শুরু হল বলে।

শীত এমন একটি ঋতু যা হুট করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে আসে না। বরং সে তার আগমনী বার্তা দিতে থাকে প্রকৃতিতে।  শহরে এবং গ্রামে, দুই স্থানে শীতের আগমনী সংকেত কিন্তু ভিন্ন হয়। তবে দুই স্থানের আমেজ এবং প্রকৃতির রূপ বদল কিন্তু  সম্পূর্ণ আলাদা। এবং দুই জায়গার সৌন্দর্য ধরা দেয় দুই রকমভাবে।

যেহেতু আমাদের গ্রাম বাংলা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যে সজ্জিত, সেহেতু প্রথমেই গ্রাম বাংলার শীতের আমেজ দিয়েই শুরু করি আজকের লেখা। শীতের আগমনী সংকেত সব থেকে বেশি পরে এই গ্রাম বাংলার প্রকৃতিতে। সকালের হালকা বাতাসে ঠান্ডা হাল্কা কুয়াশার চাঁদর, ঘাসের উপর মুক্ত দানার শিশির কনা জানান দেয় শীত আসছে।  দিন রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অনেকটাই বেশি টের পাওয়া যায় গ্রামের প্রকৃতিতে। সকালে হিম হিম ঠান্ডা আবার রোদ উঠলেই হাল্কা গরম, আবার সন্ধ্যে নামলেই আরেকটু ঠান্ডা অনুভত হয়। এসময় হেমন্তের ধান কাটারও একটা পর্ব শুরু হয়ে যায়। আর ধান কাটার পর পিঠা পুলি দিয়ে হেমন্তের নবান্ন উৎসব শীতের আরেকটা পর্ব যা আরেকবার নতুন করে জানান দেয় শীতের আগমনী ধ্বনি। 

শহরে শীত আসে ধীরে। শহরের বেশ কিছু পরিবর্তন দেখেই মূলত বুঝে নিতে হয় শীত আসছে। ভোরে উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ের মাথা ঝাপসা দেখলে সহজে বোঝার উপায় থাকে না শীত নাকি ধোয়া। কিন্তু সকালের ঠান্ডা হাল্কা বাতাসে বুঝে নিতে হয় শীত আসছে। এছাড়া শহরের বাজারগুলোতে উঠতে থাকে শীতের নানান সবজি। দাম বেশি হলেও এই সবজি গুলোই শহরবাসীকে ইঙ্গিত দিয়ে যায় শীত শুরু হল বলে। এছাড়া শীতের আমেজ পরে যায় রাস্তার ধারের খাবারের দোকানগুলোতেও।  এসময় বসে যায় থরে থরে পিঠার দোকান। শহরের ইট পাথরের দেয়াল ঘেরা  প্রকৃতিতে শীত বোঝা যায় খুব অল্প বিস্তর কিন্তু শহরের এই অলিতে গলিতে তুমুল পরিবর্তনেরও রয়েছে আলাদা সৌন্দর্য। 

গ্রাম কিংবা শহর, শীত আসার আগের মূল আকর্ষণই হয় বিভিন্ন স্বাদের পিঠা। শীত আসার আগে থেকেই পিঠা তৈরির একটা ব্যাপার চারপাশেই খেয়াল করা যায়।  গ্রামের দিকে বাড়িতে বাড়িতে সকালেই দেখা যায় গরম উনুনে পিঠা চেপে বানিয়ে ফেলছে ভাপা, চিতই, তেলপিঠা,পাটিশাপ্টা আরও কত কি। আর শহরের দিকে পিঠা পর্ব শুরু হয় বিকেল থেকে। ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত মানুষ যখন অফিস শেষে ঘরমুখী হয়, রাস্তার পাশের ছোট পিঠের দোকানেই তারা ফিরে যায় অতীত শৈশবে। গরম ভাপা, চিতই মুখে পুরে শীত আসার অনুভূতি নেয় তারা।

শীত আসার আগে যেমন আগমনী বার্তা দেয় তেমনি সাথে দেয় পরিবর্তনশীল আবহাওয়া। আর এই পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার ঠান্ডা গরম পরিবেশে  খাপ-খাওয়াতে পারেন না অনেকে। যে কারণে কেউ কেউ সর্দি-জ্বর, কাশিসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সব বয়সির মধ্যে এই সমস্যা দেখা গেলেও শিশু আর বয়স্করা একটু বেশি নাজুক থাকায় তাদের উপর প্রভাব পরে অনেক বেশি। তাই তাদেরকে সতর্কও থাকতে হবে অনেকটা।

শহর কিংবা গ্রাম,শরতের পরেই শীতের আমেজ আসতে শুরু করে দেশে। দেশের উত্তরাঞ্চলে সব থেকে বেশি শীতের আমেজ পরিলক্ষিত হয়। শীত আসার আগের এই সময়টুকু শুধু উপভোগ করলেই চলবে না বরং শীত আসার আগেই নিয়ে নিতে হবে শীতের প্রস্তুতি।  পরিবর্তনের আবহাওয়ায় থাকতে হবে সতর্ক। কথায় আছে যে বছর বর্ষায় বৃষ্টি কম হয় সে বছর শীত একদম জেকে বসে। এবার আমাদের দেশে বৃষ্টিও কম হয়েছে, তাই ভাবাই যেতে পারে এবার শীতটাও হয়তো জেকে বসবে। তাই আগে থেকেই নিতে হবে প্রস্তুতি। আপাতত ঊনো বর্ষার দুনো শীতকে নিয়ে ভাবতে ভাবতেই বরং আমরা দেখতে থাকি প্রকৃতির পরিবর্তন আর ধীরে ধীরে স্বাগত জানাই আগমনী শীতকে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

নদী, মৃত্যু এবং আমরা সাধারণ

প্রকাশ: ০৯:১৭ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নৌকাডুবি, ট্রলার ডুবি কিংবা লঞ্চ ডুবি দেশের এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কয়েক দিন আগে পঞ্চগড়ের বোদায় নৌকাডুবে নিহত হয়েছে অনেক। এ ঘটনায় এখনো লাশের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার ডুবির সংখ্যা এত বাড়ছে কেন?

শুধুমাত্র সরকারের ওপর দোষ চাপালেই হয়না বরং দেশে ঘটা অনেক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহাণীর জন্য  দায়ী  থাকি আমরা নিজেরাই। নিজেদের সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্বহীনতা আমাদের দেশের ঘটা অনেক অঘটনের জন্যে দায়ী। সদ্য পঞ্চগড়ে নৌকাডুবিও তারই ইঙ্গিত দেয়।

দেশে নৌ দুর্ঘটনা কমছেই না। দেশে থাকা অগণিত হাওর বাওরে প্রতিনিয়ত চলছে ট্রলার, নৌকা, লঞ্চ, জাহাজ, স্প্রিডবোর্ড। শুধুমাত্র বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই পত্রিকায় তা ফলাও করে ছাপানো হয় কিন্তু ছোটখাট দুর্ঘটনাগুলো চাপা পরেই থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে যে হারে নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা রীতিমত চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এইসব দুর্ঘটনা ঘটছে যত টানা নদীর স্রোত কিংবা বৈরি আবহাওয়ার জন্য, ততটাই আমাদের নিজেদের অসচেতনতা আর অব্যবস্থাপনার জন্যেই ঘটছে।

পঞ্চগড়ের বোদায় ঘটা দুর্ঘটনার দিকে তাকালে শুরুতেই বলা যায় অসচেতনতাই এই নৌকাডুবির কারণ। নৌকায় যাত্রী ওঠানোর আগ মুহুর্তের একটা ছোট ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এই ভিডিওটিতে দেখলেই বোঝা যায় এই ছোট নৌকাটি কতজন লোক উঠেছিল। আপাত দৃষ্টিতে দেখা যায় নিজেদের বিপদ নিজেরাই যেন ডেকে নিয়ে এসেছিল সবাই। তিল ঠাই দেয়ার জায়গা ছিল না নৌকাটিতে।ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি বড়শশী ইউনিয়নের বোদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। নদীর মাঝে গিয়ে স্রােতে দুলতে শুরু করে নৌকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই উল্টে যায় নৌকাটি। যেখানে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে করতোয়া নদীর এই জায়গাটি এমনিতে খুব খরস্রােতা নয়; গভীরতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বর্ষণের পর উজানের ঢলে নদীতে পানি বেড়েছে অনেকটা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় পড়া নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠায় এবং মাঝনদীতে নৌকাডুবির কারণে মৃত্যু এত বেশি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এত গেল পঞ্চগড়ের বোদার ঘটনা। বাংলাদেশে ভূরি ভূরি লঞ্চ বা স্টিমার দুর্ঘটনা ঘটে অসম প্রতিযোগিতা করে লঞ্চ চালানোর কারণে। আর এসকল লঞ্চে কখনো থাকে অভিজ্ঞ আবার কখনো অনভিজ্ঞ চালকগণ। যাদের কাছে লঞ্চ, নৌকা কিংবা স্টিমারে থাকা মানুষের জানমালের চেয়ে প্রতিযোগিতাটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া যেখানে নদী বন্দরের এইসব চালক থেকে শুরু করে মালিক পক্ষের আবহাওয়া বার্তা পড়া বা শোনা বাধ্যতামূলক, তার তোয়াক্কা তো তারা করেই না। আর এসবের খেসারত দিতে হয় অনেকগুলো মৃত্যু দিয়ে, অনেক গুলো পরিবারের দুঃস্বপ্ন দিয়ে।

এখন তো নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার লঞ্চ ডুবি খুব স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । মাসে  একটা দুটো  এমন দুর্ঘটনা ঘটে, মাঠ গরম হয়, তদন্ত কমিটি গঠন হয়, লাশ নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়। কেউবা আবার ক্ষতিপূরনের টাকা নিয়ে দৌড়ায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি ঠান্ডা 
 হয় এবং একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। কিন্তু এইসব দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া, সচেতনতা তৈরি হওয়ার কোন লক্ষন কোথাও দেখা যায় না। ক্ষতিপূরণের টাকা সরকার থেকে দেয়া হলেও সেগুলো কার পকেটে যায় তারও আর কোন খবর থাকে না।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, এদেশের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নদীপথ। কিন্তু আমাদের অসেচতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ। নদীপথ নিরাপদ করতে যেমন সরকারি ভাবেও উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। আমরা সচেতন হলেই বাঁচবে দেশ, কমবে দুর্ঘটনা, বাঁচবে প্রাণ।

নৌকাডুবি   অসচেতনতা   প্রাণহানী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

পূজোয় বাঙালি রসনা

প্রকাশ: ০৯:২৪ এএম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail পূজোয় বাঙালি রসনা

বাঙালির রসনা বিলাসের শেষ নেই। বাঙালির যেমন আছে বার মাসে তের পার্বণ তেমনি আছে এর সাথে রসনার যোগসূত্র। বাঙালির যেন উৎসবই জমে না টেবিল ভর্তি বাঙালি খাবার ছাড়া। মহালয়া দিয়ে পূজার বাদ্যি বেজে গেল, এখন শুধু তাই পূজার দিনে বাঙালির রসনা বিলাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে প্রত্যেকটি বাড়িতে। পেট পূজা ছাড়া কি আর পূজোর আনন্দ জমে?

পূজার মূল আকর্ষণ হল পূজায় তৈরি প্রত্যেক বাড়ির মিষ্টি খাবার গুলো। কি নেই এতে? নাড়ু, সন্দেশ, বাহারি লাড্ডু, খঁই, বিভিন্ন রকমের মোয়া, পাটালি, পায়েস। মিষ্টি ছাড়া যেন জমেই না দুর্গাপূজা। তবে দুর্গাপূজায় যে জিনিসটি সব বাসাতেই তৈরি হয় তা হলো নারিকেলের নাড়ু। গুড়ের কিংবা চিনির, নাড়ু ছাড়া যেন দুর্গাপূজা কল্পনাই করা যায় না। ষষ্ঠী থেকে দশমী পূজার প্রসাদ তো থাকেই, সাথে থাকে আরও নানান ভিন্ন স্বাদের খাবার। আমিষ থেকে নিরামিষ সবই খাওয়া চলে রীতি নিয়ম মেনে।


পূজায় নিরামিষ আমিষের একটা ঝক্কি অবশ্য থাকেই। যারা পূজার আয়োজক থাকেন, তারা নিয়ম মেনে নিরামিষ খান। ষষ্ঠির সকালে তাই বাসায় চলে ফুলকো লুচি, সবজি , বুটের ডাল কিংবা  মিষ্টি। পূজার আয়োজকে যারা থাকেন তারা পুরো সময় জুড়ে নিরামিষ খান। দশমীর দিন কিংবা অষ্টমঙ্গলার দিনে গিয়ে তারা নিয়ম বা শাস্ত্র মেনে আমিষ খেতে পারেন। 

মূলত পূজায় যারা পূজার আয়োজকে থাকেন না তারা আমিষ খেতে পারেন। দেখা যায় দুপুরে হয়তো পোলাওয়ের সাথে কচি পাঁঠার মাংস, কিংবা গাঢ় ঝোলে ডুবে থাকা পনিরের টুকরো দিয়ে চলে দুপুরের ভোজ। এছাড়া পূজোয় আবার তৈরি হয় নানা পদের চমকপ্রদ খাবারও যেগুলো কিনা শুধুমাত্র পূজারই আকর্ষণ। এই চমকপ্রদ খাবারের তালিকায় প্রথম নাম যেটি আসে, সেটি হল ভূনা খিচুড়ী। খিচুড়ীর সাথে কয়েক পদের ভাজা খাবার না থাকলেও যেন  জমে না। তাই ভূনা খিচুড়ীর সাথে পাতে পরে বেগুনি কিংবা পিয়াজু, কিংবা কুরকুরে আলুর ভাজা। এছাড়া আরেকটি আকর্ষণ হলো আলুর দম। গোটা গোটা আলুর সাথে যখন ফুলকো লুচিগুলো  ছিড়ে মুখে পুড়ে দেয়া যায়, স্বাদের একটা গোলা যেন মুখে একটা নাড়া দিয়ে যায়।

পূজার দিনের আরও  নানান পদে থাকে আমড়ার চাটনি, লাবড়া,  সরশে পটোল, পোস্ত বেগুনি, চিতল মাছের কোপ্তা কারি, ভাঁপে ইলিশ, নারকেল দিয়ে ছোলার ডাল, সরষে ইলিশ।এই খাবারগুলো পরিবেশন করাও হয় আমিষ, নিরামিষ এসকল ভেদে । দুর্গাপূজার খাবার দাবারের মূল পর্ব দশমীর দিন শুরু হয় এক  কথায়। মাকে বিদায় দেয়ার কষ্ট যেন বাঙালি ভুলে যেতে চায় কব্জি ডুবিয়ে খাবারের মাধ্যমে। কারণ ষষ্ঠি থেকে নবমী এই দিন গুলোতে কেউ নিরামিষ, কেউ আমিষ খায়। কিন্তু দশমীর দিনটি যেন হয়ে ওঠে আমিষের। মাছ মাংসের সব পদই খাওয়া যায় এই দিনে।

দশমীর দিন কেউ শুরু করেন ঘরে পাতানো সাদা দইয়ে চিড়া ভিজে খেয়ে। সাদা টক দইয়ের সাথে চিড়া আর চিনি যখন মাখানো হয়, মিষ্টি ঘ্রাণ যেন নাকে সুড়সুড়ি দিয়ে যায়। এরপর চলে কব্জি ডুবিয়ে দই চিড়া খাওয়ার পব। দুপুরের দিকে খাওয়া হয় কচি পাঠাঁর মাংস। কাসার থালে যখন মাংসের লাল ঝোল মেখে ধোয়া ছড়ায়, পেটের ক্ষুধা যেন হঠাৎই বেড়ে যায় দশ গুণ। এছাড়া আবার রান্না হয় ঘণ পেয়াজ কুচির সাথে রুইয়ের ঝোল। আবার অনেক সময় তৈরি হয় মাছের মুড়ো দিয়ে মূড়িঘন্ট। সোনা মুগ ডাল যখন ভেজে মাছের মাথার কষানো ঝোলে গিয়ে পরে দেখলেই যেন অর্ধেক ভোজন তখনি হয়ে যায়। আর পূজোর বিকেলটা তো চলে যায় পূজো মন্ডবের নানান খাবার  দিয়েই।