ইনসাইড আর্টিকেল

নদী, মৃত্যু এবং আমরা সাধারণ

প্রকাশ: ০৯:১৭ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

নৌকাডুবি, ট্রলার ডুবি কিংবা লঞ্চ ডুবি দেশের এখন নিত্যদিনের ঘটনা। কয়েক দিন আগে পঞ্চগড়ের বোদায় নৌকাডুবে নিহত হয়েছে অনেক। এ ঘটনায় এখনো লাশের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে। কিন্তু মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এই নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার ডুবির সংখ্যা এত বাড়ছে কেন?

শুধুমাত্র সরকারের ওপর দোষ চাপালেই হয়না বরং দেশে ঘটা অনেক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহাণীর জন্য  দায়ী  থাকি আমরা নিজেরাই। নিজেদের সচেতনতার অভাব এবং দায়িত্বহীনতা আমাদের দেশের ঘটা অনেক অঘটনের জন্যে দায়ী। সদ্য পঞ্চগড়ে নৌকাডুবিও তারই ইঙ্গিত দেয়।

দেশে নৌ দুর্ঘটনা কমছেই না। দেশে থাকা অগণিত হাওর বাওরে প্রতিনিয়ত চলছে ট্রলার, নৌকা, লঞ্চ, জাহাজ, স্প্রিডবোর্ড। শুধুমাত্র বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটলেই পত্রিকায় তা ফলাও করে ছাপানো হয় কিন্তু ছোটখাট দুর্ঘটনাগুলো চাপা পরেই থাকে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে যে হারে নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে তা রীতিমত চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এইসব দুর্ঘটনা ঘটছে যত টানা নদীর স্রোত কিংবা বৈরি আবহাওয়ার জন্য, ততটাই আমাদের নিজেদের অসচেতনতা আর অব্যবস্থাপনার জন্যেই ঘটছে।

পঞ্চগড়ের বোদায় ঘটা দুর্ঘটনার দিকে তাকালে শুরুতেই বলা যায় অসচেতনতাই এই নৌকাডুবির কারণ। নৌকায় যাত্রী ওঠানোর আগ মুহুর্তের একটা ছোট ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। এই ভিডিওটিতে দেখলেই বোঝা যায় এই ছোট নৌকাটি কতজন লোক উঠেছিল। আপাত দৃষ্টিতে দেখা যায় নিজেদের বিপদ নিজেরাই যেন ডেকে নিয়ে এসেছিল সবাই। তিল ঠাই দেয়ার জায়গা ছিল না নৌকাটিতে।ঘাট থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি বড়শশী ইউনিয়নের বোদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল। নদীর মাঝে গিয়ে স্রােতে দুলতে শুরু করে নৌকা। কিছুক্ষণের মধ্যেই উল্টে যায় নৌকাটি। যেখানে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে করতোয়া নদীর এই জায়গাটি এমনিতে খুব খরস্রােতা নয়; গভীরতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বর্ষণের পর উজানের ঢলে নদীতে পানি বেড়েছে অনেকটা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় পড়া নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠায় এবং মাঝনদীতে নৌকাডুবির কারণে মৃত্যু এত বেশি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

এত গেল পঞ্চগড়ের বোদার ঘটনা। বাংলাদেশে ভূরি ভূরি লঞ্চ বা স্টিমার দুর্ঘটনা ঘটে অসম প্রতিযোগিতা করে লঞ্চ চালানোর কারণে। আর এসকল লঞ্চে কখনো থাকে অভিজ্ঞ আবার কখনো অনভিজ্ঞ চালকগণ। যাদের কাছে লঞ্চ, নৌকা কিংবা স্টিমারে থাকা মানুষের জানমালের চেয়ে প্রতিযোগিতাটাই বড় হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া যেখানে নদী বন্দরের এইসব চালক থেকে শুরু করে মালিক পক্ষের আবহাওয়া বার্তা পড়া বা শোনা বাধ্যতামূলক, তার তোয়াক্কা তো তারা করেই না। আর এসবের খেসারত দিতে হয় অনেকগুলো মৃত্যু দিয়ে, অনেক গুলো পরিবারের দুঃস্বপ্ন দিয়ে।

এখন তো নৌকাডুবি কিংবা ট্রলার লঞ্চ ডুবি খুব স্বাভাবিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । মাসে  একটা দুটো  এমন দুর্ঘটনা ঘটে, মাঠ গরম হয়, তদন্ত কমিটি গঠন হয়, লাশ নিয়ে ছোটাছুটি শুরু হয়। কেউবা আবার ক্ষতিপূরনের টাকা নিয়ে দৌড়ায়। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পরিস্থিতি ঠান্ডা 
 হয় এবং একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি। কিন্তু এইসব দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া, সচেতনতা তৈরি হওয়ার কোন লক্ষন কোথাও দেখা যায় না। ক্ষতিপূরণের টাকা সরকার থেকে দেয়া হলেও সেগুলো কার পকেটে যায় তারও আর কোন খবর থাকে না।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ, এদেশের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নদীপথ। কিন্তু আমাদের অসেচতনতার অভাবে প্রতিনিয়ত প্রাণ হারাচ্ছে অনেক মানুষ। নদীপথ নিরাপদ করতে যেমন সরকারি ভাবেও উদ্যোগ নিতে হবে, তেমনি আমাদেরকেও সচেতন হতে হবে। আমরা সচেতন হলেই বাঁচবে দেশ, কমবে দুর্ঘটনা, বাঁচবে প্রাণ।

নৌকাডুবি   অসচেতনতা   প্রাণহানী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ইটভাটা গিলে খাচ্ছে খেজুর গাছ


Thumbnail

প্রকৃতির বৈচিত্রতায় ফোঁটায় ফোঁটায় শিশির বিন্দু গায়ে জড়িয়ে এসেছে শীত। সকালের শিশির ভেজা ঘাস আর ঘন কুয়াশায় প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি।সেই শীতের সাথে তাল মিলিয়ে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। গ্রাম বাংলার বিশেষ এক ঐতিহ্য খেজুর গাছ। 

একসময় গ্রামবাংলার আঁকাবাঁকা পথে সারি সারি দেখা যেত খেজুর গাছ, কিন্তু এই খেজুর গাছ আজ বিলুপ্তি পথে। শীতের সকাল আর খেজুরের রস দু’য়ে মিলে ছিল একাকার। কালের বির্বতনে এখন আর সে চিত্র চোখে পড়ছে না।নেপথ্যে রয়েছে বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা গুলি। কিছু অসাধু চক্র ইটভাটায় প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করেন খেজুর গাছ যার ফলে আজ বিলুপ্তির পথে খেজুর গাছ সহ খেজুর-গাছের-রস।

তবুও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য।বিগত কয়েক বছর পূর্বেও এই অঞ্চলের কিছু মানুষ শীতকাল এলে খেজুর গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিকেল হলেই ধারালো ছেনি বা দা কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে এই গাছ থেকে ওই গাছের মাথায় রাজত্ব করে বেড়াত। গাছি তার মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্পের মতো করে খেজুর গাছের গলায় দা চালিয়ে দিতেন এবং ঘটি বেঁধে চলে আসতেন।

পরের দিন সকাল বেলা ঘটি ভর্তি রস নিয়ে নিচে নেমে আসতেন এবং এই রস বিক্রি করে সংসারের যাবতীয় খরচ নির্বাহ করতেন। কেউ কেউ কাঁচা রস জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করে বিক্রি করতেন। এভাবে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে খেজুর রসের একটি চিরাচরিত সম্পর্ক স্থাপন হয়। তখন কৃষকের ঘরে উঠত নতুন ধান। খেজুরের রস আর নতুন ধান গ্রাম-বাংলার মানুষের মধ্যে নবান্নের উৎসবে মাতোয়ারা করে রাখত। নতুন ধানের পিঠা আর খেজুরের রস শীতের সকালকে করে রাখত মধুময়। ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েসের ধুম চলত।

সময় বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের জীবন প্রণালি। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রচলিত সংস্কৃতি। মানুষ নিজের প্রয়োজনে ঘরবাড়ি নির্মাণের জন্য ও ইটভাটায় জ্বালানির দাপটে আশপাশের খেজুর গাছসহ অন্যান্য গাছ কেটে ফেলছে আবার কেউ কেউ কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে বিদেশি গাছের বাগান করছেন। এতে শীতের সকালে খেজুরের রসের স্বাদ আস্বাদন করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের মানুষ।খেজুর গাছ কমে যাওয়া এ অঞ্চলে এখন খেজুরের রস ও গুড় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। মন চাইলেও এখন আর কাঁচা রস পাওয়া সম্ভব হয় না। টাটকা রস পাওয়া বড়ই মুশকিল ব্যাপার।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় এক সময় হাজার হাজার গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতেন গাছিরা। এখন কয়েক গ্রাম ঘুরে দু’একটি খেজুর গাছের সন্ধান পাওয়া দুষ্কর ব্যাপার হয়ে পড়েছে। যদিও দু’একটি গাছের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে তা থেকে রস সংগ্রহ করার সুযোগ হচ্ছে না। দক্ষ গাছিরা তাদের পেশা পরিবর্তন করায় খেজুর গাছ থাকলেও রস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিনে দিনে খেজুরের রস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের মানুষ।শহরের মানুষরা তো তার ছোঁয়াই পায় না।
 
তবে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়।সেখানে হয়তো এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা বাংলার ও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পিঠার নাম জানতে পারে ও আকার আকৃতি দেখতে পারে। গুটি কয়েক ছাড়া কেউ ক্রয় করেও খেতে পারে না। বিভিন্ন স্টল সাজিয়ে রাখা হয় পিঠা আর দর্শনার্থীরা দেখে দেখে মনে মনে স্বাদ-আস্বাদন করে বাড়ি ফিরে যান।

স্থানীয়রা জানান, অতীতে জেলায় সর্বত্র বহু খেজুর গাছ ছিল। ইটভাটায় জ্বালানির দাপটে খেজুর গাছ কেটে অনেকটাই সাবাড় হয়ে গেলেও যা আছে, ৭৮টি ইউনিয়ন মানুষের খুশি করার পক্ষে কম। ইটভাটায় জ্বালনি হিসাবে অনেক গাছ বিক্রি করা হয়েছে। রস মৌসুমে প্রতিটি খেজুর গাছ ভাড়া হয় ২/৩ শ’ টাকায়। মৌসুমের শেষে অনেকেই গাছা বিক্রি করে দেন। মূলত ইট ভাটার জ্বালানির জন্য খেজুর গাছের চাহিদা রয়েছে। যদিও দাম অন্য গাছের তুলনায় কম।

ইট ভাটার আইনুযায়ী: কোন ব্যক্তি ইট পোড়ানোর জন্য জ্বালানী কাঠ ব্যবহার করিবেন না৷ এই আইনের কোন বিধান বা তদধীন প্রণীত কোন বিধি বা লাইসেন্সের কোন শর্ত লঙ্ঘন করিলে তিনি অনধিক এক বছরের কারাদন্ড বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং অপরাধ বিচারকালে আদালত যদি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ধারা ৬ এর অধীন আটককৃত ইট ও জ্বালানী কাঠ বাজেয়াপ্তযোগ্য, তাহা হইলে আদালত উক্ত ইট ও জ্বালানী কাঠ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিবেন৷

খেজুর গাছের মালিকরা জানান, শীত দ্রুত এসে পড়ায় রস সংগ্রহকারীদের চাহিদা বেড়েছে। চলতি মৌসুমে একটি খেজুর গাছ থেকে ২০-৩০ কেজি রস পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহে একদিন গাছ কাটা হলে তিন দিন রস পাওয়া যাচ্ছে।
 
গাছিরা জানান, আমাদের উপজেলাতে একসময় অনেক খেজুর গাছ ছিলো কিন্তু কালের বির্বতনে তা হারিয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে ৫ বছর আগে আমাদের গাছ কাটার জন্য আমার মত অনেক লোক পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলো কিন্তু এখন তেমন খেজুর গাছ না থাকায় এই কাজ কেও করতে চাই না।
রসপায়ীরা জানান, শীতের সকালে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে খেজুর রস খাওয়ার মজাই আলাদা। আরও মজা লাগে খেজুরের রস দিয়ে গুড়/পাটালি দিয়ে বিভিন্ন প্রকারের পিঠা বানিয়ে খাওয়া। সকাল ঘুম থেকে উঠে ১ গ্লাস রস খেলে শরীর অনেকটা সতেজ থাকে।
 
তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নে গাছি আশরাফ আলী (৪৫) বলেন, আমি প্রায় ২৬বছর যাবত খেজুর গাছ কেটে আসছি। খেজুর গাছ বিলুপ্তি হওয়ায় আগের মতন খেজুর গাছ কাটা লাগে না। খেজুর গাছ গুলো এখন যাচ্ছে ইট ভাটায়। জ্বালানি কাঠ ও কয়লা আপেক্ষা খেজুর গাছ সস্তা দামে পাওয়া যায় বলে ইট ভাটায় এর চাহিদা বেশি। কেননা, খেজুরের গাছে পোড়ানো ইটের রং গাঢ় হয়। সময়ের পরিবর্তনে ও সচেতনতার অভাবে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস।

সকল রসপায়ী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের দাবি, কিছু অসাধু ব্যাবসায়ীরা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য খেজুর গাছ কেটে ইটের ভাটায় বিক্রয় করছে। যদি এই অসাধু ব্যাবসায়ীদের এখনি আটকানো না যায় তাহলে ভবিষৎতে সাতক্ষীরা জেলা সহ প্রায় সকল উপজেলায় খেজুর গাছের সন্ধান পাওয়া দুষ্কার হয়ে পরবে।

খেজুর গাছ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষকের মাঠে সোনালী হাসি

প্রকাশ: ০৯:২১ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

চাপাইনবাবগঞ্জে মৃদু শীতল হাওয়ায় দোল খাচ্ছে কৃষকের মাঠের আমন ধান। সোনালী রঙের পাকা ধানের গন্ধে কৃষকদের মনে এখন বইছে আনন্দের বন্যা। ধান কাটতে হাতে কাঁচি নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য মতে, জেলায় এবার ৫৩ হাজার ৫২০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৯ হাজার ৮৫০ হেক্টর, শিবগঞ্জে ৫৫০ হেক্টর, গোমস্তাপুরে ১৬ হাজার ৭৫ হেক্টর, নাচোলে ২২ হাজার ২৩৫ হেক্টও এবং ভোলাহাটে ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করেছেন চাষিরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান লাগিয়েছি। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মটোর দিয়ে জমিতে এবার পানি দিতে পারিনি। কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। উপরওয়ালার অশেষ রহমতে সময়ের বৃষ্টি সময়ে হওয়ায় ধানের শিষ ফুটতে কোনো সমস্যা হয়নি। আমনের ফলন ভালো হয়েছে।’

শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এই বছর প্রায় সব কৃষকেরই মাঠেই আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত ধানের সঠিকমূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সরকার অনেক কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারন করলেও কৃষক তার যথাযথ মূল্য পান না।’

গোমস্তাপুরের আমিরুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, ‘রোগ বালাই তেমন না থাকায় আমন ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ধানের বাজার ঠিক রাখতে সরকারের যথাযথ নজর দেয়া দরকার। কৃষি পণ্যের দাম বাড়ায়, উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। উৎপাদিত ফসলের যথাযথ মূল্য না পেলে অনেক কৃষক অন্য ফসল চাষাবাদে ঝুঁকতে শুরু করবেন। বিশেষ করে ধানের বাজার দিন দিন যেভাবে কমতে শুরু করেছে তাতে চিন্তা বাড়ছে সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে।’

ধান ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘নতুন ধানের বাজার মূল্য প্রথম প্রথম ঠিক থাকে। এমনকি নতুন ধান কেনার জন্য মিল মালিকদেরও চাহিদা থাকে। সমেয়ের ব্যবধানে ধানের দাম কমতে থাকলে কৃষকরা হতাশ হয়ে যায়। তখন প্রতি মণে তাদের ৩০-৪০ টাকা লোকসান গুনতে হয়।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ  জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক ড.পলাশ সরকার বলেন, ‘জেলায় আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর। আশানুরূপ ধানও উৎপাদন হয়েছে। বেশ কয়েক দিন আগেই কৃষকরা ধান কাটতে শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। দেখতে গেলে ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যয়ে। কৃষকেরা ধানের ভালো ফলন পাওয়ায় অনেক খুশি।’

এদিকে, অনেক কৃষক এরই মধ্যে তাঁদের সোনালী ফসল মাড়াই করে বাজারে বিক্রি করতেও শুরু করছেন। তবে প্রথম দিকে তারা ধানের ভালো দাম পেলেও, সময়ের ব্যবধানে দাম কমতে থাকায় শঙ্কা জেগে বসেছে তাদের মধ্যে। উৎপাদিত ফসলের যথাযথ মূল্য না পেলে চাষাবাদের আগ্রহ কমবে এমনটাই দাবি কৃষকদের।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

মুম্বাই জঙ্গি হামলার ১৪ বছর: জঙ্গিদের দৌরাত্ব বন্ধ হবে কবে?

প্রকাশ: ০৭:৫৭ এএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

২০০৮ সালের এই দিনে (২৬ নভেম্বর) ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইকে প্রায় চারদিন ধরে স্তব্ধ করে রেখেছিল জঙ্গিরা। পাকিস্তান থেকে জলপথে কোলাবার সমুদ্রতটে ডিঙি নৌকায় করে এসে কয়েকজন কুখ্যাত জঙ্গি ভারতের বৃহত্তম শহর মুম্বাইতে ১০টিরও বেশি ধারাবাহিক হামলা এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটায়। ২৬ নভেম্বর থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই হামলা চলে।

সন্ত্রাসীরা করাচী বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। তারা গভীর সাগর পর্যন্ত একই জাহাজে ছিল। এরপর তারা একটি ভারতীয় মাছ ধরার নৌকা ছিনতাই করে এবং মুম্বাই উপকূলে এসে এর নাবিককে হত্যা করে। আটটি হামলা ঘটে দক্ষিণ মুম্বাইয়ে। জায়গাগুলি হল ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট, দি তাজ মহল প্যালেস এন্ড টাওয়ার, লিওপোল্ড ক্যাফে, কামা হাসপাতাল (মহিলা ও শিশুদের হাসপাতাল), নরিম্যান হাইস ইহুদি কমিউনিটি সেন্টার, মেট্রো অ্যাডল্যাবস, এবং টাইমস অফ ইন্ডিয়া ভবন ও সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের পিছনের একটি গলি। এছাড়া মুম্বাইয়ের বন্দর এলাকার মাজাগাঁও ও ভিলে পার্লের একটি ট্যাক্সির মধ্যেও বিস্ফোরণ ঘটে।

২৮ নভেম্বর সকালের মধ্যেই মুম্বাই পুলিশ ও অন্যান্য রক্ষীবাহিনী তাজ হোটেল ছাড়া অন্য সব আক্রান্ত স্থান সুরক্ষিত করে ফেলে। ২৯ নভেম্বর ভারতের জাতীয় রক্ষী বাহিনী (এনএসজি) তাজ হোটেলে আশ্রয়গ্রহণকারী অবশিষ্ট জঙ্গিদের হত্যা করে (এই অপারেশনটির নাম ছিল অপারেশন ব্ল্যাক টর্নেডো) শহরকে জঙ্গিমুক্ত করে।

জঙ্গি হামলার ঘটনায় ১৬৪ জন নিহত ও কমপক্ষে ৩০৮ জন আহত হন। এদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনই বিদেশি নাগরিক ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্সের একাধিক নাগরিক ছিলেন। জঙ্গি হামলায় যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ভারত ছাড়াও আরও অন্তত ১৬টি দেশের নাগরিকরা ছিলেন। গুরুতর জখম হয়েছিলেন আরও অন্তত সাতটি দেশের নাগরিকরা। এদের প্রায় সবাই ছিলেন তাজমহল প্যালেস হোটেল বা নরিম্যান পয়েন্টে ওবেরয় হোটেলের অতিথি কিংবা খেতে এসেছিলেন কোলাবার লিওপোল্ড ক্যাফে রেস্তোরাঁয়।

সারা বিশ্বে জঙ্গি হামলার এই ঘটনা তীব্রভাবে নিন্দিত হয়। ওই হামলায় জীবিত অবস্থায় আটককৃত একমাত্র জঙ্গি আজমল কাসাব স্বীকার করে যে, জঙ্গিরা ছিলো পাকিস্তানি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য। এই হামলার জন্য যেই জঙ্গিরা তথ্যসংগ্রহ করতো, তারা পরে স্বীকার করেছে যে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) তাদের মদত যোগাত।

২৬/১১ হিসেবেও পরিচিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ১৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। জঙ্গি দমনে সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবুও প্রায়ই জঙ্গিদের দৌরাত্ব দেখা যায়, যেমনটি ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা  হামলার সময় দেখা গিয়েছিল। এরপর ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানী ঢাকার হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ নির্মূলে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করা হয়। এরপর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় জঙ্গিদের দৌরাত্ব প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছায়। কিন্তু আফগানিস্তানের তালেবানদের উত্থানের পর জঙ্গিবাদ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা দেখা দেয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে জঙ্গিরা আবারও তৎপর হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, যার প্রতিফলন দেখা যায় ২১ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে। মুম্বাই জঙ্গি হামলার ১৪ বছরের পূর্ণ হওয়ার দিয়ে তাই প্রশ্ন ওঠেছে, জঙ্গিদের দৌরাত্ব বন্ধ হবে কবে?


জঙ্গি হামলা   হোটেল তাজ   মুম্বাই   ২৬/১১  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

“আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ” দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮:৩২ এএম, ২৫ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আমরা এমন একটি সমাজে বাস করি যেখানে ‘মেয়ে’, ‘নারী’, ‘মহিলা’ এই শব্দগুলো ব্যবহার করা হয় তাচ্ছিল্য করা অর্থে। ‘মেয়েমানুষ’ কথা কম বলেন, ‘মেয়েমানুষ’ চুপ থাকেন, ‘মেয়েমানুষ’ কিছু বোঝেনা, ‘মেয়েমানুষ’ নিজের সম্মানের কথা ভাবো, সহ্য করো, চুপ থাকো, ঘুরে ফিরে এই কথাগুলোই শুনতে হয় বারবার।

যেই সমাজে নারীকে বারবার চুপ থাকার কথা বলা হয় সেই সমাজে নারীরা তাঁদের নিজেদের অধিকারের বিষয়ে কিংবা নিজেদের সাথে ঘটে যাওয়া সহিংসতার বিষয়ে প্রতিবাদ করবে কতটুকু?

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ নিয়ে আন্দোলন চলছে সেই আদিকাল থেকে। নারীর প্রতি সহিংসতা বলতে নারীর উপর মানসিক, শারিরীক, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সবধরণের নির্যাতন ও নিপীড়নকে বোঝায়। 

আজ ২৫শে নভেম্বর সারাবিশ্বে পালিত হচ্ছে “আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ” দিবস। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে ২৫ নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে ভিয়েনায় বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলন দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়। এবং জাতিসংঘ এই দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর। এই দিবসটি পালনের মূল উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ করা।

এই দিবস পালনের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। ১৯৬০ সালের ২৫ নভেম্বর লাতিন আমেরিকার দেশ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন করার জন্য প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাবেল নামের তিন বোনকে হত্যা করা হলে তাদের স্মরণে ১৯৮১ সাল থেকে এই দিনটি আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়। কিন্তু বছরের পর বছর নারীর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ নিয়ে আন্দোলন বা দিবস পালন করেও কি নির্যাতন কমছে এই বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়!

প্রতিবারই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবসে নারির সম্মানার্থে আয়োজন করা হয় সভা, সেমিনার। টেলিভিশন, পত্রিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর সবজায়গায়ই দেখা যায় নারীদের নিপীড়নের চিত্র। এইসব সভা, সেমিনার কিংবা টেলিভিশন-পত্রিকার প্রতিবেদনগুলোর মূল উদ্দ্যেশ্য সমাজে নারীর অবস্থান বুঝানো, তাঁদের সাথে ঘটে যাওয়া নিপীড়ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরী অথচ দিন শেষে এইসব দেখে বা পড়ে মানুষ কতটুকুই বা সচেতন হয়? পত্রিকার পাতা কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় হরহামেশাই দেখা যায় নারীর প্রতি সহিংসতার খবর।

চলতি বছর সিলেটের এমসি কলেজে গনণধর্ষনের স্বীকার নারী, খাগড়াছড়িতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ের গণধর্ষনের ঘটনা কিংবা নোয়াখালিতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষনের পর কুপিয়ে হত্যা, এইসব ঘটনাই জানিয়ে দেয় বর্তমানে নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র কীরূপ। তবে প্রতিদিন এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটে থাকে যা গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশ ও পায়না। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে নারীর প্রতি সহিংসতার চিত্র আরো ভয়াবহ। এছাড়াও যৌতুকের জন্য গৃহবধুকে নির্যাতন, কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে নির্যাতন প্রভৃতি সংবাদপত্রের কিংবা টেলিভিশনের নিত্যদিনের চিত্র। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক পরিচালিত ২০১১ সালের জরিপ মতে, শতকরা ৮৭ ভাগ নারী স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টমতে, বাংলাদেশে ৬০ শতাংশ বিবাহিত নারী জীবনে কোনো না কোনো সময়ে স্বামী কিংবা তার পরিবার বা উভয়ের দ্বারা নির্যাতিত হন।

নির্যাতনের এইসব খবর শুধুমাত্র নারীর প্রতি সহিংসতার একটি দিক। এছাড়াও প্রতিদিন নারীকে নানান মানসিক ও সামাজিক নির্যাতনের মধ্য দিয়েও যেতে হয়। দায়মুক্তি, লৈঙ্গিক অসমতা এবং সামাজিক চাপের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকাংশেই অপ্রকাশিত রয়ে যায়। পরিবার কিংবা সমাজ, ঘরে কিংবা রাস্তায়, কোথাও নিরাপদ থাকতে পারছেন না নারীরা। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি মানুষকে দাঁড়াতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে হবে নিজ নিজ জায়গা থেকে। এছাড়াও সচেতন হতে হবে লিঙ্গ, সম্মান ও মানবাধিকারের বিষয়ে। নারীর ক্ষমতায়ন, নারীর শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি পুরুষকেও সচেতন হতে হবে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়ে।


নারী নির্যাতন   প্রতিরোধ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

আওয়াজ উঠুক নারীর কণ্ঠেই

প্রকাশ: ১০:০২ এএম, ২৫ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আজ ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন’ বা আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আর জাতিসংঘ দিবসটি পালনের স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

নারীর আত্মমর্যাদা এবং সম্মান বাড়াতে নারীকেই আওয়াজ তুলতে হবে। নারীকে তার শক্তির জাগরণ ঘটাতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতামুক্ত দেশ আর নির্যাতন প্রতিরোধে চাই নারীর আওয়াজ। আর সেই আওয়াজ গুলো নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। আর এই প্রতিবেদনে আওয়াজ তুলেছেন ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লি: (বিজ্ঞাপনী সংস্থা) এবং বাংলা ইনসাইডারের নারী কর্মীবৃন্দ।

‘শুধু মাত্র নারী বলে সমাজে যেসব সহিংসতা চলে আসছে তা যেন এই উন্নত মানব সভ্যতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা আজও বর্বর চিন্তার মননে। পরিবার থেকে শু করে রাস্তা-ঘাট, কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাঙ্গন সবখানে নারী এই সর্বগ্রাসী সহিংসতার স্বীকার। শিশু থেকে বয়স্ক সকল বয়সের সকল পেশার সব শ্রেণীর নারী ভুক্তভোগী বিভিন্ন ধরনের সহিংসতায়। শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সব ধরনের সহিংসতার স্বীকার হতে হয় নারীকে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়। নারীর প্রতি সহিংসতা নানা সময়ে নানা ধরনের প্রতিবাদ হয়। নারী পুরুষ সবাই সম্মিলিত ভাবে প্রতিবাদ করে তখন আমরা আশার আলো দেখতে পাই। কিন্তু যতদিন নারী তার নিজের যোগ্যতা আর ক্ষমতা দিয়ে আওয়াজ তুলে ধরবে ততক্ষণ এর সমাধান হবে না। তাই নারীকে সব ধরনের সহিংসতা যে ‘না’ বলে আওয়াজ তুলেতে হবে।’

কাজী ফাহমিদা মজিদ,

হেড অব রিসার্চ এন্ড প্রোগ্রাম, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লি:


‘প্রতিষ্ঠান-ভিত্তিক সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সবাই সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করবে এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করবে তবেই সহিংসতার অবসান ঘটবে।’

রিয়া রড্রিক্স

এইচ আর এক্সিকিউটিভ, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লি:





‘সময়ের পরিবর্তন ঘটেছে কিন্তু নারী ও নারীর প্রতি সহিংসতা কমেনি বরঞ্চ সর্ব স্থানেই ঘটছে। ইরানের হিযাব আন্দোলনে মাহসা আমিনী তার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ যেখানে ধর্মকে সামনে এনে নারীকে আঘাত করা হয়েছে ধর্মের নামে। এটা ততদিন চলবে যতদিন না এটাকে বন্ধ করা হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা পৃথিবীর যেকোনো সমাজেই শাস্তি যোগ্য অপরাধ। কিন্তু এর কার্যকারিতা নিয়ে কমবেশি সমাজেই ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ এখন সময়ের দাবী।’

মাইশা আলিয়া

রিসার্চ এসোসিয়েট, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লি:




‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে দরকার সমন্বিত চেষ্টা।নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের প্রথম উদ্যোগ নিতে হবে পরিবার থেকে যা পরবর্তীতে সমাজে নারীদের প্রতি অবিচার প্রশমনে ভূমিকা রাখবে। একজন মেয়ে থেকে নারী হওয়ার পুরো যাত্রায় সকল প্রতিবন্ধকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবারের সাহায্য সবথেকে বেশি প্রয়োজন। কেননা পরিবার থেকে পাওয়া প্রতিবন্ধকতা পরবর্তীতে সামাজিক সহিংসতার রূপ নেয়।এছাড়াও নারী সহিংসতা প্রতিরোধে নারীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।’

ফাতেমা ইসলাম অংকন

রিসার্চ এসোসিয়েট, ক্রিয়েটিভ মিডিয়া লি:




‘দিন দিন বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতার মাত্রা। যেখানে কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি সেক্টরে রয়েছে নারীদের অবাধ অংশগ্রহণ সেখানে আজ ও বাড়ির বাইরে পা দিলেই নারীরা ভোগে ভীষণ নিরাপত্তা হীনতায়। শুধুমাত্র নিরাপত্তার অভাবে অনেক মেয়েই নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা, বাড়ির বাইরে পা রাখলে আদৌ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে কি না এই সংশয়ে বঞ্চিত হয় অসংখ্য অপরচুনিটি থেকে।   রাস্তা ঘাটে হাটতে কিংবা গণ-পরিবহন  ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রতিদিন ই নারীদেরকে সহ্য করতে হয় মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের। আন্তর্জাতিক নারীর প্রতি সহিংসতা দিবসে, "নারীর জন্য নিরাপদ হোক সড়ক ও গণ পরিবহন" এই হোক আমাদের লক্ষ্য।’

কাজী অহনা

রিপোর্টার, বাংলা ইনসাইডার



আমরা আধুনিক যুগে অনেক আগেই প্রবেশ করেছি কিন্তু নারীর প্রতি সহিংসতা কোনো দিক থেকেই কমেনি। বরং দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। ঘরে কিংবা বাইরে সবখানেই নারীকে পড়তে হয় নানা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে।

পাবলিক বাসে উঠতে গেলে নারী বলে অনেক সময় উঠতে দিতে চায় না হেলপার। কারণ নারীদের জন্য নাকি বেশি জায়গা লাগে, তারা দাড়িয়ে যেতে পারবেন না। তাহলে এই কর্মজীবী নারীরা কি করবেন? তাদের সবার পক্ষে কি পার্সোনাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করা সম্ভব? এটাও এক ধরনের সহিংসতা। আমি প্রায়ই এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। একজন কর্মজীবী নারী হিসেবে আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কিংবা রাস্তাঘাট সবখানেই নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হোক। নারীদের প্রতিদিনকার যাতায়াত নিরাপদ হোক।

অন্তরা পিংকি

সাব-এডিটর, বাংলা ইনসাইডার



নারী তুমি তোমার আওয়াজ তোলো। তোমার কিসের অভাব, যার কারণে আজও অপমান-অবিচার, শাসন-শোষণকে নীরবে সয়ে যাচ্ছে! জীবনকে নিরাপদ করে তুলতে সরব প্রতিবাদে আওয়াজ তুলতে হবে। নারী তুমি ভুলে যেও না তুমিও যোগ্য, তোমার সম্মানের মান আছে। নিজ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদ করো।



মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন