ইনসাইড বাংলাদেশ

রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ নিয়ে মোংলা বন্দরে রাশিয়ান জাহাজ

প্রকাশ: ০৯:৩৪ এএম, ০৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ নিয়ে মোংলা বন্দরে রাশিয়ান জাহাজ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য দ্বিতীয় চালান নিয়ে লাইব্রেরিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ড্রাগনবল মোংলা বন্দরের হারবারিয়ার ৭ নং বয়ায় নোঙ্গরে করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এটাই প্রথম জাহাজ।

শুক্রবার বিকালে ৫ হাজার ৬০১ মেট্রিক টন কার্গো পণ্য নিয়ে মোংলা নোঙ্গর করার পরপরই খালাস কাজ শুরু হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পণ্য খালাসকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নুরু এন্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫ হাজার ৬০১ মেট্রিক টন মেশিনারিজ পণ্য নিয়ে রাশিয়ার তামারুক বন্দর থেকে জাহাজটি মোংলা বন্দরে উদ্দেশে ছেড়ে আসে। এ জাহাজে ১৫ জন নাবিক রয়েছেন। শুক্রবার বিকালে জাহাজটি মোংলা নোঙ্গর করার পরপরই খালাস কাজ শুরু হয়েছে।  

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ৪ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৪:৩৭ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড: ৪ জনের মৃত্যু

রাজধানীর চকবাজারের দেবীদাস লেন এলাকায় প্লাস্টিক কারখানা ও গোডাউনে আগুন লাগা ভবনের দোতলায় এক কোনায় চার জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

সোমবার (১৫ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আব্দুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, তার ভাই বিল্লাল দোতলায় ঘুমাতেন। তিনি আগুনে আটকা পড়েছেন।

পরে গলির ভেতরের সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঁকি গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া বরিশাল হোটেলের ঠিক ওপরের রুমটিও পুড়ে গেছে। রুমের এক কোনায় কেউ বসে থাকা অবস্থায় পুড়ে গেছেন।

এ সময় আব্দুল্লাহ ‘আমার ভাই, আমার ভাই’ বলে কান্না করতে থাকেন।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী মই দিয়ে উপরে উঠে দোতলার জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে চারটি মরদেহ দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেন।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর ২টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এদিকে আগুন লাগা কারখানার ভবনসহ আশপাশের সব ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।

তিনি বলেন, আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসে দেখি আশপাশের অনেক ভবনেই যত্রতত্র এ রকম বিভিন্ন ধরনের কারখানা গড়ে উঠেছে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একদিকে ঘিঞ্জি এলাকা অন্যদিকে এসব কারখানায় যখন-তখন যেকোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে। পাশাপাশি অনেক ভবনে মানুষ বাসও করছেন। তাদের জন্যই ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আগুনের সূত্রপাতের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা বলেন, আগুনের সূত্রপাত ঠিক কীভাবে সেটা এখনো নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। আমরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে তদন্ত কমিটি গঠন করবো। তারপর জানতে পারবো আসলে কীভাবে আগুন লেগেছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শোক দিবসে হিন্দি গান বাজানোর অভিযোগ

প্রকাশ: ০৩:৪১ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail শোক দিবসে হিন্দি গান বাজানোর অভিযোগ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের  মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে  রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ধর্মতলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিন্দি গান বাজানোর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৫ আগস্ট) সকালে স্কুলের বারান্দায় উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে হিন্দি গান বাজানোর ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তুমুল সমালোচনা চলছে।

ওই  ভিডিওতে দেখা যায়, বা‌লিয়াকা‌ন্দি জঙ্গল ইউনিয়নের ধর্মতলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শোক দিবস পাল‌নের জন্য আনা সাউন্ড ব‌ক্সে উচ্চস্বরে হি‌ন্দি গান বাজ‌ছে।

এদিকে এ ঘটনা নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আম্বিয়া সুলতানা। কমিটির আহ্বায়ক হলেন- উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা জেসমিন। সদস্যরা হলেন- উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মিয়াদ হোসেন ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. চঞ্চল মাহমুদ।

জাতীয় শোক দিবসে বিদ্যালয়ে হিন্দি গান বাজানোর বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুমা‌রেশ বাছাড় ব‌লেন, ‌হি‌ন্দি গান বাজানোর বিষ‌য়ে আমি কিছু জা‌নি না। আমি স্কুলে আসার পর থে‌কে বক্সে দে‌শের গান ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো হচ্ছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আম্বিয়া সুলতানা বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কাজ মোটেও কাম্য নয়। বিষয়টি আমার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমি তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।

তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মিয়াদ হোসেন বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশক্রমে আমরা কাজ করব। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এ বিষয়ে জঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কল্লোল বসু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এলাকা থেকে আমাকে ফোন দিয়েছিল। আমি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অরবিন্দু বিশ্বাসকে ফোন দিয়েছিলাম। তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে পরিষদে আসছেন বলে আমাকে জানান।


রাজবাড়ী   শোক দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঢাকায় ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

প্রকাশ: ০৩:২৪ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ঢাকায় ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

আজ ভারতের জাতীয় স্বাধীনতা দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদায় ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন দেশটির ৭৬তম স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে। সোমবার (১৫ আগস্ট) ভারতীয় হাইকমিশনের চ্যান্সেরি প্রাঙ্গণে দিবসটি পালন করা হয়।

ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, এ বছরের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন স্বাধীনতার ৭৫তম বছরকে চিহ্নিত করে এবং আজাদি কা অমৃত মহোৎসবের উদযাপনের অংশ হিসেবে এই আয়োজন অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের কিছু অংশ পড়ে শোনান।

আইজিসিসি শিক্ষকদের নেতৃত্বে ভারতীয় একদল সদস্য জাতীয় সঙ্গীত এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশে অবস্থান করা অনেক ভারতীয় অংশগ্রহণ করেন।

ভারতের স্বাধীনতা   দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আমি তাদেরকে ধিক্কার জানাই

প্রকাশ: ০৩:০১ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আমি তাদেরকে ধিক্কার জানাই

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উপেক্ষা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বিজ্ঞাপনের বিষয়ে ধিক্কার জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।

সোমবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ বিষয়ে ধিক্কার জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।



অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ধরনের একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলো গতকাল এবং আজ। সেখানে ডান পাশে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছবি, বামপাশে প্রধানমন্ত্রীর ছবি আছে কিন্তু জাতীয় শোক দিবসে সেই জাতির পিতার ছবি কোথায়? আমি এই বিষয়টিকে ধিক্কার জানাই। কারণ এই বিজ্ঞাপনে বঙ্গবন্ধুকে অপমান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার (১৪ আগস্ট) এবং আজ সোমবার (১৫ আগস্ট)  বিভিন্ন গণমাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিজ্ঞাপনটিতে বঙ্গবন্ধুর ছবিই অনুপস্থিত। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞাপনটিতে একপ্রাকার দায়সারা গােছের করে একপাশে শুধু লেখা রয়েছে আমরা গভীরভাবে শোকাহত এবং তার নিচেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি ছবি। পুরো বিজ্ঞাপনের কোথাও নেই জাতির পিতার কোনো ছবি। এই বিজ্ঞাপনে স্পষ্টতই জাতির পিতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।


জাতির পিতা   হত্যা   বঙ্গবন্ধু  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন

প্রকাশ: ০১:০০ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সময় তার কাছের মানুষদের ভূমিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক এবং প্রশ্ন উঠেছে এবং এই প্রশ্নগুলো এখনও অমীমাংসিত। বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিকভাবে অনেক শিষ্যদেরকে গড়ে তুলেছেন। অনেক শিষ্যদেরকে তিনিই অপত্য স্নেহ দিয়ে নেতৃত্বে উঠিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন,

তোফায়েল আহমেদ: ডাকসুর এই সাবেক ভিপিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব বানিয়েছিলেন এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করেন যে, রক্ষীবাহিনী দেখভাল করতেন তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা যখন আক্রান্ত হয়েছিলেন তখন তোফায়েল আহমেদ এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, অনেক প্রশ্ন রক্ষীবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও। যদিও তোফায়েল আহমেদ এ ব্যাপারে বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীদের কাছে তার এই বক্তব্য তেমন কোনো সহানুভূতি পায়নি। বরং অধিকাংশ মানুষই মনে করেন যে, তোফায়েল আহমেদের যে ভূমিকা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পালন করা উচিত ছিল, সেই ভূমিকা পালন করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

এইচ টি ইমাম: এইচ টি ইমাম ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং বঙ্গবন্ধুর আরেকজন বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন ব্যক্তি। কিন্তু ৭৫ এর পর যখন খুনি মোশতাক নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন, সেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ বাক্য পাঠ করেছিলেন এই এইচ টি ইমামই। এ কারণে ইতিহাসের দায় থেকে তিনি মুক্ত হতে পারেন না।

কে এম শফিউল্লাহ: কে এম শফিউল্লাহ ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান। সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান হলো অথচ সেনাপ্রধান ভূমিকাহীন। তিনি কিছুই জানতেন না। শুধু তাই নয়, পঁচাত্তরের পরে তিন বাহিনী বেতার কেন্দ্রে গিয়ে খুনি মোশতাক এর সরকারকে আনুগত্য জানিয়েছিল। সেখানে শফিউল্লাহ ছিলেন অন্যতম। অবশ্য এরপর শফিউল্লাহ তার সেনাপ্রধানের পদ ধরে রাখতে পারেননি। তবে জীবন বাঁচাতে তিনি রাষ্ট্রদূতের পদ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর যদিও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগদান করেন। কিন্তু পঁচাত্তরের তার ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন সেই প্রশ্ন এখনো জ্বলজ্বল করছে। বিশেষ করে শফিউল্লাহ সেনাপ্রধান থাকার পর কিভাবে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহ হলো এবং সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি কি ভূমিকা পালন করলেন তা নিয়ে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়েছে এবং এই সমস্ত প্রশ্নের কোনো উত্তর আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি।

ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শেষ অনুষ্ঠান ছিল ১৯৭৫ এর ১৪ আগস্ট। ওই দিন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ এর বিদায় অনুষ্ঠান ছিল এবং নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল গণভবনে। ওই বিদায় অনুষ্ঠান শেষ করে বঙ্গবন্ধু তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে যান। পরের দিন তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা ছিল। ফরাসউদ্দিন আহমেদ উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন এজন্যই তাকে বিদায় দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ড. ফরাসউদ্দিনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বরং তিনি খুনি মোশতাকের এনওসি নিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। একজন একান্ত সচিব যদি এত বড় একটি ঘটনার পর মুষড়ে রাতে পারেন না। 

ড. কামাল হোসেন: পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট এর ঘটনার সময় ড. কামাল হোসেন দেশের ছিলেন না। তিনি ব্রিটেনে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে হত্যার বিচার চাওয়া বা হত্যার নিন্দা জানানো বা এটির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেন কোনো ভূমিকাই পালন করেননি। বরং এরপর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম থেকেও নিজেকে তিনি গুটিয়ে নিয়েছিলেন। যদিও ১৯৮১ সালের পর আবার তিনি আওয়ামী লীগে সক্রিয় হয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সভাপতিকে বিপদগ্রস্ত করার জন্য সব ধরনের উদ্যোগই গ্রহণ করেছিলেন।

এরকম আরো কিছু ব্যক্তি আছেন যাদেরকে বঙ্গবন্ধু অপত্য স্নেহ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন, ভালোবেসেছিলেন এবং যাদের পরিচয় বঙ্গবন্ধুর কারণে হয়েছে। তারা পঁচাত্তরের পর যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি কেন? এই প্রশ্নটি ইতিহাসে এক অমীমাংসীত অধ্যায়।

বঙ্গবন্ধু   ১৫ আগস্ট  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন