ইনসাইড বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন

প্রকাশ: ০১:০০ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বঙ্গবন্ধুর কাছের মানুষদের নিয়ে অনেক প্রশ্ন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের সময় তার কাছের মানুষদের ভূমিকা নিয়ে অনেক বিতর্ক এবং প্রশ্ন উঠেছে এবং এই প্রশ্নগুলো এখনও অমীমাংসিত। বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিকভাবে অনেক শিষ্যদেরকে গড়ে তুলেছেন। অনেক শিষ্যদেরকে তিনিই অপত্য স্নেহ দিয়ে নেতৃত্বে উঠিয়ে নিয়ে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন,

তোফায়েল আহমেদ: ডাকসুর এই সাবেক ভিপিকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব বানিয়েছিলেন এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করেন যে, রক্ষীবাহিনী দেখভাল করতেন তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা যখন আক্রান্ত হয়েছিলেন তখন তোফায়েল আহমেদ এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, অনেক প্রশ্ন রক্ষীবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও। যদিও তোফায়েল আহমেদ এ ব্যাপারে বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ নেতাকর্মীদের কাছে তার এই বক্তব্য তেমন কোনো সহানুভূতি পায়নি। বরং অধিকাংশ মানুষই মনে করেন যে, তোফায়েল আহমেদের যে ভূমিকা পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট পালন করা উচিত ছিল, সেই ভূমিকা পালন করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

এইচ টি ইমাম: এইচ টি ইমাম ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং বঙ্গবন্ধুর আরেকজন বিশ্বস্ত, আস্থাভাজন ব্যক্তি। কিন্তু ৭৫ এর পর যখন খুনি মোশতাক নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেন, সেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ বাক্য পাঠ করেছিলেন এই এইচ টি ইমামই। এ কারণে ইতিহাসের দায় থেকে তিনি মুক্ত হতে পারেন না।

কে এম শফিউল্লাহ: কে এম শফিউল্লাহ ছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান। সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থান হলো অথচ সেনাপ্রধান ভূমিকাহীন। তিনি কিছুই জানতেন না। শুধু তাই নয়, পঁচাত্তরের পরে তিন বাহিনী বেতার কেন্দ্রে গিয়ে খুনি মোশতাক এর সরকারকে আনুগত্য জানিয়েছিল। সেখানে শফিউল্লাহ ছিলেন অন্যতম। অবশ্য এরপর শফিউল্লাহ তার সেনাপ্রধানের পদ ধরে রাখতে পারেননি। তবে জীবন বাঁচাতে তিনি রাষ্ট্রদূতের পদ গ্রহণ করেছিলেন। এরপর যদিও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগদান করেন। কিন্তু পঁচাত্তরের তার ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন সেই প্রশ্ন এখনো জ্বলজ্বল করছে। বিশেষ করে শফিউল্লাহ সেনাপ্রধান থাকার পর কিভাবে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিদ্রোহ হলো এবং সেনাপ্রধান হিসেবে তিনি কি ভূমিকা পালন করলেন তা নিয়ে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন রয়েছে এবং এই সমস্ত প্রশ্নের কোনো উত্তর আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি।

ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শেষ অনুষ্ঠান ছিল ১৯৭৫ এর ১৪ আগস্ট। ওই দিন বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ এর বিদায় অনুষ্ঠান ছিল এবং নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল গণভবনে। ওই বিদায় অনুষ্ঠান শেষ করে বঙ্গবন্ধু তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে যান। পরের দিন তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা ছিল। ফরাসউদ্দিন আহমেদ উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন এজন্যই তাকে বিদায় দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ড. ফরাসউদ্দিনের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বরং তিনি খুনি মোশতাকের এনওসি নিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। একজন একান্ত সচিব যদি এত বড় একটি ঘটনার পর মুষড়ে রাতে পারেন না। 

ড. কামাল হোসেন: পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট এর ঘটনার সময় ড. কামাল হোসেন দেশের ছিলেন না। তিনি ব্রিটেনে অবস্থান করছিলেন। কিন্তু এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে হত্যার বিচার চাওয়া বা হত্যার নিন্দা জানানো বা এটির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ড. কামাল হোসেন কোনো ভূমিকাই পালন করেননি। বরং এরপর তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম থেকেও নিজেকে তিনি গুটিয়ে নিয়েছিলেন। যদিও ১৯৮১ সালের পর আবার তিনি আওয়ামী লীগে সক্রিয় হয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সভাপতিকে বিপদগ্রস্ত করার জন্য সব ধরনের উদ্যোগই গ্রহণ করেছিলেন।

এরকম আরো কিছু ব্যক্তি আছেন যাদেরকে বঙ্গবন্ধু অপত্য স্নেহ দিয়ে গড়ে তুলেছিলেন, ভালোবেসেছিলেন এবং যাদের পরিচয় বঙ্গবন্ধুর কারণে হয়েছে। তারা পঁচাত্তরের পর যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি কেন? এই প্রশ্নটি ইতিহাসে এক অমীমাংসীত অধ্যায়।

বঙ্গবন্ধু   ১৫ আগস্ট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

র‍্যাব মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিলেন এম খুরশীদ হোসেন

প্রকাশ: ০৭:০৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail র‍্যাব মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিলেন এম খুরশীদ হোসেন

র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি এম. খুরশীদ হোসেন। তিনি পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনীটির নবম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। 

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলা ইনসাইডারে 'র‍্যাবের মহাপরিচালক হচ্ছেন এম খুরশীদ হোসেন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে র‌্যাবের ডিজি হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১২তম ব্যাচের এই মেধাবী কর্মকর্তার বাহিনী ও সরকারে সুনাম রয়েছে। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। র‍্যাবের ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পুলিশের নতুন আইজি হওয়ার প্রেক্ষিতে র‍্যাবের মহাপরিচালকের পদটি শূন্য হয়। ফলে তিনি র‍্যাব মহাপরিচালকের (ডিজি) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আইজিপির দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

প্রকাশ: ০৫:২৭ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail আইজিপির দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করলেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে পুলিশ সদর দফতর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলা ইনসাইডারে 'পুলিশের নতুন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তাকে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে মনোনীত করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটি স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস।

উল্লেখ্য, র‍্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বাহিনী ও সরকারের কাছে তার সুনাম রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশে অসামান্য অবদান ও অনন্য সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন। গত বছরের ১৮ অক্টোবর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ঢাকা রেঞ্জে ও ডিআইজি হিসেবে ডিআইজি (অপারেশনস), ডিআইজি (প্রশাসন), রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে ময়মনসিংহ ও ঢাকা রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে তিনি অতিরিক্ত আইজিপির (এইচআরএম) দায়িত্ব পান। র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের আগে তিনি সিআইডি প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের খবরদারি কেন সরকার হজম করছে?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস একের পর এক বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে বক্তব্য রেখে চলেছেন। গত বুধবার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন, সুশাসন, গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার পর গতকাল তিনি আবার কথা বলেছেন। ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘন, র‍্যাব ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন রকম কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে পিটার ডি হাস বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেক মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডরিক-এবার্ট-স্টিফটুং এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে তিনি যেভাবে খবরদারি করেছেন তাতে অনেকেই বিস্মিত।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক শুধু বলেছেন যে, বাংলাদেশের ব্যাপারে জেনে বুঝে তথ্য নিয়ে কথা বলা উচিত। আইনমন্ত্রী এটিও বলেছেন যে, তিনি যে সমস্ত বক্তব্যগুলো রাখছেন তা সঠিক নয়। অন্যদিকে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সম্প্রতি বলেছেন যে, সব রাষ্ট্রদূত মিলে তত্ত্বাবধায়কের দাবি করলেও এ দাবি মেনে নেয়া হবে না।  কিন্তু কতগুলো মৌলিক প্রশ্ন সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে। একজন রাষ্ট্রদূত একজন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার পদ। একজন রাষ্ট্রদূত এসে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে এ ধরনের কথাবার্তা বলতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশে ২০০৮ সালের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের এরকম খবরদারি দৃশ্যমান ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে তারা সরাসরি খোলামেলা কথাবার্তা বলতেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের সঙ্গে তারা দেখা-সাক্ষাৎ করতেন এবং রাজনীতিবিদরা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে দেখা করতে গিয়ে ধন্য হয়ে যেতেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত যেন সরকারের ওপর সরকার। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ পাওয়াটাই যেন অনেকের কাছে সৌভাগ্যের ব্যাপার প্রতিপন্ন হত। কিন্তু ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আস্তে আস্তে দেশকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলেন এবং পাশাপাশি বিদেশিদের খবরদারি বন্ধের জন্য লাগাম টেনে ধরেন। আর তার এই দক্ষ কূটনীতির কারণেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের বেপরোয়া কথাবার্তা খানিকটা বন্ধ হয়। এই সময় যে সমস্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা এসেছিলেন তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে বেশি কথা বলতেন না। এই ধারা চলমান ছিল রবার্ট মিলার পর্যন্ত। কিন্তু মিলারের পর পিটার ডি হাস এসেই যেন কথার বাঁধ ভাঙা জোয়ার শুরু করেছেন। বাংলাদেশের প্রতিটি বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলছেন। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রদূতের সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন এবং শিষ্টাচারের মধ্যে চলতে হয়। কিন্তু পিটার ডি হাস প্রায় ক্ষেত্রেই শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছেন বলে অনেকে মনে করছেন। প্রশ্ন উঠেছে যে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই ভূমিকা নিয়ে কেন সরকার আপত্তি করছে না? অন্য কোনো দেশের রাষ্ট্রদূতরা সামান্য কিছু করলে তাদেরকে পররাষ্ট্র দপ্তরে তলব করা হয় এবং নানা রকম বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কিন্তু মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ক্ষেত্রে এটা করা হচ্ছে না কেন?

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বিশ্ব বাস্তবতার কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের প্রধান দাতা না হলেও অনেক কিছুর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাংলাদেশ নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে যদি তলব করা হয় বা তাকে যদি সতর্ক করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে হয়তো এই সমস্ত প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থাগুলো আরও বাড়বে। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। এরকম কোনো পদক্ষেপ নিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, সেটা বাংলাদেশের জন্য বিপদজনক হতে পারে। তাছাড়া রপ্তানি বাণিজ্য বিশ্ব ব্যাংক আইএমএফ এর ওপর নির্ভরশীলতা এবং জাতিসংঘের শান্তি মিশনে সবকিছুর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাংলাদেশ কিছুটা হলেও নির্ভরশীল। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ কোনো আগ্রাসী কূটনীতিতে যেতে চায় না। বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যগুলো হজম করে কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রকে সীমারেখার মধ্যে থাকার নীতি নেই সরকার এগুচ্ছে বলে সরকারি সূত্রগুলো বলছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রাসিক মেয়রকে চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৪:০৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail রাসিক মেয়রকে চিঠি দিয়ে মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেলেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান

রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে শিষ্টাচার বহির্ভূত চিঠি দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ২২ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে ওই চিঠি দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ। 

তবে এমন কোনো চিঠি মেয়রকে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পাগল আর উন্মাদ ছাড়া কেউ এমন চিঠি লিখতে পারে না। মেয়র মহোদয়কে যে চিঠি দেওয়া হয়েছে, একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে এটা কেউ লিখতে পারে না। আমি মেয়রকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি, ওই চিঠিটা আমার না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি।’

মেয়র যে চিঠিটি পেয়েছেন, তাতে লেখা আছে- ‘আপনার সঙ্গে আমাকে দেখা করার জন্য গেটে অপেক্ষা করতে হবে, আপনার কাছে সময় চাইতে হবে? বিষয়টি কল্পনা করা আমার জন্য দুরূহ। আপনি জানেন কি আমার জা-শাশুড়ি এমপি। আমার আওয়ামী পরিবারের জন্ম। ভবিষ্যতে আমিও এমপি বা মন্ত্রী হতে পারি। গাজীপুরের ও কাটাখালীর মেয়রদের দিকে তাকান। বর্তমানের তাদের কী অবস্থা।’

এমন চিঠির অভিযোগ পেয়েই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা চেয়ে চেয়ারম্যানকে চিঠি দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতি উদাসীন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আপনার মন্তব্য একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসাবে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা, ২০১৮ এর পরিপন্থী।’

এর আগে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এর পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ জোহরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।

বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাবিবুর রহমান জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠির জবাব দেওয়া হয়েছে। এখন মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে।

রাসিক মেয়র   শিক্ষা মন্ত্রণালয়   রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড   চেয়ারম্যান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি

প্রকাশ: ০৩:১৮ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি

সরকার প্রণীত “জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গৃহীত সরকারি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে রাজশাহী জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা। 

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী সংবাদিক ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রবীণ ব্যক্তিদের সার্বিক কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮ সাল হতে বয়স্ক ভাতা প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এ ছাড়াও অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থা সহজীকরণ ও সুবিধাদি বৃদ্ধি করেছে। পরবর্তীতে “মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনার” প্রতি বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয় সমর্থন ব্যক্ত করে প্রবীণদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি মাথায় রেখে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর মন্ত্রীসভায় “জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা” অনুমোদন দেয়। পরের বছর ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বাংলাদেশের ষাট বছর বা তদুর্ধ বয়সী নাগরিকদের ‘সিনিয়র সিটিজেন’ (জ্যেষ্ঠ নাগরিক) হিসেবে ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৪ জুন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে। তারা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বিভাগকে একাধিকবার চিঠি দেয়। কিন্তু তাদের অনেকের কাছ থেকে কোনো আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে আমরা বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পারি। অগ্রগতির কোন খবরও আমাদের জানা নেই।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ৮টি বছর অতিবাহিত হতে চললো, কিন্তু এ নীতিমালা বাস্তবায়নের কোনো সংবাদ আমরা জানতে পারিনি। অজ্ঞাত কারণে মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগের কোন কার্যক্রমই পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এই নীরবতায় আমরা গভীরভাগে হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। এতে সরকারের প্রতি জনগণের ভরসার জায়গাটিও দুর্বল হচ্ছে। সরকারের আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বাস্তবায়নের বিষয়টি কারা ঝুলিয়ে রেখে প্রবীণদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে এবং তাদের প্রতি চরম অন্যায় ও অবহেলা করছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জনশুমারী ও গৃহগণনা ২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ৬০ বছরের বেশী বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৫৩ লাখ ২৬ হাজার ৭১৯ জন। তারা মোট জনসংখ্যার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ। ২০১১ সালের জনতমারিতে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত ১১ বছরের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বৃদ্ধির হার দেশের ধারাবাহিক জনতমারির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি। এই বৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে প্রবীণরা রাষ্ট্রের জন্য এক সময় বোঝা হয়ে উঠবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আহ্বায়ক প্রফেসর আব্দুস সালাম, সচিব একেএম খাদেমুল ইসলাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার ও কাজী খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।


জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন