ইনসাইড বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৮:২০ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধীরে ধীরে মিয়ানমারের নতুন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকে সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ এখানে তার আবাসস্থলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের পার্শ্ব ইভেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তব পদক্ষেপ এবং প্রকল্প প্রহণ করা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ এবং মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আইসিজেতে গাম্বিয়াকে সমর্থন করাসহ আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকাযের্র পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সমর্থন করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অব্যাহত দমন-পীড়ন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং মিয়ানমারকে আসিয়ানের পাঁচ-দফা ঐকমত্যের অধীনে তার অঙ্গীকার মেনে চলার জন্য জোর দিয়ে মিয়ানমার যাতে বাধাহীন মানবিক অ্যাক্সেস দিতে সম্মত হয়  সে জন্য প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ করেন।

বর্তমানে ৭৭তম ইউএনজিএ’তে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আঞ্চলিক সংস্থা হিসাবে আসিয়ান এবং পৃথক সদস্য রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমারের সাথে তাদের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও লিভারেজ নিয়ে এমন সার্বিক সম্পৃক্ততায় প্রধান ভূমিকা নিতে পারে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য নাগরিকত্বের পথ সুগম করাসহ রাখাইন রাজ্য বিষয়ক কফি আনান উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশসমূহ সম্পূর্ণরুপে বাস্তবায়নে তাদের ব্যাপক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, বেসামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে তাদের অর্থবহ উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের আস্থা বাড়াবে।

প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার থেকে দায়মুক্তির বিরুদ্ধে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ ও আসিয়ানের বর্তমান ফোকাস মিয়ানমারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং মিয়ানমারের জনগণের জন্য শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাংলাদেশ তাদের শক্তিশালী ভূমিকার জন্য অপেক্ষা করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব এখন বিশ্বজুড়ে উদ্ভূত নতুন নতুন সংঘাত প্রত্যক্ষ করছে এবং দুর্ভাগ্যবশত রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান ও এর ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা মেটানো দুটো থেকেই বিশ্বের মনোযোগ ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগস্ট ২০২২ পর্যন্ত জেপিআর ২০২২-এর অধীনে আপিলকৃত ৮৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাত্র ৪৮% অর্থায়ন করা হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমারে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিরূপ প্রভাব আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে, কারণ এটি তাদের প্রত্যাবাসন শুরুর করার সম্ভাবনার পথে আরও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শেখ হাসিনা বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে অভিহিত করেন যে একজন রোহিঙ্গাকেও ঘরে ফিরতে না দেখা অবস্থায় বাংলাদেশ এ প্রলম্বিত সংকটের ষষ্ঠ বছরে পা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই রয়েছে। ১৯৬০ সালের পর থেকে মিয়ানমারের ধারাবাহিক সরকারগুলো কর্তৃক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগতভাবে বর্জন ও নির্বিচার নিপীড়ন অব্যাহত রাখায় তাদের বাংলাদেশে অব্যাহত অনুপ্রবেশের দিকে চালিত করে।

তিনি বলেন, আজ, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) মোট সংখ্যা প্রায় ১.২ মিলিয়ন।

তিনি তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান আমাদের উন্নয়ন আকাক্সক্ষার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গার আতিথেয়তার প্রভাব বিভিন্ন ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের প্রতি বছর প্রায় ১.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়। এতে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, প্রায় ৬,৫০০ একর জমির বনভূমির ক্ষতি এবং স্থানীয় জনগণের ওপর এর বিরূপ প্রভাব অপরিমেয়।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সামাজিক ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়েরও ভার বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে জোরালো মানবিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘স্বদেশে একটি উন্নত ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষমান রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের অব্যাহত সংহতি প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করেছেন যে কয়েকজন নির্বাচিত ব্যক্তির ওপর লক্ষ্যকৃত নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারের ওপর অবধারিত প্রভাব ফেলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা সংকট সমাধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি মিয়ানমারের স্বার্থের পক্ষে কাজ করছে।

বাংলাদেশ মনে করে যে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা নির্মাণের পদক্ষেপ খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা ৮ম শতাব্দী থেকেই আরাকানে বসবাস করছে, যা এখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীন হওয়ার পর, দেশটির নতুন সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর এই দেশটির নাগরিক হওয়ার বিধান রেখে ইউনিয়ন সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট পাশ করে। ১৯৮২ সালে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী থেকে  পৃথক হিসেবে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে, নতুন একটি নাগরিকত্ব আইন পাশ করা হয়- যাতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে ইউ নু প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করে তার মন্ত্রিপরিষদে দুজন মুসলিম রোহিঙ্গা- ইউ রাশিদকে বাণিজ্য ও উন্নয়ন মন্ত্রী এবং সুলতান মাহমুদকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে স্থান দেন। এছাড়াও তার পার্লামেন্টে আব্দুল বাশার, মিসেস জোহরা বেগম, আবুল খায়ের, আব্দুস সোবহান, রাশিদ আহমেদ, নাসিরুদ্দিন এবং দুজন পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি সুলতান আহমেদ ও আব্দুল গাফ্ফার স্থান পান। তিনি বলেন, ‘তাই এটা সহজেই বোধগম্য যে- মুসলিম রোহিঙ্গারা এখনো দেশটির নাগরিক, কারণ শুধুমাত্র কোন দেশের নাগরিকরাই সেই দেশের মন্ত্রিপরিষদ ও পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে আসছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনস্রোত শুরু পর দু’দেশের মধ্যে তিনটি ইন্সট্রুমেন্টও স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর দুইটি প্রচেষ্টাও হয়েছিল। কিন্তু রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় বাছাইকৃত রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তাসহ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, সহিংসতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা, জীবিকা ও মৌলিক চাহিদা পূরণের সুযোগের অভাবের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমারের অব্যহত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় মেকানিজমের মাধ্যমে চীনের সহায়তায় নতুন করে প্রত্যাবাসন আলোচনা শুরু করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত, এতে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।’ তিনি বলেন, কক্সবাজারে এখন বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির রয়েছে। এখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায়, বাংলাদেশ এই বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার জাতীয় কোভিড টিকাদান কর্মসূচিতে রোহিঙ্গাদেরও অন্তর্ভূক্ত করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ভাষায় পাঠ্যক্রম অনুসরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রম ও জীবিকা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এটা তাদের সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অবদান রাখছে এবং দেশে ফিরে নিজস্ব সমাজে মিশে যেতে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের জন্য আমরা নিজস্ব অর্থে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ভাসান চর নামে একটি দ্বীপকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলেছি। এখন পর্যন্ত, প্রায় ৩১ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যু   জাতিসংঘ   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র: আওয়ামী লীগে অসন্তুষ্ট, বিএনপিকে সন্দেহ

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail যুক্তরাষ্ট্র: আওয়ামী লীগে অসন্তুষ্ট, বিএনপিকে সন্দেহ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে এখন প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক হয়, সে ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সোজাসাপ্টা। শুধুমাত্র আগামী নির্বাচন নয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় নিয়েও সুশীল সমাজের শেখানো বুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন আওড়াচ্ছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত প্রতিনিয়ত যে সমস্ত কথাবার্তাগুলো বলছেন তা আমাদের বাংলাদেশের সুশীল সমাজের কথারই অনুরণন। বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কি? কূটনীতিকদের সঙ্গে খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নেতিবাচক এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অপছন্দ এবং অস্বস্তি এখন আর লুকোচুরির বিষয় নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র এসব বিষয়গুলোকে প্রকাশ্য করছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাপারে এখনও আস্থাশীল। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, শেখ হাসিনা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি একটি বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছেন। কিন্তু শেখ হাসিনার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট সমালোচনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেমন মনে করে যে, বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীন মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে, এক্ষেত্রে তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গটি আনে। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৩ বছরের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলেও যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এটি তাদের রিপোর্টে তা উল্লেখ করেছে। এজন্য তারা র‍্যাবের সংস্কার দাবি করে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, বাংলাদেশে গুম এবং বিরোধীদলের নিপীড়নের ঘটনা গুলো অত্যন্ত ব্যাপকতা পেয়েছে এবং এটি বন্ধ হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়েও উদ্বিগ্ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি হচ্ছে এটিও তারা মনে করে। এই সমস্ত বিষয় গুলো সরকারের কিছু কিছু মহল করছে বলেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন আলাপ-আলোচনায় প্রকাশ্যে বলছে। এ কারণেই আওয়ামী লীগের ওপর তারা অসন্তুষ্ট এবং তারা মনে করে যে, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা ছাড়া এটি সম্ভব হবে না। যুক্তরাষ্ট্র এটিও মনে করে যে, নির্বাচনে যদি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটে তাহলে সরকার এ ধরনের কাজ গুলো করতে পারে। এজন্যই যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, সত্যিকারের জন প্রতিফলন ভোটের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট থাকলেও বিএনপির প্রতি যে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট এমন নয়। বরং বিএনপিকে তারা আরও বেশি গুরুতর এবং সন্দেহজনক একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে মনে করে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি তাদের পক্ষপাত নাই। এই কথার মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপির আন্দোলনকে সমর্থন করা বা বিএনপির দাবিকে সমর্থন করার মত কোনো অভিপ্রায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাই। বিএনপির একাধিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত আপত্তি রয়েছে এবং গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

১. তারেক জিয়ার নেতৃত্ব: যুক্তরাষ্ট্রের সবসময় মনে করে যে, তারেক জিয়া একজন দুর্বৃত্ত, অর্থ পাচারকারী। ওয়ান-ইলেভেনের সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত তারেক জিয়ার সম্পর্কে গোপন বার্তা পাঠিয়েছিলেন এবং সেই বার্তার প্রেক্ষিতেই তারেক জিয়া এখনও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন। তারেক জিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয় না।

২. জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যোগাযোগ: যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, বিএনপির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদী এবং জঙ্গিদের যোগসূত্র রয়েছে এবং এই সম্পর্কটা অনেক গভীরে প্রোথিত।

৩. বিএনপির সাম্প্রদায়িক অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বিএনপি একটি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি দল এবং সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনাকে লালন করে।

আর এ সমস্ত কারণে বিএনপি যদি আবার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আফগানিস্তানের মতো হবে কিনা, এ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সংশয় রয়েছে। কাজেই আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুটি প্রধান দলের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি নেতিবাচক মনোভাব থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন সুশীলদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে বলেই কূটনীতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

২৯ প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ ‘তথ্য পরিকাঠামো’ ঘোষণা

প্রকাশ: ০৯:৫৯ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ২৯ প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ ‘তথ্য পরিকাঠামো’ ঘোষণা

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীন দেশের স্পর্শকাতর ২৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।  

সরকারি ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করে রোববার (২ অক্টোবর) প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

এ বিষয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ এর ১৫ ধারায় বলা আছে- এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোনো কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা তথ্য পরিকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা দিতে পারবে। সে অনুযায়ী সরকার ২৯ প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছে। 

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ঘোষিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড, সেতু বিভাগ, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জাতীয় ডেটা সেন্টার ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বিটিআরসি, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট।

তালিকায় আরও রয়েছে- সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিটিসিএল, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, সেন্ট্রাল ডিপজিটরি, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

তথ্য পরিকাঠামো  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বনানীতে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান

প্রকাশ: ০৮:৪৫ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বনানীতে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা সাংবাদিক তোয়াব খানকে বনানী কবরস্থানে মেয়ের কবরে সমাহিত করা হয়েছে। সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সমাহিত করা হয় তাকে। 

২৫ বছর আগে ছোট মেয়ে এষা খানকে যে কবরে সমাহিত করা হয়েছিল, সেটিতেই শেষ শয্যা হলো তোয়াব খানের।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থতার পর তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সোমবার সকালে তেজগাঁওয়ে দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে প্রথিতযশা সাংবাদিককে নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। 

এরপর মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হয় জানাজা। আসরের নামাজের পর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে হয় তৃতীয় জানাজা। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে। 

বনানী কবরস্থানে তোয়াব খানকে সমাহিত করার সময় স্ত্রী, মেয়ে, ছোট ভাই, ভাগ্নে, ফুপাতো ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। 

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বুধবার বাদ আসর তোয়াব খানের বনানীর বাসায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

তোয়াব খান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে উৎসাহ উদ্দীপনায় মহাঅষ্টমী পূজা অনুষ্ঠিত


Thumbnail কুড়িগ্রামে উৎসাহ উদ্দীপনায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবে কুড়িগ্রামে দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন মন্দিরে রামকৃষ্ণ আশ্রমের উদ্যোগে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সহস্রাধিক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে কুমারী পূজায় অংশ নেয়া পূজারীরা অঞ্জলী প্রদানসহ প্রার্থনায় অংশ নেন। 

এ সময় কুমারী পূজা পরিদর্শনে এসে বক্তব্য রাখেন- কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম,পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম পৌরসভার মেয়র কাজিউল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ লাল, এ্যাড. আব্রাহাম লিংকন, জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রবি বোস, সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র রায়, রামকৃষ্ণ আশ্রম কুড়িগ্রামের সভাপতি অমল ব্যানার্জী, সেক্রেটারী জেনারেল উদয় শংকর চক্রবর্তী, দক্ষিণপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি শ্যামল ভৌমিক প্রমূখ। 

বক্তারা সামাজিক সৌহাদ্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতির মাধ্যমে সার্বজনীন উৎসব হিসেবে শারদীয় দূর্গোৎসব পালন করার আহ্বান জানান।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ: ০৭:৫৬ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন কূটনীতিকদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন,  বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন? তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের নাক না গলানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আগে নিজেদের দেশের অবস্থা দেখুন। তরপর বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলুন।

সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শারদ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি বিভিন্ন দূতাবাসে অভিযোগ করে। তাদের (বিদেশি কূটনীতিকদের) বলতে চাই, গণতন্ত্রের গল্প শোনান। কিন্তু আজ এসব না করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামান। বিশ্বের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন। অস্থির পৃথিবীকে শান্ত করুন। দোষ করবেন আপনারা বড় বড় দেশগুলো আর সাফার করতে হবে আমাদের ছোট দেশগুলোকে।

গলিত লাশ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরে আসবে না মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করছে। তারা যাই করুক না কেন, গলিত লাশ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরে আসবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, আমরাও সেভাবেই দেবো।

সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অশুভ শক্তির পরাজয় হবে, শুভ শক্তির বিজয় হবে। দেবীদুর্গার আগমনে সহিংসতার বিনাশ হবে।

এসময় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি কূটনীতিক   ওবায়দুল কাদের  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন