ইনসাইড বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৮:২০ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধীরে ধীরে মিয়ানমারের নতুন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দিকে সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী আজ এখানে তার আবাসস্থলে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের পার্শ্ব ইভেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে বাস্তব পদক্ষেপ এবং প্রকল্প প্রহণ করা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগ এবং মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আদালত, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আইসিজেতে গাম্বিয়াকে সমর্থন করাসহ আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারকাযের্র পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে সমর্থন করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অব্যাহত দমন-পীড়ন বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং মিয়ানমারকে আসিয়ানের পাঁচ-দফা ঐকমত্যের অধীনে তার অঙ্গীকার মেনে চলার জন্য জোর দিয়ে মিয়ানমার যাতে বাধাহীন মানবিক অ্যাক্সেস দিতে সম্মত হয়  সে জন্য প্রচেষ্টা চালানোর অনুরোধ করেন।

বর্তমানে ৭৭তম ইউএনজিএ’তে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী বলেন যে আঞ্চলিক সংস্থা হিসাবে আসিয়ান এবং পৃথক সদস্য রাষ্ট্রগুলো মিয়ানমারের সাথে তাদের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও লিভারেজ নিয়ে এমন সার্বিক সম্পৃক্ততায় প্রধান ভূমিকা নিতে পারে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য নাগরিকত্বের পথ সুগম করাসহ রাখাইন রাজ্য বিষয়ক কফি আনান উপদেষ্টা কমিশনের সুপারিশসমূহ সম্পূর্ণরুপে বাস্তবায়নে তাদের ব্যাপক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, বেসামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে তাদের অর্থবহ উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের আস্থা বাড়াবে।

প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার থেকে দায়মুক্তির বিরুদ্ধে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ ও আসিয়ানের বর্তমান ফোকাস মিয়ানমারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের স্বদেশে টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং মিয়ানমারের জনগণের জন্য শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে বাংলাদেশ তাদের শক্তিশালী ভূমিকার জন্য অপেক্ষা করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব এখন বিশ্বজুড়ে উদ্ভূত নতুন নতুন সংঘাত প্রত্যক্ষ করছে এবং দুর্ভাগ্যবশত রোহিঙ্গা সংকটের রাজনৈতিক সমাধান ও এর ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদা মেটানো দুটো থেকেই বিশ্বের মনোযোগ ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আগস্ট ২০২২ পর্যন্ত জেপিআর ২০২২-এর অধীনে আপিলকৃত ৮৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাত্র ৪৮% অর্থায়ন করা হয়েছে। একই সময়ে মিয়ানমারে সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিরূপ প্রভাব আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে, কারণ এটি তাদের প্রত্যাবাসন শুরুর করার সম্ভাবনার পথে আরও বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

শেখ হাসিনা বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে অভিহিত করেন যে একজন রোহিঙ্গাকেও ঘরে ফিরতে না দেখা অবস্থায় বাংলাদেশ এ প্রলম্বিত সংকটের ষষ্ঠ বছরে পা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই রয়েছে। ১৯৬০ সালের পর থেকে মিয়ানমারের ধারাবাহিক সরকারগুলো কর্তৃক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগতভাবে বর্জন ও নির্বিচার নিপীড়ন অব্যাহত রাখায় তাদের বাংলাদেশে অব্যাহত অনুপ্রবেশের দিকে চালিত করে।

তিনি বলেন, আজ, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (এফডিএমএন) মোট সংখ্যা প্রায় ১.২ মিলিয়ন।

তিনি তার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান আমাদের উন্নয়ন আকাক্সক্ষার জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গার আতিথেয়তার প্রভাব বিভিন্ন ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের প্রতি বছর প্রায় ১.২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়। এতে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, প্রায় ৬,৫০০ একর জমির বনভূমির ক্ষতি এবং স্থানীয় জনগণের ওপর এর বিরূপ প্রভাব অপরিমেয়।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সামাজিক ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়েরও ভার বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়ভাবে জোরালো মানবিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘স্বদেশে একটি উন্নত ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষমান রোহিঙ্গাদের ভরণপোষণের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের অব্যাহত সংহতি প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করেছেন যে কয়েকজন নির্বাচিত ব্যক্তির ওপর লক্ষ্যকৃত নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারের ওপর অবধারিত প্রভাব ফেলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা সংকট সমাধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি মিয়ানমারের স্বার্থের পক্ষে কাজ করছে।

বাংলাদেশ মনে করে যে রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই সমাধান এবং রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থা নির্মাণের পদক্ষেপ খুঁজে পেতে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা ৮ম শতাব্দী থেকেই আরাকানে বসবাস করছে, যা এখন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। তিনি বলেন, ১৯৪৮ সালে মিয়ানমার স্বাধীন হওয়ার পর, দেশটির নতুন সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর এই দেশটির নাগরিক হওয়ার বিধান রেখে ইউনিয়ন সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট পাশ করে। ১৯৮২ সালে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী থেকে  পৃথক হিসেবে রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে, নতুন একটি নাগরিকত্ব আইন পাশ করা হয়- যাতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ১৩৫টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে ইউ নু প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করে তার মন্ত্রিপরিষদে দুজন মুসলিম রোহিঙ্গা- ইউ রাশিদকে বাণিজ্য ও উন্নয়ন মন্ত্রী এবং সুলতান মাহমুদকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে স্থান দেন। এছাড়াও তার পার্লামেন্টে আব্দুল বাশার, মিসেস জোহরা বেগম, আবুল খায়ের, আব্দুস সোবহান, রাশিদ আহমেদ, নাসিরুদ্দিন এবং দুজন পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি সুলতান আহমেদ ও আব্দুল গাফ্ফার স্থান পান। তিনি বলেন, ‘তাই এটা সহজেই বোধগম্য যে- মুসলিম রোহিঙ্গারা এখনো দেশটির নাগরিক, কারণ শুধুমাত্র কোন দেশের নাগরিকরাই সেই দেশের মন্ত্রিপরিষদ ও পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে একটি টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে আসছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনস্রোত শুরু পর দু’দেশের মধ্যে তিনটি ইন্সট্রুমেন্টও স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর দুইটি প্রচেষ্টাও হয়েছিল। কিন্তু রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরি না হওয়ায় বাছাইকৃত রোহিঙ্গারা সেখানে ফিরে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তাসহ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, সহিংসতার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা, জীবিকা ও মৌলিক চাহিদা পূরণের সুযোগের অভাবের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমারের অব্যহত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ত্রিপক্ষীয় মেকানিজমের মাধ্যমে চীনের সহায়তায় নতুন করে প্রত্যাবাসন আলোচনা শুরু করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত, এতে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি।’ তিনি বলেন, কক্সবাজারে এখন বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির রয়েছে। এখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায়, বাংলাদেশ এই বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবা প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার জাতীয় কোভিড টিকাদান কর্মসূচিতে রোহিঙ্গাদেরও অন্তর্ভূক্ত করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের ভাষায় পাঠ্যক্রম অনুসরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি কার্যক্রম ও জীবিকা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এটা তাদের সংস্কৃতি ও ভাষা চর্চার অবদান রাখছে এবং দেশে ফিরে নিজস্ব সমাজে মিশে যেতে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের জন্য আমরা নিজস্ব অর্থে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ভাসান চর নামে একটি দ্বীপকে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলেছি। এখন পর্যন্ত, প্রায় ৩১ হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।’

রোহিঙ্গা ইস্যু   জাতিসংঘ   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কাল কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধনের অপেক্ষায় ২৮ প্রকল্প

প্রকাশ: ১০:০২ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল বুধবার (৭ ডিসেম্বর) কক্সবাজার আসছেন। এদিন উখিয়ার ইনানীতে আন্তর্জাতিক নৌমহড়া পরিদর্শন শেষে তিনি ২৮টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি ৫টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার বেলা ৩ টায় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন সরকার প্রধান ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পূর্বে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে কক্সবাজারের ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৫টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। 

এ জনসভায় ৫ লাখ লোকের সমাগমে জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বে ২০১৭ সালের ৬ মে একই স্থানে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ প্রদান করেছিলেন।

এর পূর্বে সকালে কক্সবাজার মেরিনড্রাইভ সড়কের ইনানী সৈকত এলাকায় অনুষ্ঠিতব্য তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নৌ-শক্তি প্রদর্শন মহড়ার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেখানে বিশ্বের ২৮টি দেশের ৪৩টি যুদ্ধ জাহাজ অংশ নিবে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় ৫ লাখ লোকের সমাগমে জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। কক্সবাজারে ইতিমধ্যে তিনটি বড় মেগাপ্রকল্পসহ ৭৭ টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যেখানে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা। তারমধ্যে মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প, দোহাজারী রামু হয়ে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কাজ অন্যতম।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২৮টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ৫টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রশাসনিকভাবে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সকল প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সমৃদ্ধি ও সাফল্যের পথে বাংলাদেশের সঙ্গে হাঁটতে চায় ভারত: প্রণয় ভার্মা

প্রকাশ: ০৯:১৩ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীর ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বৃহত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্যের পথে বাংলাদেশের জনগণকে নিয়ে একসঙ্গে হাঁটতে ভারত সবসময় প্রস্তুত থাকবে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ঢাকায় মৈত্রী দিবসের ৫১তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রণয় ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রীর ক্ষেত্রে ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। বিগত ৫০ বছরে উভয় দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ অর্জন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশ দুটির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কর্তৃক ১৯৭১ সালের ইতিহাস অনুধাবন করা ও সেই ঐতিহ্যের ধারা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ১০ দিন আগে ভারত একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

এরপর গত বছরের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরকালে তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ৬ ডিসেম্বরকে মৈত্রী দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার বাংলাদেশ-ভারত অংশীদারত্বের বিগত ৫১ বছরের অর্জনসমূহ এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করার সুযোগ হিসেবে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।

তিনি উভয় দেশের বন্ধুত্বকে ১৯৭১ সালের যৌথ আত্মত্যাগের মূলে নিহিত এবং ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতির দৃঢ় বন্ধনে লালিত বলে বর্ণনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক। এছাড়া অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও শিল্প নেতৃত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

দ্বিপাক্ষিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও নীতির সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করে সৃষ্ট এই ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে উভয় দেশের অঙ্গীকারকে আবারও নিশ্চিত করে বাংলাদেশি ও ভারতীয় সাংস্কৃতিক দলের বর্ণাঢ্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মৈত্রী দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হয়।

ভারত   প্রণয় ভার্মা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি

প্রকাশ: ০৮:৫৬ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা করছে ঢাকার ব্রিটিশ দূতাবাস। আশঙ্কার কথা জানিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে ব্রিটিশ দূতাবাস।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় রাজনৈতিক সমাবেশে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সমাবেশের কারণে রাজধানী ঢাকায় যানবাহন চলাচল ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে। ওইদিন ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনও চোখে পড়তে পারে।

‘এজন্য রাজনৈতিক সমাবেশ ও বড় জনসমাগমের এলাকাসমূহ এড়িয়ে চলতে দেশটিতে অবস্থান করা এবং সফররত ব্রিটিশ নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হলো’ বলেও ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তারা দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনে এ সমাবেশ করতে চান। সমাবেশের অনুমতির জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার বরাবর চিঠি দেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির গণসমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ বিএনপিকে ২৬ শর্তে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে।

তবে সেখানে বিএনপি সমাবেশ করতে নারাজ। প্রথম দিকে তারা নয়াপল্টনেই সমাবেশ করতে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানান। তবে পরে সোহরাওয়ার্দীর বিকল্প স্থানে অনুমতি পেলে ‘বিবেচনা’ করার কথা জানিয়েছে বিএনপি।

বিএনপি ‘বিকল্প স্থান’ চাওয়ার পর পুলিশ টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ও পূর্বাচলে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে গ্রিন সিগন্যাল দেয়। তাতে সাড়া দেয়নি বিএনপি। ফলে ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশের স্থান নিয়ে দ্বান্দ্বিক অবস্থা এখনো কাটেনি।

পাশাপাশি সমাবেশের নামে ঢাকায় কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করলে বিএনপি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা। তবে বিএনপি বরাবর বলে আসছে, তারা অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশের মতো ঢাকায়ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে।

১০ ডিসেম্বর   ব্রিটিশ দূতাবাস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সারাদেশের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশেও নিরাপত্তা দেবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৬:৩১ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমাদের সরকার দেশে কাউকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে দেবে না। আমাদের নেতাকর্মীদেরও কর্তব্য আছে। ১০ ডিসেম্বর কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালালে আমাদের নেতাকর্মীরা দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করবে। সরকার সারাদেশে তাদের সমাবেশে নিরাপত্তা দিয়েছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও দেবে।’ 

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বিএনপির ঢাকার সমাবেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের সাথে আলোচনাকালে বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চেয়েছিল, বরাদ্দও হয়েছে। কিন্তু তারা এখন রাস্তার বদলে রাস্তায় চেয়ে বেড়াচ্ছে। যে ময়দান থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, যে ময়দানে পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পন করেছিল, যেখানে তারাও অতীতে অনেক জনসভা করেছে, আমরা তো নিয়মিতভাবেই করি, সেখানে তাদের যেতে এতো অস্বীকৃতি, অনীহা কেন। তারা শুধু রাস্তায় জনসভা করতে চায়, গাড়ি-ঘোড়া ভাংচুর করতে চায়, জনজীবনে বিপত্তি ঘটাতে চায়।’ 

ড. হাছান বলেন, ‘সাংবাদিকরা এবং শহরের সাধারণ নাগরিকরা রাস্তায় জনসভার বিরুদ্ধে। কারণ এতে মানুষের ভোগান্তি হয়। সমাবেশের জন্য মাঠের বিকল্প হিসেবে বিএনপি আরেকটা মাঠের কথা বলতে পারে। সোহরাওয়ার্দীতে না চাইলে তারা বাণিজ্য মেলার মাঠ বা আরো বড় বিশ্ব ইজতেমার মাঠ যেখানে ২০ লাখ মানুষ ধরে, না হলে কামরাঙ্গির চরের মাঠেও যেতে পারে। তারা সেটা বলে না, বলে এই রাস্তা না হয় ঐ রাস্তা। মতিঝিলের রাস্তা যেখানে অনেক ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে, সেটি কেন তাদের এতো পছন্দ। এটির পেছনেও গভীর ষড়যন্ত্র, দুরভিসন্ধি আছে। প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো জনসভা করতে চায় না, এটিকে ইস্যু বানাতে চায় এবং দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টায় তারা আছে।’ 

বিএনপি নেতা ইশরাক এবং রুহুল কবীর রিজভীর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আগুনসন্ত্রাসীরা তো বিএনপির নেতাকর্মী। আগুনসন্ত্রাস করার জন্য বিএনপির নেতারাই নির্দেশ এবং অর্থ দিয়েছিল। সেসবের অডিও রেকর্ডও আমাদের কাছে আছে। বিএনপি নেতাদের হাতে আগুন এবং মানুষের রক্ত লেগে আছে। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছে, এখন পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘টেলিভিশনে যারা বড় গলায় কথা বলছে তাদের হাতে মানুষের রক্ত এবং আগুন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে এবং যাদের জামিন আদালত বাতিল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এখানে সরকারের কোনো হাত নেই। তবে জনগণ মনে করে শুধু আগুনসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেই নয়, আগুনসন্ত্রাসের হোতাদের অর্থাৎ তাদেরকে যারা নির্দেশ দিয়েছে, পরিচালনা করেছে এবং অর্থ দিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তার করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।’ 

বিএনপি নেতারা ঘনঘন কূটনীতিকদের সাথে বৈঠক করছেন এমন প্রসঙ্গে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘এ দেশের মালিক জনগণ। এ দেশে কে ক্ষমতায় থাকবে, কে থাকবে না সেটা জনগণ নির্ধারণ করবে। এখানে কূটনীতিকদের বেশি কথা বলার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিএনপি ক্ষণে ক্ষণে কূটনীতিকদের কাছে ছুটে যায়। তাদেরকে কোলে করে কেউ ক্ষমতায় বসাবে না। এ দেশে কূটনীতিকরা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং কূটনীতিকদের কাছে বারবার ছুটে গিয়ে বরং তারা নিজেদের দেউলিয়াত্ব প্রমাণ করছে। বিদেশি কূটনীতিকরা যখন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলে, আমি মনে করি তখন সেটি আমাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে অনেক সময় হস্তক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায় যেটি সমীচীন নয়। এজন্য কোনো রাজনীতিবিদের বা কোনো রাজনৈতিক দলের কূটনীতিকদের প্রোভোক করা উচিত নয়।’ 

কপ-২৭ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি : ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সাথে মতবিনিময়

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সাথে কপ-২৭ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি বিষয়ে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ উল হক, সদস্য সাজু রহমান, হাবিব রহমান প্রমুখ সভায় অংশ নেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

পরিবেশবিদ ড. হাছান এ সময় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা করার জন্য আমরা যে বৈশ্বিক চুক্তিতে উপনীত হয়েছি, তা বাস্তবায়নে অগ্রগতি পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে একটা বৈশ্বিক ঐক্যমত তৈরি করার লক্ষ্যেই কপ সম্মেলনগুলো হয়। পরিবেশ পরিবর্তনজনিত ‘লস এন্ড ড্যামেজ’ এর জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি আমাদের বহুদিনের। শেষ পর্যন্ত প্যারিস এগ্রিমেন্টের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদে এটিকে স্বীকার করে নেওয়া হলেও কোনো অগ্রগতি হচ্ছিল না। মিশরে কপ-২৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীসহ বিশ্বের প্রায় একশ’ রাষ্ট্রপ্রধান-সরকার প্রধানরা গিয়েছিলেন এবং এবারের অন্যতম অগ্রগতি হলো যে, বিশ্ব সম্প্রদায় ‘লস এন্ড ড্যামেজ’ বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়েছে। 

মন্ত্রী জানান, কপ-২৭ সম্মেলনে অনেকেই কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য আগের চেয়ে বেশি কমিটমেন্ট করেছে। আমাদের সরকারও ২০৪১ সালের মধ্যে মোট জ্বালানির ৪০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্থাৎ সোলার, গ্রিনপাওয়ার, জলবিদ্যুৎ ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এসবের জন্য একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এটি খুব ভালো দিক। ভাবনার বিষয় এতোকিছুর পরও বিশ্বের তাপমাত্রা ১৮৮০ সালের ভিত্তি তাপমাত্রা থেকে ৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, এখন ১.১ ডিগ্রি বেড়েছে। আর তাতেই সার্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকায় দাবানল, পাকিস্তানে যারা পানির সাথে খুব বেশি পরিচিত নয়, সেখানে বন্যা দেখা যাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শেরপুরের শ্রীবরদী মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশ: ০৫:৩৩ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আজ ৬ ডিসেম্বর শেরপুরের শ্রীবরদী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে শ্রীবরদী উপজেলার মিত্র বাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পেরে পাক হানাদার বাহিনীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। 

ধানুয়া কামালপুর মিত্র বাহিনীর আক্রমণে হেরে ৪ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা শ্রীবরদীতে অবস্থান করেন। ১১ নম্বর সেক্টরের কর্নেল আবু তাহেরের নেতৃত্বে মিত্র বাহিনীরা আক্রমণ শুরু করে। 

কামালপুর থেকে এসে পাক হানাদার বাহিনীরা শ্রীবরদী, ভায়ডাঙ্গা, ঝগড়ার চর ও কুরুয়াতে ক্যাম্প তৈরি করেন। মিত্র বাহিনীরা তাদের ক্যাম্পে আক্রমণ শুরু করে তাদের ক্যাম্প বাধ্য করে। পাক হানাদার বাহিনীরা ৬ ডিসেম্বর ভোরে লংগরপাড়া হয়ে শেরপুরে এসে অবস্থান করেন। পরে তারা জামালপুরের দিকে চলে যান। 

শ্রীবরদী উপজেলার সদর ইউনিয়নে আবুয়াপাড়াতে গাছের ডালে বীর প্রতীক জহরুল হক মুন্সি ও মুক্তিযুদ্ধো আব্দুর রেজ্জাক বিজয়ের নিশান তুলেন।

মুক্ত দিবস  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন