ইনসাইড বাংলাদেশ

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গরু-মহিষের গাড়ি


Thumbnail হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী গরু-মহিষের গাড়ি

উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে, এক সময় ঐতিহ্যবাহী গরু আর মহিষের গাড়ি বাহনের সরগরম অস্তিত্ব ছিল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে এই বাহনটি। সময়ের ব্যবধানে এখন এই গরু ও মহিষের গাড়ি স্থান পেয়েছে বইয়ের পাতায় ও রূপকথার গল্পের মতো।

সর্বত্রই ছিল এই গরু আর মহিষের গাড়ির কদর। বরযাত্রী থেকে শুরু করে কনে আনা চলতো এগুলো দিয়ে। জমি থেকে ধান আনা, জমিতে জৈব সার নিয়ে যাওয়া, মালামাল পরিবহনেও এগুলো ছিল অপরিহার্য। এখন গরু-মহিষের গাড়ি প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে। যেকোন উৎসব গরু না হয় মহিষের গাড়ি ছাড়া যেন কল্পনাই করা যেত না। 

আমাদের পল্লী এলাকার জনপ্রিয় বাহন ছিল গরু আর মহিষের গাড়ি। গরু-মহিষের গাড়িই ছিল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে ভরসা। গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় গরু ও মহিষের গাড়ি এখন অধিকাংশ এলাকা থেকে বিলুপ্তির পথে। এখন এসব বাহন রূপকথার গল্পমাত্র, বাংলা নববর্ষ পালনের সময় ২/১ টা গরু, মহিষের গাড়ী দেখা গেলেও সেটা  বিলুপ্ত হতে হতে স্থান পেয়েছে সংবাদপত্র ও বইয়ের পাতায়।

গরু-মহিষের গাড়িগুলো কাঠের চাকা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হতো। এখন তার স্থান দখল করেছে মাহিন্দ্রা, টমটমসহ আরও কিছু যানবাহন। এখনো কোথাও কোথাও গরু-মহিষের গাড়ির দেখা মেলে। হয়তো কিছুদিন পরে সেগুলোও আর দেখা যাবে না।

স্থানীয়রা বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে গরু-মহিষের গাড়ি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হতে দেখেছি। এখন গরু-মহিষের গাড়ি তেমন আর ব্যবহার হয় না। এখন মানুষ মাহিন্দ্রা, পাওয়ার ট্রলি ও ট্রাক্টরসহ ইঞ্জিন চালিত গাড়ি দিয়ে যাতায়াতসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। আগে গরু-মহিষের গাড়িতে সেসব করা হতো।

কিন্তু বর্তমান কুড়িগ্রাম অঞ্চলের গ্রাম বাংলা থেকে গরু ও মহিষের গাড়ি হারিয়ে যাওয়ায় এসব অনুভূতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বর্তমান যুগের ছেলে-মেয়েরা। আধুনিকতার প্রবাহে ইতিহাস-ঐতিহ্যের অনেক কিছু আমরা হারাচ্ছি। আমাদের জীবন থেকে হারাচ্ছে এ রকম নানা ঐতিহ্য। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু ও মহিষের গাড়িকে এই প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে খুব দ্রুত এই গরুর গাড়ি ইতিহাসের পাতায় স্থান নিবে।

হারিয়ে যাচ্ছে   ঐতিহ্যবাহী গরু-মহিষের   গাড়ি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নৌ শ্রমিকদের ধর্মঘট, মালিক সমিতির সাথে বৈঠক আজ

প্রকাশ: ০৮:২৩ এএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আজ দ্বিতীয় দিনের মত চলছে গতকাল রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হওয়া নৌ পরবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাকা ধর্মঘট। সারাদেশে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে দক্ষিণাঞ্চল ও চাঁদপুরগামী যাত্রীদের। এদিকে, পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

রবিবার সকাল থেকেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ছিলো লঞ্চশূন্য। ফলে অনেক যাত্রীরাই এসে ফিরে গেছেন। অনেকেই আবার লঞ্চ জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘাটে অপেক্ষা করছেন।

পুরো সদরঘট এলাকায় লঞ্চ যাত্রীদের ভিড় থাকলেও ঘাটে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীরা। কেউ কেউ লঞ্চ ছাড়ার অপেক্ষায় ঘাটে অপেক্ষা করে ভোগান্তি ও তীব্র ক্ষোভ নিয়ে ফিরে গেছেন।

মূলত নৌযান শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা ও কর্মক্ষেত্রে মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবিতে শনিবার দিবাগত রাত থেকে সারাদেশে কর্মবিরতি পালন করছেন নৌযান শ্রমিকরা। কর্মবিরতির কারণে রোববার সকাল থেকে সদরঘাট থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহ আলম ভূইয়া বলেন, গত বছরের জুন মাসে নতুন মজুরি দেওয়ার কথা থাকলেও দেড় বছরে তা হয়নি। আমরা আমাদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করলেও কিছু না হওয়ায় কর্মবিরতিতে গিয়েছি। তেলের দামের বৃদ্ধির সঙ্গে নৌযানের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের এখন কোণঠাসা অবস্থা। নৌযান শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি না মানা হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট বা কর্ম বিরতী অব্যাহত থাকবে।

এ প্রসঙ্গে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিক কর্মবিরতি চলবে। দাবি যদি আদায় হলে আমরা সাথে সাথে কাজে ফিরবো। দাবি আদায় না হলে আমাদের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

লঞ্চ মালিক সমিতির সেক্রেটারি সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, আজ সোমবার দুপুরে নৌযান শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের দাবির বিষয়ে আলোচনা হবে। এরপর পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


ধর্মঘট   সদরঘাট   নৌ শ্রমিক ধর্মঘট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের প্রকৃত চিত্র জানাতে নির্দেশ

প্রকাশ: ০৯:২০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক নিয়ে ‘যেসব কথাবার্তা’ উঠছে, সেই বিষয়ে প্রকৃত চিত্র জানাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থ বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

রোববার (২৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সচিব সভার পর সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা জানান।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ওভারঅল, আরও কয়েকটা ব্যাংকের কথা..., এটি শোনার পর আমি ইন্টারনেটে গিয়ে দেখলাম, কয়েকটা ব্যাংকের ব্যাপারে বাইরে থেকে ইউটিউবে বিভিন্ন রকম বক্তৃতা দিচ্ছেন। তবুও এটিকে অবহেলা করা হয়নি। বলা হয়েছে, এগুলো দেখে চিত্রটি আমাদের জানাও।’

ব্যাংক খাতসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এটি নিয়ে বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থ বিভাগকে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, চারদিকে এত কথাবার্তা উঠছে, আসল চিত্র কী, সেটি শিগগিরই দেখে অবহিত করবেন।’

সচিব সভার বৈঠকে খাদ্যনিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খাদ্যের মজুত যাতে কোনোভাবেই ১৫ লাখ টনের নিচে না থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত রাখতে কী কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো ১৬ লাখ টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত আছে। এটি স্বস্তিদায়ক।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বসুন্ধরার সহায়তায় সেই ১২ কৃষকের মুক্তি, হাসিমুখে ফিরলেন বাড়ি

প্রকাশ: ০৮:৩৩ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঋণ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে পাবনার ঈশ্বরদীতে গ্রেফতার ১২ প্রান্তিক কৃষককে জামিন দিয়েছেন আদালত। দুই দিন বন্দী থাকার পর রোববার (২৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাবনা জেলা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা।

এর আগে, রোববার দুপুরে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো. শামসুজ্জামান ওই ১২ জনসহ ৩৭ কৃষকের জামিন মঞ্জুর করেন। কৃষকদের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালিত করতে যাবতীয় সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ বসুন্ধরা গ্রুপ।      

আসামিপক্ষের আইনজীবী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, কারাগারে থাকা ১২ জনসহ ওই মামলার আরও ২৫ আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। এরপর আদালত ৩৭ জনকেই জামিন দেন। দুপুরে ২৫ জন জামিন পেয়ে পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। এ ছাড়া কারাগারে থাকা ১২ জন বিকেল সাড়ে ৪টার পর ছাড়া পেয়ে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান। এই জামিনের পর কৃষকেরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন।

মুক্তি পাওয়া কৃষকেরা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারি গ্রামের আলম প্রামাণিক (৫০), মাহাতাব মন্ডল (৪৫), কিতাব আলী (৫০), হান্নান মিয়া (৪৩), মোহাম্মদ মজনু (৪০), মোহাম্মদ আতিয়ার রহমান (৫০), আবদুল গণি মণ্ডল (৫০), শামীম হোসেন (৪৫), সামাদ প্রামাণিক (৪৩), নূর বক্স (৪৫), মোহাম্মদ আকরাম (৪৬) ও মোহাম্মদ রজব আলী (৪০)। তাঁরা সবাই প্রান্তিক কৃষক।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি দলকে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়। ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগে ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষে তৎকালীন ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে মামলা করেন। ২৩ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। ২৫ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত পরোয়ানাভুক্ত ৩৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়।

কৃষক ও তাঁদের পরিবারের দাবি, ঋণ গ্রহণের পর এক বছরের মাথায় অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা তাঁদের ঋণ পরিশোধ করেছেন। তাঁদের পাস বই ও জমা স্লিপও আছে। অথচ সেই অর্থ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন। ফলে তাঁদের এই হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

জামিনে মুক্তির পর আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমি ৪০ হাজার টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। আমরা অতিদরিদ্র হওয়ায় টাকা পরিশোধ করতে পারি নাই।’

বিকেলে জামিনে পাবনা কারাগার থেকে বের হন কিতাব আলী ও হান্নান মিয়া। তাঁরা বলেন, সেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অধিকাংশ টাকা পরিশোধ করার পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে। তাঁরা মাঠে-ময়দানে খেটে খাওয়া দিনমজুর হওয়ায় বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। সেদিন তাঁরা গাজরের খেতে কাজ করছিলেন। এমন সময় সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কূটনীতিকদের পাল্টা চাপে রাখার কৌশলে সরকার

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগ সরকার এখন কূটনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হয় তা নিয়ে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকরা অবিরত কথা বলছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার, সুশাসন ইত্যাদি নিয়েও কথাবার্তা বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকার কূটনীতিকদের এ সমস্ত হুঁশিয়ারী বা সাবধান উচ্চারণে মোটেও আতঙ্কিত নয়, উদ্বিগ্ন নয়। কূটনীতিকদের এই সমস্ত হুমকি-ধামকিতে আওয়ামী লীগ সরকার নতজানু হবার মত কোনো অবস্থানে নেই। বরং কূটনীতিকদের পাল্টা চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, সরকার মনে করছে যে কূটনীতিকরা শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ করছেন এবং তাদের সীমালঙ্ঘন করছেন। গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেছেন যে, কূটনৈতিক শিষ্টাচার না মানা বিদেশী কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে সময় হলে একশনে যাবে বাংলাদেশ। গত শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি আফগানিস্তান, ইরান, চিলির উদাহরণ দিয়ে বলেন, বিদেশী হস্তক্ষেপের কারণে অনেক দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। বিদেশীরা সবসময় নিজেদের স্বার্থে কাজ করে। উন্নত দেশগুলোতে বিদেশি কূটনীতিকদের এক পয়সা পাত্তা দেওয়া হয়না। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য যে স্ব-প্রণোদিত নয় বরং আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের মনোভাবই তিনি প্রকাশ করেছেন, এটি আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেছেন। এর মাধ্যমে কূটনীতিকদের পাল্টা চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে সরকার।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন যে, বাংলাদেশ এখন আগের অবস্থায় নেই। বিদেশি সাহায্যের ওপর বাংলাদেশ নির্ভর করে না। বরং বাংলাদেশ এখন আত্মমর্যাদাশীল এক দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। কাজেই, কথায় কথায় বিদেশীদের ধমক-হুমকিতে আমরা নতজানু হব না। আওয়ামী লীগ সরকার কূটনীতিকদের উপেক্ষা করার পেছনে কতগুলো যুক্তিসংগত কারণ খুঁজে পেয়েছে। এই কারণগুলোর কারণেই তারা মনে করছেন যে, পশ্চিমা কূটনীতিকরা চাপ দিলে শেষ পর্যন্ত তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করবে। কারণ, বাংলাদেশের অধিকাংশ পশ্চিমা কূটনীতিক মনে করে যে, আফগানিস্তানে তালেবান বিপ্লব, পাকিস্তানে জঙ্গিদের উত্থান ইত্যাদি বাস্তবতা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের একটা সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একমাত্র বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে জঙ্গিবাদকে দমন করতে পারে। উগ্র মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগই কঠোরভাবে কাজ করে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল নয়। বরং বিএনপি-জামাত জোট যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে বাংলাদেশ আরেকটি আফগানিস্তান হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে পশ্চিমা কূটনীতিকরা সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করলেও শেষ পর্যন্ত এই চাপ বেশি দূর এগোতে পারবে না বলে তারা মনে করছে।

দ্বিতীয়ত, পশ্চিমা কূটনীতিকরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নির্বাচন বা গণতন্ত্র, সুশাসন ইত্যাদি নিয়ে কথা বললেও তারা শেষ পর্যন্ত জানে যে, বাংলাদেশ যদি শান্তি স্থিতিশীলতা নষ্ট হয় তাহলে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে এবং এর অনিবার্য পরিণতি হবে বাংলাদেশে বিদেশি যে বিনিয়োগ গুলো আছে সেই বিনিয়োগ গুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এটাই তারা চায়না। তৃতীয়ত, বাংলাদেশে যে বিপুল বাজার রয়েছে এই বাজার যদি শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা এবং স্থিতিশীলতা না থাকে তাহলে নষ্ট হয়ে যাবে। এই বাস্তবতা থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করলেও সরকারকে উপড়ে ফেলা বা সরকারের বিকল্প খোঁজার পথে যাবে না। এটি তাদের জন্যই বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। এ কারণেই বাংলাদেশ কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা হুমকি দেওয়া শুরু করেছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে কোচের ধাক্কায় এইই পরিবারের ৩ জন নিহত

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঠাকুরগাঁওয়ে যাত্রীবাহী কোচ ও  মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছে। 

(২৭শে নভেম্বর) রোববার  সকালে সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর বিলডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের মুথরাপুরের  মাসুদুর রহমান (৫৪) ও নিহত মাসুদুর রহমানের স্ত্রী রহিমা বেগম (৪৪) ও মেয়ে মেহের নেগার সিমি (১৩)। 

স্থানীয় সূত্রে  জানা যায় যে, মাসুদুর রহমান তার স্ত্রী সহ মেয়ে সিমিকে  মথুরাপুর রোড থেকে মোটরসাইকেল করে লক্ষ্মীপুর মাদ্রাসায় নিয়ে  যাচ্ছিল। 

এসময় অপরদিক থেকে  ছেড়ে আসা একটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী কোচ  বিলডাঙ্গী এলাকায়  মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা  দিলে, এতে ঘটনাস্থলেই মাসুদুর রহমানের স্ত্রী  রহিমা বেগম নিহত হয়।

এসময় এলাকাবাসি মাসুদুর রহমান ও তার মেয়েকে  উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি কামাল হোসেন।

নিহত  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন