ইনসাইড বাংলাদেশ

বনানীতে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান

প্রকাশ: ০৮:৪৫ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বনানীতে মেয়ের কবরে শায়িত তোয়াব খান

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথিতযশা সাংবাদিক তোয়াব খানকে বনানী কবরস্থানে মেয়ের কবরে সমাহিত করা হয়েছে। সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে সমাহিত করা হয় তাকে। 

২৫ বছর আগে ছোট মেয়ে এষা খানকে যে কবরে সমাহিত করা হয়েছিল, সেটিতেই শেষ শয্যা হলো তোয়াব খানের।

বার্ধক্যজনিত জটিলতায় অসুস্থতার পর তোয়াব খানকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গত শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সোমবার সকালে তেজগাঁওয়ে দৈনিক বাংলা ও নিউজবাংলা কার্যালয় প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে প্রথিতযশা সাংবাদিককে নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। 

এরপর মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় প্রেস ক্লাবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হয় জানাজা। আসরের নামাজের পর গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে হয় তৃতীয় জানাজা। সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় বনানী কবরস্থানে। 

বনানী কবরস্থানে তোয়াব খানকে সমাহিত করার সময় স্ত্রী, মেয়ে, ছোট ভাই, ভাগ্নে, ফুপাতো ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। 

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বুধবার বাদ আসর তোয়াব খানের বনানীর বাসায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

তোয়াব খান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তিতে বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২:২২ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যুদ্ধের জন্য নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তিতে বিশ্বাসী।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০২২ পরিদর্শন শেষ এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী ও আধুনিকায়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে। 

নবীন ক্যাডেটদের দেশসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তোমাদের মনে রাখতে হবে, তোমরা এ দেশের সন্তান; জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তোমাদের সবাইকে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার সমান অংশীদার হতে হবে। সুযোগ্য নেতৃত্ব, সার্বিক দিক-নির্দেশনা, পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার মাধ্যমে তোমাদের দেশের সেবা করে যেতে হবে। দেশপ্রেমের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই তোমাদের পেশাগত জীবনের প্রধান ব্রত।

তিনি বলেন, ৭৫ সালের পর দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তখন সেনাবাহিনীকে আধুনিকায়ন করার পদক্ষেপ নেয়া হয়। আমরা শান্তি চাই, যুদ্ধ নয়। জাতির পিতাই বলেছেন- সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়, আমরা তা মেনে চলছি। সেভাবে আমরা আমাদের দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেদিয়ে বিজয় অর্জন করে স্বাধীন হয় দেশ। আর এই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এ সশস্ত্র বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা স্বাধীনতার পর দেশ গঠনের দায়িত্ব নেন, ওই সময় তার একটাই লক্ষ্য ছিল আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদার ও শক্তিশালী বাহিনীতে গড়ে তোলা।

সরকার প্রধান বলেন, ১৯৭৫ সালের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস হারিয়ে যেতে বসেছিল, আমরা সরকার গঠন করার পর তা উদ্ধার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এবং আদর্শ নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে উঠতে পারে সেই পদক্ষেপ নেয়া হয়।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ার সময়ে বঙ্গবন্ধু সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে কাজ করেছেন। তারই নীতি অনুসরণ করে বর্তমান সরকারও সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে কাজ করে চলেছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সৌভাগ্য ২০২১ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আমরা যেহেতু ২০২১ সালে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আজকের নবীন অফিসাররাই হবে ২০৪১ এর সৈনিক। যারা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।

ভাষণের শুরুতে তিনি ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টে ঘাতকদের হাতে তার পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন।

এর আগে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০২২ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে সেখানে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী   বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি   রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ-২০২২  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১১:০৬ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভায় অংশ নেয়ার আগে চট্টগ্রামে ৮৩তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ পরিদর্শনে মিলিটারি একাডেমির অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে আরও উপস্থিত আছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) পৌঁছান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করবেন। সেখান থেকে দুপুরে হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে আসবেন। স্টেডিয়াম থেকে গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রী পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় যোগ দেবেন। বিকেল ৩টায় দলীয় জনসভায় ভাষণ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সফরে ৩০টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এজন্য জনসভার মঞ্চের পাশে ভিত্তিফলকগুলো স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম   প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মেগা প্রকল্পে পাল্টে যাওয়া চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা আজ

প্রকাশ: ০৯:৪০ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আজ রবিবার (৪ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর জনসভা চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দানে। শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি শেষ। চলছে চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণ দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় কি পেয়েছে  চট্টগ্রামবাসী কি পেতে যাচ্ছে। অনেক বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চট্টগ্রাম বাসীর চাওয়া পাওয়া বাণিজ্যিক রাজধানীর পূর্ণ বাস্তবায়ন।

‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে স্বীকৃতি থাকলেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পিছিয়ে ছিলো চট্টগ্রাম। তবে টানা একযুগের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ সরকার মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করে উন্নয়নের চিত্র  পাল্টে দিয়েছে চট্টগ্রামের। ফ্লাইওভার, রিং রোড, সৈকতের আধুনিকায়ন,কর্ণফুলী  টানেল, সড়ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ভোল পাল্টে দিয়েছেন। চট্টগ্রামবাসীকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগানো জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে বাঁচাতে নিয়েছেন জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প। তাছাড়া চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে বে-টার্মিনাল, মিরসরাই ইকোনমিক জোনের মত বৃহৎ প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামে মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজও প্রক্রিয়াধীন। আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসভা থেকে আরও ৩০টি প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
  
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক), ওয়াসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে বহদ্দারহাট এম এ মান্নান ফ্লাইওভার, বায়েজিদ-মুরাদপুর-লালখান বাজার আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার, স্টেশন রোড-দেওয়ান হাট ওভারপাস, পতেঙ্গা-ফৌজদারহাট মেরিন ড্রাইভ আউটার সিটি রিং রোড, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের আধুনিকায়ন, বায়েজিদ-ফৌজদারহাট বাইপাস রোড অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতার ধারাবাহিকতায় রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত আয়ের দেশের দিকে এগিয়ে নিতে চট্টগ্রামকেই প্রাধান্যের তালিকায় রেখেছে সরকার। 

সরকারের সফলতার মধ্যে অন্যতম হলো যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। ফলে প্রতিটি বিভাগীয় শহর, জেলা শহর, বন্দর, বাণিজ্যিক পয়েন্টে দেশের যেকোনো প্রান্তে অনায়াসে যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও চট্টগ্রামে অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। 

কিছুদিন আগে দেশে শত সেতু উদ্বোধন হয়। এরমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪৫টি যার ৪২টি খাগড়াছড়িতে। কর্ণফুলীর তলদেশে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায় নির্মিত হয়েছে দুই টিউব বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু টানেল। যার একটি টিউব গত ২৬ নভেম্বর ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অর্থায়নে নির্মাণ হচ্ছে দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ।  

এছাড়াও চট্টগ্রামে অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। যার মধ্যে বিমান বন্দর হতে লালখান বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার খাল খনন, সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্প, চাক্তাই হতে কালুরঘাট পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার রিভার ড্রাইভ রিং রোড, ১২টি খালের মুখে শক্তিশালী পাম্পসহ অটোমেটিক টাইডাল রেগুলেটর স্লুইস গেইট নির্মাণ কাজ অন্যতম। তাছাড়া কক্সবাজারে হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর।
 
এদিকে দৃশ্যায়িত হচ্ছে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ৭৫ কিলোমিটারের বেশি রেল লাইনের কাজ। ইতোমধ্যে এই মেগা প্রকল্পের ৭৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২৪ শতাংশ কাজ দ্রুত শেষ করে ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে কক্সবাজারে ট্রেন চলাচল শুরু করার কথা রয়েছে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহা-ব্যবস্থাপক ও প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে রেল যোগাযোগ চালু হলে শুধু পর্যটন খাতে সম্ভাবনা বাড়বে তা নয় লবণ, মৎস্য, কৃষিসহ অন্যান্য খাতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

চট্টগ্রাম হল দেশের অর্থনৈতিক সঞ্চালনের জীবনী শক্তি। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের ৯০ শতাংশ আমদানি ও ৮৫ শতাংশ রপ্তানি কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। তাই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার চট্টগ্রামের উন্নয়নকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে চলছে বে-টার্মিনালের কাজ। চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্প্রসারণ করছে সরকার। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে মানসম্মত পর্যায়ে আনতে দফায় দফায় কেনা হয়েছে নতুন যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি মাতারবাড়িতে নির্মিত হচ্ছে গভীর সমুদ্রবন্দর। বাঁশখালীর ও মাতারবাড়িতে হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং আনোয়ারা ও মিরসরাইয়ে হচ্ছে দুটি ‘স্পেশাল ইকোনমিক জোন। 

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো কর্ণফুলী নদীপাড়ের চট্টগ্রাম বন্দর। দেশের বৃহত্তম এই বন্দর গড়ে উঠেছে প্রায় সাড়ে ৪০০ একর জমিতে। প্রতিবছর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে হিমশিম খেতে হয় বন্দর কর্তৃপক্ষকে। তাই চট্টগ্রাম ইপিজেডের ঠিক পেছনেই আউটার রিং রোডসংলগ্ন সাগরপাড়ে প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ জায়গায় বে-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এটি হবে গভীর সমুদ্রবন্দরের আদলে এক আধুনিক বন্দর। বে-টার্মিনাল বাস্তবায়িত হলে ১৪ মিটার ড্রাফটের বড় বড় জাহাজ ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে ৫-৬ গুণ বড় হবে এই বে-টার্মিনাল। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। বে-টার্মিনাল নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ, নকশাসহ সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২৫ সালে। ২০২৬ সালে টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হবে। 

এদিকে পতেঙ্গা কনটইনার টার্মিনালেরও কাজ শেষ। বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দিলেই শুরু হয় যাবে টার্মিনালটির কার্যক্রম। এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। ৩২ একর জায়গায় নির্মিতব্য টার্মিনালটি চালু হলে চার লাখেরও বেশি টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি থাকবে তেলবাহী জাহাজ ভিড়ানোর সুবিধা। নির্মাণাধীন পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বাস্তবায়ন হলে বন্দরের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে, বাড়বে লজিস্টিক সক্ষমতা।

অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের অবদান বিশাল। এই শিল্পে শ্রমিক অধিকার, কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানসহ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। করোনার সময় সংকটে পড়েছিল পোশাক খাত। ওই সময় শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধের জন্য তিন কিস্তিতে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনার ব্যবস্থা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা। রফতানি আয়ের ওপর ৫% ভাগ শুল্ক রেয়াত পাচ্ছে রফতানিকারকরা। ফলে এত সংকটসময় সময়ের মধ্যেও পোশাক খাত ঘুরে দাঁড়াবার শক্তি পেয়েছে। 

চট্টগ্রামের মিরসরাই, ফেনীর সোনাগাজী ও সীতাকুণ্ডের ৩০ হাজার একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা শিল্পনগরীর নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর। বন্দর জেটি সুবিধা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ট্যুরিজম পার্কসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থাকছে এ মহাকর্মযজ্ঞে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষভাবে গড়ে তোলা এ অর্থনৈতিক অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে গত ২০ নভেম্বর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ৭ হাজার ৭১৬ একর জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১১ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। 

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম  বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাই চট্টগ্রামকে ঘিরে যেসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে তা সময়মত সম্পন্ন করা হলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে যা এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক হবে। 

বিজিএমইএ প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম  বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক উন্নয়নে সব সময় আন্তরিক। আমরা  ব্যবসায়ীরা সব সময় যে সমস্যা নিয়ে গেছি, তিনি সমাধান করে দিয়েছেন। চট্টগ্রামে এখন বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে। এগুলো আমাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে অনেক বেশি সহায়ক হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে।

তাছাড়া সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া হতে চাক্তাই খাল খনন প্রকল্প। ওয়াসার মাধ্যমে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে মদুনাঘাট পানি শোধনাগার, রাঙ্গুনিয়ায় শেখ রাসেল পানি শোধনাগার ও শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার অন্যতম। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামে মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর ই-গেট উদ্বোধন করা হয়েছে। ই-ভিসা চালু করার কথাও ভাবছে সরকার। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ, ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের সীমান্তে যোগাযোগ সহজ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে সরকার। 

রবিবার (৪ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করবেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে—পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে তিনটি প্রকল্প। সেগুলো হলো— জেলার ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, সন্দ্বীপ উপজেলার ৭২নং পোল্ডারের ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্লোপ প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে পুনর্বাসন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প ও বাঁশখালী উপজেলার ৬৪/১এ, ৬৪/১বি এবং ৬৪/১সি পোল্ডারের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী পুনর্বাসন প্রকল্প (২য় সংশোধিত), কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে সীতাকুণ্ড টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফটিকছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাউজান টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ মোট ৩০ প্রকল্পর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। 

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন  বলেন, আমাদের নেত্রী  চট্টগ্রামে আসছেন। এটা আমাদের জন্য পরম আনন্দের। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ হচ্ছে পলোগ্রাউন্ডে। এখানে ভাষণ দেবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাই নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উজ্জীবিত। আমরা মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সবাই মিলে এই আয়োজন করছি। এই সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সমাগম হবে। 

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। ফলে চট্টগ্রামে এতগুলো মেগাপ্রকল্পের কাজ হচ্ছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম আরো সম্বৃদ্ধ হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থাতর উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ সব ধরনের উন্নয়নের কথা  ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রী   জনসভা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কোথাও টাকা ছাড়া কাজ হয় না: মামুনুর রশীদ

প্রকাশ: ০৯:৩৬ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সরকারে কোনো দফতরে টাকা ছাড়া কাজ হয় না বলে অভিযোগ করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক মামুনুর রশীদ।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) রাজধানীতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে ‘জন শুনানি : জাতীয় উন্নয়ন ও স্থানীয় বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘সম্প্রতি জেলা প্রশাসন অফিসে ফোন কল করেছিলাম ছোট একটা কাজের জন্য। সেখানে সরাসরি বললো, দুই হাজার টাকা লাগবে। কেন দুই হাজার টাকা লাগবে জানতে চাইলে আমাকে বলল? দুই হাজার টাকা না দিলে আপনার কাজ হবে না।’

তিনি বলেন, ‘কোথাও টাকা ছাড়া কাজ হয়? আমি এখানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আছেন, তাও বলতে বাধ্য হচ্ছি। মেম্বার-চেয়ারম্যানের নমিনেশন নিতে কত টাকা লাগে? তিনি টাকা দিয়ে মনোনয়ন নেন, পরে সেই টাকা তিনি পাঁচ বছরে তোলার চেষ্টা করেন। তখন জনগণের অবস্থাটা কী হয়! এ টাকাটা তো জনগণের পকেট থেকেই যাচ্ছে।’

জেলা প্রশাসকদের ক্ষমতার সমালোচনা করে মামুনুর রশীদ বলেন,‘ জেলা প্রশাসকদের মনে হয় ব্রিটিশ আমলের রাজ প্রতিনিধি। তাদের কাছে এতো ক্ষমতা দিয়ে রেখেছে। অথচ এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেম্বার কারো কোনো ক্ষমতা নেই, সব ক্ষমতা জেলা প্রশাসকদের হাতে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোথাও আমাদের অংশগ্রহণ আছে? ঢাকা মেট্রোপলিটন গভর্মেন্ট হওয়ার কথা ছিল, কই হলো নাতো। মেয়রের কাছে যেই ক্ষমতা থাকার কথা, তা নেই।’

মামুনুর রশীদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের সবাই উন্নয়ন কাজে অংশগ্রহণ করতে চায়। আমরা সবাই মিলেই কাজ করতে চাই। সেই সুযোগটা কি আমাদের আছে? আমার মনে হয় তা নেই। যদি থাকতো তাহলে দেশ অনেক এগিয়ে যেতো।’

পরিবহন খাতের নৈরাজ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিবহন খাতে প্রতিদিন ভাড়া বাড়াচ্ছে, এ টাকাটা কে দিচ্ছে? জনগণ দিচ্ছে। কিন্তু পরিবহন সেক্টর তো সরকারের হাতে। সরকারে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এরাইতো এখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে।’


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

‘দেশীয় বস্ত্র ব্যবহার করি: সোনার বাংলা গড়ে তুলি’

প্রকাশ: ০৮:৩৯ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আজ রোববার জাতীয় বস্ত্র দিবস। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে সারা দেশে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এ বছর জাতীয় বস্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দেশীয় বস্ত্র ব্যবহার করি: সোনার বাংলা গড়ে তুলি’। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নানামুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ খাতকে সুসংহত ও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশের মোট রফতানি আয়ের সিংহভাগ বস্ত্রখাত থেকে অর্জিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ খাতে যুগোপযোগী ও দক্ষ বস্ত্র প্রকৌশলী গড়ার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, তাঁত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং ফ্যাশন ডিজাইন ইনস্টিটিউট স্থাপন ও পরিচালনা করছে।

দেশের মোট রফতানি আয়ের বেশির ভাগ অর্জিত হয় বস্ত্রখাত থেকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বস্ত্র খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বস্ত্র দিবস  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন