ইনসাইড ইকোনমি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাবে কে?


Thumbnail দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাবে কে?

বাজারে দিনের পর দিন হু হু করে বাড়ছেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। যেনো লাগাম টেনে ধরাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানেই ভোজ্যতেলের দাম নিয়ে ক্রেতা ভোগান্তির মধ্যেই অস্থির হয়ে পড়েছে পেঁয়াজের বাজার। দুইদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। স্বস্তি নেই চাল বা সবজির বাজারেও। ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে এসব পণ্যের দামও। এমন অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নিয়ন্ত্রণহীন এ দামের ফলে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে ক্রেতাদের। প্রশ্ন উঠেছে দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি ঠেকাবে কে? 

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সব সময় বলছেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য রয়েছে। পণ্যের কোনো সংকট নেই। সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক বেড়েছে। ভোজ্যতেল আমাদের আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয়। এ অবস্থায় তেলের দাম কিছুটা না বাড়ালে কেউ আমদানি করবে বলে মনে হয় না। পর্যাপ্ত পরিমাণ ভোজ্যতেল আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত দুই বছরের করোনাকালে ও বর্তমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। এসবের প্রভাবে দ্রব্যমূল্যে পড়েছে, বাংলাদেশেরও এর প্রভাব পড়েছে। দেশের দুই মন্ত্রীর দুই ধরনের কথায় নিয়ন্ত্রণহীন বাজারকে আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ক্রেতারা বলছেন, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি আর বাজার থেকে প্রায় উধাও হওয়ার মধ্যে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এভাবে হুটহাট দাম বাড়িয়ে অতিমুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের জিম্মি করছে বলেই তাদের অভিযোগ। ক্রেতারা আরও বলছেন, আর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে রোজা শুরু হবে। এর আগেই এইভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি মরার ওপরে খারার ঘা এর মতো। ক্রেতারা অতি শীঘ্রই এই অবস্থা থেকে পরিত্রান চাচ্ছেন। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে ভোক্তা অধিকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অভিযান চালালেও কোনোভাবেই দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। 

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, হঠাৎ করেই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সব পণ্যের দাম এখন প্রায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এ অবস্থায় এমনিতেই মানুষ দিশেহারা। এরপর এক এক মন্ত্রী এক এক কথা বলছেন। এতে মানুষ আরও বিভ্রান্ত  হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী সব সময় বলছেন, বাজারে পণ্যের সংকট নেই। তাহলে মানুষ কেনো ভোজ্যতেল বাজারে গিয়ে পাচ্ছেন না? এ বিষয়গুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরও ভালোভাবে মনিটরিং করা উচিৎ এবং দাম যেনো নিয়ন্ত্রণে থাকে সে দিকে নজর দেওয়া উচিৎ। শুধু ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের অজুহাত দেওয়াটাও সমিচিন হবে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে মিল পর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে। সমস্যার মূলে না গিয়ে এলোপাথারি অভিযানে হিতে বিপরীত হতে পারে। 

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে গত ১৩ বছরের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তেলের এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফলে দেশের বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেলে এমনিতেই দেশে পরিবহণ খরচ বেড়ে যাবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাবে কে এই প্রশ্নই ঘুরেফিরে আসছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি   দ্রব্যমূল্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

সয়াবিন তেলের মূল্য নিয়ে নতুন যে সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ০৫:০২ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমছে ১৪ টাকা

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা কমছে। ফলে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়াবে ১৭৮ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৯২ টাকায়।

সোমবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ভেজিটেবল ওয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যারার্স অ্যাসোসিয়েশন এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সয়াবিন তেলের দাম কমানোর কথা জানায়।

ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি জানায় নতুন দরে কাল মঙ্গলবার থেকে বাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

রেমিট্যান্স: ৭ মাসে সর্বনিম্ন সেপ্টেম্বরে

প্রকাশ: ০৭:৩২ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail রেমিট্যান্স: ৭ মাসে সর্বনিম্ন সেপ্টেম্বরে

বৈধ চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমে গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ১৫৪ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এই অঙ্ক গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রোববার (২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ (প্রায় ১.৫৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের এ অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। শুধু তাই নয়, সেপ্টেম্বরের প্রবাসী আয়ের এই অঙ্ক গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ১৪৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। সেপ্টেম্বরের চেয়ে কেবল ওই মাসে কম এসেছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্য সব মাসে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি অর্থবছরের টানা দুই মাস ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বৈধ পথে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগস্ট মাসে ২০৩ কো‌টি ৭৮ লাখ (২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তার আগের মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। জুলাই মাসে পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে বেশি পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল। তবে আগস্টে বড় উৎসব ছিল না, তারপরও  প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। 
 
সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১২৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬১ লাখ মার্কিন ডলার। আর বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪১ মার্কিন ডলার।

আলোচিত সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতো বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসীরা ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এরপর সিটি ব্যাংকে এসেছে ১১ কোটি ২৮ লাখ ডলার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ১০ কোটি ৭২ লাখ ডলার, অগ্রণী ব্যাংকে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকে এসেছে ৭ কোটি ৯২ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

আলোচিত সময়ে সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।

এখন বিদেশ থেকে যেকোনো পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। এছাড়া প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

এদিকে ডলারের সংকট নিরসনে এবং প্রবাসী আয় বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেরাই বসে ডলারের দাম নির্ধারণ করছে। এতে প্রবাসীরা ডলারের দাম ভালো পাচ্ছেন।

বাফেদার ঘোষিত দাম অনুযায়ী, এখন দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা ৫০ পয়সায় কিনতে পারবে ব্যাংকগুলো। গত মাসে (সেপ্টেম্বর) সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমেছে ৬.২৫ শতাংশ

প্রকাশ: ০৫:৩০ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমেছে ৬.২৫ শতাংশ

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও গ্যাস সংকটের কারণে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন দেশে ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ ডলার (৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার) পণ্য রপ্তানি করেছেন উদ্যোক্তারা। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কম। সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সরকারের।

রোববার (২ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য সার্বিকভাবে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের রপ্তানি ইতিবাচক ধারাতেই আছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। এ সময়ে ১ হাজার ২৪৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ১০২ কোটি ডলারের পণ্য।

উদ্যোক্তারা বলছেন, রপ্তানি আয় কমবে, এটা আগে থেকে অনুমেয় ছিল। সামনের মাসেও রপ্তানি কমার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে। সহসাই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পোশাক রপ্তানিতে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশের বেশি, পাট ও পাটজাত দ্রব্যে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও চামড়াজাত পণ্যে ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম আয় হয়েছে একাধিক পণ্যে। কৃষিপণ্যে ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্যে ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ ও কাচঁজাত পণ্যে ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম আয় হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫ টাকা

প্রকাশ: ০৪:২০ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫ টাকা

দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এবার কমেছে। এখন ১২ কেজির সিলিন্ডারের এলপিজি কিনতে ১ হাজার ২০০ টাকা লাগবে। এত দিন এ জন্য দিতে হচ্ছিল ১ হাজার ২৩৫ টাকা। সে হিসাবে ১২ কেজি এলপিজির দাম কমল ৩৫ টাকা। একইসঙ্গে অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে।

রোববার (২ অক্টোবর) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেন বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ফারুক। এ সময় সচিব খলিলুর রহমান, সদস্য মোকবুল-ই ইলাহিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যক্ত ছিলেন। নির্ধারিত নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, অক্টোবর মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০১ টাকা ১ পয়সা, যা সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ১০২ টাকা ৮৮ পয়সা, আগস্ট মাসে ছিল ১০১ টাকা ৬২ পয়সা। দাম কমানোর ফলে অক্টোবর মাসে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডারের দাম পড়বে ১ হাজার ২০০ টাকা, যা সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ১ হাজার ২৩৫ টাকা এবং আগস্ট মাসে ছিল ১ হাজার ২১৯ টাকা।

অন্যদিকে অক্টোবর মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৫৫ টাকা ৯২ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন, যা সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৫৭ টাকা ৫৫ পয়সা। এই হিসাবে সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে দাম কমেছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা।

জানা গেছে, এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’

কোভিড-১৯ মহামারি থেকে বের হতে না হতেই ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সারা বিশ্ব। রাশিয়া-ইউক্রেনের এই চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বে। আর এই দুই সমস্যার মাঝখানে মরার উপর খাড়ার ঘা ফেলেছে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি। শুধুমাত্র যে সকল দেশ ডলারের বিপরীতে অর্থের মান ধরে রাখতে পেরেছে তারাই ভালো আছে। আর আমদানি করা দেশগুলো পড়েছে সব থেকে বিপদে। বাংলাদেশেরও সেই একই অবস্থা। ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে মূলত বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে শুধুমাত্র বাংলাদেশ না, মূলত এশিয়ার বেশ কিছু দেশ বিদেশ থেকে মূল্যস্ফীতি যেন আমদানি করছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ১০৭ টাকা। গত কয়েক মাসে কয়েক দফা ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় আন্তর্জাতিক মধ্যবর্তী  মুদ্রা হিসেবে ছিল ব্রিটিশ পাউন্ড। সে সময় দেখা যায় বাংলাদেশের  টাকার বিপরীতে পাউন্ডের বিনিময় হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৩ টাকা এবং ১৯৭২ সালে দেশে ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৭ দশমিক ৮৭৬৩টাকা। এরপর ১৯৮৩ সাল থেকে মধ্যবর্তী  মুদ্রা  হিসেবে ডলার ঠিক করা হলে দেখা যায় ২০০৪ সালে তা বেড়ে হয় ৫৯ দশমিক ৬৯ টাকা। অর্থাৎ সেই  ৩২ বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কমেছে ৮৭ শতাংশ। আর এখন সেই ডলারের মূল্যমান ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ পরের ১৮ বছরে টাকার মান কমেছে আরও ৩২ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে ডলার ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে, টাকা সেভাবে শক্তিশালী হতে পারেনি। 

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ সব থেকে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা হলো মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশকে অনেকটাই সতর্ক পদক্ষেপ ফেলতে হচ্ছে । অনেকেই মূল্যস্ফীতিকে বলেন এক ধরনের বাধ্যতামূলক কর। কেননা এ জন্য মানুষকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। মূল্যস্ফীতি হলে মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। বাংলাদেশ এখনো সেই অবস্থানে না গেলেও এ নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ। মূল্যস্ফীতিকে অর্থনীতিবিদরা  দুই ভাগে ভাগ করেন। সেটি হল মৃদু মূল্যস্ফীতি ও অতি মূল্যস্ফীতি। মৃদু মূল্যস্ফীতি যে কোন দেশের জন্য ভালো কারণ এর ফলে দেশে এটি আস্তে ধীরে বাড়তে থাকে,মানুষ নিজেকে মানিয়ে নিয়ে নিজের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ায়, বিনিয়োগ করে ফলে সমস্যা হয় না। কিন্তু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লে এর সঙ্গে কেউই তাল মেলাতে পারে না। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমায় আরও দুটি ক্ষতি করছে  বাংলাদেশের। প্রথম ক্ষতিটি হল বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাড়তি খরচ হচ্ছে অর্থাৎ দেশের বাইরে যেতে হলেই বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়া যেসকল শিক্ষার্থী দেশের বাইরে পড়তে যাচ্ছেন কিংবা যারা চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন তাদের ফ্লাইট টিকিট কেনা কিংবা সেই দেশে গিয়ে থাকতে বাড়তি আরও অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কারণ এসকল স্থানে ডলারের মাধ্যমে লেনদেন হয় এবং অপরদিকে আমদানি ব্যবসায়ীদেরও বিদেশি পণ্য আমদানি করতে অনেক খরচ করতে হয়। বিদেশি পণ্য আমদানিতে খরচ বাড়লে স্বভাবতই দেশে সেই পণ্যের দাম আরও বেড়ে যায় যা ক্রেতার একদম নাগালের বাইরে চলে যায়।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমার পেছনের কারণ এখনি বের করতে হবে। আর এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকেই নিতে হবে। ঠিক কি কারণে টাকার মান কমছে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের খুঁজে বের করতে হবে। আর কি কারণে দেশে ডলারের রেমিট্যান্স আসা বন্ধ হয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখে তার বিপরীতে স্বল্পমেয়াদী  কিংবা প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে। আর প্রবাসীরা যাতে দেশে ডলার প্রেরণ করতে উৎসাহিত হন সেটিও খেয়াল রাখতে হবে বাংলাদেশ ব্যংকে৷ তাহলেই এই সমস্যার সমাধান করা সহজ হবে।

ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে চলতি বছর মে মাসে চারটি তদারকি দল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করা এই চারটি তদারকি দল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পরিদর্শন শুরু করেছিল। বর্তমানে ডলারের দাম বৃদ্ধি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।

ডলার   মূল্যবৃদ্ধি   অর্থনীতি   বাণিজ্য   রেমিট্যান্স  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন