ইনসাইড ইকোনমি

আবারও শর্তের জালে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আবারও শর্তের জালে বাংলাদেশ

অনেক কিছুতেই ভর্তুকি প্রত্যাহার হবে। শেষ পর্যন্ত আইএমএফের শর্ত মেনে নিলো সরকার। জ্বালানি খাতে ২৩ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিকে অবাস্তব বলেছিলো আইএমএফ এবং এই ভর্তুকি কমানোর জন্য শর্ত দিয়েছিলো। আইএমএফের ঋণ পেতেই জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু জ্বালানি খাতে নয়, অন্যান্য বিভিন্ন খাতে যেখানে যেখানে সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে সেই ভর্তুকি কমানোর শর্ত আইএমএফ দিয়েছে এবং সরকার যদি আইএমএফের ঋণ পেতে চায় তাহলে পর্যায়ক্রমে এই শর্তগুলো মানতে হবে। এর ফলে বিভিন্ন খাতে সরকারকে ব্যাপক ভর্তুকি কমাতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এইসব ভর্তুকি কমালে সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ পড়বে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের উপর ভর্তুকি কমানোর কারণেই এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ইতিমধ্যে সরকার ইউরিয়া সারের উপর ভর্তুকি কমিয়েছে এবং আরো কিছু ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহারের কথা ভাবছে। বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক পরিমাণে ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকার কিছুটা বেশি। এই ভর্তুকি কমানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। এর ফলে ন্যায্যমূল্যে বীজ, কম দামে ডিজেলসহ যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা কৃষকরা পেত তা কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও খাদ্যের উপর ভর্তুকি কমানো হবে। ফলে খাদ্য পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, যেহেতু ডিজেল এবং পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি হলো সেক্ষেত্রে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এখন অনিবার্য হয়ে উঠেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সাথে সাথে এবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাবে বলেও সরকারের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। কারণ, আমাদের বিদ্যুৎ খাত ডিজেল নির্ভর। এ কারণেই সরকারকে এখন বিদ্যুতের দাম বাড়াতে হবে। ফলে সামগ্রিকভাবে ভর্তুকি কমানোর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আগামী এক মাসের মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। এই মূল্যবৃদ্ধি হলো ভর্তুকি কমানোর জন্য। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে এই মূল্যবৃদ্ধি গুলো হবে। এই সবই করা হচ্ছে আইএমএফের শর্তের কারণে। শুধু আইএমএফ না, বিশ্বব্যাংক এবং এডিবিও একই শর্তেই বাংলাদেশকে ঋণ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বব্যাংক কৃষিক্ষেত্রে ভর্তুকি বন্ধের সুপারিশ দিয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে সময় বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং কৃষিতে ভর্তুকি দিয়েছিলে। এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিশ্বব্যাংকের পরামর্শের কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রত্যাহার করেছিলো। বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শেই বিএনপি-জামায়াত জোট আদমজী বন্ধ করে দিয়েছিলো। এখন আইএমএফ যে নতুন করে শর্তগুলো দিচ্ছে সেই শর্তের ফলে বাংলাদেশ আবার বিদেশি শর্তের জালে চলে গেল কিনা সেটাই দেখার বিষয়। কারণ, বর্তমান সরকার যে গণমুখী নীতি এবং কৌশল গ্রহণ করেছিলো, সেই গণমুখী কৌশলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিয়ে দেওয়া হতো যেন সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্ট না হয়। কিন্তু এখন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় আবার বিদেশিদের শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে সরকারকে। কিন্তু এই শর্ত মানার রাজনৈতিক প্রভাব কি হবে, সেটিও হিসেব-নিকেশ করে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আমলারা কি অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে পারবে?

প্রকাশ: ০৮:০২ পিএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আমলারা কি অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটাতে পারবে?

এখন মোটামুটি স্পষ্ট যে, সরকার একটা আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের কারণ কি, সেটি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু দেশে যে অর্থনৈতিক সঙ্কট আছে এটি নিয়ে কোনো লুকোচুরি নেই। বরং সরকারও অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করছে সংকটের কারণ হিসেবে সরকার এক রকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, সুশীল সমাজ এক রকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, রাজনীতিবিদরা আরেক রকম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের পথ কী? এরকম অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণের ক্ষেত্রে সরকার এখন পর্যন্ত আমলাদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সংকট নিরসনে কাজ করছে। এখানে রাজনীতিবিদদের ভূমিকা এখন পর্যন্ত গৌণ। কিন্তু বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে সিভিল ব্যুরোক্রেসি সীমাহীন ভাবে ব্যর্থ হয়েছে, অর্থনৈতিক সঙ্কট সমাধান করতে পেরেছে রাজনীতিবিদরাই।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতিবিদদেরকে সাইডলাইনে বসিয়ে রেখেছে। এমনটি নয় যে আওয়ামী লীগে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার জন্য দক্ষ রাজনীতিবিদ নেই। বরং রাজনীতিবিদরাই সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেই অনেকের ধারণা। মনে করা হয় যে, অর্থমন্ত্রী হতে গেলে অর্থনীতিবিদ হতে হয়। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। ভারতের উদাহরণ দেওয়া যাক। ভারতের প্রণব মুখার্জির সবচেয়ে সফল অর্থমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু তিনি অর্থনীতিবিদ ছিলেন না, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রীকে সফলতম অর্থমন্ত্রী অন্যতম সফলতম অর্থমন্ত্রী মনে করা হয়। তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ। তিনি অর্থনীতির ছাত্র ছিলেন বটে কিন্তু অর্থনীতিবিদ ছিলেন না। এভাবে বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট গুলোকে রাজনৈতিক বিবেচনায় সমাধান করাই যৌক্তিক। যুক্তরাজ্যের কথাই ধরা যাক। সেখানে ঋষি সুনাক অর্থমন্ত্রী হওয়ার কারণেই তারা অর্থনৈতিক পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পেরেছিলো। যদিও দেশটি এখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের দিকে আছে, সেই সঙ্কটও বাংলাদেশের মতো বৈশ্বিক সঙ্কটের কারণে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আমাদের সংকট সমাধানে রাজনীতিবিদদের ওপর ভরসা রাখতে পারেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গত দুই মেয়াদেই একজন আমলা ছিলেন এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন পুরোপুরি আমাদের দখলে। প্রায় সব ব্যাংকের চেয়ারম্যানই কোনো না কোনো সাবেক আমলা এবং আমলারা থাকার পরও এখন বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের রেকর্ড হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে যে আমলাদেরকে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তারা কি করছেন? এটা কি তাদের অবসরোত্তর জীবনযাপন নাকি সত্যি সত্যি তারা দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় কাজ করতে চান। অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে আগে যেমন অর্থমন্ত্রীদের পূর্ণ কর্তৃত্ব ছিলো সেই অবস্থাটাও পাল্টে গেছে। এখন অর্থমন্ত্রীর চেয়ে অর্থ সচিবের গুরুত্বই দৃশ্যমান বেশি হচ্ছে এবং তাদের পরামর্শই বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে সরকারের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে। তাই যদি হয় তাহলে এই সংকট সমাধানে আমলারা কতটুকু সফল হচ্ছে।

বিভিন্ন মহল বলছে যে, আমলারা একের পর এক ভুল তথ্য দিয়েছে, সাময়িক সমাধান করার চেষ্টা করেছে, ফলে সংকট এখন গভীর হয়েছে। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন যে, এই সংকটের সময়ে অনেক সুচিন্তিত অর্থনীতিবিদ আছেন, তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করেন এমন অনেক অর্থনীতিবিদ আওয়ামী লীগের চারপাশে রয়েছেন, যাদের পরামর্শ সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ড. খলীকুজ্জমান একজন ভালো অর্থনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ছিলেন। ড. আবুল বারাকাত একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ। নাজনীন আহমেদ গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ড. বিনায়ক সেন একজন মেধাবী চিন্তাশীল অর্থনীতি হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত এদের কারো কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নিয়েছে বলে জানা যায়নি। এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এসব ব্যাপারে অর্থনীতিবিদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করেছে বা পরামর্শ করেছে বলেও জানা যায়নি। সরকারকে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে উদ্ভাবনী চিন্তা করতে হবে বলে মনে করেন কেউ কেউ। অনেকে মনে করেন, অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে নীতি-কৌশলগত পরামর্শ নিতে হবে। আমলারা শুধুমাত্র গাণিতিক হিসাব এবং তথ্য-উপাত্তকে ঠিক করে সংকটের সমাধান করবেন কিন্তু যেটি সম্ভব নয়। তাই আমলাতান্ত্রিক সময় আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট সমাধান হবে না বলে অনেকের ধারণা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কার্ডের মাধ্যমে ডলার নেওয়ার পরামর্শ

প্রকাশ: ০১:৪৬ পিএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কার্ডের মাধ্যমে ডলার নেওয়ার পরামর্শ

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কার্ডের মাধ্যমে ডলার নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ও খোলা বাজারে দরের ঊর্ধ্বগতি ও সরবরাহ সংকটের কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক এই পরামর্শ দিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এই পরামর্শ দেন।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজারে নগদ অর্থে ডলারের দরের পার্থক্য ১০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। ফলে কিনে ডলার নেওয়ার চেয়ে কার্ডে নেওয়াই সাশ্রয়ী।

গ্রাহকদের কাছে নগদ অর্থে কাগুজে ও কার্ডে দুই ভাবেই ডলার বিক্রি করে ব্যাংক। কাগুজে ডলার কিনতে যেখানে খরচ হয়েছে ১০৯.৫০ টাকা পর্যন্ত, সেখানে ব্যাংক কিংবা কার্ডের মাধ্যমে ডলার কেনায় ৯৮ টাকা পর্যন্ত দর উঠেছিল।

বৃহস্পতিবার বেসরকারি দ্য সিটি ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে ডলার বিক্রি করেছে ৯৫ টাকায়, সেখানে কাগুজে ডলার বিক্রি করেছে ১০৯.৫০ টাকা দরে। কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেবার মূল্য এই দরে পরিশোধ করা যাচ্ছে।

বিদেশে ভ্রমণে কার্ডে ডলার নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সিরাজুল বলেন, “প্রতি বছর যে পরিমাণ পর্যটক দেশে আসছেন, তার চেয়ে বেশি যাচ্ছেন আমাদের দেশ থেকে। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, সেমিনার ও ‍ভ্রমণে তারা ডলার নিয়ে যাচ্ছেন।

“তারা হাতে (কাগুজে) ডলার না নিয়ে কার্ডে নিলে খরচ অনেক কম পড়বে। এখন সব জায়গাতেই অনলাইন মাধ্যম বড় হচ্ছে। বিদেশ ভ্রমণে কার্ডের মাধ্যমেও ডলার নিয়ে যাওয়া সম্ভব। সেক্ষেত্রে খোলাবাজার ও ব্যাংকের চেয়েও তুলনামূলক কম দরে পাবেন তারা।”

ডলারের দাম চড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “পণ্য আমদানিতে যে পরিমাণ ডলার খরচ হয়, সে তুলনায় রপ্তানি ও রেমিটেন্স আসছে না। একটি গ্যাপ থেকেই যাচ্ছে। এ কারণে ডলারের দর বাড়ছে।”

বুধবার খোলা বাজারে ডলারের দর উঠেছিল ১১৯ টাকা পর্যন্ত, এর একদিন পরেই বৃহস্পতিবার ৬ টাকা কমে দর নেমেছে ১১৩ টাকায়।

অন্যদিকে ব্যাংকগুলোতে নগদ অর্থে ডলার কিনতে খরচ হচ্ছে ১০৭ থেকে ১০৯.৫০ টাকা পর্যন্ত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নগদ অর্থে ব্যাংকগুলোতে কাগুজে ডলার কিনতে গ্রাহককে ১০৯.৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে গ্রাহককে।

কিন্তু কার্ডে নিলে তাতে বর্তমানে খরচ পড়ছে ৯৫ টাকার মতো। কয়েকদিন পূর্বেও যেখানে ৯৭-৯৮ টাকায় উঠেছিল, তখন খোলাবাজারেও কাগুজে ডলারের দর ছিল ১০৮ টাকার উপরে। আর ব্যাংকে ছিল ১০৪ টাকা থেকে ১০৫ টাকার মতো।

বিদেশ ভ্রমণ   কার্ড   ডলার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

বাজারে সবজিসহ সকল পণ্যের দাম চড়া

প্রকাশ: ০১:০২ পিএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাজারে সবজিসহ সকল পণ্যের দাম চড়া

হঠাৎ করেই জ্বলানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে নিত্যপণের পণ্যের দাম। ব্যাবসায়ীরা বলছেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পণ্যবাহী ট্রাকের খরচ। যার ফলে সবজি থেকে শুরু করে সব কিছুর দামই বেড়েছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি থেকে শুরু করে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দামে বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিলো ১৬০ টাকা থেকে ১৬৫ তাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগির বর্তমান দাম  বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা কজিতে। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।

মুরগির দামের বিষয়ে এক ব্যবসায়ী জানায়, ব্রয়লার মুরগির দাম এমনিতেই বেশি ছিলো। গত সপ্তাহে তেলের দাম বাড়ায় এখন সেই দাম আরও বেড়ে গেছে। পাইকারিতে প্রতিদিনই ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই ব্রয়লার মুরগির কেজি আড়াইশ টাকা হয়ে যেতে পারে বলে জনাইয়েছেন তিনি।
 
ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি অস্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। দাম বেড়ে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম ১৪৫ টাকা। বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। আর মুদি দোকানে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ডিমের ডজন ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। পাশাপাশি বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম।  তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে।

ডিমের দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের আরেক ব্যবসায়ী জানায়, গত কয়েকদিনে মুরগির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। মুরগির দাম বাড়ার প্রভাব ডিমের দামে পড়ছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। ২৫০ গ্রাম শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। তবে কেউ এক কেজি কিনলে ১৯০ টাকা রাখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ২৫০ গ্রাম শিম বিক্রি হয় ৪০ টাকা।

শিমের পাশাপাশি দাম বেড়েছে পাকা টমেটোর। গত সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো এখন ১০০ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর গাজর গত সপ্তাহের মতো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটিও গত সপ্তাহের মতো ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে শসার দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসা এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানায়, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। এর মূল কারণ তেলের দাম বাড়ানো। তেলের দাম বাড়ানোর কারণে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে সবজির দামে। তেলের দাম না বাড়লে এখন সব সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা কম থাকতো।

ডিম, মুরগি ও সবজির দাম বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও আলুর দাম। পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৩০০ টাকায় উঠেছিল।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৯০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৬০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব মাছের দামে কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ইলিশও। এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

বাজারে   সবজিসহ   সকল পণ্যের   দাম চড়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আগস্টের ১০ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৭ হাজার ৮শ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৮:২৯ এএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আগস্টের ১০ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৭ হাজার ৮শ কোটি টাকা

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা আলোচনা-উৎকণ্ঠার মধ্যেই চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৮১ কো‌টি ৩০ লাখ ( ৮১৩ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ৯৬ টাকা ধ‌রে) এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ২৪৩ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক ও খোলা বাজারের মধ্যে ডলারের রেটের ব্যবধান বেশি থাকে। তখন বৈধ চ্যানেলের চেয়ে হুন্ডিতে রেমিট্যান্স বেশি আসে। এখন এক ডলার রেমিট্যান্সের বিপরীতে ব্যাংক ৯৬ থেকে ৯৮ টাকা দিচ্ছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা। সব মিলিয়ে ১০০ টাকার মতো। কিন্তু খোলা বাজারে ডলার ১১৮ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর মানে ব্যাংকিং চ্যানেলের চেয়ে ভিন্ন পথে রেমিট্যান্স এলে বেশি টাকা পাওয়া যাচ্ছে, যার কারণে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ কম। তাই ব্যাংক ও খোলা বাজারের মধ্যে ব্যবধান না কমলে প্রবাসী আয় বাড়ানো কঠিন হবে।

সদ্য সমাপ্ত জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০৯ কো‌টি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পা‌ঠি‌য়ে‌ছেন, স্থানীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। জুলাইয়ে তার আগের মাস জুনের চেয়ে প্রায় ২৬ কোটি ডলার বেশি এসেছে। জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার। মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছর জুলাই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার।  

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দুই হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ (২১ দশমিক ৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১১ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ (২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট নিরসনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ধারাবাহিক কমাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারে কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ৯৫ টাকা। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি আমদানি বিল মেটাতে এ দরে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে। নিয়ম অনুযায়ী এটিই ডলারের আনুষ্ঠানিক দর।

তবে বিভিন্ন ব্যাংক ও কার্ব মার্কেটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ (বৃহস্পতিবার) ব্যাংকগুলো আমদানি বিলের জন্য নিচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত, নগদ ডলার বিক্রি করছে ১০৮ থেকে ১১০ টাকা দরে। আর ব্যাংকের বাইরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১১৮ থেকে ১২০ টাকা দরে।

আগস্ট   রেমিট্যান্স   টাকা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ব্যাংকের ডলার জালিয়াতি গভীর ষড়যন্ত্র, দরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ব্যাংকের ডলার জালিয়াতি গভীর ষড়যন্ত্র, দরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

বাংলাদেশে ছয়টি ব্যাংক ডলার নিয়ে নয়ছয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে এই নয়ছয় ধরা পড়েছে এবং এ জন্য এই ছয়টি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, মার্কিন ডলারের বাজার অস্থিতিশীল করে অতিরিক্ত মুনাফা করায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং সাউথইস্ট ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্তত পাঁচটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে পূর্বেও মানি লন্ডারিংসহ নানা রকম অভিযোগ ছিল। কিন্তু সেই সব অভিযোগ উপেক্ষা করা হয়েছে। মাঝপথে অদৃশ্য কারণে তদন্ত থেমে গেছে। ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ট্রেজারি প্রধানদের অব্যাহতি দিলেই শাস্তি হবে না, এই ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠিন এবং দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ এই ব্যাংকগুলোর ডলার জালিয়াতির ঘটনা শীর্ষ পর্যায় থেকে হয়েছে। এ জন্য ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে শুরু করে এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সবাইকেই আইনের আওতায় আনা উচিত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশে গত কিছুদিন ধরেই ডলারের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খোলাবাজারে ডলারের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ডলারের দাম হুহু করে বেড়েছে। বুধবার খোলাবাজারে ডলারের মূল্য ছিল ১১৯ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার টাকার সঙ্গে ডলারের মূল্য সমন্বয় করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এটি একটি উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে গেছে। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে, কয়েকটি ব্যাংকের কারসাজির কারণেই এই ডলারের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এই ব্যাংকগুলোর জালিয়াতির কারণেই ডলার দুষ্প্রাপ্য হচ্ছে এবং এটি শুধু যে ব্যবসায়িক মুনাফা লাভের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা হচ্ছে এমনটি নয়, এর পেছনে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। সরকারকে বিপদগ্রস্ত করা এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার একটি নীল নকশার বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত এই ছয়টি ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের পুরনো অভিযোগ রয়েছে। এই ব্যাংকে এক সময় কাজ করতেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি নেতা মোরশেদ খানের জামাতা। এ সময় অর্থ পাচারে এই ব্যাংকটির ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। মোরশেদ খানের জামাতা এই ব্যাংকে থাকা অবস্থায় মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। এ জন্য তাকে দুদক ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সে সময় মোরশেদ খানের জামাতা দুদকের কাছে স্বীকার করেছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মানি লন্ডারিংয়ে জড়িত। বহুজাতিক ব্যাংকের সুবিধা নিয়ে এই ব্যাংকের মাধ্যমেই প্রচুর পরিমাণে টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর এটি নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। এ ধরনের অনেক অভিযোগ আছে এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে। কিন্তু এই অভিযোগগুলো কখনই খতিয়ে দেখা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, যেহেতু এটি একটি বহুজাতিক ব্যাংক, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময় তাদের ব্যাপারে নমনীয় থাকে। ডলার জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত দ্বিতীয় ব্যাংকটি হলো প্রাইম ব্যাংক। প্রাইম ব্যাংকের অন্যতম মালিক আজম জে চৌধুরী। বর্তমানে তার  ছেলে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজম জে চৌধুরী ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা, অসত্য, মানহানির মামলা করেছিলেন। এই মামলার কারণেই আওয়ামী লীগ সভাপতিকে কারাবরণ করতে হয়েছিল এবং প্রায় ১১ মাস কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকলেও আজম জে চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বরং এ সময় তার বিপুল বিত্তের প্রসার ঘটেছে। আজম জে চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ওভার ইনভয়েসিংয়ে মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ থাকার পরও সেগুলোর তদন্ত বেশি দূর এগোয়নি। ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল গরিব মানুষের অর্থায়নে। ব্র্যাক যে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল, সেই ক্ষুদ্র ঋণের টাকা যখন স্ফীত হয়, তখন ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। বলা হয়েছিল যে, দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতির মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কিন্তু এই ব্যাংকটি ক্রমশ এখন এলিট ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতা ও গরিব মানুষ এই ব্যাংকের বারান্দাতেও যেতে পারে না। বড়লোকদের টাকা রাখা এবং এসব টাকা বিদেশে পাচার করার একটি অন্যতম বাহন হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক ব্যবহৃত হয় বলে একাধিক অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। ব্র্যাক ব্যাংক যখন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তখন এই ব্যাংকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন করেছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ড. মোজাফফর আহমেদ। কিন্তু খুঁটিনাটি আইনগত জটিলতার কারণে সেই রিটটি শেষ পর্যন্ত টেকেনি। কিন্তু গরিব মানুষের ক্ষুদ্র ঋণের টাকা দিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক যে বিশাল সাম্রাজ্য করেছে, তা এখন আর্থিক অনিয়মের অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ক্রেতা এই ব্যাংকে নানারকম প্রতারণার শিকার হয়েছে এবং সেগুলোর সঠিক প্রতিকার হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন রিপোর্টে দেখা যায়, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ৪৮টি গ্রাহক প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু এসবের একটিও তদন্ত হয়নি। ‘ব্র্যাক ব্যাংক’ ব্র্যাক নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান। ব্র্যাকের বর্তমান চেয়ারপারসন হোসেন জিল্লুর রহমান। যিনি ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম কুশীলব। যিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সুপারিশেই তিনি ২০০৭ সালে অনির্বাচিত সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

সিটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংসহ নানারকম অভিযোগ দীর্ঘদিনের পুরনো। এই ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের প্রায় পুরোটাই দখল করে রয়েছে পারটেক্স গ্রুপ। যে পারটেক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। পারটেক্সের প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির একজন এমপি ছিলেন এবং বিএনপির অন্যতম অর্থদাতা ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার সন্তানরাও বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সিটি ব্যাংকের কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার বলে অনেকেই মনে করছেন। এর আগে সিটি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এসেছিল। কিন্তু সেই অভিযোগ নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অদৃশ্য কারণে এক ধরনের নীরবতা পালন করেছেন। এই ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক সুশীল সমাজের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের একাধিক অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে থাকলেও সে সব অভিযোগের তদন্ত বেশিদূর এগোয়নি। কেন এগোয়নি সেটিও একটি বড় প্রশ্ন বটে। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এই ব্যাংকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের পাঁচটি অভিযোগ উঠলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তা তদন্তে আগ্রহ দেখায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, এই ব্যাংকগুলো চাহিদার চেয়ে বেশি ডলার কিনে রেখেছে এবং সেই ডলারগুলো অতিরিক্ত দামে বিক্রি করেছে। যে দামে ডলার কিনেছে তার চেয়ে ২৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল যখন এই ব্যাংকগুলোতে যায়, তখন তারা দেখতে পায় যে, তাদের যে চাহিদা ছিল সেই চাহিদার চেয়ে বেশি ডলার তারা কিনে সংগ্রহ করে রেখেছে। অর্থাৎ বাজারে যে ডলার সংকট, সেই ডলার সংকট সৃষ্টির পেছনে এই ছয়টি ব্যাংকের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। আর এই ডলার সংকট থেকেই মুদ্রাস্ফীতির সৃষ্টি হয়েছে। ডলার সংকটের কারণেই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং জনগণের মধ্যে যা নিয়ে এক ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাই অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, যে ছয়টি ব্যাংক এই কাজটি করেছে, তারা পরিকল্পিতভাবে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের জন্য এই ধরনের ঘৃণ্য তৎপরতার সঙ্গে জড়িত ছিল এবং শুধু ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা ট্রেজারি প্রধানের দ্বারা এ ধরনের অপকর্ম করা সম্ভব নয়। এর পেছনে রয়েছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং ভূমিকা। একজন ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, পরিচালনা পর্ষদ, মালিক এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সম্মতির বাইরে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে না। তাই বাজারে ডলারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা, জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এবং সরকারকে বিপদে ফেলার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই ব্যাংকগুলো কাজ করেছে। এই ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে শুধু ব্যাংকিং আইনে নয়, বরং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এবং একই সঙ্গে এই ব্যাংকের মালিকানা এবং ব্যবস্থাপনা পর্ষদে যারা যুক্ত রয়েছে, তাদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এই ছয়টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে আগামীতে অন্য ব্যাংকও এসব ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হবে। তখন অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

ব্যাংক   ডলার   জালিয়াতি   ষড়যন্ত্র   শাস্তি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন