ইনসাইড ইকোনমি

বাজারে সবজিসহ সকল পণ্যের দাম চড়া

প্রকাশ: ০১:০২ পিএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাজারে সবজিসহ সকল পণ্যের দাম চড়া

হঠাৎ করেই জ্বলানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে নিত্যপণের পণ্যের দাম। ব্যাবসায়ীরা বলছেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পণ্যবাহী ট্রাকের খরচ। যার ফলে সবজি থেকে শুরু করে সব কিছুর দামই বেড়েছে।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজি থেকে শুরু করে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দামে বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগেও ছিলো ১৬০ টাকা থেকে ১৬৫ তাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগির বর্তমান দাম  বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা কজিতে। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।

মুরগির দামের বিষয়ে এক ব্যবসায়ী জানায়, ব্রয়লার মুরগির দাম এমনিতেই বেশি ছিলো। গত সপ্তাহে তেলের দাম বাড়ায় এখন সেই দাম আরও বেড়ে গেছে। পাইকারিতে প্রতিদিনই ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই ব্রয়লার মুরগির কেজি আড়াইশ টাকা হয়ে যেতে পারে বলে জনাইয়েছেন তিনি।
 
ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি অস্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম। দাম বেড়ে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম ১৪৫ টাকা। বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। আর মুদি দোকানে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ডিমের ডজন ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। পাশাপাশি বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম।  তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমেছে।

ডিমের দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের আরেক ব্যবসায়ী জানায়, গত কয়েকদিনে মুরগির দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। মুরগির দাম বাড়ার প্রভাব ডিমের দামে পড়ছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। ২৫০ গ্রাম শিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। তবে কেউ এক কেজি কিনলে ১৯০ টাকা রাখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ২৫০ গ্রাম শিম বিক্রি হয় ৪০ টাকা।

শিমের পাশাপাশি দাম বেড়েছে পাকা টমেটোর। গত সপ্তাহে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকা টমেটো এখন ১০০ থেকে ১৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর গাজর গত সপ্তাহের মতো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটিও গত সপ্তাহের মতো ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে শসার দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসা এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি, ঝিঙে, চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানায়, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব সবজির দাম বেড়েছে। এর মূল কারণ তেলের দাম বাড়ানো। তেলের দাম বাড়ানোর কারণে পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে সবজির দামে। তেলের দাম না বাড়লে এখন সব সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা কম থাকতো।

ডিম, মুরগি ও সবজির দাম বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ ও আলুর দাম। পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৩০০ টাকায় উঠেছিল।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৯০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৬০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব মাছের দামে কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ইলিশও। এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা। ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

বাজারে   সবজিসহ   সকল পণ্যের   দাম চড়া  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

রেমিট্যান্স: ৭ মাসে সর্বনিম্ন সেপ্টেম্বরে

প্রকাশ: ০৭:৩২ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail রেমিট্যান্স: ৭ মাসে সর্বনিম্ন সেপ্টেম্বরে

বৈধ চ্যানেলে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমে গেছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ১৫৪ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। এই অঙ্ক গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রোববার (২ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ (প্রায় ১.৫৪ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের এ অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার বা ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। 

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। শুধু তাই নয়, সেপ্টেম্বরের প্রবাসী আয়ের এই অঙ্ক গত ৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ১৪৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। সেপ্টেম্বরের চেয়ে কেবল ওই মাসে কম এসেছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত অন্য সব মাসে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।

চলতি অর্থবছরের টানা দুই মাস ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স বৈধ পথে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগস্ট মাসে ২০৩ কো‌টি ৭৮ লাখ (২ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। তার আগের মাস জুলাইয়ে এসেছিল ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। জুলাই মাসে পবিত্র ঈদুল আজহার কারণে বেশি পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছিল। তবে আগস্টে বড় উৎসব ছিল না, তারপরও  প্রবাসী আয় ২০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। 
 
সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১২৬ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬১ লাখ মার্কিন ডলার। আর বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২ কোটি ৪১ মার্কিন ডলার।

আলোচিত সময়ে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বরাবরের মতো বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির মাধ্যমে প্রবাসীরা ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। এরপর সিটি ব্যাংকে এসেছে ১১ কোটি ২৮ লাখ ডলার, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ১০ কোটি ৭২ লাখ ডলার, অগ্রণী ব্যাংকে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকে এসেছে ৭ কোটি ৯২ লাখ ডলার প্রবাসী আয়।

আলোচিত সময়ে সরকারি বিডিবিএল, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক, বিদেশি ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।

এখন বিদেশ থেকে যেকোনো পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাতে কোনো ধরনের কাগজপত্র লাগে না। এছাড়া প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার।

এদিকে ডলারের সংকট নিরসনে এবং প্রবাসী আয় বাড়াতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নিজেরাই বসে ডলারের দাম নির্ধারণ করছে। এতে প্রবাসীরা ডলারের দাম ভালো পাচ্ছেন।

বাফেদার ঘোষিত দাম অনুযায়ী, এখন দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা ৫০ পয়সায় কিনতে পারবে ব্যাংকগুলো। গত মাসে (সেপ্টেম্বর) সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমেছে ৬.২৫ শতাংশ

প্রকাশ: ০৫:৩০ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail সেপ্টেম্বরে রপ্তানি কমেছে ৬.২৫ শতাংশ

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও গ্যাস সংকটের কারণে সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন দেশে ৩৯০ কোটি ৫০ লাখ ডলার (৩ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার) পণ্য রপ্তানি করেছেন উদ্যোক্তারা। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কম। সেপ্টেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সরকারের।

রোববার (২ অক্টোবর) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অবশ্য সার্বিকভাবে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের রপ্তানি ইতিবাচক ধারাতেই আছে। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রয়েছে। এ সময়ে ১ হাজার ২৪৯ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের প্রথম তিন মাসে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ১০২ কোটি ডলারের পণ্য।

উদ্যোক্তারা বলছেন, রপ্তানি আয় কমবে, এটা আগে থেকে অনুমেয় ছিল। সামনের মাসেও রপ্তানি কমার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। তারা পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছে। সে কারণেই রপ্তানি আয় কমছে। সহসাই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে না বলে জানান এই ব্যবসায়ী।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর পোশাক রপ্তানিতে ১৩ দশমিক ৩৮ শতাংশের বেশি, পাট ও পাটজাত দ্রব্যে ১৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্যে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও চামড়াজাত পণ্যে ২০ দশমিক ৮৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় কম আয় হয়েছে একাধিক পণ্যে। কৃষিপণ্যে ১৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ, কেমিক্যাল পণ্যে ২৩ দশমিক ২৮ শতাংশ ও কাচঁজাত পণ্যে ৫২ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম আয় হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫ টাকা

প্রকাশ: ০৪:২০ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫ টাকা

দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এবার কমেছে। এখন ১২ কেজির সিলিন্ডারের এলপিজি কিনতে ১ হাজার ২০০ টাকা লাগবে। এত দিন এ জন্য দিতে হচ্ছিল ১ হাজার ২৩৫ টাকা। সে হিসাবে ১২ কেজি এলপিজির দাম কমল ৩৫ টাকা। একইসঙ্গে অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে।

রোববার (২ অক্টোবর) ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেন বিইআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু ফারুক। এ সময় সচিব খলিলুর রহমান, সদস্য মোকবুল-ই ইলাহিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যক্ত ছিলেন। নির্ধারিত নতুন দাম আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকেই কার্যকর হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, অক্টোবর মাসে প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০১ টাকা ১ পয়সা, যা সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ১০২ টাকা ৮৮ পয়সা, আগস্ট মাসে ছিল ১০১ টাকা ৬২ পয়সা। দাম কমানোর ফলে অক্টোবর মাসে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডারের দাম পড়বে ১ হাজার ২০০ টাকা, যা সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ১ হাজার ২৩৫ টাকা এবং আগস্ট মাসে ছিল ১ হাজার ২১৯ টাকা।

অন্যদিকে অক্টোবর মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৫৫ টাকা ৯২ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন, যা সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ৫৭ টাকা ৫৫ পয়সা। এই হিসাবে সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে দাম কমেছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা।

জানা গেছে, এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এ দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

আগামীকাল দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ

প্রকাশ: ০২:৫৯ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail আগামীকাল দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আগামীকাল (৩ অক্টোবর) দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান পূর্ণদিবস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সোনা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

রোববার (২ অক্টোবর) বাজুসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. তানভীর আহমেদের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মহাঅষ্টমী পূজার দিন অর্থাৎ আগামীকাল (৩ অক্টোবর) সোমবার সারাদেশে সব জুয়েলারি দোকান পূর্ণদিবস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস। ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল সব জুয়েলারি দোকান বন্ধ থাকবে।

এদিকে স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমেছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হ‌য় গত ২৬ সেপ্টেম্বর। যা ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে কার্যকর আছে।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম এক হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ৮১ হাজার ২৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৯১ টাকা কমিয়ে ৭৭ হাজার ৬২৪ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের দাম কমানো হয়েছে ৯৩৩ টাকা, এখন বিক্রি হবে ৬৬ হাজার ৪৮৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে ৭০০ টাকা, কাল থেকে বিক্রি হয়েছে ৫৫ হাজার ১৭১ টাকা।

রুপার দাম ক্যাটাগরি অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১ হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ১ হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ১ হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকা অপরিবর্তিত আছে।

আগামীকাল   দেশের   সব জুয়েলারি   প্রতিষ্ঠান বন্ধ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড ইকোনমি

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ডলারের মূল্যবৃদ্ধি: ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’

কোভিড-১৯ মহামারি থেকে বের হতে না হতেই ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সারা বিশ্ব। রাশিয়া-ইউক্রেনের এই চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে পুরো বিশ্বে। আর এই দুই সমস্যার মাঝখানে মরার উপর খাড়ার ঘা ফেলেছে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি। শুধুমাত্র যে সকল দেশ ডলারের বিপরীতে অর্থের মান ধরে রাখতে পেরেছে তারাই ভালো আছে। আর আমদানি করা দেশগুলো পড়েছে সব থেকে বিপদে। বাংলাদেশেরও সেই একই অবস্থা। ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে মূলত বেশ কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে শুধুমাত্র বাংলাদেশ না, মূলত এশিয়ার বেশ কিছু দেশ বিদেশ থেকে মূল্যস্ফীতি যেন আমদানি করছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার মান ১০৭ টাকা। গত কয়েক মাসে কয়েক দফা ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় আন্তর্জাতিক মধ্যবর্তী  মুদ্রা হিসেবে ছিল ব্রিটিশ পাউন্ড। সে সময় দেখা যায় বাংলাদেশের  টাকার বিপরীতে পাউন্ডের বিনিময় হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৩ টাকা এবং ১৯৭২ সালে দেশে ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৭ দশমিক ৮৭৬৩টাকা। এরপর ১৯৮৩ সাল থেকে মধ্যবর্তী  মুদ্রা  হিসেবে ডলার ঠিক করা হলে দেখা যায় ২০০৪ সালে তা বেড়ে হয় ৫৯ দশমিক ৬৯ টাকা। অর্থাৎ সেই  ৩২ বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান কমেছে ৮৭ শতাংশ। আর এখন সেই ডলারের মূল্যমান ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ পরের ১৮ বছরে টাকার মান কমেছে আরও ৩২ শতাংশ। এর অর্থ হচ্ছে ডলার ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে, টাকা সেভাবে শক্তিশালী হতে পারেনি। 

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ সব থেকে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা হলো মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশকে অনেকটাই সতর্ক পদক্ষেপ ফেলতে হচ্ছে । অনেকেই মূল্যস্ফীতিকে বলেন এক ধরনের বাধ্যতামূলক কর। কেননা এ জন্য মানুষকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হয়। মূল্যস্ফীতি হলে মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। বাংলাদেশ এখনো সেই অবস্থানে না গেলেও এ নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ। মূল্যস্ফীতিকে অর্থনীতিবিদরা  দুই ভাগে ভাগ করেন। সেটি হল মৃদু মূল্যস্ফীতি ও অতি মূল্যস্ফীতি। মৃদু মূল্যস্ফীতি যে কোন দেশের জন্য ভালো কারণ এর ফলে দেশে এটি আস্তে ধীরে বাড়তে থাকে,মানুষ নিজেকে মানিয়ে নিয়ে নিজের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ায়, বিনিয়োগ করে ফলে সমস্যা হয় না। কিন্তু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লে এর সঙ্গে কেউই তাল মেলাতে পারে না। ফলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমায় আরও দুটি ক্ষতি করছে  বাংলাদেশের। প্রথম ক্ষতিটি হল বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে পর্যটকদের বাড়তি খরচ হচ্ছে অর্থাৎ দেশের বাইরে যেতে হলেই বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়া যেসকল শিক্ষার্থী দেশের বাইরে পড়তে যাচ্ছেন কিংবা যারা চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন তাদের ফ্লাইট টিকিট কেনা কিংবা সেই দেশে গিয়ে থাকতে বাড়তি আরও অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। কারণ এসকল স্থানে ডলারের মাধ্যমে লেনদেন হয় এবং অপরদিকে আমদানি ব্যবসায়ীদেরও বিদেশি পণ্য আমদানি করতে অনেক খরচ করতে হয়। বিদেশি পণ্য আমদানিতে খরচ বাড়লে স্বভাবতই দেশে সেই পণ্যের দাম আরও বেড়ে যায় যা ক্রেতার একদম নাগালের বাইরে চলে যায়।

ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমার পেছনের কারণ এখনি বের করতে হবে। আর এই পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকেই নিতে হবে। ঠিক কি কারণে টাকার মান কমছে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের খুঁজে বের করতে হবে। আর কি কারণে দেশে ডলারের রেমিট্যান্স আসা বন্ধ হয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখে তার বিপরীতে স্বল্পমেয়াদী  কিংবা প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নিতে হবে। আর প্রবাসীরা যাতে দেশে ডলার প্রেরণ করতে উৎসাহিত হন সেটিও খেয়াল রাখতে হবে বাংলাদেশ ব্যংকে৷ তাহলেই এই সমস্যার সমাধান করা সহজ হবে।

ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে চলতি বছর মে মাসে চারটি তদারকি দল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে করা এই চারটি তদারকি দল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পরিদর্শন শুরু করেছিল। বর্তমানে ডলারের দাম বৃদ্ধি রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।

ডলার   মূল্যবৃদ্ধি   অর্থনীতি   বাণিজ্য   রেমিট্যান্স  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন