ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিতে উল্লাস: হরতালের আভাস

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ০৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বিএনপিতে উল্লাস: হরতালের আভাস

গতকাল মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বিএনপির জন্য আনন্দময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। বিএনপি নেতারা এ নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে। আজ বিএনপির নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে বিএনপি নেতাদেরকে উল্লসিত অবস্থায় দেখা যায়। একে অন্যের সঙ্গে কোলাকুলিও করেছেন। বিএনপির নেতারা বলছেন যে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে যে সংকট তৈরি হবে সেই সংকট সরকার সামাল দিতে পারবে না। এর ফলে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনগণ এমনি এমনি চলে আসবে। বিএনপি মনে করছে যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তাদের যে আন্দোলন সেই আন্দোলন নতুন প্রাণ পাবে। এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিএনপি কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচি পালনকালে ভোলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেখানে বিএনপির দুজন নেতা মারা যায়। এর ফলে বিএনপির মাঠের আন্দোলন বেগবান হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতেই আবার রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জন অসন্তোষ বাড়বে বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন।

বিএনপি এখন প্রতিদিন কিছু না কিছু কর্মসূচি দিচ্ছে। বিএনপির ভেতরে হরতাল দেওয়ার চাপ রয়েছে। তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত হরতালের পথে যায়নি। এমনকি ভোলায় পূর্ণ দিবস হরতাল দিয়ে সেখান থেকে বিএনপিকে পিছু হটতে হয়েছে। দুপুর বারোটার পর হরতাল প্রত্যাহার করা করা হয়েছে। বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিকরা বিএনপিকে হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এখন যখন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি হলো তখন হরতাল একটা গণদাবী বলে বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুতেই সরকারকে বড় ধরনের চাপে ফেলা যাবে এবং এ কারণেই বিএনপি নেতারা এখন হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচির অপেক্ষায় আছে।

বিএনপির একজন নেতা বলছেন যে, যেভাবে মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে তা জনগণ মেনে নিতে পারবে না এবং জনগণের জন্য এই ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। কাজেই, জনগণ রাস্তায় নামবে। বিএনপি অবশ্য বলছে যে, হরতাল দিবে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। ইতিমধ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের লক্ষ্যে বিএনপি ২০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছিল। এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি অভিন্ন আন্দোলনের রূপরেখা তারা তৈরি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এখন যখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করলো তখন আর সময়ক্ষেপণ করা উচিত নয় বলেই বিএনপির কিছু কিছু নেতা মনে করছেন।

বিএনপির কোনো কোনো নেতা বলছেন যে, আন্দোলনের এখনই সময়। এখন যদি বড় ধরনের আন্দোলন করা যায় তাহলে সেটি খুব সহজেই সফল হবে এবং সেই আন্দোলনকে নির্বাচন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে। তবে বিএনপি এখনো হরতাল দেবে কিনা বা কতদূর পর্যন্ত আন্দোলন করবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি তিন দিনের কর্মসূচি ৮ তারিখে শেষ হবে, তার মধ্যেই হরতাল দেয়া হতে পারে। তবে বিএনপির কোনো কোনো শরিকদের মধ্যে হরতাল ঘোষণার চাপ রয়েছে। এমনকি বাম গণতান্ত্রিক মোর্চাও হরতাল ডাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপি মনে করছে যে, এই প্রথম সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটা বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই সুযোগ থেকে তারা হাতছাড়া করতে চায় না। সামনে দিনগুলোতে জ্বালানি তেলের ইস্যুই আন্দোলনের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিএনপি ব্যবহার করবে বলে জানা গেছে।

বিএনপি   হরতাল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

লাঠি হাতে রাজপথে বিএনপি, লাভবান আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail লাঠি হাতে রাজপথে বিএনপি, লাভবান আওয়ামী লীগ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চায়ের দাওয়াতে সাড়া না দিয়ে রাজপথে বিএনপির অবস্থানকে দলটির উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দলটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের চেষ্টা করছে। তাদের আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছে গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘‘বিএনপি যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করতে আসে, তাহলে তাদের বাধা দেয়া হবে না। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলে চা খাওয়াব, বসাব, কথা বলতে চাইলে শুনব।’’ কিন্তু বিএনপি কি সেই পথে হাটছে? প্রশ্ন জনমনে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি লাঠি হাতে নিয়ে যে দাবির সপক্ষে রাজপথে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে তাতে আওয়ামী লীগ বেশ ভালোভাবে লাভবান হচ্ছে। আর বিএনপির অবস্থা খাল কেটে কুমির আনার মতো। কারণ দলটির এখন সহিংস আন্দোলনের পথ অবলম্বন করছে। তাদের অতীতের এই ধরনের আন্দোলন কখনোই সফলতার মুখ দেখেনি বরং সহিংতার জন্য দলটি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবেই পরিচিত পেয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি তাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন কিন্তু তারপরও বিএনপির এই সহিংস আন্দোলন দলটিকে আবার জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

বিএনপি সরকারকে চাপে ফেলতে আন্দোলনের পাশাপাশি কূটনীতিক তৎপরতাও চালাচ্ছে। কূটনীতিক বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তারা বিএনপির দাবিগুলোর ব্যাপারে অবগত আছেন। আর এব্যাপারে তারা আলোচনার টেবিলকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। বিএনপির প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ সভাপতিও তাদের চায়ের দাওয়া দিয়েছেন। কিন্তু দলটি সেই পথে না গিয়ে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে উসকে দিচ্ছেন এবং সভা সমাবেশগুলোতে লাঠিসোটা দিয়ে আসার জন্য নিদের্শ দিচ্ছেন।এভাবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির এ ধরনের লাঠি মিছিল-সমাবেশে সরকার তো চাপে পড়ছেই না। বরং আওয়ামী লীগ এক অর্থে লাভবান হচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগ সব সময় অভিযোগ করে আসছে যে, বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলন না করে সহিংস করে থাকে। তার সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে জনমালের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটায়। তারা আলোচনায় বিশ্বাস করে না বরং লাশের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার অপচেষ্টা করে। এধরনের একাধিক উদাহরণ বিএনপি রেখেছে। আর এ সমস্ত অভিযোগগুলো কূটনৈতিক পাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিএনপির বিগত আন্দোলনগুলোতে। 

২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে হরতাল অবরোধ প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা তাকে টেলিফোন করেছিলেন। গণভবনে নৈশভোজের দাওয়াত দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। খালেদা জিয়ার বেঁধে দেওয়া দুদিনের সময়সীমার মধ্যেই তিনি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন কিন্তু হরতাল প্রত্যাহার করেননি বেগম জিয়া। শেখ হাসিনার নৈশভোজের দাওয়াতও তিনি গ্রহণ করেননি। এরপর ২০১৫ সালে বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের মুত্যু হলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে তাঁর গুলশান কার্যালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি শেখ হাসিনাকে। তিনি বাইরে প্রায় ৩৬ মিনিট অপেক্ষা করে ফিরে এসেছিলেন। 

অতীতে পথ ধরে এবারও বিএনপি সহিংসতার পথেই হাটছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন। আর ক্ষমতাসীন দল সুযোগ পাচ্ছে বিএনপির জ্বালাও পোড়াও, লাঠি মিছিলের চিত্র বহিবিশ্বে তুলে ধরতে। এর মধ্য দিয়ে বিএনপির সন্ত্রাসী চিত্র আবার বিশ্বের সামনে উন্মাচিত আর লাভবান হবে আওয়ামী লীগ।

লাঠি হাতে   রাজপথে   বিএনপি   লাভবান   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

টুকুকে ‘স্টুপিড’ বললেন তারেক

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail টুকুকে ‘স্টুপিড’ বললেন তারেক

কদিন আগে রাজধানীর হাজারীবাগে বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু। ওই অনুষ্ঠানে ইকবাল মাহমুদ টুকু কিছু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য বলেন। তিনি বলেছেন যে, তাহলে কি আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের পরকীয়া চলছে? এই বক্তব্য অনুষ্ঠানের সভাস্থলেই অনেকের মধ্যে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাড়ায়। কেউ কেউ তখনই মুখ চাওয়া চাওয়ি করে এবং একে অন্যের সঙ্গে এই নিয়ে কথাবার্তা বলে। মঞ্চে উপস্থিত বিএনপির কয়েকজন নেতাও এর প্রতিবাদ করেন। এই বক্তব্যের পরপর জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়েছে এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যের ওই বক্তব্যকে অশালীন বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিএনপির মধ্যে যারা জামায়াতপন্থী আছেন, তারাও এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা ইকবাল মাহমুদ টুকুকে টেলিফোন করে এ ধরনের বক্তব্যে না রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্য কেন রাখা হয়েছে এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন। 

বিএনপিতে জামায়াতপন্থী নেতাদেরই কেউ কেউ টুকুর এই বক্তব্য লন্ডনে পাঠিয়েছেন। অবশ্য বিএনপির কোন কোন নেতা বলছেন কোন নেতাকে লন্ডনে বক্তব্য পাঠানোর প্রয়োজন নেই। বরং তারেক জিয়া নিজেই  কোথায় কি হচ্ছে সে সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন এবং তিনি নিজেই টুকুর বক্তব্য সম্পর্কে জেনেছেন। জানার পর তিনি গতকাল ইকবাল মাহমুদ টুকুকে টেলিফোন করেছেন বলে একাধিক বিএনপির সূত্র নিশ্চিত করছে। টেলিফোনে টুকুর সঙ্গে তারেক জিয়ার ১৫ মিনিট কথবার্তা হয় এবং এই ১৫ মিনিটের আলাপচারিতায় তিনি টুকুকে তীব্র ভাষায় গালমন্দ করেছেন এবং এক পর্যায়ে ষ্টুপিড বলেছেন। বিএনপির একাধীক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই ধরনের বক্তব্য ভবিষ্যতে রাখা হলে তাকে স্থায়ী কমিটিতে রাখা হবে কিনা এ ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন তারেক জিয়া। উল্লেখ্য যে ১৯৯৭ সাল থেকেই জামায়াত বিএনপির রাজনৈতিক অংশীদার। ২০০১ এর নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে চার দলীয় জোট অংশগ্রহন করেছিল। ওই নির্বাচনের পর  জামায়াতকে নিয়েই মন্ত্রীসভা গঠন করে বিএনপি। দুইজন যুদ্ধাপরাধীকে মন্ত্রিসভার দুটি পদ দেয়া হয়। 

২০০৬ পর্যন্ত ওই সরকারে আমলে জামায়াতের ব্যাপাক উত্থান ঘটে। ওয়ান ইলেভেনের পর বিএনপির নেতারা নানা রকমভাবে হয়রানি এবং গ্রেফতারের মুখোমুখি হলেও সেই সময় জামায়াতের কোন নেতার গায়ে আচরণ পড়েনি। বরং এই সময় জামায়াত নিজেদের সংগঠনকে আরও  নিস্তৃত করে। এরপর ২০০৮ এর নির্বাচনে জামায়াত বিনপির জোট অব্যাহত থাকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপির পদাঙ্গ অনুস্মরণ করে জামায়াত নির্বাচন বর্জন করে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া একাধিকবার বক্তৃতায় বলেছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে তাদের রক্তের সম্পর্ক। বিনপির আরেক নেতা বলেছেন জামায়াত আর বিএনপি হল আপন দুই ভাইয়ের মত। সাম্প্রতিক সময়ে নানা কৌশলগত কারণে বিএনপির সাথে জামায়াতের টানা-পোড়েন চলছে। তবে অনেকেই মনে করেন যে, এটি একটি রাজনৈতিক কৌশল। জামায়াতের ব্যাপারে বিভিন্ন মহলের আপত্তির কারণেই এখন বিএনপি জামায়াতের থেকে প্রকাশ্যে দূরে রয়েছে। কিন্তু গোপনে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার এ ধরনের বক্তব্য দুই ভাইয়ের সম্পর্কের মধ্যে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই অবস্থায় জামায়াতের নেতারা বিএনপির মুরুব্বিদের কাছে নালিশ করেছেন। তার ফলেই টুকুকে তারেক জিয়ার গালমন্দ শুনতে হল বলে বিএনপির বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির আন্দোলন: নেপথ্যে যারা

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail বিএনপির আন্দোলন: নেপথ্যে যারা

বিএনপি এখন সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায় অন্যান্য বারের চেয়ে তারা এবার অনেক আশাবাদী। বিএনপি নেতারা বলছেন দেখেন, কিছু একটা ঘটবে। আন্দোলন সামনের দিনগুলোতে আরও বেগবান করবে বলে বিএনপি নেতারা বলছেন। নির্বাচনের বাকি এখনো প্রায় দেড় বছর। দেড় বছর আগে থেকেই বিএনপি আন্দোলনে মারমুখী আচরণ করছে কেন এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন। আবার বিএনপি এত আগে থেকে আন্দোলন করে সে আন্দোলন ধরে রাখতে পারবে কিনা সে নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলে। কিন্তু এসব সংশয়ের জবাবে বিএনপি নেতারা এখন পর্যন্ত আশাবাদী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন বিএনপি একক ইচ্ছায় বা একক শক্তিতে আন্দোলন করছে না। বরং বিএনপির আন্দোলনের পেছনে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন কিছু কিছু মহল। যারা বিএনপিকে রাজপথে নামার জন্য প্রলুব্ধ করেছে এবং রাজপথে মেনে সরকার পতনের প্রলোভন দেখিয়েছে। যে সমস্ত ব্যক্তিরা বিএনপির এই আন্দোলনকে উৎসাহিত করছে এবং যাদের আগ্রহের কারণে বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে তাদের কিছু নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূলত সুশীল সমাজের একটি অংশ এবং বিভিন্ন পশ্চিমা মহল বিএনপিকে আন্দোলনের প্রলুব্ধ করছে। বিএনপির আন্দোলন করে একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে এবং সেই পরিস্থিতিতে কোনো কোনো মহল ফায়দা লুটবে- এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির আন্দোলন এগোচ্ছে বলে কোনো কোনো মহল মনে করেন। বিএনপির এই আন্দোলনের নেপথ্যে যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমা কিছু মহল। পশ্চিমা কিছু মহল বিএনপিকে এখন আন্দোলনের জন্য প্রলুব্ধ করছে। কারণ বাংলাদেশের যে উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা, বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা ইত্যাদি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কিছু ঈশ্বা এবং অস্বস্তি রয়েছে। তারা মনে করছে যে, যদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা না হয় তাহলে তাদের কর্তৃত্ব এখানে প্রতিষ্ঠিত হবে না। আর বিবেচনা থেকেই পশ্চিমা দেশের কোনো কোনো মহল বিএনপিকে আন্দোলনের পথ দেখাচ্ছে বলে কেউ কেউ মনে করে।

বিএনপির আন্দোলনের নেপথ্যে সুশীল সমাজের একটি অংশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করেন। সাম্প্রতিক সময়ে অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলছে এবং এই তদন্ত গুলোতে যদি শেষ পর্যন্ত তিনি প্রাথমিকভাবে দোষী প্রমাণিত হন। তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর এ সমস্ত এড়ানোর জন্যই বিএনপিকে মাঠে নামানোর ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করেছেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। বিএনপির সাম্প্রতিক আন্দোলনের বক্তব্যগুলো একটু বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এ সমস্ত বক্তব্যগুলো সবই সুশীল সমাজের শেখানো বক্তব্য। বাংলাদেশের অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, অর্থপাচার, রিজার্ভ ইত্যাদি নিয়ে যে সমস্ত কথাবার্তাগুলো বলা হচ্ছে সেই সমস্ত কথাবার্তাগুলো প্রতিনিয়ত সুশীল সমাজ বলছেন। সুশীল সমাজের কথাগুলোই লুফে নিচ্ছে বিএনপি। তাহলে কি সুশীল সমাজের ইঙ্গিতেই বিএনপির এই আন্দোলন? স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির রচনা? বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি বিভিন্নভাবে সক্রিয়। তারা দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। আর অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা তখনই সম্ভব হবে যখন রাজনীতিতে একটি সহিংস এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আর এ কারণেই বিদেশে বসে যে সমস্ত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি কাজ করছে তারা বিএনপিকে আন্দোলন করার জন্য প্রলুদ্ধ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশে পলাতক কিছু ব্যক্তি নিরন্তর সরকারবিরোধী অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আর এই অপপ্রচারের প্রধান লক্ষ্য হলো বিএনপিকে তাকিয়ে তোলা। এখন প্রশ্ন হল যে, বিএনপি যে এই ত্রিমুখী পরামর্শে আন্দোলন করছে সেই আন্দোলনের ফল কি ঘরে তুলবে? শেষ পর্যন্ত যদি এই আন্দোলন থেকে ইতিবাচক কিছু হয় তাহলে কি বিএনপি লাভবান হবে? বিএনপির কোন কোন নেতার মধ্যেই এখন এই প্রশ্নটি বেশ বড় করে দেখা দিয়েছে।

বিএনপি   ড. মুহাম্মদ ইউনূস   সুশীল সমাজ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

অক্টোবর থেকে ঢাকায় শোডাউন করবে আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail অক্টোবর থেকে ঢাকায় শোডাউন করবে আওয়ামী লীগ

বিএনপি এখন ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এ সমস্ত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন পয়েন্টে সমাবেশ ও বিক্ষোভ। আর এসমস্ত বিক্ষোভ সমাবেশগুলো ক্রমশ সহিংস হয়ে উঠছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন এই সমাবেশে লাঠিসোটা নিয়ে যোগ দিচ্ছেন। এতে আরও উস্কানি দিচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আরও বড় লাঠি নিয়ে আসতে হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রথম লাঠিসোটা নিয়ে বিএনপি কর্মীদেরকে সমাবেশস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আজ। আর এই সমস্ত কর্মসূচির পাল্টা কোনো কর্মসূচি আওয়ামী লীগ দেবে না বলেই আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক মহল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন যে, মিরপুর এবং বনানীতে বিএনপির সমাবেশে বাধা দান বা তাদেরকে দেওয়া ইত্যাদি সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ করবে না। বরং আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী মাস থেকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তারা সভা সমাবেশ করবে। 

বিএনপির সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এই সমাবেশ করা হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ সমাবেশগুলো প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এর মধ্যে উত্তর এবং দক্ষিণ একাধিক বড় সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকা ঘিরে ঘিরে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, আগামী মাস থেকেই এই কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। যে কর্মসূচি গুলোর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ তার শক্তি এবং জনসমর্থন প্রদর্শন করবে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, সামনে দুর্গাপূজা রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সময় যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি না হয় সেজন্য আওয়ামী লীগ তার কর্মসূচিগুলোকে অক্টোবরের পরে করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। আগামী ৫ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটি এবং আগামী 9 অক্টোবর ঈদে মিলাদুন্নবী। এর পরপরই আওয়ামী লীগ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, আগামী ১০ অক্টোবরের পর থেকে বিজয় দিবস পর্যন্ত ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ। এসব কর্মসূচিতে মূলত থাকবে সভা-সমাবেশ এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করা।  আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য করেছেন যে, যদিও আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিল অধিবেশনের পাশাপাশি এই ধরনের সমাবেশগুলো করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। দেশে ফেরার পরপরই তিনি আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকবেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলের আন্দোলন মোকাবেলার ব্যাপারে এবং দলকে সংগঠিত করা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেবে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, ঢাকার যে ১৪ টি নির্বাচনী এলাকা আছে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় একটি করে সমাবেশ করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর উদ্যোগে আলাদা দুটি পৃথক পৃথক সমাবেশ করার পরিকল্পনা আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম সেটি অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের অনিষ্পন্ন জেলা, উপজেলার সম্মেলন গুলোর কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে নভেম্বরের মধ্যে কাজগুলো শেষ করা হবে। শুধু আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর নয়, ছাত্র সংগঠনগুলো  ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোকেও কর্মসূচি পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাজেই ঈদে মিলাদুন্নবীর পর থেকে আর রাজনীতির মাঠে আওয়ামী লীগ সরব হবে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতারা ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলছেন এবং কর্মসূচি পালনের বিভিন্ন চুলছেরা বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা করছেন বলেও জানা গেছে।

অক্টোবর   ঢাকায় শোডাউন   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আন্দোলন থেকে জনগণ দূরে: চিন্তিত বিএনপির নেতারা

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail আন্দোলন থেকে জনগণ দূরে: চিন্তিত বিএনপির নেতারা

বিএনপি নেতারা টানা আন্দোলন শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু  এসব কর্মসূচিতে বিএনপির কর্মীদের সহিংস রূপে দেখা যাচ্ছে। এখন কর্মসূচিগুলোতে লাঠিসোটা নিয়ে আসছেন বিএনপি কর্মীরা। আর এতে কর্মীদের মধ্যে একটা চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি এরকম সভা সমাবেশগুলো নিয়ে কর্মীরা ব্যস্ত থাকলেও নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। নেতারা উদ্বিগ্ন, তারা সন্দিহান। এভাবে কর্মসূচি কতদিন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে। উদ্বেগ এবং প্রধান চিন্তার কারণ হলো জনসম্পৃক্ততার অভার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, একথা ঠিক যে, আমরা যে কর্মসূচিগুলো করছি সেই কর্মসূচিগুলোতে কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন এবং কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরী হচ্ছে। তবে কোনো কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত সাধারণ জনগণকে আমরা সম্পৃক্ত করতে পারেনি। সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত না করতে পারলে কোন আন্দোলনে সফল হবে না। 

বিএনপির একজন ভাইস-চেয়ারম্যান বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন যে, আমরা অতীতের কর্মসূচিগুলো করেছিলাম দল এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক। যেমন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি, তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দাবিতে। এই সমস্ত কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত হয়নি। এটা বুঝাই যায় যে, সাধারণ মানুষের এসব বিষয় নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। এ ধরনের বিষয়ে সাধারণ মানুষ রাজপথেও নামবে না। এ কারণেই বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে, এমন কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে যে কর্মসূচি জনসম্পৃক্ত এবং জনগণ এই কর্মসূচি গুলোকে নিজেদের দাবি বলে মনে করে। এ কারণেই আমরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লোডশেডিং ইত্যাদি নিয়ে  কর্মসূচির ঘোষণা করেছি। কিন্তু সেই সব কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ কেন অংশগ্রহণ করতে পারছে না- এ নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে, মানুষ এখন তাদের জীবন জীবিকা নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত যে এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার মতো উৎসাহ-উদ্দীপনা তাদের নেই। জনগণ তাদের মতামত এখন রাজপথে দেওয়ার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পছন্দ করে। বিএনপির ওই নেতা বলছেন যে, আপনারা যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেখেন তাহলে দেখবেন যে, বিএনপির পক্ষে সাধারণ মানুষের এক ধরনের সহানুভূতি এবং সমর্থন রয়েছে। কিন্তু এই সহানুভূতি এবং সমর্থন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে রাস্তায় আসছে না। অন্য একজন নেতা অবশ্য বলেছেন ভিন্ন কারণ। তার মতে কর্মসূচিগুলো পুলিশের বাধা এবং বিএনপি নেতাদেরও লাঠিসোটা নিয়ে সম্মেলন স্থলে যোগ্দান একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ এই ধরনের সংঘাত সহিংসতা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে চায়। আর এ কারণেই এ সমস্ত সমাবেশগুলোতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এটি সরকারের একটি কৌশল বলে জানা গেছে। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা মনে করছেন যে, বিএনপির এই সমস্ত কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকার কারণ হলো জনগণের চিন্তা-চেতনা, মানসিকতা ইত্যাদি পাল্টে গেছে। গত এক যুগে এদেশের মানুষের  ভাবনার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে। একটা সময় যেমন ছিল হরতালের মতো কর্মসূচি গুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হতো বা মানুষ হয়ে হরতালে যেত না। কিন্ত এখন হরতাল অকার্যকর হয়ে পড়েছে। শুধু হরতাল না, একইভাবে অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো এখন আস্তে আস্তে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। আর এ কারণেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর যে চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন দরকার সেই পরিবর্তন আসছে না। বিএনপি এখনো সনাতন পদ্ধতিতে যে আন্দোলনের চেষ্টা করছে সেই আন্দোলনে জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারছে না। আর জনগণকে আকৃষ্ট না করতে পারলে এসব আন্দোলন কখনোই সফল হবে না।

আন্দোলন   জনগণ   বিএনপির নেতা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন