ইনসাইড পলিটিক্স

শরিকরা ক্ষুব্ধ: ভেঙে যেতে পারে ১৪ দল-মহাজোট

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন আওয়ামী লীগের শরিকরা। একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলই এই অস্বাভাবিক রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিকে মেনে নিতে পারেনি। ফলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এবং অনেকটাই একঘরে হয়ে পড়েছে। সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটগুলো ভেঙে যেতে পারে বলেও কেউ শঙ্কা প্রকাশ করছেন। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বা এই সমস্ত বিষয় নিয়ে জোটের মধ্যে মতপার্থক্য হতে পারে, জোটের অনেকেই একমত হতে নাও পারেন কিন্তু এই নিয়ে জোট ভাঙার কোনো শঙ্কা নেই।

গত কিছুদিন ধরেই আওয়ামী লীগের আদর্শিক জোট ১৪ দলের মধ্যে নানারকম সংকট বিরাজ করছে। ১৪ দলের অনেক নেতাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নীতি-কৌশলের প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং নিয়ে ১৪ দলের নেতারা প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করেছেন। নড়াইলে সংখ্যালঘুর ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৪ দলের নেতারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এরকম পরিস্থিতির মধ্যে অস্বাভাবিক ভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে, এটিকে ১৪ দলের শরিকরা গ্রহণ করতে পারছে না। এই মূল্যবৃদ্ধিকে তারা সমর্থনও করছে না বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় শরিকদের অন্তত দুজন নেতা বলেছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেয়া যায় না এবং মূল্যবৃদ্ধি কোনো সমস্যার সমাধান নয়। আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন বলেছেন যে, যেভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে তা অস্বাভাবিক, অগ্রহণযোগ্য। এতে সাধারণ মানুষের চাপ বাড়বে। তিনি এটিও বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা বিবেচনা না করেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে ১৪ দলের আরেক শরিক জাসদও সমালোচনা করেছে। জাসদের নেতারা প্রকাশ্যেই এইভাবে মূল্যবৃদ্ধিকে হঠকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জাসদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বাংলা ইনসাইডারকে বলেছেন, যখন মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস অবস্থা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে ঠিক সেই সময় এভাবে মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক ঘটনা। জাসদের ওই নেতা বলেছেন, কিছুদিন ধরেই সরকার জনগণের সুযোগ-সুবিধার কথা তোয়াক্কা না করে একের পর এক বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন, এটি সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। আর এ কারণেই এখন জাসদ তাদের পৃথক অবস্থান জানাবে বলেও তারা বলেছেন।

অন্যদিকে, ১৪ দলের বড় শরিক মহাজোটের অন্যতম জাতীয় পার্টি এইভাবে মূল্যবৃদ্ধিকে অবাস্তব, হটকারি এবং অন্যায্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন যে, এরকম মূল্যবৃদ্ধির জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। এই মূল্যবৃদ্ধি মেনে নেয়া যায়না। মহাজোট মূলত একটি নির্বাচনী জোট এবং মহাজোটে আওয়ামী লীগের প্রধান শরিক হলো সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টি এই জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচি করারও চিন্তাভাবনা করছে বলে জানা গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে এই মূল্যবৃদ্ধি আওয়ামী লীগের শরিকদের মধ্যে বড় ধরনের টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউই মূল্যবৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারছে না। তবে আওয়ামী লীগেরও অনেক নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও গোপনে এই মূল্যবৃদ্ধিকে সরকারের জন্য একটা বড় ধরনের নেতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছেন।

১৪ দল   মহাজোট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

৭৫ এর পরে কেমন ছিলো আওয়ামী লীগ

প্রকাশ: ১১:৫৯ এএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ৭৫ এর পরে কেমন ছিলো আওয়ামী লীগ

৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতাকে হত্যা করার পর আওয়ামী লীগ বিভ্রান্ত হয়ে যায়, বিভক্ত হয়, নেতৃত্বশূন্য হয়। অনেকে মনে করেছিলো আওয়ামী লীগ নামের দলটির অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। হয়তো হতো যদি না ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের হাল ধরতেন এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তন না করতেন। ৭৫ থেকে ৮১ পর্যন্ত সময়কে মনে করা হয় আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় দুঃসময়, কঠিনতম সময়। এ সময় আওয়ামী লীগ এক কাণ্ডারীবিহীন নৌকার মত এদিক সেদিক দিগভ্রান্তের মত ছোটাছুটি করছে। পঁচাত্তরের আগস্টে রাজনৈতিক নেতাদের অনেকের প্রকৃত চেহারা উন্মোচিত হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও এইচ এম কামরুজ্জামান যেমন মাথা নত করেননি তিনি তাজউদ্দীন আহমেদ, এম মনসুরের মতো নেতারা খুনি মোশতাকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। পক্ষান্তরে, ভীরু কিছু নেতা খুনি মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং কাপুরুষতার পরিচয় দেন। এমনকি সে সময় স্পিকার এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সভাপতি মালেক উকিল লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নিন্দা বা প্রতিবাদ জানাননি। বরং নেতিবাচক মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং ১৯৭৬ সালে যিনি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সেই মহিউদ্দিন আহমেদ খন্দকার মোশতাকের বিশেষ দূত হিসেবে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সফর করেছিলেন। একদা ছাত্রলীগের ডাকসাইটে নেতা এবং আওয়ামী লীগের নেতা কেএম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুর রউফ, রাখি আক্তার ডলি প্রমুখ মোশতাকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। মালেক উকিল, মহিউদ্দিন আহমেদ পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ফিরে এলেও শেষোক্তগণ আব্দুর রউফ ছাড়া চিরদিনের জন্য আওয়ামী লীগ ছেড়ে চলে যান।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সংবিধান পরিবর্তন এবং পাকিস্তান পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদকে উপড়ে দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রদায়ের রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা করেন। এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্যেই ১৯৭৬ সালের ২৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সীমিত রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ গ্রহণ করে দল পুনরুজ্জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং রাজনৈতিক দল পুনরুজ্জীবনের লক্ষে ২৫ আগস্ট ঢাকায় দলের সাবেক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্যদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ৩১ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে দল পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের বিধি অনুসারে দলের ম্যানিফেস্টো অনুসারে গঠনতন্ত্র অনুমোদনের জন্য জমা দেয়া হবে হাজার। ১৯৭৬ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন লাভ করে। ৩১ আগস্টের বর্ধিত সভায় আরও কিছু সিদ্ধান্ত হয় দলের পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল সাপেক্ষে। পঁচাত্তরের ৬ জুন যে কার্যনির্বাহী সংসদ ছিলো, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে সেই সংসদ ও মিজানুর রহমান চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে গঠিত প্রস্তুত কমিটি একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি সায়েমের হাত থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব কেড়ে নেন। বিচারপতি সায়েম তখন নামমাত্র রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল জিয়া অস্ত্রের মুখে সায়েমকে পদচ্যুত করেন এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান প্রহসনের গণভোটের ব্যবস্থা করেন এবং সেই গণভোট একটি প্রহসনে পরিণত হয়েছিলো। এরকম একটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই আওয়ামী লীগ পুনরায় নিজেদেরকে সংগঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং ১৯৭৭ সালের ৩ ও ৪ এপ্রিল ঢাকার হোটেল ইডেন প্রাঙ্গণে দলীয় কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু কাউন্সিলের আগে দলের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে ঐক্যমতের অভাবে প্রকাশ্য দলাদলি শুরু হয়। কাউন্সিল প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী দলের সভাপতি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন কিন্তু মূল ধারার নেতাকর্মীরা মিজান চৌধুরীর নেতৃত্ব মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলোনা। এই পরিস্থিতিতে ৩ ও ৪ এপ্রিল হাজার ১৯৭৭ সালে হোটেল ইডেনে কাউন্সিলে ঐক্যমতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। এই সময় দলের বহু সিনিয়র নেতা কারারুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। ওই কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয় আপাতত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করে একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠন করার। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তাকে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ১০ দিনের মধ্যে ৪৪ সদস্যের একটি সাংগঠনিক কমিটির নাম ঘোষণার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয় ৪৪ জন ছাড়াও কারারুদ্ধ নেতারা মুক্তি লাভের পর কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দিন ১৫ এপ্রিল ৪৪ সদস্যের সাংগঠনিক কমিটির নাম ঘোষণা করেন। কিন্তু এই সাংগঠনিক কমিটির নাম ঘোষণার পরে আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি আরো দানা বাঁধতে থাকে। ১৯৭৮ সালের ৩, ৪, ৫ এপ্রিল তিন দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ৫ এপ্রিল কাউন্সিলের শেষ দিনে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে আব্দুল মালেক উকিলকে সভাপতি করা হয় এবং আব্দুর রাজ্জাককে দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই কমিটি গঠিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি প্রকাশ্য হয়। মিজানুর রহমান চৌধুরী এই কমিটিকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দেন এবং ১৯৭৮ সালের ১ আগস্ট মিজানুর রহমান চৌধুরী এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগ দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। এরকম বাস্তবতায় দলের পক্ষে সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগে মোজাফফর হোসেন পল্টুর নেতৃত্বে আরেকটি ভগ্নাংশ বেরিয়ে যায় এবং সেটিও আওয়ামী লীগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিলো না বললেই চলে এবং এরকম একটি পরিস্থিতি ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করে এবং এই নির্বাচন প্রমাণ করে যে, এত বিভক্তির পরও আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের আস্থা আছে। ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির এবং নজিরবিহীন জালিয়াতির পরও আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসন পায় এবং প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট পায়। এ রকম অবস্থায় ১৯৮১ সালের ১৩ এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের তিন দিনব্যাপী কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় হোটেল ইডেনে। এই কাউন্সিল অধিবেশনের সর্বসম্মতভাবে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনাকে নির্বাচিত করা হয় আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আব্দুর রাজ্জাককে নির্বাচিত করা হয়। এরপর শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে আওয়ামী লীগের নবযাত্রার সূচনা হয়।

আওয়ামী লীগ   ১৫ আগস্ট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

১৬ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন করবে বিএনপি

প্রকাশ: ১১:২৯ এএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ১৬ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন উদযাপন করবে বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ সোমবার (১৫ আগস্ট) ৭৮ এ পা দিচ্ছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় চেয়ারপারসনের জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। 

আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনের এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে দলটি।

এর আগে, রোববার (১৪ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ জানান, ১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার ৭৭তম জন্মবার্ষিকী।

এ উপলক্ষে তাঁর রোগমুক্তি ও আশু সুস্থতা কামনা করে ১৬ আগস্ট দেশব্যাপী জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

খালেদা জিয়া   জন্মদিন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

পঁচাত্তরে কেন আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করতে পারেনি?

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail পঁচাত্তরে কেন আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ করতে পারেনি?

পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নিয়ে যখন আলোচনা হয়, এই ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার ঘটনা যখন স্মৃতিচারণ করা হয় তখন বারবার একটি প্রশ্ন সামনে আসে, সেটি হলো আওয়ামী লীগের ভূমিকা। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তত তিনটি বক্তৃতায় বলেছেন, এত বড় সংগঠন, এত নেতাকর্মীরা তারা কোথায় ছিল? কেউ প্রতিবাদ করতে পারলো না কেন? শুধু পঁচাত্তরের ঘটনাই নয়, বিভিন্ন সংকটে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ভেঙে পড়ে, তারা রুখে দাঁড়াতে পারে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, তখন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা হাত-পা গুটিয়ে বসে ছিলেন, কর্মীরা বিভ্রান্ত ছিলেন। সেসময় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের দৃঢ়তার কারণ সংগঠনকে পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়েছিল। পঁচাত্তরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুতুলের মতো দাঁড়িয়েছিলেন। তারা এক রকম দিক নির্দেশনাহীন অবস্থায় নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে ছিলেন কিন্তু নেতৃত্ব ছিল বিভ্রান্ত। ২০০৭ সালে এক-এগার সময়ও দেখা যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের পর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে রকম হওয়ার কথা ছিল সেই প্রতিবাদ হয়নি। প্রশ্ন হলো যে, পঁচাত্তরে আওয়ামী লীগের এত বড় সংগঠন কেন প্রতিবাদ করতে পারেননি? পঁচাত্তরের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাকশাল প্রবর্তন করেছিলেন। বাকশালের মাধ্যমে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছিলেন জাতির পিতা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা হলো এই যে, এই বাকশালের পক্ষ থেকেও তেমন কোনো প্রতিবাদ করা হয়নি। রাজনীতি বিশ্লেষকরা পঁচাত্তরের প্রতিবাদহীন আওয়ামী লীগের স্বরূপ অন্বেষণ করতে গিয়ে একাধিক কারণ পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে,

১. চাটুকাররা নেতৃত্ব বেশি ছিল: ১৯৭৪ সালে তাজউদ্দীনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দূরত্ব তৈরি হয়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তাজউদ্দীন মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর তাজউদ্দীনকে আওয়ামী লীগের কোনো বড় পদে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছিল যে, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তাজউদ্দীনের একটি দূরত্ব তৈরি করা হয়েছিল এবং এই দূরত্ব তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন খুনি মোশতাক। খুনি মোশতাক চক্র বঙ্গবন্ধুর চারপাশে ঘিরে ছিলেন আর এই কারণেই দেখা যায় যে, বঙ্গবন্ধু নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তার রক্তের উপর দিয়ে তারই মন্ত্রিসভার ২৩ জন সদস্য খুনি মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। অর্থাৎ যে নেতৃত্ব ছিল সেই নেতৃত্বে ছিল বিশ্বাসঘাতক। যার ফলে প্রতিবাদ হয়নি।

২. অন্য নেতৃত্বে ভীরু কাপুরুষতা: পঁচাত্তরের আওয়ামী লীগের রাজনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিন ধরনের নেতৃত্ব ছিলো। প্রথম ধরনের নেতৃত্ব ছিলো বিশ্বাসঘাতকের দল, যারা খুনি মোশতাকের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। দ্বিতীয় অংশ ছিলো বিভ্রান্ত এবং ভীরু যারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করার সাহস দেখাননি। কেউ তিন-চারদিন ঘরে বসে ছিলেন। কেউ পালিয়ে গিয়েছিলেন, কেউ প্রতিবাদ করলে জেলে যেতে হবে-এই কারণেই তারা সঠিক সময় সঠিক নেতৃত্ব দিতে পারেনি। 

তৃতীয় ভাগ ছিল যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, নির্যাতন ভোগ করেছিলেন এবং সামরিক জান্তা জিয়া মনে করেছিলেন যে, এরাই হয়তো সে শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদ করতে পারবেন। আর এই তিনটি কারণেই শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের মধ্যে থেকে তেমন কোনো প্রতিবাদ হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একটি নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন, একটি ডাকের অপেক্ষায় ছিলেন। আওয়ামী লীগের একাধিক কর্মী বলেছেন যে, তারা নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষায় ছিলেন কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার ঘটনার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদেরকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। কেউ কেউ বলেন যে, এরকম একটি ঘটনা ঘটতে পারে এটা আওয়ামী লীগের নেতারা চিন্তাও করতে পারেনি। কিন্তু একটি রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হবে এটিই হওয়া উচিত। কিন্তু সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নেতারা সীমাহীন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন বলেই সংশ্লিষ্ট  মনে করেন।


১৫ আগস্ট   আওয়ামী লীগ   প্রতিবাদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

জিয়াই বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টারমাইন্ড

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail জিয়াই বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টারমাইন্ড

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং কার কি ভূমিকা ছিলো তা নিয়ে খুব শীঘ্রই একটি কমিশন গঠন করা হবে বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রতিবার আগস্ট মাস এলেই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের মূল হোতাদের উদ্ঘাটনের জন্য একটি কমিশন গঠন করার আহ্বান জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এরকম ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কারা কিভাবে যুক্ত তা পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের তাগিদ দিয়েছেন বলে জানা যায়। কিন্তু বাস্তবে এখন পর্যন্ত কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। তবে সম্প্রতি আইনমন্ত্রী বলেছেন, এ ধরনের কমিশন গঠন করার জন্য তারা উদ্যোগ নিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই এই কমিশন গঠন করা হবে। কমিশন নিশ্চয়ই আগস্ট ট্র্যাজেডির পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনা তদন্ত করবেন এবং এ ঘটনায় কার কি ভূমিকা ছিলো, সেটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিভিন্ন গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এইটুকু প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায় যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জিয়াউর রহমান। মূলত তার পরিকল্পনাতেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছিলো এবং বিভিন্ন ক্রিয়াশীল শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন পর্দার আড়ালে।

জিয়াউর রহমানের সামরিক ইতিহাস যদি একটু খতিয়ে দেখা যায় তাহলে দেখা যাবে তিনি সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্য ছিলেন যেটি আইএসআই নামে পরিচিত। আইএসআই এর সদস্য হিসেবে তিনি ঢাকায় দায়িত্বে ছিলেন এবং যুদ্ধ যখন অনিবার্য সেই সময় জিয়া অনেকটা চাকরীর খাতিরে নির্দেশিত হয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। যেকোনো সামরিক যুদ্ধকৌশলের একটি অনিবার্য অঙ্গ হলো গোয়েন্দা প্রেরণ করা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কিভাবে কাজ হবে, মুক্তিযোদ্ধারা যেন বিভ্রান্ত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের ভিতর থেকে যেন বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে বিপন্ন করা যায় সেজন্যই জিয়াউর রহমানকে সম্ভবত পাকিস্তানি এজেন্ট হিসেবে পাঠানো হয়েছিলো। শুধু তাই নয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় কর্নেল বেগ জিয়াউর রহমানকে যে চিঠি লিখেছিলেন সেই চিঠি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, জিয়াউর রহমান আসলে বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেও তিনি ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমানের ভূমিকাও ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ, যেমন প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো খন্দকার মোশতাক আহমেদের ভূমিকাও। এরা দুইজনই ভিতরে ভিতরে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের বিরোধিতা করেছিলেন। এজন্য জিয়াউর রহমানকে যেমন একসময় তার কমান্ড থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিলো, ঠিক তেমনি খুনি মোশতাক আহমেদকেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিলো।

মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিতর্কিত ভূমিকা কারণে শেষ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান স্বাধীন দেশে সেনাপ্রধান হতে পারেননি যদিও তিনি শফিউল্লাহর চেয়ে সিনিয়র ছিলেন। কারণ, ১৯৭১ সালে তার ভূমিকা ছিলো বিতর্কিত এবং রহস্যময়। স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমান উপ-সেনাপ্রধান হলেও তিনি কর্নেল ফারুক, রশীদ, ডালিমসহ বিভিন্নদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করতেন এবং জিয়াউর রহমানই তাদেরকে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের জন্য প্ররোচিত করেন, এরকম বেশকিছু তথ্য প্রমাণ এখন পাওয়া যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমান যখন বিভিন্ন রকম অপতৎপরতা চালাচ্ছিলেন, সেটি বঙ্গবন্ধুর কানে এলে বঙ্গবন্ধু তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বদলি করেন। এ সময় জিয়াউর রহমান বিভিন্ন জায়গায় তার বদলি ঠেকানোর জন্য তদবির করেছিলেন। এই সময়কালে জিয়াউর রহমান অন্তত তিনবার আগামাসি লেনে খুনি মোশতাক আহমেদের সাথে দেখা করেন বলেও তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর একটি রাজনৈতিক সরকারকে সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা তৈরি করেন।

খুনি মোশতাক ছিলো একজন লোভী, চতুর, দুর্নীতিবাজ দানব। আর এ কারণেই জিয়াউর রহমান তাকে খুব সহজেই টোপ দিয়ে গিলতে পারেন। জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনার তিনটি ভাগ ছিলো। একটি ভাগ ছিলো সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো, দ্বিতীয়ত খুনি মোশতাককে দিয়ে একটি সরকার গঠন এবং তৃতীয় ভাগ ছিলো যে, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়ে আওয়ামী লিগকে নিশ্চিহ্ন করা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর যখন সেনাবাহিনীতে বিশৃঙ্খল অবস্থা বিরাজ করছিলো এবং খুনি মোশতাক যখন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি তখন কর্নেল তাহেরের সহায়তায় ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান ঘটানো হয়। এর আগে ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফরা একটি সামরিক অভ্যুত্থান করেছিলো কিন্তু খালেদ মোশাররফদের দোদুল্যমানতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচক্ষণতার অভাব এবং আত্মকেন্দ্রিক চিন্তার ফলে তারা ৭১ এর পরাজিত শক্তিকে শেষ পর্যন্ত পরাজিত করতে পারেনি। বরং তারাই পরাজিত হয়েছিলেন। আর সেই সুযোগে জিয়াউর রহমান ৭ নভেম্বর ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং কর্নেল তাহেরকেই পরে বিচারের আওতায় নিয়ে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যারা গবেষণা করছেন, এই তদন্ত কমিশন যদি ঠিক মত কাজ করে তাহলে নিশ্চয়ই এই সত্যগুলো তদন্তে বেরিয়ে আসবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘খালেদা জিয়াকে হত্যা করে সরকারের ওপর দোষ চাপাতে পারে তারেক’

প্রকাশ: ০৯:০১ পিএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail খালেদা জিয়াকে হত্যা করে সরকারের ওপর দোষ চাপাতে পারে তারেক জিয়া: নওফেল

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়াকেও হত্যা করে সরকারের ওপর দোষ চাপিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা উপ-মন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কোনোভাবেই লন্ডনে নিয়ে যেতে পারলে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করবে তারেক রহমান। 

রোববার (১৪ আগস্ট) কক্সবাজারে ৭৫ এর কালো রাতের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। 

প্রতিমন্ত্রী নওফেল বলেন, বিএনপির জন্মই হয়েছে মানুষকে খুনের মাধ্যমে। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় দখল করে সামরিক-বেসামরিক বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। এমনকি মুক্তিযোদ্ধারাও তার হত্যা তালিকা থেকে রক্ষা পায়নি। খুনি খন্দকার মোস্তাকের ষড়যন্ত্রের জোটে যুক্ত থেকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে খুনের সঙ্গে জড়িত ছিল জিয়াউর রহমান। সেই জিয়ার দল বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে যুগে যুগে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা করেছে। 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার যখন উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে গিয়েছে তখন এই বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বাংলাদেশকে অকার্যকর দেশ প্রমাণে উঠেপড়ে লেগেছে। কিন্তু এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না। এজন্য দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকবে। যে কোনোভাবেই দেশ বিরোধীদের অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। 

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে কক্সবাজার শহীদ দৌলত ময়দানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দীন আহমদ সিআইপি, জেলা আওয়ামী লীগে সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

খালেদা জিয়া   হত্যা   তারেক জিয়া  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন