ইনসাইড পলিটিক্স

মন্ত্রীদের কথায় অস্থির আওয়ামী লীগ: নিষেধাজ্ঞা আসছে

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ১৩ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail মন্ত্রীদের কথায় অস্থির আওয়ামী লীগ: নিষেধাজ্ঞা আসছে

মন্ত্রীদের লাগামহীন, বেপরোয়া এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই এ নিয়ে বিব্রত, বিরক্ত, হতাশা প্রকাশ করেছেন। মন্ত্রীরা যেভাবে কথা বলছেন তাতে সংকট সম্পর্কে এক ধরনের উন্নাসিকতা প্রকাশ হচ্ছে এবং এটি সরকারের জন্য নেতিবাচক হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের এই সমস্ত কথাবার্তার ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন আনুষ্ঠানিকভাবে। তিনি বলেছেন, এই সময়ের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলা উচিত নয়, সংযত কথাবার্তা বলা উচিত। সরকার একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রীদের এই যথেচ্ছ কথাবার্তা বন্ধের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলের সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন মন্ত্রী যারা বেপরোয়া কথাবার্তা বলছেন তাদেরকে সতর্কবার্তা দিবেন এবং লাগামহীন কথাবার্তা বন্ধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নির্দেশনা দিবেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন সিলেটে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, বিশ্ব সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ এখনো বেহেশতে আছেন। তার এই বক্তব্য নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। যখন মানুষ লোডশেডিংয়ে অস্থির, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, মধ্যবিত্তের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, সেই সময় মন্ত্রী কিভাবে এইরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলেন এটি আওয়ামী লীগের নেতাদেরকেই বিস্মিত করেছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য আওয়ামী লীগকে শুধু নয়, সরকারকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলবে, সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যাবে। শুধু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নয়, গত কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন মন্ত্রীরা এলোমেলো কথাবার্তা বলছেন। এর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছেন যে, মানুষ এখনও জামাকাপড় পড়ে আছে, তারা তো ভালই আছে। এটি একটি বিরক্তিকর এবং অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। অন্য একজন মন্ত্রী বলেছেন যে, আমরা অভাবে আছে কিন্তু কেউ এখনো না খেয়ে নেই। এ ধরনের বক্তব্য মন্ত্রীরা কেন বলছেন, তাদের উদ্দেশ্য কি সে নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন যে, হাইব্রিড মন্ত্রীদের সংখ্যা বেশি। উড়ে এসে জুড়ে বসে এমপি হয়েছেন, মন্ত্রী হয়েছেন। তারা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলছেন। তাছাড়া যে মন্ত্রীর যে দায়িত্ব নয়, সেই মন্ত্রী সেই বিষয় নিয়ে কেন কথা বলছেন, এ নিয়েও আওয়ামী লীগের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি আগামীকাল দলের সাংগঠনিক সম্পাদকদের নিয়ে বৈঠক করছেন। এই বৈঠকেও মন্ত্রীদের বেপরোয়া কথাবার্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, যে মন্ত্রীর বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলার দরকার নেই তিনি কেন বিদ্যুৎ নিয়ে কথা বলছেন বা যে মন্ত্রীর দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা বলার দরকার নেই তিনি কেন কথা বলছেন। এই ধরনের কথাবার্তা সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কালে তিনটি বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষ এ নিয়ে সমালোচনা করছে। এমনিতেই সরকার নানামুখী চাপের মধ্যে রয়েছে, জনগণ অস্বস্তিতে রয়েছে, জনগণের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। সেই রকম পরিস্থিতিতে এ ধরনের কথাবার্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু এই বিষয়ে নয়, তার নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের বিষয়েও লাগামহীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা বলে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। এই সমস্ত মন্ত্রীদের লাগাম টেনে ধরতে পারলে সামনের দিনগুলোতে সরকারকে আরো খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মন্ত্রীদের বেপরোয়া কথাবার্তা অনেক উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। আর এটি বন্ধের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তাদেরকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে। যে কেউ যেকোনো বিষয়ে কথাবার্তা যেন না বলে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তারেক-ইউনূস সমঝোতা: দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের ফর্মুলা!

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail তারেক-ইউনূস সমঝোতা: দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের ফর্মুলা!

লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের যোগাযোগ হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই যোগাযোগের মাধ্যমেই নতুন সংবিধান প্রণয়ন, সংবিধান সংশোধন এবং সংশোধিত সংবিধানে কি কি বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে সে সম্পর্কে ড. ইউনূস সুস্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন। ইউনূস বিএনপির পাশে আছেন, এমন আশাবাদও জানিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারেক জিয়া এবং ড. ইউনূসের এই সমঝোতার ভিত্তিতেই বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল সংবিধান নিয়ে নতুন একটি ফর্মুলা উপস্থাপন করেছেন, যে ফর্মুলার সূত্র ধরে এখন বিএনপি নেতারা কথা বলছেন।

ড. আসিফ নজরুল সাম্প্রতিক সময়ে একটি সেমিনারে বর্তমান সংবিধান বাতিল করে নতুন একটি সংবিধান প্রণয়নের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই সেমিনারে তিনি দাবি করেন যে, পৃথিবীতে কোনো সংবিধানের আয়ু ২০ বছরের বেশি নাই। কাজেই বাংলাদেশে এখন একটা নতুন সংবিধান প্রণয়নের যৌক্তিকতা রয়েছে এবং এটি সময়ের দাবি। এই বক্তব্য রাখার পর তিনি আগামী সংবিধানের কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য সেমিনারে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে তিনি বলেছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করতে হবে, সংসদ হতে হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা থাকবেন এবং উচ্চকক্ষের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা অবস্থান করবেন। আসিফ নজরুলের এই বক্তব্যটি তার একক বক্তব্য ছিল না, বরং এটি সুশীল সমাজের একটি প্রেসক্রিপশন হিসেবে বিবেচিত হয়। সুশীল সমাজে সদস্যরা মিলে ক্ষমতায় তাদের হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য এরকম একটি ফর্মুলা দিয়েছে। এমন একটি সংবিধান তৈরি করতে চায় যেই সংবিধানে তারা এমন একটি সরকার কাঠামো রাখতে চায় যেখানে সুশীলদের ক্ষমতার অংশীদারিত্ব থাকবে স্থায়ীভাবে। আর এ কারণেই দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়ে বিএনপির যে আন্দোলন সেই আন্দোলনের পেছনে সুশীলদের একটা বড়ই ইন্ধন রয়েছে। আর এই ইন্ধনের কারণ হলো, সুশীলরা মনে করে যে আওয়ামী লীগকে হটাতে পারলে সাময়িক সময়ের জন্য সুশীলদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে সরকারে। এরপর সুশীলরা বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়ে সব ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারায় তারা তাদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নিশ্চিত করতে চায়।

আসিফ নজরুলের এই বক্তব্যের পর বিএনপির অন্তত তিনজন নেতা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্টের কথা বলেছেন। এদের মধ্যে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, যিনি তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিনি আগামী সংসদ দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট হবে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। বিএনপির আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বক্তৃতায় তায় বলেছেন, তারা ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য করবেন। এই ফর্মুলাগুলো যে সুশীল সমাজের তা নিয়ে আর সন্দেহের কোনো অবকাশই নেই। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এই ফর্মুলাই সুশীল সমাজ বিএনপিকে দিয়েছে, বিএনপি এখন সেই ফর্মুলাই বাজারজাত করছে । এর মধ্য দিয়ে সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের মনোবাসনা পূর্ণ হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ ব্যাপক সরকারবিরোধী অবস্থানে চলে গেছে। তারা সরকারের বিভিন্ন রকম সমালোচনা করছেন এবং আগামী নির্বাচন নিয়েও তাদের উৎকণ্ঠার অন্ত নেই। শুধু যে সরকারের সমালোচনা করে তারা ক্ষান্ত হচ্ছেন তাই নয়, তারা পাশাপাশি বিএনপিকেও রাজপথে নামানোর ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করছেন এবং বিএনপির হাতে বিভিন্ন সমালোচনারও উপকরণ তুলে দিচ্ছেন। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো, আরেকটি ওয়ান-ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা। কিন্তু ওয়ান-ইলেভেনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যাবে না, এইজন্যই সুশীলদের এখন নজর সংবিধানের দিকে। বর্তমান সংবিধানকে বন্ধ করে নতুন একটি সংবিধান তৈরি করা এবং সেই সংবিধানে সুশীলদের ক্ষমতার হিস্যা নিশ্চিত করার জন্যই এখন সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব মাঠে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি বৈঠক করছে আণুবীক্ষণিক দলগুলোর সাথে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:১১ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বিএনপি বৈঠক করছে আণুবীক্ষণিক দলগুলোর সাথে: তথ্যমন্ত্রী

‘সংলাপের নামে বিএনপি আণুবীক্ষণিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করছে’ বলেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের নিকট থেকে কাউন্সিলের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২১ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রেস কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এমপি, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, দি ডেইলি অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি সম্পাদক এম. জি কিবরিয়া চৌধুরী, বিএফইউজের দপ্তর সম্পাদক সেবিকা রাণী, প্রেস কাউন্সিল সচিব শাহ আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ড. হাছান বলেন, ‘বিএনপি ২০১৮ সালেও ডানপন্থী-বামপন্থী, অতি ডান-অতি বাম সমস্ত দলের সাথে সংলাপ করে একটি বড় ঐক্য করেছিল এবং সেই ঐক্যের ফল হচ্ছে বিএনপির মাত্র পাঁচটি আসন। গতকাল তারা বৈঠক করেছে কল্যাণ পার্টির সাথে। এমন আণুবীক্ষণিক দলের সাথে বৈঠক করে যখন তারা বৃহত্তর ঐক্য গঠন করবে বলে, তখন মানুষ হাসে। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান আছে, মহাসচিব যে কে আমি জানি না, মির্জা ফখরুল সাহেবও জানেন কি না জানি না। এ ধরণের দলের সাথে বৈঠক কিছু সংবাদ পরিবেশনের জন্য ছাড়া অন্য কিছু নয়।’

সাংবাদিকরা ‘বিএনপির মিছিল সমাবেশ মারমুখী বলে প্রতীয়মান’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির উদ্দেশ্য একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করা। তারা ২০১৩-১৪-১৫ সালে, ২০১৮ সালে নির্বাচনের আগে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, এখনও চেষ্টা করছে। তারা উস্কানিমূলকভাবে তাদের কর্মীদের লেলিয়ে দিচ্ছে পুলিশ এবং জনগণের ওপর। দেখা যাচ্ছে যে, তাদেরই ইটের আঘাতে তাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে, মৃত্যুবরণও করেছে। তারা এ ধরণের ঘটনা ঘটাবে, নিজেরা নিজেদের কর্মীদের মারবে, মেরে পুলিশের ওপর, সরকারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করবে।’

‘আমরা আমাদের দলকে সংযতভাবে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, পুলিশও বিএনপির যুদ্ধংদেহী মনোভাব, সংঘাতের অপচেষ্টাকে অত্যন্ত সংযতভাবে মোকাবিলা করছে, কিন্তু তারা যদি এটি অব্যাহত রাখে, জনগণ তাদেরকে আবারও আগে যেভাবে প্রতিহত করেছিল তাই করবে’ বলেন তিনি।

নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এটি তো নতুন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য যারা রাষ্ট্রদূত ছিল তারাও এবং অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতরাও এ নিয়ে কথা বলে। আমরা তাদের সাথে একমত। আমরা স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন চাই এবং এটি শুধুমাত্র সরকারি দলের দায়িত্ব না, এ দায়িত্ব সব দলের। যারা এ নিয়ে বক্তব্য রাখছেন, আশা করি তাদের সেই বক্তব্য বিএনপিসহ যারা সংঘাতময় পরিস্থিতির 'চেষ্টা চালায় তাদের কানে পৌঁছুবে এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক স্বচ্ছ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে তারা সহায়তা করবে। বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা নির্বাচন নিয়ে পরামর্শ দিতে পারেন, সেটি যেন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মতো না হয় একইসাথে কূটনৈতিক শালীনতাও যেন লঙ্ঘন না হয়।’

এর আগে প্রেস কাউন্সিল প্রসঙ্গে ড. হাছান বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটির উদ্দেশ্য ছিল পাঠক এবং সংবাদপত্রের মধ্যে যদি কোনো বিরোধ তৈরি হয় সেটি নিষ্পত্তি করা। কোয়াসি-জুডিশিয়াল বডি হিসেবে এটিকে গঠন করা হয়েছিল। সেই ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি, পঞ্চাশ বছর আগের এ প্রেস কাউন্সিল আইনটিকে যুগোপযোগীভাবে কার্যকর করার জন্য সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীজনদের সাথে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে আলোচনা করে প্রেস কাউন্সিল একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে, সেটি মন্ত্রিসভা হয়ে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে গেছে। এরপর আবারও ভেটিং হবে।

গত ১৩-১৪ বছরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে, সেটির সাথে নানাবিধ সমস্যা, জটিলতাও তৈরি হয়েছে, বলেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নিবন্ধন নেই এমন অনলাইন পত্রিকাকে সাংবাদিক নামে পরিচয়পত্র দিতে দেখা যায়, অনেক পত্রপত্রিকা আছে যেগুলো বের হয় না, সাংবাদিকদের নিয়োগ দেয় কিন্তু বেতন দেয় না, সেগুলো আমরা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু করেছি। অংশীজনদের সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সাংবাদিকদের একটা ডাটাবেজ তৈরি করার জন্য প্রেস কাউন্সিলকে আমরা অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিসের ভিত্তিতে এই তালিকা হবে তার নীতিমালার খসড়া তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগ আমরা সরকারের পক্ষ থেকে নেইনি। বিভিন্ন সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠান, সমিতি, সংগঠনই এ দাবি উপস্থাপন করেছে। কারণ কিছু মানুষ সাংবাদিক নাম নিয়ে মানুষকে হয়রানি করা ধরণের কাজের সাথে লিপ্ত হয়, আর দোষটা পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর বর্তায়, যেটি ঠিক নয়, সমীচীন নয়।’



এর পরপরই জাতীয় প্রেসক্লাবে সদ্যপ্রয়াত বরেণ্য সাংবাদিক তোয়াব খানের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। 

এসময় সাংবাদিকদেরকে মন্ত্রী হাছান বলেন, ‘তোয়াব খান বাংলাদেশের ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি সাংবাদিক। তার হাত ধরে দেশের বহু প্রথিতযশা সাংবাদিকের জন্ম হয়েছে। তার লেখনী আমাদের দেশ ও জাতিকে উপকৃত করেছে। তার মৃত্যু শুধু সাংবাদিক জগত নয়, পুরো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’

মন্ত্রী বলেন, তোয়াব খান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে চাকরি হারিয়েছেন কিন্তু আপোষ করেননি। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রে কাজ করেছেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর প্রেস সচিব ছিলেন, প্রধান তথ্য অফিসার ও প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ছিলেন। তার হাতেই পাকিস্তান পরবর্তী দৈনিক বাংলার যাত্রা শুরু। আজ দৈনিক বাংলা সাংবাদিকতায় ‘তোয়াব খান স্মৃতি পদক’ চালু করবে বলে জানিয়েছে, যা তার প্রতি সম্মানের নিদর্শন।'

ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সাতক্ষীরা পৌর মেয়রসহ বিএনপির ১০ নেতা আটক


Thumbnail সাতক্ষীরা পৌর মেয়রসহ বিএনপির ১০ নেতা আটক

সাতক্ষীরা পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতিসহ ১০ বিএনপির নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে শহরের কাশেম প্লাজায় পৌর বিএনপির সভা চলাকালে তাদেরকে আটক করা হয়। 

পৌর মেয়র নবগঠিত পৌর বিএনপির সদস্য সচিব। এছাড়া আটক করা হয়েছে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ শাহিনকে। 

জেলা যুবদলের সভাপতি আবু জাহিদ ডবলু জানান, কাসেম প্লাজায় নবগঠিত পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সভা চলছিল। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। 

সাতক্ষীরা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, পৌর মেয়রসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনার কথা নিশ্চিত করেছেন।

সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

রাজপথের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ কতটা প্রস্তুত?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail রাজপথের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগ কতটা প্রস্তুত?

সম্প্রতি হাজারীবাগে বিএনপির জনসভাস্থলে আওয়ামী লীগ মিছিল করতে গিয়েছিল এবং সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বেধড়কভাবে পিটিয়েছে বিএনপির কর্মীরা। বিএনপির কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে ওই সমাবেশে গিয়েছিল এবং বিএনপির ওই সমাবেশের কাছাকাছি আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ মিছিল করতে গেলে সেখানে বিএনপি তাদের নির্মমভাবে পেটায়। কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক আহতদের হাসপাতালে দেখতে যান। তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হলে বিএনপিকে ছাড়া হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। গত কয়েকদিন ধরেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন নেতা বিএনপির আঘাতে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এমনকি দলের সাধারণ সম্পাদক বিএনপিকে খবরদার বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, রাজপথে আন্দোলনের জন্য আওয়ামী লীগ কতটা প্রস্তুত?

আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে রাজপথের দল। লড়াই সংগ্রাম করেই আওয়ামী লীগ আজকের জায়গায় এসেছে। নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ করেই আওয়ামী লীগ সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা যতটা লড়াকু থাকে ততটা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা থাকে না। লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আওয়ামী লীগ বিকশিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। গত ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের বিলাসিতা, এক ধরনের আলস্য এবং এক ধরনের আন্দোলনের ব্যাপারে অনীহা তৈরি হয়েছে। কাজেই এখন রাজপথে তারা কতটুকু লড়াই সংগ্রাম করতে পারবে? সেই মানসিকতা তাদের আছে কিনা? তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন একাধিক কারণে রাজপথে আন্দোলনের জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুত না। তার মধ্যে-

১. নেতাদের বিপুল সম্পদ স্ফীতি এবং আরাম-আয়েশের জীবন: গত ১৩ বছরে আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতারই বিপুল সম্পদের স্ফীতি হয়েছে। যিনি রিকশায় চড়তেন তিনি এখন পাজেরো গাড়িতে চড়েন। যিনি কম টাকার ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি একাধিক ফ্লাটের মালিক। কাজেই এই বিপুল সম্পদের কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের বিলাসী জীবনে অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে। এয়ারকুলার ছাড়া তারা থাকতে পারেন না। এরকম একটি বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে এসে ঘাম জড়াবে, লড়াই করবে এটি খুব কঠিন কাজ এবং সেটি কতটুকু করতে পারবে আওয়ামী লীগ সেটা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে। 

২. অনুপ্রবেশকারী: আওয়ামী লীগের গত ১৩ বছরে প্রচুর হাইব্রিড ঢুকেছে। যারা ঢুকেছে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার আশায়। ব্যবসা-বাণিজ্য টেন্ডারসহ নানা প্রাপ্তির আশায় তারা আওয়ামী লীগে জড় হয়েছে। এদেরকে কখনো রাজপথের আন্দোলনে পাওয়া যাবে না। 

৩. সাংগঠনিক দুর্বলতা: আওয়ামী লীগ ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকলেও সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগ অনেক দুর্বল। মাঠের কর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। এমনকি নেতৃত্বের মধ্যে যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেছেন তারাও এখন দলের ভেতর কোণঠাসা। এমনকি মাঠে লড়াকু নেতা যারা এখনও সক্রিয় রয়েছেন। যেমন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাছিম তারা কেউই এমপি নন, মন্ত্রী নন। ফলে নেতাকর্মীরা তাদের পেছনে দাঁড়াবে কেন সেই প্রশ্নও উঠেছে। ঢাকা মহানগরীতে উত্তর এবং দক্ষিণে যে কমিটি রয়েছে সেই কমিটির মধ্যে যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। যার ফলে তাদের নেতৃত্ব নিয়েই যখন কর্মীদের মধ্যে সংশয় তখন সে ওই নেতাদের ডাকে কর্মীরা মাঠে কিভাবে নামবেন সেটি একটি বড় প্রশ্ন। 

৪. অন্তঃকলহ: আওয়ামী লীগের বড় সংকট হলো অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এক নেতা অন্যকে বিশ্বাস করে না। এক নেতা অন্য নেতার বিরুদ্ধে কথা বলেন। আওয়ামী লীগের নেতারাই বলছেন অন্তঃকলহ দূর না করতে পারলে আওয়ামী লীগের  পক্ষে রাজপথে নেমে লড়াই করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। 

৫. পুলিশ নির্ভরতা: আওয়ামী লীগ গত ১৩ বছরে বিএনপি মোকাবেলায় অনেকটাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কাজেই পুলিশ নির্ভর হয়ে আওয়ামী লীগ কিভাবে সংকট মোকাবেলায় রাজপথে নামবে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন বলে অনেকে মনে করছেন। 

কাজেই, রাজপথে লড়াই করার জন্য আওয়ামী লীগের তৃণমূলের যে পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের দরকার তাদের মধ্যে অনেকে অভিমানে দূরে আছেন। অনেকে হতাশ হয়ে আছেন। তাদেরকে যদি মাঠে নামানো যায় এবং তাদের যোগ্য মূল্যায়ন করা যায় তবে রাজপথে আওয়ামী লীগকে লড়াইয়ে পাওয়া যাবে অন্যভাবে নয়।

রাজপথ   আওয়ামী লীগ   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা

প্রকাশ: ০৬:০৬ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা

আগামীকাল মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) আওয়ামী লীগের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা  অনুষ্ঠিত হবে।

দলের সংসদীয় ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ওইদিন বিকেল ৪টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে যথাসময়ে সভায় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ   মনোনয়ন বোর্ড   যৌথসভা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন