ইনসাইড পলিটিক্স

২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েই সন্দেহ

প্রকাশ: ০৬:০৪ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়েই সন্দেহ

একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকায় বিভিন্ন সহিংসতায় তাকে দেখা গেছে। তাঁর উদ্যোগে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়ো হয়েছে এবং বিএনপির দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। বনানীতে এই নেতার উদ্যোগে বিএনপির মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আগে অবস্থান গ্রহণ করেছে আওয়ামী লীগের কিছু সংখ্যক কর্মী। প্রশ্ন উঠলো, ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা কে? কে তাকে বনানী এবং মিরপুরে বিএনপির কর্মসূচী পণ্ড করার দায়িত্ব দিয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা পেয়েছেন চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৪ সালের পর ওয়ার্ড পর্যায়ের এই নেতা আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। টাকা পয়সার জোরে তিনি এখন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা হয়েছেন। এলাকায় তার প্রভাব প্রতিপত্তি প্রচুর। শুধু এলাকায় না, এলাকার বাইরে বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে তার খুব ভালো সখ্যতা গড়ে উঠেছে টাকার জন্য। ব্যবসা-বাণিজ্য করেন, তার বিরুদ্ধে আগেও ছিল নানা রকম চাঁদাবাজির অভিযোগ। তবে এই আওয়ামী লীগের নেতার অতীত পরিচয় চাঞ্চল্যকর। একসময় তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০৩ সালে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে যোগ দেন, তারপর গা ঢাকা দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে এসে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। শুধু এই নেতা একা না, এরকম অনেক আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা এখন আওয়ামী লীগের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আওয়ামী লীগ এখন তাদেরকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত এবং সন্দেহের চোখে দেখছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যখন রাজপথে আন্দোলন করতে চাইছে তখন বিএনপির সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো আওয়ামী লীগ বাধা দিক, রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠুক এবং একটা সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হোক। বিএনপির নেতারাই স্বীকার করেছেন যে, রাজপথ সহিংস না হলে আন্দোলন উত্তপ্ত হবে না। আর আন্দোলন উত্তপ্ত না হলে সরকারও চাপে পড়বে না। এ কারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতকাল দলের কর্মীদেরকে লাঠিসোটা নিয়ে আসতে বলেছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা ঢাকার গত কয়েকদিনে কর্মকাণ্ড গুলোকে বিশ্লেষণ করে দেখছেন যে, কিছু অতি উৎসাহী নেতা বিএনপির ফাঁদে পা দিচ্ছেন। প্রথমে মনে করা হচ্ছিল অতি উৎসাহী কারণে এই কাণ্ড গুলো তারা করছে। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই সন্দেহ করেছেন এরা বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষক। নানা রকম সুযোগ-সুবিধার জন্য বা আওয়ামী লীগকে বিপদে ফেলার জন্য আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। কিন্তু আসলে এরা বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। এই চক্র এখন সক্রিয় হয়েছে।

ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে টাকা দিয়ে নেতা হওয়া যায়, এই কথা সর্বজনবিদিত। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম কিছুদিন আগে এই টাকা দিয়ে কমিটি বাণিজ্যের কথা নিজেই খোলামেলাভাবে বলেছিলেন। কিন্তু সেটির প্রতিরোধ সম্পূর্ণভাবে করা সম্ভব হয়নি। আর ওয়ার্ড কমিটিতে নাম থাকলেও আওয়ামী লীগে এখন ক্রমশ অনুপ্রবেশকারীরা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত বেশ সক্রিয় ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের হিড়িক পড়তে থাকে। তবে আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, ২০০৯ সালেই বিএনপি-জামায়াত সংঘবদ্ধভাবে কিছু ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করায়। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, ছাত্রলীগসহ অন্যান্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোতেও এরকম অনুপ্রবেশকারীর রয়েছে। এই অনুপ্রবেশকারীরাই আস্তে আস্তে টাকা দিয়ে এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন পদ দখল করে আছে। এই সমস্ত নেতারাই এখন আওয়ামী লীগের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং তৃণমূলের কর্মীরা মনে করছেন। এরা সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন এবং এদের প্রধান লক্ষ্য হলো বিএনপি যেন আন্দোলনের কর্মসূচি সফল হয় সেই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা।

এখন প্রশ্ন উঠেছে যে, এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে কিভাবে? এর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগে যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এরকম একটি তালিকাও প্রণয়ন করা হয়েছিল। এই তালিকা অনুযায়ী ২০০৯ সালের পর বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগ এসেছে তাদেরকে পদ না দিতেও নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ প্রতিফলিত হয়নি। এখন যখন বিএনপির আন্দোলনের চেষ্টা করছে তখন আওয়ামী লীগের ভেতরে অনুপ্রবেশকারীরা তাদের জন্য সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নয়াপল্টনে নেতাকর্মীর সমাগম, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

প্রকাশ: ০৯:৫১ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের স্থান নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ভিড় করতে শুরু করেছে দলের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর ) বিকেল থেকেই অল্প অল্প করে নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। এ সময় থেমে-থেমে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। 

১০ ডিসেম্বর আসার আগেই বিএনপি নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে তৎপরতা বেড়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পাশে এবং আশপাশের গলিতে অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। এছাড়া কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জলকামানও এনে রাখা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রচুর ব্যানার-ফেস্টুন আনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, খাবার রান্না করার জন্য ডেকোরেটর থেকে হাড়ি-পাতিলও এনে রাখা হয়েছে সেখানে। 

নয়াপল্টন   বিএনপি   ১০ ডিসেম্বর   পুলিশ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

গাইবান্ধার বিনিময়ে জাপাকে কাছে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ?

প্রকাশ: ০৮:১১ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচনের ভোট আগামী ৪ জানুয়ারি পুনর্নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ১২ অক্টোবর গোপন কক্ষে ‘ডাকাত’ রুখতে না পেরে ৫১ কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের পর গাইবান্ধা-৫ আসনের ভোটই বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। পরদিন অনিয়মের তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে ইসি। ভোটে অনিয়মের দায়ে ১৩৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই নির্বাচন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাতীয় পার্টির এ এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু। এই আসনে জয়ের ব্যাপারে মরিয়া ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন। তার সপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। দলীয় প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে ছুটে গেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনও। তবে সে অবস্থান থেকে সরে এসেছে আওয়ামী লীগ।

জানা গেছে, আগামী ৪ জানুয়ারি গাইবান্ধা-৫ আসনে উপনির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নয় আওয়ামী লীগ। বরং নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হয় সে দিকে মনোযোগী আওয়ামী লীগ। আর সেজন্য দলটি চাইছে যে, নির্বাচন কমিশন যেভাবে চায় সেভাবে নির্বাচন করবে আওয়ামী লীগ। আর এব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে সবোর্চ্চ সহযোগিতা করা হবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য যে, গাইবান্ধা হলো জাতীয় পার্টি অধ্যুষিত এলাকা। দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব রয়েছে। কিন্তু গত অক্টোবরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি দখলে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সহ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ কমে গেছে।

এদিকে সরকারের সমালোচনায় মুখর থাকা সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে বশিভূত করেছে আওয়ামী লীগ। যেকারণে এখন দলটির চেয়ারম্যান সরকারের বিরুদ্ধে কম কথাবার্তা বলছে। ইতোমধ্যে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়াকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখন গাইবান্ধা-৫ আসন ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য হলো আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এখন দেখার বিষয় আওয়ামী লীগের কৌশল সফলতার মুখ দেখে কিনা।

গাইবান্ধা-৫   উপনির্বাচন   জাতীয় পার্টি   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ছাত্রলীগের সম্মেলনে শোভন-রাব্বানী এক ফ্রেমে

প্রকাশ: ০৭:০৪ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

দীর্ঘদিন পর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে এক সঙ্গে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলনে তাদের এক ফ্রেমে দেখা গেছে।। 

এদিন বেলা ১১টার দিকে সম্মেলনস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কয়েকটি ছবি শেয়ার করেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এসব ছবিতে তার সঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমসহ সাবেক বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দেখা যায়।

ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে ক্যাপশন হিসেবে গোলাম রাব্বানী লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন; পদ প্রত্যাশী স্নেহের অনুজদের জন্য অন্তরের অন্তস্তল থেকে শুভ কামনা’।

এর আগে, ২০১৮ সালের মে মাসে ছাত্রলীগের ২৯তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক হন গোলাম রাব্বানী। তবে মাত্র এক বছরের মাথায় অনিয়মের অভিযোগে তাদের নেতৃত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এক নম্বর সহ-সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিন মাস পর ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জয় ও লেখককে ভারমুক্ত করে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ছাত্রলীগ   সম্মেলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

১০ ডিসেম্বর: আওয়ামী লীগের কৌশল কি?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপি ঢাকা বিভাগে মহাসমাবেশ ডেকেছে। এই মহাসমাবেশ নিয়ে আওয়ামী লীগের কৌশল কি হবে, এটি একটি বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন। বিএনপি এখন পর্যন্ত সমাবেশের ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এখন পর্যন্ত বিএনপির কোনো সমঝোতা হয়নি। এরকম বাস্তবতায় বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নয়াপল্টনেই সমাবেশ করে তাহলে আওয়ামী লীগের কৌশল কি হবে? তাছাড়া পুরো ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান কি, কৌশলই বা কি? আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ একাধিক বিকল্প কৌশল নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন যে, ১০ ডিসেম্বর যদি বিএনপি অন্য সমাবেশগুলোর মতই একটি স্বাভাবিক সাধারণ সমাবেশ করে তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো রকম আপত্তি থাকবে না এবং এই কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ কোনো বাধাও দেবে না। আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ইতিমধ্যে বার্তা দিয়েছেন যে বিরোধী দলের সমাবেশ যেন শান্তিপূর্ণ হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের ওই নেতা বলেছেন যে, বিএনপির আচার-আচরণ কথাবার্তায় মনে হচ্ছে না যে তারা একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চায়। বরং তাদের আচার-আচরণে মনে হচ্ছে যে তারা একটি সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চা,য় এজন্য তাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন যে, বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নয়াপল্টনে সমাবেশ করার ব্যাপারে অনড় থাকে তাহলে আমরা বেশকিছু বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এই সমস্ত বিকল্প পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে,

প্রথমত, বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কর্মীরা জমায়েত হবে এবং সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাজ করবে।

দ্বিতীয়ত, বিএনপির সমাবেশের আগে থেকেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কার্যালয়গুলোতে নেতাকর্মীরা অবস্থান গ্রহণ করবে এবং এই অবস্থান নিয়ে থাকবে। কারণ, অতীতেও দেখা গেছে এই ধরনের কর্মসূচিগুলোতে আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা-ভাঙচুর ইত্যাদি করার ক্ষেত্রে বিএনপি সিদ্ধহস্ত এবং এ ধরণের কর্মকান্ড বিএনপি অতীতেও ঘটিয়েছে।

তৃতীয়ত, ওই সমাবেশে কোনোভাবেই আওয়ামী লীগ সহিংসতা সৃষ্টি করবেনা এবং বিএনপির উস্কানিতে পা দিবে না। আওয়ামী লীগ শুধু অবস্থান নিয়ে থাকবে। বিএনপি স্বাভাবিকভাবেই চাইবে যে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হোক, একটি সহিংসতা বা একটি উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটুক। সে ফাঁদে যেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পা না দেন সেজন্য সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

চতুর্থত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা। ১০ ডিসেম্বরের আগে থেকেই আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করবে এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হলে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করবেন যেন তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও এই সময় যদি দেখা যায় যে কোনো সন্দেহমূলক তৎপরতা বা কোনো একটা ঘটনা ঘটছে যেটা দেশের এবং জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী সেটির ব্যাপারে তারা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগ যদি দেখে যে, সমাবেশের নামে বিএনপি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্ন করার চেষ্টা করছে সেখানেও জনগণের পাশে আওয়ামী লীগ দাঁড়াবে।

মোটাদাগে এই হলো আওয়ামী লীগের কৌশল এবং এই কৌশল নিয়েই ১০ ডিসেম্বর মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাই বলেছেন যে, বিএনপি চাইবে যে উস্কানি দিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির একটি বিরোধ লাগাতে। সেই বিরোধ যেন না হয় সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সচেষ্ট থাকবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি কি শেষ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবে?

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ কোথায় হবে এটি এখন রাজনীতির অঙ্গনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এই সমাবেশকে নয়াপল্টনে করার ব্যাপারে বিএনপি অনড় থাকবে নাকি বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হবে, তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাবে? এ নিয়ে বিএনপির মধ্যেও তীব্র মতবিরোধ এবং বিভক্তির কথা শোনা যাচ্ছে। বিএনপির অনেক নেতাই এই বিষয়টি নিয়ে নমনীয়। তারা মনে করছেন সমাবেশস্থল নিয়ে বাড়াবাড়ি করা এখনই উচিত হবে না। এটির ফলে বিএনপি গত দুই মাসে সবগুলো বিভাগীয় শহরে সমাবেশ করে যে অর্জন করেছে সেই অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যেতে পারে। বিএনপির একাংশের নেতারা কৌশলী হওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু বিএনপির মধ্যে একটি অতি উৎসাহী, উগ্রবাদী অংশ রয়েছে যারা ১০ ডিসেম্বর আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ দিতে চায়। তারা কোনোভাবেই কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। বিএনপির এই অংশের নেতারা বলছেন যে, ১০ ডিসেম্বরে যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত নয়াপল্টনে সমাবেশ না করতে পারে তাহলে তাদের যতগুলো অর্জন আছে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে গত কয়েক মাসে বিএনপি যেভাবে সংগঠিত হয়েছিল এবং জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল, বিরোধী দল হিসেবে সরকারকে একটা বার্তা দিচ্ছিল সেটি নষ্ট হয়ে যাবে। আর এ কারণেই বিএনপি কোন কোন মনে করছেন যে, ১০ ডিসেম্বরে নয়াপল্টনেই সমাবেশ করা উচিত এবং পুলিশ যদি বাধা দেয় তাহলে সেটিও বিএনপির জন্য ইতিবাচক হবে। কারণ সারা বাংলাদেশ এবং বিশ্ববাসী দেখবে যে, সরকার ১০ ডিসেম্বরে বিএনপিকে সমাবেশ করতে দিচ্ছে না।

এখন প্রশ্ন হলো বিএনপি শেষ পর্যন্ত কি করবে? বিএনপির মধ্যে একটি অদ্ভুত ব্যাপার হলো, বিএনপির কোন নেতাই সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না, সব সিদ্ধান্ত আসে লন্ডন থেকে। বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে দেখা গেছে, তারা বলছেন যে বিএনপিতে আগামীকাল কি হবে সে সম্পর্কে তারা জানেন না। সবকিছু নির্ভর করছে তারেক জিয়ার ওপর। তারেক জিয়া ১০ ডিসেম্বর নিয়ে কি ভাবছেন? কি করতে চাচ্ছেন? সেটি হল সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর এই প্রশ্নের উত্তর না জানার কারণে বিএনপি এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। তবে বিএনপির মধ্যে শুভবুদ্ধির কিছু কিছু নেতা এখন পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যে শেষপর্যন্ত জাতির বৃহত্তর স্বার্থে শান্তি এবং জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে। 

পুলিশের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, যেকোন মাঠে যদি বিএনপি সমাবেশ করতে চায় এবং বিকল্প মাঠের যদি তারা প্রস্তাব করেন তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই। বিভিন্ন দূতাবাস গুলো বিএনপিকে এখনই বড় ধরনের কোনো সন্ত্রাস সহিংসতার মধ্যে না যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে। আর এরকম একটি বাস্তবতায় বিএনপির সামনে এখন অগ্নিপরীক্ষা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করলে বিএনপি লাভ হবে, না ক্ষতি হবে এই হিসেব নিকেশেই এখন ব্যস্ত বিএনপি। বিএনপির কোন কোন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক মনে করছেন। তবে কেউ কেউ বিএনপির সমাবেশ সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে করাটাকে শোচনীয় পরাজয় এবং সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ হিসেবেই মনে করছেন। এরকম একটি পরিস্থিতিতে রাজনীতির জটিল সমীকরণের দাঁড়িয়ে বিএনপি আসলে কি করতে চায়? বিএনপি তার সমাবেশ কোথায় করবে? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, শেষপর্যন্ত বিএনপি কোথায় সমাবেশ করে এর ওপর নির্ভর করছে আসলে বিএনপি কি করতে চায় সেটি। বিএনপি যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চায় তাহলে অবশ্যই তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে সমাবেশ করবে কিন্তু যদি সহিংসতা চায় তাহলে বিএনপির অনড় অবস্থানে থাকবে। 


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন