ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপি নেতাদের নৌকায় পদ্মা পার করা হবে: শাহজাহান খান

প্রকাশ: ০৯:৩৩ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail বিএনপি নেতারা নৌকায় পদ্মা পার করা হবে: শাহজাহান খান

বিএনপি নেতারা নৌকায় পদ্মা পার করে দেয়া হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান খান বলেছেন, আপনাদের নেত্রী পদ্মা সেতু নিয়ে বিভিন্ন উসকানিমূলক কথা বার্তা দিয়েছেন। পদ্মা সেতু পার হওয়ার অধিকার আপনাদের নেই। তাই আপনারা পদ্মা সেতুতে উঠবেন না। ওই পদ্মার পাড়ে নৌকা রাখা হবে সেই নৌকায় আপনাদের পার করে দেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শাহজাহান খান।

শাহজাহান খান বলেন, মির্জা ফখরুল- খালেদা জিয়া নাকি মুক্তিযোদ্ধা? তিনি তখন কোথায় ছিলেন? আবার অদ্ভুত কথা বলেন- তারেক জিয়া নাকি শিশু মুক্তিযোদ্ধা? বিএনপি নেতারা উন্মাদ হয়ে গেছেন, ক্ষমতা হারিয়ে তারা পাগল হয়ে গেছেন। এই পাগল দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে না। রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষ রাষ্ট্র নায়ক শেখ হাসিনাকে আবার রাষ্ট্রের ক্ষমতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, তারেক জিয়া বিদ্যুৎ না দিয়ে তারা খাম্বা বিক্রয় করেছেন। তারেক জিয়ার খাম্বা দিয়ে বিদ্যুৎ আসে নাই। শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছেন। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে গরু ছাগলের ঘর করেছিল। দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। তৃণমূল নেত্রীবৃন্দকে মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ তৃণমূলের নেতারাই প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রাণ। যদি তৃণমূলের নেতাকর্মী একত্রিত না হয় তাহলে বিএনপি-জামায়াতের মত লেজুড়বৃত্তি দল আবারো ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতা বিরোধীদের দিয়ে পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশকে আবারও কলঙ্কিত করার চেষ্টা করবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের উদ্বোধক লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান প্রমুখ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

নুরের আলো নিভলো কেন?

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail নুরের আলো নিভলো কেন?

গত বছর ২৬ অক্টোবর বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে নুর তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদ গঠন করেছিলেন। গণঅধিকার পরিষদ গঠনের পর রাজনীতিতে নানামুখী চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন যে, এই রাজনৈতিক দলই বাংলাদেশে তৃতীয় ধারার সূচনা করবে। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই নুরের আলো নিভে গেছে। নুর এখন রাজনীতিতে আর তেমন আলোচিত নয়। বরং বিএনপি যখন রাজপথে বড় ধরনের কর্মসূচি পালন করছে তখন নুর নিষ্প্রভ, তিনি বিভিন্ন প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ এবং নানারকম ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়েই ব্যস্ত। সরকারের সাথে তার গোপন যোগাযোগের কথা প্রকাশিত হচ্ছে এবং সরকারের কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য নিচ্ছেন, এমন খবরও তার কর্মীরা বলছে। এ নিয়ে এখন নুরের অনুসারীরাও তার ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। গণঅধিকার পরিষদের রাজনীতিও গতিশীল নয়। বরং গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া পৃথক অবস্থান নিয়ে নিজেই আলোকিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। সংগঠনগতভাবে গণঅধিকার পরিষদেরও তেমন কার্যক্রম নেই। মূলত কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে নুর আলোচনায় আসেন। এরপর তিনি ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচন করেন এবং ছাত্রলীগের বিপুল দাপটের মধ্যেও ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হয়ে সবাইকে চমকে দেন।

ডাকসু ভিপি হওয়ার পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে মা সম্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি হিসেবে তিনি তেমন কোনো কিছুই করতে পারেননি। বরং ছাত্র অধিকার পরিষদকে তিনি এগিয়ে নিয়ে যান এবং সারাদেশে ছাত্র-ছাত্রীদের আবেগ অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তিনি জনপ্রিয়তা ধরে রাখার এক কৌশল চেষ্টা করেন। ২০২০ সালে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করার ঘোষণা দেন এবং ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এ সময় তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, গণঅধিকার পরিষদ আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। কিন্তু এক বছরের মাথায় নুরের রাজনৈতিক দল কার্যকরহীন এবং একটি পেটসর্বস্ব রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। সারাদেশে সবগুলো জেলাতেও এই দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি পর্যন্ত নেই। বরং এই দলের প্রধান দুইজন রেজা কিবরিয়া এবং নুর নিজেদের ইমেজ বৃদ্ধির জন্যই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এক সময় নুর অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আরাধ্য ছিলেন। বিএনপিও তাকে কাছে টানতে চাইতো, আবার বাম দলগুলো তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখত। অনেকেই মনে করতো যে, বাংলাদেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নুরের মধ্যে রয়েছে এবং তিনি মূল ধারার রাজনীতিতে একটা অবস্থান করে নেবেন। কিন্তু এক বছরের মধ্যে প্রমাণিত হয়েছে, নুরের আসলে নিজস্ব তেমন কোনো আলো নেই। বরং আগামী নির্বাচনে তিনি যেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান সেজন্য চেষ্টা তদবির করছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন সরকারি কাজ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য দেনদরবার করার বিষয়টিও এখন সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রবাসী শাখা গঠন নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন নুর। এখন যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিংসহ নানা বিষয় নিয়ে বিএনপি আন্দোলনের চেষ্টা করছে, তখন নুর একরকম নীরব। তাহলে কি নুর আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন? আগামী নির্বাচনে কি তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন? এই প্রশ্নগুলো এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে নূরের ব্যাপারে অতীতের রাজনীতিতে যেরকম আগ্রহ এবং উৎসাহ ছিল, এখন সে আগ্রহ উৎসাহ নেই। নুর কি তাহলে রাজনীতিতে একটি পরিত্যক্ত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছেন?


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

‘বিএনপির পাকিস্তানই ভালো ছিল বক্তব্য এবং রডের মাথায় জাতীয় পতাকা একই সূত্রে গাঁথা’

প্রকাশ: ০৭:২৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘বিএনপির পাকিস্তানই ভালো ছিল বক্তব্য এবং রডের মাথায় জাতীয় পতাকা একই সূত্রে গাঁথা’

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, 'ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের পাকিস্তানই ভালো ছিল বক্তব্য এবং ঢাকায় লাঠি ও রডের মাথায় জাতীয় পতাকা লাগানো একই সূত্রে গাঁথা। তারা জাতীয় পতাকার অবমাননা করেছে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি অশ্রদ্ধা ও বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। দু'টির মধ্যে সম্পর্ক আছে।'

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমন্যাশিয়াম হলে সাংবাদিকরা বিএনপির বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশের ডাক দিয়ে প্রস্তুতি সভা করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তথ্যমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হরিজন সম্প্রদায়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাঝে সমাজসেবা অধিদপ্তরের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, 'বিএনপি বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা করছে, মুন্সিগঞ্জে নিজেদের কর্মীকে নিজেরা মেরেছে। তাদের এখন উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রয়োজনে নিজেদের কর্মীদের নিজেরা মেরে দেশে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালানো। সেটা যদি বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশের নামে আবারো করার অপচেষ্টা চালায় সেগুলো সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে, জনগণও তাদের প্রতিহত করবে।  বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকারের দায়িত্ব।'

জেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিলের সময় একটি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে রিটার্নিং অফিসারের  দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে, এটার কোন তদন্ত হয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সেখানে শতশত মানুষের মধ্যে কেউ একজন মোনাজাত ধরেছে। মুসলমান হিসেবে এখানে যদি কেউ মোনাজাত ধরে আর আমি যদি এখানে মোনাজাত না ধরে দাঁড়িয়ে থাকি তাহলে তো আমাকে বলবে বিধর্মী। সেই জন্য জেলা প্রশাসকও সেখানে মোনাজাত ধরেছেন। মোনাজাতের মধ্যে কে কি বললো, সেটার দায় জেলা প্রশাসকের ওপর বর্তায় বলে আমি মনে করিনা।'

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসককে একটি শো-কজ নোটিশ দেওয়া বা তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া ও তার বক্তব্য নেওয়া দরকার ছিল। বক্তব্য সন্তোষজনক না হলে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারত। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একটি মোনাজাত ও কিছু পত্রিকার সংবাদকে উপলক্ষ করে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে আমি মনে করি সেটি তড়িগড়ি। এবং যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ নিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের সমস্ত মানুষের কথা ভাবেন। একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কথাও তিনি ভাবেন। সেই ভাবনা থেকেই আজকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে অনুদান দেয়া হচ্ছে। হরিজন সম্প্রদায়ের আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের সরকার অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেটুকু বাকি আছে সেটিও যত দ্রুত সম্ভব আমরা করে ফেলব।

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, যুবসমাজকে সংগঠিত করার জন্য, যুবসমাজ যাতে বিপথে পরিচালিত না হয়, মাদকাসক্তি থেকে দুরে থাকে, জঙ্গিবাদসহ নানা ধরণের অপকর্মে যুক্ত না হয় সেজন্য আমাদের সরকার ক্লাবভিত্তিক খেলাধুলার প্রসারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।  বঙ্গবন্ধুকন্যার সঠিক সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের কারণেই আমাদের নারী ফুটবল দল আজকে সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদের সবগুলো খেলোয়াড় একেবারে প্রত্যন্ত এলাকার বঙ্গমাতা টুর্নামেন্ট থেকে উঠে এসেছে। আজকে তারা দেশের গর্ব।

জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ, জেলার ভারপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সরওয়ার কামাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এরপর আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিকেএসপি সম্মেলন কক্ষে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা এবং মহানগর নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

কর্মীদের প্রশ্ন, বিএনপি নেতাদের মামলা থেমে আছে কেন?

প্রকাশ: ০৭:০১ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail কর্মীদের প্রশ্ন, বিএনপি নেতাদের মামলা থেমে আছে কেন?

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বিরুদ্ধে ৭৭টি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। কোনো মামলার কার্যক্রমে এগোয় না। তিন মাস, ছয় মাসে তিনি একবার কোর্টে যান, হাজিরা দেন। তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। তিনি আবার ফিরে আসেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তিনটি মামলা রয়েছে। দুটি মামলায় চার্জশিট হয়েছে। সবগুলো মামলা ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় করা। কিন্তু একটি মামলায়ও এখন পর্যন্ত রায় হয়নি। মামলাগুলো এখন হিমাগারে রয়েছে। বিএনপির আরেক নেতা মির্জা আব্বাস। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা চলমান। সেই মামলাগুলোতে তিনি জামিন নিয়ে আছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও ৩৭টি বিভিন্ন রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা রয়েছে। সেই মামলাগুলোর কোনো হদিস নেই। এই যখন বিএনপি নেতাদের অবস্থা তখন কর্মীদের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিএনপির কর্মীরা এখন ঘরে থাকতে পারছেন না। প্রতিদিন কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি হচ্ছে। গত এক মাসে ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির অন্তত ৩০০ জন কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের নেতারা দাবি করেছেন। বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ এবং মিছিল করার প্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ অ্যাকশন নিচ্ছে। বিএনপির একজন কর্মী বলেছেন, বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি করছে, পুরনো মামলা ধরে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশ বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা সচল করেছে, কোথাও কোথাও চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহরে বিএনপির অন্তত দুই হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নানারকম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলছে এবং তাদেরকে পুলিশ খুঁজছে।

বিএনপি কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, নেতাদের মামলা থমকে আছে কেন আর কর্মীদের মামলাগুলো কেন চলমান? তাহলে কি নেতারা সরকারের সাথে আপোষ করেছে? বিএনপি যতই সরকারবিরোধী আন্দোলন করছে তাতেই এই প্রশ্নগুলো বিএনপির কর্মীদের সামনে এসে বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। বিএনপির কর্মীরা বলছেন নেতারা প্রকাশ্যে আন্দোলন করছে বটে কিন্তু গোপনে তারা সরকারের সঙ্গে এক ধরনের আঁতাত করছে। সরকারের সমঝোতার কারণেই বিএনপি নেতাদের কোনো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না, তারা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, গায়ে বাতাস লাগিয়ে চলছেন এবং প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করছেন। খুব গোপনে সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করছেন। বিএনপিতে এই বিষয়টি ক্রমশ এখন বড় আকার ধারণ করেছে। বিএনপির কর্মীরা মনে করছেন যে, নেতারা যেকোনো সময়ে সরকারের সাথে সমঝোতা করতে পারে, আন্দোলনের পিঠে ছুরিকাঘাত করতে পারে। কর্মীরাই এখন নেতাদেরকে বিশ্বাস করছেন না। একমাত্র বেগম খালেদা জিয়া দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। খালেদা জিয়া সরকারের সাথে আপোষ করেননি জন্য মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন বলে মনে করেন প্রায় সব বিএনপির কর্মীরা। অন্যদিকে কর্মীদেরকে ধরপাকড় করা হলেও নেতারা এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন। না সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি যে সমস্ত সমাবেশগুলো করছে সেখানে শুধুমাত্র বিভিন্ন ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন তাদের কথা বলা হয়। বিএনপির যে সমস্ত কর্মীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন বা পুলিশের হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাদের কথা বলা হচ্ছে না। বিএনপির কর্মীরা প্রশ্ন করছেন যে, নেতারা এত বড় বড় কথা বলেও কিভাবে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন? তাহলে সরকার বিএনপির আন্দোলনে বাধা দিচ্ছে বলে যে বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে তা সত্য নয় অথবা সরকারের সঙ্গে এই সমস্ত নেতাদের এক ধরনের রহস্যময় সম্পর্ক রয়েছে।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সরকারের গোপন যোগাযোগের কথা বিএনপিতে খোলামেলাই আলোচনা হয়। একাধিক বিএনপির কর্মীরা মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবিশ্বস্ত লোক, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে তার নিয়মিত কথাবার্তা হয়, আলাপ-আলোচনা হয়। বিএনপির মির্জা আব্বাস একাধিক ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার ওঠাবসা রয়েছে, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আবার বিএনপির আরেক নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু সরকারের অনেক মন্ত্রীর অন্দরমহলে যাতায়াত করেন। সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির অন্তত ৫ জন নেতা রয়েছেন যাদের ব্যাপারে ক্রমশ বাড়ছে বিএনপি কর্মীদের। আন্দোলন যত ঘনীভূত হবে ততই সন্দেহ বাড়বে এবং বিএনপি কর্মীরা মনে করছেন, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো এই সমস্ত নেতারাই আবার বিভ্রান্তির চোরাগলিতে নিয়ে যাবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

সহ্যের সীমা লঙ্ঘন হলে পরিণাম ভাল হবে না: বিএনপিকে নানক

প্রকাশ: ০৬:৩০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail সহ্যের সীমা লঙ্ঘন হলে পরিণাম ভাল হবে না: বিএনপিকে নানক

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আমাদের মধ্যেও সহ্যের সীমা রয়েছে। সেই সহ্যের বাঁধ যদি ভেঙ্গে যায় তার ফল ভাল হবে না। আমরা চাই দেশে শান্তি শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য। জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা জানমাল নিরাপত্তার জন্য সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও জনগণকে সাথে নিয়ে তার ভূমিকা পালন করবে।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর)  বিকেলে হাজারীবাগে বিএনপি'র নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় কর্মীদের খোঁজখবর নিতে যান। আহত কর্মীদের খোঁজখবর নেয়া শেষে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম। দলের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহন করা হবে বলেও আহতদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন নেতারা। এ ধারাবাহিকতায় আহতদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

হাজারীবাগে বিএনপির কর্মসূচি থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আহতদের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জাহাঙ্গীর কবির নানক তিনি বলেন, শাহ আলমের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। আইরিনের দুই হাত ভেঙ্গে দিয়েছে এবং আবদুল্লাহ এখন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আবদুল্লাহর শরীরে ১৮টি সেলাই লেগেছে এবং তার কিডনি ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে। সে এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিইউতে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।



তিনি আরও বলেন, এই অবস্থা বিএনপি-জামায়াত সারাদেশব্যপী চালাচ্ছে। শুধু আওয়ামী লীগকে লক্ষ্য করে নয় তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,পুলিশ বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা করছে। এদের খাসলত কোনদিনই ভাল হল না। এরা ২০০৯ সাল থেকেই একই অবস্থা সৃষ্টি করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, মানুষ হত্যা করেছে, রাজনীতির নামে এরা সন্ত্রাসীর পথ বেছে নিয়েছে। সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে। ট্রেন লাইন উপড়ে ফেলেছে।

সাবেক মন্ত্রী নানক বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের মধ্যেও একটি সহ্যের সীমা রয়েছে। সেই সহ্যের বাঁধ যদি ভেঙ্গে যায় তার ফল ভাল হবে না। আমরা চাই দেশে শান্তি শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য।

মানুষের জানমালের বিধান রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব জানিয়ে নানক বলেন, দেশে গণতন্ত্র রয়েছে, শেখ হাসিনার সরকার দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে মিছিল মিটিং করার অধিকার দিয়েছেন। কিন্তু সেই অধিকারকে যদি মনে করা হয় যে, তারা যা ইচ্ছা তাই করবে, জনগণের ওপর হামলা করবে,আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করবে, পুলিশের ওপর হামলা করবে। তাহলে আমরাও পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, জনগণের শান্তি শৃঙ্খলা জানমাল নিরাপত্তার জন্য সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও জনগণকে সাথে নিয়ে তার ভূমিকা পালন করবে।

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় দলের নেতাকর্মীদের আহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, গত দুইদিন যাবৎ আমাদের আহত নেতাকর্মীদের দেখছি। আমরা বলতে চাই, সন্ত্রাসী কায়দায় সশস্ত্র কায়দায় মানুষের ওপর বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, দেশটিভির সাংবাদিকদের ওপর নির্মমভাবে আঘাত করেছে, আমরা এই সকল কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

নাছিম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে যদি কোন রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে সেক্ষেত্রে আমাদের বাধা দেয়ার কোন ইচ্ছা নেই। আমাদের কোন কর্মসূচি নেই। কিন্তু কেউ যদি সন্ত্রাসী কায়দায় সশস্ত্র কায়দায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত আনে, সাংবাদিকদের ওপর আঘাত আনে, দেশের সাধারণ মানুষের ওপর আঘাত হানে সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ তার নেতাকর্মীদের নিয়ে, জনগণকে সাথে নিয়ে জনস্বার্থে আইনশৃঙ্খলা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসী গুন্ডাদের প্রতিহত করার জন্য প্রয়োজনে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, শান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনগণকে সাথে নিয়ে প্রতিহত এবং মোকাবিলা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় হাজারীবাগে বিএনপির হামলায় ঘটনায় সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন কর্মীদের খোঁজখবর নেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতারা। তারা হলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজ। এসময় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

মনোনয়ন পাবেন না আলোচিত ৫

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail মনোনয়ন পাবেন না আলোচিত ৫

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রায় অর্ধেক আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যদেরকে মনোনয়ন দিবে না। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের কোনো কোনো নেতা বলছেন, দেড়শ না আরও বেশিও হতে পারে। ইতোমধ্যে গত নির্বাচনে যারা প্রার্থী ছিলেন, নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের এলাকার অবস্থান যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, এলাকায় তাদের অবস্থা, তাদের জনপ্রিয়তা, তারা কোনো বিতর্কে জড়িয়েছেন কিনা, সংগঠনবিরোধী কর্মকান্ডের সঙ্গে আছেন কিনা ইত্যাদি নিয়েও তথ্যানুসন্ধান চলছে, চলছে একাধিক মাঠ জরিপ। তবে এই সমস্ত তথ্য উপাত্তের পাশাপাশি এরকম কয়েকজন নেতা আছেন যারা নিশ্চিতভাবে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না। কারণ, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর ব্যাপারে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি সুস্পষ্ট মনোভাব ব্যক্ত করেছেন এবং আগামী নির্বাচনে যে তারা মনোনয়ন পাবেন না এই সম্পর্কে তাদেরকে বার্তাটা পরোক্ষভাবে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরকম তালিকায় যারা রয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন-

হাবিবে মিল্লাত: হাবিবে মিল্লাত সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি। তিনি তার এলাকায় বিভক্তির সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তার এলাকায় প্রায় বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগ এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভক্তি হচ্ছে। আওয়ামী লীগের বাইরে গিয়ে তিনি নতুন একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন, এমন অভিযোগও উঠেছে। এই কারণেই তাকে সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগের পদ থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। হাবিবে মিল্লাত ইতোমধ্যেই লাল কার্ড পেয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পঙ্কজ দেবনাথ: বরিশাল-৪ আসন থেকে নির্বাচিত পঙ্কজ দেবনাথকে সাম্প্রতিক সময়ে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। যদিও এ অব্যাহতি মানে এই নয় যে তিনি আর সংসদ সদস্য পদে থাকতে পারবেন না। এখন তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল রয়েছেন। তবে আগামী নির্বাচনে তিনি যে বরিশাল-৪ থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। 

মুরাদ হাসান: জামালপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত মুরাদ হাসান তথ্য প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তারপর তার বিভিন্ন রকম অসংলগ্ন কথাবার্তার জন্য তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর তিনি পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পরই তার এলাকার বিভিন্ন কমিটি থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়। বর্তমানে পর্দার আড়ালে আছেন মুরাদ হাসান। কিন্তু আগামী নির্বাচনে তিনিও মনোনয়ন পাবেন না বলেই নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। ওই নির্বাচনী এলাকায় একাধিক ব্যক্তি এখন নির্বাচন প্রচারণার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

হাজী সেলিম: ঢাকা-৭ থেকে নির্বাচিত হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে একটি দুর্নীতির মামলার রায় হয়েছে এবং ওই মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়নি। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে সংসদ সদস্য বাতিল হোক না হোক, সর্বোচ্চ আদালতের রায় যদি শেষ পর্যন্ত বহাল থাকে তবে আগামী নির্বাচনে হাজী সেলিমকে দেখা যাবে না।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন: ফরিদপুর-৩ থেকে নির্বাচিত দুইবারের এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না, এটি মোটামুটি নিশ্চিত। ফরিদপুরে তার ঘনিষ্ঠ লোকজনের ব্যাপক অর্থপাচার, লুটপাট, দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে বছর জুড়েই চাউর হয়েছে এবং এই সমস্ত অভিযোগে তার সহকারী একান্ত সচিব এবং তার ঘনিষ্ঠ কর্মীদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে রাজনীতিতে তিনি এক ধরনের মৌনব্রত অবলম্বন করছেন এবং সবকিছু থেকেই তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। আগামী নির্বাচনে যে ফরিদপুর-৩ আসন থেকে তিনি নির্বাচন করছেন না, এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

এরকম আরও অন্তত ৩০ জন রয়েছেন, যারা ইতোমধ্যেই মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগগুলো রয়েছে সেই সমস্ত অভিযোগগুলোর কারণে তারা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না বলে বার্তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কতজন নতুন প্রার্থীকে সামনে আনবে সেটি চূড়ান্ত হবে আরও পরে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন