ইনসাইড পলিটিক্স

কারা আসছেন স্বাচিপের নেতৃত্বে?

প্রকাশ: ০৬:০৫ পিএম, ২৪ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামীকাল। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সম্মেলনকে ঘিরে চিকিৎসকদের মধ্যে নানামুখী আলাপ-আলোচনা চলছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতৃত্বে কে আসবেন, নেতৃত্বে পরিবর্তন হবে কিনা এ নিয়ে নানারকম জল্পনা-কল্পনা চলছে। বর্তমানে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান এবং মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ডা. এমএ আজিজ। এবার সম্মেলনের মধ্য দিয়ে এই নেতৃত্বের পরিবর্তন হবে কিনা, সেটি এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে যে, স্বাচিপের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে স্বাচিপের বর্তমান সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সলানকে সরিয়ে নতুন কোনো সভাপতিকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। নতুন সভাপতি হিসেবে বর্তমান মহাসচিব ডা. এম এ আজিজ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এবং ডা. কামরুল হাসানের নাম জোরেশোরেই উচ্চারিত হচ্ছে। এদের মধ্যে যে কেউ একজন সভাপতি হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, ডা. আজিজ এবং ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া মধ্যে যদি কেউ সভাপতি হয় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

অন্যদিকে স্বাচিপের মহাসচিব পদেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে। স্বাচিপের বর্তমান মহাসচিব যদি শেষ পর্যন্ত সভাপতি হন তবে সেখানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় নেতা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জারি বিভাগের ডিন ও নিউরোসার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলোজির অধ্যাপক ও ঢাকা মেডিকেল অনুষদের ডিন ডা. শাহরিয়ার নবী শাকিলের নাম আলোচনায় রয়েছে বেশ জোরেশোরে। চিকিৎসকদের সবচেয়ে বড় এই সংগঠনের নেতৃত্ব নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সঙ্কটে চিকিৎসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় বিএমএ'র নেতা ডা. মিলনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এরশাদ পতনের মূল পথযাত্রা সূচনা হয়েছিল। সেই সময়ে বিএমএ'র মহাসচিব ছিলেন ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের চিকিৎসকদের সংগঠন। কিন্তু টানা ১৪ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে স্বাচিপই এখন চিকিৎসকদের প্রধান সংগঠনে পরিণত হয়েছে। স্বাচিপের নেতারাই বিএমএ নির্বাচনে ভূমিকা রাখে। বর্তমানে স্বাচিপের সভাপতি যিনি আছেন তিনি আওয়ামী লীগের একজন ত্যাগী চিকিৎসক নেতা। বিভিন্ন সঙ্কটে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। বিশেষ করে এক-এগারোর সময় তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু তিনি বিরল একজন স্বাচিপ নেতা যিনি আওয়ামী লীগ ১৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও তেমন কিছুই পাননি। এমনকি তাকে বিএমএ'র নির্বাচনেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। নানা কারণে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন। ইকবাল আর্সলান এবার কি সভাপতি থাকবেন কিনা, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। কারণ, তার বিরুদ্ধ মত এখন অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। ইকবাল আর্সলানকে বাদ দিয়ে যে কাউকে করার পক্ষে কিছু কিছু মত তৈরি হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত স্বাচিপের নতুন নেতৃত্ব চূড়ান্ত করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই। আগামীকালই বোঝা যাবে স্বাচিপের নেতৃত্বে কি পরিবর্তন আসছে, নাকি আগের নেতৃত্বই থাকছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরতে চায়: আওয়ামী লীগ নেবে কি?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কাউন্সিলের আগে আওয়ামী লীগে গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন এরকম বেশ কয়েকজন নেতা আবার ঘরে ফিরতে চান। ঘরে ফেরার জন্য তারা বিভিন্ন আওয়ামী লীগের নেতার সঙ্গে যোগাযোগও করছেন। কিন্তু কোনো নেতাই কোনো সবুজ সংকেত তাদের দিতে পারেননি। সব নেতারাই প্রাক্তন আওয়ামী লীগারদের প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা। ঘরের ছেলেরা ঘরে ফিরতে চান, আওয়ামী লীগ কি তাদের নেবে? যে সমস্ত নেতা একসময় আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন কিন্তু এখন আওয়ামী লীগে ফিরতে চান তাদের মধ্যে রয়েছেন-

১. আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী: আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আসার পর মন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে তাকে মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর দলের প্রাথমিক সদস্যপদও তিনি হারান। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন। তিনি কঠিন সময় বিশেষ এক-এগারোর সময় আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। কিন্তু ধর্মবিরোধী স্পর্শকাতর বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী দীর্ঘদিন কারান্তরীণ ছিলেন। এখন তিনি আবার আওয়ামী লীগের ফিরে আসতে চান। এজন্য তিনি যোগাযোগ করছেন। এখন তিনি আওয়ামী লীগের ফিরতে পারবেন কিনা, এ প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে।

২. বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী: বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ছেড়েছিলেন ১৯৯৬ সালের পর যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল এবং তিনি আওয়ামী লীগ থেকে সরে গিয়ে নিজেই একটি রাজনৈতিক দল করেছিলেন। এই রাজনৈতিক দলটি খুব একটা দাঁড়াতে পারেনি। বরং তিনি এখন আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গেও তিনি দেখা করেছেন, যোগাযোগ করছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি একজন আওয়ামী লীগার হয়েই মৃত্যুবরণ করতে চান, এমন কথা বিভিন্ন মহলে বলেছেন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। একমাত্র বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা যিনি বীর উত্তম খেতাব পেয়েছিলেন। পঁচাত্তরের পর তিনি আরেকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জাতির পিতার হত্যার বিচারের দাবিতে তিনি আরেকটি ঐতিহাসিক প্রতিবাদ সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে দূরে চলে যাওয়ার পর তিনি এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত। আওয়ামী লীগ তাকে ফিরিয়ে নেবে কি?

৩. মোস্তফা মোহসীন মন্টু: মোস্তফা মোহসীন মন্টু একসময় আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। বিশেষ করে পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন মন্টুর ভূমিকা ছিলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ১৯৯১ সালে মোস্তফা মোহসীন মন্টু আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন এবং তারপর তিনি দীর্ঘদিন গণফোরাম করেছেন। এখন ড. কামাল হোসেনের সঙ্গেও তার দূরত্ব তৈরি হয়েছে এবং নতুন একটি পৃথক গণফোরাম গঠন করে তিনি না আলাদা অবস্থানে রয়েছেন। সেই অবস্থান থেকে তাকে আওয়ামী লীগ নেবে কিনা, সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন।

৪. অধ্যাপক আবু সাইয়িদ: অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আওয়ামী লীগের অন্যতম তাত্ত্বিক নেতা ছিলেন। ১৯৯৬ সালে তাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০০৭ সালে তিনি সংস্কারপন্থী হয়ে যান। এই সংস্কারপন্থী হওয়ার কারণেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়নি। সেই বার মনোনয়ন না পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে পরাজিত হন। গণফোরামেও তিনি টিকতে পারেননি। এখন মোস্তফা মোহসীন মন্টুর গণফোরামের তিনি আছেন। এই তাত্ত্বিক নেতাও এখন আওয়ামী লীগে ফেরার জন্য বিভিন্ন জায়গায় দেন-দরবার করছেন। শেষ পর্যন্ত তিনিও ফিরতে পারবেন কিনা, সেটিও একটু বড় প্রশ্ন।

৫. সুলতান মোহাম্মদ মনসুর: সাবেক ডাকসুর ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর শেখ হাসিনার হাতে গড়া একজন রাজনীতিবিদ যিনি ছাত্রনেতা থেকে শেখ হাসিনার অপত্যস্নেহ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। কিন্তু এক-এগারোর সময় তিনি মাইনাস ফর্মুলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি, আওয়ামী লীগ থেকে তিনি নিজেই সরে যান। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ দেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ওই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়ে এখন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদেও তিনি বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কথা বলছেন। আওয়ামী লীগের অনেকেরই সমালোচনা করছেন কিন্তু শেখ হাসিনার পক্ষে তাদের অবস্থান জাতীয় সংসদে সবসময় দেখা যায়।সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আওয়ামী লীগে ফিরবেন, এমন গুঞ্জন অনেকদিন ধরেই রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগে ফিরতে পারবেন কিনা, সে নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আন্দোলনে যাদের সঙ্গে নেবে না বিএনপি

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। এই মহাসমাবেশের স্থান নিয়ে এখনও সুরাহা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার জন্য শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এখন পর্যন্ত বলেছে যে, তারা নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে। তবে শেষপর্যন্ত বিএনপি নমনীয় হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে এবং বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই ছাত্রলীগের সম্মেলন ৮ ডিসেম্বর থেকে এগিয়ে নিয়ে ৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে যেন মঞ্চ ভাঙ্গাসহ আনুষঙ্গিক কাজ তিনদিনে করা সম্ভব হয়। আর এরই প্রেক্ষিতে মনে করা হচ্ছে যে, ১০ ডিসেম্বর বিএনপি চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। বরং সরকারকে একটি আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আর সেই আন্দোলনের কর্মসূচিতে বিএনপি যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যে সংলাপ করেছে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করবে। মূলত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতেই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ আশা করছেন যে, তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তারা আন্দোলনকে একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারবেন। রোজার আগেই সরকারকে বড় ধরনের সংকটে ফেলার লক্ষ্যেই এই আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে যুগপৎ আন্দোলন করলেও এই আন্দোলনে পাঁচটি রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তিকে তারা গ্রহণ করবেনা। কোন অবস্থাতেই তাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলন না করার জন্য ইতিমধ্যেই লন্ডন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপি কখনোই আর জোট করবে না বা কোন ধরনের যুগপৎ আন্দোলন করবে না সেই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. বিকল্পধারা: বিকল্পধারা বর্তমানে মহাজোটের অংশীদার। বিএনপির কোনো কোনো নেতার ভাষ্য বিকল্পধারা এখন আবার বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে আন্দোলন করতে চাইছে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে সরাসরি ভাবে বলা হচ্ছে যে, বিএনপি আর যাই করুক না কেন বিকল্পধারার সাথে কোনো রকম যুগপৎ আন্দোলন করবে না।

২. এলডিপি: কর্নেল (অব:) অলি আহমদের নেতৃত্বে এলডিপির সঙ্গে বিএনপি সংলাপ করেছে। এলডিপির নেতা কর্নেল (অব:) অলি আহমেদের বাসায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছুটে গেছেন। কিন্তু যুগপৎ আন্দোলনে এলডিপিকে না নেয়ার বার্তা দিয়েছেন তারেক জিয়া। বিএনপি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আন্দোলন করলেও এলডিপির সাথে কোনো রকম যুগপৎ আন্দোলন করবে না বলেই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হয়েছে।

৩. গণঅধিকার পরিষদ: ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরের দল গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলন করবে না। গণঅধিকার পরিষদের নেতা রেজা কিবরিয়া সঙ্গে বিএনপির কোনো কোনো নেতার সখ্যতা থাকলেও রেজা কিবরিয়া এবং নুর যথেষ্ট সরকারবিরোধী অবস্থানে থাকলেও এই দলটিকে বিএনপি বিশ্বাস করতে পারছে না। বরং এরাই গোপনে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে বলেই বিএনপির কোনো কোনো মহল মনে করছে। এই ধারণার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদ যুগপৎ আন্দোলন থেকে দূরে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৪. গণফোরাম: ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের সঙ্গেও বিএনপি আন্দোলন করবে না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে গণফোরামের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল যে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ছিলেন ড. কামাল হোসেন। কিন্তু কামাল হোসেনকে বিএনপি নেতারা এখন প্রকাশ্যে বিশ্বাসঘাতক মনে করেন এবং এই কারণে ওই নির্বাচনের পর থেকে আস্তে আস্তে কামাল হোসেনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এখন আবার কামাল হোসেন নতুন করে আন্দোলন এবং নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু বিএনপি নেতাদেরকে ড. কামাল হোসেন থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। তারা বলেছেন, আর যাই হোক কামাল হোসেনের ফাঁদে পড়া যাবে না।

৫. জামায়াতে ইসলাম: জামায়াতের সঙ্গে কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে যুগপৎ আন্দোলন করবে না বিএনপি। বিএনপি ইতোমধ্যে ২০ দলকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করেছে। জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ নেই। আর বিএনপির নেতারা বলছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ বা যুগপৎ আন্দোলনের প্রশ্নই উঠে না।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপিকে সুবিধা দিতেই ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন

প্রকাশ: ০৮:৫৩ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সম্মেলনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৬ ডিসেম্বর। এর আগে প্রথমে সম্মেলনের জন্য ৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়। ওই সময় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে যাওয়ার কথা ছিলো। যদিও পরে সফরটি বাতিল করা হয়েছে। সেই সফর থেকে প্রধানমন্ত্রীর ফেরার কথা ছিল ৩ ডিসেম্বর। আর সে কারণেই ছাত্রলীগের সম্মেলন ৩ ডিসেম্বরের স্থগিত করা হয়। এরপর নতুন করে আগামী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর এই সম্মেলনের আয়োজনের কথাও জানানো হয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। এরপর আজ আবার নতুন করে ঘোষণা করা হয় ছাত্রলীগের সম্মেলন হবে ৬ ডিসেম্বর। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নতুন এই তারিখ ঘোষণা করেন। ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখের এই পরিবর্তনের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা শুরু হয়।

মূলত আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেই মহাসবেশের দুই দিন আগে যদি ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে বিএনপির মহাসবেশের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। আর তাই বিএনপির সমাবেশে যেন ব্যঘাত না ঘটে এবং সমাবেশ যেন সুষ্ঠু ভাবে করতে পারে সেই লক্ষে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশেই ছাত্রলীগের ৮ ডিসেম্বরের সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন করে ৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

'বিএনপির কর্মীদের দ্বারা মির্জা সাহেবদের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে'

প্রকাশ: ০৮:২৫ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ক্ষমতা না ছাড়লে দেশ ছেড়ে পালানোর পথ পাবেন না বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে জবাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন, পলায়নের ইতিহাস আওয়ামী লীগের নেই। আমরা এদেশের যেকোনো মতালম্বী কোন নাগরিককে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি প্রদান করি না বা দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেই না। আওয়ামী লীগ সরকার এদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্মগত নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ কর্মীরা পাহারা দিয়ে মির্জা ফখরুলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কারণ, অচিরেই আস্ফালন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার বিএনপির কর্মীদের দ্বারা মির্জা সাহেবদের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। 

রোববার (২৭ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই কথা জানান।

আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, পলায়নের ইতিহাস আওয়ামী লীগের নেই। আওয়ামী ক্ষমতার অবৈধ দখলদার কোন ডাকাত সরদারের পকেট থেকে জন্ম নেওয়া অবৈধ রাজনৈতিক দল নয়। এদেশের মাটি ও মানুষের দল আওয়ামী লীগ বাঙালির আপন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। আপনার দলের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১/১১- র পর তার মামার বন্ধুদের থেরাপি গ্রহণ শেষে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ আরেক ৯/১১-এ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। পলাতক নেতার মহাসচিবের এমন আস্ফালন মানায় না। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নবীনগর পাইলট স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি। ফয়েজুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম এমপি, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, এবাদুল করিম বুলবুল এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার, ঢাকা মহানগর নেতা মোর্শেদ কামাল প্রমুখ।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে বিদায়ী সভাপতি ফয়েজুর রহমান বাদল সভাপতি এবং বিদায়ী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন চৌধুরী শাহান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আওয়ামী লীগে সোহেল তাজের দরজা বন্ধ হয়ে গেল

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি এমপি। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর শূন্য হওয়া প্রেসিডিয়াম সদস্য পদে রিমিকে নিয়োগ দেওয়া হলো। কাউন্সিলের মাত্র এক মাস আগে রিমিকে নিয়োগ দেওয়ার কারণ কি, এ নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানামুখী আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যপদ শূন্য রাখা উচিত নয়। এই জন্যই সিমিন হোসেন রিমিকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের জাতীয় চার নেতার দুই সন্তান প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত হলেন। এর আগে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনকে প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিলো। এবার রিমিকে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। আওয়ামী লীগ সভাপতি সবসময় জাতীয় চার নেতার প্রতি আলাদা সম্মান দেখান এবং জাতীয় চার নেতার উত্তরসূরিদেরকে বিশেষ মর্যাদা দান করেন, এর মধ্য দিয়ে এটি প্রমাণিত হলো।

তবে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতা বলছেন যে, বিষয়টা এত সাদামাটা নয়। কাউন্সিলের এক মাস আগে রিমিকে প্রেসিডিয়ামের সদস্য অন্তর্ভুক্তির পেছনে অন্যকিছু কারণও রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো সোহেল তাজ। সাম্প্রতিক সময়ে সোহেল তাজ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লাইমলাইটে আসার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি বলতে চাচ্ছেন যে, তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হতে চান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠছে। সুশীল সমাজের মধ্যে থেকে কেউ বলতে চাইছে যে, সোহেল তাজ তাজউদ্দীন আহমেদের সন্তান, তিনি কেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হতে পারবেন না ইত্যাদি। এরকম পরিস্থিতিতে সিমিন হোসেন রিমিকে প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত করে সোহেল তাজের জন্য আওয়ামী লীগের দরজা কি চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হলো, অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এরকম অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

সোহেল তাজ আওয়ামী লীগ সভাপতির অত্যন্ত স্নেহভাজন। আওয়ামী লীগ সভাপতি তাকে পুত্রস্নেহে সব সময় দেখেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি সম্ভাবনা জাগিয়েও হুট করে পদত্যাগ করেন। শুধু মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ নয়, এরপর তিনি সংসদ সদস্যের পদ থেকেও পদত্যাগ করেন এবং আমেরিকায় চলে যান। এসময় তিনি সরকারের জন্য একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তার শূন্য হওয়া শুনেই সিমিন হোসেন রিমিকে মনোনয়ন দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এরপর সোহেল তাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাঝে মাঝে আসেন, মাঝে মাঝে আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করে বক্তব্য রাখেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি এই সমস্ত বিষয় গুলো সহ্য করেছেন কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সোহেল তাজের আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসার যে অভিপ্রায় জেগেছিল তা আওয়ামী লীগের মধ্যে একটা ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা সূক্ষ্ম প্রয়াসও লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এই সমস্ত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব এবং অপপ্রচারগুলো বন্ধের জন্য তাজউদ্দীনকন্যা রিমিকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসবে অন্তর্ভুক্ত করা হলো। সিমিন হোসেন রিমি তাজউদ্দীন আহমেদের কন্যা। তবে তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি অবিচল এবং শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল। তিনি দলীয় আদর্শ চিন্তার বাইরে কথাবার্তা একদমই বলেন না। এ কারণেই রিমিকে প্রেসিডিয়ামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন অনেকেই ধারণা করেন যে, সোহেল তাজের বলা একটু কম গুরুত্ব পাবে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন