ইনসাইড পলিটিক্স

কুমিল্লায় বিএনপি নেতাকর্মীদের আপ্যায়নে ১০ গরু

প্রকাশ: ০৮:৩৮ পিএম, ২৪ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় গণসমাবেশ আগামী শনিবার (২৬ নভেম্বর)। ইতোমধ্যে সমাবেশ সফল করার লক্ষে বিভিন্ন উপজেলা ও কুমিল্লার বাইরের জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা এসেছেন। আর নেতাকর্মীদের আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা।

কুমিল্লার রাম ঘাটলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চারটি গরু এনে রেখেছেন মহানগর বিএনপি নেতারা। রাতে আরও ছয়টি গরুরসহ মোট ১০টি গরু জবাই করা হবে সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের ভূরিভোজের জন্য।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) রাত থেকে নেতাকর্মীদের খাবারের আয়োজন করেছেন তারা।

মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, ১০ গরুর জবাই করা হবে। নেতাকর্মীরা অনেকে শহরে পৌঁছে গেছেন। তাদের আপ্যায়নের জন্য এই আয়োজন। রাত থেকে খাবারের আয়োজন শুরু হবে। কোন নেতাকর্মী যেন কষ্ট না পায় তার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে।

এদিকে, নগরীর নানুয়ার দিঘির পাড়ে অবস্থিত সাবেক মেয়র বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল হক সাক্কুর বাড়িতে ভিড় করেছেন নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তিনিও নেতাকর্মীদের থাকা এবং ভূরিভোজের আয়োজন করেছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

১০ ডিসেম্বর: ঢাকায় ৫ রেড জোন

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী হবে, তা নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিএনপি ১০ ডিসেম্বর সন্ত্রাস সহিংসতা সৃষ্টি করতে চায়। আর এ কারণেই তারা নয়াপল্টনে সমাবেশ করছে। ইতোমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, ১০ ডিসেম্বর যেকোনো মূল্যে তারা নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে না। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, ১০ ডিসেম্বর যদি তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করে সেখানে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে কিন্তু। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের ঘটনা একমাত্র বিএনপি করেছিল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে, আওয়ামী লীগের এই সংস্কৃতি নেই। শেষ পর্যন্ত যাই হোক না কেন, ১০ ডিসেম্বরের রাজনীতিতে সন্ত্রাস-সহিংসতার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে একের পর এক বৈঠক করছেন, তারা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সহিংসতাকে কোনোভাবে প্রশ্রয় না দেয়ার ব্যাপারে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এই বাস্তবতায় ১০ ডিসেম্বরের আগে থেকে পাঁচটি রেড জোনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যে পাঁচটি এলাকায় সন্ত্রাস, নাশকতা এবং অনভিপ্রেত ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে সেই ৫টি এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং কোনো রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য সজাগ থাকবে। যে পাঁচটি রেড জোন চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-

১. নয়াপল্টন: নয়াপল্টন বিএনপির প্রস্তাবিত সমাবেশস্থল। বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশের জন্য বিএনপি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আর এ কারণেই পুরো নয়াপল্টন এখন রেড জোন মনে করা হচ্ছে। নয়াপল্টনে ৮ ডিসেম্বর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান গ্রহণ করবে এবং সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

২. গুলশান: সরকারের পক্ষ থেকে গুলশানের বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন সংলগ্ন এলাকাকেও রেড জোন করা হয়েছে এবং সেখানেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য যথেষ্ট মোতায়েন থাকবে যেন কোনোরকম অনভিপ্রেত ঘটনা না ঘটে। একটি শঙ্কা রয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে ১০ ডিসেম্বর বের করে নিয়ে আসা হতে পারে এবং তাকে সমাবেশে হাজির করা হতে পারে। আর এই কারণেই গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবন সংলগ্ন এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হয়েছে।

৩. পুরান ঢাকা: পুরান ঢাকা ইশরাকের নির্বাচনী এলাকায় এবং এ কারণেই সেখান থেকে বড় ধরনের মিছিল এবং উচ্ছৃঙ্খল বিএনপির কর্মীরা যেকোনো উস্কানিমূলক ঘটনা ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য সূত্রাপুর-কোতোয়ালিসহ পুরান ঢাকার এলাকাকে রেড জোন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

৪. খিলগাঁও: মির্জা আব্বাসের বাড়ি এবং সংলগ্ন এলাকায় বিএনপির বিপুল সংখ্যক কর্মী থাকে এবং এখান থেকেও এক ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে খিলগাঁও রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

৫. কাকরাইল: নয়াপল্টন সংলগ্ন কাকরাইল এলাকায় বিএনপির বিকল্প অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং বিএনপির কর্মীরা সেখানেও সমবেত হতে পারে বলে অনেকেই ধারণা প্রকাশ করছেন। এ কারণে কাকরাইল এলাকাকেও রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে।

তবে এর বাইরেও মতিঝিল, শাহবাগসহ আরও কয়েকটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানা গেছে।

বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

বিএনপির সর্ববৃহৎ গণসমাবেশ হবে রাজশাহীতে : বিএনপি

প্রকাশ: ০৭:২১ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

শনিবার (৩ডিসেম্বর) রাজশাহীতে এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ গণসমাবেশ হবে বলে ধারণা করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। গণসমাবেশের দায়িত্বে থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, এই গণসমাবেশে ১৫ লাখের বেশি মানুষ উপস্থিত হবে। যতই প্রতিবন্ধকতা আসুক তারপরও রাজশাহী শহর জনমানুষে কানায় কানায় ভরে যাবে। সেই লক্ষে কাজ করা হচ্ছে। ইতমধ্যে গণসমাবেশ স্থল রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ শুক্রবারের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

তবে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, সাবেক এমপি ও মেয়র মিজানুর রহমান মিনু বলছেন, পুলিশ প্রতিনিয়ত পুরো বিভাগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশীর নামে হয়রানি করছে। আটক করা হচ্ছে নেতাকর্মীদের। গণসমাবেশে আসতে নানা ভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে। তারপরও গণসমাবেশ সফল হবে আশা করা হচ্ছে।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষে গত বুধবার থেকে বিভাগের জেলাগুলো থেকে নেতাকর্মীরা রাজশাহীতে আসছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে বিভাগের জেলা থেকে নেতাকর্মী রাজশাহীতে আসা প্রায় শেষ হয়ে যেতো। কিন্তু কথিত শ্রমিক নেতাদের বাস ধর্মঘটের কারণে  নেতাকর্মীদের গণসমাবেশে আসতে কিছুটা প্রতিবন্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে নেতাকর্মীরা ছোট যানবাহন মোটরসাইকেল নিয়েই গণসমাবেশস্থলে যথা সময়ে উপস্থিত হবেন। ইতোমধ্যে যারা এসেছেন তারা সমাবেশস্থলের পাশে ঈদগাহ মাঠে তাবু টাঙিয়ে নেতাকর্মীরা জমায়েত শুরু করেছেন। বুধবার রাত থেকেই শত শত নেতাকর্মী এই মাঠে তাবুতে অবস্থান নিয়েছেন। মাঠেই চলছে রান্না-বান্না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে যেসব বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থকরা রাজশাহীতে এসেছেন তারাও জায়গা করে নিয়েছেন একই তাবুর নিচে।
মিনু জানান, গণসমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের যানবাহন রাখার জন্য রাজশাহীর স্টেডিয়ামগুলো রাখা হয়েছে। সব যানবাহন এসব স্টেডিয়ামে রাখা হবে। যানবাহনে স্টেডিয়াম ভর্তি হয়ে গেলে ছোট বড় মাঠে থাকবে নেতাকর্মীদের যানবাহন। তিনি বলেন, সরকার কথিত শ্রমিক নেতাদের দিয়ে যতই গণসমাবেশ বানচাল করার চেষ্টা করুক না কেনো তা কখনোই পারবে না। কারণ সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গা আর নেই। বিএনপিতে বর্তমান গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ারে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার ভেসে যাবে।

তিনি আরো বলেন, আমার নিজের বাড়িতে সাড়ে চার থেকে ৫শ’ নেতাকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করেছি। কারণ ক্ষমতাসীন চলের নেতারা রাজশাহীর আবাসিক হোটেল থেকে শুরু করে সব ধরনের হোটেলে বুকিং বন্ধ করে দিয়েছে। যার কারণে বাইরের জেলা থেকে গণসমাবেশে আগত বিএনপির নেতাকর্মীদের থাকার ব্যবস্থা স্থানীয় নেতৃবৃন্দই করছেন। শুধু থাকাই নয়, তাদের খাওয়ারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাজশাহীতে আগত নেতাকর্মীদের পুলিশ নানা ভাবে হয়রানি করছেন। যারা সমাবেশে আসছেন রাস্তায় রাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এমন কি যারা মাদ্রাসা মাঠ বা পাশের ঈদগাহে জামায়েত হয়েছে তাদের সন্ধ্যার পর মাঠের বাইরে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। সমাবেশের আগে মাঠে প্রবেশের উপরও নিষেধাজ্ঞাজারী করা হচ্ছে। যা রীতিমত জুলুম ছাড়া আর কিছুই নয়।

এদিকে, সারিয়াকান্দি থেকে আশা আমিনুল ইসলাম নামের এক বিএনপির কর্মী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাস ধর্মঘটের কারণে তারা বুধবার সকালের বাসে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দেন এবং বিকেলের মধ্যে এসে মাদ্রাসা মাঠের পাশে ঈদগা মাঠে অবস্থান নেন। এরপর রাতে তবুতে অবস্থান করেন। মাঠেই তাদের জন্য রান্না ব্যবস্থা করা হয় এবং সেখানেই তারা খেয়ে অবস্থান করছেন আগামী শনিবার সমাবেশ শেষ হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে অবস্থান করবেন। আটঘরিয়া থেকে আসা মোহাম্মাদ আলী নামের এক কর্মী বলেন, আমরা বুধবার সন্ধ্যায় এসে রাজশাহীতে পৌঁছেছি এবং মাঠে তাবুতে অবস্থান করছি। সমাবেশ সফল করে বাসায় ফিরবো ভাবনা থেকে অন্তত দশ হাজার নেতাকর্মী অবস্থান করবেন রাজশাহীর এ সমাবেশে।

এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র রফিকুল ইসলাম জানান, গণসমাবেশ করতে বিএনপিকে আটটি শর্ত দেয়া হয়েছে। এই শর্ত ভঙ্গ করলে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে। তবে কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না। সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে তল্লাশী করছে। তিনি বলেন আমরাও চাই বিএনপি শৃংখল ভাবে সমাবেশ করুক।

গণসমাবেশ   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

১০ ডিসেম্বর: আওয়ামী লীগের সামনে ৫ চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছে বিএনপি। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেকোনো মূল্যে তারা পল্টনে সমাবেশ করবে। আর এ নিয়ে রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের জন্য ১০ ডিসেম্বর একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। এই ১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ কিভাবে মোকাবেলা করবে, তার ওপর বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি এবং ভবিষ্যৎ অনেকখানি নির্ভর করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। আওয়ামী লীগের সামনে যে পাঁচটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে তাহলো-

১. বিএনপির রাজনৈতিক উত্থান: বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে না করে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করতে পারে সেটি হবে বিএনপির আন্দোলনের একটি নৈতিক বিজয়। এর ফলে বিএনপি সরকারের ওপর আরও বড় ধরনের চাপ দিতে পারবে। আবার অন্যদিকে শেষ পর্যন্ত যদি সমাবেশ না করতে দেওয়া হয় এবং কোনো সহিংসতা হয়, সেটির দায়ও পড়বে আওয়ামী লীগের ওপর। ১০ ডিসেম্বর নিয়ে বিএনপি একটি রাজনৈতিক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। বিএনপির এই রাজনৈতিক অবস্থান কিভাবে আওয়ামী লীগ মোকাবেলা করবে, সেটি এখন দেখার বিষয়।

২. সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবেলা করা: ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে সন্ত্রাস এবং সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শেষ পর্যন্ত যদি নয়াপল্টনে বিএনপি তার সমাবেশ করার বিষয়ে অটল থাকে তাহলে রাজধানী ঢাকা শহরে বিভিন্ন রকম সন্ত্রাস-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই সন্ত্রাস এবং সহিংসতা আওয়ামী লীগ সরকার কিভাবে মোকাবেলা করবে সেটি দেখার বিষয়।

৩. পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ: ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি শুধু নয়, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করার অধিকার, রাজনৈতিক দলগুলোকে কর্মসূচি পালনের অধিকার দেয়া ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর এক ধরনের চাপ রয়েছে. বিশেষ করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সহাবস্থানের নীতি অনুসরণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। এই প্রেক্ষিতেই পশ্চিমা দেশগুলো এই মহাসমাবেশ কিভাবে হয় বা মহাসমাবেশের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান, প্রতিক্রিয়া কি সেটি প্রত্যক্ষ করছে। এই বাস্তবতায় ১০ ডিসেম্বর সরকার পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবেলা করে, সেটির ব্যাপারে পশ্চিমা দেশগুলো নজর রাখছে। এটি সরকারের ওপর একটি বড় ধরনের চাপ বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ, শেষ পর্যন্ত যদি কোনো ধরনের সহিংসতা ঘটে তাহলে সেই অজুহাতে পশ্চিমা দেশগুলো সরকারের ওপর নতুন কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও বিভিন্ন মহল মনে করছেন।

৪. আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল: ১০ ডিসেম্বর যদি বিএনপি বড় ধরনের সমাবেশ করে বা নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে পারে পুলিশের ব্যারিকেড-বাধা উপেক্ষা করে, সেটি বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবলের একটা চিড় ধরাবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এতদিন দেখে আসছিলো যে ঢাকায় বিএনপি কখনোই কোনো সফল কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ সফল হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর একটি বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

৫. জনমত: যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্য জনমত একটি বড় বিষয়। ১০ ডিসেম্বর যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপি সফল সমাবেশ করতে পারে সেটি নির্বাচনের আগে জনগণের ওপর একটি প্রভাব ফেলবে এবং এটি আওয়ামী লীগের জন্য কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কাজেই, এই চ্যালেঞ্জগুলো ১০ ডিসেম্বর কিভাবে আওয়ামী লীগ সরকার মোকাবেলা করবে সেটি দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সোহারাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিএনপি আসলে একটি রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছে। সেই কৌশলটি হলো পল্টনে সমাবেশ করতে দিলেও বিএনপির লাভ, না করতে দিলেও বিএনপির লাভ। এরকম একটি অবস্থা থেকে সরকার কিভাবে তার সুবিধাজনক অবস্থানটি গ্রহণ করবে, সেটি হলো দেখার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

১০ ডিসেম্বর সমাবেশ কি বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের সাথে বিএনপির সংহতি প্রকাশ: প্রশ্ন তথ্যমন্ত্রীর

প্রকাশ: ০৬:৩১ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশার দিন ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করে বিএনপি কি বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে চায়?’

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশার দিন বিএনপির সমাবেশ কেন’ শীর্ষক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।

ড. হাছান বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে এ দেশে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মিশন শুরু হয়েছিল। ১০ ডিসেম্বর সাংবাদিক সিরাজ উদ্দীন হোসেনসহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়, যাদেরকে পরবর্তীতে হত্যা করা হয়। অর্থাৎ এই দিনে বুদ্ধিজীবী হত্যার মিশন শুরু হয়। ১০ ডিসেম্বরকেই বিএনপি কেন সমাবেশের জন্য বেছে নিলো সেটি একটি বড় প্রশ্ন।’

তবে এই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ, বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ১০ ডিসেম্বরকে তাদের সমাবেশের তারিখ হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ হচ্ছে যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যার সাথে যুক্ত ছিল, তাদের অনেকেই এখন বিএনপি নেতা এবং যে জামায়াতে ইসলামের মূল নেতৃত্বে বুদ্ধিজীবী হত্যার মিশন শুরু হয়েছিল, তারা হচ্ছে তাদের জোটের প্রধান সহযোগী। ক’দিন আগে বিএনপির মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন- ‘পাকিস্তানই ভালো ছিল’। দলের যে মহাসচিব এ কথা বলেন তাদের আসলে এদেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার থাকতে পারে না। সুতরাং তারা নিজেরা হত্যাকারী এবং আবার নতুনভাবে হত্যাকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্যই তারা ১০ ডিসেম্বর বেছে নিয়েছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, যেখানে পাকিস্তানিরা আত্মসমর্পণ করেছিল, সেই উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ করতে এতো অনীহা কারণ, তারা তো পাকিস্তানের দোসর। পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণের জায়গার চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সেখানে শিশু পার্ক বানিয়েছিলেন। সে জন্য তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যেতে চায় না। অথচ আমাদের সরকার তাদের সুবিধার্থে, তারা যাতে বেশি লোক সমাগম করতে পারে সে জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছে, তাদের প্রস্তুতির জন্য ছাত্রলীগের সম্মেলন ৮ থেকে ৬ ডিসেম্বর এগিয়ে এনেছে।’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু সারাদেশে বিএনপি মাঠে সমাবেশ করেছে আর ঢাকা শহরে আসার পর আর মাঠ ভালো লাগে না। তারা চায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে যেখানে ৩০ থেকে ৫০ হাজারের বেশি লোক ধরে না অর্থাৎ তাদের সমাবেশে মানুষ হবে না এটি একটি ভয়। আরেকটি কারণ হচ্ছে রাস্তায় সমাবেশ করলে গাড়ি-ঘোড়া ভাংচুর করা যাবে, প্রয়োজনমত অগ্নিসংযোগ করা যাবে, শহরে গণ্ডগোল করা যাবে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করা যাবে।’

কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ডাক্তার, শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীরা তাদেরকে সেই কাজ করতে দেবে না উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ থেকে ঢাকা শহরে অগ্নিসন্ত্রাসীদের জড়ো করে এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার লাইসেন্স তাদেরকে দেওয়া হবে না। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আমাদের কর্মীদেরকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছিলাম কিন্তু তাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যে আমাদের কর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। ১০ ডিসেম্বর আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সতর্ক পাহারায় থাকবে। প্রয়োজনে আগে থেকে থাকবে।’

সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সরকার সহযোগিতা করছে বিধায় বিএনপি সারাদেশে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে পারছে, কিন্তু বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুঁড়ে আমাদের নেত্রীকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, ২৪ জন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। শেখ হেলাল এমপির জনসভায় হামলা চালিয়ে এক ডজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল, কিবরিয়া সাহেব এবং আহসান উল্লাহ মাস্টারের জনসভায় হামলা চালিয়ে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় হামলা চালিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, শতশত মানুষকে আহত করা হয়েছিল, খুলনার মঞ্জুর ইমামসহ অনেককে তারা হত্যা করেছে এবং আমরা যখন পার্টি অফিসের সামনে কোনো সমাবেশ করতাম তখন তারা দুই পাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রাখতো। এমনকি ধানমন্ডিতে এই রাসেল স্কোয়ারে আমাদের প্রয়াত নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে পুলিশ পিটিয়েছিল, দেশের জ্যেষ্ঠ বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মতিয়া আপাকে টানা হেঁচড়া করেছিল। কই তাদের কোনো নেতাকে তো এমন করা হয়নি, তাদের কোনো সমাবেশে তো পটকাও ফোটেনি।’

অতএব, সরকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের অপচেষ্টা করে সরকারকে কঠোর হতে বাধ্য করবেন না, সরকার সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে কঠোর হস্তে দমন করবে, উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘দেশবাসীকে আহ্বান জানাবো ঐক্যের ভিত্তিতে সমস্ত অপশক্তিকে আমরা রুখে দেবো, এই বাংলাদেশে আগুনসন্ত্রাসীদের রুখে দেবো।’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম এর সভাপতিত্বে জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানার সঞ্চালনায় সমাবেশে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নিজামুল হক ভূঁইয়া শহীদ বুদ্ধিজীবীকন্যা অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, শহীদ বুদ্ধিজীবীকন্যা শমী কায়সার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ ও কৃষক লীগের সিনিয়র সহ-সভাতি শেখ জাহাঙ্গীর আলম।

আয়োজক জোটের সহসভাপতি স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী মনোরঞ্জন ঘোষাল এবং অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, চিত্রনায়িকা রোজিনা ও অরুণা বিশ্বাস, অভিনেত্রী তানভীন সুইটি, জোটের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক লায়ন মুহাম্মদ মীযানুর রহমান, তথ্য গবেষণা সম্পাদক আশরাফ মিতু মাদবর, অভিনয়শিল্পী রাজ, পারুল, ডেইজী, মুনা প্রমুখ বক্তব্য দেন।

তথ্যমন্ত্রী   ড. হাছান মাহমুদ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

৮ ডিসেম্বর থেকেই মাঠ দখল করতে চায় বিএনপি

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আগামী ১০ ডিসেম্বরে ঢাকার বিভাগীয় সমাবেশ নিয়ে রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বিএনপি নয়াপল্টনেই সমাবেশ করার ব্যাপারে তাদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। উল্লেখ্য যে, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়ে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বরাবর আবেদন করেছিলো বিএনপি। সেই আবেদনে নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করার কথা বলা হয়েছিলো। কিন্তু ঢাকা বিভাগীয় পুলিশ কমিশনার ২৬টি শর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই মহাসমাবেশ করার অনুমতি দেয়। বিএনপি এই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির মহাসচিবসহ একাধিক নেতা বলেছেন, সরকার অনুমতি দিক না দিক, তারা নয়াপল্টনেই মহাসমাবেশ করবে। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপি নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করতে চাইলে সেটিতে বাঁধা দেয়া হবে এবং কোনোভাবেই সরকার নতি স্বীকার করবেনা। সরকার এবং বিএনপির এই মুখোমুখি অবস্থান রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আজকে স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের পর ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামী ১০ ডিসেম্বরকে ঘিরে একটি সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে বিএনপি নয়াপল্টন দখলের জন্য আজকের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে কর্মকৌশল চূড়ান্ত করেছে। এই কর্মকৌশলে ৮ই ডিসেম্বর রাত থেকে নয়াপল্টন দখল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়াও পাড়ায়-মহল্লায় ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে শক্তি প্রদর্শন এবং অস্থিরতা সৃষ্টিরও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮ ডিসেম্বর থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে অবস্থান গ্রহণ শুরু করবেন এবং এমন ভাবে অবস্থান গ্রহণ করবেন যেন পুলিশ তাদেরকে বাঁধা দিতে না পারে এবং পুলিশ যদি বাঁধা দেয় তাহলে যেন সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে নয়াপল্টনে প্রবেশ করা এবং ৮ তারিখ থেকে থেকে নয়াপল্টনে অবস্থান নেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে আজকের স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে। বিএনপি অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে যেভাবে মহাসমাবেশ করেছিলো অর্থাৎ মহাসমাবেশের আগেরদিন থেকেই তারা মহাসমাবেশস্থলে জমায়েত হচ্ছিলো, ঠিক একই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে ঢাকা শহরেও। ফলে ৮ ডিসেম্বর থেকেই ঢাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়াও, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিটি পাড়া-মহল্লা থেকে ঝটিকা মিছিল আকারে মহাসমাবেশস্থলে আসা হবে এবং প্রত্যেক নেতাকর্মী যেন লাঠি বহন করে, সেইরকম নির্দেশনাও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দেওয়া হবে। এইসব নিয়ে আজ থেকেই বিএনপি ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মীসভা শুরু করছে এবং এই কর্মীদেরকে ঢাকায় জমায়েত করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। কর্মীদেরকে নয়াপল্টনে আগেরদিন অর্থাৎ ৮ ডিসেম্বর রাত থেকেই আসার জন্য নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও ঢাকার বাইরে থেকে যারা আসবেন তাদেরকে আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় অবস্থান গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি নয়াপল্টনে মহাসমাবেশকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। তারা মনে করছে যে, এই চ্যালেঞ্জে তাদেরকে জয়ী হতে হবে। আর এক্ষেত্রে রাজনীতিতে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, সেটি বিএনপির জন্য লাভজনক বলেই তারা বিবেচনা করছে। যদিও বিএনপির নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ বলছেন যে, শেষ পর্যন্ত যদি ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ সফল না হয়, পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত সমাবেশ করতে না পারে সেটি হবে বিএনপির এক ধরণের নৈতিক পরাজয়। কিন্তু বিএনপির অধিকাংশ নেতারাই মনে করছেন যে, তারা মারমুখী থাকবেন, প্রয়োজনে পুলিশের সঙ্গে লড়াই করবেন কিন্তু সমাবেশ করবেন। এর ফলে ১০ ডিসেম্বরে একটি রক্তাক্ত অধ্যায়ের পরিকল্পনা নিয়েই বিএনপি এগুচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে, শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন