ইনসাইড টক

‘পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীরাই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বানানোর পায়তারা করছে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২২ জুলাই, ২০২২


Thumbnail ‘পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীরাই বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বানানোর পায়তারা করছে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেছেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে ২০/২৫ বছর আগের থেকে অনেক উন্নতি করেছি, এটা সত্যি। এই অর্জনের পাশাপাশি আমাদের চ্যালেঞ্জও বেড়েছে অনেক বেশি। আমরা বিদেশ থেকে ঋণ করেছি সেটা ফেরত দিতে হবে। আমাদের বৈদেশিক রিজার্ভ ধরে রাখতে হবে। বলা হয় যে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ থেকে ৪ মাসের থাকলে অর্থনৈতিকভাবে মোটামুটি একটা ভালো অবস্থানে থাকা বুঝায়। এর মধ্যে অন্যান্য যে বিষয়গুলো সেগুলোও আমাদের ঠিক আছে। যেমন আমাদের রেমিট্যান্স ঠিক আছে, রপ্তানি ঠিক আছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে দেশে অনেক আলোচনা হচ্ছে। অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, বাংলাদেশ শিগগিরই শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে। অর্থনীতির এসব নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, আপনার পরিবারের ব্যয় নির্বাহের জন্য এক মাসের চেয়ে যদি আপনার হাতে এক বছরের খরচের টাকা থাকে তাহলে নিশ্চয় আপনি ভালো থাকবেন কিংবা আপনার কোনো টেনশন থাকবে না। কিন্তু যদি দুই মাসের খরচ চালানোর জন্য টাকা থাকে তাহলে তো আপনার অবস্থা ভালো নয়। ঠিক একটি দেশের অর্থনীতির বিষয়টিও এরকম। সুতরাং আমি বলবো বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার মতো আমি কোনো কারণ নেই। যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিলো তারাই বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে বলে কথা বলছে। অর্থাৎ পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীরাই এখন বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কা বানানোর পায়তারা করছে। 

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয় আমি এর আগেও বলেছি। সেটা হলো ২০১২ সালে যখন বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করে দিলো, এটা কিন্তু পদ্মা সেতুর টাকা দিবো না, এমনটা না। এটা ছিলো আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিকল্পনা। তারা ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে চায়নি। এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেকে আগের পরিকল্পনা ছিল, সেটা বিশ্বব্যাংক দ্বারা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। তারা মনে করেছিলো পদ্মা সেতুর টাকা না দিলে আওয়ামী লীগ পদ্মা সেতু করতে পারবে না। ফলে ২০১৪ সালে আর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসতে পারবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণা দিয়েছে। এটা নিয়ে আবার অনেকে সমালোচনা করেছিলেন। তারা বলেছিলেন ছাড়া এই পদ্মা সেতু করা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংকের সুদের হার কম- এধরনের অনেক কথা সে সময় বলা হয়েছিল। কিন্তু সুদের হার কম থাকলেও এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পলিটিক্স ইনভেস্টমেন্ট ছিলো।

বাংলাদেশ   অর্থনীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'কমিশন গঠনে রাজনৈতিক পদধারী না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়'


Thumbnail 'কমিশন গঠনে রাজনৈতিক পদধারী না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়'

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেছেন, দেশের বিশিষ্টজনদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কমিশন হওয়া উচিত। আমার ব্যক্তিগত ধারণা হচ্ছে, কমিশন কিভাবে কাজ করবে এটার টার্মস অব রেফারেন্স আইন মন্ত্রণালয় ঠিক করে দেবে। বৃহৎ টার্মস অব রেফারেন্স হলো, যারা নাকি বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় মাস্টারমাইন্ড ছিলো তাদেরকে চিহ্নিত করা। আমার কাছে মনে হয়, একমাত্র টার্মস অব রেফারেন্স হতে পারে সে সময়ের মাস্টারমাইন্ড যারা ছিলো তাদেরকে চিহ্নিত করা।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার বিষয়ে কমিশন গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়  অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য  অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, আমার তো ধারণা সমাপ্তি পর্যন্ত হওয়া উচিৎ। কেননা আন্তর্জাতিক আইনে একটি বিধান রয়েছে 'নো ক্রাইম সুড গো আনপানিস্ট'। এটা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করে রাখা যেতে পারে। এই ধরনের একটা কমিশন কিন্তু শেখ রেহানার নির্দেশে ইংল্যান্ডে হয়েছিলো এবং সেখানে এটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিষয়ে। টমাস উইলিয়ামস বোধহয় এটার প্রধান হিসেবে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সেটার কি হয়েছে সেটা তল্লাশি চালিয়ে নিয়ে আসা উচিত। কারণ ব্রিটেন কোনো জিনিসই ছাড়ে না। আমি সেখানে পড়াশোনা করেছি, সে কারণে আমি জানি এটা। খুঁজে রেব করতে পারলে ওইটার ফাইনডিংসটা যদি আনে, তাহলে সেটাকে একটা বেইজ লাইন হিসেবে ধরা যেতে পারে। সেই বেইজ লাইনটা ধরে প্রসিড করলে ভালো হয়।

তিনি বলেন, এখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে দিয়ে কমিশনটা হওয়া উচিৎ। সেখানে বুদ্ধিজীবী থাকতে পারে, শিক্ষক থাকবে পারে, সাংবাদিক থাকতে পারে। তবে আমি বলবো এমপিদের না রাখার জন্য। কমিশনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পদধারী কোনোর ব্যক্তির না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়।

বঙ্গবন্ধু   হত্যা   ১৫ আগস্ট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ১৪ দলীয় জোটের সদস্য হিসেবে আমরা তো চাই ১৪ দলীয় জোট সক্রিয় হোক। এ ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতিও নাই। গতকাল শনিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজিত এক আলোচনা সভা করেছি। সেখানে ১৪ দলের সমন্বয়কারী এবং মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা সভা করেছি। ওই আলোচনা সভায় ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু উনিও উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। 

সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকটসহ রাজনীতিতে ১৪ দলীয় জোটের নিষ্ক্রিয় এবং বর্তমান সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হবে কিনা ইত্যাদি নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ফজলে হোসেন বাদশা এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য ফজলে হোসেন বাদশা এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এখন রাজনীতিতে বিভিন্ন দল সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে। ১৪ দলীয় জোট আমরাও চাই তাদের সে আন্দোলনকে প্রতিহত করতে। তবে যারা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাদেরকে তো একটা আদর্শে ভিত্তিতে লড়াই করতে হবে। সেটা কিন্তু হচ্ছে না। আদর্শের বাইরে অন্য কোনোভাবে করলে তো সেটা যুক্তি সঙ্গত হবে না এবং আন্দোলন করলে সঠিক রাজনীতির ভিত্তিতেই করতে হবে। আমরাও চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে একটা ভালো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হোক। কিন্তু সেটা অবশ্যই যেন আদর্শের ভিত্তিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজেদের দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে আছি কিন্তু ১৪ দলীয় কর্মসূচি তো আমরা দিতে পারি না। কারণ সমন্বয়কারী ওয়ার্কার্স পার্টি নয়। সেটা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন রয়েছে। তাই ১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব। তবে আমাদের দিক থেকে প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই। আমরা চাই ১৪ দলীয় জোট মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকুক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জোট ভেঙ্গে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে থাকা অন্যান্য দুই-একটি দল সরকারের বিরোধিতা করে কথা বলছে। তার মানে জোট ভেঙ্গে যাবে সেটা কিন্তু নয়। একটি দল তার নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করতেই পারে। সেটা তার অধিকার। বিশেষ করে এখন যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হচ্ছে সেগুলো হলো সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে সরকার। এখানে ১৪ দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাছাড়া যারা সরকারের বিরোধিতা করে কথা বলছে সেটা তারা তাদের মতামত জানাচ্ছে। সেটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতন্ত্র চর্চা করতে গিয়ে সেটা যদি কারো বিপক্ষে চলে যায় তার মানে তো তার বিরোধিতা করা নয়। সুতরাং ১৪ দলের ভাঙন কিংবা জোটের মধ্যে দূরত্ব এ বিষয়গুলো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। তবে যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এবং দলটি ১৪ দলীয় জোটের একটি অংশ। সেহেতু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির করার আগে এই নিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা করলে হয়তো এখন যে বিষয় গুলো নিয়ে মত পার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেগুলো থাকত না।

তিনি আরও বলেন, অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন যে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি এ ধরনের কোনো আশঙ্কা করা যুক্তি নেই। কারণ শ্রীলঙ্কা যে শ্রীলঙ্কা হয়েছে বা তাদের যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে, সেটা হয়েছে সেদেশের সরকারের দুঃশাসনের কারণে। সেই দুঃশাসনের কারণেই শ্রীলঙ্কার আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সে জায়গায় থেকে বাংলাদেশের এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না।

১৪ দল   কর্মসূচি   আওয়ামী লীগ   ওয়ার্কার্স পার্টি   ফজলে হোসেন বাদশা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ নয়’


Thumbnail ‘জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ নয়’

গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য। মহাজোটের শরিক দল হয়েও সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির সমালোচনা, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

বাংলা ইনসাইডার: আপনারা এখন বেশ শক্ত সমালোচনা করছেন সরকারের এবং গতকাল আপনি বলছেন যে, শ্রীলংকার দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হঠাৎ করে জাতীয় পার্টির এরকম সমালোচকের ভূমিকায় গেলো কেন?

জি এম কাদের: হঠাৎ করে কেন, আমরা তো অনেক দিন থেকেই আছি। আমরা তো সমালোচনার জন্যই আছি, সমালোচনা করার জন্যই তো আমাদেরকে রাখা হয়েছে। বিরোধী দল মানেই তো তাই। আমাদেরকে উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, বিরোধী দল আমরা দেখছি না ওইভাবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তো বললেন।

বাংলা ইনসাইডার: কিন্তু আপনারা তো মহাজোটের অংশ।

জি এম কাদের: না, আমরা মহাজোটের অংশ নই। যখন থেকে আমরা বিরোধী দলে গিয়েছি তখন থেকে আর মহাজোটের অংশ নই। তাছাড়া গত নির্বাচনে জোটটা ঠিক নয়, এটি ছিলো একটি বোঝাপড়া। শুধুমাত্র নির্বাচনকালীন বোঝাপড়া। আমাদের প্রার্থীরা তো অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। জনগণের একটি বিরোধী দল প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর নিজেরও বিরোধী দল প্রয়োজন। উনি নিজেই বলছেন, আমার এটা দরকার।

বাংলা ইনসাইডার: দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আপনারা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

জি এম কাদের: অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব খারাপ। আমাদের তো ভেতরের অত ডাটা জানিনা। আমরা যেটা নির্দেশক দেখি যে, ডলারের দাম বাড়ছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, পয়সার অভাবে সরকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে চাইছে। এগুলো তো সবই খারাপ।

বাংলা ইনসাইডার: সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, এটি বৈশ্বিক অবস্থা। আপনি কি এর সাথে একমত?

জি এম কাদের: না। আমরা তো ব্যাংককে গেলাম, সিঙ্গাপুরে গেলাম, কোথাও তো এরকম অবস্থা দেখলাম না। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, সেজন্য তাদের লোকদেরকে সেভাবেই তারা তৈরি করেছে যে, কিভাবে এসব ব্যবস্থা করা যায়। বিদ্যুৎ বন্ধ করতে হয়নি, তাদের মুদ্রার দাম কমেনি। তাদের মধ্যে যারা সঙ্কটে আছে তাদেরকে সরকার সহযোগিতা করছে। তাদের পরিবহণ তো সব পাবলিক সেক্টরে আছে। ফলে তারা কোনো সমস্যায় নেই। আমাদের আশেপাশের কোনো দেশই এতটা সমস্যায় নেই। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, সব যায়গায় ওই সমস্যা আছে। কিন্তু অন্য দেশে সঙ্কট সমাধানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের দেশে আমরা সেটা দেখছি না। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম ১ কোটি পরিবারকে কম টাকায় খাবার দেওয়ার আওতায় আনতে হবে। কিন্তু সেটাও কার্যকর হচ্ছে না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনি বলেছেন যে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার পথে। আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশ শ্রীলংকার দিকে যাচ্ছে?

জি এম কাদের: এখন পর্যন্ত যেহেতু সরকার আমাদের পরিষ্কারভাবে বলেনি। নির্দেশকগুলো শ্রীলংকায় এখনকার অবস্থা হওয়ার বছরখানেক আগে যা সৃষ্টি হয়েছিলো, আমাদের দেশেও অনেকটা সেই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ সঙ্কট হয়েছিলো, জিনিসপত্রে দাম হু হু করে বাড়ছিলো। যেগুলো এখন এখানে দেখছেন যা হচ্ছে, তার প্রায় সবগুলোই শ্রীলঙ্কায় হয়েছিলো। মুদ্রার দাম কমে গিয়েছিলো, পরে দেউলিয়া হয়ে গেছে।

বাংলা ইনসাইডার: আপনি নির্বাচন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লক্ষ্য কি?

জি এম কাদের: ভালো নির্বাচন হোক। এখন পর্যন্ত সরকার আমাদের স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি, নাহলে সিস্টেম যতক্ষণ পরিবর্তন না হবে ততক্ষণ অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনারা কি কেয়ারটেকার সরকার সাপোর্ট করেন?

জি এম কাদের: না আমার কেয়ারটেকার সরকার সাপোর্ট করি না। আমরা কেয়ারটেকার সরকারের বিরুদ্ধে। আমরা কেয়ারটেকার সাপোর্ট করি না।


জাতীয় পার্টি   মহাজোট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব’

স্বপ্ন ছিলো ভালো কাজের। গত ১০ বছরে দেশের মডেলিং সেক্টরে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন, দেশের প্রায় সব ফ্যাশন হাউজের মডেল হয়েছেন। র‍্যাম্পে হেঁটেছেন। মডেল হিসেবে নামীদামী পত্রিকার কাভার হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ডে শোভা পায় রাজের স্থিরচিত্র। করেছেন বড় বড় টিভিসি। বিশেষ করে রিয়্যালিটি শো ‘মাসুদ রানা’ টিভিসিতে দুর্দান্তভাবে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের প্রায় সব নামীদামী ফ্যাশন হাউজের পেজ ইনস্টাগ্রামে দেখা যায় তাঁর ছবি। বলছি তরুণ মডেল ও অভিনেতা রাজ মানিয়া (আবদুল্লাহ আল মাহফুজ রাজ) 'র কথা।

১০ বছরে মডেলিং করার পর চলতি বছর প্রথম অভিনয় শুরু করেছেন রাজ। নির্মাতা রায়হান রাফির '৭ নাম্বার ফ্লোর' এ অভিনয়ে করে বেশ প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। আর প্রথম কাজ দিয়েই সেরা নবাগত অভিনয়শিল্পী জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। বাংলা ইনসাইডারের সাথে সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা হলো তাঁর।

বাংলা ইনসাইডার: প্রথম কাজ দিয়েই সেরা নবাগত অভিনয়শিল্পী জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। কেমন লাগছে বিষয়টি?

রাজ মানিয়া: প্রথম কাজ দিয়েই যে সেরা অভিনয়শিল্পীর জন্য মনোনয়ন পাবো তা আসলে আমি কখনো ভাবতেও পারিনি। আমার জন্য এটি আসলেই অনেক বড় প্রাপ্তি। মডেলিং থেকে এসে প্রথম কাজ দিয়েই সবার এত ভালোবাসা পাবো তা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। আসলে আমি কতটা খুশি সেটা একমাত্র আল্লাহ জানে।

বাংলা ইনসাইডার: নতুন কি কি কাজ করছেন?

রাজ মানিয়া: নতুন কাজ এখনো তেমন ভাবে শুরু করিনি। বেশ কিছু কাজের কথা চলছে। তবে আমার নিজেরও কিছু পছন্দের কাজ আছে। আসলে ব্যাটে-বলে মিলে গেলে হয়তো খুব তাড়াতাড়ি সেই কাজগুলো শুরু করবো।



বাংলা ইনসাইডার: অনেকেই এখন নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করছে বেশী। সে ক্ষেত্রে আপনি পজেটিভ বা নেগেটিভ কোনটি বেঁছে নিবেন?

রাজ মানিয়া: আসলে আমি পজেটিভ বা নেগেটিভ বলতে কিছু বুঝিনা। চরিত্রের প্রয়োজনে যেটি হোক না কেন আমি তা ভালোভাবে করতে চাই। মোট কথা আমার সাথে পুরোপুরি যেই চরিত্র মানাবে আমি সেটাই করবো।

বাংলা ইনসাইডার: অনেকেই বলে মডেলিং থেকে যারা অভিনয়ে আসেন তাঁরা নাকি অনেকেই সুবিধা করতে পারে না। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

রাজ মানিয়া: হ্যাঁ অনেকেই ভাবে যারা মডেলিং থেকে অভিনয়ে আসেন তাঁরা ভালো ভাবে ডায়লগ দিতে পারে না, কিংবা চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারে না। এটি আসলে তাঁদের ভুল ধারণা। একজন মানুষ যদি সত্যই শিল্পমনা হয় কিংবা কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে সে অবশ্যই ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে পারবে। আমাদের রাজ, সুনেরাহ দুজনেই র‍্যাম্প থেকে অভিনয়ে গিয়েছে। তাঁরাও বেশ ভালো করছে।



বাংলা ইনসাইডার: অভিনয়ে আপনার আইডল কে?

রাজ মানিয়া: বাংলাদেশের আমার পছন্দের নায়ক এক কথায় সালমান শাহ। ছোট বেলা থেকে আমি তাঁর সিনেমা দেখেছি অনেক। তাছাড়া আমাদের দেশের আরও অনেক গুণী অভিনেতা আছেন যাদের নাম বলে আসলে শেষ করা যাবে না। তাঁদের সবার কাজ আমি দেখি। আর সেই কাজ গুলো দেখে আমি শেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি অভিনেতা আমার শিক্ষকের মত। তাঁদের কাছ থেকে আমি শেখার চেষ্টায় থাকি সব সময়।

বাংলা ইনসাইডার: অভিনয়ে কী নিয়মিত হতে চান?

রাজ মানিয়া: অবশ্যই যেহেতু অভিনয়ে নেমেছি ভালোভাবেই কাজ করতে চাই। আমি প্রমাণ করতে চাই যে মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১১ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেছেন, সরকার পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনবে কিংবা উদ্যোগ গ্রহণ করবে, অর্থপাচার রোধ করা হবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রতি বছর বাজেটের সময় বলা হয়। কিন্তু আমরা সেটা কতটুকু করতে পেরেছি সেটা দেখার বিষয়। আমাদেরও অনেক সমস্যা আছে। সংশ্লিষ্টরা সন্দেহাতীতভাবে জানেন যে, আসলে অর্থ পাচারকারী কারা। সুনির্দিষ্ট করে যদি অর্থ পাচারকারীদের বলা হয়, আপনি অর্থ পাচার করেছেন, আমাদের হিসেবে মতো আপনি এত টাকা পাচার করেছেন, এখন এটা ফেরত আনেন। এবং সেটা জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়ও তাদের বেঁধে দিতে হবে। আমি এক হিসেব করে দেখেছি, গত ৪০ বছরে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার মত। প্রথমত, অর্থ পাচার সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। এটা একটা অপরাধ। যেকারণে এখানে আইনি সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই উচিত না। দ্বিতীয়ত, নৈতিকভাবেও এটা কখনোই ‍উচিত নয়। মাঝে মাঝে কালো টাকার ক্ষেত্রে বলা হয় যে, আপনি এত শতাংশ কর পরিশোধ করে পাচারকৃত টাকা দেশে ফেরত নিয়ে আসেন এবং সাদা করেন এবং বিনিয়োগ করেন। আবার এগুলো কখনো পরিষ্কার করে বলাও হয় না। এতে আমার মনে হয় যে, আমরা কখনো সিরিয়াসলি কালো টাকা উদ্ধার বা পাচারকৃত টাকা উদ্ধার এটা আমরা চাই না। যেকারণে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিদেশে পাচারকৃত টাকা দায়মুক্তির দিয়ে দেশে আনার সুযোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে বুধবার বাংলাদেশ সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির তথ্য চায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড। এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, এই মুর্হূতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রিজার্ভ কমে আসা। বলা হচ্ছে এখন আমাদের পাচঁ মাসের আমদানির রিজার্ভ আছে যেটা চার মাসের সমান হয় যেতে পারে। আবার তিন মাসের হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের অবস্থা অর্থনীতিতে এক ধরনের যুদ্ধের মতো অবস্থা বলা যায়। সেই জায়গায় খুব শক্ত পদক্ষেপ ছাড়া এটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। এক সময় দেশের অনেক নাম ডাক পত্র-পত্রিকায় টাকা পাচারকারীদের অনেকের নাম এসেছিল। কোম্পানিসহ মালিকের নাম কিন্তু সে সময় প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সে সময় তো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। তার মানে খুব সিরিয়াসলি হাত না দিলে কিছু হবে না। কিছু মুখরোচক কথা দিয়ে অর্থ পাচার ঠেকানো যেমন যাবে না, তেমনি পাচারকৃত টাকাও ফেরত আনার সম্ভব হবে না।

তিনি আনও বলেন, আমরা এমন এক ইকোনমি সিস্টেমে বাস করি যেখানে দুর্নীতি, কালো টাকা, অর্থ পাচার- এগুলো সিস্টেমের অংশের মধ্যে পড়ে গেছে। যদি এগুলো এমন সিস্টেমের অংশ হয় তাহলে কিছু করার নাই। কিন্তু সিস্টেমের অংশ হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির যে অবস্থা সেখানে তো আমাদের এই জিনিসগুলো কখনো না কখনো দেখতে হয়। আমি মনে করি এখন হচ্ছে সেই উপযুক্ত সময়। এই বিষয়গুলো খুব শক্ত হাতে দেখার। এখানে আরেকটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ যেটা আমি আগেও বলেছি সেটা হলো বাংলাদেশ এখন যে অবস্থায় আছে, তার ডেভেলপমেন্ট মডেল কি হবে? আমরা এখন সবাই মিলে সমাধান খুঁজছি। এক্ষেত্রে চারটি সমাধান হতে পারে। প্রথমত, ব্যয় কমানো যেটাকে কৃচ্ছতা সাধন বলছি। কিন্তু কৃচ্ছতা সাধন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাছাড়া কৃচ্ছতা সাধন তো গরীব মানুষকে করতে বলা যাবে না। গরীব, সে তো গরীবই। যে নিম্নমধ্যবিত্ত তাকেও বলা যাবে না। সে এমন পরিস্থিতিতে বেশ কষ্টেই আছে। যে মধ্যবিত্ত সেও কষ্টে আছে। এখন দেশের প্রায় সব জায়গায় এক ধরনের ঘটনা ঘটছে, সেটা হলো যখন লোডশেডিং হচ্ছে তখন মানুষ জেনারেটর চালাচ্ছে। সেটা চালাচ্ছে ডিজেল দিয়ে। তাহলে ডিজেলের ব্যয় তো কমছে না। বরং ডিজেলের ব্যবহার বাড়ছে। এগুলো অস্থায়ী সমাধান। দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান করতে হলে নীতি নির্ধারকদের খুব ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে, খুব সর্তকতার সঙ্গে পরিকল্পনা নিতে হবে। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কারো স্বার্থ দেখা যাবে না। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, ঋণ পুনর্গঠনের নামে আমরা ধনীদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়ে দিচ্ছি। যে প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে ধনীরাই বেশি পেয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি যারা আচ্ছেন তারা কিন্তু খুব বেশি পাননি। ঋণ পুনর্গঠন দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটা হলো দেশের মধ্যে ঋণ পুনর্গঠন। আরেকটা হলো বিদেশ থেকে  আমরা যে ঋণ গ্রহণ করি সেটা একটা। বিদেশি ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি খুব জোরদার করা দরকার। সেটাও খুব বেশি আছে বলে আমার মনে হয় না।

তৃতীয়ত হলো সম্পদের পুনর্বন্টন। অর্থাৎ সম্পদশালী থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত করা। সেটা বেশ কিছু উপায়ে করা যেতে পারে। একটি সম্পদ কর আরোপ। বাংলাদেশে সম্পদ কর আইন আছে কিন্তু সম্পদ করা নেওয়া হয় না। সেটা অর্থমন্ত্রীও এক বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করেছিলেন। সেটা যদি করা যায় তাহলে চরম বৈমষ্য কমবে। সম্পদ করের পাশাপাশি দ্বিতীয়ত হলো উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত যে সম্পদ আছে তার উপর কর আরোপ করা। তৃতীয়ত হলো অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর। অনেকে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করে থাকেন। যেমন কোভিড কালীন সময়ে অনলাইনে বা অন্য কোনো উপায়ে অনেকে অনেক অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করেছেন। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে এমনটা করা হয়েছিল। অর্থাৎ অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর আরোপ করা হয়েছিল। সেটা এখনকার পরিস্থিতির জন্য উত্তম বলে আমি মনে করি। 
চতুর্থত হলো কালো টাকা উদ্ধার এবং পাচারকৃত টাকা উদ্ধার। এর বাইরে আরও অনেক কিছু আছে। যেমন মাদকের উপর শুল্ক কর বাড়ানো, বিলাসবহুল পণ্যের উপর শুল্ক কর বাড়ানো ইত্যাদি।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত জানান, অর্থ পাচার বহুভাবেই হয়েছে। অর্থ পাচার করাও কিন্তু সহজ না। কারণ যখন পাচার হয় তখন কিন্তু রিয়েল মানি পাচার হয়। ধরা যাক কেউ ১০ লাখ ডলার কোনো রেগুলার ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার করলো। পাচার করার সাথে সাথে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে সে টাকা ছড়িয়ে যায়। বিভিন্ন হাউজে চলে যায়। তারপর আবার এটাকে টেনে নিয়ে আসার হয়। যখন এটা টেনে নিয়ে আসার হয় তখন কিন্তু সেই টাকাটা সাদা হয়ে যায়। অর্থ পাচার যদি সাদা হয়ে থাকে তাহলে অর্থ পাচারকে তো অর্থ পাচার বলা যাবে না। 

তিনি আরও জানান, যারা দেশের অর্থ পাচার করেছেন তাদের দিয়ে প্রথমে এক্সপেরিমেন্টাল পাইলট করে দেখা যেতে পারে। কিছু জাযগায় হাত দিতেই হবে। হাত দেওয়া পর তখন তাদের বলতে হবে যে, অর্থ পাচার নাও এন্ড নেভার। আপনাকে এই এক বছর সময় দেওয়া হলো বা ৬ মাস কিংবা ৩ মাস সময় দেওয়া হলো এর মধ্যে আপনার পাচারকৃত টাকা নিয়ে আসবেন এবং সেটার উপরে কঠোরভাবে কর আরোপ করতে হবে। করের হার বেশি ধরতে হবে, কম হলে হবে না। করের হার কম ধরা হলে সৎ ব্যবসায়ীদের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তাদের জন্য এটা কাউন্ড অব প্রোডাক্টটিভ হবে। সে ক্ষেত্রে সৎ ব্যবসায়ীরা টাকা পাচারকে একটা ভালো জিনিস মনে করতে পারে। কারণ পাচার করলে তো কোনো অসুবিধা নাই। পরে একটা কম করের বিনিময়ে টাকা বৈধ করা যাবে। সেজন্য খুব ভালোভাবে, মাথা খুলে এই বিষয়গুলো দেখতে হবে। বলার জন্য মুখরোচক কিছু কথা বললাম আর সব হয়ে যাবে এটা ভাবলে হবে না। আর যারা পাচার করেছেন তাদের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়। দেশে সাড়ে ১৬ কোটি লোকের মধ্যে হয়তো ১০ লাখ বা ৫ লাখ কিংবা ১ লাখ বা আরও কম সংখ্যক লোক টাকা পাচার করেছেন। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষকে হ্যান্ডেল করা যাবে না সেটা তো বিশ্বাসযোগ্য নয়। আবার হ্যাল্ডেল করতে গিয়ে যেন এমন না হয় যে, একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলাম, আরেকজনকে কিছু করলাম না, সেটা দেখলে হবে না। সমস্যা আছে, এর সমাধান করতে হবে। আবার করতে হবে এমনটিও নয়, করতেই হবে।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন