ইনসাইড টক

‘বাংলাদেশ সংখ্যালঘু শূন্য হতে দুই দশকের বেশি লাগবে না’


Thumbnail ‘বাংলাদেশ সংখ্যালঘু শূন্য হতে দুই দশকের বেশি লাগবে না’

রানা দাশগুপ্ত। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর। গত ২৭ জুন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা যায় দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হার কমে গেছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কমে যাওয়ার কারণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন রানা দাশগুপ্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান তুহিন

প্রশ্ন: সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হার কমেছে। কেন হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সংখ্যা কমে যাচ্ছে?

রানা দাশগুপ্ত: পাকিস্তান আমলে ১৯৪৭ সালে সমগ্র জনসংখ্যার ২৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এটা সত্তরের নির্বাচনের সময় চলে এলো ২০ শতাংশে। ৯ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গেল পাকিস্তান আমলেই। সেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা কমে যাওয়া, বৈষম্য, নির্যাতন-নিপীড়ন চলমান রয়েছে। ২০১১ সালে বলা হলো হিন্দুদের সংখ্যা বলা হলো ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। মোট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা বলা হলো ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। আমরা যতই চিৎকার করতে থাকলাম সংখ্যালঘুর হার কমছে কেন। ৩ বছর আগে পরিসংখ্যান ব্যুরো একটি রিপোর্ট দিয়ে বললো, বিগত দেড় বছরে অর্থাৎ শেখ হাসিনার আমলে হিন্দু সংখ্যা ২ শতাংশ বেড়েছে। যদি সেটি সত্য হয়েই থাকে তাহলে এই ২ শতাংশ বেড়ে হওয়ার কথা ছিলো ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হওয়ার কথা ছিলো ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। সেই জায়গায় বলা হচ্ছে যে, হিন্দুর সংখ্যা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ কমে গেছে। বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টানও কমে গেছে কিছু। তাহলে ধরে নিতে হবে হয় এই সংখ্যাটা মিথ্যা।

প্রশ্ন: সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হার সঠিক বলে আপনি মনে করেন?

রানা দাশগুপ্ত: আমরা জানি জরিপ করার সময় হিন্দু এলাকাগুলোতে গণনা করতে কেউ যায়নি। বাংলাদেশের কোনো জেলায় যায়নি। কিসের উপর হিন্দুদের এই জনসংখ্যা নির্ণয় করলো জানিনা। আর যদি এটি সত্য হয় তাহলে ধরে নিতে হবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ হয়েছে কিন্তু বিগত ৭০ বছরে সংখ্যালঘুদের জনজীবনে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। দুঃখ এবং যন্ত্রণা যা পাকিস্তান আমলে ছিলো, তা এখন আরও বহুগুণে বেড়েছে। যে কারণে তারা দেশত্যাগে বাধ্য হচ্ছে, এটাই তো ধরে নিতে হবে। এই ধারা যদি চলতে থাকে তাহলে বাংলাদেশ সংখ্যালঘু শূন্য হতে দুই দশকের বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ হলেও সংখ্যালঘুরা যে অন্ধকারে ছিলো পাকিস্তানে, একই অন্ধকারে আছে বাংলাদেশে।

প্রশ্ন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তব্য নিয়ে আপনার মন্তব্য কি?

রানা দাশগুপ্ত: যখন সেক্যুলার দেশে যায়, গণতান্ত্রিক দেশে যায় তখন বলা হয় বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। যখন মুসলিম প্রধান দেশে যায় তখন বাংলাদেশকে পরিচয় দেয়া হয় ইসলামী রাষ্ট্র হিসেবে। এই দ্বিচারিতার ভিত্তি হচ্ছে সংবিধান। এরকম দ্বিচারিতা ১৯৭২ সালের সংবিধানে ছিলো না। জিয়াউর রহমানের পর থেকে সংবিধান যে জায়গায় চলে গেছে এবং পঞ্চদশ সংশোধনের পরে এসে এটা দ্বিচারিতার সংবিধান হয়ে গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেন, সেগুলো তো দ্বিচারিতারই নামান্তর। যে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে আমাদের ধিক্কার মিছিল বের করতে হয়। আমাদেরকে বলতে হয় যে, তিনি যে দল থেকেই সামনে নির্বাচনে দাঁড়ায় না কেন, সংখ্যালঘুরা তাকে ভোট দিবে না তাঁর মিথ্যাচারের জন্য।

সাক্ষাৎকার   রানা দাশগুপ্ত   সংখ্যালঘু  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব’

স্বপ্ন ছিলো ভালো কাজের। গত ১০ বছরে দেশের মডেলিং সেক্টরে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন, দেশের প্রায় সব ফ্যাশন হাউজের মডেল হয়েছেন। র‍্যাম্পে হেঁটেছেন। মডেল হিসেবে নামীদামী পত্রিকার কাভার হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ডে শোভা পায় রাজের স্থিরচিত্র। করেছেন বড় বড় টিভিসি। বিশেষ করে রিয়্যালিটি শো ‘মাসুদ রানা’ টিভিসিতে দুর্দান্তভাবে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের প্রায় সব নামীদামী ফ্যাশন হাউজের পেজ ইনস্টাগ্রামে দেখা যায় তাঁর ছবি। বলছি তরুণ মডেল ও অভিনেতা রাজ মানিয়া (আবদুল্লাহ আল মাহফুজ রাজ) 'র কথা।

১০ বছরে মডেলিং করার পর চলতি বছর প্রথম অভিনয় শুরু করেছেন রাজ। নির্মাতা রায়হান রাফির '৭ নাম্বার ফ্লোর' এ অভিনয়ে করে বেশ প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। আর প্রথম কাজ দিয়েই সেরা নবাগত অভিনয়শিল্পী জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। বাংলা ইনসাইডারের সাথে সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা হলো তাঁর।

বাংলা ইনসাইডার: প্রথম কাজ দিয়েই সেরা নবাগত অভিনয়শিল্পী জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। কেমন লাগছে বিষয়টি?

রাজ মানিয়া: প্রথম কাজ দিয়েই যে সেরা অভিনয়শিল্পীর জন্য মনোনয়ন পাবো তা আসলে আমি কখনো ভাবতেও পারিনি। আমার জন্য এটি আসলেই অনেক বড় প্রাপ্তি। মডেলিং থেকে এসে প্রথম কাজ দিয়েই সবার এত ভালোবাসা পাবো তা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। আসলে আমি কতটা খুশি সেটা একমাত্র আল্লাহ জানে।

বাংলা ইনসাইডার: নতুন কি কি কাজ করছেন?

রাজ মানিয়া: নতুন কাজ এখনো তেমন ভাবে শুরু করিনি। বেশ কিছু কাজের কথা চলছে। তবে আমার নিজেরও কিছু পছন্দের কাজ আছে। আসলে ব্যাটে-বলে মিলে গেলে হয়তো খুব তাড়াতাড়ি সেই কাজগুলো শুরু করবো।



বাংলা ইনসাইডার: অনেকেই এখন নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করছে বেশী। সে ক্ষেত্রে আপনি পজেটিভ বা নেগেটিভ কোনটি বেঁছে নিবেন?

রাজ মানিয়া: আসলে আমি পজেটিভ বা নেগেটিভ বলতে কিছু বুঝিনা। চরিত্রের প্রয়োজনে যেটি হোক না কেন আমি তা ভালোভাবে করতে চাই। মোট কথা আমার সাথে পুরোপুরি যেই চরিত্র মানাবে আমি সেটাই করবো।

বাংলা ইনসাইডার: অনেকেই বলে মডেলিং থেকে যারা অভিনয়ে আসেন তাঁরা নাকি অনেকেই সুবিধা করতে পারে না। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

রাজ মানিয়া: হ্যাঁ অনেকেই ভাবে যারা মডেলিং থেকে অভিনয়ে আসেন তাঁরা ভালো ভাবে ডায়লগ দিতে পারে না, কিংবা চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারে না। এটি আসলে তাঁদের ভুল ধারণা। একজন মানুষ যদি সত্যই শিল্পমনা হয় কিংবা কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে সে অবশ্যই ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে পারবে। আমাদের রাজ, সুনেরাহ দুজনেই র‍্যাম্প থেকে অভিনয়ে গিয়েছে। তাঁরাও বেশ ভালো করছে।



বাংলা ইনসাইডার: অভিনয়ে আপনার আইডল কে?

রাজ মানিয়া: বাংলাদেশের আমার পছন্দের নায়ক এক কথায় সালমান শাহ। ছোট বেলা থেকে আমি তাঁর সিনেমা দেখেছি অনেক। তাছাড়া আমাদের দেশের আরও অনেক গুণী অভিনেতা আছেন যাদের নাম বলে আসলে শেষ করা যাবে না। তাঁদের সবার কাজ আমি দেখি। আর সেই কাজ গুলো দেখে আমি শেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি অভিনেতা আমার শিক্ষকের মত। তাঁদের কাছ থেকে আমি শেখার চেষ্টায় থাকি সব সময়।

বাংলা ইনসাইডার: অভিনয়ে কী নিয়মিত হতে চান?

রাজ মানিয়া: অবশ্যই যেহেতু অভিনয়ে নেমেছি ভালোভাবেই কাজ করতে চাই। আমি প্রমাণ করতে চাই যে মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১১ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেছেন, সরকার পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনবে কিংবা উদ্যোগ গ্রহণ করবে, অর্থপাচার রোধ করা হবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রতি বছর বাজেটের সময় বলা হয়। কিন্তু আমরা সেটা কতটুকু করতে পেরেছি সেটা দেখার বিষয়। আমাদেরও অনেক সমস্যা আছে। সংশ্লিষ্টরা সন্দেহাতীতভাবে জানেন যে, আসলে অর্থ পাচারকারী কারা। সুনির্দিষ্ট করে যদি অর্থ পাচারকারীদের বলা হয়, আপনি অর্থ পাচার করেছেন, আমাদের হিসেবে মতো আপনি এত টাকা পাচার করেছেন, এখন এটা ফেরত আনেন। এবং সেটা জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়ও তাদের বেঁধে দিতে হবে। আমি এক হিসেব করে দেখেছি, গত ৪০ বছরে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার মত। প্রথমত, অর্থ পাচার সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। এটা একটা অপরাধ। যেকারণে এখানে আইনি সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই উচিত না। দ্বিতীয়ত, নৈতিকভাবেও এটা কখনোই ‍উচিত নয়। মাঝে মাঝে কালো টাকার ক্ষেত্রে বলা হয় যে, আপনি এত শতাংশ কর পরিশোধ করে পাচারকৃত টাকা দেশে ফেরত নিয়ে আসেন এবং সাদা করেন এবং বিনিয়োগ করেন। আবার এগুলো কখনো পরিষ্কার করে বলাও হয় না। এতে আমার মনে হয় যে, আমরা কখনো সিরিয়াসলি কালো টাকা উদ্ধার বা পাচারকৃত টাকা উদ্ধার এটা আমরা চাই না। যেকারণে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিদেশে পাচারকৃত টাকা দায়মুক্তির দিয়ে দেশে আনার সুযোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে বুধবার বাংলাদেশ সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির তথ্য চায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড। এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, এই মুর্হূতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রিজার্ভ কমে আসা। বলা হচ্ছে এখন আমাদের পাচঁ মাসের আমদানির রিজার্ভ আছে যেটা চার মাসের সমান হয় যেতে পারে। আবার তিন মাসের হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের অবস্থা অর্থনীতিতে এক ধরনের যুদ্ধের মতো অবস্থা বলা যায়। সেই জায়গায় খুব শক্ত পদক্ষেপ ছাড়া এটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। এক সময় দেশের অনেক নাম ডাক পত্র-পত্রিকায় টাকা পাচারকারীদের অনেকের নাম এসেছিল। কোম্পানিসহ মালিকের নাম কিন্তু সে সময় প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সে সময় তো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। তার মানে খুব সিরিয়াসলি হাত না দিলে কিছু হবে না। কিছু মুখরোচক কথা দিয়ে অর্থ পাচার ঠেকানো যেমন যাবে না, তেমনি পাচারকৃত টাকাও ফেরত আনার সম্ভব হবে না।

তিনি আনও বলেন, আমরা এমন এক ইকোনমি সিস্টেমে বাস করি যেখানে দুর্নীতি, কালো টাকা, অর্থ পাচার- এগুলো সিস্টেমের অংশের মধ্যে পড়ে গেছে। যদি এগুলো এমন সিস্টেমের অংশ হয় তাহলে কিছু করার নাই। কিন্তু সিস্টেমের অংশ হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির যে অবস্থা সেখানে তো আমাদের এই জিনিসগুলো কখনো না কখনো দেখতে হয়। আমি মনে করি এখন হচ্ছে সেই উপযুক্ত সময়। এই বিষয়গুলো খুব শক্ত হাতে দেখার। এখানে আরেকটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ যেটা আমি আগেও বলেছি সেটা হলো বাংলাদেশ এখন যে অবস্থায় আছে, তার ডেভেলপমেন্ট মডেল কি হবে? আমরা এখন সবাই মিলে সমাধান খুঁজছি। এক্ষেত্রে চারটি সমাধান হতে পারে। প্রথমত, ব্যয় কমানো যেটাকে কৃচ্ছতা সাধন বলছি। কিন্তু কৃচ্ছতা সাধন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাছাড়া কৃচ্ছতা সাধন তো গরীব মানুষকে করতে বলা যাবে না। গরীব, সে তো গরীবই। যে নিম্নমধ্যবিত্ত তাকেও বলা যাবে না। সে এমন পরিস্থিতিতে বেশ কষ্টেই আছে। যে মধ্যবিত্ত সেও কষ্টে আছে। এখন দেশের প্রায় সব জায়গায় এক ধরনের ঘটনা ঘটছে, সেটা হলো যখন লোডশেডিং হচ্ছে তখন মানুষ জেনারেটর চালাচ্ছে। সেটা চালাচ্ছে ডিজেল দিয়ে। তাহলে ডিজেলের ব্যয় তো কমছে না। বরং ডিজেলের ব্যবহার বাড়ছে। এগুলো অস্থায়ী সমাধান। দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান করতে হলে নীতি নির্ধারকদের খুব ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে, খুব সর্তকতার সঙ্গে পরিকল্পনা নিতে হবে। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কারো স্বার্থ দেখা যাবে না। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, ঋণ পুনর্গঠনের নামে আমরা ধনীদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়ে দিচ্ছি। যে প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে ধনীরাই বেশি পেয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি যারা আচ্ছেন তারা কিন্তু খুব বেশি পাননি। ঋণ পুনর্গঠন দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটা হলো দেশের মধ্যে ঋণ পুনর্গঠন। আরেকটা হলো বিদেশ থেকে  আমরা যে ঋণ গ্রহণ করি সেটা একটা। বিদেশি ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি খুব জোরদার করা দরকার। সেটাও খুব বেশি আছে বলে আমার মনে হয় না।

তৃতীয়ত হলো সম্পদের পুনর্বন্টন। অর্থাৎ সম্পদশালী থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত করা। সেটা বেশ কিছু উপায়ে করা যেতে পারে। একটি সম্পদ কর আরোপ। বাংলাদেশে সম্পদ কর আইন আছে কিন্তু সম্পদ করা নেওয়া হয় না। সেটা অর্থমন্ত্রীও এক বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করেছিলেন। সেটা যদি করা যায় তাহলে চরম বৈমষ্য কমবে। সম্পদ করের পাশাপাশি দ্বিতীয়ত হলো উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত যে সম্পদ আছে তার উপর কর আরোপ করা। তৃতীয়ত হলো অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর। অনেকে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করে থাকেন। যেমন কোভিড কালীন সময়ে অনলাইনে বা অন্য কোনো উপায়ে অনেকে অনেক অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করেছেন। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে এমনটা করা হয়েছিল। অর্থাৎ অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর আরোপ করা হয়েছিল। সেটা এখনকার পরিস্থিতির জন্য উত্তম বলে আমি মনে করি। 
চতুর্থত হলো কালো টাকা উদ্ধার এবং পাচারকৃত টাকা উদ্ধার। এর বাইরে আরও অনেক কিছু আছে। যেমন মাদকের উপর শুল্ক কর বাড়ানো, বিলাসবহুল পণ্যের উপর শুল্ক কর বাড়ানো ইত্যাদি।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত জানান, অর্থ পাচার বহুভাবেই হয়েছে। অর্থ পাচার করাও কিন্তু সহজ না। কারণ যখন পাচার হয় তখন কিন্তু রিয়েল মানি পাচার হয়। ধরা যাক কেউ ১০ লাখ ডলার কোনো রেগুলার ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার করলো। পাচার করার সাথে সাথে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে সে টাকা ছড়িয়ে যায়। বিভিন্ন হাউজে চলে যায়। তারপর আবার এটাকে টেনে নিয়ে আসার হয়। যখন এটা টেনে নিয়ে আসার হয় তখন কিন্তু সেই টাকাটা সাদা হয়ে যায়। অর্থ পাচার যদি সাদা হয়ে থাকে তাহলে অর্থ পাচারকে তো অর্থ পাচার বলা যাবে না। 

তিনি আরও জানান, যারা দেশের অর্থ পাচার করেছেন তাদের দিয়ে প্রথমে এক্সপেরিমেন্টাল পাইলট করে দেখা যেতে পারে। কিছু জাযগায় হাত দিতেই হবে। হাত দেওয়া পর তখন তাদের বলতে হবে যে, অর্থ পাচার নাও এন্ড নেভার। আপনাকে এই এক বছর সময় দেওয়া হলো বা ৬ মাস কিংবা ৩ মাস সময় দেওয়া হলো এর মধ্যে আপনার পাচারকৃত টাকা নিয়ে আসবেন এবং সেটার উপরে কঠোরভাবে কর আরোপ করতে হবে। করের হার বেশি ধরতে হবে, কম হলে হবে না। করের হার কম ধরা হলে সৎ ব্যবসায়ীদের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তাদের জন্য এটা কাউন্ড অব প্রোডাক্টটিভ হবে। সে ক্ষেত্রে সৎ ব্যবসায়ীরা টাকা পাচারকে একটা ভালো জিনিস মনে করতে পারে। কারণ পাচার করলে তো কোনো অসুবিধা নাই। পরে একটা কম করের বিনিময়ে টাকা বৈধ করা যাবে। সেজন্য খুব ভালোভাবে, মাথা খুলে এই বিষয়গুলো দেখতে হবে। বলার জন্য মুখরোচক কিছু কথা বললাম আর সব হয়ে যাবে এটা ভাবলে হবে না। আর যারা পাচার করেছেন তাদের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়। দেশে সাড়ে ১৬ কোটি লোকের মধ্যে হয়তো ১০ লাখ বা ৫ লাখ কিংবা ১ লাখ বা আরও কম সংখ্যক লোক টাকা পাচার করেছেন। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষকে হ্যান্ডেল করা যাবে না সেটা তো বিশ্বাসযোগ্য নয়। আবার হ্যাল্ডেল করতে গিয়ে যেন এমন না হয় যে, একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলাম, আরেকজনকে কিছু করলাম না, সেটা দেখলে হবে না। সমস্যা আছে, এর সমাধান করতে হবে। আবার করতে হবে এমনটিও নয়, করতেই হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘সরকার জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় না নিয়ে বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দিচ্ছে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১০ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পেছনে সরকার যেসমস্ত দাবি সামনে আনছে, এই দাবিগুলোর মধ্যে কোনো যুক্তি নেই। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়েছে বলে সরকারও দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু সরকার যখন এ কথা বলছে তখন বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমছে। এর আগে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম যখন কম ছিল তখনও সরকার তেলের দাম কমায়নি। বরং সরকার জনগণের কাছ থেকে বেশি বেশি টাকা নিয়েছে এবং বেশি বেশি টাকা নিয়ে সরকার মুনাফাও অর্জন করেছে। সেই মুনাফার টাকা তো সরকারের হাতে আছে। যখন বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়লো তখন তার সাথে সমন্বয় করলেও অনেক বেশি টাকা সরকারের হাতে ছিলো। 

সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, দেশের জ্বালানি নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য আনু মুহাম্মদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রীর মুখে আমরা শুনি যে, সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে অনেক বেশি, সরকার আর কত ভর্তুকি দিবে? এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। এত ভর্তুকির টাকা কোথা থেকে আসবে? অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক সর্বশেষ জুনে প্রকাশিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, ২০১৪-১৫ সাল থেকে ২০২১-২০২২ অর্থাৎ এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার তেল আমদানিতে কোনো ভর্তুকি দেয়নি। বরং ২০১৪-২০১৫ থেকে এ বছর ২৩ মে পর্যন্ত সরকার মুনাফা করেছে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এটা সরকার যে শুল্ক নেয়, কর নেয় তার অতিরিক্ত। সুতরাং এই জ্বালানি খাত থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেছে। 

তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি খাত থেকে মুনাফা অর্জন করার পরও নানা রকম ভুল যুক্তি দিয়ে যেভাবে তেলের দাম বাড়িয়েছে এটা অযৌক্তিক। জণগণের পকেট কাটার অবস্থাও দেশের জনগণের এখন নেই। এ সময় জনগণের পকেটে টাকা- পয়সাও নাই। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনগণের উপর এক ধরনের ভয়ংকর আক্রমণ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে যেভাবে জিনিসের দাম বাড়বে সেটা খুব ভয়াবহ হবে। 

সরকারের দাবিগুলোকে অবিশ্বাস্য উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার বলছে ভর্তুকি কথা সেটা ভুল, বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে গেছে, সেটাও ভুল, বলছে লোকসানের ভাড় বহন করতে পারছে না সেটাও ভুল। অন্যদিকে সরকারের এক মন্ত্রী বলেছেন যে, অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশে জ্বালানি তেলের দাম এখনও অনেক কম, সেটাও ভুল। এখন বাংলাদেশে তেল যে দামে বিক্রি হচ্ছে, সে তুলনায় ভারত ও পাকিস্তানে অনেক কম। 

তিনি আরও বলেন, গত আট বছরে সরকার জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। সরকার বলছে এই টাকা দিয়ে তারা উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। কিন্তু মুনাফার সে টাকা তো যেখানে সেখানে কাজে লাগালে হবে না। সরকার জ্বালানি খাত থেকে মুনাফা অর্জন করেছে, যখন বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে তখন সে টাকা দিয়ে সেখানেই কাজে লাগানো সরকারের উচিত ছিলো। পৃথিবী এমন বহু দেশ আছে, বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানির দাম বাড়ে, ওই দেশগুলোতেও বাড়ে আবার যখন কমে তখন সেই দেশগুলোতেও দাম কমে। জ্বালানি তেল থেকে সরকারের মুনাফা করার কথা নয়, কিন্তু যখন করছে সেই মুনাফার টাকা কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, তার কোনো হদিস নেই। সরকার ন্যূনতম দায়িত্ব ছিলো জনগণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করার। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে এর পরিণতি কি হবে সেটা সরকার বিবেচনা করেনি। এমনিতে গত কিছুদিন যাবৎ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে, মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দিচ্ছে, পুষ্টির সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শতকরা ৫০ শতাংশ উচ্চ হারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পৃথিবীর কোথাও এমন উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার সব সময় বলে আসছে যে, জ্বালানি খাতে সরকার ভর্তুকি দিয়ে আসছে। কিন্তু যখন এটা বেরিয়ে আসলো যে, সরকার এই খাতে মুনাফা অর্জন করেছে। এই নিয়ে জনগণ যখন প্রশ্ন তুলেছে, তখন সরকার বলছে আমরা উন্নয়ন করেছি। কিন্তু এতো দিন সরকার কেন এই উন্নয়নের কথা বললো না। সরকার উন্নয়নের কথা বলছে কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও তো নানা প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে কেন বেশি ব্যয় হচ্ছে সেটা একটা প্রশ্ন। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে কাজটি ২০ টাকা হয়, সেটা আমাদের দেশে সে কাজ করতে ৪০ টাকা ব্যয় হয় কেন? অন্যান্য দেশের তুলনায় কেন বাংলাদেশে সেতু করতে, ভবন নির্মাণ করতে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে ৩ গুণ, ৪ গুণ ব্যয় করতে হয়। উন্নয়নের নামে জনগণের পকেট কাটা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারের তেলের দাম কমলেও আমরা কেন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে এবং সরকারের ঘনিষ্টজনেরা এই দুর্নীতি, অনিয়ম, অপব্যয়গুলো করছে, এগুলোর মাধ্যমে অনেক টাকা নিজেদের পকেটে ভড়ছে, আবার অনেকে বিদেশে টাকা পাচার করছে। সেকারণ বিভিন্ন জায়গায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। যারা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় বিদেশে টাকা পাচার করছে সরকার তো তাদের কাছ থেকে করও আদায় করতে পারে না। পাচার হওয়া টাকা ফেরতও আনতে পারে না। কারণ তারা সবাই সরকারের আশেপাশের লোক। ফলে এসমস্ত ঘাটতি সামাল দিতে সরকার জনগণের ওপর চাপ তৈরি করছে। 

জ্বালানি নীতি অনুসারে আমরা এখনও কেন স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারিনি তার কারণ উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থ বা জাতীয় স্বার্থকে বিবেচনায় না নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষ কিছু গোষ্ঠীর স্বার্থকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যে কারণে জ্বালানি খাত নিয়ে ২০১০ সালে সরকার যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেটা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। তাছাড়া সে মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ দিয়ে করা হয়নি। বাংলাদেশের জনগণকে জানানোও হয়নি। সেই মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে জাপানের একটি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে। সে মহাপরিকল্পনার ফলাফল হচ্ছে ঋণ নির্ভর, আমদানি নির্ভর, কয়লা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যেটা বাংলাদেশের জন্য সহজ হতো , নিরাপদ হতো সেটা কিন্তু আমরা বিভিন্ন সময় বলে আসছি। যেমন জাতীয় সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, জাতীয় জ্বালানির সার্বভৌমত্ব, শতভাগ মালিকানা রাষ্ট্রের হাতে রাখা। সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং উত্তোলন বাড়ানো। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারকে একটি মহাপরিকল্পনা দিয়েছি। যেখানে জাতীয় জ্বালানির সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সক্ষমতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমরা দেখিয়েছি যে, বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ নির্ভর বা বিদেশি আমদানি নির্ভর জ্বালানি দেশের জন্য কতটা বিপদজনক এবং সেটা দেশের জন্য দরকারও নাই। বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাস ক্ষেত্র উত্তোলন নিশ্চিত করতে পারলে, পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার সেটা করতে পারলে বাংলাদেশ খুবই নিরাপদ হবে। যার কারণে কোনো বন, নদী বা পরিবেশ ধ্বংস হবে না। এগুলো নিরাপদ এবং সুলভ মূল্যে পাওয়া সম্ভব হবে এবং টেকসই হবে। নিরবিচ্ছিন্নভাবেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু সরকার সে পথে যাননি। বরং সরকার চীনকে ব্যবসা করতে দিচ্ছে, ভারতকে ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছে। আমেরিকাকে ব্যবসা দিবে, রাশিয়াকে ব্যবসা দিবে। দেশের বড় বড় কিছু গোষ্ঠীকে ব্যবসা করতে দিবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ বিপদজনক। অন্যদিকে এগুলোর জন্য বিশাল ঋণের বোঝা তৈরি হচ্ছে। অন্যান্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও ঋণ নির্ভর এবং আমদারি নির্ভর। যে কারণে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে এবং পরিবেশগতভাবে ভয়াবহ বিপদের দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বিদ্যুতের এতো উৎস থাকার পরও দেশে লোডশেডিং দেওয়া আমাদের জন্য দুঃখজনক।

সরকার   জাতীয় স্বার্থ   জ্বালানি   দুর্নীতি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মালিক সমিতি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না’


Thumbnail ‘মালিক সমিতি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না’

মোজাম্মেল হক চৌধুরী। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব। গত ৫ আগস্ট মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, গণপরিবহনে নৈরাজ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান তুহিন

বাংলা ইনসাইডার: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যতা দেখা যাচ্ছে না। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, আবার ৩০ টাকার ভাড়া ৩৫ টাকা নিচ্ছে। এই বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করছি। সরকার বাসের ভাড়া বাড়ালেন প্রতি কিলোমিটার হিসেবে। কিন্তু রাজধানীতে যে সিটিং সার্ভিস বাসগুলো চলছে, বাসগুলো আগের বাড়তি ভাড়ার সাথে এখনকার ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে আগেই যেখানে বেশি ভাড়া নিত, এর সাথে যোগ করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী সাধারণের অবস্থা এখন নাজেহাল। আমরা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এই বিষয়ে কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে নামবো।

বাংলা ইনসাইডার: ইদানীংকালে গণপরিবহনে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ চালক কিশোর। এই যে কিশোরদের হাতে গণপরিবহন চলে যাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে যে অসম প্রতিযোগিতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে সেটি রোধে আপনারা কি করছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমরা এ ব্যাপারে সব সময় সোচ্চার এবং প্রতিবাদী। কিন্তু বিষয়টি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো আমাদের যারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ অথবা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। মাঠ পর্যায় তাদের তেমন কোনো তদারকি নেই। মাঠের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগও নেই। তারা কেবলমাত্র উপরের লেভেলের কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। নেতাদের নিয়ে পরিবহন খাতে সিদ্ধান্ত নেন। যাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তাদের মূলত তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক  আছে বলে আমাদের মনে হয় না। আমরা নানা গবেষণায় দেখেছি, তারা মাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন নেতা। ফলে তারা মাঠের বাস্তব চিত্রগুলো হাজির করতে পারেন না। এই কারণে এই সমস্ত সমস্যাগুলো দিন দিন গভীর থেকে আরও গভীরতর হচ্ছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে ধরনের মেকানিজম দরকার, সে মেকানিজম কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি না।

বাংলা ইনসাইডার: যাত্রী কল্যাণের মহাসচিব হিসেবে আপনি কি পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছেন বা কি পদক্ষেপ নিবেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমাদের কাজ হলো এ সমস্ত তথ্য-উপাত্তগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা, সে কাজটি আমরা করছি। আমাদের কাজ হলো এডভোকসি করা, সে কাজটি আমরা করছি। আমাদের কাজটি হলো জনসাধারণকে সচেতন করা, যাত্রী সাধারণকে সচেতন করা, তাদের দায়িত্বশীল করা। সে কাজটি আমরা গুরুত্ব সহিত করছি। এখন নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আজকে হয়তো আমরা ওইভাবে সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত করতে পারছি না। যাত্রীরা অসংগঠিত, অসচেতন হওয়ার ফলে এখানে মালিকরা এবং শ্রমিকরা সংখ্যায় কম হলেও তারা কিন্তু নৈরাজ্য করার ক্ষেত্রে বা আরও বিশৃঙ্খলা করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। যাত্রী সাধারণ অসংগঠিত এবং অসচেতন বলেই আমরা হয়তো আমদের আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করতে পারি না। তবে আমরা প্রত্যেকটা বিষয় সরকার এবং গণমাধ্যমের নজরে আনার চেষ্টা করি। অর্থাৎ সমস্যা সমাধানের জন্য যে তথ্য-উপাত্ত গুলো প্রয়োজন সেগুলো আমরা সরকারকে নিয়মিত সরবরাহ করছি। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যে ধরনের ফিডব্যাক প্রত্যাশা করি, সেভাবে আমরা ফিডব্যাক পাচ্ছি না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনার বাস মালিক সমিতির সাথে এইসব বিষয় নিয়ে কি বসেছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: মালিক সমিতি আসলে আমাদের সাথে বসতে চায় না। কারণ, তারা নৈতিকতার জায়গায় অনেক দুর্বল এবং গণপরিবহনের নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না। কারণ, আমরা যে সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রস্তাব দেই সেগুলো ধারণ করার মতো সক্ষমতা তারা রাখে না। সে কারণে আমরা দেখি যে, তারা আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না। বিষয়গুলো তারা বিব্রতকর মনে করেন।

বাংলা ইনসাইডার: গণপরিবহনে নৈরাজ্যের পেছনে কি রাজনৈতিক প্রভাব দায়ী?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: পরিবহনের যারা শীর্ষস্থানীয় নেতা তারা সবসময় সরকারি দলের চাদরের নিচে ঢুকে পড়েন। আমরা এখনও লক্ষ করছি, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তিনবার ক্ষমতায়। বিভিন্ন দলে বিভক্ত ছিলেন এমন বাস পরিবহন নেতারাও এখন এই দলের চাদরের নিচে ঢুকে পড়েছে। ফলে আমরা দেখি, তাদের ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা, পরিবহনের সুযোগ-সুবিধা আদায়, এবং প্রভাব বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে তারা একটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২০১৮ আমাদের সালে আমাদের যখন নিরাপদ সড়কের আন্দোলন হলো তখন হেলমেট বাহিনী বা কথিত ছাত্রলীগ নেতাদের আক্রমণ আমরা দেখেছি, কোটা আন্দোলন সময়ও হেলমেট বাহিনীর আক্রমণ দেখেছি। এমনকি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও আমরা হেলমেট বাহিনী দেখেছি। কিন্তু আমরা যখন দেখি বাস মালিক-শ্রমিকরা জনগণকে জিম্মি করে সারা দেশে পরিবহন খাত বন্ধ করে দেয় তখন কোনো হেলমেট বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করে না। মূলত, মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়ে পড়ে। এ কারণে আমরা দেখি এখানে জনস্বার্থ বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত হয়, মালিক সমিতির স্বার্থগুলো প্রায়োরিটি পায়। ভাড়া নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সরকারের সাথে মালিক সমিতির বৈঠক। এটা বাসের ক্ষেত্রেও হয়, লঞ্চের ক্ষেত্রেও হয়। আমরা গভীর উদ্বেগে লক্ষ করি যে, সেখানে কোনো গণমাধ্যম থাকে না, যাত্রী সাধারণের কোনো প্রতিনিধি থাকে না। মালিকদের কথার প্রেক্ষিতেই সরকার ভাড়া বাড়িয়ে দেন। ভাড়ার বোঝা যাদের সইতে হবে, তারা কতটুকু লোড নিতে পারবেন বা তাদের অভিযোগ, তাদের কথাগুলো, যাত্রী সেবার মান সংক্রান্ত দাবী গুলো, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ কান্না তুলে ধরার জন্য যাত্রী প্রতিনিধি নিশ্চিত করা হয় না। ফলে আমরা দেখি একচেটিয়াভাবে ভাড়া বাড়ানো হয় এবং সেটা অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়। ফলে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ বাড়ে। ভাড়া বাড়িয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তার চেয়ে বাড়তি বাড়া আদায় করা হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের কিছু করার নেই'


Thumbnail 'বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের কিছু করার নেই'

এখন দেশে অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে, টাকা পাচার বন্ধ, ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বন্ধ এবং সার্বিকভাবে দুর্নীতি যদি কমানো যেতো তাহলে সরকারকে আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণও নিতে হতো না এবং সরকারকে এই সংকটে পড়তে হতো না। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে কথা বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

বাংলা ইনসাইডার: দুর্নীতি বন্ধের জন্য দুদক কি করছে, কতটুকু সক্রিয় আপনারা?

মো. মাহবুব হোসেন: আমাদের তফসিলে যে বিষয়গুলো বলা আছে, সেই তফসিলের ক্ষমতাবলে বা তফসিলের আওতায় যে সমস্যা বা অভিযোগগুলো, সেগুলোর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুদক সেইসব অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান করার করার পর যদি কোনো তথ্য থাকে তখন মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়ের হলে কোর্টে যাই। কাজ চলমান আছে।

বাংলা ইনসাইডার: বিদেশে টাকা পাচার, যেমন পিকে হালদারের বিষয় কি বলবেন?

মো. মাহবুব হোসেন: টাকা পাচারের ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। এক্ষেত্রে দুদকের ক্ষমতা সীমিত। কারণ মানিলন্ডারিং আইনে দুদককে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারী যদি মানিলন্ডারিং করে দুর্নীতির মাধ্যমে, সেইটা দুদক দেখভাল করতে পারবে বা মামলা নিতে পারবে বা তদন্ত করতে পারবে। তাছাড়া অন্য কোনো পাবলিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজে যদি না করে সেখানে দুদকের যাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। আইনগতভাবে আমরা পারি না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনারা কি মনে করেন না যে, এই আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন?

মো. মাহবুব হোসেন: আইন সংশোধন করা লাগবে। মহামান্য হাইকোর্টও বলেছে আইন সংশোধন করতে। আইন সংশোধনের জন্য আমরা কেবিনেটে চিঠিও দিয়েছি। কেবিনেট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দিয়েছে। ওইটার অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। সংশোধন বলতে ওই তফসিলে আমাদের দুদককেও ক্ষমতাটা দিয়ে দিতে হবে। তাহলে আমরা ওইগুলো করতে পারবো। কিন্তু ওই সংশোধনীর অগ্রগতি আমরা এখনো পর্যন্ত জানি না।

বাংলা ইনসাইডার: ব্যাংকিং খাতে যেমন বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হলমার্ক নিয়ে দুদক অনেক সক্রিয় ছিল, কিন্তু কোনো রেজাল্ট তো সাধারণ নাগরিকরা পেলো না। এটাতে এতো দীর্ঘদিন সময় কেন লাগছে? 

মো. মাহবুব হোসেন: আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যেগুলোর অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত আমাদের নিতে হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে নিতে হয়। সেটার জন্য সময় লাগে। চাওয়ার সাথে সাথে কেউ সহজে দেয় না। বারবার চাইতে হয়। এটা একটা কারণ। 

বাংলা ইনসাইডার: বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারি, এটার বিষয়ে আপনারা তো এখনো কিছু করতে পারলেন না?

মো. মাহবুব হোসেন: এগুলো আমাদের এইখানে এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে। তথ্য-উপাত্ত সব পাওয়া গেলে তারপরে তারা দিবে। এখনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে এখনো রেডি হয়নি। আমার ৭ মাসের অভিজ্ঞতায় আমার মন্তব্য এইরকম। আর সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে, এই বিষয়ে আমার এখতিয়ার নেই। অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা এগুলো আলাদা বিষয়। 

বাংলা ইনসাইডার: দুদকের সচিব হিসেবে আপনি কি মনে করেন যে, দুদক যদি আরও সক্রিয় হতো তাহলে দুর্নীতিটা আরও কমে যেতো?

মো. মাহবুব হোসেন: দুদক তো সক্রিয় আছে। সচিব হিসেবে আমার বক্তব্য হলো, দুদক তৎপর আছে। আপনারা অগ্রগতি সহসাই দেখতে পাবেন। 

বাংলা ইনসাইডার: কি করলে দুদক আরও মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে?

মো. মাহবুব হোসেন: আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পেতে সময় লাগে। এটাই সমস্যা। 

বাংলা ইনসাইডার: আপনাদের জনবল নিয়ে কি কোনো সমস্যা আছে?

মো. মাহবুব হোসেন: জনবল নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। জনবল যা আছে সেটা যথেষ্ট।

মানিলন্ডারিং   দুর্নীতি   দুদক  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন