ইনসাইড টক

‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১১ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেছেন, সরকার পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনবে কিংবা উদ্যোগ গ্রহণ করবে, অর্থপাচার রোধ করা হবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রতি বছর বাজেটের সময় বলা হয়। কিন্তু আমরা সেটা কতটুকু করতে পেরেছি সেটা দেখার বিষয়। আমাদেরও অনেক সমস্যা আছে। সংশ্লিষ্টরা সন্দেহাতীতভাবে জানেন যে, আসলে অর্থ পাচারকারী কারা। সুনির্দিষ্ট করে যদি অর্থ পাচারকারীদের বলা হয়, আপনি অর্থ পাচার করেছেন, আমাদের হিসেবে মতো আপনি এত টাকা পাচার করেছেন, এখন এটা ফেরত আনেন। এবং সেটা জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়ও তাদের বেঁধে দিতে হবে। আমি এক হিসেব করে দেখেছি, গত ৪০ বছরে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার মত। প্রথমত, অর্থ পাচার সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। এটা একটা অপরাধ। যেকারণে এখানে আইনি সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই উচিত না। দ্বিতীয়ত, নৈতিকভাবেও এটা কখনোই ‍উচিত নয়। মাঝে মাঝে কালো টাকার ক্ষেত্রে বলা হয় যে, আপনি এত শতাংশ কর পরিশোধ করে পাচারকৃত টাকা দেশে ফেরত নিয়ে আসেন এবং সাদা করেন এবং বিনিয়োগ করেন। আবার এগুলো কখনো পরিষ্কার করে বলাও হয় না। এতে আমার মনে হয় যে, আমরা কখনো সিরিয়াসলি কালো টাকা উদ্ধার বা পাচারকৃত টাকা উদ্ধার এটা আমরা চাই না। যেকারণে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিদেশে পাচারকৃত টাকা দায়মুক্তির দিয়ে দেশে আনার সুযোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে বুধবার বাংলাদেশ সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির তথ্য চায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড। এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, এই মুর্হূতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রিজার্ভ কমে আসা। বলা হচ্ছে এখন আমাদের পাচঁ মাসের আমদানির রিজার্ভ আছে যেটা চার মাসের সমান হয় যেতে পারে। আবার তিন মাসের হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের অবস্থা অর্থনীতিতে এক ধরনের যুদ্ধের মতো অবস্থা বলা যায়। সেই জায়গায় খুব শক্ত পদক্ষেপ ছাড়া এটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। এক সময় দেশের অনেক নাম ডাক পত্র-পত্রিকায় টাকা পাচারকারীদের অনেকের নাম এসেছিল। কোম্পানিসহ মালিকের নাম কিন্তু সে সময় প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সে সময় তো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। তার মানে খুব সিরিয়াসলি হাত না দিলে কিছু হবে না। কিছু মুখরোচক কথা দিয়ে অর্থ পাচার ঠেকানো যেমন যাবে না, তেমনি পাচারকৃত টাকাও ফেরত আনার সম্ভব হবে না।

তিনি আনও বলেন, আমরা এমন এক ইকোনমি সিস্টেমে বাস করি যেখানে দুর্নীতি, কালো টাকা, অর্থ পাচার- এগুলো সিস্টেমের অংশের মধ্যে পড়ে গেছে। যদি এগুলো এমন সিস্টেমের অংশ হয় তাহলে কিছু করার নাই। কিন্তু সিস্টেমের অংশ হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির যে অবস্থা সেখানে তো আমাদের এই জিনিসগুলো কখনো না কখনো দেখতে হয়। আমি মনে করি এখন হচ্ছে সেই উপযুক্ত সময়। এই বিষয়গুলো খুব শক্ত হাতে দেখার। এখানে আরেকটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ যেটা আমি আগেও বলেছি সেটা হলো বাংলাদেশ এখন যে অবস্থায় আছে, তার ডেভেলপমেন্ট মডেল কি হবে? আমরা এখন সবাই মিলে সমাধান খুঁজছি। এক্ষেত্রে চারটি সমাধান হতে পারে। প্রথমত, ব্যয় কমানো যেটাকে কৃচ্ছতা সাধন বলছি। কিন্তু কৃচ্ছতা সাধন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাছাড়া কৃচ্ছতা সাধন তো গরীব মানুষকে করতে বলা যাবে না। গরীব, সে তো গরীবই। যে নিম্নমধ্যবিত্ত তাকেও বলা যাবে না। সে এমন পরিস্থিতিতে বেশ কষ্টেই আছে। যে মধ্যবিত্ত সেও কষ্টে আছে। এখন দেশের প্রায় সব জায়গায় এক ধরনের ঘটনা ঘটছে, সেটা হলো যখন লোডশেডিং হচ্ছে তখন মানুষ জেনারেটর চালাচ্ছে। সেটা চালাচ্ছে ডিজেল দিয়ে। তাহলে ডিজেলের ব্যয় তো কমছে না। বরং ডিজেলের ব্যবহার বাড়ছে। এগুলো অস্থায়ী সমাধান। দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান করতে হলে নীতি নির্ধারকদের খুব ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে, খুব সর্তকতার সঙ্গে পরিকল্পনা নিতে হবে। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কারো স্বার্থ দেখা যাবে না। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, ঋণ পুনর্গঠনের নামে আমরা ধনীদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়ে দিচ্ছি। যে প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে ধনীরাই বেশি পেয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি যারা আচ্ছেন তারা কিন্তু খুব বেশি পাননি। ঋণ পুনর্গঠন দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটা হলো দেশের মধ্যে ঋণ পুনর্গঠন। আরেকটা হলো বিদেশ থেকে  আমরা যে ঋণ গ্রহণ করি সেটা একটা। বিদেশি ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি খুব জোরদার করা দরকার। সেটাও খুব বেশি আছে বলে আমার মনে হয় না।

তৃতীয়ত হলো সম্পদের পুনর্বন্টন। অর্থাৎ সম্পদশালী থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত করা। সেটা বেশ কিছু উপায়ে করা যেতে পারে। একটি সম্পদ কর আরোপ। বাংলাদেশে সম্পদ কর আইন আছে কিন্তু সম্পদ করা নেওয়া হয় না। সেটা অর্থমন্ত্রীও এক বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করেছিলেন। সেটা যদি করা যায় তাহলে চরম বৈমষ্য কমবে। সম্পদ করের পাশাপাশি দ্বিতীয়ত হলো উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত যে সম্পদ আছে তার উপর কর আরোপ করা। তৃতীয়ত হলো অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর। অনেকে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করে থাকেন। যেমন কোভিড কালীন সময়ে অনলাইনে বা অন্য কোনো উপায়ে অনেকে অনেক অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করেছেন। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে এমনটা করা হয়েছিল। অর্থাৎ অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর আরোপ করা হয়েছিল। সেটা এখনকার পরিস্থিতির জন্য উত্তম বলে আমি মনে করি। 
চতুর্থত হলো কালো টাকা উদ্ধার এবং পাচারকৃত টাকা উদ্ধার। এর বাইরে আরও অনেক কিছু আছে। যেমন মাদকের উপর শুল্ক কর বাড়ানো, বিলাসবহুল পণ্যের উপর শুল্ক কর বাড়ানো ইত্যাদি।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত জানান, অর্থ পাচার বহুভাবেই হয়েছে। অর্থ পাচার করাও কিন্তু সহজ না। কারণ যখন পাচার হয় তখন কিন্তু রিয়েল মানি পাচার হয়। ধরা যাক কেউ ১০ লাখ ডলার কোনো রেগুলার ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার করলো। পাচার করার সাথে সাথে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে সে টাকা ছড়িয়ে যায়। বিভিন্ন হাউজে চলে যায়। তারপর আবার এটাকে টেনে নিয়ে আসার হয়। যখন এটা টেনে নিয়ে আসার হয় তখন কিন্তু সেই টাকাটা সাদা হয়ে যায়। অর্থ পাচার যদি সাদা হয়ে থাকে তাহলে অর্থ পাচারকে তো অর্থ পাচার বলা যাবে না। 

তিনি আরও জানান, যারা দেশের অর্থ পাচার করেছেন তাদের দিয়ে প্রথমে এক্সপেরিমেন্টাল পাইলট করে দেখা যেতে পারে। কিছু জাযগায় হাত দিতেই হবে। হাত দেওয়া পর তখন তাদের বলতে হবে যে, অর্থ পাচার নাও এন্ড নেভার। আপনাকে এই এক বছর সময় দেওয়া হলো বা ৬ মাস কিংবা ৩ মাস সময় দেওয়া হলো এর মধ্যে আপনার পাচারকৃত টাকা নিয়ে আসবেন এবং সেটার উপরে কঠোরভাবে কর আরোপ করতে হবে। করের হার বেশি ধরতে হবে, কম হলে হবে না। করের হার কম ধরা হলে সৎ ব্যবসায়ীদের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তাদের জন্য এটা কাউন্ড অব প্রোডাক্টটিভ হবে। সে ক্ষেত্রে সৎ ব্যবসায়ীরা টাকা পাচারকে একটা ভালো জিনিস মনে করতে পারে। কারণ পাচার করলে তো কোনো অসুবিধা নাই। পরে একটা কম করের বিনিময়ে টাকা বৈধ করা যাবে। সেজন্য খুব ভালোভাবে, মাথা খুলে এই বিষয়গুলো দেখতে হবে। বলার জন্য মুখরোচক কিছু কথা বললাম আর সব হয়ে যাবে এটা ভাবলে হবে না। আর যারা পাচার করেছেন তাদের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়। দেশে সাড়ে ১৬ কোটি লোকের মধ্যে হয়তো ১০ লাখ বা ৫ লাখ কিংবা ১ লাখ বা আরও কম সংখ্যক লোক টাকা পাচার করেছেন। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষকে হ্যান্ডেল করা যাবে না সেটা তো বিশ্বাসযোগ্য নয়। আবার হ্যাল্ডেল করতে গিয়ে যেন এমন না হয় যে, একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলাম, আরেকজনকে কিছু করলাম না, সেটা দেখলে হবে না। সমস্যা আছে, এর সমাধান করতে হবে। আবার করতে হবে এমনটিও নয়, করতেই হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘শুধু হাটুই ভাঙ্গেনি, বিএনপির কোমরও ভেঙ্গে গেছে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ‘শুধু হাটুই ভাঙ্গেনি, বিএনপির কোমরও ভেঙ্গে গেছে’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, বিএনপি সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সমমনা কারা। সমমনা মানে এটা বিএনপি-জামায়াতের সমমনা। যারা ধর্ম ভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। তাদের সমন্বয়ই সমমনা। যাদের নীতি আদর্শ চরিত্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা। দেশের ঐক্য বিনষ্ট করা এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি প্রতিষ্টা করা। বিএনপির এ ধরনের চরিত্র দেশের জনগণের কাছে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। আমরা সে দায়িত্ব পালন করছি। 

গতকাল থেকে ২২ টি সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় সংলাপ শুরু করেছে বিএনপি। লক্ষ্য সরকার বিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত রূপরেখা ঠিক করা। এ দিকে আওয়ামী লীগ এ নিয়ে কি ভাবছে তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা সব সময় খেয়াল রাখি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে এখন অপ্রতিরোধ্যভাবে এগিয়ে যাচ্ছে কোনো অপশক্তি যেন এই অপ্রতিরোধ্য যাত্রাকে রোধ করতে না পারে। দেশে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে যেন আবার কোনো স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হয়। যেন বাংলাদেশ আবার কোনো অশুভ শক্তির হাতে না পড়ে। আমরা চেষ্টা করি দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত হয়। 

তিনি বলেন, বিএনপি তো গত ১৩ থেকে ১৪ বছর ধরে আন্দোলন করছে। কিন্তু কোনো আন্দোলনে তো তারা সফল হয়নি। কারণ জনগণ তাদের সাথে নেই। তারা আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে মানুষকে ভয় ভীতি দেখানোর জন্য। দেশের মানুষ জানে বিএনপি আন্দোলনের নামে অতীতে কি রকম ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়েছে। আর এ কারণেই তারা এখন জন সমর্থন পাচ্ছে না। 

আওয়ামী লীগ কোমর ভাঙা দল বলে  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররের অভিযোগের ব্যাপারে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, কার কোমর ভাঙা আর কার হাটু ভাঙা তার দেশের সাধারণ মানুষ জানে। গত ১৩/১৪ ধরে তারা আন্দোলন করছে কিন্তু কোনো আন্দোলন করতে পেরেছে কি? পারেনি। কারণ তাদের শুধু হাটুই ভাঙ্গেনি, কোমরও ভেঙ্গে গেছে। তারা শীতের পর আন্দোলনের ডাক দেয়, তারা রোজার পর আন্দোলন করে কিন্তু কোনো আন্দোলনই তো তারা করতে পারেনি। তাহলে তাদের সাংগঠনিক শক্তি কতটুকু সেটা সকলেই বুঝতে পারে। 

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির এখন যে আন্দোলন করার কথা বলছে এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের কোনো মাথা ব্যথা নেই। আমাদের মাথা ব্যথা দেশের মানুষ কিভাবে আরও ভালো থাকবে, কিভাবে দেশের মানুষের আরও উন্নতি সাধন হবে, সর্বোপরি দেশ এগিয়ে যাবে সেটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা। আমাদের মাথা ব্যথা জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কাজগুলো আরও অনেক দূরে এগিয়ে নেয়া। যাতে করে দেশের আরও উন্নতি হয়। আর এর মধ্য দিয়ে আমাদের জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়। 

বিএনপি   কোমর ভাঙা   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তার বিষয়টি গদবাধা, কোনো নতুনত্ব নেই’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ‘পূজা উপলক্ষে নিরাপত্তার বিষয়টি গদবাধা, কোনো নতুনত্ব নেই’

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, বাংলাদেশে এই যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হচ্ছে এটা অনেক আগে থেকে হয়ে আসছে। পঁচাত্তরের পর বিশেষ করে নব্বইয়ের পর থেকে অব্যাহত রয়েছে। এ ধরনের ঘটনাগুলো কমছে না। সহিংসতার ঘটনাগুলো ক্রমশ বাড়ছেই। বরং সহিংসতায় আরও নতুনত্ব এসেছে। প্রধানমন্ত্রী যখন সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন এরপরও এ ধরনের ঘটনাগুলো চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। 

দেশজুড়ে চলছে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। সারাদেশে এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এবারের সার্বিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন রানা দাশগুপ্ত। পাঠকদের জন্য রানা দাশগুপ্ত এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা বরা হচ্ছে। কিন্তু পাশাপাশি তারা আবার শঙ্কাও প্রকাশ করছেন। সুতরাং পূজার্থীরা শঙ্কামুক্ত এটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। পূজার সময় সাম্প্রদায়িক সহিংসতা যদি নাও ঘটে কিন্তু পূজার পর যে ঘটবে না কোনো নিশ্চিয়তা নেই। 

তিনি বলেন, প্রশাসন বলছে তারা সব ধরনের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত আছেন। তারা এক দিকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলছে আবার শঙ্কার কথা উড়িয়েও দিচ্ছেন না। সুতরাং সঙ্গত কারণেই পূজার্থীরা ভয়ের মধ্যে উৎসব পালন করবে। প্রশাসনের স্বইচ্ছার কারণে পূজা চলাকালীন এই পাঁচ দিন যদি কোনো ধরনের অঘটন নাও ঘটে কিন্তু পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা আবার ঘটবে। কারণ সামনে জাতীয় নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে প্রতিবারই সাম্প্রদায়িক হামলা নতুন মাত্রা পায়। অর্থাৎ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে সাম্প্রদায়িক হামলাগুলোও জোরদার হবে। এ সময় জঙ্গীরা সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এবারের পূজার নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূজা উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার বিষয়টি গদবাধা, কোনো নতুনত্ব নেই। অতীতের ধারাবাহিতায় এবারের নিরাপত্তাও একই। সমস্যার মূলে হাত না দিলে এ ধরনের নিরাপত্তা টেক সই হবে না। অতীতে সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো মামলা করা হলেও সেগুলোর মীমাংসা এখনও হয়নি। বরং মামলার আসামীরা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে আসছেন। অতীতের সাম্প্রদায়িক হামলার গুলোর বিচার আমরা এখনও দেখিনি। আর এর মধ্য দিয়ে দায় মুক্তির একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। ফলে দুর্বৃত্তরা তাদের সাম্প্রদায়িক হামলা পুনরায় চালাতে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। 

রানা দাশগুপ্ত বলেন, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছে হলে দেশের বিদ্যমান আইন দিয়ে সম্ভব হবে না। নারী শিশুদের ক্ষেত্রে যেমন বিশেষ আইন প্রণীত হয়েছে তেমনিভাবে সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তদের দমন করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনগুলোকে সামনে রেখে একটি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণীত হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। যার প্রতিশ্রুতি গত নিবাচনী ইশতিহারে আওয়ামী লীগ দিয়েছিল। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন করা এবং বৈষম্য আইন বিলোপ করা দরকার বলে আমি মনে করি। এই আইনগুলো না হওয়া পর্যন্ত চোর পুলিশ খেলা হবে কিনা পুলিশ চোর ধরতে পারবে না। আর চোর চুরি করতে থাকবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলে রাশিয়া ইউক্রেনের ভেতরে আরও ঢুকে পড়বে’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ০১ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ‘ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলে রাশিয়া ইউক্রেনের ভেতরে আরও ঢুকে পড়বে’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, ইউক্রেনের চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির ঘটনায় সেখানে পশ্চিমাদের অবস্থান দুর্বল হলো কিনা সেটা এত তাড়াতাড়ি বলা মুশকিল। তবে দুর্বল হওয়ার কথা নয়। কারণ, অনেক আগে থেকেই রাশিয়া বলে আসছিল যে, ওই চার অঞ্চল তাদেরই হয়। সেটা পশ্চিমাও ভালো করে জানেন। আর এর ফলে সেখানকার পরিস্থিতি বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনও হবে না।

অভিযানরত রুশ বাহিনী ও রুশভাষী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের চার প্রদেশ খেরসন, ঝাপোজ্জিয়া, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে সেখানে পশ্চিমাদের অবস্থান, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ভবিষ্যতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, এখন ইউক্রেন যদি যুদ্ধ চালিয়ে যায় তাহলে রাশিয়া তো ইউক্রেনের ভেতরে আরও সরাসরিভাবে ঢুকে পড়বে। এর মাধ্যমে অবস্থান যেমন আছে তেমনই থাকবে। আর যদি যুদ্ধ চলতে থাকে তাহলে তো ইউরোপের ভোগান্তি আরও বাড়বে। কিন্তু ইউরোপ ভোগান্তি বাড়াবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়। কারণ ইউরোপ এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের যে চারটি অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ হচ্ছে ইউক্রেন সেটা আগে থেকেই জানতো। সেখানে প্রায় ৮ বছর ধরে যুদ্ধ চলছিল কিন্তু পশ্চিমা মিডিয়া সে খবর প্রচার করেনি। ইউক্রেনের ডানপন্থীরা এই আট বছর ধরে সেখানে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করছে। এখন এই ঘটনার পর ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য দেয়া হবে কিনা সেটাও আগ্রহের বিষয়। পশ্চিমারা যদি এখন বড় ধরনের যুদ্ধ চালিয়ে যায় তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইউরোপই। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ এখন অনেকটা ইউরোপের ওপরই নির্ভর করে। এখন ইউরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া সময় এসেছে তারা কি যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে নাকি তারা বিকল্প কিছু ভাববে সেটা তাদের বিষয়।

অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আমরা জানি যে, ন্যাটোর সদস্য সব সময় আমেরিকাই অংশ হিসেবে ছিল বা বলা যায় সব বিষয়ে আমেরিকাকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তারা নিজেরা কতখানি স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে সেটা একটা প্রশ্নের বিষয়। এই প্রশ্ন সব সময় ছিল। এখন এই প্রশ্ন আরও বড় হয়ে দাঁড়ালো। কারণ ইউরোপে একেকটি দেশে যে পরিমাণ মিলিটারি বছরের পর বছর ধরে আছে এবং এর ফলে ইউরোপের দেশগুলো কতটুকু স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্র নীতি পরিচালন করতে পেরেছে সেটি বড় প্রশ্ন। অর্থাৎ ইউপি সদস্য দেশগুলো নিজেরাই কতটা স্বাধীন সেটি বড় প্রশ্ন।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার চলমান সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে ইউরোপের জনগণ। এখন এটা দেখার বিষয় যে, ইউরোপের জনগণ কি সিদ্ধান্ত দেয়। তারা রাশিয়ার এই পদক্ষেপ মেনে নেবে কিনা নাকি তারাও যুদ্ধমুখী হবে। তবে আমি মনে করি যুদ্ধমুখী হওয়ার সম্ভাবনা কম। যুদ্ধমুখী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে আরও আগেই হতে পারতো। কিন্তু তেমনটা হয়নি। সেখান যুদ্ধমুখী হওয়া মানেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়া। কারণ রাশিয়া বারবার বলে আসছে তাদের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ হলে তারা এটাকে সহজভাবে নেবে না। এ সমস্ত বিষয় বিবেচনা করলে ইউক্রেনের চার অঞ্চল রাশিয়া সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি একটি সমাধানের বিষয়ও হতে পারে। কারণ যে অঞ্চল নিয়ে এতদিন বিতর্ক ছিল সেই ২০০৮ সাল থেকেই এবং তারা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চাচ্ছিল। কিন্তু রাশিয়া এতদিন পিছু পা ছিল। আর এখন তারা স্বীকৃতি দিচ্ছে। কিন্তু ইউক্রেন যদি এটা মেনে না নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যায় তাহলে রাশিয়াও তাদের শক্তি দেখাবে এবং হয়তো তখন ইউক্রেন আরও অঞ্চল হারাবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ থামানোর জন্য নিজে যুদ্ধে জড়াবে কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা বুঝা যাচ্ছে যে ইউরোপের জনগণ সেটা চাইবে না। ফলে সেখান শান্তি সৃষ্টি হওয়ার একটা সম্ভাবনা আছে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে ইউক্রেনের ওপর। তারা কি প্রক্রিয়া দেখায়।

ইউক্রেন   রাশিয়া   যুক্তরাষ্ট্র   রুশভাষী বিচ্ছিন্নবাদী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘প্রত্যেকটা কাজই জীবনে অনেক আনন্দের’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘প্রত্যেকটা কাজই জীবনে অনেক আনন্দের’

অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল, ক্যারিয়ারে যেন সুসময় পার করছেন। গেল বছর মুক্তি পেয়েছিলো তার অভিনীত `চন্দ্রাবতী কথা`চলচ্চিত্রটি। মুক্তির পঅর ছবিটি বেশ সাড়া ফেলেছে। ষোড়শ শতকের বাংলাদেশের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর বেদনাবিধুর জীবন ও সমকালীন সমাজচিত্র নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। এরপর সারা দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিলো  নির্মাতা নূরুল আলম আতিক পরিচালিত ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমাটি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিনেমাটি বিজয়ের মাসে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।

বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক,ওয়েব সিরিজ,ওয়েব ফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন। কাজের ব্যস্ততা ও নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ইনসাইডার এর।

বাংলা ইনসাইডার: নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেন। চরিত্রটি নিয়ে কিছু বলুন?

দিলরুবা দোয়েল: প্রত্যেকটা কাজই তো আসলে জীবনে অনেক আনন্দের। আর যেহেতু অপু বিশ্বাস আমাদের দেশের একজন স্বনামধন্য অভিনেত্রী এবং প্রথম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং অনুদান পেয়েছে। উনার যে টপিকটা 'লালা শাড়ি'। 'লাল শাড়ি'টা হচ্ছে আমাদের দেশেরই একটা নির্দিষ্ট কমিউনিটির গল্প। যে কমিউনিটিটা এখনো বিদ্যমান এবং এটি আমাদের দেশীয় জায়গা তাঁত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জীবনযাপন, তাদের সব কিছু নিয়ে ছবির গল্পটা। তো আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে যে, এই টপিকটা আমাদের খুবই নিজস্ব টপিক। এটার মধ্যে একটা বিশুদ্ধতা আছে এ কারণেই এই টপিকটা আকর্ষণীয় লেগেছে।

বাংলা ইনসাইডার: এই প্রথম অপু বিশ্বাসের সাথে ছবি করছেন। কেমন লাগছে?

দিলরুবা দোয়েল: অপু দি'র সাথে কাজ করে ভালো লেগেছে। এর আগেও উনার সাথে শুট করা হয়েছে। তবে ভাবিনি উনার সাথে কাজ করবো এভাবে। এটা নিঃসন্দেহে একতা ভালো বিষয়। আর উনিও এত কম বয়েসে যে উদ্যোগটা নিয়েছেন এবং যে গল্পের প্লট উনি সিলেক্ট করেছেন এটি একটি এপ্রিশিয়েট করার মত বিষয় বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এছাড়াও নারী প্রযোজক, অনুদান পেয়েছে সবকিছু মিলিয়ে আরও ভালো লাগা কাজ করেছে।

বাংলা ইনসাইডার: ওটিটিতে নিয়মিত কাজ করছেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ওয়েবফিল্ম 'যদি বেঁচে থাকি' কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

দিলরুবা দোয়েল: হ্যাঁ নিয়মিত কাজ করছি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কাজ করেছি এবং গতকালকে চরকিতে মুক্তি পেয়েছে আমার অভিনীত 'যদি বেঁচে থাকি' নামে ওয়েব ফিল্ম। যেটিতে প্রথমবারের মত আমি কাজ করলাম মিশা ভাইয়ের সাথে এবং মুক্তির পর ইতিমধ্যে বেশ সাড়া পাচ্ছি। আশাকরি দর্শকদের কাছে এই ওয়েব ফিল্মটি ভালো লাগবে।



বাংলা ইনসাইডার: একজন অভিনেত্রী হিসেবে কোন চরিত্রে কাজ করতে ইচ্ছুক আপনি বেশি?

দিলরুবা দোয়েল: একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রত্যেকটি চরিত্রেই কাজ করতে চাই। আর একজন মানুষ হিসেবেও আমার ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র পছন্দ। টুকটাক যেহেতু কাজ করছি এখন কাজের সেই জায়গা থেকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র খুব ভালো লাগে আমার কাছে। এর ফলে আমার কাছে মনে হয় যে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জীবন কেমন, তাদের জীবনের উপলব্ধি কেমন এটার স্বাদ পাওয়া যায়। এটাতে নিজের জীবনে যথেষ্ট প্রভাব পড়ে কিন্তু যেহেতু নিজে ব্যক্তি হিসেবেও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র আমাকে খুব আকর্ষণ করে। এর পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিংও বিষয়টা এটা মজা আছে। 

বাংলা ইনসাইডার: সম্প্রতি মিডিয়ার অনেকেই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

দিলরুবা দোয়েল: সম্প্রতি মিডিয়ার বাইরে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। এটা আসলে হচ্ছেই। এটা শুধু মিডিয়া না, মিডিয়ার বাইরেও যে পরিমাণ বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে এটা আসলে খুবই দুঃখজনক। এ অবস্থায় এটা নিয়ে আসলে কি বলবো আর কোথা থেকে শুরু করবো, কোথায় শেষ করবো এটা আসলে বুঝে উঠতে পারি না। এই যে কলেজ টিচার মারা যাওয়া থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক আরও নানা ঘটনা যে ঘটছে খুবই খুবই দুঃখজনক। আর মন্তব্য করতে চাই না, জ্ঞানও দিতে চাই না,কারোর পরামর্শও চাই না। আমার কাছে মনে হয় যে, প্রত্যেকটা মানুষ যারা যে যে জায়গা থেকে আমরা খারাপ জিনিসটা কপি না করে ভালো জিনিসের দিকে অগ্রসর হই। এটা খুব জরুরি বিষয়। জীবনটা খুব ছোট। আর দ্বিতীয়ত যারা এগুলা করারা পরিকল্পনা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমি কিছুই বলতে চাই না। যেহেতু আমরা সাইবার বুলিং কখনো ঠেকাতে পারবো না। তাই এ বিষয়ে আমার মন্তব্য হচ্ছে যারা এ বুলিংয়ের স্বীকার হচ্ছেন তারা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে প্রতিবাদ করুন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘চোখ ওঠলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘চোখ ওঠলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেছেন, চোখ ওঠলে চোখ লাল হয়ে তখন চোখের পাতা ফুলে যায়। চোখের ভেতর তখন অস্বস্ত্বিকর লাগে। লাইটের দিকে তাকানো যায় না। লাইটের আলো সহ্য করা যায় না। কাজ করতে অসুবিধা হয়। দৃষ্টি শক্তি কিছুটা ঝাপসা হতে পারে। বেশির ভাগ সময় দুই চোখ লাল হতে দেখা যায়। তবে এক চোখেও হতে পারে। চোখে পুঁজের মতো জমা হয়, ঘুম থেকে উঠলে অনেক সময় চোখের পাতা লেগে থাকতে দেখা যায় এবং চোখ থেকে পানি ঝরে। চোখ জ্বালাপোড়া করে। চোখে খচখচ ভাব, অস্বস্তি হয়। হালকা ব্যথা ও ফটোফোবিয়া বা রোদে তাকাতে অসুবিধা হতে পারে। চোখ উঠলে সাধারণ এই গুলো হয়। এটা কোনটা ভাইরাসের জন্য, কোনটা ব্যাকটেরিয়ার জন্য হয়। আবার কোনটা ফাংগাসের জন্য হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘরে ঘরে চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস নামের সমস্যার কথা শুনা যাচ্ছে। এটি একটি ভাইরাসজনিত সমস্যা। চোখ ওঠলে এর চিকিৎসা এবং সর্তকতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক সূচনা।

অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক  বলেন, ভাইরাস সাধারণত মহামারি হিসেবে আসে। চোখের বেলায় ভাইরাস একজনের চোখের থেকে আরেকজনের চোখে এটা ছড়াতে থাকে। বিশেষ করে হ্যান্ডশেক করার মধ্য দিয়ে। দুইজন ব্যক্তি একই বস্তু স্পর্শ করলে সেখান থেকে ছড়ায়। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তি যদি কোন কিছু স্পর্শ করে এবং পরে সেখানে কেউ স্পর্শ করে তাহলে এভাবে সবার মধ্যে ছড়াতে থাকে। দেখা যাচ্ছে স্কুলে কোনো বাচ্চার হলে পরে সবারই হচ্ছে। আস্তে আস্তে এটা ব্যাপকভাবে ছড়াতে থাকে। এটা হয় ভাইরাসের বেলায়।

তিনি বলেন, সাধারণ চোখ ওঠা এক থেকে তিন সপ্তাহে সেরে যায়। ঠান্ডা বা সর্দির মতো উপসর্গ থাকলে কেবল অ্যান্টিহিস্টামিন সেবনই যথেষ্ট। অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ডোজ মেনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম।

চোখ উঠলে সতর্কতার ব্যাপারে তিনি বলেন, চোখে পিঁচুটি জমলে হালকা নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বা পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কোনোমতেই চোখ রগড়ানো যাবে না। কালো চশমা রোদে বা আলোতে কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়। তাই বাইরে বেরোলে কালো চশমা পরুন। চোখে কোনোমতেই হাত দেওয়া যাবে না। একজনের ব্যবহার করা রুমাল, গামছা, তোয়ালে বা কাপড়চোপড় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। হাত সব সময় সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনসমাগম, অনুষ্ঠান, ক্লাস ইত্যাদি পরিহার করে চলাই ভালো। এ সময়টায় অনেক শিক্ষার্থীর ক্লাস চলছে। চোখ ওঠা নিয়ে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়াই ভালো। তবে পরীক্ষা থাকলে ওপরের নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনে স্কুলে যাওয়া যাবে। অবশ্যই কালো চশমা পরে থাকতে হবে এবং অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করা যাবে না।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন