ইনসাইড টক

‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১১ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেছেন, সরকার পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনবে কিংবা উদ্যোগ গ্রহণ করবে, অর্থপাচার রোধ করা হবে এ ধরনের প্রতিশ্রুতি প্রতি বছর বাজেটের সময় বলা হয়। কিন্তু আমরা সেটা কতটুকু করতে পেরেছি সেটা দেখার বিষয়। আমাদেরও অনেক সমস্যা আছে। সংশ্লিষ্টরা সন্দেহাতীতভাবে জানেন যে, আসলে অর্থ পাচারকারী কারা। সুনির্দিষ্ট করে যদি অর্থ পাচারকারীদের বলা হয়, আপনি অর্থ পাচার করেছেন, আমাদের হিসেবে মতো আপনি এত টাকা পাচার করেছেন, এখন এটা ফেরত আনেন। এবং সেটা জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়ও তাদের বেঁধে দিতে হবে। আমি এক হিসেব করে দেখেছি, গত ৪০ বছরে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকার মত। প্রথমত, অর্থ পাচার সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। এটা একটা অপরাধ। যেকারণে এখানে আইনি সুযোগ দেওয়া কোনোভাবেই উচিত না। দ্বিতীয়ত, নৈতিকভাবেও এটা কখনোই ‍উচিত নয়। মাঝে মাঝে কালো টাকার ক্ষেত্রে বলা হয় যে, আপনি এত শতাংশ কর পরিশোধ করে পাচারকৃত টাকা দেশে ফেরত নিয়ে আসেন এবং সাদা করেন এবং বিনিয়োগ করেন। আবার এগুলো কখনো পরিষ্কার করে বলাও হয় না। এতে আমার মনে হয় যে, আমরা কখনো সিরিয়াসলি কালো টাকা উদ্ধার বা পাচারকৃত টাকা উদ্ধার এটা আমরা চাই না। যেকারণে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনতে কখনো সিরিয়াসলি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিদেশে পাচারকৃত টাকা দায়মুক্তির দিয়ে দেশে আনার সুযোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে বুধবার বাংলাদেশ সুইস ব্যাংকে জমা অর্থের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির তথ্য চায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড। এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, এই মুর্হূতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রিজার্ভ কমে আসা। বলা হচ্ছে এখন আমাদের পাচঁ মাসের আমদানির রিজার্ভ আছে যেটা চার মাসের সমান হয় যেতে পারে। আবার তিন মাসের হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের অবস্থা অর্থনীতিতে এক ধরনের যুদ্ধের মতো অবস্থা বলা যায়। সেই জায়গায় খুব শক্ত পদক্ষেপ ছাড়া এটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। এক সময় দেশের অনেক নাম ডাক পত্র-পত্রিকায় টাকা পাচারকারীদের অনেকের নাম এসেছিল। কোম্পানিসহ মালিকের নাম কিন্তু সে সময় প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু সে সময় তো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। তার মানে খুব সিরিয়াসলি হাত না দিলে কিছু হবে না। কিছু মুখরোচক কথা দিয়ে অর্থ পাচার ঠেকানো যেমন যাবে না, তেমনি পাচারকৃত টাকাও ফেরত আনার সম্ভব হবে না।

তিনি আনও বলেন, আমরা এমন এক ইকোনমি সিস্টেমে বাস করি যেখানে দুর্নীতি, কালো টাকা, অর্থ পাচার- এগুলো সিস্টেমের অংশের মধ্যে পড়ে গেছে। যদি এগুলো এমন সিস্টেমের অংশ হয় তাহলে কিছু করার নাই। কিন্তু সিস্টেমের অংশ হলেও সামগ্রিক অর্থনীতির যে অবস্থা সেখানে তো আমাদের এই জিনিসগুলো কখনো না কখনো দেখতে হয়। আমি মনে করি এখন হচ্ছে সেই উপযুক্ত সময়। এই বিষয়গুলো খুব শক্ত হাতে দেখার। এখানে আরেকটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ যেটা আমি আগেও বলেছি সেটা হলো বাংলাদেশ এখন যে অবস্থায় আছে, তার ডেভেলপমেন্ট মডেল কি হবে? আমরা এখন সবাই মিলে সমাধান খুঁজছি। এক্ষেত্রে চারটি সমাধান হতে পারে। প্রথমত, ব্যয় কমানো যেটাকে কৃচ্ছতা সাধন বলছি। কিন্তু কৃচ্ছতা সাধন কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তাছাড়া কৃচ্ছতা সাধন তো গরীব মানুষকে করতে বলা যাবে না। গরীব, সে তো গরীবই। যে নিম্নমধ্যবিত্ত তাকেও বলা যাবে না। সে এমন পরিস্থিতিতে বেশ কষ্টেই আছে। যে মধ্যবিত্ত সেও কষ্টে আছে। এখন দেশের প্রায় সব জায়গায় এক ধরনের ঘটনা ঘটছে, সেটা হলো যখন লোডশেডিং হচ্ছে তখন মানুষ জেনারেটর চালাচ্ছে। সেটা চালাচ্ছে ডিজেল দিয়ে। তাহলে ডিজেলের ব্যয় তো কমছে না। বরং ডিজেলের ব্যবহার বাড়ছে। এগুলো অস্থায়ী সমাধান। দীর্ঘ মেয়াদী সমাধান করতে হলে নীতি নির্ধারকদের খুব ঠান্ডা মাথায় ভাবতে হবে, খুব সর্তকতার সঙ্গে পরিকল্পনা নিতে হবে। নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কারো স্বার্থ দেখা যাবে না। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, ঋণ পুনর্গঠনের নামে আমরা ধনীদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়ে দিচ্ছি। যে প্রণোদনার প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে ধনীরাই বেশি পেয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি যারা আচ্ছেন তারা কিন্তু খুব বেশি পাননি। ঋণ পুনর্গঠন দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটা হলো দেশের মধ্যে ঋণ পুনর্গঠন। আরেকটা হলো বিদেশ থেকে  আমরা যে ঋণ গ্রহণ করি সেটা একটা। বিদেশি ঋণ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক কূটনীতি খুব জোরদার করা দরকার। সেটাও খুব বেশি আছে বলে আমার মনে হয় না।

তৃতীয়ত হলো সম্পদের পুনর্বন্টন। অর্থাৎ সম্পদশালী থেকে নিচের দিকে প্রবাহিত করা। সেটা বেশ কিছু উপায়ে করা যেতে পারে। একটি সম্পদ কর আরোপ। বাংলাদেশে সম্পদ কর আইন আছে কিন্তু সম্পদ করা নেওয়া হয় না। সেটা অর্থমন্ত্রীও এক বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করেছিলেন। সেটা যদি করা যায় তাহলে চরম বৈমষ্য কমবে। সম্পদ করের পাশাপাশি দ্বিতীয়ত হলো উত্তরাধিকারী সূত্রে প্রাপ্ত যে সম্পদ আছে তার উপর কর আরোপ করা। তৃতীয়ত হলো অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর। অনেকে অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করে থাকেন। যেমন কোভিড কালীন সময়ে অনলাইনে বা অন্য কোনো উপায়ে অনেকে অনেক অতিরিক্ত মুনাফা লাভ করেছেন। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে এমনটা করা হয়েছিল। অর্থাৎ অতিরিক্ত মুনাফার উপর কর আরোপ করা হয়েছিল। সেটা এখনকার পরিস্থিতির জন্য উত্তম বলে আমি মনে করি। 
চতুর্থত হলো কালো টাকা উদ্ধার এবং পাচারকৃত টাকা উদ্ধার। এর বাইরে আরও অনেক কিছু আছে। যেমন মাদকের উপর শুল্ক কর বাড়ানো, বিলাসবহুল পণ্যের উপর শুল্ক কর বাড়ানো ইত্যাদি।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত জানান, অর্থ পাচার বহুভাবেই হয়েছে। অর্থ পাচার করাও কিন্তু সহজ না। কারণ যখন পাচার হয় তখন কিন্তু রিয়েল মানি পাচার হয়। ধরা যাক কেউ ১০ লাখ ডলার কোনো রেগুলার ব্যাংকের মাধ্যমে পাচার করলো। পাচার করার সাথে সাথে ১৫/২০ মিনিটের মধ্যে সে টাকা ছড়িয়ে যায়। বিভিন্ন হাউজে চলে যায়। তারপর আবার এটাকে টেনে নিয়ে আসার হয়। যখন এটা টেনে নিয়ে আসার হয় তখন কিন্তু সেই টাকাটা সাদা হয়ে যায়। অর্থ পাচার যদি সাদা হয়ে থাকে তাহলে অর্থ পাচারকে তো অর্থ পাচার বলা যাবে না। 

তিনি আরও জানান, যারা দেশের অর্থ পাচার করেছেন তাদের দিয়ে প্রথমে এক্সপেরিমেন্টাল পাইলট করে দেখা যেতে পারে। কিছু জাযগায় হাত দিতেই হবে। হাত দেওয়া পর তখন তাদের বলতে হবে যে, অর্থ পাচার নাও এন্ড নেভার। আপনাকে এই এক বছর সময় দেওয়া হলো বা ৬ মাস কিংবা ৩ মাস সময় দেওয়া হলো এর মধ্যে আপনার পাচারকৃত টাকা নিয়ে আসবেন এবং সেটার উপরে কঠোরভাবে কর আরোপ করতে হবে। করের হার বেশি ধরতে হবে, কম হলে হবে না। করের হার কম ধরা হলে সৎ ব্যবসায়ীদের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তাদের জন্য এটা কাউন্ড অব প্রোডাক্টটিভ হবে। সে ক্ষেত্রে সৎ ব্যবসায়ীরা টাকা পাচারকে একটা ভালো জিনিস মনে করতে পারে। কারণ পাচার করলে তো কোনো অসুবিধা নাই। পরে একটা কম করের বিনিময়ে টাকা বৈধ করা যাবে। সেজন্য খুব ভালোভাবে, মাথা খুলে এই বিষয়গুলো দেখতে হবে। বলার জন্য মুখরোচক কিছু কথা বললাম আর সব হয়ে যাবে এটা ভাবলে হবে না। আর যারা পাচার করেছেন তাদের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়। দেশে সাড়ে ১৬ কোটি লোকের মধ্যে হয়তো ১০ লাখ বা ৫ লাখ কিংবা ১ লাখ বা আরও কম সংখ্যক লোক টাকা পাচার করেছেন। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষকে হ্যান্ডেল করা যাবে না সেটা তো বিশ্বাসযোগ্য নয়। আবার হ্যাল্ডেল করতে গিয়ে যেন এমন না হয় যে, একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলাম, আরেকজনকে কিছু করলাম না, সেটা দেখলে হবে না। সমস্যা আছে, এর সমাধান করতে হবে। আবার করতে হবে এমনটিও নয়, করতেই হবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘প্রত্যেকটা কাজই জীবনে অনেক আনন্দের’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘প্রত্যেকটা কাজই জীবনে অনেক আনন্দের’

অভিনেত্রী দিলরুবা দোয়েল, ক্যারিয়ারে যেন সুসময় পার করছেন। গেল বছর মুক্তি পেয়েছিলো তার অভিনীত `চন্দ্রাবতী কথা`চলচ্চিত্রটি। মুক্তির পঅর ছবিটি বেশ সাড়া ফেলেছে। ষোড়শ শতকের বাংলাদেশের প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর বেদনাবিধুর জীবন ও সমকালীন সমাজচিত্র নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। এরপর সারা দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিলো  নির্মাতা নূরুল আলম আতিক পরিচালিত ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমাটি। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিনেমাটি বিজয়ের মাসে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।

বর্তমানে তিনি চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নাটক,ওয়েব সিরিজ,ওয়েব ফিল্ম ও বিজ্ঞাপনে কাজ করছেন। কাজের ব্যস্ততা ও নানা বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় বাংলা ইনসাইডার এর।

বাংলা ইনসাইডার: নতুন ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেন। চরিত্রটি নিয়ে কিছু বলুন?

দিলরুবা দোয়েল: প্রত্যেকটা কাজই তো আসলে জীবনে অনেক আনন্দের। আর যেহেতু অপু বিশ্বাস আমাদের দেশের একজন স্বনামধন্য অভিনেত্রী এবং প্রথম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং অনুদান পেয়েছে। উনার যে টপিকটা 'লালা শাড়ি'। 'লাল শাড়ি'টা হচ্ছে আমাদের দেশেরই একটা নির্দিষ্ট কমিউনিটির গল্প। যে কমিউনিটিটা এখনো বিদ্যমান এবং এটি আমাদের দেশীয় জায়গা তাঁত সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জীবনযাপন, তাদের সব কিছু নিয়ে ছবির গল্পটা। তো আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে যে, এই টপিকটা আমাদের খুবই নিজস্ব টপিক। এটার মধ্যে একটা বিশুদ্ধতা আছে এ কারণেই এই টপিকটা আকর্ষণীয় লেগেছে।

বাংলা ইনসাইডার: এই প্রথম অপু বিশ্বাসের সাথে ছবি করছেন। কেমন লাগছে?

দিলরুবা দোয়েল: অপু দি'র সাথে কাজ করে ভালো লেগেছে। এর আগেও উনার সাথে শুট করা হয়েছে। তবে ভাবিনি উনার সাথে কাজ করবো এভাবে। এটা নিঃসন্দেহে একতা ভালো বিষয়। আর উনিও এত কম বয়েসে যে উদ্যোগটা নিয়েছেন এবং যে গল্পের প্লট উনি সিলেক্ট করেছেন এটি একটি এপ্রিশিয়েট করার মত বিষয় বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। এছাড়াও নারী প্রযোজক, অনুদান পেয়েছে সবকিছু মিলিয়ে আরও ভালো লাগা কাজ করেছে।

বাংলা ইনসাইডার: ওটিটিতে নিয়মিত কাজ করছেন। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ওয়েবফিল্ম 'যদি বেঁচে থাকি' কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

দিলরুবা দোয়েল: হ্যাঁ নিয়মিত কাজ করছি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি কাজ করেছি এবং গতকালকে চরকিতে মুক্তি পেয়েছে আমার অভিনীত 'যদি বেঁচে থাকি' নামে ওয়েব ফিল্ম। যেটিতে প্রথমবারের মত আমি কাজ করলাম মিশা ভাইয়ের সাথে এবং মুক্তির পর ইতিমধ্যে বেশ সাড়া পাচ্ছি। আশাকরি দর্শকদের কাছে এই ওয়েব ফিল্মটি ভালো লাগবে।



বাংলা ইনসাইডার: একজন অভিনেত্রী হিসেবে কোন চরিত্রে কাজ করতে ইচ্ছুক আপনি বেশি?

দিলরুবা দোয়েল: একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রত্যেকটি চরিত্রেই কাজ করতে চাই। আর একজন মানুষ হিসেবেও আমার ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র পছন্দ। টুকটাক যেহেতু কাজ করছি এখন কাজের সেই জায়গা থেকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র খুব ভালো লাগে আমার কাছে। এর ফলে আমার কাছে মনে হয় যে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জীবন কেমন, তাদের জীবনের উপলব্ধি কেমন এটার স্বাদ পাওয়া যায়। এটাতে নিজের জীবনে যথেষ্ট প্রভাব পড়ে কিন্তু যেহেতু নিজে ব্যক্তি হিসেবেও ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র আমাকে খুব আকর্ষণ করে। এর পাশাপাশি চ্যালেঞ্জিংও বিষয়টা এটা মজা আছে। 

বাংলা ইনসাইডার: সম্প্রতি মিডিয়ার অনেকেই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি?

দিলরুবা দোয়েল: সম্প্রতি মিডিয়ার বাইরে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। এটা আসলে হচ্ছেই। এটা শুধু মিডিয়া না, মিডিয়ার বাইরেও যে পরিমাণ বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে এটা আসলে খুবই দুঃখজনক। এ অবস্থায় এটা নিয়ে আসলে কি বলবো আর কোথা থেকে শুরু করবো, কোথায় শেষ করবো এটা আসলে বুঝে উঠতে পারি না। এই যে কলেজ টিচার মারা যাওয়া থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক আরও নানা ঘটনা যে ঘটছে খুবই খুবই দুঃখজনক। আর মন্তব্য করতে চাই না, জ্ঞানও দিতে চাই না,কারোর পরামর্শও চাই না। আমার কাছে মনে হয় যে, প্রত্যেকটা মানুষ যারা যে যে জায়গা থেকে আমরা খারাপ জিনিসটা কপি না করে ভালো জিনিসের দিকে অগ্রসর হই। এটা খুব জরুরি বিষয়। জীবনটা খুব ছোট। আর দ্বিতীয়ত যারা এগুলা করারা পরিকল্পনা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে আমি কিছুই বলতে চাই না। যেহেতু আমরা সাইবার বুলিং কখনো ঠেকাতে পারবো না। তাই এ বিষয়ে আমার মন্তব্য হচ্ছে যারা এ বুলিংয়ের স্বীকার হচ্ছেন তারা মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে প্রতিবাদ করুন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘চোখ ওঠলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘চোখ ওঠলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেছেন, চোখ ওঠলে চোখ লাল হয়ে তখন চোখের পাতা ফুলে যায়। চোখের ভেতর তখন অস্বস্ত্বিকর লাগে। লাইটের দিকে তাকানো যায় না। লাইটের আলো সহ্য করা যায় না। কাজ করতে অসুবিধা হয়। দৃষ্টি শক্তি কিছুটা ঝাপসা হতে পারে। বেশির ভাগ সময় দুই চোখ লাল হতে দেখা যায়। তবে এক চোখেও হতে পারে। চোখে পুঁজের মতো জমা হয়, ঘুম থেকে উঠলে অনেক সময় চোখের পাতা লেগে থাকতে দেখা যায় এবং চোখ থেকে পানি ঝরে। চোখ জ্বালাপোড়া করে। চোখে খচখচ ভাব, অস্বস্তি হয়। হালকা ব্যথা ও ফটোফোবিয়া বা রোদে তাকাতে অসুবিধা হতে পারে। চোখ উঠলে সাধারণ এই গুলো হয়। এটা কোনটা ভাইরাসের জন্য, কোনটা ব্যাকটেরিয়ার জন্য হয়। আবার কোনটা ফাংগাসের জন্য হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘরে ঘরে চোখ ওঠা বা কনজাংটিভাইটিস নামের সমস্যার কথা শুনা যাচ্ছে। এটি একটি ভাইরাসজনিত সমস্যা। চোখ ওঠলে এর চিকিৎসা এবং সর্তকতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক সূচনা।

অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নুরুল হক  বলেন, ভাইরাস সাধারণত মহামারি হিসেবে আসে। চোখের বেলায় ভাইরাস একজনের চোখের থেকে আরেকজনের চোখে এটা ছড়াতে থাকে। বিশেষ করে হ্যান্ডশেক করার মধ্য দিয়ে। দুইজন ব্যক্তি একই বস্তু স্পর্শ করলে সেখান থেকে ছড়ায়। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তি যদি কোন কিছু স্পর্শ করে এবং পরে সেখানে কেউ স্পর্শ করে তাহলে এভাবে সবার মধ্যে ছড়াতে থাকে। দেখা যাচ্ছে স্কুলে কোনো বাচ্চার হলে পরে সবারই হচ্ছে। আস্তে আস্তে এটা ব্যাপকভাবে ছড়াতে থাকে। এটা হয় ভাইরাসের বেলায়।

তিনি বলেন, সাধারণ চোখ ওঠা এক থেকে তিন সপ্তাহে সেরে যায়। ঠান্ডা বা সর্দির মতো উপসর্গ থাকলে কেবল অ্যান্টিহিস্টামিন সেবনই যথেষ্ট। অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ডোজ মেনে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চোখে ওষুধ ব্যবহার না করাই উত্তম।

চোখ উঠলে সতর্কতার ব্যাপারে তিনি বলেন, চোখে পিঁচুটি জমলে হালকা নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বা পানির ঝাপটা দিয়ে চোখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে কোনোমতেই চোখ রগড়ানো যাবে না। কালো চশমা রোদে বা আলোতে কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়। তাই বাইরে বেরোলে কালো চশমা পরুন। চোখে কোনোমতেই হাত দেওয়া যাবে না। একজনের ব্যবহার করা রুমাল, গামছা, তোয়ালে বা কাপড়চোপড় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। হাত সব সময় সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনসমাগম, অনুষ্ঠান, ক্লাস ইত্যাদি পরিহার করে চলাই ভালো। এ সময়টায় অনেক শিক্ষার্থীর ক্লাস চলছে। চোখ ওঠা নিয়ে ক্লাসে উপস্থিত না হওয়াই ভালো। তবে পরীক্ষা থাকলে ওপরের নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনে স্কুলে যাওয়া যাবে। অবশ্যই কালো চশমা পরে থাকতে হবে এবং অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করা যাবে না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সংগঠনকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সংগঠনকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়’

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেছেন, ছাত্রলীগ অনেক সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী একটি ছাত্র সংগঠন। কিন্তু ইদানিংকালে ছাত্রলীগের যে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটছে তাতে কিন্তু সাংগঠনিক অগ্রযাত্রার ব্যাহত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ যারা সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর দুই চার ব্যক্তি দিয়ে বা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে পুরো সংগঠনকে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয় বলে আমি মনে করি। কারণ ছাত্রলীগের অনেক গৌবরময় ইতিহাস আছে, অর্জন আছে। 

বেশ কিছুদিন ধরেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সর্বশেষ ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ঘটনাটি আরও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটির এ ধরনের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়  ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য সাইফুর রহমান সোহাগ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ঘটনাটি নিয়ে এখন দেশে ছাত্রলীগকে নিয়ে নেতিবাচকভাবে আলোচনা হচ্ছে। তবে সেখানকার সমস্যা নিয়ে সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহন করবে বলে আমি মনে করি। সংগঠনপরিপন্থী কাজের সত্যতা পাওয়া কারণে ইতোমধ্যে সেখানে ১৬ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠন মনে করলে সেখানে আরও ২৬ কেও বহিষ্কার করবে। কারণে কর্মীর চেয়ে সংগঠন বড়। সংগঠনের স্বার্থই সব সময় প্রাধান্য পাবে। সংগঠনকে শৃঙ্খলিত করতে যদি আরও বেশি সংখ্যক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করতে হয়ে তাহলে বর্তমান নেতৃত্ব সেটা অবশ্যই করবে। সংগঠনের প্রয়োজনে কাউকে তিরস্কার করবে নাকি বহিষ্কার করবে সেটা সংগঠনের নেতৃত্ব অবশ্যই বিচক্ষণতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিবে। 

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে অপরাধ প্ররণতা আছে। আর ছাত্ররা হচ্ছে সেই সমাজেরই অংশ। সে কারণে দুই এক জায়গায় হয়তো এটা কেউ করতে পারে। কারণ ছাত্রলীগ এই সমাজের বাইরে নয়। তবে কেউ করে থাকলে যে সংগঠন সেটিকে সমর্থন করে সেটাও কিন্তু নয়। কমিটি বাণিজ্যের মতো কেউ অনৈতিক কারণ করলে সংগঠন সেটির নয় দায়ী নয়। সংগঠন এর দায়ও নেবে না। যারা এ ধরনের কাজ করছে সংগঠন অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারো ব্যক্তিগত অরপাধ সংগঠন বহন করবে না। এটা অতীতে করেনি। সেটি ভবিষ্যতেও করা হবে না। বর্তমান নেতৃত্বও অভিযোগগুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে বলে আমি মনে করি। কারণ বর্তমান নেতৃত্ব অনেক দক্ষ এবং সক্রিয় আছে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে এখন অনেক ক্রিয়াশীল সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে রাজপথে সক্রিয় হতে হবে। বিএনপি-জামায়াত বা ক্রিয়াশীল চক্রের যেধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগকে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকতে হবে। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘হাতে গোনা কয়েকজনের দোষ ছাত্রলীগ নেবে না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘হাতে গোনা কয়েকজনের দোষ ছাত্রলীগ নেবে না’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, ছাত্রলীগের যারা বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কাজ করছে আমরা এ ধরনের ঘটনাগুলোকে তীব্র নিন্দা জানাই। যারা বিতর্কিত কাজ করছে তাদের কোনো ধরনের সমর্থন করা প্রশ্নই আসে না। বরং যারা এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকছে তাদের বিচারের আওতায় আনার দরকার। কারণ হাতে গোনা মাত্র কয়েকজনের দোষ সংগঠন নেবে না। বিচারের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে ছাত্রলীগের আদর্শ এটা নয়।
 
বেশ কিছুদিন ধরেই ছাত্রলীগের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সর্বশেষ ইডেন মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের ঘটনাটি আরও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংগঠনটির এ ধরনের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এসব কথা বলেছেন। 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ছাত্রলীগ যে সব সময় খারাপ কাজ করছে এমনটা কিন্তু নয়। সংগঠনটির অনেক ভালো কাজের উদাহরণও আছে। নানা আন্দোলন এবং সংগ্রামের অর্জন রয়েছে ছাক্রলীগের। কিন্তু ছাত্রলীগের সেই অর্জনগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে না। সামনে আনার হচ্ছে তাদের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। আর এ সমস্ত কাজ করা হচ্ছে একটি বিশেষ উদ্দেশ্য, একজন বিশেষ ব্যক্তিকে টার্গেট করে করা হচ্ছে। ছাত্রলীগ চলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে। এখন বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা আচ্ছেন। তিনি এই সংগঠনের দেখা ভালো করেন। আর এ কারণে সংগঠনটির কিছু কর্মকাণ্ড দিয়ে একটা খারাপ ব্র্যান্ডিং করতে চায় একটি বিশেষ মহল। তারা এটা করতে চায় কারণ সেখানে তাদের স্বার্থ রয়েছে। কয়েকজন ছেলে দায় দায়িত্ব তো পুরো ছাত্রলীগ নেবে না।  

তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নিজের একটা বৈশিষ্ট্য আছে। তারা তাদের নিজেদের মতো করে চলবে, চলছে। আমরা বাইরে থেকে তাদের কিছু দিক নিদের্শনা বা পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমাদের সব কথা তাদের শুনতে সেটিও নয়। কোনো কথা হয়তো শুনবে, কোনোটা শুনবে না। ছাত্রলীগকে একটি ব্ল্যাক ব্র্যান্ডিং করে দিয়ে সংগঠনের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধাকে অসন্মান করা হচ্ছে। যারা ছাত্রলীগকে ব্র্যান্ডিং তাদের উদ্দেশ্যটা কি? তারা খারাপ কাজ নিয়ে ব্র্যান্ডিং করছে কিন্তু ছাত্রলীগ তো ভালো কাজও করছে। তাদের খারাপ কাজ কতো এবং ভালো কাজ কতো সেটাও বিবেচনা করে দেখতে হবে। খারাপ কাজ গুলো সামনে আনলে ভালো কাজগুলোকে সামনে আনা হচ্ছে না কেন? 

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। আমরা সেখানে সব ধরনের কর্মকাণ্ড স্থগতি করেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া সেখানকার ঘটনা নিয়ে তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে তারা এখনো সাংগঠনিক নজরদারি বাইরে যায়নি। তদন্ত কমিটির তদন্তে যদি আরও কেউ দোষী সাব্যস্ত হয় আমরা তাদেরকেও বহিষ্কার করবো। 

ছাত্রলীগ   বিতর্কিত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ‘নৈরাজ্য সৃষ্টি করার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, ঢাকাকে টার্গেট করে বিএনপি যে সমস্ত কর্মসূচি দিচ্ছে তাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কোনো মাথাব্যথার কারণ নেই। ঢাকার প্রতিটি কমিটি যথেষ্ট শক্তিশালী আছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি কমিটি সাংগঠনিকভাবে বেশ সক্রিয় এবং শক্তিশালী বলে আমি মনে করি। এছাড়া সহযোগী সংগঠনগুলো আছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মসূচি আছে। সবকিছু মিলিয়ে আওয়ামী লীগ সক্রিয় আছে এবং যেকোনো অপশক্তির প্রতিহত করার মতো সক্ষমতা আছে।

ঢাকাকে কেন্দ্র করে আন্দোলন জোরালো বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপচারিতায় এস এম কামাল হোসেন এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এস এম কামাল হোসেন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

এস এম কামাল হোসেন বলেন,আমি মনে করি বিএনপি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। জনগণ বিএনপির আন্দোলনের কোনো সাড়া দিচ্ছে না। তাই বিএনপি জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার জন্য লাশের রাজনীতি শুরু করেছে। এর আগে তারা খালেদা জিয়ার অসুস্থ নিয়ে নানা নাটকীয় আন্দোলন করেছিল। তার অসুস্থতা নিয়ে এক ধরনের অপরাজনীতি করার চেষ্টা করেছিল বিএনপি। এখন তারা আবার নতুন করে সেই একই অপরাজনীতি শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তারা মিছিল করার সময় পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছে। বিভিন্নভাবে পুলিশের ওপর হামলা করছে। তারা এ সমস্ত কাজ করছে কারণ লাশের ওপর দিয়ে তারা ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিটি কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া আছে যে, আমাদের নেতাকর্মীরা যাতে কোনোভাবেই বিএনপির উস্কানিতে পা না দেয় সে ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া আছে। আবার তাদের সভা সমাবেশ, মিছিল, মিটিংয়ে বাধা দেওয়া যাবে না মানে এই নয় যে, বিএনপি আমাকে উচ্ছেদ করে ঘরে ফেরত পাঠাবে আর আমি ঘরে ফিরে যাব। আমি আমার কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকব। সেখানে যদি কেউ বাধা দেয় তাহলে সেখানকার দায় দায়িত্ব তাকে বহন করতে হবে। বিএনপিসহ যে সমস্ত বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন করছে তারা রাজপথে মিছিল মিটিং করতে পারবে কিন্তু নৈরাজ্য করতে পারবে না। এটা তাদের অধিকার নেই। নৈরাজ্য সৃষ্টির করার অধিকার রাষ্ট্র কাউকে দেয়নি। কিন্তু বিএনপি এখন নিজেরাই গায়ে পড়ে সহিংসতা করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়।আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে রাজপথে আন্দোলন করে। আর এখন কেউ যদি আওয়ামী লীগকে রাজপথ থেকে সরিয়ে দিতে চায় তাহলে সেটা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না। তবে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে রাজপথে আছে। কারো কোনো উস্কানিতে পা দিচ্ছে না। কোনো অপশক্তি যেন নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে আমাদের নেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা উনার সেই নির্দেশনা মেনে চলছি কিন্তু কারো সাথে সংঘর্ষে জড়াচ্ছি না।

বিএনপি   আন্দোলন   ঢাকা কেন্দ্রিক   নৈরাজ্য  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন