ইনসাইড টক

‘আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি-বিএনপি সবার চরিত্রই একই’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২০ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, লুটপাটের পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকারকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এ সরকারকে কোনো অনুনয়-বিনয় করে লাভ হবে না। আর সেই বাধ্য করতে দরকার গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন। আমরা সেই আন্দোলন করছি এবং জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণ যদি আমাদের সেই আন্দোলন যোগ দেয় তাহলে সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হবে। আর এ লক্ষ্যে আমরা গণপদযাত্রা কর্মসূচি দিয়েছি। আমরা বিভাগে সমাবেশ করবো এবং ঢাকায় মহা সমাবেশ করবো। আমরা আশা করছি যে, আমরা আমাদের দাবি মেনে নিতে সরকারকে বাধ্য করতে পারবো। 

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও আগামী নির্বাচন নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে করার দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে ঢাকাসহ দেশব্যাপী ১৫ দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় রুহিন হোসেন প্রিন্স এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য রুহিন হোসেন প্রিন্স এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

দেশের বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর সাংগঠনিক দুর্বলতার ব্যাপারে জানতে চাইলে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, দেশের বাম গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো কখনোই দুর্বল ছিল না। সমস্যা হলো আমাদের শক্তির জনগণের কাছে প্রকাশ করা হচ্ছে না। বরং জনগণের কাছে এক ধরনের দ্বিধা তৈরি করা হচ্ছে। দেশের গণমাধ্যমগুলোর আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে। তারা খোঁজার চেষ্টা করে কে আওয়ামী লীগের সহযোগী আর কে বিএনপির সহযোগী। আমরা একটি কর্মসূচি করি কিন্তু সে কর্মসূচির খবর সব গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে না। এ সমস্ত কারণে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি সম্পর্কে জনগণ জানতে পারে না। গ্রামগঞ্জে আমাদের আন্দোলন হয় কিন্তু মিডিয়াতে সেগুলো আসে না। ফলে জনগণ মনে করে এদের বুঝি সাংগঠনিক শক্তি নেই। কিন্তু তাদের সেই ধারণা ভুল।

তিনি বলেন, দেশে যখন একটি  স্বৈরচারী সরকার থাকে। তখন ওই স্বৈরচারী সরকার তার স্বৈরচার আচরণ বাড়ানোর চেষ্টা করে। এখন সেটাই করা হচ্ছে। যার কারণে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ সহিংস হয়ে উঠছে। জনগণ তার অধিকারের জন্য আন্দোলন করবে আর স্বৈরচারী সরকার তাতে বাধা দেবে এটাই স্বাভাবিক। যেটা বর্তমান সরকার করছে। তবে জনগণ যখন রাস্তা নামবে তখন এই স্বৈরচার সরকারের শক্তি তুলার মতো উড়ে যাবে। আমরা মানুষকে নামিয়ে সেই ব্যবস্থার চেষ্টা করছি।

বিএনপির সঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংলাপ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা জানতে চাইলে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সেটা কখনোই সম্ভব হবে না। আমরা তিনটি কথা বলি, একটি হলো সরকারের দুশাসনের কথা, ব্যবস্থাপনার কথা বলেছি এবং আমরা বলছি যে, এই কাজ করতে পারবে একমাত্র বাম গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো। বিএনপি সরকারের দুশাসনের কথা বলছে কিন্তু ব্যবস্থাপনার কথা বলেছে না। যেমন দ্রব্যমূলের নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পুরোপুরিভাবে পাল্টে ফেলতে হবে। কিন্তু বিএনপি তো সেটা চায় না, জাতীয় পার্টিও সেটা চায় না। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি সবার চরিত্র একই। অন্যান্য কোনো দলও সেটা চায় না। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সবার মিল আছে। বাম গণতান্ত্রিক শক্তি ছাড়া দেশের চলমান সংকট কেউ দূর করতে পারবে না। সুতরাং এধরনের কোনো সম্ভবনা তো নেই। সেটা চিন্তা করাও অবান্তর।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বিএনপি একটি খারাপ মতলব নিয়ে এই সমাবেশ করতে চায়’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, আমরা অনেক আগে থেকেই আশঙ্কা করে আসছিলাম এবং আমাদের আশঙ্কাই সত্য। সেটা হলো বিএনপির একটি অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে এবং একটি খারাপ মতলব নিয়ে তারা এই সমাবেশ করতে চায়। তার কারণ হলো, তারা যে বলছে দশ লক্ষাধিক লোক হবে সেই দশ লক্ষাধিক লোকের ধারণক্ষমতা হলো একমাত্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সম্পর্কে তাদের গাত্রদাহ রয়েছে। কারণ, ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। যুদ্ধের মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতিকে তার মুক্তির পথ নির্দেশনা করেছিলেন।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে চাওয়া, দেশি এবং বিদেশি একটি চক্রান্ত ইত্যাদি নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, তাদের প্রস্তাবে মনে হচ্ছে যে তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চায়না। তাদের অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে, যে উদ্দেশ্যগুলি ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন সময়ে বলেছে, তর্জন-গর্জন দিয়েছে। কাজেই, তাদের যে অশুভ উদ্দেশ্য, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক এই পরিস্থিতিতে তারা একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে তারা জড়িত রয়েছে। আমাদেরকে আবার পিছিয়ে দেওয়ার জন্য, স্থবির করে রাখার জন্য এই বৈশ্বিক সংকটের সময় তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আশাকরি বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফিরে আসবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে তাদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছিল ৮ ডিসেম্বর। সেই সম্মেলন কিন্তু ৬ ডিসেম্বর এগিয়ে নিয়ে এসেছে। আমাদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন নেত্রী যে, ৭ তারিখের মধ্যে সব অপসারণ করার জন্য। এখানে মঞ্চ, প্যান্ডেল যাবতীয় যা সম্মেলনকে ঘিরে রয়েছে সমস্ত কিছু অপসারণের জন্য।

বিএনপি গায়ে পড়ে একটা সহিংসতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে, সংঘাত তৈরি করতে চাচ্ছে, লাশ চাচ্ছে। সেখানে আওয়ামী লীগের কৌশল কি, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপির কলকাঠি যিনি নাড়ছেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান, সে বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে থাক, বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাক এটি কোনোভাবেই তিনি চান না। তারা লাশের রাজনীতি করে। কাজেই, তারা বিভিন্ন দুরভিসন্ধি করছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা বলতে পারি এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা তাদের করেছি। কিন্তু তারা যদি কোনো অশান্তি, বিশৃঙ্খলা, অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে চায় বা তারা কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে চায় তা মোকাবেলা করার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের ছিলো এবং আছে।

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি চাচ্ছেন শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং এ লক্ষ্যে তিনি ছাত্রলীগের সম্মেলন এগিয়ে নিয়েছেন, পরিবহন ধর্মঘট না দেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু দেখা যায় রাজশাহীতে পরিবহন ধর্মঘট দেওয়া হয়েছে। তার মানে কি আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনাও আওয়ামী লীগের একটি অংশ মানছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, বিষয়টা এমন না। বিষয়টা আমি জানিনা। নেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আছেন। তারপরও ধর্মঘট হলে সেটা খুবই দুঃখজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশি এবং বিদেশি একটি চক্রান্ত চলছে। সেই চক্রান্তের অংশ হিসেবেই ১০ ডিসেম্বরের এরকম একটা অবস্থায় বিএনপি গিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ এমন গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে যাতে এখানে ভুতের সরকার কায়েম করা যায়। কাজেই ভুতের সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ প্রস্তুত হয়েছে।

জাহাঙ্গীর কবির নানক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘সমঝোতার আগে দলের গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন দরকার’

প্রকাশ: ০৩:৫৯ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, জাতীয় পার্টি ভাঙ্গবে, না তারা সমঝোতায় পৌঁছাবেন তা দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং পার্টির চিফ প্যাট্রন ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ সিদ্ধান্ত নেবেন তারা কি করবেন। তবে সমঝোতার ব্যাপারে এখনো কোন কথা শুরু হয়নি।

চিকিৎসা শেষে প্রায় পাঁচ মাস পর রোববার থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরেছেন জাপার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। দেশে  ফিরেই তিনি দেশের সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে কথা বলেছেন। পাশাপাশি দলের ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর আড়ালে জাতীয় পার্টি সমঝোতা শুরু করেছে কিনা এসব নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় মসিউর রহমান রাঙ্গা এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য মসিউর রহমান রাঙ্গা এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, দলের মধ্যে বিরোধ দূর করে সমঝোতা করতে চাইলে কিংবা দলকে আরও সংগঠিত করতে চাইলে দলের ধারা পরিবর্তন করতে হবে। বিশেষ করে দলের গঠনতন্ত্রের ২০ ধারার পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ এই ধারার জন্য দলে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। একক নেতৃত্বের একটি স্বৈরচারি মনোভাব তৈরি হয়। সেজন্য দলকে সংগঠিত করতে চাইলে কিংবা দলের বিরোধ দূর করতে চাইলে অবশ্যই আগে এই ২০ ধারাটির পরিবর্তন করতে হবে। অনথায় সমঝোতা করে কোনো লাভ হবে না। দলকে সংগঠিত করা যাবে না। এর ব্যতিত কিছুদিন হয়তো দল সংগঠিত হবে কিন্তু পরে নেতৃত্বের মধ্যে আবার সেই স্বৈরচারি মনোভাব জেগে উঠবে। সুতরাং দলকে শক্তিশালী করার পূর্বশত হলো ২০ ধারার পরিবর্তন।

তিনি বলেন, রওশন এরশাদের সাথে জিএম কাদেরের এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। জিএম কাদের নিজে থেকে উনার ভাবির সাথে উনি দেখা করতে এসেছেন, কোনো সমঝোতা করতে নয়। সমঝোতার উদ্দেশ্য নিয়ে জিএম কাদের রওশন এরশাদের সাথে দেখা করতে আসেনি। উনি মূলত রওশন এরশাদের কাছে এসেছিলেন তার স্বাস্থ্যগত দিক জানার জন্য। সেখানে কিছু রাজনৈতিক কথাবার্তা হয়েছে কিন্তু কোনো সমঝোতার বিষয়টি আসেনি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘সরকার আগেই সমাবেশের অনুমতি দিলে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হতো না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিএনপি অন্যান্য বিভাগীয় গণসমাবেশের মতোই আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে। এর বাইরে বিএনপির আসলে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। যে সমস্ত আতঙ্কের কথা বলা হচ্ছে বা শোনা যাচ্ছে এগুলো ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আতঙ্কিত হয়ে বলছে। সারাদেশে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত দেখে সরকার ভয় পেয়ে এখন এ ধরনের কথাবার্তা বলছে। সমাবেশগুলোতে যে গণ জোয়ার তৈরি হয়েছে তাতে সরকার আতঙ্কিত হবে এটাই স্বাভাবিক। দেশের কোথাও বিএনপির সমাবেশগুলোতে সরকার বাধা দিয়ে গণজমায়েত ঠেকাতে পারেনি। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকাতেও সরকার সেটি করতে পারবে না ভেবেই এই আতঙ্ক থেকে  সরকার এখন নিজেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। এ নিয়ে জনসাধারণ এক ধরনের আতঙ্কিতবোধ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উঠেছে, ১০ ডিসেম্বর আসলে কি হবে। ১০ ডিসেম্বর আসলেই কি হবে এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় জহির উদ্দিন স্বপন এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য জহির উদ্দিন স্বপন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিএনপির সমাবেশগুলোতে যেভাবে গণজোয়ার শুরু হয়েছে এগুলো আসলে গায়ের জোরে ঠেকানো সম্ভব নয়। সরকার অহেতুক সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইছে। বিএনপি ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে ডিএমপির কাছে অনুমতি চাইলো। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। অথচ তারা আগে থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান টানা কমসূর্চি দিয়ে রেখেছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা যেখানে যাব না। আমরা বিকল্প স্থান বেছে নিয়েছি। আসল কথা হলো সরকারের মধ্যে ম্যাচিউরিটি লোকের অভাব রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিলো। কিন্তু এর আগে দিলো না কেন? সরকার আগেই সমাবেশ করার অনুমতি দিলে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হতো না। সরকার অহেতু একটি আতঙ্কিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সরকারের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার এখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু শুরু থেকে সরকার এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলে সরকারের এমন কি ক্ষতি হতো? সরকারই বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলে সংঘাতের মতো একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অথচ বিএনপি সংঘাত তৈরি হোক এমন কোন কথাই বলেনি বা এমন কোন কর্মসূচিও নেয়নি। সরকারের মধ্যে ম্যাচিউর লোকের অভাব থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক ভীতি তৈরি হয়েছে। বস্তুত ১০ ডিসেম্বর কিছুই হবে না। বিএনপির একটি সাধারণ সমাবেশ করবে,যেখানে সারাদেশে থেকে মানুষ আসবে এবং বিএনপির পক্ষে একটি গণজোয়ার তৈরি হবে। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘শিক্ষা প্রশাসন আমলা দ্বারা পরিচালিত হলে শিক্ষার মানের উন্নতি হবে না’

প্রকাশ: ০৩:৫৯ পিএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, আমাদের দেশের শিক্ষার সর্ব ক্ষেত্রের দুর্বলতা বাস্তব চিত্র হলো এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল। আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষার দুর্বলতা উচ্চশিক্ষার চেয়ে আরও মারাত্মক এবং এটি অনেক ক্ষতিকর। কারণ শিশুরাই একদিন উচ্চশিক্ষায় যাবে। প্রাথমিক শিক্ষার যে অবস্থা তারা তো দুর্বল কাঠামোর ভিত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষায় যাবে। যেটি আমাদের জাতির জন্য অনেক ক্ষতি করবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শনের কথা বলি কিংবা কুদরত-ই-খুদা-শিক্ষা-কমিশনের কথা বলি কিন্তু এতো বছরেরও আমরা এগুলোর বাস্তবায়ন করতে পারিনি। শিক্ষিতের হার বাড়ছে ঠিক কিন্তু সেভাবে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে পারিনি বা বাড়েনি। 

আজ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফল অনুযায়ী এ বছর পাশের হার কমলেও জিপিএ-৫ এর হার বেড়েছে। আবার ৫০ প্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। যা গত বছর ছিল ১৮টি। ফলাফলের এমন চিত্র নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক আবদুল মান্নান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, এতো বছরেরও শিক্ষার গুণগত মান না বাড়ার অনেকগুলো কারণ আছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো শিক্ষা প্রশাসন। শিক্ষা প্রশাসন কখনো আমলা দিয়ে হবে না। অর্থাৎ শিক্ষা প্রশাসন আমলা দ্বারা পরিচালিত হলে শিক্ষার মানের উন্নয়ন হবে না। শিক্ষা প্রশাসনে শিক্ষকদের থাকতে হবে। যে আমলা কিছুদিন আগে প্রশাসন দেখতো সে যদি এখন এসে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি দেখেন কিংবা যিনি স্বাস্থ্য দেখতেন তিনি যদি এখন আবার শিক্ষা প্রশাসন দেখেন তাহলে সেখানে এক ধরনের গোলযোগ ঘটে। অর্থাৎ শিক্ষা প্রশাসনের শিক্ষকের কোনো ভূমিকা থাকছে না। যার ভূমিকা থাকছে তিনি একজন আমলা। এটিই বড় জটিলতা।

তিনি বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার কমেছে সেটিও বিভিন্ন কারণে হয়েছে। এর মধ্যে করোনা একটা বড় প্রভাব রেখেছে। যেসমস্ত স্কুলগুলোতে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি এটা খুবই অনাকাঙ্খিত। কেন সেখানে কেউ পাস করতে পারলো না শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। সেখানকার অবকাঠামো, শিক্ষকদের যোগ্যতা, সেখানকার শিক্ষার  পরিবেশ প্রভৃতি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত।

এ বছর সিলেটের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে পরবর্তীতে পরীক্ষা স্থগিত না রেখে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বাদ দিয়ে অন্যান্য বিভাগে পরীক্ষা নেয়া হবে শিক্ষামন্ত্রীর এমন মতামতের ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, এটা যুক্তিসঙ্গত হবে না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আওয়ামী লীগ কারো মুখোমুখি হতে রাজপথে নামেনি’

প্রকাশ: ০৩:৫৯ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখোমুখি হতে রাজপথে নামেনি। আওয়ামী লীগ রাজপথের দল তাই রাজপথে আছে। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীও রাজপথে আছে। আমরা কারো পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে না। আমরা করতেও চাই না। আমাদের সমস্ত কর্মসূচি আগামী ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে। ওই দিনটিকে ঘিরেই আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে রাজপথে নেমেছে। উদ্দেশ্য একটাই শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাত ধরেই আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আরও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।  

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। অন্যদিকে পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগও। এতে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হবে কিনা তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপচারিতায় এস এম কামাল হোসেন এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এস এম কামাল হোসেন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ কি সংঘাতে যাবে এমন প্রশ্নের উত্তরে এস এম কামাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতি করে না, কখনো করবেও না। বিএনপি যদি সংঘাত-সংঘর্ষ করে তার জবাব অতীতের মতো দেশের সাধারণ মানুষই দেবে। আমরা কাজ করছি দল গোছাতে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে, আমরা নির্বাচনে অংশ নিব। দেশের সকল দল নির্বাচন অংশ নেবে আওয়ামী লীগ সেটা প্রত্যাশা করে। কিন্তু কেউ নির্বাচন বর্জন করে যদি সংঘাতে যায় তার জবাব দেশের মানুষই দিবে, আওয়ামী লীগ নয়।

বিএনপি এদেশের জন্য কি রাজনীতি করছে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপির শুধু ধ্বংসাত্মক রাজনীতিই করেছে। এদেশের মানুষ সাক্ষ্য দেয়।  মির্জা ফখরুল পল্টনে দাঁড়িয়ে সরকার পতনের ধমক দেয়। অথচ তাদের নেতা রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে পালিয়ে গেছে। আর লন্ডনে বসে বসে তিনি দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন। কিন্তু আপনারা দেখেছেন যে, আইএমএফ বাংলাদেশে এসে বলে গেছে, বাংলাদেশ গত ১৫ বছরে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। বিএনপি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অপপ্রচার করে দেশের উন্নয়নের অগ্রগতির পথ রোধ করতে চায়। যে কারণে তারা একেক পর এক মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে। কিন্তু আইএমএফ এর মতো বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টও বলে গেছেন বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা। অথচ বিএনপি এই কথা গুলো স্বীকার করতে চায় না। তারা নানা রকম মিথ্যা আর গুজব ছড়িয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন