ইনসাইড থট

শেখ হাসিনা- একুশ শতকের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা


Thumbnail শেখ হাসিনা- একুশ শতকের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা, অসীম সাহসিকতা দিয়ে জাতীয়, আঞ্চলিক, আন্ত-আঞ্চলিক পর্যায় এমনকি উন্নতনশীল বিশ্বের সীমানা অতিক্রম করে নিজেকে একজন ব্যতিক্রমধর্মী এবং প্রকৃত তারকা বিশ্বনেতায় পরিণত করেছেন। এখানেই শেষ নয়।

শেখ হাসিনা একুশ শতকের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিশ্বনেতা। নেতৃত্বের স্থায়িত্ব এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও মানবতার কল্যাণের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান বিবেচনায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাই বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নেতা। উন্নত এবং উন্নয়নশীল বিশ্বে তাঁর সমপর্যায়ের কোন নেতা বর্তমানে দৃশ্যপটে নেই। তাঁর মতো বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যরিয়ার সম্পন্ন নেতা পৃথিবীতে বিরল।  
পৃথিবীতে অনেক বিশ্বনেতার আবির্ভাব হয়েছে, যারা কেবলমাত্র তাদের দেশের অবস্থান কিংবা ভূরাজনীতির কারণে বিশ্বনেতায় পরিণত হয়েছেন। বিশ্বনেতা হিসেবে তাদের স্থান টেকসই হয়নি। তাদের কারো কারো নিজেদের দেশে কিংবা আঞ্চলিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা দীর্ঘ সময়ের জন্য হয়নি। তাদের অনেকেই নিজেদের দেশ এবং অঞ্চলে আর্থসামাজিক ও ভূরাজনৈতিক ক্ষেত্রে মৌলিক কোনো অবদান রাখতে পারেননি।  

শেখ হাসিনা একুশ শতকে উন্নয়নশীল বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি দীর্ঘ সময়ের জন্য উন্নয়নশীল এবং উন্নত বিশ্বের মাঝে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। কোল্ড ওয়ার পরবর্তী সময়ে বিংশ শতকের শেষ ভাগ এবং একুশ শতকের প্রথম দুই দশকে বিশ্বব্যাপী চলমান আর্থ সামাজিক, ভূরাজনৈতিক, জলবায়ু, প্রযুক্তির ট্রান্সফরমেশন বা পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের আদর্শ প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে দরকষাকষি সহ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশ্ব মানব কল্যাণের নানা মৌলিক ক্ষেত্রে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য ধ্রুবতারার মতো ভূমিকা রেখে চলেছেন।

শেখ হাসিনার দারিদ্র বিমোচনের কৌশল ও অভিজ্ঞতা থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা গ্রহণ করছে। তাঁর অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল আজ সারা পৃথিবীতে অনুসরণ করা হচ্ছে। তাঁর যোগ্য নেতৃত্বে সুপ্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের কারণে আজ বাংলাদেশের উপর উন্নত বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর নির্ভরতা বেড়েছে। আমাদের এই পোশাক শিল্প আজ পৃথিবীর সকল দেশের কাছেই একটি সফলতার গল্প। এই সাফল্যের মূল কারিগর শেখ হাসিনা।  

শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারি কোভিড অসাধারণ দক্ষতায় মোকাবেলা এবং টীকা সংগ্রহ, ব্যবস্থাপনা এবং বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য শেখ হাসিনার কৌশল আজ সারা পৃথিবীতে অনুকরণীয়। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজের নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের আন্দোলনে শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন গত শতাব্দীর শেষ ভাগ থেকে। এই ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে তিনি বিশ্বে বিশেষ সুখ্যাতি অর্জন করেছেন।

গনতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সমপর্যায়ের কোনো নেতা বর্তমান পৃথিবীতে নেতৃত্বের পর্যায়ে নেই। তিনি দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে তাঁর দল তথা নিজের দেশে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পিতা মাতা সহ পুরো পরিবারকে হত্যার পরও তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তাঁর পরিবার যে রকম নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক পরিবার এই রকম ভয়াবহ নির্মমতার শিকার হয়নি। এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশ কিংবা এই অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড়ো ট্রাজেডি নয়, এটি পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্যতম  রাজনৈতিক  ট্রাজেডি। এই রকম এক তীব্র ট্রমা নিয়ে খুব কম মানুষই স্বাভাবিক থাকতে পারে। এই তীব্র বেদনা নিয়ে তিনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিবেদন করেছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে তিনি একজন সংগ্রামী নেতা থেকে কালজয়ী রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছেন। জাতির পিতার পর বাংলাদেশের সকল অর্জন তাঁর মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।  

শেখ হাসিনা গণতন্ত্র হরণকারী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর সংগ্রামের গল্প বিশ্বের অনেক সংগ্রামী জাতির জন্য অনুপ্রেরণা ও অনুকরণীয়। স্বৈরশাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে কীভাবে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে হয় সেটি পৃথিবীর সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য শিক্ষণীয়।  

শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ অথচ সাহসী ও উচ্চকণ্ঠ শান্তির দূত। পৃথিবীর অনেক নেতা আছেন, যারা নিজেদের দেশ কিংবা অঞ্চল পেরুলে নিজেদের কণ্ঠের স্বর বা কণ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন করেন। বর্তমান বিশ্বে শেখ হাসিনা একমাত্র নেতা যিনি দেশি, আঞ্চলিক এমনকি বিশ্ব ফোরামে স্বার্থ সংঘাতে জড়িত সকল রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে প্রকৃত অর্থে বিশ্ব শান্তি ও মানবতার কল্যাণে বিশ্ব সম্প্রদায়কে তার  করণীয় সম্পর্কে স্পষ্টভাবে পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা এই আদর্শ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট পেয়েছেন তাঁর পিতা বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে, যিনি তাঁর সময়ে সমগ্র পৃথিবীর শোষিত বঞ্চিত মানুষের নেতা ছিলেন। এই ভূমিকায় শেখ হাসিনা তাঁর পিতার আদর্শ থেকে গত চার দশকে এক বিন্দুও বিচ্যুত হননি।

ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নে গত চার দশকে শেখ হাসিনাই পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের আদর্শ বিরোধী শক্তি অসংখ্যবার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করেছে। সেই চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা। তিনি বার বার বলেছেন, দেশের জন্য পিতার মতো তিনিও জীবন দিতে প্রস্তুত। তবে দেশবিরোধী অপশক্তির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।  

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতীক। জাতির পিতার হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের অর্জন আমাদের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। শেখ হাসিনা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার বিধানকে পুন:প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বর্তমান বিশ্ব নেতাদের মধ্যে শেখ হাসিনাই একমাত্র নেতা যিনি যুদ্ধ বিগ্রহ ছাড়াই অসাধারণ প্রজ্ঞা ও দক্ষ কূটনীতি ও অতুলনীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে  নিজের দেশের ন্যায্য স্বার্থ আদায়ের ক্ষেত্রে মৌলিক অবদান রাখতে পেরেছেন। জাতীয় স্বার্থের সপক্ষে তাঁর প্রতিটি অবদানই বিশ্বে মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

বৃহত্তম প্রতিবেশী ভারতের সাথে শেখ হাসিনার গঙ্গা নদীর পানি বন্টনের চুক্তি আন্তর্জাতিক নদী আইনের জন্য এক মাইল ফলক অধ্যায়। এটি এ সংক্রান্ত কাস্টমারি ইন্টারন্যাশনাল ল' এর এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারে নুরেমবার্গ এবং টোকিও ট্রায়ালের পর শেখ হাসিনা  বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইবুনাল গঠন করে যে বিচার সম্পন্ন করেছেন, সেটি পৃথিবীর দেশে দেশে প্রশংসিত হয়েছে। কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার দীর্ঘ ৪০ বছর পর মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার পৃথিবীতে বিরল। এটি বিশ্বের জন্য এক মাইল ফলক।  

অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন, অন্যদিকে ঐ এলাকায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব টেকসই করার জন্য যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র্য সত্তাকে সুরক্ষা দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী চুক্তির জন্য তিনি অনায়াসেই সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেতে পারতেন। কিন্তু বাংলাদেশ বিরোধী আন্তর্জাতিক লবি'র কারণে তাঁকে সেই প্রাপ্য থেকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বঞ্চিত করা হয়েছিল।  

শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্ব ও কূটনীতির কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আইনি যুদ্ধের মাধমে সমুদ্রে তার ন্যয্য সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। উত্তর সাগরে ১৯৬৯ সালে এই ধরণের সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিস্পত্তির পর বাংলাদেশের এই সমুদ্র জয় সমগ্র পৃথিবীর জন্য এক নতুন নজির।  

শেখ হাসিনা গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের বারে বারে পরাস্ত করেছেন। শেখ হাসিনা শুধু দেশেই সফল হননি, অভূতপূর্ব দক্ষতা ও অসীম সাহসিকতা দিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতিকে তিনি জয় করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে তিনি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে বাংলাদেশের নানা ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনাই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ নেতা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। জাতিসংঘের এসডিজি বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেজন্য শেখ হাসিনাকে মুকুট মনি খেতাবে ভূষিত করা হয়। এর আগে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছিলো। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের অর্থনীতি মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ অর্থনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠন বিশ্বব্যাংকের অন্যায্য খবরদারীকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁর দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম প্রকল্প পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থায়নে বাস্তবায়ন করেছেন। এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়া কিংবা এশিয়া মহাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে তাঁর এই সিদ্ধান্ত একটি মাইল ফলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই রক্ষা করেনি, তাঁর এই অসীম সাহসী সিদ্ধান্ত বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায়ও এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।  

এই ঘটনার ফলে বিশ্বব্যাংক সহ বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর বিপরীতে উন্নয়নশীল বিশ্বের দরকষাকষির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমুহে এই বিশ্বমোড়লদের নানামুখী শোষণ আর খবরদারীর উপর এক বড় ধরণের আঘাত। এর ফলে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রভাব কমতে শুরু করবে।

পিতা মাতাসহ পরিবারের সকলকে হারিয়ে শেখ হাসিনা একদিকে যেমন পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃখী কন্যা, অন্যদিকে তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ কন্যা, একজন ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্বনেতা যিনি তাঁর পিতার হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর পিতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসে তাঁর মতো এই রকম সৌভাগ্যবান কন্যা দ্বিতীয় কেউ নেই।

আজ এই ব্যতিক্রমধর্মী বিশ্ব নেতা শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিন। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেনো আপনাকে বাংলাদেশের প্রয়োজনে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখেন।

শেখ হাসিনা   একুশ শতকের   সবচেয়ে বর্ণাঢ্য বিশ্বনেতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

মেয়র হানিফের সংগ্রামী জীবন নতুন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করবে

প্রকাশ: ০৮:০৫ এএম, ২৮ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঢাকার রাজনীতির মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর মোহাম্মদ হানিফ। তিনি ছিলেন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত সফল মেয়র ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সফল সভাপতি। চারশ বছরের প্রাচীন শহর রাজধানী ঢাকা। ঐতিহ্য আর নানা সংস্কৃতির বৈচিত্রের কারণে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম মেগাসিটি। সেই শহরের গৌরবের অপর নাম মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৪৪ সালে ১লা এপ্রিল পুরান ঢাকার স্যান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা আবদুল আজিজ আর মাতা মুন্নি বেগমের ছোট ছেলে হানিফ। আদর করে সবাই তাকে 'ধনী' নামে ডাকতো। শিশু হানিফ ছোটবেলায় মমতাময়ী মাকে হারান। মাঝের মৃত্যুর পর ফুফু আছিয়া খাতুনের কাছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য আর আদর্শে বেড়ে উঠেন মোহাম্মদ হানিফ। ঢাকার প্রখ্যাত পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মাজেদ সরদার ছিলেন ঢাকার শেষ সরদার। মোহাম্মদ হানিফের বহুমুখী প্রতিষ্ঠা তাকে মুগ্ধ করে। তাই ১৯৬৭ সালে মাজেদ সরদার প্রিয়কন্যা ফাতেমা খাতুনকে মোহাম্মদ হানিফের সাথে বিয়ে দেন। এই দম্পতির একজন পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। পুত্র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন পিতার আদর্শ ধারণ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত পূর্ন মন্ত্রী মর্যাদায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন।

মোহাম্মদ হানিফ যৌবনের থেকে আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। দলীয় রাজনীতি করলেও তার উদার চিন্তা-চেতনা ও সংবেদনশীল মনোভাবের কারনে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল অসামান্য। তাঁর জীবন ছিল কর্মময়, ধ্যান ধারণা ছিল অত্যন্ত সুন্দর, ব্যক্তিগত চরিত্রে ছিল সজ্জন ও সততা সৌরভে উজ্জ্বল। একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা “নগর পিতা" খ্যাত যিনি নগরবাসীর প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম নির্বাচিত একজন সফল মেয়র। নিজ বিশ্বাসে অটল থেকে তা অকপটে প্রকাশ করতে পারা একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন একজন ঈমানদার ও ধার্মিক মুসলমান। একইসাথে ইসলামের মর্যাদা এবং দ্বীন প্রচারেও ছিলেন সোচ্চার। তিনি তাঁর স্বপ্নে প্রিয় ঢাকা নগরীকে ইসলামী স্থাপত্য কলায় সাজিয়ে তুলতে সহায়তা করেছেন। যার সুবাদে মুসলিম প্রধান দেশের রাজধানীতে বিদেশী মেহমান কেউ নেমেই যেন বুঝতে পারেন তারা কোথায় এসেছেন। বুকে হাজারো স্বপ্ন থেকে তা বাস্তবে রুপায়নের জন্য মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সচেষ্ট থেকেছেন। তিনি মুসলিম হলেও অন্যান্য ধর্মালম্বীদের কাছে ছিলেন পরমপ্রিয়। দূর্গাপূজা কিংবা বড়দিন অথবা অন্য কোন উৎসবে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতেন। তার সহায়তায় অসংখ্য মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা সংস্কার করা হয়।

মোহাম্মদ হানিফ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ১৯৬০ সালে পুরান ঢাকার ইসলামিয়া হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে পরবর্তীতে তৎকালীন কায়েদে আযম কলেজে (শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ) উচ্চ মাধ্যমিক এবং বিএ পরীক্ষায় সফলতার সাথে উত্তীর্ন হয়ে কিছুদিন আইন বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিজয়ের পর গঠিত প্রাদেশিক সরকার ভেঙ্গে দেয়ার পর শেখ মুজিবর রহমানকে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করে ২৪ ঘন্টার নোটিশে শেখ মুজিবর রহমানের স্ত্রী বেগম ফজিলাতুনন্নেসা মুজিব ও তার পরিবারকে মন্ত্রীপাড়ার বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় পাকিস্তান সরকার। সেসময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের রক্তচক্ষু, হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে মোহাম্মদ হানিফের পরিবারে পুরান ঢাকার ৭৯ নম্বর নাজিরা বাজার বাসায় অবস্থান নেন বাঙ্গালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিব ও তার পরিবারকে। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব মোহাম্মদ হানিফকে খুব স্নেহ ও বিশ্বাস করতেন। তিনি সবসময় চাইতেন মোহাম্মদ হানিফ যেন সর্বদাই বঙ্গবন্ধুর পাশে থাকেন। মোহাম্মদ হানিফের সাথে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারে ঘনিষ্টতা কোন দিন কমেনি বরং মুজিব পরিবারের বিশ্বস্ত হিসেবে আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচার্যে থেকে মোহাম্মদ হানিফের রাজনীতির হাতেখড়ি হয়। ১৯৬৫ সালের বঙ্গবন্ধুর একান্ত সচিব হিসেবে অত্যন্ত সফলতা ও বিশ্বস্ততার সাথে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন। তিনি একান্ত সচিব থাকা কালীন ছয়দফা আন্দোলনের প্রস্তুতি, ছয়দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন এবং প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান, ৭০'র জাতীয় নির্বাচন এবং একাত্তরে মহান মুক্তি সংগ্রামে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা চিরস্মরণীয়। স্বাধীনতা পরবর্তীকালের সব আন্দোলন, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সকল আন্দোলনে তিনি রাজপথে সংগ্রামের প্রথম কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অতুলনীয় সাংগঠনিক ক্ষ এবং সম্মোহনী বাগ্মিতা তাকে কিংবদন্তি তুল্য খ্যাতি এবং ঈর্ষনীয় জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া ঢাকা ১২ আসন থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তী সময়ে হুইপের মহান দায়িত্ব পালন করেন। সাংগ্রামী জীবনে ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ৩০ বছর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দলের প্রতি অনুগত ও প্রিয় নেত্রীর বিশ্বস্ততায় এই মহান দায়িত্ব পালন করে গেছেন। ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী গনঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন মোহাম্মদ হানিফ।

মোহাম্মদ হানিফের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ছিল ৭৫'র ১৫ই আগস্টের কালোরাতে ইতিহাসের বর্বরোচিত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের প্রায় সব সদস্যের নির্মম হত্যাকান্ড। এই হত্যাকান্ড কোন দিন মেনে নিতে পারেনি মোহাম্মদ হানিফ। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর ১০ বছরের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের হত্যাকান্ড মোহাম্মদ হানিফকে বেদনার গভীর সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। ১৯৭৩ সালে লন্ডনে একসাথে সফরে থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কথা "আমার যদি কিছু হয়ে যায় তুই আমার রাসেলকে দেখবি" বঙ্গবন্ধুর এই নির্দেশ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে করতো মোহাম্মদ হানিফ। তাই ১৫ই আগষ্ট ১৯৭৫ এর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের পর মোহাম্মদ হানিফের কণ্ঠে ছিল শুধুই স্লোগান "মাগো তোমায় কথা দিলাম মুজিব হত্যার বদলা নেবো, রাসেল হত্যার বদলা নেবো ১৫ই আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে রাজনৈতিক ভাবে পিতা মুজিব হত্যার বদলা নেয়া এবং হত্যার বিচারের দাবিতে দৃপ্ত শপথে বলীয়ান হয়ে ছিলেন মোহাম্মদ হানিফ।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সান্নিধ্য পাওয়া মোহাম্মদ হানিফ ১৯৯৪ সালে ৩০শে জানুয়ারী অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জনগনের প্রত্যক্ষ বিপুল ভোটের ব্যাবধানে ঢাকার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তার আমলে ঢাকার উন্নয়নে রাস্তাঘাট, নর্দমা, ফুটপাত উন্নয়ন ও সংস্কার, নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে রোড ডিভাইডার নির্মাণ, আন্ডারপাস, সেতু, ফুটভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয় ধানমন্ডি লেক এবং আশেপাশের এলাকা। ঢাকাবাসী সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ঢাকার সৌন্দর্য বাড়ানো ও নগরবাসীর চাহিদা পূরনে নগরীতে বিজলী বাতি স্থাপন, নগর সৌন্দর্য বর্ষনে ফোয়ারা নির্মাণ, বনায়ন কর্মসূচি, পুরান ঢাকার আউটফলে ছিন্নমূল শিশু কিশোরদের প্রশিক্ষন ও পূর্নবাসন কেন্দ্র নির্মাণ করেন।

নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী ছিলেন মেয়র হানিফ। নারী শিক্ষা বিস্তারে লক্ষীবাজারে প্রতিষ্ঠা করেন ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ। এছাড়াও মহিলাদের মাতৃকালীন সময়ে পরিচর্যার জন্য নগরীতে বেশ কয়েকটি মাতৃসদন নির্মাণ করেন। শিশুবান্ধব ঢাকা পড়তে নিরলস কাজ করেছেন নগরপিতা হানিফ। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য পৌর শিশু পার্ক নির্মাণ ও পুরাতন পার্ক গুলোতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা, এছাড়াও বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করে গেছেন।

মশার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ ঢাকাবাসীর কষ্ট লাঘব করতে নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা, মশক নিধন কর্মসূচি গ্রহণ। করেছিলেন। তার আমলে তিলোত্তমা নগরী গড়ায় লক্ষ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়িয়েও মহানগরীর উন্নয়ন সম্ভব ঢাকাবাসির নিকট তারই নির্বাচনী গুয়াদা পূরণ হিসেবে এটাই তিনি কাজে প্রমাণ করে গেছেন।

১৯৯৬ এর মার্চের শেষ সপ্তাহে স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলনে মোহাম্মদ হানিফ তার নেতৃত্বে জনতার মঞ্চ" গঠন করেন, যা তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতনসহ আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য টার্নিং পয়েন্ট তৈরী করে এবং যার ফলশ্রুতিতে ৯৬-এর ১২জুন দেশের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে দেশ পরিচালনার জন্য মোহাম্মদ হানিফের প্রানপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন।

 

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিশ্বস্ততার বড় প্রমাণ দিয়েছেন ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট। বিএনপি- জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদন এবং হাওয়া ভবনের নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রেনেড হামলার মূল টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং সেসময়কার বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের ভয়াল ২১শে আগষ্ঠ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশের ট্রাক মঞ্চে শেখ হাসিনার ওপর নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল রচনা করে। তার প্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষার প্রাণান্তর চেষ্টা করেন মোহাম্মদ হানিফ। একের পর এক ছোড়া গ্রেনেডের সামনে নির্ভয়ে পেতে দিলেন নিজেকে, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রাণে রক্ষা পেলেও মারাত্মক আহত হন তিনি। মস্তিষ্ক সহ দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ঘাতক স্পিন্টার ঢুকে পড়ে। দীর্ঘ দিনের চিকিৎসাতেও কোন ফল হয়নি বরং মাথার গভীরে বিধে থাকায় ও অস্ত্রোপ্রচার করেও অপসারন করা সম্ভব হয়নি। দুঃসহ যন্ত্রনা সহ্য করেই রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় থেকেছেন মোহাম্মদ হানিফ। জনগণের কল্যাণই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। আর রাজনীতির উজ্জ্বল ধ্রুবতারা ছিলেন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। একজন প্রকৃত নেতা হিসেবে জাতির প্রতিটি ক্রান্তিতে এই অকুতোভয় সৈনিক রাজপথে থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজধানীর প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব নিয়েছেন। ২০০৬ এর ৮ ফেব্রুয়ারী মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পূর্বে মাথায় বিদ্ধ হওয়া স্পিন্টারের প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তীব্র যন্ত্রনা ভোগ করে দীর্ঘ দিন। চিকিৎসা শেষে গত ২৮শে নভেম্বর ০৬ দিবাগত রাতে ৬২ বছর বয়সে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহাম্মদ হানিফ (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। অবশেষে চির অবসান ঘটে তার কর্মময় রাজনৈতিক জীবনের। ২৮ নভেম্বর তার ষষ্ঠদশ মৃত্যুবার্ষিকী। মোহাম্মদ হানিফ চলে গেলেন জাতির এক চরম দুঃসময়ে। যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভবিষৎ, তখন জননেতা হানিফের মতো আদর্শ নিষ্ঠ, অকুতোভয় বিচক্ষন নেতৃত্বের বড়ো বেশি প্রয়োজন ছিল। তার মৃত্যুতে সৃষ্ট শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। দেশের রাজনীতিতে তার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরনীয়। একজন সফল রাজনৈতিক এবং সকল গুনাবলীর অধিকারী সম্পন্ন মোহাম্মদ হানিফ তার কর্মের মাধ্যমে আমাদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবেন। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

মহামান্যের সমাবর্তন ভাষণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের দিনগুলি


Thumbnail

ইচ্ছে ছিল এবারকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের দিনে বিভাগ/হল /বিশ্বিদ্যালয়ে যাবো। আমাদের কপালে সমাবর্তন জোটে নি- কারণ স্বৈরাচারী এরশাদ ছিলেন আচার্য। উনার কাছ থেকে আমরা যেমন সনদ নিতে চাইনি, তেমনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিতে চায় নি। সেই সাহসী হিমালয়ের মতো সুউচ্চ নৈতিকতার অধিকারী শিক্ষকের অভাব আজ সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের সমাবর্তন ভাষণে সেটাই ফুটে উঠেছে। 

এবার সতর্ক বার্তা ছিল অজানা প্রান্তের অজানা কণ্ঠ থেকে - আগামী এক মাস যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাই! সুতরাং, ঘরে বসে স্মৃতি রোমন্থন করছিলামবন্ধুদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপচারিতায়।  ১৯৮২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ১৯৯১ সালে শিক্ষকতায় নিয়োজিত হওয়া পর্যন্ত আমার সময়গুলো কেটেছে কবি জসীমউদ্দীন হলে। চারতলায় আমার রুম ছিল। একান্ত আমার একটি সিট যা আমার মেধার স্বীকৃতি। রুমমেট হিসেবে যাদের পেয়েছিলাম তাদের মধ্য থেকে করোনায় হারিয়েছি স্কুলজীবনের বন্ধু আহসানুল ইসলাম ডিককে। ডিক ফিন্যান্সের ছাত্র ছিল। খুবই পরোপকারী বন্ধু। নিজের ক্ষতি করে বন্ধুর উপকার করা ছিলো ডিকের স্বভাব। স্বৈরাচারী এরশাদের নতুন বাংলা ছাত্রসমাজ তাকে কিছুদিনের জন্য হল ছাড়তে বাধ্য করেছিল। বিষয় হলে সিট দখল নিয়ে নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের অন্যায়কে প্রতিবাদ করেছিল ডিক। নতুন বাংলা ছাত্রসমাজের নেতারা তাদের মতো করে হল চালাতে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রলীগ/সমাজকে তখন প্ৰতিপক্ষ হিসেবে নিয়ে নিপীড়ন করতো। মারধোর ছাড়া ফ্লোরে থুথু ফেলে সেটা চেটে খেতে বাধ্য করতো! সেই বীভৎস নিপীড়ণের স্বীকার ছাত্রনেতারা দেশের উচ্চ পদে আসীন হয়েছেন।

আমার আরেক রুম মেট ছিলেন স ম আলাউদ্দিন। খুবই হাসিখুশি একজন মানুষ। ইতিহাসের এই ছাত্র সচিবালয় ঘেরাও করতে চলে যেতেন। এরশাদবিরোধী এমন কোনো আন্দোলন নেই যে আন্দোলনে আলাউদ্দিন ভাই থাকেননি। গণতন্ত্রের আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান এই সেদিন সমাবর্তন উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বীকার করলেন। ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে মহামান্য বেশ কিছু কথা বলেছেন যা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। ১৯৯০ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এরশাদের আদেশ অমান্য করে যে আন্দোলন শুরু করেছিল সেকথা আমি আগের লেখায় বলেছি।

মুক্তির সংগ্রামে, স্বাধীনতার সংগ্রামে শহীদ হয়েছেন শিক্ষকরা।  সেই জাতির বিবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এরশাদের জরুরি আইন অমান্য করে ৬ডিসেম্বর রাজপথে নামে এবং একযোগে সকলে পদত্যাগ করেন। গণতন্ত্রের প্রতি এই শ্রদ্ধা দেখিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল- আজ মহামান্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আক্ষেপ করে বলছেন শিক্ষকদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার কথা।

মহামান্য বিনয়ের সঙ্গে আপনাকে একটি প্রশ্ন করতে পারি কি? আপনি কি ভেবেছেন স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে কেন এমন হলো? গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্র -ছাত্রী ২০০৭ সালে কি ঝুঁকি নিয়েছিলেন, কিভাবে তারা জেল খেটেছেন, কিভাবে তাদেরকে চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেগুলোকি আমরা মনে রেখেছি? পাঠকদের কাছে বিনয়ের সঙ্গে মন জানতে চায়,আমাদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রের সুফল ভোগ কারা করছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির কোনায় ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডাক্তার মিলনকে হত্যা করা হয়েছিল খুবই ঠান্ডা মাথায়।সবচে মেধাবী সেই ডাক্তাররা কি কখনো প্রথম গ্রেড পায়? সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্র -ছাত্রী, শিক্ষক -কর্মচারী -কর্মকর্তা গুলির তান্ডবে ছিল দিশেহারা। প্রাণভয়ে সকলে ছুটেছিল।কোথা থেকে গুলি আসছিলো কেউ বুঝতে পারছিলাম না।সেদিন যারা রুখে দিয়েছিলো তারা কিভাবে অবহেলিত তা কি আমাদের অজানা !

আমাদের সকল সুযোগ সুবিধা পান যারা তাদের সম্পর্কে আজনা-ই বললাম, কিন্তু শিক্ষকদের জীবন কিভাবে কাটছে সেটাও যেন আমরা দেখি। সমাজ দেখেও না দেখার ভান করে-ট্যাক্স, ভ্যাট সবই কিন্তু শিক্ষকরা দেন। আর কারা ট্যাক্স ফাঁকি দেয় , বিদেশে অর্থ পাচার করে সেটাও আজ অজানা নয়। কিন্তু শিক্ষকদের কষ্টকে বিবেচনায় না রেখে রসালো ভাবে বলা হয় "ভর্তি পরীক্ষার টাকা ভাগ বাটোয়ারা " করে খায় শিক্ষকরা।

সবচে মেধাবী যে ছাত্রটি শিক্ষক হয়েছেন তাকে ধুলো মাখিয়ে কাদের সন্তানেরা রাজবেশে চলে যান সমাজ কি তা জানেনা?  অপেক্ষা করতে করতে যখন আর কোনো উপায় বা সম্ভাবনা দেখেন না,তখন তারা যাচ্ছেন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা সান্ধ্যকালীন ক্লাসে। এভাবে শিক্ষকদেরকে তাদের আদর্শর পথ থেকে নিয়ে গেলো যে বাজার অর্থনীতি তার দায় কি কেবল শিক্ষকদের? সেটা অনুসন্ধান করা প্ৰয়োজন।

১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ডাক্তার মিলন শহীদি মৃত্যুবরণ করেন। এই বিষয়ে এক লেখক লিখেছেন "তার মৃত্যুতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন দাবানলে রূপ নেয়।ডাক্তাররা শুরু করেন অবিরাম কর্মবিরতি। গণপদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। জরুরি অবস্থা জারি করে স্বৈরসরকার।কিন্তু সেই জরুরি অবস্থা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসে ছাত্রছাত্রীদের মিছিল। নয় বছরের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেয়ে মুক্তবাতাসে নিঃশ্বাস নিতে ঢাকার রাস্তায় বেরিয়ে আসেন নাগরিকরা।সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ দেন আরও অনেকে। এভাবেই মিলনের মৃত্যুর ভিতর দিয়ে এরশাদের পতনের শেষ অধ্যায় রচিত হয়। ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এরশাদ (জহিরুলহকমজুমদার, https://bangla.bdnews24.com/opinion_bn/archives/58785)।" আজ আমাদের সবচে জরুরি কাজ কেন শহীদ ডাক্তার মিলনের সতীর্থরা মনোনয়ন পেয়ে কাদের কাছে নির্বাচনে হেরে যায় তা অনুসন্ধান করা! পেশাজীবীরা কি এমনিতেই তাদের শপথ ভুলে সরল সঠিক পথ থেকে সরে গেছেন নাকি নির্লিপ্ত সমাজ জনপ্রিয়তা দিয়ে তাদেরকে বিতাড়ন করেছে?

আজ আমরা সেই আগেরই মতো বড়ো বড়ো জনসভা দেখছি। সে বিষয়ে আজ (২৪নভেম্বর ) মাননীয় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, "রাজ পথে শক্তি দেখিয়ে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচন হবেনা ( প্রথমআলোhttps://www.prothomalo.com/bangladesh/ixn8glxg52)।" তার বক্তব্য থেকে এ কথা বলা যায় -আমরা সঠিক পথ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছি। আমাদের এখন থামতে হবে। এবং সেই কাজটি বিশ্ববিদ্যালয় তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে জাতি আশা করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যা করে যে বিচারহীনতার সংষ্কৃতি চালু হয়েছিল সেই গভীর নর্দমা থেকে জাতিকে সঠিক পথ দেখাতে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাতিঘর হিসেবে কাজ করেছিল - আজ আবার সেই মহান দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিতে হবে সেই আহবান মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণে আছে।

আজ হুমকির রাজনীতিতে জনগণ ভীত! আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষক সমাজকে আলোর পথ দেখাতে হবে। শহীদ মিলনের স্মৃতিস্তম্ভে কেবল একতোড়া ফুল কিংবা একটি আলোচনা সভা নয় - জাতীয় সমস্যার আরও গভীরে গিয়ে জাতিকে পথ দেখাতে হবে।

মহামান্য শিক্ষকদের নৈতিক অবক্ষয়ের কথা বলেছেন যাতে আমরা জেগে উঠি- দেশের সুনাগরিক হিসেবে যে মহান দায়িত্ব শিক্ষকরা পেয়েছেন সেটা যেন পালন করি।মহামান্য আপনার আবেদনে আমরা সাড়া দেব। তবে যুগের পর যুগ যেভাবে শিক্ষকদেরকে অবহেলা করা হয়েছে তারও অবসানে আপনার সমর্থন চাই।শিক্ষকরা যাতে সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারে সেই দাবিটি কি আমি আপনার কাছে বিনীতভাবে সীমিত পরিসরে করতে পারি? 

মহামান্যর আরেকটি আক্ষেপ - শিক্ষক নিয়োগে যেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল বিশ্ববিদ্যালয় মেধাকে মূল্যায়ন করে।আমার জানা মতে, আপনার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কিভাবে মেধাকে অবমূল্যায়ন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। মহামান্য আপনি জানেন কোন কোন শিক্ষক বা উপাচার্য/প্রো-উপাচার্য দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা তো জনগণের নেই- কেবল আপনার আছে। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আপনি অবিলম্বে তাদেরকে অপসারনের ব্যবস্থা নেবেনকি?

শিক্ষকদের বিবেক জাগরণের পাশাপাশি জাতি আপনার কাছে উপাচার্য অপসারণের মতো কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে- সরকার যেভাবে বাধ্যতামূলক অবসর দিচ্ছে ঠিক একই ভাবে।দুর্নীতিবাজ উপাচার্যদের সরিয়ে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে কালিমা মুক্ত করতে আপনার কাছে আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষকদের আকুল আবেদন আদেও পৌঁছাবে কি?মহামান্য ক্ষমা করবেন; আমাদের অপারগতার জন্য- ক্ষমা করবেন আমার অবোধ প্রশ্নগুলোর জন্য-কারণ আমি তো এখনও ছাত্র -শিক্ষক হতে পারিনি!

লেখক: অধ্যাপক ডঃ ফরিদ আহমেদ
দর্শনবিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

নেত্রী চাইলে দলের প্রয়োজনে যে কোনো মুহূর্তেই দেশে ফিরতে প্রস্তুত


Thumbnail

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের দুঃসময়ের নির্যাতিত কর্মী, সাবেক কর্মী ড. রূপন রহমান ফোন করে বললেন, ‘কবি, স্বাচিপ সম্মেলনে মহাসচিব প্রার্থী হচ্ছো তো?’ একই সময়ে দেশ-বিদেশের আরো অনেক চিকিৎসকই আমাকে এই প্রশ্নটি করেছেন। চিকিৎসকদের গণআকাঙ্খার প্রেক্ষিতে আমার মনে হলো, এবার সম্মেলনে আমার আসলে প্রার্থী হওয়া উচিত।

আমি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) জন্মের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলাম। কেন, কোন পরিস্থিতিতে, নিজের প্রভাবশালী অংশের বিরোধিতা সত্ত্বেও স্বাচিপের জন্ম হয়েছিলো, অনেকের চেয়েই আমি তা বেশি বৈ কম জানি না। এই সংগঠনটির সাথে আমার আত্মার সংযোগ। সম্মিলিতভাবে আমরা এই সংগঠনটিকে জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় এবং ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ভাইয়ের নেতৃত্বে প্রকৃত অর্থে একটি আদর্শিক সংগঠনে পরিণত করেছিলাম। তখনকার স্বাচিপের প্রতিটি পোস্টার নান্দনিকতায় এবং রাজনৈতিক বক্তব্যে ভীষণ সমৃদ্ধ ছিলো। পোস্টারে ব্যবহৃত শ্লোগানটি সারাদেশব্যপী আলোড়ন সৃষ্টি করতো। আর সেই স্বাচিপের এবারের সম্মেলনের পোস্টারটির শ্লোগান ইতিমধ্যে তিনবার পরিবর্তন করতে হয়েছে। পত্রিকায় এই পোস্টারটি নিয়ে তুলোধুনা করা হয়েছে। 

কথা ছিলো বঙ্গবন্ধুর গণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা বাস্তবায়নে স্বাচিপ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমরা স্বপ্ন দেখতাম স্বাস্থ্যখাতের সকল দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে স্বাচিপ সোচ্চার থাকবে। আমরা সবসময় ভাবতাম, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশিত পথে স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার ও পরিবর্তনে স্বাচিপ নেতৃত্ব দেবে। কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকরা নির্যাতিত হলে স্বাচিপ তার প্রতিবাদ করবে। আমাদের সেই স্বপ্ন ও ভাবনারা অনেকদিন হয়ে গেলো পথ হারিয়েছে। 

স্বাচিপকে দেখে দূর থেকে আজকাল অনেকটাই চেনা যায় না।  সংগঠনটি যেন আজ খাজা বাবার দরগার মত হয়ে গেছে। এককালের ড্যাব-শিবিরপন্থী যে কোন চিকিৎসক চাইলেই আজ এই সংগঠনের সদস্য হতে পারেন। অনেক জেলার স্বাচিপ নেতৃত্বই ড্যাব থেকে আমদানীকৃত। হিজরত করেই তারা নানাধরণের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত। তাদের অনেকেই এখন ডিজি অফিসে আসন গেড়েছে। সংগঠনের সদস্য করার জন্য কোথাও কোন স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা নাই। বরং আত্মকলহে মগ্ন এই সংগঠনে নিজেরাই আজ নিজেদের বিরুদ্ধে লেগে থাকায় ব্যস্ত। আজিজ ভাইয়ের মত দুয়েকজন ছাড়া অনেক নেতাকেই দেখেছি নিজেদের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। নেতা হিসেবে পদ-পদবী ভাঙ্গিয়ে নিজের প্রাপ্তিটুকু নিশ্চিত করতেই এরা ব্যস্ত। সংগঠনের নিবেদিত কর্মীদের কথা এরা ভুলেও ভাবে না। গতানুগতিক ধারায় বিশেষ দিবসসমূহ উদযাপন আর সরকারের পক্ষে শ্লোগান দেওয়া ছাড়া স্বাস্থ্যখাতে কার্যকরী পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্বাচিপের তেমন কোন কার্যক্রম চোখে পড়ে না। চাটুকারিতা না করেও যে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করা যায়, এটি যেন এই সংগঠনের অনেকেরই বিবেচনায় নেই। বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকি না কেন, স্বাচিপের বর্তমান অবস্থা দেখে আমাদের অনেকেরই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। আমরা ভালো থাকি না, এক ধরণের অস্থিরতায় ভুগি। 

দল বা সংগঠন নিয়ে আমরা কিছু বলতে গেলে ‘তোমরা তো বিদেশে থাকো’ এই ধূয়ো তুলে প্রথমেই তাকে উড়িয়ে দেবার একটা চেষ্টা আমি বরাবরই লক্ষ্য করেছি। তার উপর ব্যক্তিগতভাবে আমি সবসময় নেপথ্যে থেকেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জন্ম ও পারিবারিক সূত্রে এবং কিছুটা পড়াশুনার কারণে আমি বঙ্গবন্ধুকে বোধের গভীরে ধারণ করি। আমার কাছে সবসময়ই মনে হয়েছে, পদ-পদবীর চেয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। দেশ ও দশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার দর্শন বাস্তবায়নে সামান্য ভূমিকা রাখাটা নিজের প্রাপ্তির চাইতে অনেক বেশি জরুরী। 

আমি শারীরিকভাবে বিদেশে থাকলেও মানসিকভাবে একটি দিনও দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকি নি। আমি বিদেশে থেকেও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। একাধিকবার সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও আমাদের সমর্থিত সরকার গত চৌদ্দ বছর ক্ষমতায় থাকলেও আমি দেশে ফিরে এসে কোন রাজনৈতিক বা পেশাগত পদ-পদবী গ্রহণ করি নি। ব্যক্তিগতভাবে আমার ব্যাপক পরিচিতি ও প্রভাবশালী মানুষদের সাথে সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ন্যূনতম কোন স্খলনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্রয় দেই নি। অনেক চিকিৎসকের প্রয়োজনে আমি সাধ্যমত পাশে দাঁড়িয়েছি, অনেকের জন্য কাজ করেছি। কিন্তু কেউ কোনদিনও বলতে পারবে না, এর জন্য কারো কাছ থেকে আমি কোন ধরণের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কোন সুবিধা বা অর্থ গ্রহণ করেছি। আমার যা কিছু আবদার তা বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার কাছে, আমার বন্ধুর বাবা ডা. এস এ মালেকের কাছে, আমার অভিভাবকতূল্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং আমার কিছু বড়ভাই ও বন্ধুর কাছে। এক জীবনে একটা মানুষের কতটুকুই বা প্রয়োজন? বরং একটা সাদামাটা, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তুলনামূলকভাবে সৎ জীবনযাপনের আনন্দটাই আলাদা। আমি সেই আনন্দেই অবগাহন করি রোজ। 

আজ যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন দীর্ঘ চলার পথে রাজপথের সাথীদের কথা খুব মনে পড়ে। অগ্রজসম রুহুল হক স্যার, কামরুল স্যার, শফিক ভাই, কালাম ভাই, ডাব্লু ভাই, শারফুদ্দিন ভাই, ইউনুস ভাই (প্রয়াত), নজরুল ভাই, ইকবাল ভাই, রোকেয়া আপা, মিল্টন ভাই, হামিদ আসগর ভাই, তবিবুর ভাই, নান্নু ভাই, দুলাল ভাই, বাদশা ভাই, জামাল ভাই, সর্দার নঈম ভাই, মোমেন ভাই, লিটন ভাই, সফু ভাই, ইসমাইল ভাই, এমদাদ ভাই, হীরু ভাই, রূপন ভাই, পাঠান ভাই, তারেক ভাই, জহীর ভাই, মিজান ভাই, আসাদ ভাই, ধীমান দা, লিয়াকত ভাই, মান্নান ভাই, ফরহাদ ভাই, পারভেজ ভাই, মুহিত ভাই, শিল্পী ভাই, রায়হান ভাই, টনি ভাই, অনুপ দা, বন্ধু কাওসার, মনিসুর, দেবেশ, হাদি, মুন্না, শেখ মামুন, মিজানুর রহমান কল্লোল, চিত্ত, অনুজসম মশিউর, জহির, ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী, যোসেফ, রবি, শাহীন, বায়েজিদ, নাজির, মুনীর, ত্বরিত, জুলফিকার লেনিন, দীপু,  চিশতি, আরিফ, মুনীর, তুষার,  বাবুল, রাহাত, রিন্টু, টিটু, হাসান, বশির, বাদল, ফিরোজ, তুলিন, লিপন, বিদ্যুত, লিপন বড়ুয়া, বিপ্লব, বিপুল, রনি, রাশিদুল রানা, রিগ্যানসহ আরো কত শত নাম মনে পড়ে। রাজপথের নির্যাতিত বঙ্গবন্ধুর এইসব আদর্শের অনুসারী চিকিৎসকরা তো অধিকাংশই আজো দেশে আছেন, বেঁচে আছেন। তারপরও স্বাচিপ কেন লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে? কেন এটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষিত চিকিৎসকদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন হবে না? কেন এটি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক হাতকে শক্তিশালী করবে না? কেন এটি সাধারণ চিকিৎসকদের কাছে আস্থার সংগঠনে পরিণত হবে না?

এতসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনে হয়েছে, আগামী ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য স্বাচিপের আসন্ন সম্মেলনে আমার মহাসচিব পদপ্রার্থী হওয়া প্রয়োজন। আমি মনোনীত/নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে স্বাচিপের রিব্রান্ডিং করবো। উপরোল্লিখিত সমস্যাসমূহ সমাধানে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত সবাই মিলে কাজ করবো। ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেলে আমরা চাইলেই আমূল বদলে দিয়ে স্বাচিপকে একটি কার্যকর সংগঠনে পরিণত করা সম্ভব। শক্তিশালী স্বাচিপ মানে শেখ হাসিনার হাত আরো বেশি শক্তিশালী হওয়া। স্বাচিপ পুনর্গঠনের সেই লড়াইয়ে আমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই। সন্তানের প্রয়োজনে মা যেভাবে সব ছেড়ে এগিয়ে আসেন, অনেকটা সেরকম ভাবেই। 

সুসময়ে আমি নেপথ্যে থেকেই কাজ করেছি। আজ যখন সরকারবিরোধী একটি ষড়যন্ত্র দেশব্যাপী মাথা চাড়া দিয়ে উঠবার চেষ্টা করছে, তখন আমি দায়িত্ব নিয়ে সামনে দাঁড়াতে চাই। আমার সাইত্রিশ বছরের দেশি-বিদেশি রাজনৈতিক-সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে দেশ-জনগণ ও সংগঠনের কাজে লাগাতে চাই। প্রাণপ্রিয় নেত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা চাইলে দলের প্রয়োজনে যে কোন মুহূর্তেই আমি দেশে ফিরতে প্রস্তুত।

লেখক: স্বাচিপের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, প্রতিষ্ঠাতা গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক, সাবেক সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সহ-সভাপতি, ঢামেকসু ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

অর্থনীতিবিদদের অর্থনৈতিক জ্ঞান শূণ্য


Thumbnail

আমাদের দেশের গ্রামে প্রথম কথাটির খুব প্রচলন শুনেছি। এখন আসলে দেখছি শুধু গ্রামে নয়, ঢাকা শহর থেকে শুরু করে সবজায়গায় কথাটা কোনো না কোনোভাবে প্রচলিত। গ্রামে প্রতিবেশীর কোন সন্তান খুব জোরে লেখাপড়া করলে শব্দ আসে। তখন আওয়াজ শুনে প্রতিবেশী হিংসাবসত বলে যে, যতই লেখাপড়া করুক পরীক্ষায় পাশ করবে না। শেষে পরীক্ষা আসলো। পরীক্ষায় বেশ ভালো নাম্বার নিয়ে পাশ করল। পরে আরও লেখাপড়া করলো। তারপরে বলে লেখাপড়া করলে কি হয়, এরকম অনেকেই ডিগ্রী নিয়ে থাকে কিন্তু তারা চাকরী পায় না। ওই প্রতিবেশীর ছেলে বা সন্তান চাকরীও পেলো। তখন বলে চাকরী পেলেই কি হবে বেতন পাবে না। শেষে দেখা গেলো বেতন পেলো। তখন বলে বেতন পেলে কি হয়, ওই টাকা দিয়ে জিনিস কিনতে পারবেনা। তারপরে দেখা গেলো একসময় গরীব বাবার জন্যে একটু নতুন ঘর তুলে দিলো। অর্থাৎ প্রতিবেশীর কোনো ভবিষ্যতবাণী কাজে আসলো না। আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী অর্থনীতিবিদরা মোটামুটি ওই গ্রামের প্রতিহিংসাপরায়ণ প্রতিবেশীদের মতো। পাঠক লক্ষ করবেন, আমি বুদ্ধিজীবী অর্থনীতিবিদদের কথা বলছি। তাদের হয় কি, মগজে বুদ্ধি বিশেষ করে কু-বুদ্ধি বেশী রাখতে গিয়ে অর্থনীতির জ্ঞ্যান টা চাপা পরে গেছে। আছে শুধু কি করে এই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অর্থনীতিরি বিরুদ্ধে কথা বলা যায়।

একটু উদাহরণ হিসেবে বলি, সম্প্রতি আমাদের দেশে যখন আইএমএফ এর প্রতিনিধি দল আসে তার আগে দুটি পত্রিকা এবং এই সকল বুদ্ধিজীবী অর্থনীতিবিদরা বিভিন্নভাবে এবং অর্থনীতি যারা বুঝেনা তারাও অনেক লেখালেখি করলো যে, আইএমএফ শেষ পর্যন্ত আসবে না। আসলে পরেও কঠিন কঠিন শর্ত দিবে। তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত কোনো লোন দিবেনা। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো বাংলাদেশের সাথে আলাপ করে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সেরকম একটি ব্যবস্থায় আইএমএফ লোন দিলো। এখন আবার ওয়ার্ল্ড ব্যাংকও আসছে। অর্থাৎ, এই অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যতবাণী খুব একটা কাজে লাগেনি। তারপরে যখন লোন দেয়া হলো, তখন যা বললো তা শুনেও একটু হাসি লাগে। তারা বললো, প্রথম কিস্তি শোধ দিতেই অসুবিধা হবে। আরে, লোন পেয়েছে, প্রথম কিস্তি কখন ডিউ হবে- আগে তো আমরা প্রথম কিস্তি পাই তারপর না প্রথম কিস্তি শোধ দেয়ার প্রশ্ন উঠবে। মানে এদের হয়তো মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যে কেনো তারা দার্শনিক শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে দমিয়ে রাখতে পারছেনা। যখন দেখা গেলো রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে বিশ্ববাসীর সাথে বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়বে। যেমন আমাদের গার্মেন্ট যারা কিনবে তাদের যদি নিজেদেরই অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকে তবে তারা স্বাভাবিক এর চেয়ে কম ক্রয় করবে। তাতে আমাদের ফরেন এক্সচেঞ্জ কমতে বাধ্য। আমাদের যেসকল প্রবাসী কর্মীরা বিদেশে কাজ করে, সেখানে যদি অর্থনীতির মান কমে যায় তাহলে তারা আগের মত কর্মীও নিতে পারবেনা। এসকল তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সেখানে দার্শনিক শেখ হাসিনা কি করলেন? দেখা গেলো অত মারফতি কথায় না গিয়ে যেটা সরকার প্রধান হিসবে বলা উচিত সকল দেশবাসীর উদ্দেশে বিশ্বের অবস্থা কি, বাংলাদেশের কি অবস্থা হবার সম্ভাবনা আছে সে কথা বিস্তারিত বললেন। এটি হচ্ছে তার রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি। যে জনগণকে সাথে নিয়ে এবং জনগণের সহায়তা নিয়েই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র চালাতে হয়। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন। গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হচ্ছে, ‘’এক ইঞ্চি জায়গাও ফাঁকা রাখবেন না। সেখানে আপনারা চাষাবাদ করুন।‘’ যাতে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকি এটার উপর জোর দিলেন তিনি। অর্থাৎ, যদি ভবিষ্যতে কোণরুপ এমন কোনো বিপদে বিশ্ববাসী পরে, তখন যেনো আমরা কোনরকম খাদ্য ঘাটতিতে না পরি কিংবা কিছুটা ঘাটতিতে পরলেও আমরা যেনো খেয়ে-পড়ে বাচতে পারি। এটার অর্থ এই না যে দেশে দুর্ভীক্ষ হয়ে যাচ্ছে।

খাদ্যের দিক থেকে বাংলাদেশে আমাদের যে খাদ্যাভ্যাস- আমি আগেও লিখেছি এবং বলেছি যে যেভাবে দার্শনিক শেখ হাসিনা তার দর্শন দিয়ে দেশ চালাচ্ছেন তাতে খাদ্য ঘাটতিতে পড়ার সম্ভবানা একদম নাই বললেই চলে। যেমন সম্প্রতিকালে আমি কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মী নিয়োগ দিয়েছি। নেত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া যেনো শতভাগ সৎ হয়। ৯৯.৯৯% না, শতভাগ সৎ হতে হবে। আমি অত্যন্ত গর্বের সাথে বলতে পারি, আমার সকল সহর্কমীরা অনকে পরশ্রিম করছেনে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচিব সেবা . আনোয়ার থেকে শুরু করে আমাদের এমডি তুলসি রঞ্জন সাহা এবং আরো আমার সকল সহকর্মীৎ অত্যন্ত দক্ষতা এবং সততার সাথে নেত্রীর কথা অনুযায়ী সব করতে পেরেছি। এটার করার কারণ হচ্ছে দার্শনিক শেখ হাসিনার নির্দেশনা। এর সাথে তিনি পদ্ধতিগত কিছু বিষয়েও আলোচনা করেছেন। আমার সাথে তার যখন দেখা হয়, তিনি বলেছিলেন যে শুধু নিজে সৎ থাকলে চলবেনা। কার্যপদ্ধতি এবং আপনার অধীনে যারা কাজ করছেন তারাও সততার সাথে কাজটা করলো কি না সেই দায়িত্বও আপনার ঘারে পড়ে। সেইটাই মনে রেখেছি। এই নিয়োগ পরীক্ষার আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমাদের যেহেতু আমাদের প্রায় ১৪ হাজারের বেশী কমিউনিটি ক্লিনিক আছে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের সিস্টেম টাই এমন যে একজন কমিউনিটি ক্লিনিকে থাকে আরেকজন বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তাদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কিংবা পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে উপদেশ দেয়। সুতরাং প্রত্যেক বাড়ির আনাচে-কানাচে কোনো জায়গা আছে কি না যেখানে খাদ্য উৎপাদন করা যায় সেখানে আমরা গাছ লাগাবো। এই দার্শনিক শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী আমরা একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি যে কমিউনিটি ক্লিনিকে শুধু সেবা দিবোনা, যারা যারা কমিউনিটি ক্লিনিকের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি যায় সেখানে যদি কিছু জায়গা ফাঁকা থাকে সেখানে আমরা এই কাজটি করবো। আমরা ঠিক করেছি এই কর্মসূচি শুরু করার আগে আমরা টুঙ্গিপাড়া যাবো। সেখানে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেখানে ঘুমিয়ে আছেন সেখানে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের কাজটি টুঙ্গিপাড়ার কাছেই যে কমিউনিটি ক্লিনিকটা দার্শনিক শেখ হাসিনা প্রথম উদ্বোধন করেছিলেন সেখানে যেয়ে লোককে উদ্বুদ্ধ করবো, সেখানে যদি কোনো ফাঁকা জায়গা থাকে তাহলে সেখানে গাছ লাগাবো। তারপর বঙ্গমাতার নামে যে হাসপাতাল শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সেখানেও স্টাফ কোয়ার্টারের এখানেও জায়গা রয়েছে। সেখানকার পরিচালকের সাথে আমার কথা হয়েছে। তারা সেখানেও আমাদের জন্য জায়গা মার্ক করবেন এবং তারাও এটাকে আন্দোলন হিসেবে গ্রহণ করবেন। শেখ আশিনা টিএনও কে বলেছেন তারা করবেন, যুবলীগকে আহ্বান করেছেন, ছাত্রলীগরা করবেন। তাদের পাশাপাশি আমরা যারা কমিউনিটি ক্লিনিকে আমরাও করবো। সকলে মিলে এই যে দেশবাসীকে একতাবদ্ধ করতে পারছেন যাতে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকি। বিশ্বের একটা কঠিন পরিস্থিতিতেও এই দর্শনটা তিনি যদি আগে থেকেই আমাদের মাঝে না জাগিয়ে দিতেন,  আগের থেকে না পরিষ্কার ভাবে এবং উনিতো নির্দেশ দিয়েছেন এক ইঞ্চি জায়গা যেনো ফাঁকা না থাকে। উনার কথার ভেতরে কোনো গ্যাপ নাই। আমাদের বুদ্ধিজীবী অর্থনীতিবিদদের মত না। যে তারা সবই বুঝেন আল্লাহর রহমতে, শুধু অর্থনীতিটা একটু কম বুঝেন।

আমার মনে হয় বাস্তব অর্থনীতির সাথে এদের কোনো যোগাযোগও নেই। কারণ হলো, এসি রুমে বসে বক্তব্য দেন। বিদেশ থেকে টাকা আসে, বড় বড় কথা বলেন এবং উনারা ভালো রিপোর্ট লেখতে পারেন। দেশের ক্ষতি করার জন্যে আবার তারা আলাদা পিএইচডি পাবার অধিকারী। তারা নিশ্চয়ই ডক্টরেট পাবেন। যেমন পদ্মা ব্রীজ বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কেনো দেশে দূর্ভীক্ষ হচ্ছেনা এইটা নিয়ে তাদের ঘুম হচ্ছনা। কেনো নির্বাচনের আগে দেশে বিরোধী দলকে মাঠে এই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ব্যবস্থা নিলেন যাতে তারা নির্দ্বিধায় সভা-সমিতি করতে পারে, জনগণকে তাদের কথা জানাতে পারে। নির্বাচনে যেনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয় সেই ব্যাপার নিশ্চিত করা অবশ্যই ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব। কিন্তু তার সাথে সরকারেরও দায়িত্ব আছে। সরকারের দায়িত্ব কিন্তু সরকার পালন করে যাচ্ছে সরকারপ্রধান দার্শনিক শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে। আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি ইলেকশন কমিশনও তাদের দায়িত্ব পালনে তাদের সাধ্য অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। সুতরাং আগামী নির্বাচন সঠিক সময়ে ও সঠিকভাবেই হবে। এবং আমি আগেও বলেছি , এখনো বিশ্বাস করি পরিশেষে সব দলই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আর যদি কেউ কারো অন্য কোনো মতলবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে সেটা অবস্যই তাদের নিজস্ব দলের সিদ্ধান্ত। তবে সেই সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম কারণ হল তারা দলের নামে না হলেও অনেকেই দল থেকে বের হয়ে কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাড়াবেন। নির্বাচন এইবার প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হবে। অনেকের ধারণা ছিলো যে নৌকা প্রতীক পেলেই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাবো সেটা আর সম্ভব না। জনগণ কাকে নির্বাচিত করবে সেটার মালিক। দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক বার বার এবং খুবই স্পষ্টভাবে তার দলের লোক থেকে শুরু করে সমস্ত দেশবাসীকে জানিয়ে দিয়েছেন। এখানে শুধু আওয়ামী লীগ সীমাবদ্ধ না। স্বতন্ত্র হউক কিংবা অন্য যে কোনো দল, নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে জনগণের আস্থা অর্জন করা। সেটা না হলে হবেনা। সুতরাং আমি মনে করি, এই সকল বুদ্ধিজীবি যে অর্থনীতিবিদ তাদের কুবুদ্ধিটা কমিয়ে অর্থনীতি সম্পর্কে একটু ঝালাই করে নেয়া দরকার। তারা তো আল্লাহর রহমতে খেয়ে পড়ে ভালোই আছেন, স্বাস্থ্যও ভালোই দেখা যায়। সুতরাং তারা যেনো তাদের বুদ্ধি কিছুটা হলেও দেশের কাজে ব্যবহার করেন। তারা যেহেতু বিদেশ থেকে টাকা পান  সেহেতু হয়তো একটা শর্ত থাকে যে সরকারকে যদি তারা সমালোচনা না করেন তাহলে তাদের অর্থ কমে যাবে।  তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারকে ভালো কাজে প্রশংসা করা না। তোমার দায়িত্ব হচ্ছে ছিদ্র খোঁজা। তো ছিদ্র তারা খোঁজ করুক ক্ষতি নেই। কিন্তু তার সাথে দেশ যে কঠিন সময়ে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একথাটাও জনগণকে সবাই যেনো জানায় এবং সবারই এটা দায়িত্ব।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ক্ষণজন্মা কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২২ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আজ ২২ নভেম্বর, ২০২২। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে গারো পাহাড়ের পাদদেশে জন্ম নেওয়া সিংহ পুরুষ কৃষিবিদ বদিউজ্জামন বাদশা’র ১ম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের কৃষিবিদদের প্রাণের স্পন্দন প্রিয় বাদশা ভাই। তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা, তুখোড় বক্তব্য, বুদ্ধিদীপ্ত কথা ও আচরণ সহজেই যে কাউকে আকৃষ্ট করে। এসব গুণাবলির জন্য সমসাময়িক যে-কোন রাজনীতিবিদদের চেয়ে তিনি এগিয়ে। নিজের জীবনে কি পেয়েছেন সে হিসাব কখনও করেননি, তবে কৃষির উন্নয়ন ও কৃষিবিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবসময়ই ছিলেন অগ্রগামী।

অত্যন্ত আশাবাদী মানুষ ছিলেন তিনি।

তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন- 

"হেই মিয়া এতো হতাশ হও কেন? আমাকে দেখো, 

চাকুরী করলে রিটায়ার্ড করতাম এতোদিনে , 

রাজনীতি করি বলে এখনো রিটায়ার্ড হই নাই, এখনো পর্যন্ত এমপি ইলেকশন করতে পারলাম না। 

আমি যদি এই বয়সে আশাবাদী হতে পারি তো তোমরা এতো হতাশ হও কেন?’


আশির দশকের মাঝামাঝি ছাত্র রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের ‘বদিউজ্জামান বাদশা’ নামটির সাথে পরিচয় থাকার কথা । এক সময় মেধা, বিস্তর পড়াশুনা আর অনর্গল তথ্যে-উপাত্তে বক্তৃতা দেবার সক্ষমতায় ছাত্র রাজনীতিতে কিছু অভিজাত নেতার দেখা মিলতো, বদিউজ্জামান বাদশা ছিলেন তাঁদেরই একজন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা  প্রাঞ্জল শব্দচয়নে, সমৃদ্ধ তথ্যে বক্তৃতা দিয়ে দর্শক শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধের মত আটকে রাখার সক্ষমতা একজন ছাত্রনেতাকে যে কতোটা উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে আশির দশকে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে আমরা যেন তারই কালের সাক্ষী, আর আইকনটি ছিলেন জনাব বদিউজ্জামান বাদশা ।

দুরারোগ্য ব্যাধি অগ্নাশয় ক্যান্সারে  আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে ২২ নভেম্বর, ২০২১  ভোর ২ টা ৪৫ মিনিটে মাত্র ৬৩ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান । প্রাণহীন বদিউজ্জামান বাদশাকে নিয়ে আমিও গিয়েছিলাম শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী, তাঁর জন্মভূমিতে । আমি গত ২২ নভেম্বর ২০২১ শেরপুরের নালিতাবাড়িতে একজন জননেতার শেষ বিদায় দেখলাম । তিনি ছিলেন নকলা-নালিতাবাড়ীর মাটি ও মানুষের নেতা । প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল । লোকে লোকারণ্য ছিল উপজেলা সদর এলাকা । গ্রাম-গ্রামান্তর থেকে দলে দলে আসছে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা । তারাগঞ্জ হাই স্কুলের বিশাল মাঠে তিল ধারনের ঠাঁই ছিলনা। জানাজা পূর্ববর্তী সময়ে স্থানীয় নেতারা, জনপ্রতিনিধিরা তাঁর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরছেন। বক্তারা বলছেন-,‘একজন মানুষের মৃত্যু হলে তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয় কিন্তু কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশার মৃত্যুতে নকলা-নালিতাবাড়ীর সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হলো। মানুষের সেবা করাই ছিল বাদশা-র নেশা’।

এই নেতার স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভায় কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা-র রাজনীতির চারণক্ষেত্র শেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিক বলেছেন-, ‘মর্মে মর্মে আমি উপলব্ধি করছি, ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর পারে গারো পাহাড়ের পাদদেশে এক ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, যিনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন’।

মৃত্যুর অল্প কয়েকদিন পূর্বে অসুস্থ অবস্থায় এক জনসভায় জননেতা বদিউজ্জামান বাদশা বলেছেন, ‘আপনাদের কষ্টের কথা আমার জানা আছে । যতদিন আমি জীবিত থাকবো বন্ধুগণ, ভাইয়েরা আমার, ততদিন আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো । যদি কিছু নাও দিতে পারি, অসুখে-বিসুখে আমার রক্তটুকুও যদি কাজে লাগে, আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই রক্তটুকু দিয়ে হলেও আপনাদের ভালবাসার ঋণ শোধ করতে চেষ্টা করবো । আর আমার জীবিত অবস্থায় আপনারা কেউ আমার কাছে কোন কাজে আসেন, তার যদি আমার সাধ্যের ভিতরে থাকে, আমার ঘরের লোক হিসেবে আমি সেটিকে পূরণ করতে চেষ্টা করবো।’

ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। সবকিছুই চলছে, শুধু বাদশা ভাই নেই। 

‘অপরাজেয় কৃষিবিদ’ ফেজবুক পেইজে কৃষিবিদ তানজিবুল এর লেখা থেকে দুজন খেটে খাওয়া মানুষের কথোপকথনের কিছু অংশ উল্লেখ না করলে বুঝা যাবে না একজন নেতার কতোটা সম্মোহনী শক্তি থাকলে মানুষের মনে এভাবে জায়গা করে নিতে পারেন।


একদিন চলার পথে রিকশাচালকের সাথে-

‘-চাচা, ঢাকায় কি করেন? 

-রিক্সা চালাই।

-বাড়ি কোথায়?

 -শেরপুর। 

-শেরপুর কোথায়?

-শেরপুর, নালিতাবাড়ী। 

-ওহহ, নালিতাবাড়ী কোথায়? 

-নেতা বাদশার বাড়ির কাছে।

-বাদশা ভাইতো মারা গেছেন?

-হুম, আমার কলিজাটা পুড়ায় এখনো।

-নেতা বাদশা এমপি হতে পারে নাই?

-কিন্তু আমাদের মাথার উপর ছায়া হইয়া ছিলো।’


আরেকদিন আগারগাঁওয়ে-

‘-আপনার ভাষা শুনে মনে হচ্ছে, বাড়ি বৃহত্তর ময়মনসিংহ?

-জ্বি, শেরপুর।

-শেরপুর এর কোথায়? 

জ্বি, নালিতাবাড়ী।

-নালিতাবাড়ী কোথায়?

-ভোগাই নদীর পাশে।

-বাদশা ভাইয়ের এলাকায়?

-হুম,আর কইয়েন না, নেতা বাদশাহ আমাদের জন্য এমনি একজন ছিলেন যে, নেতা বাদশাহ মারা যাওয়ার পর মনে হচ্ছে আমার শরীরের একটা হাত নেই!’

শেরপুরের এমন অগণিত মানুষের কাছে,  সমগ্র কৃষিবিদদের কাছে একজন বন্ধু, একজন অভিভাবক, একজন ভাইয়ের মতো ছিলেন, বাদশাহ ভাই। তিনি এই পৃথিবীতে না থেকেও আমাদের মনে এখনও জ্বলজ্বল করছেন নক্ষত্রের মতো।

বিনম্র শ্রদ্ধা, বদিউজ্জামান বাদশা ভাই। মহান আল্লাহ বাদশা ভাইকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। আমীন।


কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন