ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

আইভীকে হারানোর সব চেষ্টাই করেছেন শামীম ওসমান

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail আইভীকে হারানোর সব চেষ্টাই করেছেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সেলিনা হায়াৎ আইভী তৃতীয়বারের মতো সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই নির্বাচন ছিলো আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের লড়াই। কিন্তু পর্দার পেছনে আইভীকে মূলত লড়তে হয়েছে তার দলের প্রতিপক্ষ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। বৃহত্তর ভাবে বলতে গেলে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই ওসমান পরিবার আইভীর বিরুদ্ধে ছিলো। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে যে, এই নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে শামীম ওসমান এবং ওসমান পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল রাইফেল ক্লাবের একজন ব্যবসায়ী নেতার মাধ্যমে। এই বিষয়গুলো যখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানেন তখন জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তাটি জানিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির বার্তা ছিলো খুবই স্পষ্ট। দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারাই কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনার আলোকেই নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগকে বিলুপ্ত করা হয়। এরপর শামীম ওসমান একটি সংবাদ সম্মেলনের নাটক করেন এবং সেখানে তিনি নৌকা প্রতীকের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আড়ালে হয়েছে ভয়ঙ্কর খেলা। শামীম ওসমানের লোকজন নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইভীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এবং এ নিয়ে আইভীও শঙ্কিত ছিলেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী জানতেন যে, শামীম ওসমান এই নির্বাচনে অনেক কিছুই করতে পারেন। আর এ কারণেই তিনি বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্টদের নাম প্রকাশ করেন ভোটের আগের দিন গভীর রাতে। কারণ তার শঙ্কা ছিলো যে, শামীম ওসমানের লোকজন তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারেন। এরকম ঘটনার পরও অন্তত তিনজন এজেন্টকে শামীম ওসমানের লোকজন ভয় দেখিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তারা দুপুর ১২টায় ভোট কেন্দ্রে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আইভী চেয়েছিলেন নির্বাচনটি সুষ্ঠু হোক এবং পুলিশ যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, শামীম ওসমানের পক্ষের লোকজন চেয়েছিল নির্বাচনকে যেকোনো মূল্যে বিতর্কিত করতে এবং একটা সহিংসতার আবরণ তৈরি করতে। যদিও প্রকাশ্যে শামীম ওসমান ভোটের দিন বলেছেন যে, নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। কিন্তু নৌকাকে হারাতে তিনি যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন সে সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির হাতে রয়েছে। আর এ কারণেই নির্বাচনের পরপরই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে এখনো অনেক কাজ করতে হবে এবং এ বিষয়গুলো তারা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অবহিত করবেন। তবে কি বিষয় সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, শামীম ওসমান মুখে বলেছেন এক কথা আর কাজ করেছেন অন্যরকম। এ ধরনের বেশকিছু অভিযোগ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পেয়েছে। একাধিক সূত্র বলছে যে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিগুলো শামীম ওসমানের পকেট কমিটি। সেখানকার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা যুবলীগ, কৃষকলীগ,  শ্রমিকলীগ ইত্যাদি সবই শামীম ওসমানের পকেটে। কিন্তু সাধারণ কর্মীরা আইভীর পক্ষে হলেও শামীম ওসমানকে ভয় পায়। আর একারণেই আইভী চেয়েছিলেন যে, প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। শেষ পর্যন্ত প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার কারণে তৃতীয়বারের মতো আইভী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এই নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জে একটা বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান হবে। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অন্তত দুজন নেতা বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন, শামীম ওসমান যে আইভীবিরোধী তৎপরতা করেছেন সে সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে আছে এবং এগুলো তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে দেবেন।

শামীম ওসমান   নাসিক নির্বাচন   ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

জামায়াত থেকে বিএনপি নিয়েছে ৩০০ কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৮:০২ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail জামায়াত থেকে বিএনপি নিয়েছে ৩০০ কোটি টাকা

সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি জোটগতভাবে আন্দোলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই লক্ষ্যে ২২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। প্রথম দফায় সংলাপে যারা যুগপৎ আন্দোলন করতে রাজি হয়েছে তাদের সঙ্গে এখন কর্মসূচি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে। কিন্তু এই ২২টি রাজনৈতিক দলের তালিকায় বিএনপি জামায়াতকে রাখেনি। এমনকি ২০ দলীয় জোটেও এখন জামায়াত অনুপস্থিত বলে জানানো হয়েছে। গত কিছুদিন ধরে বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। আর এই টানাপোড়েনের মধ্যেই জামায়াতের নেতারা বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। জামায়াতের দুইজন নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন যে, বিএনপি বিভিন্ন আন্দোলনের বাহানায় জামায়াতের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নিয়েছে। এই ৩০০ কোটি টাকার মধ্যে ১০০ কোটি টাকা সৌদি প্রবাসী যারা জামায়াত সমর্থক তারা দিয়েছেন, ১০০ কোটি টাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান মাধ্যমে বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে, আর ১০০ কোটি টাকা লন্ডনে যে সমস্ত জামাতে নেতাকর্মীরা রয়েছেন তারা তারেক জিয়াকে দিয়েছেন। এই ৩০০ কোটি টাকার হিসেব, কিভাবে টাকা দেওয়া হয়েছে, কার মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছে ইত্যাদি বিস্তারিত তথ্য জামায়াত প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। বাংলা ইনসাইডার এ নিয়ে জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং এ ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন।

সৌদি আরবে জামায়াতের বেশকিছু অর্থদাতা রয়েছেন যাদের যাদের বেশিরভাগই সৌদি নাগরিক এবং সেখানকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। এরা বিভিন্ন সংগঠনের নামে প্রতি বছরই জামায়াতকে নিয়মিত অর্থায়ন করে থাকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় সৌদি আরবে জামায়াতের শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রায় ১৫০ কোটি টাকার তহবিল জোগাড় করেছিল যেন নির্বাচনে চারদলীয় জোট অর্থাৎ বিএনপি-জামায়াত জোট ভালো করে। এই তহবিল থেকে বিএনপিকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয় জামায়াতের তৎকালীন আমিরের নির্দেশে। এই টাকা বেগম খালেদা জিয়ার একজন ঘনিষ্ঠ নেতা যিনি সৌদি আরবে ব্যবসা করেন, এখন সৌদি আরবে পলাতক জীবনযাপন করছেন তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এই টাকার প্রায় পুরোটাই বেগম খালেদা জিয়া তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন এবং বিদেশেই গচ্ছিত রাখেন। ফলে নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা ওই টাকা খরচ করতে পারেনি। ওই নির্বাচনে চারদলীয় জোটের ভরাডুবি হয়, আওয়ামী লীগ তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়। এই পরাজয়ের পর জামায়াতের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে ওই টাকার ব্যাপারে জানতে চান। তখন খালেদা জিয়া জামায়াতের নেতাকে ভৎসনা করেন বলেও জামায়াতের বর্তমান একাধিক নেতা দাবি করেছেন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তখন জামায়াত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন জামায়াতের নেতারা। ওই বৈঠকে বেগম জিয়া আশ্বস্ত করেন যে, যদি শেষ পর্যন্ত সরকার যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করে তাহলে বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলন করবে এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করবে। এই প্রতিশ্রুতির পর বিএনপিকে চার দফায় ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হয় এবং এই টাকা পুরোটাই বেগম খালেদা জিয়া গ্রহণ করেন। তার মধ্যে প্রায় ৪০ কোটি টাকা তৎকালীন সময়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং যুদ্ধাপরাধে দন্ডিত জামায়াতের নেতা মীর কাশেমের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় আরাফাত রহমান কোকোর কাছে এই টাকা পাঠানো হয়। এসময় জোবায়দা রহমানের কাছেও ৩২ কোটি টাকা পাঠানো হয় বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে যেই টাকাটা সেই সময় জামায়াতের নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক সরাসরি জোবাইদার কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। বাকি টাকা বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলনের জন্য রাখেন কিন্তু শেষপর্যন্ত জামায়াতের ভাষায় বিএনপি বেইমানি করে।

তৃতীয় দফায় যখন ২০১৮ সালে নির্বাচন হয় তখন জামায়াতের সঙ্গে তারেক জিয়া আবার যোগাযোগ করেন এবং জামায়াতকে ২০টি আসন দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। এর বিনিময়ে তিনি ১০০ কোটি টাকা দাবি করেন। জামায়াতের লন্ডনে একটি প্রভাবশালী মহল রয়েছে। তারা বিভিন্ন মসজিদভিত্তিক সংগঠন করে। তারা প্রতি রমজানে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করে জামায়াতের সংগঠনের জন্য দান করে। লন্ডনে জামায়াতের নেতা এবং থিংক-ট্যাংকরা তারেক জিয়ার কাছে ১০০ কোটি টাকা পৌঁছে দিয়েছিলেন নির্বাচনের আগে। সেই টাকার বিনিময়ে তারেক জিয়া জামাতের ২০ জনকে নির্বাচনে প্রার্থী করেন, কিন্তু এই প্রার্থীদের পিছনে বিএনপি নেতারা কোনো কাজ করেনি। ফলে জামায়াতের ওই নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটে। জামায়াতের নেতারা দাবি করছেন যে, বিএনপির যখনই টাকার প্রয়োজন হয় তখনই জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়। বিএনপি জামায়াতকে আসলে আর টাকার ব্যাংক মনে করে এবং এ কারণেই জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছিল। এখন যখন দেখছে যে, জামায়াতের আর্থিক অবস্থা সেরকম নেই এবং আগের মত অর্থ জামায়াত দিচ্ছে না তখনই জামায়াতের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে। এর পেছনে অন্যান্য কারণ থাকলেও প্রধান কারণ হলো, জামায়াত আসলে বিএনপির চাহিদা মেটাতে পারছে না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

অসহায় ক্ষুদ্র খামারিরা, পাচ্ছেন না কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতের যে ব্যাপক বিপ্লব আজ দৃশ্যমান এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ক্ষুদ্র অপ্রাতিষ্ঠানিক খামারিদের। কিন্তু এসমস্ত খামারিদের টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, তারা কোন রকম সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে খামারিদের নানা প্রতিকূলতার দৃশ্য তুলে ধরেছেন বাংলা ইনসাইডারের বিশেষ প্রতিবেদক  আসাদুজ্জামান খান

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইসলাম মুজাহিদ, থাকেন মোহাম্মদপুরে। নিজের জমানো কিছু টাকা দিয়ে শখের বসেই একটি গরু কিনলেন। গরুর লালন-পালন সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তাঁর। তাই ইন্টারনেটের সহযোগিতায় গরু লালন-পালনের সম্পর্কে বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনেক কিছু শিখেন এবং সে অনুযায়ী লালন-পালন শুরু করেন। ২০১৮ সালের কোরবানিতে সেই গরু বিক্রি করে বেশ লাভও করেন মুজাহিদ। উৎসাহিত হয়ে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে গরু মোটাতাজারকণের উপর প্রশিক্ষণ নেন এবং কিছু মূলধন জোগাড় করে ১০ টি গরু দিয়ে শুরু করেন গরু মোটাতাজাকরণ খামার। পড়াশোনা শেষে একজন বড় খামারি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন মুজাহিদ। ৱৰ্তমানে তার খামারে ৪১টি গরু রয়েছে এবং সামনের বছর কোরবানিকে কেন্দ্র করে আরও গরু কেনার পরিকল্পনাও করছেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার লক্ষ্মীনগর গ্রামের বেকার কিশোর রিমন আহমেদ। পড়ালেখা না থাকায় ভালো কোনো কাজও পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই তাকে বিদেশে পাঠাতে চায় তাঁর পরিবার। কিন্তু রিমন বিদেশে যেতে চায় না, সে দেশে থেকেই কিছু একটা করবে বলে জানায়। রিমন এলাকার বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে জানতে পারে যে, পোল্ট্রি খামার একটি লাভজনক ব্যবসা। এরপর রিমন কিছু টাকা জোগাড় করে অল্প পরিসরে একজন বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে পোলট্রি খামার শুরু করেন। সেখানে বেশকিছু টাকা লাভ হলে সেই টাকা জমিয়ে নিজ উদ্যোগে খামার আরও বড় করেন। কিন্তু হঠাৎ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খামারে থাকা ২ হাজার মুরগি মারা যায়। ফলে তাঁর লোকসানের পরিমাণ প্রায় তিন লক্ষ টাকা।

২০২১ সালে আমার একদিনে প্রায় ২ হাজার মুরগি মারা গেসে। ব্যবসার উপরে থাইকা মন উইঠা গেসে। ব্যবসা আর করতেই মন চায় না।

— পোলট্রি খামারি রিমন আহমেদ



মুজাহিদ, রিমনরাই দেশের অধিকাংশ খামারির প্রতিচ্ছবি। তবে দুইজনের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। একজন সফল, অন্যজন ব্যর্থ। তবে একটি ক্ষেত্রে তাদের মিল রয়েছে। এদের কেউই সরকার থেকে কোন প্রকার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা পায়নি। এই খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার লক্ষে প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৯ সালে চালু করা হয়। 'সকলের জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিতকরণ', এই ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সংরক্ষণ, রোগনিয়ন্ত্রণ ও জাত উন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রাব্বানী বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) গ্রাম ভিত্তিক আমাদের যে খামারি; শহর উপ-শহর থেকে শুরু করে গ্রাম অবধি যে খামারি, যারা প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন করে তাদের জীবিকা হিসেবে, তাদেরকে আমরা দুইভাবে সহযোগিতা দিচ্ছি। একটি হলো আমরা নির্বাচিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে খামারি নির্বাচন করে প্রডিউসার গ্রুপ গঠন করেছি। তাদেরকে একটা পর্যায়ে আমারা সংগঠন পর্যন্ত উন্নীত করব। তাদের জন্য কমিটি করে দিয়েছি, তাদের ব্যাংক একাউন্ট ওপেন করে দিয়েছি, তাদেরকে গঠন তন্ত্র দিয়েছি তারা কিভাবে নিজেরা কাজ পরিচালনা করবে, সঞ্চয় করবে ইত্যাদি এবং এর বাইরে সকল খামারিদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।

এর আওতায় উপশহর থেকে শুরু করে গ্রামভিত্তিক আমাদের যে প্রান্তিক খামারি রয়েছে তাদের জন্য দেশের ৬১টি জেলায় ৪৬৫ টি উপজেলায় ভ্যালুচেইন ভিত্তিক ৫ হাজার ৫০০টি প্রডিউসার গ্রুপ গঠনের করা হয়েছে। তাদের জন্য কমিটি করে দিয়েছি, ব্যাংক একাউন্ট করে দিয়েছি, তাদেরকে গঠনতন্ত্র দিয়েছি এবং এই গ্রুপের বাইরে যে খামারি আছে তাদের সকলের জন্যই রয়েছে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তি সহায়তা, তাদের উৎপাদিত পণ্যের হাইজিন উন্নত করা, উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো, নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে অবহিত হওয়া এবং সেই প্রযুক্তিগুলো তাদের খামারে ব্যাবহার করার ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা।

গত এক যুগে দেশে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৫১ গুণ, মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৩৫ গুণ এবং ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.০৭ গুণ। প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে বিগত সালগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহার পশুর চাহিদা দেশে পালিত পশু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতের যে বিপ্লব ঘটেছে, তার পেছনে অনেক বড় অবদান এই ক্ষুদ্র অপ্রাতিষ্ঠানিক খামারিদের। কিন্তু এই খামারিরাই উপেক্ষিত! মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিলেও তাঁর ফল পাচ্ছেন না এই খামারিরা। তাদের উন্নয়নের জন্য গৃহীত কর্মসূচির বেশিরভাগ সুযোগ-সুবিধাই তাদের পর্যন্ত পৌঁছায় না। খামারির দোরগোড়ায় বিনামূল্যে পশুর চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা এখন পর্যন্ত প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। অনেক জায়গায় রয়েছে পশুর ভ্যাক্সিন এবং ওষুধের অভাব।

মুজাহিদ-রিমনদের মত আরও অনেক ক্ষুদ্র খামারি এবং উদ্যোক্তা আছেন যারা কোনো প্রকার সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া সত্ত্বেও খামার টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। রিমনের যে ২ হাজার মুরগি মারা গিয়েছে তা শুধু রিমনেরই ক্ষতি নয়, এটা বাংলাদেশের ক্ষতি, প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতি। সরকার যদি সরাসরি তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র খামারিদের প্রতি আরও যত্নশীল না হয় তাহলে শুধু রিমনরাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত এবং উৎপাদনও ব্যাহত হবে। আর এর প্রভাব শুধু খামারি পর্যায়ে নয়, ভোক্তা পর্যায়েও পরিলক্ষিত হয়। বৃদ্ধি পায় দুধ, ডিম, মুরগিসহ প্রাণিজ পণ্যের দ্রব্যমূল্য।

মুজাহিদ জানান, বর্তমানে গরুর মধ্যে এলএসডি বা ল্যাম্পিস্কিন ডিজিজ বেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তার নিজের খামারেও বর্তমানে ২টি গরু এই রোগে আক্রান্ত। কিন্তু ভ্যাক্সিনের ঘাটতি থাকায় গরুকে ভ্যাক্সিন দিতে পারছেন না। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় অন্যান্য গরুতেও রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

পাশাপাশি পশু খাবারের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে তেমন লাভ হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “দানাদার খাবারের দাম ২০২০ সালেও ২৩ টাকা কেজি ছিল। এখন সেটার দাম ৩৫ টাকা কেজি। আগের গরুর পিছনে মাসে ৫ হাজার টাকা খরচ হলে এখন খরচ হয় ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। যে পরিমাণ খরচ বেড়েছে সে তুলনায় আমাদের লাভ বাড়েনি।”

অন্যদিকে রিমন বলেন, ৩ বছর আগে যখন ব্যবসা শুরু করেছিলাম তখন ১ বস্তা মুরগির খাবারের দাম ছিল ২ হাজার ১২০ টাকা। এখন সেই বস্তার দাম ৩ হাজার ৪২০ টাকা। যখন ২ হাজার ৫৮৫ টাকা বস্তা ছিল তখন মুরগি বিক্রি করেছি ১৩০ টাকা কেজি। এখন খাবারের দাম প্রায় ৮০০ টাকা বেশি হলেও মুরগির দাম তেমন বাড়েনি। তাই এখন আর আগের মত লাভ হয়না।”

এলডিডিপি প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পটিতে (এলডিডিপি) মোট বিনিয়োগ ৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রাণিসম্পদ সেক্টরে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি, গাভী-ষাঁড়, ছাগল-ভেড়া এবং হাঁস-মুরগির উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী দ্বারা খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন, দুগ্ধ বিপণনের জন্য বাজার সংযোগ, পণ্য বহুমুখীকরণ, মূল্য সংযোজন, স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রাণিজাত আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ফুড সেফটি নিশ্চিতকরণে উৎপাদনকারী, পরিবহনকারী, ব্যবসায়ী, কারিগর, ভোক্তা সব স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে এ প্রকল্প।

গত ৫-৬টি কোরবানির ঈদে আমরা আমাদের দেশি পশু দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করেছি।

— ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা
মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর



প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, আমরা দেশব্যাপী এই প্রান্তিক খামারিদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করে তুলছি। যার ফলে তাদের পাশাপাশি আমাদের আরেকটি জনগোষ্ঠী, আমাদের শিক্ষিত যুবসমাজ, তারাই কিন্তু এই প্রাণিসম্পদ খাতে এগিয়ে আসছে। যার ফলাফল দেশের যে প্রাণী উৎপাদন, সেই উৎপাদনে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এলডিডিপি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধাগুলো যদি প্রান্তিক পর্যায়ে এবং সারা দেশের সকল ক্ষুদ্র খামারিদের কাছে যথাযথ পৌঁছে দেয়া যায় তাহলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত যেমন সমৃদ্ধ হবে তেমনি দেশে বেকারদের সংখ্যা কমে উদ্যোগতা এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে রিমনের মত খামারিদেরকেও বিরাট অংকের লোকসান গুনতে হবে না। তাই খামারিদের দ্বারপ্রান্তে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সকল সুযোগ-সুবিধা পৌঁছাতে মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন এই খামারিরা। প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন যদি আমরা আরও বৃদ্ধি করতে চাই এবং যে লক্ষ্য নিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং এলডিডিপি প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে সে লক্ষ্যে পৌছতে চাই তাহলে রিমন, মুজাহিদের মত খামারিদের প্রতি নজর দেয়ার বিকল্প নেই।



ক্ষুদ্র খামারি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

কেস স্টাডি: প্রথম আলো কিভাবে, কেন তথ্য বিকৃতি করে

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail কেস স্টাডি: প্রথম আলো কিভাবে, কেন তথ্য বিকৃতি করে

তথ্য বিকৃতি করে চরিত্র হনন মিশনে 'প্রথম আলো'র জুড়ি মেলা ভার। যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য পরিবেশন করে বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার প্রথম আলোর অন্যতম সম্পাদকীয় নীতি। তার সর্বশেষ উদাহরণ হলো চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসককে নিয়ে অপপ্রচার। আসলে কি হয়েছিলো সেদিন? কি বলেছিলেন চট্রগ্রামের ডিসি?

আসন্ন দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে গত বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এক সম্প্রীতি সভা চলছিল। দুর্গা পূজাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার লক্ষেই চলমান এই সভাটিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমান আবার একজন রিটার্নিং কর্মকর্তাও। ওই দিন ছিল জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তাই চলমান সম্প্রীতি সভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম শ'খানেক নেতাকর্মী নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যান। তখন নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলার সভাপতি সাংসদ মোছলেম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এবং নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের নেতারা।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শফর আলী মোনাজাত পরিচালনা করেন। হঠাৎ করে মোনাজাত ধরায় সেখানে উপস্থিত সকলেই সেই মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। সেই প্রেক্ষাপটে উপস্থিত চট্টগ্রামের ডিসি এবং রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মমিনুর রহমানও মোনাজাতে কেবলমাত্র অংশগ্রহণ করেন। সেখানে ডিসি মমিনুরের আর কোনো ভূমিকাই ছিল না। আওয়ামী লীগ নেতা শফর আলী ওই মোনাজাতে নির্বাচন প্রসঙ্গে কোনো কথাও বলেননি। ওই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই ডিসি মমিনুরের মোনাজাতে অংশগ্রহণ করার বিষয়টি প্রথম আলোর কিছু  স্বার্থন্বেষী মহলের পক্ষে চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসককে বিতর্কিত করার মিশনে নামে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাতে আবারও ক্ষমতায় আসেন, সে জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। প্রশ্ন উঠেছে, কেন দেশের একটি প্রধান গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই বিকৃত করে সংবাদটি উপস্থাপন করলো? কাদের স্বার্থে কাজ করলো প্রথম আলো?

এর কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, মোহাম্মদ মমিনুর রহমান চট্টগ্রামের ডিসি হিসেবে ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি যোগদান করেন। একজন সৎ, সাহসী এবং মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রামের ডিসি হিসেবে যোগদানের পর তিনি বেশ কিছু সাহসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

প্রথমত, বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট ভূমিখেকো ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর। প্রায় তিন দশক ধরে জঙ্গল সলিমপুরের পাহাড়ে হাজারো অবৈধ স্থাপনা এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে ওঠে। সম্প্রতি সেখানে ডিসি মমিনুরের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় তিন হাজার ১০০ একর খাস জমি। এছাড়াও বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। সলিমপুরকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন ডিসি মমিনুর রহমান। এ নিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক হয়। জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের কারণেই বিএনপি-জামায়াতের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের প্রধান চক্ষুশূলে পরিণত হন ডিসি মমিনুর রহমান। ডিসি মমিনুর একজন সৎ এবং মেধাবী কর্মকর্তা হওয়ার কারণে তাঁকে কোনোভাবেই কাবু করতে পারছিলো না বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। তখন ওই সন্ত্রাসী এবং ভূমিদস্যুরা বিভিন্নভাবে ডিসি মমিনুরকে হয়রানি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় এবং ওঁত পেতে থাকে। বিএনপি-জামায়াতের ওই সন্ত্রাসী এবং ভূমিদস্যুরা স্থানীয় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এবং মাধ্যম ব্যবহার করে এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে।

দ্বিতীয়ত, চট্টগ্রামের আদালত ভবন যেখানে নির্মিত সেই ‘কোর্ট হিল’ বা ‘পরীর পাহাড়ে’ নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে ডিসি মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সঙ্গে আইনজীবীদের বিরোধ শুরু হয়। দেখা যায় যে, আইনজীবীরা সরকারের খাস জমিতে নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করে চলেছে। একইসাথে, আদালত ভবন এলাকায় অর্থাৎ ‘পরীর পাহাড়ের’ ১৩০ বছরের পুরনো দ্বিতল আদালত ভবনটিকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই বিষয়েও ডিসি মমিনুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। ফলে পাহাড়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করতে এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণে ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তাতে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে ডিসি মমিনুর রহমান আইনজীবীদের একাংশের চক্ষুশূলে পরিণত হন এবং আইনজীবীরা ডিসি পদত্যাগ দাবী করেন।

তৃতীয়ত, ডিসি মমিনুর রহমান চট্টগ্রামের বেশকিছু দুর্নীতিবাজ এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এসিল্যান্ডসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাকে বদলী করার জন্য সুপারিশ করেন। ফলে এক সঙ্গে ৬ জন এসিল্যান্ড বদলি করা হয়। দূর্নীতি মুক্ত হয় ভূমি অফিস।

ডিসি মমিনুর রহমানের এই সাহসী কর্মকাণ্ডের ফলে তিনি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরাগভাজনে পরিণত হন এবং তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রে তৈরি করে। অবশেষে সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি প্রকাশ্য রূপ দেখা যায় দেশের একটি প্রধান গণমাধ্যমে। এই ষড়যন্ত্রের একটি আভাস অবশ্য এর আগেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পাওয়া গিয়েছিল। জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীরা সবসময় নাশকতার প্রস্তুতি এবং ষড়যন্ত্র করছে, ডিসি মমিনুর রহমানের কর্মকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা চলছে এমনসব খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্রেরই বাস্তবায়ন করে দেশের একটি প্রধান গণমাধ্যম।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক   ডিসি   মোহাম্মদ মমিনুর রহমান   প্রথম আলো  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

দুর্নীতি ও দখল বাণিজ্য: এক এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক

প্রকাশ: ০৩:০২ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail দুর্নীতি ও দখল বাণিজ্য: এক এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক

৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি এবং ভূমি দখলের অভিযোগে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এমপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানের প্রতিবেদন পাবার পর এ সম্পর্কে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। ওই এমপি হলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের নাইমুর রহমান দুর্জয়। দুর্নীতি দমন কমিশনে যে সমস্ত অভিযোগ এসেছে সে সমস্ত অভিযোগে বলা হয়েছে যে, নানা জায়গায় অবৈধ দখল এবং চাকরীর প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ।

এই এমপি নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে কমিশনে অভিযোগ আছে। এছাড়াও মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে যে, আরিচা ঘাটের কাছে নদীর ভাঙন ঠেকানোর নাম করে সরকারি টাকায় বিআইডব্লিউটিএ'র ড্রেজার দিয়ে যমুনা নদীর বালু উত্তোলন করেছেন তিনি। আর সেই বালু পরিত্যক্ত এলাকায় ইট-ভাটায় মজুত করে বিক্রি করেছেন। এসব দুর্নীতির কারণে এখন আরিচা ঘাট ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগ গুলোতে বলা হয়েছে যে, নিকট আত্মীয়দের দিয়ে তার নির্বাচনী এলাকায় জমি দখল করেছেন এবং জমি দখলে একটি সক্রিয় চক্র গড়ে উঠেছে ওই আত্মীয়ের নেতৃত্বে। তার একজন নিকট আত্মীয় তায়েবুর রহমান টিপুর নির্দেশে এই চক্রটি পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে এবং টিপু ছাড়া শিবালয় এলাকায় কোনো জমি কেউ কেনা-বেচা করতে পারে না বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এছাড়াও, এই এলাকায় কেউ জমি কিনতে গেলে প্রতি শতাংশ জমির উপর চাঁদা দাবি করা হয় এবং এই চাঁদা না দিলে জমি বিক্রিতে বাধা দেয়া হয়।

আলোচ্য এমপির বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জে শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলায় ঠিকাদারদের কাছ থেকেও উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ঠিকাদার দুর্নীতি দমনে অভিযোগ করেছে যে, তাদের কাছে অবৈধভাবে টাকা চাওয়া হয়েছিলো। শুধু যে এমপি একাই অনিয়ম করেছেন এমনটি নয়, দুর্জয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে অবৈধ সম্পদ গড়ার। দুর্জয়ের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও ভূমি অফিসে আধিপত্য বিস্তার এবং এলাকায় শতাধিক বিঘা খাসজমি দখলে অভিযোগ রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সূত্র বলছে যে, এমপি হওয়ার পর আট বছরে তার আট গুণ আয় বেড়েছে। অথচ হলফনামায় স্ত্রী ফারহানা রহমান হ্যাপির নামে কোনো আয়ের উৎস দেখানো হয়নি। এটি দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে শাস্তিমূলক অপরাধ বলেও জানা গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগে বলা হয়েছে যে, মানিকগঞ্জ-১ আসনের এমপি মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এই অভিযোগগুলো অনুসন্ধান হচ্ছে। অনুসন্ধানের পর যদি এই অভিযোগ সম্বন্ধে সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষ এই নিয়ে তদন্ত হবে এবং তদন্তের পরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানিকগঞ্জ-১   নাইমুর রহমান দুর্জয়   এমপি   দুর্নীতি   দুদক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

র‍্যাবের মহাপরিচালক হচ্ছেন এম খুরশীদ হোসেন

প্রকাশ: ১১:২০ পিএম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail র‍্যাবের মহাপরিচালক হচ্ছেন এম খুরশীদ হোসেন

অ্যাডিশনাল আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এম খুরশীদ হোসেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। সরকারের একাধিক সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

১২তম ব্যাচের এই মেধাবী কর্মকর্তার বাহিনী ও সরকারে সুনাম রয়েছে। তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। র‍্যাবের ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন পুলিশের নতুন আইজি হওয়ার প্রেক্ষিতে র‍্যাবের মহাপরিচালকের পদটি শূন্য হবে। ফলে তিনি র‍্যাব মহাপরিচালকের (ডিজি) দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন