ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

অসহায় ক্ষুদ্র খামারিরা, পাচ্ছেন না কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা

প্রকাশ: ০৬:০০ পিএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতের যে ব্যাপক বিপ্লব আজ দৃশ্যমান এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ক্ষুদ্র অপ্রাতিষ্ঠানিক খামারিদের। কিন্তু এসমস্ত খামারিদের টিকে থাকা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, তারা কোন রকম সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। সরেজমিনে গিয়ে খামারিদের নানা প্রতিকূলতার দৃশ্য তুলে ধরেছেন বাংলা ইনসাইডারের বিশেষ প্রতিবেদক  আসাদুজ্জামান খান

রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ইসলাম মুজাহিদ, থাকেন মোহাম্মদপুরে। নিজের জমানো কিছু টাকা দিয়ে শখের বসেই একটি গরু কিনলেন। গরুর লালন-পালন সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না তাঁর। তাই ইন্টারনেটের সহযোগিতায় গরু লালন-পালনের সম্পর্কে বিভিন্ন ভিডিও দেখে অনেক কিছু শিখেন এবং সে অনুযায়ী লালন-পালন শুরু করেন। ২০১৮ সালের কোরবানিতে সেই গরু বিক্রি করে বেশ লাভও করেন মুজাহিদ। উৎসাহিত হয়ে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে গরু মোটাতাজারকণের উপর প্রশিক্ষণ নেন এবং কিছু মূলধন জোগাড় করে ১০ টি গরু দিয়ে শুরু করেন গরু মোটাতাজাকরণ খামার। পড়াশোনা শেষে একজন বড় খামারি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন মুজাহিদ। ৱৰ্তমানে তার খামারে ৪১টি গরু রয়েছে এবং সামনের বছর কোরবানিকে কেন্দ্র করে আরও গরু কেনার পরিকল্পনাও করছেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার লক্ষ্মীনগর গ্রামের বেকার কিশোর রিমন আহমেদ। পড়ালেখা না থাকায় ভালো কোনো কাজও পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই তাকে বিদেশে পাঠাতে চায় তাঁর পরিবার। কিন্তু রিমন বিদেশে যেতে চায় না, সে দেশে থেকেই কিছু একটা করবে বলে জানায়। রিমন এলাকার বিভিন্ন খামারিদের কাছ থেকে জানতে পারে যে, পোল্ট্রি খামার একটি লাভজনক ব্যবসা। এরপর রিমন কিছু টাকা জোগাড় করে অল্প পরিসরে একজন বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে পোলট্রি খামার শুরু করেন। সেখানে বেশকিছু টাকা লাভ হলে সেই টাকা জমিয়ে নিজ উদ্যোগে খামার আরও বড় করেন। কিন্তু হঠাৎ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খামারে থাকা ২ হাজার মুরগি মারা যায়। ফলে তাঁর লোকসানের পরিমাণ প্রায় তিন লক্ষ টাকা।

২০২১ সালে আমার একদিনে প্রায় ২ হাজার মুরগি মারা গেসে। ব্যবসার উপরে থাইকা মন উইঠা গেসে। ব্যবসা আর করতেই মন চায় না।

— পোলট্রি খামারি রিমন আহমেদ



মুজাহিদ, রিমনরাই দেশের অধিকাংশ খামারির প্রতিচ্ছবি। তবে দুইজনের চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। একজন সফল, অন্যজন ব্যর্থ। তবে একটি ক্ষেত্রে তাদের মিল রয়েছে। এদের কেউই সরকার থেকে কোন প্রকার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা পায়নি। এই খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার লক্ষে প্রাণিসম্পদ এবং মৎস্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প ২০১৯ সালে চালু করা হয়। 'সকলের জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিতকরণ', এই ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরাপদ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধিসহ সংরক্ষণ, রোগনিয়ন্ত্রণ ও জাত উন্নয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রাব্বানী বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) গ্রাম ভিত্তিক আমাদের যে খামারি; শহর উপ-শহর থেকে শুরু করে গ্রাম অবধি যে খামারি, যারা প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন করে তাদের জীবিকা হিসেবে, তাদেরকে আমরা দুইভাবে সহযোগিতা দিচ্ছি। একটি হলো আমরা নির্বাচিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে খামারি নির্বাচন করে প্রডিউসার গ্রুপ গঠন করেছি। তাদেরকে একটা পর্যায়ে আমারা সংগঠন পর্যন্ত উন্নীত করব। তাদের জন্য কমিটি করে দিয়েছি, তাদের ব্যাংক একাউন্ট ওপেন করে দিয়েছি, তাদেরকে গঠন তন্ত্র দিয়েছি তারা কিভাবে নিজেরা কাজ পরিচালনা করবে, সঞ্চয় করবে ইত্যাদি এবং এর বাইরে সকল খামারিদের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।

এর আওতায় উপশহর থেকে শুরু করে গ্রামভিত্তিক আমাদের যে প্রান্তিক খামারি রয়েছে তাদের জন্য দেশের ৬১টি জেলায় ৪৬৫ টি উপজেলায় ভ্যালুচেইন ভিত্তিক ৫ হাজার ৫০০টি প্রডিউসার গ্রুপ গঠনের করা হয়েছে। তাদের জন্য কমিটি করে দিয়েছি, ব্যাংক একাউন্ট করে দিয়েছি, তাদেরকে গঠনতন্ত্র দিয়েছি এবং এই গ্রুপের বাইরে যে খামারি আছে তাদের সকলের জন্যই রয়েছে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তি সহায়তা, তাদের উৎপাদিত পণ্যের হাইজিন উন্নত করা, উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো, নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে অবহিত হওয়া এবং সেই প্রযুক্তিগুলো তাদের খামারে ব্যাবহার করার ব্যাপারে তাদের উৎসাহিত করা।

গত এক যুগে দেশে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৫১ গুণ, মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৭.৩৫ গুণ এবং ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.০৭ গুণ। প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ফলে বিগত সালগুলোতে পবিত্র ঈদুল আজহার পশুর চাহিদা দেশে পালিত পশু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতের যে বিপ্লব ঘটেছে, তার পেছনে অনেক বড় অবদান এই ক্ষুদ্র অপ্রাতিষ্ঠানিক খামারিদের। কিন্তু এই খামারিরাই উপেক্ষিত! মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিলেও তাঁর ফল পাচ্ছেন না এই খামারিরা। তাদের উন্নয়নের জন্য গৃহীত কর্মসূচির বেশিরভাগ সুযোগ-সুবিধাই তাদের পর্যন্ত পৌঁছায় না। খামারির দোরগোড়ায় বিনামূল্যে পশুর চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা এখন পর্যন্ত প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। অনেক জায়গায় রয়েছে পশুর ভ্যাক্সিন এবং ওষুধের অভাব।

মুজাহিদ-রিমনদের মত আরও অনেক ক্ষুদ্র খামারি এবং উদ্যোক্তা আছেন যারা কোনো প্রকার সরকারি সহযোগিতা না পাওয়া সত্ত্বেও খামার টিকিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। রিমনের যে ২ হাজার মুরগি মারা গিয়েছে তা শুধু রিমনেরই ক্ষতি নয়, এটা বাংলাদেশের ক্ষতি, প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষতি। সরকার যদি সরাসরি তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে এই ক্ষুদ্র খামারিদের প্রতি আরও যত্নশীল না হয় তাহলে শুধু রিমনরাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত এবং উৎপাদনও ব্যাহত হবে। আর এর প্রভাব শুধু খামারি পর্যায়ে নয়, ভোক্তা পর্যায়েও পরিলক্ষিত হয়। বৃদ্ধি পায় দুধ, ডিম, মুরগিসহ প্রাণিজ পণ্যের দ্রব্যমূল্য।

মুজাহিদ জানান, বর্তমানে গরুর মধ্যে এলএসডি বা ল্যাম্পিস্কিন ডিজিজ বেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তার নিজের খামারেও বর্তমানে ২টি গরু এই রোগে আক্রান্ত। কিন্তু ভ্যাক্সিনের ঘাটতি থাকায় গরুকে ভ্যাক্সিন দিতে পারছেন না। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় অন্যান্য গরুতেও রোগ ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

পাশাপাশি পশু খাবারের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে তেমন লাভ হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “দানাদার খাবারের দাম ২০২০ সালেও ২৩ টাকা কেজি ছিল। এখন সেটার দাম ৩৫ টাকা কেজি। আগের গরুর পিছনে মাসে ৫ হাজার টাকা খরচ হলে এখন খরচ হয় ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা। যে পরিমাণ খরচ বেড়েছে সে তুলনায় আমাদের লাভ বাড়েনি।”

অন্যদিকে রিমন বলেন, ৩ বছর আগে যখন ব্যবসা শুরু করেছিলাম তখন ১ বস্তা মুরগির খাবারের দাম ছিল ২ হাজার ১২০ টাকা। এখন সেই বস্তার দাম ৩ হাজার ৪২০ টাকা। যখন ২ হাজার ৫৮৫ টাকা বস্তা ছিল তখন মুরগি বিক্রি করেছি ১৩০ টাকা কেজি। এখন খাবারের দাম প্রায় ৮০০ টাকা বেশি হলেও মুরগির দাম তেমন বাড়েনি। তাই এখন আর আগের মত লাভ হয়না।”

এলডিডিপি প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পটিতে (এলডিডিপি) মোট বিনিয়োগ ৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের বিনিয়োগ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রাণিসম্পদ সেক্টরে সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি, গাভী-ষাঁড়, ছাগল-ভেড়া এবং হাঁস-মুরগির উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি প্রদর্শনী দ্বারা খামারিদের দক্ষতা উন্নয়ন, দুগ্ধ বিপণনের জন্য বাজার সংযোগ, পণ্য বহুমুখীকরণ, মূল্য সংযোজন, স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রাণিজাত আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি ফুড সেফটি নিশ্চিতকরণে উৎপাদনকারী, পরিবহনকারী, ব্যবসায়ী, কারিগর, ভোক্তা সব স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে এ প্রকল্প।

গত ৫-৬টি কোরবানির ঈদে আমরা আমাদের দেশি পশু দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করেছি।

— ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা
মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর



প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, আমরা দেশব্যাপী এই প্রান্তিক খামারিদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করে তুলছি। যার ফলে তাদের পাশাপাশি আমাদের আরেকটি জনগোষ্ঠী, আমাদের শিক্ষিত যুবসমাজ, তারাই কিন্তু এই প্রাণিসম্পদ খাতে এগিয়ে আসছে। যার ফলাফল দেশের যে প্রাণী উৎপাদন, সেই উৎপাদনে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এলডিডিপি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধাগুলো যদি প্রান্তিক পর্যায়ে এবং সারা দেশের সকল ক্ষুদ্র খামারিদের কাছে যথাযথ পৌঁছে দেয়া যায় তাহলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাত যেমন সমৃদ্ধ হবে তেমনি দেশে বেকারদের সংখ্যা কমে উদ্যোগতা এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে রিমনের মত খামারিদেরকেও বিরাট অংকের লোকসান গুনতে হবে না। তাই খামারিদের দ্বারপ্রান্তে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সকল সুযোগ-সুবিধা পৌঁছাতে মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন এই খামারিরা। প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন যদি আমরা আরও বৃদ্ধি করতে চাই এবং যে লক্ষ্য নিয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং এলডিডিপি প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে সে লক্ষ্যে পৌছতে চাই তাহলে রিমন, মুজাহিদের মত খামারিদের প্রতি নজর দেয়ার বিকল্প নেই।



ক্ষুদ্র খামারি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

‘ফখরুল, এবার টোপ গিলিস না’

প্রকাশ: ০৯:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলের মহাসচিব এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এই ব্যস্ততার মধ্যেই আজ নিম্ন আদালতে গিয়েছিলেন একটি মামলার হাজিরা দিতে। ১০ বছর আগে গাড়ি পোড়ানোর মামলার অন্যতম আসামি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ তার আদালতে হাজিরা দেওয়ার দিন ছিলো। এ উপলক্ষে আদালতে গিয়েছিলেন। যথারীতি বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে স্লোগানে মুখরিত করেন। কিন্তু এই সময়ে ঘটে এক অনভিপ্রেত ঘটনা। বিএনপির এক কর্মী হঠাৎ করে চিৎকার করতে থাকেন। তার চিৎকারে বিএনপি নেতাদের স্লোগানও কিছুক্ষণের জন্য থেমে যায়। তারপরে শোনা যায় ওই কর্মী বলছেন, ‘ফখরুল এবার আর দালালি করিস না, এবার আর ম্যানেজ হয়ে যাস না, এবার টোপ গিলিস না।’ এই সমস্ত কথাগুলো অবিরতভাবে তিনি বলছিলেন। তার এই বক্তব্যের পরপরই কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে ঘিরে ধরে এবং তাকে হালকা চড়-থাপ্পড় দেয়। কিন্তু এরপরও ওই কর্মী চিৎকার করতে থাকে।

পরবর্তীতে ওই কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিনি বিএনপির সূত্রাপুর এলাকায় একজন কর্মী। ইশরাক হোসেন তার প্রিয় নেতা। মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে তার অনেক অভিযোগ। তিনি জানিয়েছেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলামের কারণেই বিএনপি এই সর্বনাশ হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কারণে ২০১৮ সালের নির্বাচনে যাওয়া হয়েছিলো। ওই নির্বাচনে যাওয়াটা ছিল বিএনপির সর্বনাশ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কিভাবে ড. কামাল হোসেনের মতো আওয়ামী লীগের নেতারা পায়ের নিচে যেইয়ে বসলেন, সেটিতেও ক্ষুব্ধ ওই বিএনপির কর্মী। তার মতে ওই সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ম্যানেজ হয়েছিলেন। সরকার যখনই সংকটে পড়ে তখনই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ম্যানেজ করে ফেলে। বিএনপির ওই কর্মীর ধারণা, শেষ পর্যন্ত বিএনপির সমাবেশের স্থান পল্টন থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্থানান্তরিত হবে। তার মতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত চালাক। তিনি প্রথমে নিজে কিছু বলেন না। তিনি আগে সরকারের পক্ষ থেকে ম্যানেজ হয়ে যান, তারপর তিনি লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন এবং তারেক জিয়াকে নানা রকম কিছু বুঝিয়ে রাজি করান। তারপর তারেক জিয়া অন্যান্য নেতাদেরকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানান। এভাবেই ফখরুল তার ইচ্ছা বাস্তবায়ন করে বলে ধারণা ওই বিক্ষুব্ধ কর্মী।

ওই কর্মী বলছেন যে, এবার যদি আমরা নয়াপল্টনে সমাবেশ না করতে পারি তাহলে আমাদের এই কয়েক মাসের সব অর্জন বিফলে চলে যাবে। কাজেই, পল্টনে আমাদের সমাবেশ করতেই হবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদি ঠিক থাকেন তাহলে পল্টনের সমাবেশে আমাদের কোনো বাধা নেই। কারণ, আমরা সেটা করতে পারবো। আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদি সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন, তিনি তারেক জিয়াকে কিছু একটা বুঝিয়ে সমাবেশের স্থান আবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে যাবে, এতে বিএনপি লাভের চেয়ে ক্ষতি হবে বেশি। এ কারণে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তিনি সাবধান বাণী করে দিয়েছেন। তার দাবি তিনি একা না, বিএনপির অধিকাংশ কর্মীরাই মনে করেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গোপনে গোপনে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেন। আর এটাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শঙ্কার কারণ। যেকোনো মুহূর্তে তিনি পল্টি দিতে পারেন বলেও ওই কর্মীর ধারণা। কারণ ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট গঠন। ২০১৮ সালের নির্বাচন করা এবং সংসদে বিএনপির সদস্যদেরকে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি সবই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করেছেন এবং সরকারকে খুশি করার জন্যই করেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সরকারের গোপন এবং গভীর সম্পর্ক আছে বলে ওই নেতার ধারণা। তবে ইশরাকের অনুসারী এই নেতা বলেছেন, শেষ পর্যন্ত যদি ফখরুল মির্জা ফখরুল এরকম কোনো কান্ড করেন তাহলে বিএনপি নেতারাই তাকে প্রতিরোধ করবে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

অভিজাত এসকর্ট গার্লরা যুক্ত হয়েছেন সরকারবিরোধী অপপ্রচার মিশনে

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সরকারের বিরুদ্ধে এখন তথ্য সন্ত্রাস চলছে। বিদেশে বসে বিভিন্ন পলাতক চিহ্নিত আসামিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার অপপ্রচার করছে। গত এক বছর ধরে বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি সরকারের বিরুদ্ধে গোয়েবলসীয় মিথ্যাচারের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। যত নির্বাচন এগিয়ে আসছে তত সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম মিথ্যাচার প্রতিদিন বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লন্ডন এবং প্যারিস থেকে এই সমস্ত তথ্য সন্ত্রাসীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে এক রকমের সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছে। আর সেই সাইবার যুদ্ধে এখন নতুন অস্ত্র হিসেবে আনা হচ্ছে অভিজাত এলাকার এসকর্ট গার্লদেরকে। যে সমস্ত নারীরা অভিজাত এলাকায় চলাফেরা করেন, ধনী মানুষদেরকে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করেন, রাজনীতিবিদ এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে নানা রকম সম্পর্কের কথা বলে বিভিন্ন মানুষকে ভয়-ভীতি দেখান এবং কাজ হাসিল করে নেন, এরকম কয়েকজন এসকর্ট গার্ল এখন সাইবার সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন অসত্য প্রচারের জন্য সামনাসামনি আসছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের হুইপ শামসুল হকের পুত্র শারুনের প্রাক্তন স্ত্রী সাইফা মিম, পিয়াসাসহ আরও বেশ কয়েকজন। তবে সাইফা মিম এবং পিয়াসা ইতিমধ্যেই এই সমস্ত অপপ্রচারকারীদের কাছে নিজেদেরকে মেলে ধরেছেন এবং এমন কিছু কুৎসিত, অসত্য বানোয়াট তথ্য নিজেদের বয়ানে প্রকাশ করছেন যে সমস্ত তথ্যগুলো সরকারকে বিব্রত করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সাইফা মিম তার প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ করে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছে। সাক্ষাৎকারটি অপপ্রচারকারীদের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ইতিমধ্যে প্রচারিত হয়েছে। এটি থেকে সুস্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, নির্বাচনের আগে সরকারের ঘনিষ্ঠ, প্রভাবশালী এবং সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই এরা এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। সাইফা মিম এবং পিয়াসা দুজনই অভিজাত এলাকার এসকর্ট গার্ল। তাদের মূল পেশা হলো অভিজাত এলাকাগুলোতে খুঁজে খুঁজে প্রভাবশালী এবং ধনী ব্যক্তিদেরকে ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, তাদের সঙ্গে নানারকম কৌশলে ঘনিষ্ঠ হওয়া বা একটা দুটো ফটোসেশন করা বা কোনো অভিজাত পার্টিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, পরবর্তীতে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করা এবং তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। অভিজাত এলাকার বিভিন্ন পার্টিতে এরা যান এবং চোখ রাখেন ধনী-প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে। কারণে-অকারণে এরা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন এবং তাদের অসতর্ক মুহূর্তে তাদের সঙ্গে দুই একটা ছবি তোলেন বা এই সমস্ত পার্টিগুলোতে গিয়ে তাদেরকে প্রলুব্ধ করার করতে চান। আর এর মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের একটা মিশন তৈরি করেন। এখন এই মিশন বন্ধ হয়েছে।

গত পহেলা আগস্ট রাজধানীর গুলশানে ভাড়া করা বাসা থেকে ফারিয়া মাহবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং সে সময় তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মদ পাওয়া গিয়েছিলো। পিয়াসার বিরুদ্ধে তিনটি মামলাও দায়ের করা হয়েছিলো। কিন্তু এই মামলাগুলো থেকে পিয়াসা জামিন পান। একইভাবে সাইফা মিমও একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর তিনি মুক্ত হয়েছেন। মুক্ত হওয়ার পর এখন সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অস্ত্র হিসেবে তারা ব্যবহৃত হচ্ছেন। সাইফা মিমও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং নিজেদের বয়ানে অসত্য, ভিত্তিহীন, কুৎসিত, বানোয়াট মিথ্যাচার করছেন যে সমস্ত মিথ্যাচার গুলো প্রচারিত হলে সরকার এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হয়। এই মিশন অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। ইতিমধ্যে যারা বাংলাদেশ থেকে এই সমস্ত তথ্য সন্ত্রাসীদের তথ্য সরবরাহ করছে তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো। একজন তথ্য সন্ত্রাসের বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় তাহলে সাইফা মিম বা পিয়াসাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না কেন, সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

শিশির মনির এবং প্রথম আলোর জামায়াত কানেকশন

প্রকাশ: ০১:১৩ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবিতে সমগ্র বাংলাদেশ যখন উত্তাল। সবাই যখন ঘৃণ্য অপরাধীদের বিচারের দাবীতে ঐক্যবদ্ধ, তখন যুদ্ধাপরাধী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে কিছু আইনজীবী যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। সেই সময় ব্যারিস্টার রাজ্জাকের সহকারী হিসেবে আলোচনায় আসেন শিশির মনির।

জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্র শিবিরের ২০০৯ সালের কেন্দ্রীয় কমিটির এই সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এসময় জামাতের সিদ্ধান্তে তাকে লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে পাঠানো হয়।

২০১২ সালে দেশে ফিরে তিনি সুপ্রিম কোর্টে প্রাকটিস শুরু করেন। বর্তমানে শিশির জামায়াতের ল উইংয়ের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ও আর্থিক খাত নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে তার অন্যতম কুশীলবের ভূমিকায় রয়েছেন এই শিশির মনির। ইসলামি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে সম্প্রতি হাইকোর্টে এক রীট করে আলোচনায় এসেছেন শিশির মনির। মূলত জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে এই রীট করা হয়েছে। শিশির মনিরের এই রীট হয়েছে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’র রিপোর্টের ভিত্তিতে। এই রীট পিটিশনের পর প্রশ্ন উঠেছে, প্রথম আলো কি তাহলে জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মিশনে নেমেছে? ইসলামী ব্যাংক জামাতের হাতছাড়া হবার প্রেক্ষিতে জামায়াত বিভিন্নভাবে এই ব্যাংকটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। এখন প্রথম আলো এই অপপ্রচার মিশনে যুক্ত হয়েছে। আর শিশির মনির এটাকে আদালতে নিয়ে গেছে।

তরুণ প্রজন্মের কাছে নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে যুদ্ধপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫শে মার্চ ট্রাইবুনাল গঠন করে আওয়ামী লীগ সরকার। শুধুমাত্র আইনী সাহায্যই নয়, দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে নানা বিতর্কিত ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন শিশির মুনির। এভাবে দেশে বসেই বিচার কাজকে বিতর্কিত করতে সে বিদেশে তার নেটওয়ার্ক কাজে লাগান শিশির। আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালান তিনি। প্রশ্ন উঠছে, সেই বিতর্কিত ব্যাক্তির সংগে ‘প্রথম আলো’র সখ্যতার রহস্য কি? 


শিশির মনির   প্রথম আলো  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

‘আমূলের’ মত দুগ্ধশিল্পে বিপ্লব ঘটাবে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

কলকাতায় আমার প্রথম সকাল। একটি বাংলা হোটেল থেকে নাস্তা সেড়ে চা খেতে বসলাম পাশের দোকানে। চায়ের পাশাপাশি ছোট ছোট গ্লাসে বিক্রি হচ্ছে দুধ। দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২.৫ টাকা। কৌতুহল বসত আমিও এক গ্লাস নিলাম। হালকা চিনি দিয়ে জাল দেয়ায় মিষ্টি স্বাদ। কেউ কেউ দুধের সাথে রুটি খেয়ে নাস্তাও সেরে নিচ্ছেন। সময় বাড়ার সাথে সাথে দোকানের ভীড়ও বাড়তে শুরু করল। কলকাতার রাস্তা ধরে হাটলে প্রায়ই দেখা মিলবে এমন সারি সারি দুধ ও মিষ্টান্নের দোকান। মিষ্টিজাত পণ্যের দাম এতো কম কিভাবে জানতে চাইলে এক দোকানদার জানান খামারি থেকে সরাসরি তার কাছে দুধ আসে তাই দুধ কম দামে পাওয়া যায়।

কিছু বিষয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি সরেজমিনে চলে যাই হুগলি জেলার তারকেশ্বর গ্রামে। সেখানে আমূলসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের ভিলেজ মিল্ক কালেকশন পয়েন্ট পরিদর্শন করি। সেখানের এক কর্মকর্তা বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, “আমূলসহ কিছু বেসরকারি ভেন্ডর যেভাবে কাজ করছে তার জন্যই মূলত পুরো ভারতে দুধের এই বিপ্লব। আমরা গ্রামের প্রত্যন্ত পর্যন্ত গিয়ে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করি। আমাদের নিজেদের কালেকশন বুথ আছে। কালেকশন ম্যান আছে। খামারিদের কষ্ট করতে হয় না। তারা শুধু তাদের দুধ নিয়ে আসে এবং দুধের মান অনুযায়ী ন্যায্য মুল্য নিয়ে যায়।

ঐ গ্রামে আমূল ছাড়াও ছোট বড় আরো অনেক ডেইরি দেখা যায়। কপিলা ডেয়ারি প্রতিষ্ঠাতার সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকার থেকে তাদের জন্য বিভিন্ন রকমের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা এইসব প্রশিক্ষণ কাছে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম কাজে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করছে। এছাড়াও তিনি নিজে দেখিয়েছেন কিভাবে তিনি খামারিদের দুধগুলো ফ্যাট মেপে তার দাম নির্ধারণ করেছেন।

বর্তমানে দুধ উৎপাদনে বিশ্বের এক নম্বর দেশ ভারত। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কর্পোরেট পরিসংখ্যান ডাটাবেস (এফএওএসটিএটি) এর তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ভারত রেকর্ড পরিমাণ ২০৯৯.৬ লক্ষ টন দুধ উৎপাদন করে যা ২০১৪-২০১৫ সাল থেকে ৬০০ লক্ষ টন বেশি। বিশ্বের মোট দুধ উৎপাদনের ২৩ শতাংশ শুধু ভারত থেকেই উৎপন্ন হয়। ভারতের ডেইরিই হলো একক বৃহত্তম কৃষিপণ্য যার অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে ৫ শতাংশ এবং গত ৫ বছরে যার চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যার আকার প্রায় ১৫৯.১৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের বর্তমান এই সমৃদ্ধ দুগ্ধ শিল্পের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান যে ব্যাক্তির তিনি হলেন ড. ভার্গিস কুরিয়েন। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে দুধের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা ও সহজলভ্যতার বিষয়টি তিনি দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর নিষ্ঠা, গবেষণা আর অক্লান্তিক প্রচেষ্টায় ভারত আজ পৃথিবীর মধ্যে এক নম্বর দুধ উৎপাদনকারী দেশ। প্রচুর পরিমাণ দুধ উৎপাদন হওয়ায় দুধের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনেও ভারত অন্যতম।

প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে দুধের চাহিদা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার টন। কিন্তু ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে দুধ উৎপাদন হয় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টন। যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ লক্ষ টন কম। দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে না পারার পেছনে খারামিদের দুধের ন্যায্য মুল্য না পাওয়া এবং মধ্যস্থতাকারী দ্বারা শোষিত হওয়াকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজারে যেদিন বেশি দুধ ওঠে ওইদিন দামই পাওয়া যায় না। যে দাম পাই সেই বিক্রি করি।

— বাতেন মিয়া,
ক্ষুদ্র খামারি


১৯৪৫ সালে ভারতের গুজরাটের দুগ্ধ খামারিরাও একই শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। দুধ বাজার ব্যবস্থা পুরোপুরি ঠিকাদার এবং মধ্যস্থতাকারী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ‘পেস্টনজি এডুলজি’ নামক প্রতিষ্ঠানের চতুর ব্যাবসায়ীরা খামারিদের ওপর একচেটিয়া রাজত্ব কায়েম করেছিল, যেখানে তাদের নির্ধারিত দামেই খামারিদের দুধ বিক্রি করতে হতো। কিন্তু দির্ঘদিন চলতে থাকা এই শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয় খামারিরা। তাদের এই আন্দোলনের নায়ক ছিলেন ত্রিভুবন দাস প্যাটেল। খামারিদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তাদের নেতা ত্রিভুবন দাস প্যাটেল তখন কৃষককে ঐক্যবদ্ধ করে পেস্টনজির শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়েছিলেন। তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমবায় তৈরি করেন। ডেইরি খামারিদের ভাগ্যোন্নয়নে তারা যৌথভাবে কায়রা জেলা সমবায় দুধ উৎপাদনকারী ইউনিয়ন লিমিটেড (কেডিসিএমপিইউএল) নামে সমবায় তৈরি করে আন্দোলন শুরু করেন, যেটিকে পরবর্তীকালে ড. ভার্গিস কুরিয়েন ‘আমূল’ নামে নামকরন করেন।

ড. কুরিয়েন ত্রিভুবন দাস প্যাটেলকে নিয়ে যে সমবায় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন সেখানে সমবায়ীদের ভূমিকা ছিল খামারীদের কাছে থেকে দুধ সংগ্রহ করা এবং দুধের গুণমান অনুযায়ী তাদের যথাযথ মূল্য প্রদান করা। দ্বিতীয় ধাপে সেই দুধ চলে যায় জেলা পর্যায়ের সমবায়ে যেখানে দুধ এনে প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং বাজারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে স্টেট লেভেল মিল্ক ফেডারেশন, যেখানে দুধ এবং বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্যের যেমন: পনির, মাখন, ঘি ইত্যাদির মার্কেটিং করা এবং এদের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়। এই ৩ ধাপের প্রক্রিয়াটি আমূল প্যাটার্ন নামেও পরিচিত। এর ফলে মধ্যস্থতাকারীকে পুরো ব্যাবস্থা থেকে নির্মুল করা সম্ভব হয় এবং খামারিরা দুধের ন্যায্য মুল্য পেতে শুরু করে। এতে করে আরো খামারিরা উৎসাহিত হয় এবং দুধ উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

এই আমূল প্যাটার্ন খামারি এবং গ্রাহক উভয়ের জন্যই লাভজনক হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পরে পুরো ভারতজুড়ে। পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন শহর এবং গ্রাম ঘুরে দেখলে এই দুগ্ধ সমবায়গুলো দেখতে পাওয়া যায়। দুধ উৎপাদনকারী খামারিরা কোন ঠিকাদার কিংবা মধ্যস্থতাকারী ছাড়া সরাসরি তাদের দুধ এই সমবায়ে বিক্রি করেন। মেশিনের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ দুধের মান এবং ফ্যাটের পরিমাণ নির্নয় করা হয় এবং সেই অনুযায়ী দুধের যে দাম আসে সেই দামে তারা তাদের দুধ বিক্রি করতে পারছে। এর ফলে তারা শোষণের শিকার হয় না এবং আর্থিকভাবেও স্বচ্ছল থাকেন।

কলকাতার ডেইরী প্রতিষ্ঠান এক্সপ্রেস ডেইরীর সিইও এস.কে সিং বলেন, ডেইরি খাতের উন্নয়নে প্রাইভেট ভেন্ডর এবং গ্রামীণ খামারিরা নিজেরাতো অবদান রাখছেনই, পাশাপাশি সরকারও তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছে। খামারিদের বীমার ব্যাবস্থা করে দিয়েছে যাতে গরু মারা গেলেও তারা ক্ষতির শিকার না হয়।

এস.কে সিং বলেন, প্রাইভেট কিংবা সরকারি ভেন্ডর গ্রামে গ্রামে থেকে দুধ সংগ্রহ করে করে দুধ চিলিং রুমে সংরক্ষণ করে রাখেন এবং খামারির টাকা সাথে সাথে তাকে পরিশোধ করে দেন। এতে করে খামারিরা উৎসাহিত হয় এবং আরও বেশি দুধ উৎপাদনে আগ্রহি হয়। ৩০ দিন খামারির কাছ থেকে আমি দুধ নিলাম টাকা দিলাম না, তাহলে ওই গরিব খামারি গরুকে খাওয়াবে কি? অসুখ হলে চিকিৎসা কিভাবে করাবে?

তিনি জানান তাদের এক্সপ্রেস ডেইরী গ্রামীণ খামারিদের থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করেন। সেই দুধ তারা পাস্তুরিত করে রাখেন। মহিষের দুধ থেকে তারা ক্রিম আলাদা করে ঘি, মাখন ইত্যাদি পন্য তৈরি করছেন। যা তারা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন। এর ফলে লাভবান হচ্ছেন সবাই।

বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখলে দেখা যায়, দুধ উৎপাদনকারী খামারিদের দুর্দশা এবং হতাশা। কেউ কেউ সরাসরি ক্রেতার কাছে দুধ বিক্রি করতে পারলেও, বেশিরভাগই ঠিকাদার কিংবা মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরশীল। সকালে গোয়ালা এসে দুধ নিয়ে যায় এবং তাদের নির্ধারিত দামেই খমারিদের দুধ বিক্রি করতে হয় যা বাজারমূল্য থেকে অনেক কম। সেই দুধের টাকাও খামারিরা পায় মাস শেষে। অনেকের পক্ষেই কোনো টাকা ছাড়া সারা মাস গরুর খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের খামারি মাহফুজা বেগম জানান গ্রামে দুধ বিক্রির গ্রাহক না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি গোয়ালার কাছে দুধ বিক্রি করেন। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের টাকা আছে দুধ কিন্না খাওয়ার? আমাগো থাইকা দুধ নিয়া যাইয়া শহরে অনেক টাকায় বিক্রি করে। আমাগোরে টাকাও দেয় মাস শেষে। গরুর খরচ চালাইতেই অবস্থা খারাপ।

বেশিরভাগ খামারিদের কাছে দুধ সংরক্ষণের ব্যাবস্থা না থাকায় তারা কম টাকায় হলেও দিনের দুধ দিনেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। গাজীপুরের খামারি বাতেন মিয়া বলেন, বাজারে যেদিন বেশি দুধ ওঠে ওইদিন দামই পাওয়া যায় না। আর দুধ বাড়ি ফেরত আইনাতো কোনো লাভ নাই, নষ্ট হইয়া যায়। তাই যা পাই তাতেই বিক্রি করি।

তবে দেশে খামারিদের এই চিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়নে কাজ করছে। খামারিদের একত্রিত করার জন্য তারা দেশব্যাপী প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে বিভিন্ন ভ্যালুচেইন ভিত্তিক ৫ হাজার ৫০০টি প্রোডিউসার গ্রুপ (পিজি) গঠন করেছে। যার সাথে সংযুক্ত রয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি খামারি।  তালিকাভুক্তদের জন্য থাকবে ফিল্ড স্কুল। যেখানে খামারিদের খামার আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করানো, উৎপাদিত দুধ, মাংস ও ডিমের হাইজিন নিশ্চিত করা, দুধ ও মাংসের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খামারে উৎপাদিত পণ্যের বিপণন ব্যবস্থাপনার উপরেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ৪০০টি ভিলেজ মিল্ক কালেকশন সেন্টার ও ২০টি মিল্ক হাব স্থাপন করা হবে। যেখানে খামারিরা ন্যায্য মুল্যে তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারবে।

দেশে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়ছে এবং বাংলাদেশ দুধ উৎপাদনে যে অবস্থানে আছে তাতে সামনের দিনগুলোতে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়বে।

— ড. মো. গোলাম রাব্বানী
চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প


কোনো খামারির গরু অসুস্থ হলে যেনো সহজেই চিকিৎসা পায় তার জন্য চালু করা হয়েছে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক। দেশের ৬১ জেলার ৩৬০টি উপজেলায় চালু হয়েছে এই ভ্রাম্যমাণ প্রাণিচিকিৎসা ক্লিনিক। খামারির দোরগোড়ায় চিকিৎসকসহ পৌঁছে যাবে এই ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক। কোনো প্রকার অর্থ ছাড়া বিনা মুল্যে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবে যেকোনো খামারি। ফলে পশু মৃত্যুর হার কমবে এবং খামারিরাও বড় ক্ষতির থেকে রেহাই পাবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র গত দশ বছরে দেশে খামার বেড়েছে ১০ লাখ ২ হাজার, যেখানে ২০১০-১১ অর্থবছরে ছিল ৩ লাখ ৪৭ হাজার। এ সময়ে গরুর খামার বেড়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৪০, আগে ছিল ৭৯ হাজার ৮৫০। দেশে এখনও দুধের ঘাটতি থাকলেও গত ১০ বছরে দুধের উৎপাদন বেড়েছে ৮০ লাখ টনেরও বেশি। খুব শীঘ্রই এ ঘাটতি পুরন করে দুধ রপ্তানি করারও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামার ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০২২’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) চীফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানী বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, এই বোর্ড মূলত দুধ উৎপাদন থেকে শুরু করে উৎপাদন পরবর্তী ভোক্তা পর্যন্ত যাওয়া সব ধরনের কাজ করবে। যেমন- দুধ উৎপাদন করা, সংগ্রহ করা, দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহমুখীভাবে বাজারজাতকরণসহ ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে। এছাড়া বোর্ডের আওতায় খামারিরা সংযুক্ত থাকবে। তবে যারা আগ্রহী নন তারা তাদের মতো করে উৎপাদন করবে।

তিনি বলেন, দেশে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়ছে এবং বাংলাদেশ দুধ উৎপাদনে যে অবস্থানে আছে তাতে সামনের দিনগুলোতে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়বে। উৎপাদন বাড়লে উৎপাদিত বাড়তি দুধ যেন নষ্ট না হয়, উৎপাদনকারী খামারিরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতির শিকার না হন এবং বাজার ব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয় ইত্যাদি বিষয়াবলি গুলোকে সুষ্ঠুভাবে দেখভাল করার জন্য সরকার বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন পাশ করছে। আর এই আইনের বাস্তবায়ন হলে খামারিরা সরাসরি লাভবান হবে।

‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ এর সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খামারিরা। ‘বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০২২’ এবং ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হলে আমূলের মত বাংলাদেশও দুগ্ধ শিল্পে একটি বিপ্লব ঘটাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

বড়লোকদের ব্ল্যাকমেইল করা যাদের পেশা: এখন সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা

প্রকাশ: ০৬:০১ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সাইফা মীম। সরকারি দলের হুইপের পুত্রবধূ। চট্টগ্রামের হুইপ সামশুল হকের পুত্র শারুনের স্ত্রী ছিলেন তিনি বহু আগে। তার সঙ্গে শারুনের ডিভোর্স হয়েছে। এক সন্তান, সেই সন্তানেরও দেখভাল করেন শারুন। কিন্তু সাইফা মীম সাম্প্রতি বাংলাদেশ, রাষ্ট্র এবং সরকার বিরোধী প্রচারণার অন্যতম একজন কুশীলবের কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে ক্ষতবিক্ষত দেখিয়েছেন। দাবি করেছেন যে, তিনি শারুনের অত্যাচারের শিকার। দুই বছরের বেশি আগে থেকেই শারুনের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তাহলে তিনি মেকআপ করে রক্তাক্ত চেয়ারা দেখিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কি প্রমাণ করতে চাইলেন? হুইপ পুত্র তাকে অত্যাচার করেছে? এটি প্রমাণ করে তিনি কি সরকারকে বিব্রত করতে চাইলেন? সাইফা মীম আসলে কে? 

বাংলাদেশে উচ্চ মহলের বিভিন্ন সহজ সরল মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করা এবং ব্ল্যাকমইল করে তাদের কাছে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পেশায় সাইফা মীম একজন পরিচিত মুখ। বিভিন্ন বড়লোকদের অন্দরমহলে তাদেরকে পাওয়া যায়। বড় লোকদেরকে নানাভাবে ফুসলিয়ে, তাদের দুর্বলতা গুলো খুঁজে বের করে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করাই তার প্রধান পেশা। এভাবেই তিনি ধানমন্ডিতে থাকচ্ছেন। তার বাবা ও তার যে গাড়ি সেটিও একজন ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে ফুসলিয়ে নিয়েছেন। বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই সাইফা মীমের অন্যতম পেশা বলে জানা গেছে। আর তার সহযোগী হলেন পিয়াসা। এই পিয়াসাকে কিছুদিন আগেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তার বিরুদ্ধে মাদক সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। পিয়াসাও এরকম একজন নারী, তিনি বিভিন্ন বড়লোকদের সঙ্গে ওঠাবসা করেন, বিভিন্ন সোশ্যাল পার্টিতে যেয়ে বড়লোকদের এবং তাদের উঠতি সন্তানদের সন্তানদেরকে প্রলুব্ধ করেন। তাদেরকে বিপথে পরিচালিত করার জন্য নানারকম ছল-চাতুরী করেন। অবশেষে তাদেরকে ব্ল্যাকমেইলিং করেন।  

আপন জুয়েলার্সের মালিকের পুত্রকেও তিনি ব্ল্যাকমেইলিং করেছিলেন। এবং পরবর্তীতে আবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য দুই নারীকে প্রলুব্ধ করেছিলেন। পিয়াসাকে যখন গ্রেফতার করা হয়েছিল তখন তার বাড়িতে বিশাল মদের আড়ৎ পাওয়া গিয়েছিল এবং পিয়াসা নিজেও তখন স্বীকার করেছিলেন যে, অনেক প্রভাবশালী, বড়লোকেরা তার কাছে আসেন। এবং এখানে এসে সময় কাটিয়ে তারা একটু অবসাদ মেটান। পিয়াসা এবং সাইফা মীম দুজন ঘনিষ্ঠ। বাংলাদেশে এ ধরনের সোসাইটি গার্ল আরও আছেন, যাদের বিলাসবহুল জীবনের কোনো আর্থিক উৎস কেউ জানে না। কেউ খবর নেয় না যে, তারা এতো আরাম-আয়েশের জীবন কিভাবে উপভোগ করেন। অথচ তাদের কোন বৈধ আয়ের উৎস নেই। সাইফা মীম কিংবা পিয়াসা কেউই বলতে পারবে না যে, কোত্থেকে তাদের এরকম কোটি কোটি টাকা আসে। কিভাবে তারা এরকম রাজকীয় জীবনযাপন করেন। তারা না বলতে পারলেও সাধারণ মানুষ এটা জানে। আর এরা এখন সম্প্রতি সরকারকে বিব্রত করার জন্য নানামুখী তৎপরতা গ্রহণ করেছেন। দেশের বাইরে বিভিন্ন সাইবার সন্ত্রাসী এবং দুর্বৃত্ত যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানারকম অপপ্রচারে লিপ্ত তাদের কাছে এখন এরা ধরনা দিচ্ছেন, তাদের কাছে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। সাইফা মীম এবং পিয়াসা দুজনই সরকারকে এখন বিব্রত করার জন্য এই সমস্ত অপপ্রচারকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন, অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে কঠিন এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। কারণ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের জন্যই এরা এখন নতুন মিশনে নেমেছে। 


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন