লিভিং ইনসাইড

আত্ম-দোষারোপের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুন

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail আত্ম-দোষারোপের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুন

জীবনে চলার পথে ভুল ত্রুটি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভুল রতুটি গুলো আমাদের জীবনকে কোথায় নিয়ে যায় সেটা কখনো ভেবেছেন ক!

এটা বুঝা যায় একটা সময় যখন আমরা ভুলের মাশুল গুলো দিতে থাকি। কিন্তু সে সময় হয়তো অনেকটা দেরি হয়ে যায় আমাদের। তাই অন্যদের সমালোচনা করা থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের ভুল গুলো নিয়ে ভাবা উচিত। তবে এটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে নিজের ভুল গুলো ভাবতে গিয়ে সেটা সমাধানের চেষ্টা করবেন। কখনৈ নিজের ভুলের জন্য নিজেকে দোষারোপ করবেন না।এর ফলে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও ভালো কাজের স্পৃহা কমে যায়।

তবে আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে। এতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি হবে। কিন্তু সবসময় নিজেকে দোষারোপ করলে একতা সময় নিজের প্রতি সহ্যক্ষমতাও সীমার বাইরে চলে যায়। এ অবস্থায় সানন্দে বাঁচা যায় না। বরং জীবনের প্রতি বিরক্তি এবং বিতৃষ্ণা চলে আসে। তাই সামনের দিনগুলোর সুন্দর ভিত্তি দাঁড় করাতে এবং আনন্দ-উল্লাসে বাঁচতে কয়েকটি সহজ অনুশীলন করুন। আত্ম-দোষারোপের অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুন এখনই।

>> নিজের প্রশংসনীয় দিক খুঁজে বের করুন: কিছু মানুষ নিশ্চয়ই আপনার প্রশংসা করেন, সেগুলো সাদরে গ্রহণ করুন। প্রতিদিন ঘড়ি ধরে কিছু সময় নিজের ভালো দিকগুলো কাগজে লিপিবদ্ধ করুন। কখনোই নিজের অবমূল্যায়ন করবেন না।

>> নিন্দনীয় দিকগুলোরও যত্ন করুন: ভালো-খারাপ অভ্যাস মিলিয়েই মানুষ। অন্যদের মতো আপনারও খারাপ কিছু অভ্যাস রয়েছে। সেগুলো নিয়েও সময় করে একদিন বসুন। কিভাবে সেগুলো বন্ধ করা যায়, ভাবুন। রাতারাতি তো বদলে যাবে না কোনো বদভ্যাস। সময় দিলেই কেবল দূর হতে পারে।

>> অপরের প্রতি দয়ালু হোন: নিজের সর্বশ্রেষ্ঠ সমালোচক না হয়ে অপরের ভালো বন্ধুতে পরিণত হোন। নিজ এলাকায় সমাজসেবামূলক কাজে যোগদান করুন। দিন শেষে আয়নার দিকে তাকান এবং নিজেকে বিচার করুন। সর্বোপরি, কৃতজ্ঞ থাকুন সামান্য ভালোটুকুর প্রতিও।  

>> পরিকল্পনামাফিক নিজেকে উন্নত করুন: পারফেক্ট কিংবা নিখুঁত বলতে আদৌ কিছু নেই। কিন্তু অনুশীলনের মাধ্যমে এ চেষ্টা করা যেতেই পারে। পরিকল্পনামাফিক নিজেকে উন্নত করবার প্রচেষ্টা শুরু করুন। একদিন হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে পরের দিন মাথা উঁচু করে দাঁড়ান।

>> সফলতাকে আপন করে নিন: ছোট কিংবা বড়-সফলতা মাত্রই সেটি উদযাপন করা উচিত। কাছের মানুষ, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে সফলতাকে কাছে টেনে নিন। নিজেকে কিছু না কিছু উপহার দিন। প্রিয় কোনো কাজে নিজেকে মগ্ন রাখুন। নিজেকে ভালোবাসুন।

আত্ম-দোষারোপের   অভ্যাস   বেরিয়ে আসুন  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

শীতে পা ফাটা নিয়ে ভয়, জেনে নিন সহজ সমাধান

প্রকাশ: ১১:২৯ এএম, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

শীতে উৎসব-আয়োজনের কমতি থাকে না। বিয়ে, পার্টি, পিকনিকসহ নানা আয়োজন থাকে। এসব আয়োজনে অংশ নেয়ার জন্য প্রস্তুতির ঘাটতি থাকে না আমাদের। কিন্তু শীতে কম-বেশি সব মানুষের মনেই ভয় থাকে শরীর শুষ্ক হওয়া ও পা ফাটা নিয়ে। শীতের আবহাওয়া ভীষণভাবে প্রভাব ফেলে ত্বকে। এই সময় পায়ের গোড়ালি ফাটার সমস্যা চিন্তায় ফেলে বেশি।

সাধারণত রুক্ষ আবহাওয়ায় পর্যাপ্ত যত্নের অভাবে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এতে পা ফাটার সমস্যা দেখা যায়। যে কারণে পুরো শরীরে পরিপূর্ণ সাজ থাকার পরও পা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। আবার ব্যস্ততা থেকে পার্লারে গিয়ে পেডিকিওরও করা সম্ভব হয় না। তবে ঘরে বসেই পা ফাটার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

কলা: বাড়িতে কলা থাকলে দু-তিনটি আলাদা রেখে দিন। যদি পচন ধরে তবে তা ফেলে দেবেন না। সেটা দিয়ে গোড়ালি ফাটার প্যাক বানাতে পারেন। এ জন্য প্রথমে দুটো কলা ভালো করে পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর গোড়ালির ফাটা অংশে সেই পেস্ট লাগিয়ে রাখুন। ১৫-২০ মিনিট রাখার পরে ভালো করে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু-তিন দিন প্যাক ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যাবে।

মধু: মধুর উপকারিতার কথা সবারই জানা। এটি ত্বকের যত্ন নিতেও অপরিহার্য। প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান সমৃদ্ধ এই মধু পা ফাটা রোধে ভালো কাজে আসে। প্রথমে মধু এবং গরম পানি ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর আলতো করে গোড়ালিতে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রাখুন। এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন-চার দিন ব্যবহারে দারুণ উপকার পাবেন।

পেট্রোলিয়াম জেলি এবং লেবুর রস: লেবুর রসে অ্যাসিড উপাদান রয়েছে। এটি ত্বকের নানা সংক্রমণ দূরে সহায়তা করে। তবে শুধু লেবুর রসে ব্যবহার করলে হবে না। এর সঙ্গে পেট্রোলিয়াম জেলিও রাখতে পারেন। ত্বকের মসৃণতা ফেরাতে দুটি উপাদান নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন। এ জন্য ১ টেবিল চামচ পেট্রোলিয়াম জেলি ও ২ টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে পায়ের গোড়ালিতে লাগিয়ে রাখুন। নিজেই উপকারিতা বুঝতে পারবেন।

সূত্র: আনন্দবাজার


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

শরীরের যে ৯ জায়গার ব্যথার কারণ আবেগ

প্রকাশ: ০১:২০ পিএম, ০১ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

মানব মনোজগতে আবেগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভালো লাগা ও খারাপ লাগা প্রভৃতি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ছাড়াও আবেগের সঙ্গে রয়েছে শারীরিক প্রভাবেরও নিবিড় সম্পর্ক। একটি মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষকরা বলেছেন, সাধারণত আবেগের কারণে আমাদের শরীরের নয় জায়গায় ব্যথা হয়ে থাকে।

মাথায় ব্যথা: মাথায় ব্যথার কারণ হতে পারে দিনভর নানা স্ট্রেস। যে কারণে প্রতিদিন বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় বের করুন।

ঘাড়ে ব্যথা: যদি আপনি ঘাড়ে ব্যথা অনুভব করেন তবে বুঝতে হবে আপনি অন্যকে বা নিজেকে কোনো কারণে ক্ষমা করতে পারছেন না। যদি ঘাড় ব্যথায় ভোগেন, তবে মানুষের যে বিষয়গুলো ভালো লাগে সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া দরকার।

কাঁধে ব্যথা: কাঁধে ব্যথা নির্দেশ করে, আপনি গভীরভাবে আবেগে আটকে আছেন। অন্য কেউ সৃষ্ট বা আপনার জীবনের সাধারণ সমস্যা সমাধানে নজর দিন। একই সঙ্গে বিরক্তিকর সব বিষয়গুলো এড়ানো চেষ্টা করুন।

পিঠের উপরাংশে ব্যথা: পিঠের উপরাংশে ব্যথার কারণ হিসেব বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, আপনি যথেষ্ঠ মানসিক সমর্থনের অভাবে ভুগছেন। আপনি ভালোবাসার অভাবে ভুগছেন এবং মনে হতে পারে কেউ আপনাকে পছন্দ করছে না। সমাধান হিসেবে তারা বলছেন, যদি আপনি অবিবাহিত হয়ে থাকেন, তবে বুঝতে হবে আপনার সঙ্গী খোঁজার সময় হয়েছে।

পিঠের নিম্নভাগে ব্যথা: পিঠের নিম্নভাগে ব্যথা হওয়ার মানে হলো আপনি অতিমাত্রায় অর্থ চিন্তায় ভুগছেন। অর্থাৎ সময় এসেছে অর্থ সংক্রান্ত সঠিক পরিকল্পনার।

কনুইয়ে ব্যথা: কনুই ব্যথা প্রকাশ করে আপনার প্রাত্যহিক জীবনের সার্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন সহ্য করার ক্ষমতা কতটা। যদি আপনার কনুই শক্ত হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার অস্তিত্বও এক সময় শক্ত হবে। তাই ভেঙে না পড়ে বিষয়টির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া চেষ্টা করুন।

হাতে ব্যথা: হাতে ব্যথা হলে বুঝতে হবে, আপনি মানুষের কাছে যেভাবে পৌঁছাতে চাইছেন, ঠিক সেভাবে হচ্ছে না। তাই নতুন বন্ধু গড়ে তুলুন, সহকর্মীর সঙ্গে দুপুরের খাবার খান এবং নতুন নতুন যোগাযোগ তৈরি করুন।

নিতম্বে ব্যথা: নিতম্বে ব্যথা হওয়ার অর্থ হলো, আপনি পরিবর্তনে ভয় পাচ্ছেন। অতএব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার আরও সচেতন হওয়া দরকার।

হাঁটুতে ব্যথা: হাঁটু ব্যথা নির্দেশ করে আপনার অহং একটু বেশি। ফলে নিজের সম্পর্কেও আপনি উচ্চ ধারণা পোষণ করেন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এক্ষেত্রে আপনার নম্র হওয়া দরকার। কিছুদিন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করা যেতে পারে। ভুলে গেলে চলবে না ‘মানুষ মরণশীল’।



মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

ঔষধের সঠিক ব্যবহার: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সবচেয়ে বেশি অবহেলিত

প্রকাশ: ০৮:৪৪ এএম, ২৫ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ঔষধের যথাযথ ব্যবহার বা সঠিক নিয়মে ঔষধ গ্রহণ যেকোনো রোগ নিরাময়ের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। ডব্লিউএইচও-এর মতে, চিকিৎসার নিয়ম মেনে চলার অভাব রোগীদের মধ্যে বড় ধরনের সমস্যার জন্ম দেয়, বেশিরভাগই দীর্ঘ্যস্থায়ী অসুস্থতায়। “সঠিক পদ্ধতিতে ঔষ ধগ্রহণ” কমপক্ষে ৫টি সঠিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে—সঠিক রোগী, সঠিক ঔষধ, সঠিক সময়, সঠিক ডোজ এবং সঠিক রুট বা গমনপথ। “সঠিকভাবে সেবন না করলে ঔষধ কাজ করবেনা”—এই সহজ সত্যটি বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই অনুধাবন করেননা, ফলস্বরূপ এখনো উন্নত বিশ্বে দীর্ঘ্যস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই সঠিক নিয়মে ঔষধ গ্রহণ করেননা–বলছে ডব্লিউএইচও।

দীর্ঘ্যস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীদের এটি মেনে চলা বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে কারণ তাদের প্রায়শই দীর্ঘ্য সময়ের জন্য তাদের ওষুধ সেবন করতে হয়, কখনও কখনও তাদের বাকিজীবনের জন্য। সেন্টার্স ফর ডিসিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) অনুমান করে যে ওষুধের অপরিমিত ব্যবহার ৩০% থেকে ৫০% দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসাকে ব্যর্থতার দিকে পরিচালিত করে। চিকিৎসা গাইডলাইনের প্রতি দুর্বল আনুগত্য আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়, রোগের লক্ষণ গুলি আরও খারাপ হতে পারে এবং স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটাতে পারে।

যুক্তরাজ্যে প্রায় অর্ধেক প্রেস্ক্রিপশনকৃত ঔষধ প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়া হয়না এবং অতি সম্প্রতি ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগী ১৮ সপ্তাহের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা পেতে ব্যর্থহয়। নিউজিলান্ড-ভিত্তিক প্যাশেন্ট প্রেফারেন্স এন্ড এডহেয়ারেন্স জার্নালসূত্রে জানা যায় খোদ মার্কিন মুল্লুকেই সঠিক নিয়মে ঔষধ গ্রহণ না করা অন্তত ১০% হস্পিটালাইজেশন, বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার চিকিৎসা ব্যয় এবং লক্ষাধিক রোগীর মৃত্যুর কারণ। একটি সাম্প্রতিক কানাডিয়ান সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ৩০% রোগী নির্দেশ দেওয়ার আগে তাদের ঔষধ খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং চারজনের মধ্যে একজন তাদের প্রেসক্রিপশন পূরণ করেননা বা নির্ধারিত ঔষধের চেয়ে কম গ্রহণ করেন।ঔষধের অনুপযুক্ত ব্যবহার প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মোট পরিহারযোগ্য খরচের অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে।

ঔষধ সঠিকভাবে গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে অনুন্নত, উন্নয়নশীল দেশ এবং পশ্চিমা তথাকথিত উন্নত বিশ্বে আজব মিল খুঁজে পাওয়া যায়।বিশ্বব্যাপী অর্ধেকেরও বেশি অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিক্রি হয় এবং সিডিসি বলেছে, হাসপাতাল-কর্তৃক নির্ধারিত অ্যান্টিবায়োটিক গুলির ৩০% থেকে ৫০% অনুপযুক্ত বা অপ্রয়োজনীয়। বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন, ওয়েলকাম ট্রাস্টের অর্থায়নে ল্যানসেটদ্বারা প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণাতে বলা হয়েছে যে ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় অর্ধকোটি মৃত্যু ছিল ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধের সাথে সম্পর্কিত, যেটি ২০৫০ সাল নাগাদ দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী নন-স্টেরয়েড ব্যাথার ঔষধ থেকে সৃষ্ট অন্ত্রের প্রদাহ বছর-প্রতি অন্তত ৬,৫০,০০ হস্পিটালাইজেশন এবং ১,৬৫,০০০ মৃত্যু'র কারণ। এই শ্রেণীর ঔষধগুলোর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কিডনি ইনজুরির কারণ হয়ে থাকে এবং কিডনিরোগীদের ক্ষেত্রে এদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৩ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত হতে পারে।এই ঔষধগুলোর ব্যাপক অপব্যবহার ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং কোভিডরোগীদের ক্ষেত্রে রিপোর্ট করেছে অনেকগুলো গবেষণা।বিশেষ করে ডেঙ্গু কিংবা কোভিড রোগীদের ব্যাথার ঔষধ দিয়ে জ্বর নামানোর চেয়ে শরীরের হাইড্রেশন লেভেল বজায় রাখা বেশি জরুরি।বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল সিরাপ বা সাপোজিটরি'র ব্যবহার পেট ব্যাথা বা হজমের গোলযোগ সৃষ্টি করে, ফলে বাচ্চার হস্পিটালাইজেশন জরুরি হয়ে পরে।ঘরোয়া পরিবেশে শুধু স্যালাইন কিংবা ফলের রস দিয়ে অথবা শুধু পানি বেশি গ্রহণ করে শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করতে পারলেই বেশিরভাগ হস্পিটালাইজেশন বা আইসিইউ এডমিশন ঠেকানো যেতো, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া।

প্রায় ৪০% কোভিড রোগী ঘুমের সমস্যা রিপোর্ট করেন--কোভিড-১৯ রোগীদের মধ্যে বেনজোডায়াজেপিন ব্যবহার ডেলিরিয়ামের প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে,শ্বাসকষ্টের রোগীদের শ্বাসযন্ত্রের দমন করে এবং এগুলো কিছু ভাইরাস-প্রতিরোধী ঔষধের সাথে সেবনে বিরূপ প্রভাব ফেলে।

পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন মরফিন-গোত্রের ব্যাথার ঔষধ ব্যৱহৃত হয়, যার ১% এরও কম দরিদ্র দেশগুলো পায়--বলছে অমেরিকান জার্নাল অফ পাবলিক হেলথ। কাজেই এদের অপব্যবহার এবং এতদসংক্রান্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলোও উন্নত বিশ্বই হজম করে।

ডব্লিউএইচও-এর রিপোর্ট অনুসারে, উন্নত দেশগুলিতে দীর্ঘ্যস্থায়ী রোগের জন্য চিকিৎসা গাইডলাইন সঠিকভাবে প্রতিপালন করেন অর্ধেক রোগী, যা কিনা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরো অনেক কম।দক্ষিণ এশীয় দেশগুলির ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় অর্ধেক রোগীই তাদের নির্ধারিত ওষুধের ব্যবহার মেনে না চলে তীব্র ও দীর্ঘ্যমেয়াদী জটিলতার ঝুঁকিতে রয়েছেন, যার ফলে হাসপাতালে ভর্তির হার এবং চিকিৎসা খরচ বৃদ্ধি পায়।

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রকাশ করেছে যে উচ্চ রক্ত চাপের রোগীরা চিকিৎসার নির্দেশিকা অনুসরণ করেনা কারণ--(১) সাবঅপ্টিমালডোজ অথবা ভুল ঔষধ নির্ধারণ (২) বীমার অভাববা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে কদাচিৎ যোগাযোগ এবং (৩) নির্ধারিত ঔষধের বা অন্যান্য জীবনধারার গাইডলাইন মেনে চলতে রোগীর ব্যর্থতা।

বিশ্বব্যাপী বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে তিন-চতুর্থাংশই সঠিক নিয়মে দীর্ঘ্য মেয়াদী চিকিৎসা প্রতি পালনে অক্ষম—কারণ একাধিক শারীরিক জটিলতা এবংঅতিরিক্ত ঔষধের বোঝা। বয়স্ক রোগী যারা কম পক্ষে৫টি ঔষধ গ্রহণ করেন তাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধকতা, স্মৃতিভ্রংশ, পতন, দুর্বলতা, অক্ষমতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে, যেখানে অতিরিক্ত ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বয়স্ক রোগীদের ৫% থেকে ২৮%  হাসপাতালে ভর্তির জন্য দায়ী বলে অনুমান করা হয়।

চিকিৎসা খরচ দরিদ্রদেশ গুলোতে দীর্ঘমেয়াদী রোগের সঠিক ক্লিনিকাল গাইডলাইন মেনেচলার প্রতিবন্ধকতা--এমনটি  অনেক ফোরামে আলোচিত হলেও ভুলে যাওয়া, ঔষধ ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সময়কাল সম্পর্কে বিভ্রান্তি এবং ঔষুধের সামগ্রিক কার্যকারিতা সম্পর্কে অবিশ্বাস মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকল মেনে নাচলার অন্যতম কারণ।

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে আজও মৃগীরোগ কোনো অশুভ আত্মাবা‘ জ্বীনেরআসর’বলে ধরাহয়--যদিওদুই-তৃতীয়াংশ রোগী পর্যাপ্ত চিকিৎসায় খিঁচুনি মুক্ত হতে পারে, কিন্তু সঠিক নির্দেশিকার প্রতিদুর্বল আনুগত্যএরকার্যকরী পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বড় সমস্যা।

বিভিন্ন গবেষণায় নিম্নলিখিত কারণ গুলোদীর্ঘ্য স্থায়ী রোগের জন্য চিকিৎসা গাইডলাইন মেনে না চলার জন্য চিহ্নিত হয়েছে:

১. রোগীরআর্থ-সামাজিক অবস্থান: দুর্বল স্বাস্থ্য-শিক্ষা, পারিবারিক বা সামাজিক সহায়তা নেটওয়ার্কের অভাব, অস্থিতিশীল জীবনযাপন বা গৃহহীনতা, আর্থিক নিরাপত্তাহীনতা

২. চিকিৎসা-সম্পর্কিত: চিকিৎসা পদ্ধতির জটিলতাও সময়কাল, ঔষধের নিয়মে ঘন ঘন পরিবর্তন, তাৎক্ষণিক ফলাফলের অভাব, প্রকৃত বা অনুভূত অপ্রীতিকর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, জীবনযাত্রায় হস্তক্ষেপ

৩. স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা: উচ্চচিকিৎসা-খরচ, রোগীর শিক্ষা এবং ফলো আপের জন্য সীমিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, চিকিৎক-রোগীর সম্পর্ক, স্বাস্থ্য-সেবার প্রতি রোগীর আস্থা, দীর্ঘ অপেক্ষা, রোগীর তথ্য উপকরণের অভাব

৪. রোগীর সাথে সম্পর্কিত: দৃষ্টি-শ্রবণ এবং জ্ঞান প্রতিবন্ধকতা, গতিশীলতা এবং দক্ষতা, মনস্তাত্ত্বিক এবং আচরণ গতকারণ, অনুভূত রোগের সংবেদনশীলতার ঝুঁকি, কুসংস্কার ও রোগ দ্বারা কলঙ্ক-বোধ, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় ইত্যাদি

পরিশেষে এটাই বলা যেতে পারে যে, রোগ সম্পর্কে রোগীদের জ্ঞান এবং উপলব্ধি হল চিকিৎসা-ব্যবস্থার প্রতিতাদের আনুগত্য নির্ধারণের মূল চালিকাশক্তি। স্বাস্থ্যসেবা  প্রদানকারীদের রোগের প্রতিরোগীদের দৃষ্টিভঙ্গি, ঔষুধের প্রতি আস্থা, মনস্তাত্ত্বিক চাপ শনাক্ত করতে এবং ঔষধ সঠিকভাবে গ্রহণ বাড়াতে আরও কার্যকর স্বাস্থ্য-শিক্ষা প্রদানের জন্য অন্বেষণ করা উচিত।

Author: Abdul Kader Mohiuddin
Affiliation: Alumni, Faculty of Pharmacy, Dhaka University
Contact: +01935183385, Email: trymohi@yahoo.co.in


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

খাদ্যের বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে অর্গানিক খাবার

প্রকাশ: ০৭:৫৯ এএম, ১২ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সুস্বাস্থ্যের প্রাথমিক ও প্রধান শর্ত হলো সঠিক খাদ্যাভাস ও পুষ্টিকর খাবার। কিন্তু বর্তমান সময়ে গ্রাম থেকে শহর সবজায়গায় ই মিলছে ভেজাল মিশ্রিত খাবার। শাক-সবজি, মাংস, দুধ, প্যাকেট জাত খাবার, এমনকি ফল, তেল, ডিম সব কিছুতেই মিলছে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ। গত দুই নভেম্বর যুক্তরাজ্যভিত্তিক দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ‘গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি ইনডেক্স ২০২২’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সর্বোত্রই ভেজাল খাবার এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয় ভেজাল খাদ্যের তালিকায় বিশ্বের ১১৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০তম।  স্বাস্থ্যকর খাদ্যের খোঁজ পাওয়া যখন প্রায় মুশকিল একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে অরগ্যানিক খাবার হতে পারে বিকল্প। তবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার এই যুগে এসে বাজারে প্রাপ্ত অরগ্যানিক খাবারগুলো কি আদৌ বিষক্রিয়া মুক্ত কি না এই বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক অরগ্যানিক খাবার মূলত কী? এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলো এবং কীভাবে বুঝবেন অরগ্যানিক খাবার কোনগুলো-  

অরগানিক খাবার কি? 

অর্গানিক খাবার হলো সেইসকল খাদ্য যা কোনোরকম রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ছাড়া সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত হয়। এমনকি এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও কোন কৃত্রিমতা থাকে না। পাশাপাশি পরিবেশ-বান্ধব এই চাষে ফসল পরিবর্তন, জৈব পেস্ট ইত্যাদির উপর নজর দেওয়া হয়। কৃষি-বাস্তুসংস্থান গত নীতি অনুসারে এই উৎপাদন আমাদের জীববৈচিত্র ও সুন্দর ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করে। ২০১৪ সালে নিউ ক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রমাণ করেন অর্গানিক ফুডের উপকারিতা। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ সার মিশ্রিত ফসলের চেয়ে অর্গানিক ফসলে কীটনাশকের পরিমাণ এক চতুর্থাংশের চেয়েও কম। বিষাক্ত ধাতব উপাদানও কম। তাই এতে ক্যান্সার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক বেশি মাত্রায় থাকে। যার ফলে লাভ করা যায় দীর্ঘায়ু। এছাড়া রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করার কারণে জমির উর্বরতা ও বজায় থাকে। ফলে ফলন বেশি দিন পর্যন্ত পাওয়া যায়।

কিভাবে বুঝবেন কোন খাবারগুলো অরগানিক? 

কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম ফর অরগানিক প্রোডাকশন (NPOP) এর স্বীকৃত কোনো সংস্থার দ্বারা পরীক্ষা করার পর প্রশংসাপত্র সার্টিফিকেট পেয়েছে কি না তা দেখতে হবে। সার্টিফিকেট থাকলে প্যাকেটে ইন্ডিয়া অর্গানিক (INDIA organic) বা USDA organic লোগো থাকবে। অথবা যে সংস্থা সার্টিফিকেট দিয়েছে তার লোগো থাকবে। এছাড়াও রাখতে হবে বাড়তি সতর্কতা, যেমন- 

খাবারের চেহারা: অর্গানিক ফুড এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত খাবার কখনোই দেখতে এক রকমের হবে না। অর্গানিক ফুডে রঙ খুব বেশি গাঢ় হয় না। এটা দেখতে একেবারেই প্রাকৃতিক এবং সতেজ। কিছু কিছু সময় এ ধরনের খাবার হাতে নিলেই এর পরিচিতি পাওয়া যায়।

আকৃতি: হাইব্রিড ফসলগুলো সাধারণত বৃহৎ আকৃতির হয়ে থাকে। তবে অর্গানিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফলমূল, শাকসবজি এবং অন্যান্য শস্য আকারে বিশাল হবে না। এর স্বাভাবিক হয়ে থাকে এবং ভেতরে পোকার উপদ্রপ থাকে না বললেই চলে।

খাবারের স্বাদ: অর্গানিক ফুডের স্বাদ যে অতুলনীয় হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যখন আপনি অর্গানিক শাকসবজি রান্না করবেন, আপনি মশলার প্রয়োজনীয়তা কম অনুভব করবেন। কারণ প্রাকৃতিকভাবেই এ ধরনের খাবারের স্বাদ বেশি হয়ে থাকে।

দ্রুত রান্না হয়: কীটনাশকযুক্ত খাবার দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করার প্রয়োজন পরে। অপরদিকে অর্গানিক ফুড রান্না করতে তুলনামূলক কম সময় লাগে।

গন্ধ: যেহেতু অর্গানিক ফুড মসলা ও তেল বর্জিত প্রাকৃতিক খাবার, এর গন্ধ সম্পূর্ণই আলাদা ও শক্তিশালী হয়ে থাকে। অপরদিকে অজৈব খাবারে মশলায় তেল ও মসলার প্রচণ্ড ব্যবহারের ফলে একটা পর্যায়ে এর থেকে গন্ধ বের হতে থাকে।

স্বাস্থ্যকর: অর্গানিক খাবার স্বাস্থ্যকর হওয়ায় আপনার হজম প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও দ্রুত করে তোলে। এর ফলে আপনি অ্যাসিডিটি এবং গ্যাস সম্পর্কিত সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পান।

চলুন নেওয়া যাক অরগানিক খাবারের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে, যা আপনাকে সাহায্য করবে খাদ্য তালিকায় অর্গানিক খাবার যুক্ত করবেন কি না এই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে! প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক অরগানিক খাবারের সুবিধা সম্পর্কে-

অরগানিক খাবারের কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি থাকেনা, যা আপনার শরীরের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন প্রাণীজ খাদ্য যেমন মাছ ও মাংসে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মাত্রার এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে তা দীর্ঘস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এর ফলে হৃদযন্ত্র, কিডনির কার্যক্রম ও স্নায়ু চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অরগানিক খাবার এইসকল উচ্চ এন্টিবায়োটিক মুক্ত অরগানিক খাবার চাষ করা বেশ পরিবেশবান্ধব। এটি শুধু মানব স্বাস্থ্যের জন্যই না, পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক। খাবারের জৈব চাষের প্রবণতা পরিবেশ দূষণ হ্রাস করতে পারে, পানি সংরক্ষণ করতে পারে, মাটির ক্ষয় হ্রাস করতে পারে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে পারে।

খাবার গুলোতে উচ্চ পুষ্টিমান নিশ্চিত হয়  

স্বাদের মান বজায় থাকে 

হৃদরোগের ঝুঁকি কমে কেননা এতে হাইড্রোজেনেটেড চর্বির পরিমাণ প্রায় শূন্য 

এমনকি নবজাতকদের জন্য ও অরগানিক খাবার বেশ স্বাস্থ্যকর

সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অরগানিক খাবার পছন্দের তালিকায় প্রথমদিকে থাকলেও এর কিছু অসুবিধা ও রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশে অর্গানিক ফুডের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। বর্তমানে অর্গানিক ফুড সোনার হরিণ। যা বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে। সাধারণ খাবার কিনতেই যেখানে নিম্নবিত্তদের নাভিশ্বাস উঠছে, সেখানে চড়া দামে খাদ্যদ্রব্য কিনে খাওয়া দুঃসাধ্য বটে। তবু খেতে হবে অর্গানিক ফুড। এছাড়াও সব জায়গায় খুঁজে পাওয়া ও মুশকিল। এর মধ্যে বাজারে যে সকল অরগানিক খাবার পাওয়া যায় তা আদৌতে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত কিংবা রাসায়নিক ভেজাল মুক্ত তা নিয়েও নিশ্চিন্ত থাকার নেই সুযোগ। এমনকি যেসব খাদ্য সামগ্রী প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত বা অর্গানিক বলে বিক্রি হচ্ছে সেগুলো ও ঠিকমত পরীক্ষা করা হয়না খাদ্যের মান পরীক্ষা করার সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন বা বিএসটিআই থেকে। 

অর্গানিক খাবার   পুষ্টিকর  


মন্তব্য করুন


লিভিং ইনসাইড

ইউনিলিভারের পন্যে মিলছে ক্যানসারের উপাদান

প্রকাশ: ০৯:২৬ এএম, ২৮ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ইউনিলিভারের পন্যে মিলছে ক্যানসারের উপাদান

বাজারে প্রসাধনী সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ব্যান্ড ইউনিলিভার। সেই ইউনিলিভারের  শ্যাম্পুতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান 'বেনজিন'-এর সম্ভাব্য উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)।

ক্যানসারের সম্ভাবনা উস্কে দেওয়া রাসায়নিক উপাদান ‘বেনজিনে’র বিপজ্জনকমাত্রার উপস্থিতি থাকায় বাজার থেকে ডাভ, নেক্সাস, সুভসহ সব ব্র্যান্ডের ড্রাই শ্যাম্পু প্রত্যাহার করা শুরু করেছে প্রসাধন সামগ্রী উৎপাদনকারী বহুজাতিক এই কোম্পানি।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফুডস অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) নিজেদের ওয়েবসাইটে একটি নোটিশ জারি করে। সেই নোটিশে ইউনিলিভারের ডাভ, নেক্সাস, সুঅভ ও টিগি ব্র্যান্ডের ড্রাই শ্যাম্পুর মধ্যে বেনজিনের উপস্থিতি শনাক্তের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে এসব ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয় ইউনিলিভারের উদ্দেশে।

এফডিএর নোটিশে বলা হয়, ‘এসব ড্রাই শ্যাম্পুতে যে মাত্রার বেনজিনের উপস্থিতি রয়েছে, তাতে এগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে লিউকেমিয়া ও অন্যান্য ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। খাদ্য-পানীয়-ওষুধ-প্রসাধনীর মতো নিত্য ব্যবহার্য পণ্যে এফডিএ কোনও ধরনের ক্ষতিকর উপাদানের দূষণ প্রত্যাশা করে না।’

এফডিএর নোটিশকে আমলে নিয়ে বাজার থেকে নিজেদের সব ধরনের ড্রাই শ্যাম্পু প্রত্যাহার করছে ইউনিলিভার। কোম্পানির এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, যেসব শ্যাম্পু প্রত্যাহার করা হচ্ছে, সেগুলোর প্রায় সবই প্রস্তুত করা হয়েছিল ২০২১ সালের অক্টোবরে।

অ্যারোসল বা স্প্রেভিত্তিক ড্রাই শ্যাম্পুর মধ্যে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতির অভিযোগ অবশ্য এই প্রথম নয়। গত বছর বহুজাতিক প্রসাধনী কোম্পানি প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (পি অ্যান্ড জে) কোম্পানির প্রস্তুতকৃত ড্রাই শ্যাম্পু প্যানটিন অ্যান্ড হারবালেও উচ্চমাত্রার বেনজিনের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিল মার্কিন গবেষণাগার ভ্যালিস্যুর। মার্কিন এই সংস্থা মূলত স্বাস্থ্যসেবা ও প্রসাধন পণ্যের মান নিয়ে গবেষণা করে। 

২০২১ সালের ডিসেম্বরে ভ্যালিস্যুরের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর ওই মাসেই বাজার থেকে প্যানটিন অ্যান্ড হারবাল ব্র্যান্ডের সব ড্রাই শ্যাম্পু প্রত্যাহার করে নেয় পি অ্যান্ড জে।

ভ্যালিসুরের শীর্ষ নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড লাইট ব্লুমবার্গকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাবান, শ্যাম্পু, বডি স্প্রেসহ নানা ধরনের প্রসাধন সামগ্রী নিয়ে গবেষণা করছি। গবেষণায় প্রায় প্রতিটি অ্যারোসল বা ড্রাই শ্যাম্পুর মধ্যেই বেনজিনের উপস্থিতি দেখতে পেয়েছি।’

‘বেশিরভাগ ড্রাই শ্যাম্পুতে বেনজিনের উচ্চমাত্রার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। বেনজিনের উচ্চমাত্রার উপস্থিতি রয়েছে— এমন প্রসাধনী দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে এবং আমরা সক্রিয়ভাবে এ বিষয়ে কাজ করছি।’

তবে নিজেদের পণ্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার প্রসঙ্গে ইউনিলিভারের এক কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থন করে ব্লুমবার্গকে বলেছেন, ‘আমরা সচেতনভাবে কোনও দূষিত রাসায়নিক উপাদান পণ্যে ব্যবহার করি না। কোন প্রসাধনীতে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদন কোন মাত্রা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে, সে বিষয়ে এফডিএ যদি কোনো নির্দেশনা দেয়, তাহলে আমাদের সুবিধা হবে।’

ইউনিলিভার   পন্য  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন