ইনসাইড টক

‘মালিক সমিতি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না’


Thumbnail ‘মালিক সমিতি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না’

মোজাম্মেল হক চৌধুরী। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব। গত ৫ আগস্ট মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, গণপরিবহনে নৈরাজ্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেছেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান তুহিন

বাংলা ইনসাইডার: জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যতা দেখা যাচ্ছে না। কোথাও ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, আবার ৩০ টাকার ভাড়া ৩৫ টাকা নিচ্ছে। এই বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমরা এটা পর্যবেক্ষণ করছি। সরকার বাসের ভাড়া বাড়ালেন প্রতি কিলোমিটার হিসেবে। কিন্তু রাজধানীতে যে সিটিং সার্ভিস বাসগুলো চলছে, বাসগুলো আগের বাড়তি ভাড়ার সাথে এখনকার ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে আগেই যেখানে বেশি ভাড়া নিত, এর সাথে যোগ করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী সাধারণের অবস্থা এখন নাজেহাল। আমরা বিষয়টি গভীর উদ্বেগের সাথে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। এই বিষয়ে কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে নামবো।

বাংলা ইনসাইডার: ইদানীংকালে গণপরিবহনে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ চালক কিশোর। এই যে কিশোরদের হাতে গণপরিবহন চলে যাচ্ছে এবং তাদের মধ্যে যে অসম প্রতিযোগিতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে সেটি রোধে আপনারা কি করছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমরা এ ব্যাপারে সব সময় সোচ্চার এবং প্রতিবাদী। কিন্তু বিষয়টি সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হলো আমাদের যারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএ অথবা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের এই সমস্ত বিষয় নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। মাঠ পর্যায় তাদের তেমন কোনো তদারকি নেই। মাঠের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগও নেই। তারা কেবলমাত্র উপরের লেভেলের কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। নেতাদের নিয়ে পরিবহন খাতে সিদ্ধান্ত নেন। যাদের নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন তাদের মূলত তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক  আছে বলে আমাদের মনে হয় না। আমরা নানা গবেষণায় দেখেছি, তারা মাঠ থেকে বিচ্ছিন্ন নেতা। ফলে তারা মাঠের বাস্তব চিত্রগুলো হাজির করতে পারেন না। এই কারণে এই সমস্ত সমস্যাগুলো দিন দিন গভীর থেকে আরও গভীরতর হচ্ছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে ধরনের মেকানিজম দরকার, সে মেকানিজম কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি না।

বাংলা ইনসাইডার: যাত্রী কল্যাণের মহাসচিব হিসেবে আপনি কি পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছেন বা কি পদক্ষেপ নিবেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: আমাদের কাজ হলো এ সমস্ত তথ্য-উপাত্তগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা, সে কাজটি আমরা করছি। আমাদের কাজ হলো এডভোকসি করা, সে কাজটি আমরা করছি। আমাদের কাজটি হলো জনসাধারণকে সচেতন করা, যাত্রী সাধারণকে সচেতন করা, তাদের দায়িত্বশীল করা। সে কাজটি আমরা গুরুত্ব সহিত করছি। এখন নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আজকে হয়তো আমরা ওইভাবে সারা বাংলাদেশে বিস্তৃত করতে পারছি না। যাত্রীরা অসংগঠিত, অসচেতন হওয়ার ফলে এখানে মালিকরা এবং শ্রমিকরা সংখ্যায় কম হলেও তারা কিন্তু নৈরাজ্য করার ক্ষেত্রে বা আরও বিশৃঙ্খলা করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন। যাত্রী সাধারণ অসংগঠিত এবং অসচেতন বলেই আমরা হয়তো আমদের আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করতে পারি না। তবে আমরা প্রত্যেকটা বিষয় সরকার এবং গণমাধ্যমের নজরে আনার চেষ্টা করি। অর্থাৎ সমস্যা সমাধানের জন্য যে তথ্য-উপাত্ত গুলো প্রয়োজন সেগুলো আমরা সরকারকে নিয়মিত সরবরাহ করছি। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা যে ধরনের ফিডব্যাক প্রত্যাশা করি, সেভাবে আমরা ফিডব্যাক পাচ্ছি না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনার বাস মালিক সমিতির সাথে এইসব বিষয় নিয়ে কি বসেছেন?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: মালিক সমিতি আসলে আমাদের সাথে বসতে চায় না। কারণ, তারা নৈতিকতার জায়গায় অনেক দুর্বল এবং গণপরিবহনের নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা নিয়ে আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না। কারণ, আমরা যে সমস্ত বিষয় নিয়ে প্রস্তাব দেই সেগুলো ধারণ করার মতো সক্ষমতা তারা রাখে না। সে কারণে আমরা দেখি যে, তারা আমাদের মুখোমুখি হতে চায় না। বিষয়গুলো তারা বিব্রতকর মনে করেন।

বাংলা ইনসাইডার: গণপরিবহনে নৈরাজ্যের পেছনে কি রাজনৈতিক প্রভাব দায়ী?

মোজাম্মেল হক চৌধুরী: পরিবহনের যারা শীর্ষস্থানীয় নেতা তারা সবসময় সরকারি দলের চাদরের নিচে ঢুকে পড়েন। আমরা এখনও লক্ষ করছি, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তিনবার ক্ষমতায়। বিভিন্ন দলে বিভক্ত ছিলেন এমন বাস পরিবহন নেতারাও এখন এই দলের চাদরের নিচে ঢুকে পড়েছে। ফলে আমরা দেখি, তাদের ব্যবসায়ী নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা, পরিবহনের সুযোগ-সুবিধা আদায়, এবং প্রভাব বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে তারা একটা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২০১৮ আমাদের সালে আমাদের যখন নিরাপদ সড়কের আন্দোলন হলো তখন হেলমেট বাহিনী বা কথিত ছাত্রলীগ নেতাদের আক্রমণ আমরা দেখেছি, কোটা আন্দোলন সময়ও হেলমেট বাহিনীর আক্রমণ দেখেছি। এমনকি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনেও আমরা হেলমেট বাহিনী দেখেছি। কিন্তু আমরা যখন দেখি বাস মালিক-শ্রমিকরা জনগণকে জিম্মি করে সারা দেশে পরিবহন খাত বন্ধ করে দেয় তখন কোনো হেলমেট বাহিনী তাদের ওপর আক্রমণ করে না। মূলত, মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন সরকারী দলের অঙ্গ সংগঠনে পরিণত হয়ে পড়ে। এ কারণে আমরা দেখি এখানে জনস্বার্থ বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত হয়, মালিক সমিতির স্বার্থগুলো প্রায়োরিটি পায়। ভাড়া নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সরকারের সাথে মালিক সমিতির বৈঠক। এটা বাসের ক্ষেত্রেও হয়, লঞ্চের ক্ষেত্রেও হয়। আমরা গভীর উদ্বেগে লক্ষ করি যে, সেখানে কোনো গণমাধ্যম থাকে না, যাত্রী সাধারণের কোনো প্রতিনিধি থাকে না। মালিকদের কথার প্রেক্ষিতেই সরকার ভাড়া বাড়িয়ে দেন। ভাড়ার বোঝা যাদের সইতে হবে, তারা কতটুকু লোড নিতে পারবেন বা তাদের অভিযোগ, তাদের কথাগুলো, যাত্রী সেবার মান সংক্রান্ত দাবী গুলো, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ কান্না তুলে ধরার জন্য যাত্রী প্রতিনিধি নিশ্চিত করা হয় না। ফলে আমরা দেখি একচেটিয়াভাবে ভাড়া বাড়ানো হয় এবং সেটা অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হয়। ফলে যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ বাড়ে। ভাড়া বাড়িয়ে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তার চেয়ে বাড়তি বাড়া আদায় করা হয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আওয়ামী লীগ কারো মুখোমুখি হতে রাজপথে নামেনি’

প্রকাশ: ০৩:৫৯ পিএম, ২৭ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দলের মুখোমুখি হতে রাজপথে নামেনি। আওয়ামী লীগ রাজপথের দল তাই রাজপথে আছে। শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীও রাজপথে আছে। আমরা কারো পাল্টা কর্মসূচি দিচ্ছে না। আমরা করতেও চাই না। আমাদের সমস্ত কর্মসূচি আগামী ২৪ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে। ওই দিনটিকে ঘিরেই আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে রাজপথে নেমেছে। উদ্দেশ্য একটাই শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী করা এবং রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাত ধরেই আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আরও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।  

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। অন্যদিকে পুরো ডিসেম্বর মাস জুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগও। এতে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হবে কিনা তা নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে আলাপচারিতায় এস এম কামাল হোসেন এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এস এম কামাল হোসেন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ কি সংঘাতে যাবে এমন প্রশ্নের উত্তরে এস এম কামাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতি করে না, কখনো করবেও না। বিএনপি যদি সংঘাত-সংঘর্ষ করে তার জবাব অতীতের মতো দেশের সাধারণ মানুষই দেবে। আমরা কাজ করছি দল গোছাতে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে, আমরা নির্বাচনে অংশ নিব। দেশের সকল দল নির্বাচন অংশ নেবে আওয়ামী লীগ সেটা প্রত্যাশা করে। কিন্তু কেউ নির্বাচন বর্জন করে যদি সংঘাতে যায় তার জবাব দেশের মানুষই দিবে, আওয়ামী লীগ নয়।

বিএনপি এদেশের জন্য কি রাজনীতি করছে এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, বিএনপির শুধু ধ্বংসাত্মক রাজনীতিই করেছে। এদেশের মানুষ সাক্ষ্য দেয়।  মির্জা ফখরুল পল্টনে দাঁড়িয়ে সরকার পতনের ধমক দেয়। অথচ তাদের নেতা রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে পালিয়ে গেছে। আর লন্ডনে বসে বসে তিনি দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন। কিন্তু আপনারা দেখেছেন যে, আইএমএফ বাংলাদেশে এসে বলে গেছে, বাংলাদেশ গত ১৫ বছরে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। বিএনপি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অপপ্রচার করে দেশের উন্নয়নের অগ্রগতির পথ রোধ করতে চায়। যে কারণে তারা একেক পর এক মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে। কিন্তু আইএমএফ এর মতো বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টও বলে গেছেন বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা। অথচ বিএনপি এই কথা গুলো স্বীকার করতে চায় না। তারা নানা রকম মিথ্যা আর গুজব ছড়িয়ে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। কিন্তু এদেশের মানুষ তা হতে দেবে না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা নামিয়ে যেন বাংলাদেশের পতাকাটা ওঠাতে পারি’

প্রকাশ: ০৪:০২ পিএম, ২৬ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

কাতারে চলছে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২২’। বিশ্বকাপ নিয়ে চলছে উন্মাদনা। নিজেরা না খেললেও সমর্থনে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। নিজের পছন্দের দলের পতাকা আর জার্সির রঙে সেজেছে পুরো দেশ। পিছিয়ে নেই শোবিজ তারকারও। নবীন অভিনেতা রাশেদ সীমান্ত আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। বিশ্বকাপ নিয়ে এই অভিনেতার সাথে কথা হলো বাংলা ইনসাইডারের।

বাংলা ইনসাইডার: এবারের বিশকাপে কোন দল সাপোর্ট করছেন? 

রাশেদ সীমান্ত: আমি আসলে ভালো ফুটবল খেলার সাপোর্ট করি। যে দল ভালো খেলুক। তারপরও যদি বলেন স্পেসিফিক অবশ্যই একটি দল আছে। আমি আগেই বলে নিচ্ছি যে ভালো খেলবে তাকেই সম্মান করতে আমি প্রস্তুত। তবে আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা।

বাংলা ইনসাইডার: প্রিয় খেলোয়াড় কে? 

রাশেদ সীমান্ত: আমি ম্যারাডোনার খেলা দেখি নাই। এর পরের যে জেনারেশন বা যারা এসেছে তাদের খেলা দেখেছি আমি। যেমন বাতিস্তুতার খেলা দেখতাম আমি। আনহেল ডি মারিয়ার খেলা আমার ভালো লাগে। আর মেসির কথা বললাম না আলাদা করে, এটা সবারই ভালো লাগে। আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হিসেবে নয়, সবারই মেসির খেলা ভালো লাগে। এই দলে আরও দুই-তিন জন ছিল যাদের খেলা ভালো লাগতো। এরমধ্যে একজন হচ্ছে তেভেজ। আমার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা যতটা ভালো টিম ততটা ভালো রেজাল্ট তাঁরা করতে পারছে না বেশ কয়েকটি বিশ্বকাপে।

বাংলা ইনসাইডার: অন্য দল নিয়ে আপনার মতামত কী? 

রাশেদ সীমান্ত: নিঃসন্দেহ ব্রাজিল খুব ভালো টিম, খুবই ভালো টিম। নান্দনিক ফুটবল খেলে। ব্রাজিল টিমেও আমার পছন্দের দুই-তিন জন ফুটবলার ছিল যাদের খেল আমি দেখেছি। যেমন- রবার্তো কার্লোস। আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, পৃথিবীর সেরা ফ্রি-কিক যারা করে তার মধ্যে অন্যতম সেরা। রবার্তো কার্লোস, কাকা, রোনালদিনহো আমার খুব পছন্দের খেলোয়াড় এবং এদের খেলা দেখতে আমার খুব ভালো লাগে।

বাংলা ইনসাইডার: এবারের বিশকাপ নিয়ে আপনার চাওয়া কী? 

রাশেদ সীমান্ত: আমি আসলে একজন দর্শক হিসেবে হতাশ। আজকে আমি আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা আমার পছন্দের দল নিয়ে যতখানি উচ্ছ্বাসিত তার চেয়ে কোটি গুণ উচ্ছ্বাসিত থাকতাম যদি আমার দল থাকতো, বাংলাদেশ থাকত। আমি চাই বাংলাদেশ কোনো একটা সময় খেলবে বিশ্বকাপ। আমি তো এরকমও শুনেছি যখন আমি খুব ছোট যে, ফুটবল স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডান মারামারি হইত। এটাই ছিল আমাদের প্রধানতম খেলা। খুব খুশি হবো যদি কোনদিন আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকাটা ওঠাতে পারি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মিরাক্কেল বিচারকদের প্রশংসা আমাকে অনুপ্রাণিত করে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৫ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ভারতের জি বাংলা চ্যানেলে অনুষ্ঠিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার্স ৬ এ অংশগ্রহণ করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন জামিল হোসেন। পরবর্তীতে ভালোবাসা আজকাল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে অভিষিক্ত হন। এরপর নিয়মিত অভিনয় করছেন ছোট পর্দায়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই অভিনেতার সাথে কথা হলো বাংলা ইনসাইডারের।

বাংলা ইনসাইডার: মিরাক্কেলে পথচলা শুরু হলো কিভাবে?

জামিল হোসেন: আমি যখন মিরাক্কেলে অংশ নিয়েছি সেটি সিজন ৬ ছিল। এর আগের মিরাক্কেল ৬ অবধি আমি দেখিনি। আছে না একটা বিষয় যে আমি দেখেছি এবং সেটি দেখে মনে হয়েছে যে আমি সেখানে যাব এমনটা নয়। আমি শখের বশে অডিশন দিয়েছে। এবং যখন অডিশন দেই তখন অন্যদের পাসপোর্ট এর কথা বলা হলেও আমাকে বলা হয়নি। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে যে, আমার হয়নি। না হওয়ার কারণে আমি আশা ছেড়ে দিয়েছি। এরপর দুই মাস পরে কলকাতা থেকে আমাকে নক করা হলো আমার পাসপোর্ট আছে কিনা। আমি তো এটা ভুলেই গিয়েছিলাম। যে কারণ তারা যখন আমাকে নক করে আমি জানতে চেয়েছিলাম কে, কোথায় থেকে বলছে। তারপর তো আমি পাসপোর্ট করে কলকাতা চলে গেলাম।

বাংলা ইনসাইডার: মিরাক্কেলের অডিশনে অনুভূতি কেমন ছিল?

জামিল হোসেন: আমি আগে এমনিতে অডিশন ভয় পেলাম এবং টেলিভিশনে ওটাই ছিলো আমার প্রথম অডিশন। যে রকম লাইট এবং সেট! যেখানে অডিশন হয়েছিল সেখানে দেখলাম একে একে ঢুকছে রজত দত্ত, মীর দা ঢুকলো, প্রাণ দা, শ্রীলেখা দি এরা সবাই সামনে ঢুকছে। আমি তো আগে থেকে মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। উনাদের দেখে আমার মনে হয়েছিল আরেকটুকু কাছে যাই। যদিও শুরুর দিকে আমার এপিসোড ছিল না। আমার শুটিং ছিলো ৩ থেকে ৪ টির শুটিং এর পরে। কিন্তু আমাদের সবার উদ্দেশ্য ছিলো একটাই। আর সেটি হলো বিচারকদের দেখা। ওই অনুভূতি এখনো আমার মধ্যে কাজ করে। মিঠুন দার একটি মন্তব্য আমার খুব ভালো লেগেছিলো। সেটি এখনো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি আমাকে বলেছেন যে, আমি একটা জাত অভিনেতা দেখলাম। উনার এই মন্তব্য অভিনয় আসার জন্য আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। রজত দত্ত সব সময় আমার প্রশংসা করতেন।

বাংলা ইনসাইডার: অভিনয়টা কেমন লাগছে?

জামিল হোসেন: আমার মনে হয় প্রথম দিন একটি গান কেন্দ্রিক অভিনয় ছিল। একজন বয়াতির গান এবং এক সঙ্গে পারফর্ম করা। আরেকটি বিষয় আমার মনে আছে, দেব আমাকে ভালো ভেজালে ফেলে দিয়েছিলো। সে তো আর সিলেটি ভাষা বুঝে না। আমি সিলেটের একটা কালো বয়াতির সঙ্গে ধলা বয়াদির পারফর্ম করছিলাম। হঠাৎ করে দেব আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো এটার অর্থ কি? তাকে অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে আবার পারফর্ম করা কোন রকম বিরতি না দিয়ে। কোন বিরতি না দিয়ে আবার পারফর্ম করতে পারায় তিনি অনেক প্রশংসা করেছিলেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘গোল কিপারকে সেদিন পেলে সেদিনই গুলি করে দিতাম’

প্রকাশ: ০৪:০২ পিএম, ২৪ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

কাতারে শুরু হয়েছে ‘ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২২’। এই বিশ্বকাপ নিয়ে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। নিজেরা না খেললেও সমর্থনে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। নিজের পছন্দের দলের পতাকা আর জার্সির রঙে সাজতে শুরু করেছে পুরো দেশ। পিছিয়ে নেই শোবিজ তারকারও। চলচ্চিত্র নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাস ব্রাজিলের সাপোর্টার। বিশ্বকাপ নিয়ে এই নির্মাতার সাথে কথা হলো বাংলা ইনসাইডারের।

বাংলা ইনসাইডার: খেলা দেখা হয় কবে থেকে?

দেবাশীষ বিশ্বাস: আমার খেলা ফলো করা শুরু হয় ১৯৮৬ সাল থেকে। ব্রাজিল আর ফ্রান্সের খেলা ছিলো তখন কোয়াটার ফাইনালে। সেইখানে টাইব্রেকারে ব্রাজিল ৪/৫ গোলে হেরে যায়। জয়েল ব্যাটস নামে একজন গোলকিপার ছিলো ফ্রান্সে। ওই গোল কিপারকে সেদিন পেলে সেদিনই গুলি করে দিতাম। তখন আমি সারারাত কান্না করেছিলাম। তখন থেকেই আমার ভালোবাসা ফুটবলের প্রতি। সেই ভালোবাসা অবিচল আছে এখনো। সবসময় ব্রাজিল ছিলাম, ব্রাজিল আছি, ব্রাজিল থাকবো।

বাংলা ইনসাইডার: আর্জেন্টিনা বা অন্যান্য দল সাপোর্ট করেন না কেন?

দেবাশীষ বিশ্বাস: আই হেইট আর্জেন্টিনা। ব্রাজিল কে ভালোবাসি তাই ব্রাজিল সাপোর্ট করি। এটা অনেকটা আবাহনী-মোহামেডানের মত। একদল কে সাপোর্ট করলে অন্য দলকে হেইট করতে হয় নাহলে বিপক্ষ দলের সাপোর্ট টা বাড়ে না, খেলার ফিল আসেনা।

বাংলা ইনসাইডার: এইবার বিশ্বকাপ নিয়ে আপনার প্রেডিকশন কেমন?

দেবাশীষ বিশ্বাস: খুব কঠিন প্রেডিকশন। ক্রিকেটে আপসেট টা বেশি হয়, বলে বলে লড়াইয়ের মাধ্যমে। ফুটবলে তাও  একটা প্রেডিক্ট করা যায়। তবে এখন যেই টিমগুলা এসেছে, যেমন আর্জেন্টিনা- আমি যত যাই বলি না কেন আর্জেন্টিনা একটা সময় সেরা দশে ছিলো না কিন্তু এখন আর্জেন্টিনা সেরা তিন নম্বরে। সুতরাং আর্জেন্টিনা কে ফেলে দেওয়ার কোনো কারণ ই নেই। খুব ভালো একটা টিম আর্জেন্টিনা এবং এটি লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। সুতরাং তার দলের সতীর্থ রাও চাইবে এইবার তার জন্য ট্রিবিউট করতে। আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকরা বলছে লিওনেল মেসির হাতে যদি বিশ্বকাপ না উঠে  তবে বিশকাপের মর্যাদাটা অনেকটা হানি হবে। আমিও অনেকটাই এমন বিশ্বাস করি। কারণ একজন মেসিকে তো আর অস্বীকার করতে পারবোনা। ডেফিনিটলি আর্জেন্টিনা একটি ভালো টিম।

বাংলা ইনসাইডার: অন্যান্য দল গুলো নিয়ে কি ভাবনা?

দেবাশীষ বিশ্বাস: জার্মানি সবসময় ভালো টিম হয়েও অনেকসময় অনেক কিছু করতে পারেনা। ফ্রান্স অনেক ভালো টিম। এছাড়াও এইবার ইউরোপের অন্যান্য কিছু টিম বেশ শক্তিশালী, যেমন ডেনমার্ক খুব ভালো টিম। তবু ও এশিয়ান হিসেবে এশিয়ান টিম গুলোর প্রতি আমার সমর্থন থাকবে। এশিয়ান টিমগুলো যেন বড় পর্যায় যেতে পারে এই আশা করি আমি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বিএনপি আসলে নেতৃত্ব শূন্য’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৩ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বাধীন মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন  বলেছেন, বিএনপি আসলে নেতৃত্ব শূন্য। তাদের মূল নেতা বেগম খালেদা জিয়া তিনি অসুস্থ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া তিনি লন্ডনে বসে সেখান থেকে নির্দেশ দিচ্ছেন। এরকম অবস্থা দলের যে ছাড়া ছাড়া ভাব বিএনপির মধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি। দীর্ঘদিন তারা আন্দোলনের কথা বলছে, কিন্তু কোন সেরকম আন্দোলন তারা গড়ে তুলতে পারেনি।

মাঠের বিরোধী দল বিএনপির সরকারবিরোধী আন্দোলন, নির্বাচনকে বানচাল করার অপচেষ্টা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বিদেশী কূটনীতিকদের মন্তব্য ইত্যাদি নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়  এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন  এসব কথা বলেছেন। 

জাতীয় চার নেতার সন্তান হিসেবে রাজনীতি করতে এসে কোন দায় অনুভব করেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই। আমরা জন্মগতভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছোট থেকেই বাবাকে দেখেছি এবং পরবর্তিতে বিভিন্ন সংগ্রাম ও আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকেছি। যেহেতু জাতীয় চার নেতা বঙ্গবন্ধুর জীবনের মরণের সহযোগী ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা করেছেন, দেশকে স্বাধীন করেছেন এবং পরবর্তিতে জীবনও দিয়েছেন। কাজেই আমি অবশ্যই এটা সবসময় মনে রাখি। মনে রাখতেই হবে যে, আমি আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের সন্তান। আমার দ্বারা যেন খারাপ কোন কাজ না হয়।

তিনি বলেন, আসলে রাজনীতি করতে গেলে ভয় ভীতি উপেক্ষা করে দেশপ্রেম থেকেই করতে হবে। আমরা এ ক্ষেত্রে জাতীয় পিতাকে অনুসরণ করেছি, জাতীয় চার নেতাকে অনুসরণ করেছি। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা যে অসীম সাহস নিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এখান থেকেই কিন্তু আমরা অনুপ্রেরণা পাই। ওনাদের যতটুকু পারি অনুসরণ করি।

তিনি আরো বলেন, দেড় বছর আগে থেকেই বিএনপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলো যারা আছে, তারা নির্বাচন কিভাবে হবে ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে মাঠ গরম করছে। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে তা হলো বিএনপি আসলে বলা যেটা পারে নেতৃত্ব শূন্য, তাদের মূল নেতা বেগম খালেদা জিয়া তিনি অসুস্থ এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া তিনি লন্ডনে বসে সেখান থেকে নির্দেশ দিচ্ছেন। এরকম অবস্থা দলের যে ছাড়া ছাড়া ভাব বিএনপির মধ্যে আমরা লক্ষ্য করেছি। দীর্ঘদিন তারা আন্দোলনের কথা বলছে, কিন্তু কোন সেরকম আন্দোলন তারা গড়ে তুলতে পারেনি। অবশেষে তারা নির্বাচনের একটি ইস্যুকে দাঁড় করিয়েছে যে তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না এবং সেটা আদায় করবে, না হলে নির্বাচন হতে দেবে না। এরকম যে একটা কর্মসূচি নিয়ে তারা মাঠে নেমেছে এবং সরকার বিরোধী নানা অপপ্রচার তারা চালিয়েই যাচ্ছে। আমরা এগুলো আসলে কর্মীদের একটু উৎসাহিত করা, এক জায়গায় নিয়ে আসার একটি উদ্যোগ। দর কষাকষি করে শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে আসবে বলেই আমার কাছে মনে হয়।  

আন্তর্জাতিক মহল এবার বাংলাদেশ নিয়ে একটু বেশিই তৎপর। আন্তর্জাতিক চাপটিকে রাজনৈতিকভাবে কিভাবে মূল্যায়ন করছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একটি দেশের নেহায়েতই অভ্যন্তরীণ বিষয় হলো নির্বাচন। ক্ষমতায় কে আসবে না আসবে এটা নির্ধারণ করবেন সে দেশের জনগণ। সেখানে বিদেশীরা এত বেশি করে নিজেরদের মত দিচ্ছেন। বিদেশী রাষ্ট্রদূতেরা এত ওপেনলি কথা বলছেন, অনেকটা বলা যেতে পারে তাদের শিষ্টাচার বহির্ভূত। তদের কথায় মনে হচ্ছে তারা বিরোধী দলের পক্ষ নিয়ে খোলামেলা কথা বলছেন। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারটা আমরা বুঝি। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বা জাপান এই দেশগুলি আমার মনে হয় যে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সুর মিলিয়ে উত্তর দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে আমার মনে হয় তাদের সতর্ক হওয়া উচিত। তাদের কথা শিষ্টাচার বহির্ভূত না হওয়াই ভাল। 


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন