ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বন্যায় আসাম-মেঘালয়ে নিহত ৪১, ত্রিপুরায় গৃহহীন ১০ হাজার

প্রকাশ: ১০:১৮ এএম, ১৯ জুন, ২০২২


Thumbnail বন্যায় আসাম-মেঘালয়ে নিহত ৪১, ত্রিপুরায় গৃহহীন ১০ হাজার

আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা- প্রবলবৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধ্বসে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ভারতের এই তিন রাজ্য। আসাম ও মেঘালয়ে এখন পর্যন্ত ৪২ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এদিকে ত্রিপুরায় গৃহহীন হয়ে পড়েছে ১০ হাজার মানুষ। 

শনিবার (১৮ জুন) রাতে এনডিটিভির খবরে জানানো হয়েছে, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় দুই রাজ্য আসাম ও মেঘালয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। এছাড়া রাজ্য দু’টিতে দুর্যোগপীড়িত মানুষের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩০ লাখ। এদিকে আরেক রাজ্য ত্রিপুরায় ১০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষকে উদ্ধার অভিযানের জন্য সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের দাবি উঠেছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রবলবৃষ্টি ও বন্যায় চলতি সপ্তাহে আসামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে এবং আরেক রাজ্য মেঘালয়ে এই একই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। অর্থাৎ দুই রাজ্য মিলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। 

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার (১৭ জুন) থেকে অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে ত্রিপুরায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নেই। এছাড়া রাজ্যটির সরকারি সূত্র জানিয়েছে, গত ৬০ বছরে মধ্যে আগরতলায় এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, মেঘালয়ের মাওসিনরামে ১৯৪০ সাল থেকে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ও চেরাপুঞ্জিতেও ১৯৯৫ সালের পর সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। 

আসামে ৪ হাজারেরও বেশি গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার মানুষকে ৫১৪টি আশ্রয় শিবিরে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু বেড়িবাঁধ, কালভার্ট ও রাস্তাঘাট।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসামের হোজাই জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এতে তিন শিশু নিখোঁজ হয়েছে এবং ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ফোন করে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলেছেন এবং কেন্দ্র থেকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে সুবানসিরি নদীর পানিতে স্থানীয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্মাণাধীন একটি বাঁধ ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা পিটিআই। এছাড়া আসাম সরকার বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে আটকে পড়া লোকদের জন্য গৌহাটি ও শিলচরের মধ্যে বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। এদিকে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বন্যায় নিহতদের পরিবারকে ৪ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

বন্যা   আসাম   মেঘালয়   ত্রিপুরা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

আবারও জামিন পেলেন ইমরান খান

প্রকাশ: ০৮:৪৩ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail আবারও জামিন পেলেন ইমরান খান

ইসলামাবাদের দায়রা জজ আদালতের এক বিচারক, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ও উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) হুমকির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির একদিন পর পঞ্চম দফায় জামিন পেয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

রোববার (২ অক্টোবর) ইসলামাবাদের হাইকোর্ট ইমরান খানের জামিনের মেয়াদ আরেক দফা বৃদ্ধির পর আদালত অবমাননার মামলায় আগামী ৭ অক্টোবরের আগে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

গত ২০ আগস্ট এক সমাবেশে ইসলামাবাদের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ জেবা চৌধুরী ও পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাদের হুমকির মামলায় শুক্রবার ইমরানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

ইসলামাবাদের সিনিয়র সিভিল জজ রানা মুজাহিদ রহিমের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতিবাদে শনিবার রাতে পিটিআইয়ের কর্মীরা বানিগালায় জড়ো হন। পিটিআই চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের যেকোনও চেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে তার বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভও করেন তারা।

দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন বলেছে, পিটিআইয়ের কর্মীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হলে তা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম বলে বিবেচনা করা হবে।

ইমরান খান তার আইনজীবী বাবর আওয়ানের মাধ্যমে রোববার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানি শেষে সাবেক এই পাক প্রধানমন্ত্রীকে আগাম জামিন দেয়। আবেদনে ইমরান খান বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত এই অভিযোগ বাতিল করে দিয়েছে এবং মামলাটি স্থানান্তর করা হয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও করেছেন তিনি। দেশটির র্ব্তমান ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে ইমরান খান বলেছেন, এসবই কেবল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধাদানের চেষ্টা।

পিটিআইয়ের চেয়ারম্যানের আবেদন গ্রহণের পর তাকে গ্রেপ্তার না করতে ইসলামাবাদ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি মহসিন আখতার কায়ানি। একই সঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ১০ হাজার রূপি মূল্যের বন্ডের শর্তে জামিন দেন বিচারপতি। পাশাপাশি আগামী শুক্রবারের আগে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। 

আদালতের বাইরে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় ইমরান খানের আইনজীবী আওয়ান বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্ট পিটিআই প্রধানকে সুরক্ষামূলক আগাম অস্থায়ী জামিন দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আগামী ৭ অক্টোবরের আগে নিম্ন আদালতে হাজির হব। আদালতে সন্দেহভাজনদের উপস্থিতি নিশ্চিতে এ ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ইমরান খান গত ২০ আগস্টের ভাষণে ইসলামাবাদ পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং উপ-মহাপরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, আমরা আপনাদের ছাড় দেব না।

গত ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে গ্রেপ্তার হন ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহকারী ও পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহবাজ গিল।

শাহবাজের মুক্তির দাবিতে ব্যাপকভাবে সরব হন পিটিআই চেয়ারম্যান। পরে দলীয় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ইমরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি অবিলম্বে শাহবাজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাকে মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে ইসলামাবাদ পুলিশের আইজি, ডিআইজি ও যে আদালতে শাহবাজের বিচার চলছে, তার বিচারক জেবা চৌধরীকে ‘দেখে নেবেন’ তিনি।

এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ও সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয় ইমরান খানের বিরুদ্ধে। মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পরের দিন ২২ আগস্ট ইসলামাবাদের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন পিটিআইয়ের দুই আইনজীবী ফয়সাল চৌধুরী ও বাবর আওয়ান। দফায় দফায় পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জামিনও পান।

সূত্র: ডন।


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ফ্লোরিডায় হারিকেন ইয়ানের আঘাতে ৬৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ১২:১৪ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ফ্লোরিডায় হারিকেন ইয়ানের আঘাতে ৬৬ জনের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হারিকেন ইয়ানের আঘাতে অন্তত ৬৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলিনায় ঝড়ের সময় দুর্ঘটনাজনিত কারণে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে এসব তথ্য।

এদিকে, ফ্লোরিডার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার পুয়ের্তো রিকো ও বুধবার ফ্লোরিডায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে দেখবেন তিনি। 

ইয়ানের কারণে শনিবার পর্যন্ত বহু এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঘূর্ণিঝড় ইয়ান ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে শুক্রবার ফ্লোরিডার মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে সরে যায়।

এর আগে ইয়ান ফ্লোরিডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হতে পারে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ফ্লোরিডা   হারিকেন ইয়ান  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মাহসা আমিনির মৃত্যু: প্রতিবাদের ঢেউ সামলাতে পারবে ইরান?

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail মাহসা আমিনির মৃত্যু: প্রতিবাদের ঢেউ সামলাতে পারবে ইরান?

বিক্ষোভ চলাকালে আগুনের সামনে স্কার্ফ খুলে হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করছেন এক তরুণী। একাকী এক বৃদ্ধা, তার সাদা চুল খুলে, ‘খামেনির মৃত্যু!’ শব্দধ্বনি শুনতে শুনতে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং তার শাসনের বিরুদ্ধে এই তীব্র প্রতিবাদ।

ইরানে জনসম্মুখে নারীদের বাধ্যতামূলক হিজাব পরাসহ কঠোর পর্দা পালনের নিয়ম রয়েছে। এই বিধিগুলো তদারক করার জন্য রয়েছে দেশটির ‘নৈতিকতা বিষয়ক’ পুলিশ। এই পুলিশের একটি দল গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনিকে তেহরান থেকে আটক করে। আমিনি তার পরিবারের সঙ্গে তেহরানে ঘুরতে গিয়েছিলেন। আটকের পর মাহসা আমিনি থানায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মাহসা আমিনির। এ ঘটনার প্রতিবাদে ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলন-বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইরানের ডজন খানেকের বেশি শহরে। নিন্দার ঝড় বইছে বিশ্বব্যাপী। বহু বছর ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির ‘স্বৈরাচারী’ শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদী আন্দোলন হচ্ছে এবার। বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত ৮৩ জনের।

ব্যক্তিগত সাহস সম্মিলিতভাবে বিপ্লবের সূচনা করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২, আলোচিত আরব বসন্তের কয়েক বছর কেটে গেছে। পুলিশের দুর্নীতির প্রতিবাদে ২০১০ সালে তিউনিসিয়ার সিদি বাওজিদ এলাকার ফুটপাতের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ বাওয়াজিজি নিজের গায়ে আগুন জ্বালিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। সেই ঘটনা থেকে হয় জন্ম আরব বসন্তের। ২৬ বছর বয়সী ওই যুবকের আত্মাহুতির খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশটিতে। আন্দোলনে ফেটে পড়ে পুরো দেশ। তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন দেশটির প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন বেন আলী। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বেন আলীর শাসনের সমাপ্তি ঘটে।

তিউনিসিয়ার বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন থাকা শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে ওঠে বাহরাইন, মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে। বেশ কিছু বছর ধরে কয়েকবার ইরানিরা তাদের দেশের শাসনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরিত হয়েছে। এবারও দমন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের জন্ম হলো। তবে এখনকার আন্দোলনের সময়টা কি ভিন্ন হতে পারে?

এটা ভবিষ্যৎ বাণী করা প্রায় অসম্ভব। অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার বিক্ষোভ বেশি ছড়িয়ে পড়েছে ইরানে। তরুণদের সঙ্গে বয়স্করাও অংশ নিয়েছেন আন্দোলনে। কুর্দিসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুরাও অংশ নিচ্ছেন এতে। তবে এখন পর্যন্ত নারীরাই সবচেয়ে সাহসিকতা দেখিয়েছেন এবারের আন্দোলনে। তবে ইরানের পুরুষরা যদি সমান মাঠে নামে তাহলে একটি ‘জঘন্য’ ব্যবস্থাকে অপসারণ করা, যদিও স্বল্পমেয়াদে এখনো অসম্ভব তবে অকল্পনীয় নয়।

চলমান বিক্ষোভে নারীদের ভূমিকা নতুন। আরেকটি পার্থক্য হলো দাবির বিষয়গুলোও বাস্তবে কঠিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের সমসাময়িক তরুণরাও সামিল হচ্ছে আন্দোলনে। ২০১২ সাল থেকে মাথাপিছু আয় স্থবির হয়ে পড়েছে ইরানের। ফলে ৮৫ মিলিয়নের বেশি লোক কঠিন জীবনযাপন করছে দেশটিতে। ইরানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রাকৃতিক কারণে। নদীগুলোর পানি শুকিয়ে গেছে। চাষের জমি শুকিয়ে গেছে। অনেক ইরানির কাছে এখন একটি বিকল্প হতে পারে দেশ ছাড়া যাওয়া।

ইরানের শাসনব্যবস্থা আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। অভিযোগ আছে, ইরানের সমস্যা বিদেশিদের ওপর দোষ চাপানো। নিশ্চিতভাবেই, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞাগুলো অর্থনৈতিক দুরাবস্থাকে আরও গভীর করেছে, কিন্তু জনগণের দারিদ্র্যের জন্য প্রধান দায়ী দেশটির শাসন ব্যবস্থাই। অর্থনীতির কিছু অংশে সামরিক লোক এবং আয়াতুল্লাহদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নীতিগুলো একরোখা। ইরানের পার্লামেন্টে কট্টরপন্থিরা আধিপত্য বিস্তার করে, এবং তুলনামূলকভাবে সংস্কারমনা রাজনীতিবিদদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা দেওয়া হয়।

তা ছাড়া, কয়েক দশকের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির কারণে ইরান আইসোলেটেড হয়ে পড়েছে। দেশটি ইরাক ও লেবাননে মিলিশিয়া ও সিরিয়া, ইয়েমেনে নৃশংস নেতাদের সমর্থন করে। ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য হুমকি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পারমাণবিক পরিকল্পনার সঙ্গে টিকে থাকে যা ইসরায়েলকে আতঙ্কিত করে এবং এই অঞ্চলকে বিচলিত করে এমনটাও বলা হচ্ছে। বিক্ষোভ অব্যাহত থাকলেও, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের এতে মাথা ঘামানোর ঝুঁকি নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলে মনে করছেন অনেকে।

স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, বিদ্রোহকে উত্সাহিত করার জন্য পশ্চিমারা খুব কমই আগ্রহী হতে পারে কারণ বিশ্বের অন্যত্র যুদ্ধ চলছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানের শাসনকে দুর্বল করেছে, তবে পরিবর্তন আনতে স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছে। বলা হচ্ছে, তেল সমৃদ্ধ ইরান মানবাধিকার নিয়ে পরোয়া করে না, বিশেষ করে চীনের মতো। ইরানের সঙ্গে চীনের ভালো অর্থনৈতিক সখ্যতা রয়েছে।

ইরানের সাহসীদের জন্য পশ্চিমা সরকারগুলো যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে পারে তা হলো তাদের সেন্সরশিপ এবং নজরদারি এড়াতে সহায়তা করা। দেশটির ইন্টারনেট সেবার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের কঠোর শাসন থেকে মুক্তি পেতে তাদেরকেই লড়াই করতে হবে। এখন পর্যন্ত বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্তভাবে হচ্ছে। কোনো সম্ভাব্য নেতার আবির্ভাব হয়নি। তবে সবশেষ বিদ্রোহও শেষ পর্যন্ত ম্লান হতে পারে, যেমনটি আগেরগুলো হয়েছিল।

মাহসা আমিনি   ইরান   হিজাব ইস্যু  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্মদিন আজ

প্রকাশ: ১০:০১ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর জন্মদিন আজ

অহিংস আন্দোলনের প্রতীক, শান্তিকামী নেতা মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর (মহাত্মা গান্ধী) জন্মদিন আজ। ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতের গুজরাট রাজ্যের পরবনদার শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জাতিসংঘ মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনটিকে অহিংসা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে। মহাত্মা গান্ধী ভারতের জাতির পিতা।

গান্ধী ভারতে এবং বিশ্ব জুড়ে মহাত্মা (মহান আত্মা) এবং বাপু (বাবা) নামে পরিচিত। ভারত সরকার সম্মানার্থে তাকে ভারতের জাতির জনক হিসেবে ঘোষণা করেছে। 

মহাত্মা গান্ধী সমস্ত পরিস্থিতিতেই অহিংস মতবাদ এবং সত্যের ব্যাপারে অটল থেকেছেন। তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং একটি স্বায়ত্তশাসিত আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। তার নিজের পরিধেয় কাপড় ছিল ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ধুতি এবং শাল, যা তিনি নিজেই চরকায় বুনতেন। তিনি সাধারণ নিরামিষ খাবার খেতেন। শেষ জীবনে ফলমূলই বেশি খেতেন। আত্মশুদ্ধি এবং প্রতিবাদের জন্য তিনি দীর্ঘ সময় উপবাস থাকতেন।

গান্ধী তার জীবনকে সত্য অনুসন্ধানের বৃহৎ উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, এবং নিজের উপর নিরীক্ষা চালিয়ে তা অর্জন করেছিলেন। তিনি তার আত্মজীবনীর নাম দিয়েছিলেন দি স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেণ্টস উইথ ট্রুথ যার অর্থ সত্যকে নিয়ে আমার নিরীক্ষার গল্প। গান্ধী বলেন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ছিল নিজের অন্ধকার, ভয় ও নিরাপত্তাহীনতাকে কাটিয়ে ওঠা। গান্ধী তার বিশ্বাসকে প্রথম সংক্ষিপ্ত করে বলেন, ঈশ্বর হল সত্য। পরবর্তীতে তিনি তার মত বদলে বলেন, সত্য হল ঈশ্বর। এর অর্থ সত্যই হল ঈশ্বরের ক্ষেত্রে গান্ধীর দর্শন

জন্মদিন   জন্মবার্ষিকি   করমচাঁদ গান্ধী   মহাত্মা গান্ধী  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

সুইডেন-ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্য হওয়ার চেষ্টায় ফের হুমকি এরদোয়ানের

প্রকাশ: ০৮:৫৫ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail সুইডেন-ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্য হওয়ার চেষ্টায় ফের হুমকি এরদোয়ানের

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্যপদ প্রাপ্তির প্রচেষ্টাকে আবারও রুখে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

শনিবার (১ অক্টোবর) তিনি বলেন, এই দুটি নর্ডিক দেশ আঙ্কারার কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তিনি তার অনুমোদন দেবেন না।

আঙ্কারায় পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি বহাল না হওয়া পর্যন্ত, আমরা আমাদের নীতিগত অবস্থান বজায় রাখব।’

বিশদ বিবরণ ছাড়াই তিনি বলেন, “সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে কি না, তা আমরা নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছি এবং অবশ্যই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমাদের মহান সংসদের ওপর নির্ভর করবে।’

আঙ্কারা প্রথমে বলেছিল, ‘তারা পশ্চিমা জোটে দেশ দুটির সদস্যপদ প্রাপ্তিতে ভেটো দেবে। এরদোয়ান তুরস্কে কর্মরত কুর্দি জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার এবং তার কথায়, ‘সন্ত্রাসবাদ’ প্রচার করার জন্য তাদের অভিযুক্ত করেছিলেন।

আলোচনার পর এরদোয়ান বলেন, ‘তিনি তার আপত্তিগুলো প্রত্যাহার করবেন।’ তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে, তিনি এখনো তাদের সদস্যপদ লাভে বাধা দিতে পারেন। সব প্রতিশ্রুতির কথা প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ন্যাটো সদস্যপদ লাভের জন্য সবগুলো, অর্থাৎ ৩০টি ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদন প্রয়োজন। শুধু হাঙ্গেরি এবং তুরস্ক এখনো তাদের সংসদে এই দুটি দেশের সদস্যপদের প্রচেষ্টা অনুমোদনের জন্য পাঠাতে পারেনি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা এবং এই অঞ্চলে ক্রেমলিনের অন্যান্য পদক্ষেপের মুখে সুইডেন এবং ফিনল্যান্ডে ঐতিহাসিক কিছু পরিবর্তন এসেছে।
হামলার পর নর্ডিক দেশগুলোর জনমত দ্রুত ন্যাটো সদস্যপদ লাভের পক্ষে চলে যায়।

সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

সুইডেন-ফিনল্যান্ডের   ন্যাটো সদস্য   হওয়ার চেষ্টায়   ফের হুমকি   এরদোয়ানের  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন