ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুদ্ধে যোগ না দিতে দেশ ছাড়ছেন রুশ নাগরিকেরা

প্রকাশ: ০৮:৪৯ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail যুদ্ধে যোগ না দিতে দেশ ছাড়ছেন রুশ নাগরিকেরা

ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আহ্বান আসার ভপর থেকেই দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন রাশিয়ার নাগরিকেরা। এজন্য অনেকে জর্জিয়া সীমান্তে জড়ো হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিবিসির জানিয়েছে, জর্জিয়া সীমান্তে সড়কে প্রায় ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ির লম্বা লাইন লেগে আছে। অনেকেরই সীমান্ত পাড়ি দিতে প্রায় সাত ঘণ্টা সময় লেগেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জর্জিয়া সীমান্ত দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ দেশ ছেড়েছেন। যদিওভ লোকজনের দেশ ছেড়ে পালানোর খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে মস্কো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রুশ নাগরিক বিবিসিকে বলেন, তিনি পাসপোর্ট সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছেন। সঙ্গে কিছু নেননি।

ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন করে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপরই তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। যুদ্ধ করতে ইউক্রেনে পাঠানো হবে বলেই দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন তিনি।

রাশিয়ার এই পরিস্থিতিতে নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে দিমিত্রি নামে এক ব্যক্তি এএফপির সাংবাদিককে জানান, স্ত্রী ও সন্তান রেখে আর্মেনিয়া যাচ্ছেন তিনি। দিমিত্রি বলেন, ‘আমি যুদ্ধে যেতে চাই না। যুক্তিহীন এই যুদ্ধে আমি প্রাণ হারাতে চাই না। এটা ভাইকে হত্যার যুদ্ধ।’

এদিকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণার পর এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় বিক্ষোভ শুরু হয় রাশিয়ায়। বিক্ষোভ থেকে এক হাজারের বেশি রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে রাশিয়ান পুলিশ। বিক্ষোভের সময় সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয় মস্কো এবং সেন্ট পিটার্সবার্গ শহর থেকে।

রাশিয়ান হিউম্যান রাইটস গ্রুপ ওভিডি-ইনফো জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিক্ষোভ হয়েছে সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক শহর ও ইয়েকাতেরিনবার্গের মতো শহরগুলোতে।


বিশ্ব সংবাদ   ইউক্রেন যুদ্ধ   সৈন্য সমাবেশ   মস্কো   বিক্ষোভ   রুশ নাগরিক  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

স্বামীর বেতন জানতে তথ্য অধিকার আইনে স্ত্রীর মামলা

প্রকাশ: ০৯:৪৯ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail স্বামীর বেতন জানতে তথ্য অধিকার আইনে স্ত্রীর মামলা

স্বামীর বেতন কত, জানতে চেয়েছিলেন স্ত্রী; কিন্তু বারবার জিজ্ঞেস করার পরও কোনো উত্তর না দেওয়ায় এবং আয়কর বিভাগ সহযোগিতা না করায় অবশেষে তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইনে মামলা করেছেন এক নারী। এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বেরিলি জেলায়।

স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে জিতেছেনও স্ত্রী। আয়কর বিভাগকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ওই নারীকে তার স্বামীর আয়ের যাবতীয় খুঁটিনাটি বিবরণ সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের তথ্য কমিশন সেন্ট্রাল ইনফরমেশন এজেন্সি (সিআইসি)।

মামলাকারী ওই নারীর নাম সঞ্জু গুপ্তা। ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বেরিলি জেলার বাসিন্দা তিনি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, স্বামীর বেতন জানতে চেয়ে প্রথমে আরটিআইয়ের আওতায় আয়কর দপ্তরে আবেদন করেছিলেন সঞ্জু; কিন্তু আয়কর দপ্তর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয়, অনুমতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তির আয়ের বিবরণ অন্য কাউকে জানানো সঠিক বলে মনে দপ্তর।

আয়কর দপ্তরে বিফল হওয়ার পর ফাস্ট অ্যাপিলেট  অথরিটিতে (এফএএ) আবেদন জানান সঞ্জু। কিন্তু সেখানেও নাকচ করে দেওয়া হয় তার আবেদন।

কিন্তু পরপর দু’জায়গা থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও দমে না গিয়ে শেষ পর্যন্ত সিআইসিতে আবেদন জানান। তিনি। এ বিষয়ে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের পুরনো কিছু রায় খতিয়ে দেখার পর অবশেষে সোমবার সঞ্জুর পক্ষে রায় দেন সিআইসি।

সিআইসির পক্ষ থেকে দেওয়া আদেশে আয়কর দপ্তরকে বলা হয়, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সঞ্জুকে তার স্বামীর বেতন জানাতে হবে। স্বামী কত বেতন পান, অন্য কোনও উৎস থেকে তার আয় আছে কি না, তাকে কত কর দিতে হয়— সিআইসির আদেশের পর এখন সব খুঁটিনাটি জানতে পারবেন সঞ্জু।

বস্তুত, বিবাহবিচ্ছেদের পর স্বামীর সম্পত্তির ভাগ চাইতে পারেন স্ত্রী। চাইলে স্বামীর কাছ থেকে তিনি খোরপোষও দাবি করতে পারেন। তাই সে সব ক্ষেত্রে স্বামীর আয় জানা স্ত্রীর পক্ষে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

সঞ্জু গুপ্তার স্বামী কেন তাকে বেতনের পরিমাণ জানাতে চাননি, তা অবশ্য এখনও পরিষ্কার নয়।  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মানব বিবর্তনের গবেষণায় নোবেল পেলেন ভ্যান্তে পাবো

প্রকাশ: ০৩:৪২ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail মানব বিবর্তনের গবেষণায় নোবেল পেলেন ভ্যান্তে পাবো

মানব বিবর্তনের জিনোম সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য চলতি বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হয়েছেন বিজ্ঞানী ভ্যান্তে পাবো। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট চিকিৎসা বিজ্ঞানে চলতি বছরের বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

বরাবরের মতো এবারও পুরস্কারের ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার পাবেন চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল বিজয়ী এই বিজ্ঞানী। এর আগে, গত বছর তাপমাত্রা এবং স্পর্শের জন্য রিসেপ্টর আবিষ্কারের গবেষণায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান লেবানিজ বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী আর্ডেম পাতাপুতিয়ান ও মার্কিন বিজ্ঞানী ডেভিড জুলিয়াস।

আজ সোমবার চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মাধ্যমে সূচনা হলো এবারের নোবেল পুরস্কার মৌসুমের। আগামীকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। চলতি বছরের নোবেল শান্তি ‍পুরস্কার আগামী শুক্রবার (৭ অক্টোবর) এবং ১০ অক্টোবর অর্থনীতিতে বিজয়ী ঘোষণার মাধ্যমে এবারের নোবেল পুরস্কারের পর্দা নামবে।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে ছোট আকারের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির বাইরে অন্য কোনও অতিথি উপস্থিত ছিলেন না।

এ বছর নোবেল ফাউন্ডেশন ২০২২ সালের বিজয়ীদের সঙ্গে গত দুই বছরের বিজয়ীদেরও আগামী ডিসেম্বরে স্টকহোমের নোবেল সপ্তাহে আমন্ত্রণ জানাবে। সেখানেই নোবেল পুরস্কারের মূল্য ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনারের (প্রায় ৯ লাখ ডলার) পাশাপাশি বিজয়ীদের হাতে ১০ ডিসেম্বর একটি সনদ ও স্বর্ণপদক তুলে দেওয়া হবে।

উনবিংশ শতাব্দিতে সুইডিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড নোবেল আবিষ্কার করেছিলেন ডিনামাইট নামের ব্যাপক বিধ্বংসী বিস্ফোরক; যা তাকে বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পত্তির মালিক করে তোলে। মৃত্যুর আগে তিনি উইল করে যান— প্রতি বছর ৫টি বিষয়ে যারা বিশেষ আবদান রাখবেন; তাদের যেন এই অর্থ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

আর অর্থনীতির পুরস্কার মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে প্রবর্তন করেছে ব্যাংক অব সুইডেন। ১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পুরস্কার চালু করে। ১৯০১ সাল থেকে শুরু হয় নোবেল পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। চলতি বছরে সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষ হবে আগামী ১০ অক্টোবর।


বিশ্ব   নোবেল   মানব বিবর্তনের গবেষণা   চিকিৎসাবিজ্ঞান   জিনোম সি্কোয়েন্স  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

পশ্চিমতীরে দুই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ: ০৩:১৫ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail পশ্চিমতীরে দুই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা

পশ্চিমতীরে দুই ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সোমবার এক অভিযানে অধিকৃত পশ্চিমতীরের রামাল্লাহর কাছে এই ঘটনা ঘটে।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী জালাজুন শরণার্থী ক্যাম্পের কাছে দুই ফিলিস্তিনিকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সেনাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিকল্পনায় অভিযুক্ত দুই ফিলিস্তিনিকে নিষ্ক্রিয় করেছে তারা।

এই ঘটনার আগে পশ্চিমতীরে এক সেনাসহ কয়েকজন ইসরায়েলি আহত হন। এর জেরে ওই অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এর আগে গত বুধবার উত্তর জেনিনে ইসরায়েলের অভিযানে চার ফিলিস্তিনি নিহত হন। ১৯৬৭ সালের ৬ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পশ্চিমতীর দখল করে। সেই থেকে ইহুদি দেশটি ফিলিস্তিনিদের স্থল, সড়ক, জল ও আকাশপথে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। 


বিশ্ব   অধিকৃত পশ্চিমতীর   ইসরায়েল   ফিলিস্তিন   অভিযান   হত্যা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

তাইওয়ানে চীনা হামলা নিয়ে যা বললেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ০২:৪৩ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail তাইওয়ানে চীনা হামলা নিয়ে যা বললেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। আর সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের হুঁশিয়ারি ও পাল্টা হুঁশিয়ারিতে সেই উত্তেজনার পারদ বেড়েছে আরও। এমনকি তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে বেইজিং সামরিক পন্থায় হাঁটার কথাও জানিয়ে রেখেছে।

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, তাইওয়ানে এখনই হামলা করবে না চীন। রোববার (২ অক্টোবর) তিনি বলেন, তাইওয়ানে এখনই চীনের হামলার সম্ভাবনা দেখছেন না তিনি। তবে তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক তৎপরতা চালিয়ে সেখানে ‘নিউ নরমাল’ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে বেইজিং।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমনিতেই তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। তার ওপর গত আগস্টে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ানে সফর উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এর জেরে পেলোসির সফরের পরপরই তাইওয়ানের চারপাশে বিশাল সামরিক মহড়া শুরু করে চীন। সেসব মহড়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। যদিও তা সীমিত পরিমাণে এবং মহড়ার মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে চীনের সশস্ত্র বাহিনী।

এই পরিস্থিতিতে রোববার সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এ সম্প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘আমি (তাইওয়ানে চীনের) আসন্ন আক্রমণ দেখতে পাচ্ছি না।’

তার ভাষায়, ‘আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হলো- চীন (তাইওয়ানের চারপাশে) একটি নতুন স্বাভাবিক অবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে এগিয়ে চলেছে। সেখানে তাদের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে - আমরা তাদের বিমানকে তাইওয়ান প্রণালীর বেশ কয়েকটি লাইন ক্রসিং করতে দেখেছি। সময়ের সাথে সাথে সেই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাইওয়ানের আশপাশে চীনের ভূখণ্ড এবং জলসীমায় আমরা চীনের বর্ধিত কার্যকলাপ দেখছি।’

অবশ্য চীনের মহড়া ও সামরিক কর্মকাণ্ডের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাতায়াত অব্যাহত রেখে মহড়ার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি কানাডিয়ান ফ্রিগেট গত ২০ সেপ্টেম্বর তাইওয়ান প্রণালী দিয়ে ট্রানজিট করে।

এছাড়া গত শুক্রবার রেকর্ড করা সিএনএন-এর ‘ফরিদ জাকারিয়া জিপিএস’-এ একটি সাক্ষাৎকারে লয়েড অস্টিন বলেন, ‘আমরা অবাধ এবং উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বজায় রাখার কাজটি নিশ্চিত করতে আমাদের মিত্র এবং অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে যাব।’

গত আগস্টে পেলোসির তাইওয়ান সফরের প্রতিশোধ হিসেবে সিনিয়র-স্তরের সামরিক কমান্ডারদের মধ্যে সংলাপ-সহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা বন্ধ করে দেয় চীন। তবে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সাথে সামরিক যোগাযোগের চ্যানেলগুলো পুনরায় খোলার জন্য কাজ করছে বলে জানিয়েছেন লয়েড অস্টিন। বেইজিং-ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন মার্কিন এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

অস্টিন বলেছেন, তিনি ফোনে এবং ব্যক্তিগতভাবে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংঘের সাথেও এ বিষয়ে যোগাযোগ করেছেন। এসময় চীনা এই মন্ত্রী উন্মুক্ত যোগাযোগ উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে একমত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা এই চ্যানেলগুলোকে খোলা রাখতে চাই এবং আমি আশা করব- চীন আরও কিছুটা সামনে এগোবে এবং আমাদের সাথে কাজ করবে।’

ওয়াশিংটন ১৯৭৯ সালে তাইওয়ানের সাথে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। বৈশ্বিক পরাশক্তি এই দেশটি চীনের একমাত্র প্রতিনিধি হিসাবে বেইজিংকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। কিন্তু একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে বেশ কৌশলী ভূমিকা পালন করে আসছে।

উল্লেখ্য, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা দেশগুলোর দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। তাইওয়ান পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপ, যা তাইওয়ান প্রণালীর পূর্বে চীনা মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত। অবশ্য তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং।

গত বছরের অক্টোবরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, মূল ভূখণ্ডের সাথে তাইওয়ানের পুনরেকত্রীকরণ অবশ্যই সম্পূর্ণ করতে হবে। এজন্য সামরিক পথে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টিও খোলা রেখেছে বেইজিং।

অন্যদিকে চীনের প্রদেশ নয়, বরং নিজেকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে মনে করে থাকে তাইওয়ান। চীনা প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যের জবাবে সেসময় তাইওয়ান জানায়, দেশের ভবিষ্যৎ তার জনগণের হাতেই থাকবে।

তবে তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে বেইজিংয়ের চেষ্টার কমতি নেই। তাইওয়ান উপত্যাকার চারদিকে সামরিক কর্মকাণ্ড জোরদার করেছে চীন। এমনকি গত বছরের মতো চলতি বছরের শুরু থেকেই তাইওয়ানের এয়ার ডিফেন্স আইডেন্টিফিকেশন জোন (এডিআইজেড) লঙ্ঘন করে আসছে বৈশ্বিক এই পরাশক্তি দেশটি।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালে চীনে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করার পর তাইওয়ান দেশটির মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও তাইওয়ানকে বরাবরই নিজেদের একটি প্রদেশ বলে মনে করে থাকে বেইজিং। এরপর থেকে তাইওয়ান নিজস্ব সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে।


বিশ্ব   যুক্তরাষ্ট্র   তাইওয়ান   চীন   হামলা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে নিহত বেড়ে ৮৫

প্রকাশ: ১২:৫৮ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে নিহত বেড়ে ৮৫

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়ানের আঘাতের নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সময় তাৎক্ষণিক জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক কর্মকর্তাই সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ক্যাটাগরি ৪ মাত্রার শক্তিশালীয় এই ঝড় স্থানীয় সময় বুধবার ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হানে। এতে কমপক্ষে ৮৫ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘুর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার।

এদিকে ফ্লোরিডার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সোমবার পুয়ের্তো রিকো ও বুধবার ফ্লোরিডায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে দেখবেন তিনি। ইয়ানের কারণে শনিবার পর্যন্ত বহু এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ঘূর্ণিঝড় ইয়ান ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে শুক্রবার ফ্লোরিডার মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে সরে যায়।

এর আগে ইয়ান ফ্লোরিডার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হতে পারে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে ইয়ান। ভারী বর্ষণে নজিরবিহীন বন্যা দেখা দিয়েছে অঙ্গরাজ্যেটিতে।

ইয়ানের কারণে ফ্লোরিডায় ২৩ লাখের মতো বাসিন্দা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফ্লোরিডা পাওয়ার অ্যান্ড লাইট কোম্পানির প্রেসিডেন্ট ও সিইও এরিক সিলাগি জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কাউন্টিতে বিদ্যুৎসংযোগ পুনরায় চালু করতে রোববার থেকে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো নিরাপদ কিনা তা খতিয়ে দেখার পর সংযোগ দিতে হবে। এতে মাসখানেকও সময় লাগতে পারে।

উপকূলীয় লি কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা ৪২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। অপরদিকে প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি কাউন্টি থেকে ৩৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে লোকজনকে সময় মতো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন লি কাউন্টির কর্মকর্তারা।


বিশ্ব   যুক্তরাষ্ট্র   হারিকেন ইয়ান   ফ্লোরিডা   নিহত  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন