ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে গণভোট কেন?

প্রকাশ: ১০:০৫ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে গণভোট কেন?

রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রশ্নে ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত চারটি অঞ্চলের মস্কো-সমর্থিত কর্মকর্তারা নিজস্ব কায়দায় গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। গণভোট আয়োজনকে রাশিয়ারই উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্রেমলিন এ গণভোটে সমর্থন দিয়েছে। রাশিয়া এখন কেন এ গণভোট ডাকল, তা বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির পল কারবি।

যে চারটি অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, সেগুলো হলো লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া। রাশিয়ার এ গণভোট আয়োজনের উদ্যোগে ক্রিমিয়া দখলের প্রতিধ্বনি পাওয়া যাচ্ছে। তবে ক্রিমিয়া দখল থেকে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, চারটি অঞ্চলই যুদ্ধে লিপ্ত। অন্যদিকে কোনো গুলি না ছুড়েই ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করেছিল রাশিয়া।

প্রায় সাত মাস ধরে ইউক্রেন–রাশিয়ার যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধের এখন যে পরিস্থিতি, তাতে চাপের মধ্যে আছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। তারা ইউক্রেনের অনেক এলাকা দখল করে নেয়। কিন্তু এখন ইউক্রেন পাল্টা হামলা চালিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে কিছু এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।

ইউক্রেনীয় সেনাদের এ সাফল্যে নিজ দেশে কট্টরপন্থীদের দিক থেকে সমালোচনার মুখে রয়েছেন পুতিন। এ অবস্থায় তিনি ইউক্রেনের দখলকৃত চারটি অঞ্চলে ক্রিমিয়া-কায়দায় অনুষ্ঠেয় গণভোটে সমর্থন দিয়ে সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন।

রাশিয়ার গণমাধ্যমে এ গণভোট নিয়ে জনমত জরিপ প্রকাশ করা হচ্ছে। জরিপগুলোয় দেখানো হচ্ছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। তবে জরিপের এমন দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, যুদ্ধের মধ্যেই চার অঞ্চলে গণভোট হবে। তা ছাড়া এ গণভোটের বৈধতা নেই।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়ায় এমন গণভোট হয়েছিল। ওই গণভোটের ফল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রত্যাখ্যান করেছিল। ঠিক একইভাবে এখন যে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে, পশ্চিমারা এর নিন্দা জানাচ্ছে। তারা এ গণভোটকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন ভাবতে পারেন, দখলকৃত এলাকাগুলোকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হলে যুদ্ধের গতিপথ বদলাতে পারে। কারণ, তেমনটা হলে তিনি ইউক্রেনের পশ্চিমা-সমর্থকদের কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে বলতে পারবেন। 

কেননা, বিশেষ করে ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা রুশ বাহিনীকে চলমান যুদ্ধে খুব ভোগাচ্ছে।

রুশ বিশ্লেষক আলেকজান্ডার বাউনভ বলেন, মস্কো মনে করছে, গণভোট হতে যাওয়া ইউক্রেনের অঞ্চলগুলো রাশিয়ার ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত হলে সেখানে যুদ্ধ করার ভাবনা থেকে পশ্চিমারা বিরত থাকবে। গণভোট নিয়ে কেন প্রশ্ন ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলে গণভোট শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর, চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ইউক্রেনের অঞ্চল চারটি আংশিক বা প্রায় সম্পূর্ণরূপে রাশিয়ার দখলে রয়েছে। এখন এসব অঞ্চলে নিজস্ব কায়দায় গণভোট হবে। সশরীর বা দূরবর্তী স্থান থেকে ভোট দেওয়া যাবে। গণভোট হবে অঞ্চলগুলোর রাশিয়ান ফেডারেশনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে।

রুশ-সমর্থিত খেরসন অঞ্চলের প্রধান ভ্লাদিমির সালদো বলেছেন, রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্তি তাঁর অঞ্চলকে সুরক্ষিত করবে। ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু অঞ্চলটির রাজধানী খেরসন শহর এখন নিরাপদ নয়। সেখানে রুশ সেনারা ইউক্রেনের পাল্টা হামলা ঠেকাতে ব্যতিব্যস্ত। গত সপ্তাহে সেখানকার কেন্দ্রীয় প্রশাসন ভবনে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এমন একটি পরিবেশে একটি নিরাপদ গণভোট অসম্ভব।

এবার আসা যাক, জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের রাজধানীর কথায়। এলাকাটি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিরাপদ রয়েছে। তাই এলাকাটিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য গণভোটের কোনো অর্থ নেই। দোনেৎস্কের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে। এলাকাটি সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর-পূর্বের লুহানস্কের বেশির ভাগ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া। তবে তারা পাল্টা হামলায় দখল হারাতে শুরু করেছে।

অঞ্চল চারটিতে যুদ্ধ শুরুর আগে যত লোক ছিল, তা এখন আর নেই। কারণ, যুদ্ধ থেকে বাঁচতে অঞ্চলগুলোর বেশির ভাগ মানুষই পালিয়েছে। দোনেৎস্কে রাশিয়ার ছায়া কর্তৃপক্ষের প্রধান ডেনিস পুশিলিন রুশ হামলা শুরুর কয়েক দিন আগে স্থানীয় লোকজনকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অঞ্চলগুলোর রুশ-সমর্থিত নেতারা হয়তো কয়েক মাস ধরেই গণভোট দিতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া চাপে পড়ার প্রেক্ষাপটে তাঁরা তাড়াহুড়া করে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিলেন।

গণভোট সম্পর্কে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, রাশিয়া এ যুদ্ধ শুরু করেছে। তারা এ অঞ্চল দখল করেছে। মানুষের ওপর বোমা ফেলেছে। মানুষকে পালাতে বাধ্য করেছে। আর এখন তারা বলছে, এ অঞ্চলে একটি গণভোট আয়োজন করতে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইউরি সাক বলেন, তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন, স্থানীয় জনগণের সবাই ইউক্রেনে ফিরে আসার পক্ষে। এ কারণে এই অঞ্চলগুলোয় এত বেশি গেরিলা, এত প্রতিরোধ। ফলে এ গণভোট অগ্রহণযোগ্য। সংযুক্তির পর কী হবে দোনেৎস্কে রুশ-সমর্থিত নেতা পুতিনকে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জনগণের রায়কে সমর্থন করবে।

গণভোটের রায় পক্ষে গেলে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্ভবত ইউক্রেনের চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তাতে যুদ্ধক্ষেত্রে খুব একটা পরিবর্তন আসবে না। ইউক্রেনের পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে। তখন ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করার বিষয়ে ন্যাটো দেশগুলোর প্রতি জোর দিয়ে দাবি জানাতে পারবে রাশিয়া। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এ গণভোটকে স্বীকৃতি দেবে না।

ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার চলমান যুদ্ধের একটি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তা হলো, ইউক্রেন ইতিমধ্যে ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। কিন্তু তার বদলা রাশিয়া নিতে পারেনি।

ইউক্রেন   গণভোট  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেনের ৪ প্রদেশ রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা পুতিনের

প্রকাশ: ০৮:৩১ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ইউক্রেনের ৪ প্রদেশ রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা পুতিনের

অভিযানরত রুশ বাহিনী ও রুশভাষী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের চার প্রদেশ খেরসন, ঝাপোজ্জিয়া, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে রাশিয়ার অন্তর্ভূক্ত হলো।

শুক্রবার মস্কোর ঐতিহাসিক রেড স্কয়্যারে এক উৎসবমুখর পরিবেশে এই চার প্রদেশের নেতৃবৃন্দ রাশিয়ায় যোগদান সম্পর্কিত নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ার পর রেড স্কয়্যারের মঞ্চে উঠে পুতিন বলেন, ‘দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়ার জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ থেকে তারা সবাই রাশিয়ার নাগরিক। আমরা তাদের সবাইকে রাশিয়ান ফেডারেশনের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

‘আমি নিশ্চিত রাশিয়ার আইনসভাও এই চার প্রদেশকে সমর্থন করবে এবং এসব প্রদেশে বসবাসকারী লোকজনকে সাদরে বরণ করে নেবে। দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও ঝাপোরিজ্জিয়ার লাখ লাখ মানুষের ইচ্ছে এবং স্বপ্ন এই যোগদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও এবং রাশিয়ার আইনসভা— দুমা (নিম্নকক্ষ) ও ফেডরেশন কাউন্সিল (উচ্চকক্ষ) সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের আবেগের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।’

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে চলতি বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। পুতিন স্বয়ং এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মাসের অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন প্রায় ৬ হাজার রুশ সেনা। শুক্রবার বক্তব্য প্রদানের আগে অভিযানে নিহত রুশ সেনাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন পুতিন ও ইউক্রেনের চার প্রদেশের নেতারা।

সূত্র: বিবিসি


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইউক্রেনের ৪ অঞ্চল রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যা বললেন বাইডেন

প্রকাশ: ০৩:৫৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ইউক্রেনের ৪ অঞ্চল রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যা বললেন বাইডেন

রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত হতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনের চার অঞ্চলে ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়ে রায় দিয়েছে স্থানীয় জনগণ- এমনটিই দাবি করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বললেন, ইউক্রেনের অঞ্চলকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টাকে কখনওই স্বীকৃতি দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, “আমি খুব স্পষ্ট করে বলছি, যুক্তরাষ্ট্র কখনও, কখনও, কখনওই ইউক্রেনের সার্বভৌম অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার দাবিকে স্বীকৃতি দেবে না।”

শুক্রবার ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে (ডোনেটস্ক, লুহান্সক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন) রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দিতে পারেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর আগেই বাইডেন এসব কথা বললেন।

ক্রেমলিন দাবি করেছে, সম্প্রতি হওয়া গণভোটে লুহানস্ক, ডোনেটস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসনের বাসিন্দারা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে ইউক্রেন ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা এ গণভোটকে ধোঁকাবাজি হিসেবে উল্লেখ করে এর ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। 


বিশ্ব   রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ   মস্কো   গণভোট   রাশিয়া অন্তর্ভূক্তি   ইউক্রেন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইরানে বাড়ছে বিক্ষোভ, মৃত্যু বেড়ে ৮৩

প্রকাশ: ০৩:৩৪ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ইরানে বাড়ছে বিক্ষোভ, মৃত্যু বেড়ে ৮৩

ইরানের নীতি পুলিশের কাস্টডিতে মাশা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে দেশটিতে ক্রমেই বিক্ষোভ বেড়ে চলেছে। এই বিক্ষোভ দমনে দেশটির সরকার কঠোর হচ্ছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভে অন্তত ৮৩ জনের প্রাণ গেছে বলে জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার গোষ্ঠী ইরান হিউম্যান রাইটস, খবর রয়টার্সের।

দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, আইন ভাঙার দায়ে কুর্দি নারী মাশা আমিনিকে (২২) আটক করা হয়েছিল। এরপর ডিটেনশন সেন্টারে হঠাৎ হার্ট ফেইলিওর হয়ে আমিনি পড়ে যান। কিন্তু তার পরিবার পুলিশের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নীতি পুলিশের কর্মকর্তারা তাকে পিটিয়েছিল। হাসপাতালে তিন দিন কোমায় থাকার পর আমিনির মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। মানুষ রাস্তায় নেমে হিজাব আইনের বিরোধিতা, নারী অধিকারের দাবিতে শ্লোগান দেয়। ২০১৯ সালে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভের পর এটিই দেশটির সরকারবিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

কর্তৃপক্ষের কঠোর দমনপীড়নের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকা সত্ত্বেও প্রতিবাদ অব্যাহত আছে। টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, রাজধানী তেহরান, কওম, রাশত, সানানদাজ, মাসজিদ-ই-সুলেইমান ও অন্যান্য শহরে বিক্ষোভকারীরা মোল্লাতন্ত্রের পতনের ডাক দিচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বিরাট সংখ্যা ‘দাঙ্গাকারীকে’ গ্রেফতারের কথা বলা হয়েছে, তবে আর বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, বহু আন্দোলনকারী, শিক্ষার্থী ও শিল্পীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া সাংবাদিকদেরও গ্রেফতার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।


বিশ্ব   ইরান   মাহসা আমিনি   বিক্ষোভ   হিজাব   সহিংসতা   মৃত্যু  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

কে হবেন কংগ্রেস সভাপতি?

প্রকাশ: ০১:৩০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail কে হবেন কংগ্রেস সভাপতি?

ভারতের পুরোনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সভাপতি পদে লড়াই থেকে পিছুপা হলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। দিল্লিতে কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এ কথা জানান তিনি।

এর পরপরি দেরশটির রাজিনীতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয় কাকে কংগ্রেসের সভাপতি করা হবে তা নিয়ে।

রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে টানাপড়েন ও দলের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য অশোক গেহলটকে বৈঠকের জন্য ডেকে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য বৃহস্পতিবারই দিল্লি পৌঁছে যান গেহলট।

সোনিয়ার বাসভবন থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গেহলট বলেন, সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে আমার বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গত দু’দিনে যা হয়েছে, তাতে আমরা প্রত্যেকেই অবাক হয়েছি। এই ঘটনায় এই বার্তা গেছে যে, আমি মুখ্যমন্ত্রী হতে চাই। আমি সোনিয়া গান্ধীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি। দলের সভাপতি হওয়ার বিষয়ে তার যে কোনো মোহ নেই সে কথা বোঝাতে গেহলট জানান, তিনি কোচিতে গিয়ে রাহুল গান্ধীকে দলের সভাপতি হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু রাহুল তাতে সম্মত হননি বলেও দাবি তার।

একই সঙ্গে গেহলট স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলের সভাপতি নির্বাচনে তিনি লড়ছেন না। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই পরিবেশে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি দলের সভাপতি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।

সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে গেহলটকে তিনিই কি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাজ চালিয়ে যাবেন কিনা জানতে চাওয়া হলে প্রশ্নের প্রেক্ষিতে তার সংযমী উত্তর, সেটা আমি ঠিক করার কেউ নই। কংগ্রেসের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীই সেটা ঠিক করবেন।

এক টানা ১৯ বছর সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করার পর ছেলে রাহুলের হাতে ভার সঁপেছিলেন সোনিয়া গান্ধী। ঘটনাচক্রে রাহুলের পদত্যাগের পর আবার সোনিয়াকেই অন্তর্বর্তী সভানেত্রীর ভার নিতে হয়। এখনো তিনি সেই পদই সামলাচ্ছেন। ১৭ অক্টোবর হবে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন।


বিশ্ব   এশিয়া   ভারত   কংগ্রেস   সভাপতি পদ   সোনিয়া গান্ধী   অশোক গেহলট  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

৭ মাসের গর্ভবতীকে পেট চিরে খুন, নেপথ্যে কুসংস্কার!

প্রকাশ: ০১:১০ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২


Thumbnail ৭ মাসের গর্ভবতীকে পেট চিরে খুন, নেপথ্যে কুসংস্কার!

ঘটনাটি ব্রাজিলের সাও পাওলোর। সেখানে ২৪ বছরের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম ওহানা ক্যারোলিন। তিনি সাত মাসের গর্ভবতী ছিলেন।

জানা গেছে, ভয়ঙ্করভাবে খুন করা হয়েছে তাকে। দেখে শিউরে উঠেছে পুলিশও। পেট চিরে ফেলা হয়েছে তার। পুলিশ মনে করছে, কোনও কুসংস্কার বা ভয়ঙ্কর প্রথার কারণেই এমন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে তাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন সন্তানের জননী ওহানা। চতুর্থ সন্তানের জন্ম দিতে চলেছিলেন তিনি। ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

২১ সেপ্টেম্বর ব্রাজিলের সাও পাওলোর পোর্টাল ডস লাগোসে ওহানার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার পেট এমনভাবে চিরে ফেলা হয়েছিল যে, ভিতরের সব অন্ত্র দেখা যাচ্ছিল।

কিন্তু ওহানার গর্ভস্থ সন্তান কোথায় গেল? তা নিয়ে মুখ খোলেনি পুলিশ।

ওহানার মৃতদেহের গায়ে জড়ানো ছিল একটা টিশার্ট। নিম্নাঙ্গ অনাবৃত ছিল। মরদেহের পাশে ছড়ানো ছিল স্থানীয় কিছু মুদ্রা, রক্তে ভেজা ওহানার হাফ প্যান্ট ও জুতা।

যে জায়গায় ওহানার মৃতদেহ পাওয়া গেছে, তা সন্দেহ বাড়িয়েছে পুলিশের। ওই এলাকায় বেশ কিছু গির্জা রয়েছে। সেই গির্জায় ভিন্ন মতবাদের চর্চা হয়। পুলিশ মনে করছে, ‘ম্যাকাব্র প্রথা’র বলি হয়েছেন ওহানা।

ওহানার মরদেহ মিলেছে জঙ্গলে। যে জায়গায় লাশ মিলেছে, সেই খোলা জায়গায় প্রার্থনা করেন বিভিন্ন মতাবলম্বী মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, ওই জায়গা কুসংস্কারের আখড়া। অনেক বেআইনি কাজও নাকি হয় সেখানে।

ওহানার সাবেক স্বামী এসে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনিই তার তিন সন্তানের বাবা। কয়েক মাস আগে তার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে ওহানার। তার পর থেকে তিন সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতেন ওহানা।

বিচ্ছেদের পর নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন ওহানা। তার বর্তমান প্রেমিককেও জেরা করেছে পুলিশ। কিন্তু প্রাথমিকভাবে তাকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখা হয়নি।

ওহানার এক বন্ধু বলেন, “ও খুব মিষ্টি মেয়ে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি একটি খারাপ দলের পাল্লায় পড়েছিল। তাই আমি ওঁর সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলছিলাম।” এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।

আরেক বন্ধু জানিযেছেন, মৃত্যুর দিন ওহানাকে একটি কালো গাড়িতে দেখেছিলেন তিনি।

আরও কয়েক জন প্রত্যক্ষদর্শীও একই কথা জানিয়েছেন। সকলেই প্রায় একযোগে জানিয়েছেন, ঘটনার দিন রাত তিনটার দিকে ওই কালো গাড়িতে ওহানাকে দেখেছিলেন তারা। দেখেছিলেন ওই জঙ্গলেরই আশেপাশে।

ঠিক কী অস্ত্র দিয়ে ওহানার পেট চিরে ফেলা হয়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে তা জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ‘ম্যাকাব্র প্রথা’ আসলে কী? মূলত কুসংস্কারের ফাঁদে পড়ে অনেক সময় কাউকে খুন। অনেক সময়ই ভয়ঙ্করভাবে খুন করা হয়। তারপর সেই মরদেহের পরিণতিও হয় ভয়ঙ্কর। এখনও কয়েকটি জনজাতি রয়েছে, যারা মৃতদেহ খেয়ে ফেলে। কেউ আবার মৃতদেহ কেটে পাখিকে খেতে দেয়। কেউ আবার মরদেহ নিয়ে ‘কালো জাদু’ চর্চা করে। আর এই সব প্রথার নেপথ্যে থাকে মৃত্যুভয়। এরা চায়, মৃত্যু যেন কোনওভাবেই তাদের ছুঁতে না পারে।

ব্রাজিল পুলিশ মনে করছে, ওহানার মৃত্যুর নেপথ্যেও রয়েছে এ রকমই কিছু অদ্ভুত প্রথা বা চর্চা। তবে বিষয়টি নিয়ে তারা বিস্তারিত কিছু বলতে চায়নি।


বিশ্ব   হত্যা   ব্রাজিল   কুসংস্কার   গর্ভবতী   লাশ উদ্ধার   হত্যা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন