ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

স্বামীর বেতন জানতে তথ্য অধিকার আইনে স্ত্রীর মামলা

প্রকাশ: ০৯:৪৯ পিএম, ০৩ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail স্বামীর বেতন জানতে তথ্য অধিকার আইনে স্ত্রীর মামলা

স্বামীর বেতন কত, জানতে চেয়েছিলেন স্ত্রী; কিন্তু বারবার জিজ্ঞেস করার পরও কোনো উত্তর না দেওয়ায় এবং আয়কর বিভাগ সহযোগিতা না করায় অবশেষে তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইনে মামলা করেছেন এক নারী। এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বেরিলি জেলায়।

স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে জিতেছেনও স্ত্রী। আয়কর বিভাগকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ওই নারীকে তার স্বামীর আয়ের যাবতীয় খুঁটিনাটি বিবরণ সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের তথ্য কমিশন সেন্ট্রাল ইনফরমেশন এজেন্সি (সিআইসি)।

মামলাকারী ওই নারীর নাম সঞ্জু গুপ্তা। ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বেরিলি জেলার বাসিন্দা তিনি।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, স্বামীর বেতন জানতে চেয়ে প্রথমে আরটিআইয়ের আওতায় আয়কর দপ্তরে আবেদন করেছিলেন সঞ্জু; কিন্তু আয়কর দপ্তর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয়, অনুমতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তির আয়ের বিবরণ অন্য কাউকে জানানো সঠিক বলে মনে দপ্তর।

আয়কর দপ্তরে বিফল হওয়ার পর ফাস্ট অ্যাপিলেট  অথরিটিতে (এফএএ) আবেদন জানান সঞ্জু। কিন্তু সেখানেও নাকচ করে দেওয়া হয় তার আবেদন।

কিন্তু পরপর দু’জায়গা থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও দমে না গিয়ে শেষ পর্যন্ত সিআইসিতে আবেদন জানান। তিনি। এ বিষয়ে হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের পুরনো কিছু রায় খতিয়ে দেখার পর অবশেষে সোমবার সঞ্জুর পক্ষে রায় দেন সিআইসি।

সিআইসির পক্ষ থেকে দেওয়া আদেশে আয়কর দপ্তরকে বলা হয়, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সঞ্জুকে তার স্বামীর বেতন জানাতে হবে। স্বামী কত বেতন পান, অন্য কোনও উৎস থেকে তার আয় আছে কি না, তাকে কত কর দিতে হয়— সিআইসির আদেশের পর এখন সব খুঁটিনাটি জানতে পারবেন সঞ্জু।

বস্তুত, বিবাহবিচ্ছেদের পর স্বামীর সম্পত্তির ভাগ চাইতে পারেন স্ত্রী। চাইলে স্বামীর কাছ থেকে তিনি খোরপোষও দাবি করতে পারেন। তাই সে সব ক্ষেত্রে স্বামীর আয় জানা স্ত্রীর পক্ষে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

সঞ্জু গুপ্তার স্বামী কেন তাকে বেতনের পরিমাণ জানাতে চাননি, তা অবশ্য এখনও পরিষ্কার নয়।  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

করোনা বিধিনিষেধ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল চীন

প্রকাশ: ০১:৫১ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

টানা কয়েকদিনের মতো করোনা বিধিনিষেধ বিরোধী বিক্ষোভে বেসামাল চীন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জিরো কোভিড নীতির বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। সপ্তাহজুড়ে দেশটির বাণিজ্যিক হাব সাংহাইসহ বিভিন্ন শহরে চলছে বিক্ষোভ। রাস্তায় নেমে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন করোনা বিধিনিষেধ বিরোধীরা।

গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী বেইজিং, সাংহাই, উহান, চেংদু ও উরুমকিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এতো বড় বিক্ষোভ হতে দেখা যায়নি দেশটিতে, বলছেন চীনা বিশ্লেষকরা।

করোনা মহামারি ৩ বছরের কাছাকাছি হলেও এখনও চীনে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ গত কয়েকদিনে কয়েক দফা বেড়ে গেছে দেশটিতে। তা সত্ত্বেও দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জিনজিয়াং প্রদেশের একটি আবাসিক ভবনে বৃহস্পতিবার আগুন লেগে ১০ জন নিহত হওয়ার জেরে বিধিনিষেধ বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা জানান, ওই ভবনের বাসিন্দারা আগুন লাগার সময় দ্রুত বের হতে পারেননি কারণ একটা অংশ লকডাউনের আওতায় ছিল। যদিও নগর কর্মকর্তারা বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন। এ ঘটনার জেরে রোববার (২৭ নভেম্বর) দেশটির বাণিজ্যিক হাব সাংহাইয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংহাইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিক্ষোভের জেরে বেশ কয়েকজনকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে। ১৯৮৯ সালে তিয়ানানমেন স্কোয়ারের বিক্ষোভের পর থেকে এতো বেশি চীনা নাগরিক একটি একক ইস্যুতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে গ্রেফতারের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও।

এশিয়া সোসাইটির একজন চীনা বিশেষজ্ঞ বেতস গিল বলেন, ‘শি জিনপিংয়ের ১০ বছরের ক্ষমতায় থাকার সময়কালে, এটি সরকারি নীতির বিরুদ্ধে নাগরিকদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা।’

জিরো কোভিড পলিসির বিরুদ্ধে জনসাধারণের অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, অনলাইন, অফলাইনসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ২০১৯ সালে হংকং ইস্যুতে করা নিরাপত্তা আইন নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়ে শি জিনপিংয়ের সরকার। এরপর এবারই অভ্যন্তরীণভাবে এমন বিক্ষোভের মুখোমুখি হচ্ছে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকার।

শি জিনপিং কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের’ নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যক্তিগত দায় স্বীকার করেছিলেন। গত অক্টোবরে কমিনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেসে তিনি বলেছিলেন, ‘সবার আগে মানুষের জীবন বাঁচা প্রয়োজন।’ ‘সঠিক’ কোভিড নীতিকে তিনি তার রাজনৈতিক অর্জনের মধ্যেও বিবেচনা করেছিলেন।

চীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, আবার হু-হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। বাড়ছে আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগের তীর ছোড়া হয় চীনের দিকেই। এখনও বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আছে। আর সেই কারণেই এবার চীন সরকার একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। আড়াই বছর আগে তৈরি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চাইছে না শি জিনপিংয়ের সরকার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘যদিও এভাবে বিক্ষোভে জনসাধারণের ফুঁসে ওঠা শি জিনপিংয়ের জন্য বিব্রতকর। তবে এতে খুব একটা পরিবর্তন ঘটবে না। কেননা দল, সামরিক, নিরাপত্তা এবং প্রচারযন্ত্র সম্পূর্ণ তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তবে শি জিনপিং জিরো কোভিড নীতি থেকে সরে আসবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। চীনের মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবী তেং বিয়াও বলেন, ‘যদি তিনি সেখান থেকে সরে আসেন, তাহলে এর অর্থ হবে তার অতীতের শূন্য-কোভিড নীতি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাকে এর দায় নিতে হবে। এটি তার ইমেজের ক্ষতি করবে।’

তবে শি জিনপিংয়ের নীতিতে তেমনটি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যদিও প্রস্তুত হওয়ার আগে যদি তিনি তার কোভিড নীতিতে পরিবর্তন আনতেন, তবে বহু মানুষের মৃত্যু, আক্রান্ত হওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে যেতে পারতো।

দেশব্যাপী প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে মানসম্মত করার ও বাসিন্দাদের এবং অর্থনীতির জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রয়াসে শি জিনপিং সরকার গত মাসে ২০টি পদক্ষেপ নেয় এবং শূন্য-কোভিড নীতিতে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে শি আনুষ্ঠানিকভাবে সমস্ত প্রাদুর্ভাব রোধ করার প্রয়োজনীয়তা প্রত্যাখ্যান করেননি। সেকারণে অনেক স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এখনও সতর্কতার অবলম্বন করতে গিয়ে কঠোর লকডাউন ও কোয়ারেন্টাইনের মতো নিয়মগুলো বাস্তবায়ন করছে। এতেই ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইলি ল্যাম বলেন, ‘এই পর্যায়ে তারা অবগত নয় বলে মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘একদিকে, শি জিনপিং এবং তার দলকে শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে, আমরা নতুন প্রশাসনের কাছ থেকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখতে পাচ্ছি।’



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

যুক্তরাজ্য-চীন সম্পর্কের ‘স্বর্ণযুগ’ শেষ: ঋষি সুনাক

প্রকাশ: ১২:৩৫ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের তথাকথিত ‘স্বর্ণযুগ’ শেষ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ‘স্বর্ণযুগ’ শেষ হয়ে গেছে। এই স্বর্ণযুগ বলতে আসলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের অধীনে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে বোঝানো হয়। যদিও লন্ডন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক পরবর্তীতে আর তেমনভাবে এগোয়নি।

সোমবার (২৮ নভেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় লন্ডনের বাণিজ্যিক এলাকার গিল্ডহলে বার্ষিক লর্ড মেয়রর্স ব্যাঙ্কোয়েট অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের প্রথম পররাষ্ট্রনীতির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন ঋষি সুনাক।

ঋষি সুনাক বলেন, আগের দশকের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল ‘নিষ্পাপ’। যুক্তরাজ্যকে এখন প্রতিযোগীদের প্রতি ‘কঠিন বাস্তবতার’ সঙ্গে ইচ্ছাপূরণের চিন্তাভাবনা প্রতিস্থাপন করতে হবে।

এ সময় তিনি ‘স্নায়ু যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে সতর্ক করে চীনের বৈশ্বিক তাৎপর্যকে উপেক্ষা করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ব্যবসায়ী নেতা ও পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞদের বলেন, প্রতিবাদের মুখে, চীন ‘বিবিসি সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করাসহ আরও দমন করার পথ বেছে নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি চীন আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থের জন্য একটি পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।’

সুনাক এটাও জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোতে চীনের তাৎপর্যকেও উপেক্ষা করা যাবে না।

যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানসহ মিত্রদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য কাজ করবে বলেও জানান তিনি।


যুক্তরাজ্য-চীন সম্পর্ক   ঋষি সুনাক  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

রুশ গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সিআইএ পরিচালকের সাক্ষাৎ

প্রকাশ: ১২:২৩ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক ঝুঁকি কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র পরিচালক বিল বার্নস রাশিয়ার গোয়েন্দা পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, সিআইএ পরিচালক বিল বার্নস রাশিয়ার গোয়েন্দা পরিচালক সের্গেই নারিস্কিনের সঙ্গে চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কে সাক্ষাৎ করেন।

মস্কোতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স এলিজাবেথ রুড বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ করে পারমাণবিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চ্যানেল রয়েছে। এ লক্ষ্যে সিআইএর পরিচালক বার্নস তুরস্কে রাশিয়ার গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। তবে সিআইএ প্রধান রাশিয়ার সঙ্গে কোনো বিষয়ে সমঝোতা কিংবা ইউক্রেনে রাশিয়ার সংঘাত নিয়ে কোনো সমঝোতা করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন অতীতে বিল বার্নসকে রাশিয়ার সঙ্গে একাধিবার আলোচনার জন্য পাঠিয়েছে।


পারমাণবিক ঝুঁকি   যুক্তরাষ্ট্র   রাশিয়া   আলোচনা  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

রাশিয়া নিয়ে জেলেনস্কির নতুন সতর্কবার্তা

প্রকাশ: ১১:৫৩ এএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশে নতুন করে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আগামী সপ্তাহে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট সহ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী ও নাগরিকদের তিনি সদা প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, কিয়েভে বরফপড়া শুরু হয়েছে এবং তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এ পরিস্থিতিতে কর্মীরা বিদ্যুৎ, পানি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। তবে উচ্চ চাহিদার কারণে বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং চালানো হচ্ছে। কিয়েভে ও এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোর লাখো বাসিন্দা রুশ বিমান হামলার কারণে সৃষ্ট জরুরি সেবার সরবরাহ বিপর্যয়ের মোকাবিলা করছেন।

জেলেনস্কি তার নিয়মিত রাত্রিকালীন বক্তব্যে আরও বলেন, আমরা অনুধাবন করছি, সন্ত্রাসীরা আরও নতুন হামলার পরিকল্পনা করছে। যতক্ষণ তাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তারা শান্ত হবে না। জেলেনস্কি জানান, আগামী সপ্তাহ এর আগের সপ্তাহের মতোই কঠিন হবে।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামো বড় আকারের ক্ষতির শিকার হয়।  জেলেনস্কি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত হচ্ছে। সমগ্র দেশ প্রস্তুত হচ্ছে। আমরা সব ধরনের পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছি। আমাদের অংশীদারদের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে।

জেলেনস্কির দাবির বিপরীতে মস্কো থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

২৪ ফেব্রুয়ারি হামলা শুরুর পর থেকেই মস্কো দাবি করে আসছে, তারা কোনো বেসামরিক ব্যক্তি বা স্থাপনা উদ্দেশ্য করে হামলা চালায়নি। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিন জানায়, কিয়েভ চাইলে রাশিয়ার চাহিদা মিটিয়ে তাদের নাগরিকদের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটাতে পারে।



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

জ্বালানি ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ইউরোপ

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

সারাবিশ্বের ইউরোপ মহাদেশের সম্ভাবনা সম্পর্কে কী ভাবে জিজ্ঞেস করলে ইউরোপীয়রা প্রায়শই দুই ধরনের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। একটি প্রশংসনীয়। চলমান কঠিন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনকে সহায়তা করার এবং রুশ আগ্রাসনকে প্রতিহত করার সংগ্রামে, ইউরোপ একতা, দৃঢ়তা ও অমূল্য নীতিগত ইচ্ছা পোষণ করেছে।

দ্বিতীয়টি হলো বিপৎসংকেত। ২০২৩ সালে অর্থনৈতিক মন্দা ইউরোপের সক্ষমতার পরীক্ষা করবে। একটি আশঙ্কা ক্রমশই বাড়ছে আর তা হলো বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থার পুনর্গঠন, আমেরিকার পুঁজিবাদী অর্থনীতি ও ভূ-রাজনৈতিক ফাটল ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয় এমন দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়নকে হুমকির মুখে ফেলছে। এটি কেবল মহাদেশের সমৃদ্ধির ঝুঁকির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং ট্রান্সআটলান্টিক জোটের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের জন্যও সুখকর নয়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউরোপ থেকে সুসংবাদের ভিড়ে বোকা বনে যাওয়া উচিত নয়। ইউরোপে গ্রীষ্মকাল থেকে বিদ্যুতের দাম কিছুটা কমেছে এবং ভালো আবহাওয়ার কারণে গ্যাসের মজুত প্রায় পূর্ণ। গ্যাসের দাম যেখানে ছয়গুণ বেড়ে গিয়েছিল। গত ২২ নভেম্বর, রাশিয়া ইউরোপে শেষ অপারেশনাল পাইপলাইনটি বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে ইউক্রেনজুড়ে জরুরি বিদ্যুৎব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউরোপের গ্যাস মজুত পুনরায় পূর্ণ করতে হবে ২০২৩ সালে, শুধু তাই নয়, পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়ার সরবরাহ গ্যাস ছাড়াই।

যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য ভ্লাদিমির পুতিন ‘জ্বালানি অস্ত্র’ ব্যবহারের কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। দ্য ইকোনমিস্টের মতে, আবহাওয়া, জ্বালানি ও মৃত্যুহারের মধ্যে যদি সুষম সম্পর্ক বজায় না থাকে তাহলে পুতিনের ‘জ্বালানি অস্ত্র’ বা ‘জেনারেল উইন্টার’ ভয়াবহ অবস্থা তৈরি করবে। যুদ্ধে যে পরিমাণ ইউক্রেনীয় মারা গেছেন, তার চেয়ে বেশি ইউরোপিয়ান মারা যেতে পারেন। যেখানে জ্বালানির প্রকৃত দামের ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু সম্পর্কিত। ফলে এবছর জ্বালানি সংকট ইউরোপজুড়ে ১ লাখ বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে পুতিনের ‘জ্বালানি অস্ত্র’ ইউক্রেনের বাইরে তার আর্টিলারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও সরাসরি ড্রোন হামলায় যত মানুষ মারা যায় তার চেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। এটি আরও একটি বড় কারণ হলো, রাশিয়ার বিরুদ্ধে শুধু ইউক্রেনের প্রতিরোধ নয়, এটি ইউরোপেরও লড়াই।

এই যুদ্ধ তীব্র অর্থনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করেছে। জ্বালানি মূল্যস্ফীতি ইউরোপের বাকি অর্থনীতির খাতেও সংকট তৈরি করেছে। ফলে চরম দ্বিধান্বিত ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন। যদি সুদের হার খুব বেশি হয় তবে এটি ইউরো জোনের সদস্যদের অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, যুদ্ধ ইউরোপের ব্যবসায়িক মডেলের একটি দুর্বলতাও প্রকাশ করছে। ইউরোপের বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে জার্মানির, রাশিয়া থেকে সরবরাহ করা জ্বালানির ওপর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প বাজার হিসেবে আরেক ‘স্বৈরাচারী’ চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। যদিও স্পষ্ট হয়েছে রাশিয়া-চীনের সম্পর্ক, ব্যয় বৃদ্ধি ও পশ্চিমা-চীনের বিচ্ছিন্নতার বিষয়গুলো।

আমেরিকার অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদের কারণে আতঙ্ক আরও বেড়েছে, যা ভর্তুকি ও সুরক্ষাবাদের ঘূর্ণিঝড়ে ট্রান্সআটলান্টিক জোটের দেশগুলোর জন্য হুমকিস্বরুপ। মেক-ইন আমেরিকার আওতায় প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আইনে জ্বালানি, উৎপাদন ও পরিবহন বাবদ ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই স্কিমটি শিল্প নীতিগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ যা চীন কয়েক দশক ধরে অনুসরণ করছে। বিশ্ব অর্থনীতির যখন অন্য দুটি স্তম্ভ আরও হস্তক্ষেপ ও সুরক্ষাবাদী হয়ে উঠছে, ইউরোপ তখন মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মগুলো সমুন্নত রাখতে জোর দিচ্ছে।

এরইমধ্যে, ইউরোপের কোম্পানিগুলো ভর্তুকি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। নর্থভোল্ট, একটি সুইডিশ ব্যাটারি স্টার্টআপ। আমেরিকাতে উৎপাদন প্রসারিত করতে চায় তারা। ইবারড্রোলা, একটি স্প্যানিশ জ্বালানি কোম্পানি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের তুলনায় আমেরিকাতে দ্বিগুণ বিনিয়োগ করছে। অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, ব্যয়বহুল জ্বালানি ও আমেরিকান ভর্তুকির সংমিশ্রণ ইউরোপকে ব্যাপকভাবে শিল্পহীনতার ঝুঁকিতে ফেলছে। বিএএসএফ, একটি জার্মান রাসায়নিক জায়ান্ট, সম্প্রতি তার ইউরোপীয় কার্যক্রমকে ‘স্থায়ীভাবে’ সঙ্কুচিত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

বিনিয়োগ হারানো ইউরোপকে আরও দরিদ্র করে তোলে ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা হ্রাসে প্রভাব ফেলে। করোনা মহামারি পূর্বের জিডিপি পুনরুদ্ধারে ইউরোপ অন্য যে কোনো অর্থনৈতিক ব্লকের চেয়ে খারাপ করেছে। বিশ্বের ১০০টি বড় কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১৪টি ইউরোপীয়। রাজনীতিবিদরা নিয়মের বাইরে গিয়ে এবং কর্পোরেটের ধারার একটি ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় তাদের নিজস্ব ভর্তুকি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রলুব্ধ হচ্ছেন। জার্মানির অর্থমন্ত্রী আমেরিকার ‘বিনিয়োগ বাড়ানো’ নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘ইউরোপীয়ান জাগরণ’ এর আহ্বান জানিয়েছেন।

এভাবে ভর্তুকির শ্রেণি আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়াচ্ছে। ইউক্রেনের জন্য আমেরিকার আর্থিক ও সামরিক সহায়তা ব্যাপকভাবে ইউরোপকে ছাড়িয়ে গেছে। চীনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এশিয়ার দিকে অগ্রসর হওয়ায়, আমেরিকা নিরাপত্তার জন্য অর্থ প্রদানে ইউরোপের ব্যর্থতাকে দায়ী করছে। ন্যাটোর বেশিরভাগ সদস্য প্রতিরক্ষাখাতে জিডিপির ২ শতাংশ ব্যয় করার লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

রাশিয়ার আগ্রাসনের বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছিল অনেকটাই ‘নির্বোধ’। যদিও যুদ্ধের কারণে আমেরিকা ও ইউরোপ ট্রাম্পের সময়ের চেয়ে আরও বেশি একত্র হয়েছে। তবে বিপদ হলো একটি দীর্ঘ সংঘাত ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা ধীরে ধীরে তাদের আবার আলাদা করে দিতে পারে। এতে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং খুশি হবেন বৈকি।

বিপজ্জনক ফাটল এড়াতে, আমেরিকাকে অবশ্যই বড় পরিসরে ভাবতে হবে। বাইডেনের সুরক্ষাবাদ ইউরোপের জীবনীশক্তি হারানোর হুমকিস্বরুপ। বাইডোনোমিক্সের প্রধান লক্ষ্য হলো চীনের প্রধান শিল্পের আধিপত্য বন্ধ করা। তবে আমেরিকার ইউরোপীয় বিনিয়োগে কৌশলগত আগ্রহ নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি ভর্তুকির জন্য উপযুক্ত করে তুলতে হবে এবং ট্রান্সআটলান্টিক জ্বালানির বাজারগুলোকে আরও গভীরভাবে সংহত করতে হবে।

ইউরোপকে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও অর্থনীতিকে রক্ষা করতে হবে। জার্মানির মতো ভোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের জ্বালানির চাহিদায় ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করে মূল্য ও চাহিদায় সামঞ্জস্য আনতে হবে। একটি নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে অর্থাৎ প্রতিরক্ষায় আরও বেশি ব্যয় করতে হবে।

প্রশংসা ও শঙ্কার কথা উঠলেও, ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ক এখন হতাশাব্যঞ্জক। তবে ইউরোপকে যুদ্ধের মাধ্যমে বিভক্ত করা উচিত নয়। ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক জোটের মানিয়ে নেওয়া ও টিকে থাকা অত্যাবশ্যক।


জ্বালানি   ভূ-রাজনীতি   ইউরোপ   সঙ্কট  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন